ছদ্মবেশী সময় (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত
তিন
বার্ড সাহেবের সঙ্গে দেখা হবার ঠিক পাঁচ দিন বাদে আমরা কলকাতায় পৌঁছোলাম। এর মধ্যে একেনবাবু র্যান্ডো সাহেবকে জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতায় কখন পৌঁছোচ্ছি। পরে আরও কয়েকটা মেসেজ পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন, কোথায় কীভাবে আমরা দেখা করতে পারি। একেনবাবুর কলকাতার ঠিকানা, ফোন নম্বর, সব কিছুই তাতে দেওয়া ছিল, তার একটারও উত্তর আসেনি! এ তো আচ্ছা বিপদ! কলকাতায় এসে পর্যন্ত একেনবাবু উশখুশ করছেন র্যান্ডো সাহেবের কাছ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে। আমরাও বিস্মিত, কিন্তু হেল্পলেস। ঠিকানাটাও জানি না যে অন্য কোনোভাবে যোগাযোগ করব। দু-দিন হয়ে গেছে এসে পৌঁছেছি। একটু চিন্তাই লাগছে। তিন দিনের দিন একেনবাবুর বাড়িতে আড্ডা দিতে দিতে নানান কথার মাঝে এক-আধ বার র্যান্ডো প্রসঙ্গও উঠল। একেনবাবু স্বগতোক্তি করলেন, “আথ্রাইটিসে কাবু লিখেছিলেন স্যার, ঠিকঠাক আছেন কিনা কে জানে!”
“আরে মশাই সে-বুড়ো আছে কি না-আছে, কী এসে যাচ্ছে! আমাদের তো ফোকটে আসা হল।” প্রমথটা একেবারে যাচ্ছেতাই!
“কী যে বলেন স্যার, নিশ্চয় একটা ঝামেলায় পড়ে আমাদের ডেকেছেন, অথচ জানতে পারছি না সমস্যাটা কী?”
.
আসলে ঝামেলাটা কিছুই না, র্যান্ডো সাহেবের নেট কানেকশন ক-দিন কাজ করছিল না। এবার আর মেসেজ পাঠানো নয়, উনি নিজেই ফোন করলেন। আছেন ইলামবাজারের কাছে একটা জায়গায়। যেখানে থাকেন, সেখানে ট্রেনে করে যেতে সময় লাগবে। উনি ভাড়া গাড়ির বন্দোবস্ত করবেন আমাদের নিয়ে যাবার জন্য। ওখানে কয়েক দিন থাকার কোনো অসুবিধা হবে না। ওঁর বাড়ি যথেষ্ট বড়ো। পাশে গেস্ট হাউসও আছে। কাজটা কী, সেটা অবশ্য জানালেন না- সাক্ষাতে কথা হবে।
র্যান্ডো সাহেবের সঙ্গে ফোনে কথা শেষ হবার পর প্রমথ একটা ভালো প্রস্তাব দিল। ইলামবাজার যদি হয়, তাহলে বোলপুর স্টেশন থেকে খুব দূর হবার কথা নয়। অদ্দূর গাড়ি করে না গিয়ে ট্রেনে যাওয়া যেতে পারে। শান্তিনিকেতনে ওর মাসির বাড়িতে থাকা যাবে, বাড়িটা এইসময় ফাঁকাই থাকে। আর বউদিও যেতে পারেন, ওঁরও একটা চেঞ্জ হবে।
প্রমথর কথা শুনে একেনবাবু লাফিয়ে উঠলেন, “দারুণ আইডিয়া স্যার!”
“তা তো হবেই, ওখানেও দিব্যি বউদির রান্না খাবেন, সাহেবের বাড়িতে হাবিজাবি খেতে হবে না।”
“কী যে বলেন স্যার, সেটা মাথাতেই আসেনি! আসলে ফ্যামিলি অনেকদিন ধরেই শান্তিনিকেতনে যাবার কথা বলছিল। তার ওপর আমরা সবাই একসঙ্গে গেলে ভীষণ খুশি হবে!”
“এই সময়টা গরম হবে কিন্তু। জল-টলের সমস্যা নেই তো তোর মাসির ওখানে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“আরে না, জার্মান-জল আছে, তার ওপর ডিপ টিউবওয়েল না কী জানি লাগিয়েছে গত বছর। এখুনি সব কিছু খোঁজ নিচ্ছি,” নলে প্রমথ মাসিকে ফোন করতে বাড়ির বাইরে গেল। একেনবাবুর বাড়ির ভেতর থেকে জোরদার সিগন্যাল পাওয়া যায় না।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সব কিছু ফাইনাল। কাল সকালেই শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসে সবাই রওনা দেব। একেনবাবু ওঁর পুলিশি কানেকশন লাগিয়ে বোলপুর-এ একটা গাড়ি বুক করলেন দিন তিনেকের জন্য। র্যান্ডো সাহেবকে সব খবর দিয়ে মেসেজ পাঠালেন ঠিকানা আর ডিরেকশন পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। কাল বিকেলেই দেখা করতে যাবেন।
.
পরদিন সকালে ব্যাগ গুছিয়ে আমরা একেনবাবুর বাড়িতে হাজির হলাম। তারপর সদলবলে হাওড়া স্টেশন। একেনবাবুর চেনা ট্যাক্সি, তাই চার জনকে গাড়িতে নিতে ঝামেলা করল না। হাওড়া ব্রিজের মুখটাতে একটু জ্যামে আটকা পড়লাম। ফলে ট্রেনটা ধরতে দৌড়োদৌড়ি করতে হল। বউদিকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছিল। কিন্তু কোনো প্রয়োজনই ছিল না। ছোটাছুটিতে সবার সঙ্গেই পাল্লা দিলেন।
ট্রেনটা ভরতি। আমাদের পাঁচটা সিটই একটা রো-তে। একদিকে আমি আর বউদি বসলাম। বউদিই আমাকে ‘বসুন ভাই’ বলে জোর করে বসালেন। বউদি জানালার ধারের সিটে, আমি আইলে। অন্যদিকে একেনবাবু, প্রমথ, আর জানলার ধারে অন্য একজন। ট্রেনে উঠেই একেনবাবুর বকবকানি শুরু হল। প্রমথ মন দিয়ে ‘নিউ ইয়র্কার’ পড়ার চেষ্টা করছিল। ম্যাগাজিনটা কয়েক দিন আগে এসপ্ল্যানেডে ফুটপাথ থেকে কিনেছে। মাঝে মাঝে মার্কিন মুলুকের ম্যাগাজিন ওখানে মেলে- পুরোনো ইস্যু অবশ্য। প্রমথ সেগুলো দেখতে পেলেই কেনে। দেশে এলে আমার আবার ওসব ছুঁতেও ইচ্ছে করে না। সঙ্গে একটা বাংলা পত্রিকা এনেছিলাম, কিন্তু ইন্টারেস্টিং কিছুই চোখে পড়ল না বলে একেনবাবু আর প্রমথর কথা শুনছি।
“কী পড়ছেন স্যার?”
“হারিয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি নিয়ে একটা আর্টিক্ল।
“ইন্টারেস্টিং স্যার?”
“ইন্টারেস্টিং না হলে পড়ছি কেন?”
“তা ঠিক স্যার। কিন্তু হারিয়ে গেলে সেটা নিয়ে লেখা যায় কী করে?”
“কী বলছেন আপনি! বইগুলো সম্পর্কে রেফারেন্স আছে, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না। সেটা নিয়ে প্রবন্ধ লেখা যায় না? আর যখন সেটা পাওয়া যায়, হইচই পড়ে যায়। এই তো বিয়াট্রিক্স পটারের ‘দ্য টেল অফ কিটি-ইন-বুটস’-এর হারিয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি উদ্ধার হয়ে বই হিসেবে প্রকাশ হবার আগেই এত অর্ডার পেল যে অ্যামাজন-এর বেস্ট সেলার চার্টে উঠে গেল!”
“অ্যামেজিং স্যার, ট্রলি অ্যামেজিং!”
“আরও শুনুন, ডক্টর স্যুস-এর ‘হোয়াট পেট শুড আই গেট?’-এর পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গিয়েছিল। পরে উদ্ধার হয়েছিল একটা জুতোর বাক্সের মধ্যে! এল. ফ্র্যাঙ্ক বম-এর দুটো বইয়ের ম্যানাস্ক্রিপ্ট তো এখনও পাওয়া যায়নি।”
“তিনি আবার কে স্যার?”
“‘দ্য উইজার্ড অফ অজ’ যিনি লিখেছিলেন। ওগুলো যদি কেউ উদ্ধার করতে পারে অন্তত কয়েক মিলিয়ন ডলার পকেটে পুরবে।”
“কয়েক মিলিয়ন! বলেন কী স্যার?”
আমি জানি এগুলো একেনবাবুর ন্যাকামি। উনি খুব ভালো করেই জানেন এসবের মূল্য। কিন্তু বকবক করতে হলে একটা কিছু নিয়ে তো করতে হবে!
প্রমথর হাতের পত্রিকাটার জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করলাম, “ কবেকার পুরোনো পত্রিকা রে?”
প্রমথ কভারটা দেখে বলল, “চার মাস আগের। কেন?”
“অনেক দিন আগে টিভি-র একটা টক শো-তে ঠিক এই নিয়েই একটা আলোচনা শুনেছিলাম। একটা বইও বেরিয়েছিল এই বিষয়ে। খুব হইচই হয়েছিল এ নিয়ে।”
“হতে পারে, এখানে অনেক খবর মনে হয় সেই বই থেকেই।’
এরপর একেনবাবু কিছু বললেন। কিন্তু বউদি কী একটা প্রশ্ন করায় ওদিকে আর কান দিলাম না, বউদির সঙ্গেই গল্প শুরু করলাম।
.
দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ বোলপুর পৌঁছোলাম। গেট থেকে বেরোতেই একটা লোক এসে জিজ্ঞেস করল, “আপনাদের মধ্যে একেনবাবু বলে কেউ আছেন?”
এজেন্সি থেকে গাড়ি নিয়ে এক ড্রাইভার এসেছে। বড়ো গাড়ি, টাটা সুমো। বসার কোনো অসুবিধা নেই।
গাড়িতে যখন উঠছি হাঁফাতে হাঁফাতে অল্পবয়সি এক যুবক এসে হাজির। “মিস্টার সেন?”
“হ্যাঁ স্যার, আমি একেন্দ্র সেন। আমার খোঁজ করছেন?
“আজ্ঞে হ্যাঁ। আমি মিস্টার র্যান্ডোর সেক্রেটারি, সমীর বসু।”
“আমরা তো বিকেলে যাব, মিস্টার র্যান্ডোকে জানিয়ে দিয়েছি।”
“জানি স্যার। আমাকে মিস্টার র্যান্ডো পাঠিয়ে দিলেন, অন্য কোনো সাহায্য যদি দরকার হয়, সেটা দেখার জন্য।”
“স্যার, কিছু কি দরকার আছে আমাদের?” আমাদের উদ্দেশে প্রশ্নটা ছুড়লেন একেনবাবু।
“ভালো খাবার জায়গা আছে শান্তিনিকেতনে?” প্রমথ জিজ্ঞেস করল সমীরকে।
“খাবার জায়গা অনেক আছে, তবে কতটা ভালো বলতে পারব না। আমি নিয়ে যেতে পারি।”
“আমরা তো এখন বাসায় যাচ্ছি।
“বেশ তো আমি আপনাদের ফলো করব। কোথায় যাচ্ছেন?”
“পূর্বপল্লী।”
“ঠিক আছে। আপনারা রওনা দিন।”
আমাদের গাড়ির ঠিক পেছনেই জিপ টাইপের আরেকটা গাড়ি। সমীর দ্রুত তাতে গিয়ে উঠল।
.
প্রমথর মাসির বাড়িতে আমি আগেও এক বার এসেছি। পদ্ম-ভবনের উলটো দিকে। ইন্টারেস্টিংলি, একেনবাবুর দুটো রহস্য কাহিনি ছিল শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করে। প্রথম রহস্য কাহিনিতে শুধু আমি আর প্রমথ শান্তিনিকেতনে এসেছিলাম। একেনবাবু সেটার সমাধান করেছিলেন নিউ জার্সিতে বসে। দ্বিতীয়টার জন্য অবশ্য সবাই এসেছিলাম। ছিলাম রতনকুঠিতে, বীরভূম পুলিশের গেস্ট হয়ে।
রতনকুঠির তুলনায় প্রমথর মাসির বাড়ি খুবই সাদামাটা, তবে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন। সামনে গেটের ওপর বেতের তৈরি আর্চ। সেখানে মাধবীলতা বা মাধুরীলতা ফুটেছে, গাছের নাম-ধাম আমার মনে থাকে না। গেটের পিছন দিয়ে লাল মোরাম বিছানো রাস্তা বারান্দার সিঁড়ির পাশ দিয়ে একটুখানি এগিয়ে শেষ হয়েছে। রাস্তার দু-দিকেই খানিকটা জায়গা বাগান করার জন্য। এখানকার মাটি ভালো নয়। বাইরে থেকে মাটি এনে ফ্লাওয়ার বেড করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু টব। টব-ভরতি সাদা সাদা ফুল। প্রমথ বলল বেলফুল। আসার পথে চোখে পড়েছে বড়ো বড়ো গাছগুলোতে লাল আর হলুদের ছড়াছড়ি। ওগুলো মনে হয় কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া – একমাত্র ওই দুটো নামই আমার জানা। এর আগে শীতকালে শান্তিনিকেতনে এসে বাড়িতে বাড়িতে ফুলের সমারোহ দেখেছি। এই সময়ে ফুল তেমন হয় না।
.
বাড়ির কেয়ার-টেকার বিহারের ছেলে, সে-ই বাগান করে। তার বউ খিচুড়ি বানিয়ে রেখেছিল। ঠিক ছিল আমরা পৌঁছোনোর পর ডিম আর বেগুন ভাজা হবে। সেটা কতটা সুখাদ্য হত জানি না, কিন্তু ওটাই ছিল প্রমথর ব্যাক-আপ প্ল্যান যদি অন্য কোথাও কিছু না জোটে। সমীর বসুর কল্যাণে মোটামুটি একটা ভালো রেস্টুরেন্টেই পৌঁছোনো গেল। নাম? না, ওটা দেব না। পাঠক ভাববে বিজ্ঞাপন দিচ্ছি। আর খাবার এমন কিছু ভালো নয় যে প্রচার করতে হবে। সমীরও আমাদের সঙ্গে বসল।
সমীর কথা বলতে ভালোবাসে। ‘র্যান্ডো সাহেব কতদিন হল এখানে এসেছেন,’ প্রশ্নের উত্তরে এক ধাক্কায় প্রচুর ইনফরমেশন দিল।
“এখানে মানে এই অঞ্চলে এসেছেন আট বছর তো হবেই। প্রথমে পোলট্রি ফার্ম শুরু করেছিলেন ভেদিয়াতে, বোলপুরের আগের স্টেশন। সেটা বিক্রি করে ইলামবাজারে এসেছেন বছর পাঁচেক। বেশ কয়েক একর জমি নিয়ে বানিয়েছেন ‘অর্গানিক ফার্ম হাউস।’ কেমিক্যাল সার বা পোকা মারার ওষুধ ব্যবহার না করে সেখানে চাষবাস করা হচ্ছে। একটা রেস্টুরেন্ট আছে, পাশে রাতে থাকার লজও আছে…” ইত্যাদি, ইত্যাদি।
মনে মনে ভাবছিলাম কী করে সেটা সম্ভব! যদ্দূর জানি বিদেশিরা ভারতবর্ষে চাষের জমি কিনতে পারে না। বসবাসের জন্যেও জমি কিনতে পারে কিনা সন্দেহ, রেসিডেন্সি নিলে হয়তো পারে। এটা ঠিক, আইনত না হলেও আবার সব কিছুই হয়— ও নিয়ে প্রশ্ন তুলে লাভ নেই।
“শুনলাম স্যার মিস্টার র্যান্ডো নাকি খুব অসুস্থ?”
“খুব মানে কিছুদিন ধরে আথ্রাইটিসে বেশ কষ্ট পাচ্ছেন। ভালো করে হাঁটাচলা করতে পারছেন না। এখন ওষুধ খেয়ে খানিকটা কনট্রোলে, ওয়াকার নিয়ে চলাফেরা করতে পারছেন। এমনকী এক তলা-দোতলাও করছেন। আজ বিকেলে গেলেই দেখতে পাবেন।”
“পাঁচটা নাগাদ গেলে কোনো অসুবিধা হবে স্যার?”
“কিছুমাত্র না। আপনাদের গাড়ি কি থাকবে, না আমি গাড়ি আনব?”
“না না, গাড়িটা থাকবে স্যার। আমাদের ড্রাইভারকে জায়গাটা বলে দিন, ও ঠিক নিয়ে যাবে। আরেকটা কথা স্যার, আমার ফ্যামিলিকে যদি নিয়ে যাই, অসুবিধা আছে?”
“ফ্যামিলি!”
“উনি বলতে চাচ্ছেন ওঁর মিসেসকে নিয়ে।” আমি সমীরের ধন্ধটা মিটিয়ে দিলাম।
“সে কী কথা, নিশ্চয় নিয়ে আসবেন! আপনারা যখন কথা বলবেন আমি বউদিকে ফার্মটা ঘুরে দেখিয়ে দেব। কাছাকাছি আরও দু-একটা দেখার জায়গা আছে।”
“থ্যাংক ইউ স্যার, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ।”
একটা জিনিস কথাবার্তার মধ্যে খেয়াল করছিলাম- আমাদের থেকে একটু দূরে একজন মেমসাহেব দু-জন লোকের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে, আর মাঝে মাঝে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে! হয়তো আমার চোখের ভুল। প্রমথকে ফিসফিস করে বললাম, ও পাত্তা দিল না।
সমীর আমাদের সঙ্গে বসেছিল বটে, কিন্তু চা ছাড়া আর কিছু খেল না। আমাদের খাবার মাঝখানেই ওর কী জানি একটা কাজ করতে হবে বলে চলে গেল। যাবার আগে বলে গেল, আমাদের ড্রাইভারকে কোথায় যেতে হবে বুঝিয়ে দেবে। ওর মোবাইল নম্বরটাও দিয়ে গেল, যদি পথে দরকার হয়। লক্ষ করলাম, সমীর চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে সেই মেমসাহেবও টেবিল ছেড়ে উঠে পড়লেন।
