দুই
বিকেল বেলা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে অ্যাটর্নি বার্ড, কোজেন, অ্যান্ড গিবসন-এর অফিসে গেলাম। বার্ড সাহেব অফিসে ছিলেন, রিচার্ড র্যান্ডো ওঁর-ই ক্লায়েন্ট। একেনবাবুকে বললেন, “মিস্টার র্যান্ডো একটা বিশেষ কাজে আপনার সাহায্য চান, কিন্তু কাজটা করতে হবে ইন্ডিয়াতে।”
“ইন্ডিয়াতে!”
“ইয়েস। যাতায়াতের জন্য আপনাকে বিজনেস ক্লাস-এর ভাড়া, ফাইভ স্টার হোটেলে থাকা, খাওয়া-দাওয়া, লোকাল ট্র্যান্সপোর্টেশন এবং অন্যান্য ইন্সিডেন্টাল খরচ সব দেওয়া হবে। আর কাজটা করতে পারলে তিরিশ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।”
তিরিশ হাজার! আমার মুখ দিয়ে প্রায় বেরিয়ে যাচ্ছিল, ‘ও মাই গড!’
“না পারলে স্যার?” একেনবাবুর প্রশ্ন
“না পারলে খরচের টাকা ফেরত দিতে হবে না, শুধু পারিশ্রমিক তিরিশ হাজার ডলার পাবেন না।”
“কিন্তু কাজটা কী স্যার?”
“সেটা জানি না, দেখা হলে উনি বলবেন।”
“মুশকিল হল স্যার,” একেনবাবু ইতস্তত করে আমাদের দু-জনকে দেখিয়ে বললেন, “এঁরা আমার অ্যাসোসিয়েট, ওঁদের ছাড়া আমি তো যেতে পারব না।”
বার্ড সাহেব বললেন, “তাহলে তো মুশকিলই হল। উনি যাতায়াতের জন্য শুধু এগারো হাজার ডলার মঞ্জুর করেছেন।”
এটা ঠিক, ভালো কোনো কোম্পানির প্লেনে ফ্লেক্সিবল বিজনেস ক্লাস বুক করলে ওইরকম টাকাই লাগে। এয়ার ইন্ডিয়াতে গেলে অবশ্য হাজার খানেক কম। তবে ট্যুরিস্ট ক্লাসের ডিসকাউন্ট টিকিটে ন-শো ডলারেই যাতায়াত হয়ে যায়। তার মানে আমরা চাইলে তিন জনই ওই টাকার মধ্যে আরামসে ঘুরে আসতে পারব।
বার্ড সাহেব মনে হয় ব্যাপারটা জানেন। বললেন, “দেখুন কীভাবে আপনারা যাবেন, আপনাদের ইচ্ছা। আমি শুধু যাবার জন্য এগারো হাজার ডলার দিতে পারি, প্লেন ভাড়ার রিসিটও দিতে হবে না। আর হোটেলের খরচা আমরা এখান থেকে দিয়ে দেব। আপনি শুধু জানাবেন কোথায় থাকছেন।”
এমনিতেই প্রতি বছর এই সময়ে আমি আর প্রমথ দেশে যাই, টিকিটও বুক করা ছিল। একেনবাবুই শুধু পয়সা বাঁচাতে দোনামনা করছিলেন, এখন তো সে প্রশ্ন ও নেই। আমরা নিজেদের মধ্যে বাংলায় একটু আলোচনা করে নিলাম।
“ঠিক আছে স্যার, কতদিনের মধ্যে কাজটা করতে হবে?” একেনবাবু জিজ্ঞেস করলেন।
“কোনো সময় বেঁধে দেননি। ইন্ডিয়াতে গিয়ে সরাসরি মিস্টার র্যান্ডোর সঙ্গে কথা বলে কাজটা জেনে নিতে হবে। তবে দেখুন একটা কথা বলি, উনি আমার ক্লায়েন্ট ঠিকই, কিন্তু ওঁর সঙ্গে কথা বলে কিছু বুঝতে পারা সহজ ব্যাপার নয়। একটু সতর্ক করছি আপনাকে। এখন আপনার ইচ্ছে।”
“কিন্তু কথা বলার পর যদি ঠিক করি কাজটা নেব না…”
“কোনো সমস্যা নেই। এগারো হাজার অ্যাডভান্স তো পেয়েই যাচ্ছেন। তবে ওঁর ধারণা সমস্যাটা শুনলে কাজটা আপনি নেবেন। সেইজন্যেই ভাড়াটা আগাম দিতে বলেছেন।”
.
কাহিনির শুরু এইভাবেই। এক খ্যাপা লোকের কাজের জন্য বিদেশ, থুড়ি দেশ-যাত্রা।
