ছদ্মবেশী সময় (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত

শেয়ার করুনঃ

চার

আমরা খেয়ে-দেয়ে একটু বিশ্রাম করে বিকেল বিকেল রওনা দিলাম। এই পথে আগেও এক বার ইলামবাজার হয়ে কলকাতায় গিয়েছি। কিন্তু ইলামবাজার পর্যন্ত যেতেও হয় না, তার আগেই জায়গাটা পড়ে। রাস্তার দু-দিকে শালবন শুরু হবার পর একটু গেলেই ডান দিকে সরু যে-রাস্তা বনের ভিতর দিয়ে গেছে সেটা ধরতে হয়। রাস্তাটা আসলে পিচের, কিন্তু লাল ধুলোয় ঢাকা বলে পিচের না মাটির বোঝা কঠিন। কাছাকাছি নিশ্চয় কোথাও সাঁওতালপল্লী আছে, কয়েক জন সাঁওতালকে দেখলাম পথে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেলাম। রাস্তাটা হঠাৎ করে শেষ হয়েছে পাঁচিল দেওয়া একটা বড়ো গেটের সামনে। তার ঠিক আগে পায়ে চলার ছোটো একটা পথ পাঁচিল ঘেঁষে বাঁ-দিকে চলে গেছে কোনো এক জঙ্গল মুল্লুকে! গেটের ওপরে বিশাল বোর্ড। ইংরেজিতে লেখা, ‘Organic Farm House, Ilambazar।’

 

.

 

গেটটা হাট করে খোলা। গাড়ি নিয়েই ঢুকলাম। প্রথমেই মোরাম বিছানো বড়োসড়ো একটা চত্বর। মাঝখানে একটা বটগাছ, তার নীচে কয়েকটা গাড়ি পার্ক করা। চত্বরের একদিকে এক তলা অফিসঘর, আর লাগালাগি একটা বুটিক। অন্যদিকে বোধহয় সেই লজ, যার কথা সমীর বলেছিল। সেখানে কয়েকটা জানলার নীচে এসি মেশিন চোখে পড়ল। চত্বরের মাঝখানে তিন দিক খোলা খড়ের ছাউনি দেওয়া খাবার জায়গা। সেখানে গোটা ছয়েক টেবিল আর চেয়ার পাতা। প্রত্যেকটা টেবিলের ওপরে একটা করে ফ্যান ঝুলছে আর বাতি। আসার পথে কোনো ল্যাম্প-পোস্ট চোখে পড়েনি। হয়তো নিজেদের জেনারেটরে চলে। তবে এইরকম অঞ্চলে ওপেন এয়ার-এ খাওয়া-দাওয়া? মশা তো একটা সমস্যা হবে! লোকজন নেই। এইসময় বোধহয় রেস্টুরেন্ট সার্ভিস বন্ধ। ছাউনির যে-পাশে দেয়াল, সেখানে হাত-মুখ ধোয়ার বেসিন। পাশেই লাগোয়া দোকানে জিনিসপত্র কেনা-বেচা চলছে। বড়ি, পাঁপড় থেকে শুরু করে জ্যাম, জেলি, আচার, মিষ্টি অনেক কিছুই বিক্রি হচ্ছে মনে হল। বুটিকটা খোলা। সেখানে একজনকে জিজ্ঞেস করতেই র‍্যান্ডো সাহেবের বাড়ি দেখিয়ে দিল। একটু ভেতরের দিকে। খাবার জায়গার পাশ দিয়ে একটা প্যাসেজ ধরে এগোতে হয়। মাটি দিয়ে তৈরি দোতলা বাড়ি। দেয়ালে আকর্ষণীয় সাঁওতালি আর্ট। সামনে ছোট্ট বাগান। পেছনে অনেকটা জমি, তাতে নানান ধরনের শাকসবজির চাষ চলছে। আরও পেছনে ফলের বাগান। আম, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, খেজুর, ইত্যাদি নানান গাছ চোখে পড়ল।

 

সমীর আমাদের দেখতে পেয়ে নীচে নেমে এসেছে। বউদি বাড়িতে ঢুকতে চাইলেন না। একেনবাবুকে বললেন, “তুমি তোমার কাজ করো, আমি বরং বুটিকটা ঘুরে দেখি।”

 

প্রমথ আর বউদি বাইরেই রইল। আমি আর একেনবাবু সমীরের পিছন পিছন গেলাম।

 

বউদি আর প্রমথকে সমীর বলল, “আমি ওঁদের পৌঁছে দিয়ে আসছি, স্যার বলেছেন ব্যাপারটা প্রাইভেটলি একেনবাবুকে বলতে চান।”

 

.

 

মাটির বাড়ি, একটু ভয়ে ভয়েই সিঁড়ির দিকে এগোচ্ছিলাম। দেখলাম সিঁড়ি কাঠের। আরও খেয়াল করলাম নামেই মাটির বাড়ি। পরে শুনলাম বাড়ির ফ্রেম নাকি শাল কাঠের, প্লাইউডের দেয়ালে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে— ওইটুকুই। মেঝে আমেরিকার মতো হার্ডউড, অর্থাৎ শক্ত কোনো কাঠ দিয়ে তৈরি। র‍্যান্ডো সাহেবের ব্যাকগ্রাউন্ড কী জানি না, কিন্তু বাড়িটা বানাতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যা কাজে লাগানো হয়েছে সন্দেহ নেই। দোতলায় উঠে সমীর আমাদের মিস্টার র‍্যান্ডোর ঘরে নিয়ে গেল। ঘরটা মাল্টি-পারপাস রুম-শোওয়া, বসা, পড়া সব কিছুই চলে। দুটো আলমারিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু বই, ছোটো ছোটো কয়েকটা বাক্স, আর হাবিজাবি কিছু জিনিস। গদি লাগানো চারটে হাতল দেওয়া চামড়ার চেয়ার। সেগুলোর মধ্যে একটা একটু বড়ো, যার সামনে একটা ফুট-রেস্ট, মানে পা-রাখার টুল। কাঁচা-পাকা চুল র‍্যান্ডো সাহেব সেই বড়ো চেয়ারে বসা। একটা ওয়াকার হেলান দিয়ে পাশে রাখা। আমাদের দেখে ওয়াকার নিয়ে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করলেন।

 

“প্লিজ উঠবেন না স্যার।” একেনবাবু হইহই করে বাধা দিলেন। তারপর “কেমন আছেন স্যার?” প্রশ্ন করে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

 

সামনের চেয়ার দুটো দেখিয়ে র‍্যান্ডো সাহেব বললেন, “এত শর্ট নোটিসে যে আপনি এসেছেন, আমি খুব কৃতজ্ঞ। জানি অনেকটা পথ। কিন্তু আমার সত্যিই সাহায্যের দরকার।”

 

মিস্টার র‍্যান্ডোর কত বয়স জানি না, কিন্তু তোবড়ানো গাল আর কোটরের মধ্যে ঢোকানো চোখ দেখলে কম সে কম সত্তর-পঁচাত্তর মনে হয়। গায়ে গেরুয়া রঙের ফতুয়া টাইপের জামা। খানিকটা সন্ন্যাসী সন্ন্যাসী ভাব।

 

“বলুন স্যার, কী সাহায্য করতে পারি?” একেনবাবু চেয়ারে বসতে বসতে বললেন।

 

“বলছি। সমীর, তুমি বেরোবার সময় দরজাটা বন্ধ করে দাও।”

 

সমীর চলে যাবার পর মিস্টার র‍্যান্ডো বললেন, “আপনাদের যা বলছি, তা খুবই গোপনীয়,” বলে আমার দিকে তাকালেন।

 

“আপনি স্যার স্বচ্ছন্দে বাপিবাবুর সামনে যা বলার বলতে পারেন। আমাকে বলাও যা, ওঁকে বলাও তাই।”

 

“বেশ।”

 

“ভেতরের দরজাটা খোলা দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “ওই দরজাটা কি বন্ধ করে দেব?’

 

“দরকার নেই, ফুলমনি ইংরেজি বোঝে না।”

 

ফুলমনি কে, একটু বাদেই বুঝলাম। স্টানিং চেহারার এক সাঁওতালি যুবতী জলের বোতল নিয়ে দরজা দিয়ে উঁকি দিতেই মিস্টার র‍্যান্ডো জিজ্ঞেস করলেন,

 

“চা খাবেন তো?”

 

“না না স্যার, কিচ্ছু লাগবে না।”

 

আমিও সায় দিলাম।

 

জলের বোতলটা পাশে একটা ছোট্ট টেবিলে রাখল ফুলমনি। আলমারি খুলে ওষুধের একটা স্ট্রিপ নিয়ে এসে বলল, “ওষুধটা খেয়ে নিয়ো, সময় হয়ে গেছে।’

 

“বেশ, তুই যা।”

 

র‍্যান্ডো সাহেব দেখলাম খুব একটা খারাপ বাংলা বলেন না। ‘বেশ” কথাটাও খেয়াল করেছি বীরভূমের লোকালরা খুব ব্যবহার করে।

 

ফুলমনি আর দাঁড়াল না। মেয়েটির হাঁটাচলায় একটা ছন্দ আছে। ফুলমণির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি দেখে র‍্যান্ডো বললেন, “আমার কাছে আছে বছর ছয়েক ধরে, আমাকে দেখাশোনা করে।”

 

নিশ্চয় হ্যাংলার মতো তাকিয়ে ছিলাম। লজ্জা পেলাম।

 

“এবার বলুন স্যার।”

 

মিস্টার র‍্যান্ডো তাঁর কাহিনি শুরু করলেন।

 

.

 

“আমার স্ত্রী, লুসি আমাকে ছেড়ে চলে যায় পঁয়ত্রিশ বছর আগে। যাবার দু-বছরের মধ্যে বোল্ডার সিটি-তে ও আগুনে পুড়ে মারা যায়। খবরটা আমি পাই হলিউড পুলিশের কাছ থেকে। পুলিশই খোঁজখবর নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, কারণ লিগালি আমাদের ডিভোর্স বা সেপারেশন কিছুই হয়নি। স্বামী হিসেবে সৎকারের দায়িত্ব আমার, যদিও দেহ আগুনে পুড়ে কিছুই প্রায় ছিল না। এইভাবেই তেত্রিশ বছর আগে আমার বিবাহিত জীবনের সব কর্তব্য শেষ হয়ে যায়। এরপর আমি আর বিয়ে করিনি, মেয়েদের সঙ্গে আমার সব সম্পর্কই ছিল সাময়িক। আমার ধ্যানজ্ঞান সব কিছুই ছিল স্ক্রিপ্ট রাইটিং… এ লং স্ট্রাগ্ল। বারো বছর আগে হঠাৎ করেই আমার ভাগ্য খুলে যায়। নাথিং টু ডু উইথ হলিউড। আপনাকে তো এই নিয়ে বলেছি, তাই না?”

 

“হ্যাঁ, স্যার।”

 

“নানান দেশ ঘুরতে ঘুরতে কী করে এখানে এসে পৌঁছোলাম, সে এক দীর্ঘ কাহিনি। সেটা বাদ দিয়ে আসল প্রসঙ্গে আসি। মাস চারেক আগে, মেল ব্রুকস নামে একজনের কাছ থেকে আমি একটা ইমেল পাই। ‘তোমার স্ত্রী লুসি’ হেডিং না দেখলে হয়তো ডিলিট করে দিতাম। ইমেল-এর সঙ্গে ছিল একটা অ্যাটাচমেন্ট। মেল ব্রুকস হলিউডের একজন বিখ্যাত অভিনেতা, তিনি নিশ্চয় আমাকে ইমেল লিখবেন না। অর্থাৎ একই নামের অন্য কেউ। অচেনা কারোর কাছ থেকে আসা ইমেল-এ অ্যাটাচমেন্ট থাকলে আমি সাধারণত সেটা খুলি না। অনেক সময়ে ওগুলোতে ভাইরাস থাকে। একবার খুলে খুব ঝামেলায় পড়েছিলাম। না-খোলা অবস্থায় ইমেলটা পড়েছিল। ভুলেই গিয়েছিলাম ওটার কথা। কিছুদিন আগে পুরোনো ইমেল ঘাঁটতে ঘাঁটতে চোখে পড়ল। আমার নতুন ল্যাপটপের ভাইরাস প্রোটেকশন খুবই ভালো। তাই সাহস করে ইমেলটা খুলতেই দেখি বিয়ের আগে তোলা আমার আর লুসি-র একটা ছবি! আমি তো অবাক! পেল কোত্থেকে? কিন্তু তার নীচে যে ক’টা লাইন, সেটা আরও বিস্ময়কর… ‘তুমি চোর… লুসির ঠাকুরদার খাতা তুমি চুরি করেছ!” প্রথমে আমি ধরতেই পারছিলাম না ব্যাপারটা কী! কে এই মেল ব্রুকস? হলিউডে জনা দুয়েক মেলকে চিনতাম। মেল ব্রুকস তো একজন লেজেন্ড। অন্য মেল, মেল গিবসনও পরে বিখ্যাত অ্যাক্টর হয়েছিল। তার সঙ্গে এক বারই একটা পার্টিতে পরিচয় হয়েছিল। লুসি এদের কাউকে চিনত না। কিন্তু কোন খাতার কথা বলছে এই মেল? তার পরেই মনে পড়ল লুসি যখন বাড়ি ছেড়ে চলে যায় তখন একটা ছোটো কার্ডবোর্ডের বাক্স ফেলে রেখে গিয়েছিল। ওটা ফেলে দিইনি, কারণ ভেবেছিলাম লুসি হয়তো একদিন ফিরে আসবে।”

 

“একটা কথা স্যার, এই বাক্স বা খাতার প্রসঙ্গ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার পর ম্যাডাম লুসি আর কখনো তোলেননি?”

 

একমুহূর্ত চুপ করে থেকে র‍্যান্ডো সাহেব বললেন, “বার দুই ফোন করে ওগুলো চেয়েছিল, রাগ করেই দিইনি। শুনেছিলাম অন্য একটা লোকের সঙ্গে ও থাকে। তার সঙ্গেই থাকুক না, ওই বাক্সের আর কী দরকার! তারপর যা হয়, বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম বাক্সটার কথা! আমার একটা ক্লজেট প্রায় ভরতি ছিল কাগজপত্রে- নানান স্ক্রিপ্টের ড্রাফট, ফাইনাল কপি, ইত্যাদি। তার মধ্যে ওই বাক্সটাও পড়ে ছিল। নিউ ইয়র্কে চলে আসার জন্য যখন ক্যালিফোর্নিয়ার পাট চোকাচ্ছি, তখন মুভাররা ক্লজেট খালি করে সব কিছুই নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসে। নিউ ইয়র্কে বাক্সগুলো আনপ্যাক করতে গিয়ে সেই পুরোনো কার্ডবোর্ড বাক্সটা চোখে পড়ে। খুলে দেখি মলাট-ছেঁড়া কয়েকটা খাতা। মাঝে মাঝে হয়, কিছু কিছু পুরোনো কথা হঠাৎ করে মনে আসে। মনে পড়ে গেল আমাদের বিয়ের পর পর এই বাক্সটা খুলে লুসি দেখিয়েছিল। ওগুলো ছিল ওর ঠাকুরদার স্মৃতি। ছেলেবেলাতেই তাঁকে হারায়, কিন্তু ওর ছেলেবেলার সুখস্মৃতি বলতে ছিল সেই ঠাকুরদা। ভদ্রলোকের একটা প্রিন্টিং প্রেস ছিল, নিজেই অবাক হচ্ছি যে-নামটা বলেছিল, সেটা পর্যন্ত আমার মনে আছে– লুসিডা প্রেস। কিন্তু এই খাতাগুলোর খবর এই লোকটা জানল কী করে? আর চুরি করার কথাই-বা আসছে কোত্থেকে! সব থেকে বড়ো প্রশ্ন, কে এই মেল নামের লোকটা? বুঝতে পারছেন আমার সমস্যা?”

 

“নিশ্চয় বুঝতে পারছি স্যার, কিন্তু আমার কেমন জানি মনে হচ্ছে এটা একটা উড়ো চিঠি, হঠাৎ করেই কিছু মিলে গেছে। ভালো কথা, ছবিটা কি আপনার স্ত্রী ম্যাডাম লুসির?”

 

“হ্যাঁ, ছবিটা লুসিরই। প্রথমে আমিও আপনার মতো ভেবেছিলাম, কেউ ছবিটা পেয়ে হয়তো মজা করে ইমেলটা আমাকে পাঠিয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়, যার জন্য এখন আমার চিন্তা হচ্ছে।”

 

“একটু বুঝিয়ে বলুন স্যার?”

 

“এই ইমেল-এর অ্যাটাচমেন্টটা খোলার একদিন বাদেই মেল ব্রুকস লোকটার আর একটা ইমেল এল, সেটাতেও একটা অ্যাটাচমেন্ট। খুলে দেখি, সেখানে লেখা – আমার কাছে প্রমাণ আছে তুমি লুসির ঠাকুরদার খাতা শুধু চুরি করোনি, তুমিই লুসির হত্যাকারী। আগেও এক বার লুসিকে খুন করার চেষ্টা করেছিলে। মনে রেখো ক্যালিফোর্নিয়াতে খুনের কেস কখনো ক্লোজ করা হয় না। এ ছাড়াও তোমার অন্য অপকর্মের কয়েকটা ফোটো আছে… মনে করার চেষ্টা করো। সেগুলোরও কিন্তু স্ট্যাচুট অফ লিমিটেশন নেই।

 

“সঙ্গের অ্যাটাচমেন্টে লুসির ছবি – চোখ-মুখ বিচ্ছিরিভাবে ফোলা, গালে কালশিরা। এবার আমি সত্যিই ভয় পেয়ে গেলাম, কিন্তু বুঝে উঠতে পারলাম না, ঠিক কী করা উচিত। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সাহস হচ্ছে না। একবার ওদের জালে পড়লে শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে কে জানে! তার ওপর আমার ওল্ড ওয়েস্টবেরি-র বাড়িতে কয়েক মাস আগে বার্গলারির চেষ্টা হয়েছে। চুরি কিছু হয়নি অবশ্য। আপনার সঙ্গে হঠাৎ করেই আমার পরিচয় হয়েছিল। পরে স্টুয়ার্টের কাছে আপনার অনেক প্রশংসা শুনেছি। তাই আমি স্টুয়ার্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার ফোন নম্বর জোগাড় করলাম।”

 

“ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্ট ব্যাপারটা জানেন?”

 

“না, আপনি ছাড়া আর কেউ জানে না, স্টুয়ার্টও তো পুলিশে কাজ করে। আমার নিউ ইয়র্কের বাড়িতে কেউ কিছু চুরির চেষ্টা করেছে অজুহাত দিয়ে আপনার নম্বর জোগাড় করেছি। সাধারণত ছোটোখাটো চুরি নিয়ে ওখানকার পুলিশ মাথা ঘামায় না, জানেন তো।”

 

“এই ছবিটা আপনি আগে দেখেননি, তাই কি স্যার?”

 

“মনে করতে পারছি না। শেষের দিকে মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে লুসির ঝগড়া হত, মাতাল অবস্থায় দু-জনে মারামারিও করেছি। যদিও ওইরকমভাবে কোনোদিন লুসিকে আহত করেছি কিনা মনে নেই। আমিও রক্তাক্ত হয়েছি ওর আক্রমণে।”

 

“অন্য কয়েকটা অপকর্মের কথা যে চিঠিতে ছিল স্যার, সেগুলো কী অনুমান করতে পারেন?”

 

র‍্যান্ডো সাহেব মাথা নাড়লেন। যদিও দেখে মনে হল কিছু একটা চেপে যাচ্ছেন!

 

“একটা কাজ করা যাক স্যার, এভাবে আমার কাছে কিছু পরিষ্কার হবে না। আপনি একটু ডিটেলে বলুন আপনার আর আপনার স্ত্রী ম্যাডাম লুসির কথা- কবে থেকে ওঁকে চিনতেন, কোথায় আপনাদের দেখা হয়েছিল, ওঁর বাবা-মা, বন্ধুবান্ধবদের কথা, ওঁর মৃত্যুর কথা। কিচ্ছু বাদ দেবেন না।”

 

“বেশ, কিন্তু এটা দীর্ঘ কাহিনি হবে, আমি একটু ওয়াশরুম থেকে ঘুরে আসি।”

 

“নিশ্চয় স্যার।”

 

মিস্টার র‍্যান্ডো বেল বাজিয়ে ফুলমনিকে ডাকলেন। ফুলমনি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে এল, মনে হয় দরজার বাইরেই বসে ছিল। মিস্টার র‍্যান্ডোকে ধরে ধরে নিয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *