৮
বিষাণগড়ের রাজবাড়িতে সেই আমার প্রথম রাত। জানলা-দরজায় খিল আর ছিটকিনি এঁটে দিয়েছিলুম, মাথাটা গরম হয়ে গিয়েছিল বলে মাথায় ঘাড়ে আর কানের পিছনে বেশ ভাল করে জলও থাবড়ে নিয়েছিলুম, কিন্তু খানিক আগে যা ঘটে গিয়েছিল, তার ধকল যেন কাটতে চাইছিল না; মনে হচ্ছিল, এই যদি প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা হয়, তা হলে ভবিষ্যতে আরও কত দুর্ভোগ আমার কপালে লেখা আছে, তা কে জানে।
একবার ভাবলুম চাকরিটা ছেড়ে দেব। রানি-মা তো পাঞ্জাবে গিয়েছেন, তিনি ফিরে আসবার আগেই পালাব এখান থেকে। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারলুম যে, সেটা সম্ভব নয়। আমি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে, তায় বাড়ির বড় ছেলে, গোটা সংসার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, আর তাই চাকরিতে ইস্তফা দেওয়ার বিলাস আমার একেবারেই সাজে না। তার উপরে আবার এত ভাল চাকরি। এখানে আমার থাকা-খাওয়া ফ্রি, অন্য খরচাও বলতে গেলে কিছুই নেই, যা মাইনে পাব তার প্রায় সবটাই তাই কলকাতায় পাঠিয়ে দিতে পারব। সে ক্ষেত্রে চাকরি ছেড়ে যদি কলকাতায় ফিরে যাই, তো আমিই একটা বোঝা হয়ে দাঁড়াব আমাদের সংসারে।
এইসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলুম, জানি না। ঘুম ভাঙল শেষ-রাত্তিরে। বিছানা থেকে উঠে, চোখে মুখে জল দিয়ে, দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়ালুম।
চোখ যেন জুড়িয়ে গেল। পৃথিবীতে তখন অন্ধকারের রাজত্ব, কিন্তু আকাশের অন্ধকার ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। মিনিট কয়েক বাদেই আমার ডাইনে, পুবদিকের আকাশে, ফুটল আলতাপাটি শিমের রঙ। বাঁয়ে তাকালে একটা নদী চোখে পড়ে। দেখলুম তার কালো বুকে পড়েছে সেই হালকা-লালের ছায়া। গোটা রাজবাড়িটা এতক্ষণ যেন, বিশাল একটা জাহাজের মতন, অন্ধকার এক সমুদ্রের তলায় ডুবে ছিল। এবারে সেও তার গোটা শরীর নিয়ে একটু একটু করে সেই পাতালপুরীর অন্তরাল থেকে জলের উপরে ভেসে উঠতে লাগল।
মন্দিরটাও চোখে পড়ল আবার। নদীর দিকে, প্যালেসের পশ্চিম-দিককার কম্পাউন্ড-ওয়ালের ধারে এই রাজবংশের উপাস্য দেবতা মহেশ্বরের মন্দির এতক্ষণ শেষ-রাত্রির অন্ধকারের মধ্যে আ াগোপন করে ছিল; এখন, যতই অস্পষ্টভারে হোক, সেও ক্রমশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তার চূড়ার উপরকার ত্রিশূলটিকে নিশ্চয়ই সোনার জলে রং করিয়ে নেওয়া হয়েছিল, নইলে সূর্যের প্রথম রশ্মির ছোঁয়া লাগবামাত্র ওই ত্রিশূল অমন ঝকমক করে উঠত না।
তন্ময় হয়ে সেই দিকে তাকিয়ে ছিলুম, হঠাৎ আমার চমক ভাঙল। মনে হল, কারও যেন গলা পাচ্ছি। একটু বাদে দেখতেও পেলুম তাঁকে। সূর্যবন্দনার স্তোত্র উচ্চারণ করতে-করতে, নদীর দিক থেকে, মন্দিরের পাশের ছোট একটা গেট পেরিয়ে দীর্ঘকায় একজন পুরুষ রাজবাড়ির কম্পাউন্ডের ভিতরে এসে ঢুকলেন, তারপর মস্ত-মস্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসতে লাগলেন আমাদের এই কোয়ার্টার্সের দিকে।
একটু কাছে আসতে বুঝতে পারলুম যে, মানুষটি মধ্যবয়সী। ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত, ধবধবে সাদা বুকের উপরে মোটা একটা পৈতে ঝুলছে, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, পরনে পট্টবস্ত্র। বয়স মনে হল ষাটের কাছাকাছি। চুলে পাক ধরেছে কিন্তু শরীর যে এখনও রীতিমত মজবুত, সে তাঁর হাঁটার ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছিল।
কোয়ার্টার্সের সামনে এসে মানুষটি হঠাৎ চোখ তুলে উপরের দিকে তাকালেন একবার। আমাকে দেখতে পেলেন। মনে হল যেন চমকে উঠেছেন। কিন্তু কিছু বললেন না। মাথা নিচু করে ধীরে-ধীরে একতলার কোয়াটার্সের মধ্যে ঢুকে গেলেন তিনি।
রাজ-পুরোহিত গঙ্গাধর মিশ্র যে এই বাড়ির একতলায় থাকেন, মুনিমজির কাছে কাল রাত্তিরেই সে-কথা শুনেছিলুম। বুঝতে পারলুম যে, ইনিই মিশিরজি। হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলম সাড়ে পাঁচটা বাজে। তার মানে, বেড-টি আসতে আরও আধ ঘণ্টা। ভাবলুম, তা হলে একবার যাই, মিশিরজির সঙ্গে আলাপ করে আসি।
নীচতলার ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিংবেল টিপতে যিনি এসে দরজা খুলে দিলেন, সেই বিধবা বউটির বয়স বছর তেইশ-চব্বিশের বেশি হবে না। মনে হল, আমাকে দেখে তিনিও একটু চমকে উঠেছেন। পরক্ষণেই চোখ নামিয়ে এক পা পিছিয়ে গেলেন তিনি। মাথা নিচু করে বললেন, “আপনি….আপনি কি আমার শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে চান?”
বললুম, “হ্যাঁ। আমার নাম কিরণ চট্টোপাধ্যায়। কেয়ারটেকারের কাজ নিয়ে এখানে এসেছি। দোতলার ফ্ল্যাটে থাকি। ওঁর সঙ্গে কথা বলব।”
মাথা নিচু করেই বউটি বললেন, “একটু দাঁড়ান, এক্ষুনি ওঁকে খবর দিচ্ছি।”
দরজা খোলা। বাইরে আলো ফুটেছে, কিন্তু তাকিয়ে দেখলুম, ঘরের মধ্যে এখনও অন্ধকার। বাইরের এই ঘেরা-বারান্দাও এখনও পর্যন্ত সকালবেলার আলোর ছোঁয়া তেমন করে পায়নি, ছায়ার মধ্যে ডুবে রয়েছে।
মিশিরজির জন্যে অপেক্ষা করছি, এমন সময় সেই অন্ধকার ঘরের ভিতর থেকে একেবারে হঠাৎই ছুটে বেরিয়ে এল একটি বাচ্চা মেয়ে, আর এসেই আমার দুই হাঁটু জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল : বাবুজি! বাবুজি!
কাল রাত্তিরেই আমার ফ্ল্যাটে একটা নাটক হয়ে গিয়েছে, তারপর সাত-সকালেই এই ব্যাপার। কিছুই ঠিকমতো ঠাহর করতে পারছিলুম না, শুধু এইটুকু আন্দাজ করতে পারছিলুম যে, একটা কিছু গণ্ডগোল কোথাও ঘটেছে। সেটা যে কী, তা বুঝে উঠবার আগেই গঙ্গাধর মিশ্র এসে গেলেন। ব্যাপার দেখে তিনি যে খুব অবাক হয়েছেন, তা অবশ্য মনে হল না। বরং মনে হল যে, এমনটা যে ঘটতে পারে, তা তিনি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন।
বাচ্চা-মেয়েটি আমার হাঁটু জড়িয়ে ধরে তখনও সমানে কেঁদে যাচ্ছে। আস্তে-আস্তে আমার কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিলেন তিনি। তার মাথায় পিঠে সস্নেহে হাত বুলোতে বুলোতে বললেন, “বাবুজি তো এসেই গেছে, দিদি, তা হলে আর তুই কাঁদছিস কেন? বুঝতেই তো পারছিস, বাবুজি অনেক দূর থেকে থেকে এসেছে, এখনও ওর আস্নান হয়নি। আগে আমি উপরতলা থেকে ওকে আস্নান করিয়ে আনি। বহোত থকে গেছে, থোড়া আরাম করতে দে। তুই ততক্ষণ তোর মা আর নানির সঙ্গে একটু কথা বল। এখনও তো কিছু খাসনি। দুধটা অন্তত খেয়ে নে। তারপর উপর থেকে এসে বাবুজি তোকে অনেক-অনেক কিস্সা শুনাবে।”
মেয়েটি আমাকে কিছুতেই ছাড়তে চায় না। অনেক বুঝিয়ে তাকে ভিতরে পাঠানো হল। বিধবা সেই বউটি ইতিমধ্যে আবার দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরে ভিতরে যেতে-যেতে মেয়েটি বলে গেল, “তাড়াতাড়ি আস্নান করে নাও বাবুজি। আমিও দুধ খেয়ে নিচ্ছি। তারপর তোমাকে অনেক-অনেক গল্প শোনাতে হবে।”
মিশিরজি আমাকে নিয়ে উপরে উঠে এলেন।
চা এল ঠিক ছ’টার সময়ে। চা, দুধ আর চিনির আলাদা-আলাদা পট, পেয়ালা, পিরিচ, ছাঁকনি, চামচ, সব ট্রে’র উপরে সুন্দর করে সাজিয়ে এনেছে। একটা মাঝারি সাইজের রেকাবিতে কিছু বিস্কুটও নিয়ে এসেছে দেখলুম। ব্রেকফাস্ট কখন দিতে হবে জিজ্ঞেস করতে বললুম, “আটটার আগে নয়।’ সেলাম করে কিচেনের লোকটি চলে গেল।
মিশিরজিকে বললুম, “আপনিও চা খেয়ে নিন না। আমার সঙ্গে একটা এক্সট্রা কাপ আছে, কলকাতা থেকে নিয়ে এসেছি।”
গঙ্গাধর মিশ্র বললেন, “চায়ের নেশা আমার নেই, বাবুজি। তা ছাড়া, ন’টা নাগাদ আমি পুজোয় বসি, তার আগে আমি জল পর্যন্ত খাই না।”
আমি আমার জন্যে চা ঢেলে নিলুম, তারপর তাতে দুধ-চিনি মিশিয়ে একটা চুমুক দিয়ে বললুম, “ব্যাপার কী বলুন তো?”
“লছমির কথা জিজ্ঞেস করছেন তো?” মিশিরজি বিষণ্ণ হাসলেন, “সেটা বলব বলেই আপনার সঙ্গে উপরে উঠে এসেছি।”
মিশিরজির কাছে সেদিন যা শুনেছিলুম, তার কথা আমি আগেই বলেছি। মাত্রই মাসখানেক আগে এক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন তাঁর একমাত্র ছেলে পুরন্দর মিশ্র। নীচে আমি যাঁদের দেখেছি, তারা – পুরন্দরেরই বিধবা বউ আর মেয়ে। যমুনা আর লছমি। এই এক মাসে যমুনা যদি-বা তার শোক খানিকটা সামলে উঠতে পেরেছে, লছমি একেবারেই পারেনি। সে একেবারে গুম মেরে রয়েছে। কারও সঙ্গে কথা বলে না, হাসে না, খেলা করে না। এক্কেবারে বোবার মতন চুপ করে সারাক্ষণ বসে থাকে। রাত্তিরে ভাল করে ঘুমোয় না পর্যন্ত; যদি-বা ঘুমোয়, হঠাৎ-হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, আর তখন ডুকরে কেঁদে ওঠে।
“আজই ও প্রথম কথা বলল, বাবুজি। কেন বলল জানেন?”
“কেন?”
তখনই আমার কথার কোনও জবাব দিলেন না গঙ্গাধর মিশ্র। চুপ করে খানিকক্ষণ জানলার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, “রোজই আমি শেষরাত্তিরে ঘুম থেকে উঠে সর্সোতিয়ায় স্নান করতে যাই। আজও স্নান সেরে ফিরে আসছিলুম। আপনি তখন দোতলার ওই সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনও ভাল করে আলো ফোটেনি। সেই আবছায়ার মধ্যে আপনার উপরে চোখ পড়বামাত্র আমি চমকে উঠি।”
“সেটা আমি বুঝতে পেরেছিলুম।”
“কিন্তু কেন যে আমি চমকে উঠেছিলুম, তা আপনি বুঝতে পারেননি, বাবুজি। প্রায় সঙ্গে- ঙ্গেই আপনি নীচে নেমে এলেন। তখন আমার বউমা যমুনাও চমকে উঠল আপনাকে দেখে। আর লছমি যে কী কাণ্ড করল, সে তো আপনি নিজেই দেখলেন।”
বুঝতে পারছিলুম যে, একটা কোনও জটিল রহস্যের গ্রন্থি ধীরে-ধীরে খুলে যাচ্ছে। কিন্তু রহস্য যে ঠিক কী, স্পষ্ট করে তখনও সেটা ঠাহর করা যাচ্ছিল না। বললুম, “কিন্তু ব্যাপারটা কী? আপনারাই বা চমকে উঠলেন কেন, আর লছমিই বা ওইভাবে ঘর থেকে ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল কেন?”
গঙ্গাধর মিশ্র একদৃষ্টিতে জানলার দিকে তাকিয়ে, যেন-বা আত্মগতভাবে কথা বলে যাচ্ছিলেন। এবারে তিনি সরাসরি আমার দিকে তাকালেন। বললেন, “মিথ্যে কথা বলব না, বাবুজি। পুরন্দরের সঙ্গে আপনার মিল যেমন অনেক, তেমন অমিলও নেহাত কম নয়। তার ছিল ফর্সা রঙ, আর আপনার রঙ ময়লা। মাথায় সে আপনার চেয়ে দু-এক ইঞ্চি খাটো ছিল। তার কপালে একটা মস্ত জড়ুল ছিল, আপনার নেই। কিন্তু সবে যখন রাত কেটেছে তখনকার সেই আধো-আলো আধো-অন্ধকারের মধ্যে আমরা আপনাকে দেখেছিলুম তো, তাই অমিলগুলো তত স্পষ্ট হয়ে চোখে পড়েনি। হঠাৎ দেখে যেমন আমার, তেমন যমুনা আর লছমিরও মনে হয়েছিল যে, সেই মরা মানুষটাই যেন আবার আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। বাবুজি, দুটো মানুষের মধ্যে মুখচোখের এমন মিল বড়-একটা দেখা যায় না।”
“তাই-ই?”
“তা-ই।” গঙ্গাধর মিশ্র বললেন, “আমাদের হিন্দিভাষায় একটা প্রবাদ আছে, ভগবান কখনও এক ছাঁচে দুটো মুখ তৈরি করেন না। কিন্তু বাবুজি, এখন তো আর অন্ধকার নেই, রোদ্দুর উঠেছে, কিন্তু এখনও এই যে আপনাকে দেখছি, আমার কী মনে হচ্ছে জানেন? মনে হচ্ছে যেন পুরন্দরকে তৈরি করবার পর ভগবান তাঁর ছাঁচটা ভাঙতে ভুলে গিয়েছিলেন, সেই একই ছাঁচে আপনার মুখখানা তিনি তৈরি করে দিয়েছেন।”
মিশিরজি উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, “চলি, বাবুজি। বেলা হয়েছে। আমাকে এখন আহ্নিক করতে হবে, জপ করতে হবে। তারপর ন’টার সময় মন্দিরে যাব, পুজো করতে বসব।”
আমিও উঠে দাঁড়ালুম। বললুম, “মিশিরজি, আমার বড় ধাঁধা লেগে গিয়েছিল। ধাঁধাটা আপনি কাটিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু একটা কথা আমি এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।”
“কী বুঝতে পারছেন না, বাবুজি?”
“লছমিকে আমি কী বলব? প্রথম যখন দেখেছিল, তখন বুঝতে পারেনি, কিন্তু এখন তো ঠিকই বুঝতে পারবে যে, আমি ওর বাবুজি নই। ওকে কী বলে সান্ত্বনা দেব আমি?”
মিশিরজি ম্লান হাসলেন। বললেন, “তা আমি আর এখন ভাবছি না। অনেক দিন বাদে মেয়েটা যে আবার কথা বলেছে, এই ঢের। .. আপনি বুদ্ধিমান মানুষ, অনেক পড়ালিখা করেছেন, ওই বাচ্চা-মেয়েটাকে কি আর আপনি সব বুঝিয়ে বলতে পারবেন না?”
কী আর বলব। আমার গলায় কিছু একটা আটকে গিয়েছিল। তাই কিছুই বলা গেল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলুম।
সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শোনা গেল। সেইসঙ্গে একটি শিশুকণ্ঠের উল্লসিত চিৎকার। “বাবুজি, ম্যায় দুধ পি লিয়া। কম সে কম দোঠো কিস্সা তো আভি শুনানেই পড়েগা তুমকো।”
লছমি উপরে উঠে আসছে। হঠাৎ আমার হাত দুখানা জড়িয়ে ধরলেন মিশ্রজি। কাতর কণ্ঠে বললেন, “ভগবানই আপনাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন, বাবুজি। ওই দুধের বাচ্চাটাকে আপনি একটু বুঝিয়ে বলতে পারবেন না? পারতেই হবে। নইলে ওকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না।”
