বিষাণগড়ের সোনা (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শেয়ার করুনঃ

১৩

টেলিফোন বেজে উঠতেই ঘুম ভেঙে গেল। বেড সুইচ টিপে আলো জ্বেলে ঘড়ির দিকে তাকালুম। সাড়ে ছ’টা। কিন্তু এখন ডিসেম্বর মাস। দিল্লিতে এখন এত তাড়াতাড়ি সকাল হয় না। শীতও পড়েছে কড়া রকমের। এদিকে টেলিফোনটা তো বিছানার পাশেই থাকবে, তাও নেই। সেটা রয়েছে দূরে, রাইটিং টেবিলের উপরে। কিন্তু কী আর করা, কম্বলটাকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বিছানা থেকে নেমে গিয়ে টেলিফোন ধরলুম।

“চ্যাটার্জি স্পিকিং” বলতেই ওদিক থেকে ভেসে এল পরিচিত কণ্ঠস্বর। “কী মশাই, ঘুমুচ্ছিলেন নাকি?”

ভাদুড়িমশাই। বললুম, “বাঃ, ঘুমুব না? কালকের ইভনিং ফ্লাইট কখন পালামে এসে পৌঁছেছিল জানেন? রাত সাড়ে ারোটায়। কিনা ফগের জন্যে ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যাচ্ছিল না। তো এয়ারপোট থেকে ট্যাক্সি নিয়ে হোটেলে পৌঁছতে পৌঁছতে দেড়টা বাজল। শুয়েছি দুটোয়। …কিন্তু সে কথা থাক, আমি যে এই হোটেলেই উঠেছি, তা জানলেন কী করে?”

“বার-বার তো ওইখানেই ওঠেন। তাই ভাবলুম টেলিফোনে একবার চেষ্টা করে দেখি। তো রিসেপশানে আপনার নাম বলতেই আপনার ঘরে লাইন দিয়ে দিল।”

“আপনি কোথায় উঠেছেন? এবারেও ইম্পিরিয়াল?”

“না, আমার এক ক্লায়েন্ট এখানে এক্সপোর্ট-ইম্পোর্টের ব্যবসা করে। লোকটা বিয়ে-থাওয়া করেনি, অথচ গ্রেটার কৈলাসে বাড়ি হাঁকিয়েছে বিশাল। অনেকদিন ধরে বলছিল যে, দিল্লিতে তো আমি প্রায়ই আসি, অন্তত একবার তার বাড়িতে উঠতেই হবে। তো এবারে তা-ই উঠেছি। চান তো আপনিও এখানে এসে উঠতে পারেন।।”

বললুম, “না মশাই, এই শস্তার হোটেলে দিব্যি আছি। সবকিছুই এখান থেকে কাছে তো, তাই আমার কাজকর্মের খুব সুবিধে হয়।”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “ঠিক আছে, আপনি তা হলে আরও খানিকক্ষণ, ঘুমিয়ে নিন। তারপর আপনার কাজকর্ম সারুন। কিন্তু যেখানেই যান, বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে হোটেলে ফিরে তৈরি হয়ে থাকবেন। সাড়ে চারটে থেকে পৌনে পাঁচটার মধ্যে ওখান থেকে আমি আপনাকে তুলে নিয়ে নিউ রাজিন্দরনগরে সরস্বতীদের বাড়িতে যাব। রাতের খাওয়াটা আজ ওখানেই সারব আমরা, সরস্বতী অন্তত সেইরকমই বলে রেখেছে।”

“ফিরতে রাত হবে?”

“তা একটু হতে পারে, তাই রাত্তিরের দিকে অন্য কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট রাখবেন না। আর হ্যাঁ, হোটেলে ফেরার ব্যাপারটা নিয়ে ভাববেন না। আমার ক্লায়েন্ট তার একটা গাড়ি আমাকে ছেড়ে দিয়েছে, আপনাকে আপনার হোটেলে নামিয়ে দিয়ে তবে আমি গ্রেটার কৈলাসে ফিরব।”

ভাদুড়িমশাই ফোন নামিয়ে রাখলেন। আমি আবার বিছানায় ফিরে কম্বল মুড়ি দিলুম।

দ্বিতীয় দফার ঘুম ভাঙল ন’টা নাগাদ। ফলে আর ব্রেকফাস্ট খাওয়ার সময় হল না। লোদি গার্ডেনসের ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে দশটায় যে সেমিনার বসবে, তাতে সকালের অধিবেশনেই আমার একটা পেপার পড়বার কথা। লাঞ্চ সেখানেই। সঙ্গে কিছু বিস্কুট ছিল। বেড-টি’র সঙ্গে তারই খান-দুই খেয়ে, দাড়ি কামিয়ে, স্নান সেরে, তৈরি হয়ে সাড়ে ন’টা নাগাদ একটা ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে পড়লুম। সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সেমিনার। আমার পেপারটা পড়বার পরে জনা তিন-চার শ্রোতা যথারীতি কিছু প্রশ্ন করলেন। যথারীতি তার উত্তরও দিতে হল। তারপর আরও দুজনের আরও দুটি পেপার। আরও দু’কিস্তি প্রশ্নোত্তর। তারপর লাঞ্চ। দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হল আড়াইটেয়। সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলবার কথা। কিন্তু আমি আর শেষ পর্যন্ত থাকিনি। সাড়ে তিনটে নাগাদ একটা ট্যাক্সি ডাকিয়ে হোটেলে ফিরে এলুম।

আসলে এই সেমিনার একটা উপলক্ষ মাত্র। গত মাসে সরস্বতীকে নিয়ে ভাদুড়িমশাইয়ের কাছে গিয়েছিলুম। তখনই ভাদুড়িমশাইকে বলতে শুনি যে, ডিসেম্বরে তিনি দিল্লি যাবেন। পরে আমাকে ফোণ করে বলেন, সম্ভব হলে আমিও যেন সেই সময়ে দিল্লি যাই। তো এমন যোগাযোগ যে, তার হপ্তাখানেক আগেই এই সেমিনারে এসে একটা পেপার পড়বার আমন্ত্রণ পেয়েছিলুম। এমনিতে আমি এ-সব সেমিনারে বিশেষ যাই না। কিন্তু ভেবে দেখলুম, এবারে যদি আসি তো সকলের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে, তেমনি যাতায়াত আর থাকা-খাওয়ার খরচটাও আমাকে মেটাতে হবে না, সেমিনারের ব্যবস্থা যাঁরা করেছেন, তাঁরাই সেটা দিয়ে দেবেন। কবে সেমিনার, ভাদুড়িমশাইকে সেটা জানাতে তিনি বললেন, “ঠিক আছে, আমিও তা হলে ওই সময়েই যাচ্ছি।”

ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার থেকে সওয়া চারটের মধ্যেই হোটেলে ফিরে এসেছিলুম। ভাদুড়িমশাই এলেন চারটে চল্লিশে। আমি যে হোটেলের লাউঞ্জেই বসে আছি, এইটে দেখে বললেন, “বাঃ, তা হলে আর উপরে উঠছি না, চলুন, বেরিয়ে পড়া যাক।”

কনট সার্কাসের আউটার সার্কলে একটা পাক মেরে আমাদের বেরুতে হবে। গাড়ি চালাতে চালাতে ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী করি বলুন তো?”

“কেন, কী হল?”

“যখনই কলকাতা থেকে দিল্লি আসি, ওদের জন্যে কিছু মিষ্টি নিয়ে আসি। কিন্তু এবারে তো আসছি ব্যাঙ্গালোর থেকে। সেখানেও অবশ্য স্পঞ্জ রসগোল্লা পাওয়া যায়, কলকাতার কে সি দাশ ব্যাঙ্গালোরেও চমৎকার একটা দোকান চালাচ্ছে, কিন্তু আমার তো মশাই সবই একেবারে শেষ মুহূর্তে, তাড়াহুড়ো করে চলে আসতে হল, তাই মিষ্টিটা আর মনে করে নিয়ে আসা হয়নি। এদিকে মিষ্টি আনিনি শুনলেই তো সরস্বতীর মুখ ভার হবে। লছমিও কথা শোনাতে ছাড়বে না।”

বললুম, “ভয় নেই, কলকাতা থেকে দু’টিন রসগোল্লা নিয়ে এসে ই, আমার ব্যাগেই রয়েছে।”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “শাব্বাশ, এই না হলে চাচাজি! লছমি যে রল্লার খুব ভক্ত ছিল, সেটা আপনি মনে রেখেছেন তাহলে!”

“না রাখলেও ক্ষতি ছিল না, গোল মার্কেটেও আজকাল রসগোল্লা পওয়া যায়, স্বাদ নেহাত খারাপও নয়।”

“আরে মশাই, আমি তো গোল মার্কেটে যাবার কথাই ভাবছিলুম। যাক্, তার আর দরকার নেই।”

গাড়ি অন্য পথ ধরল। শঙ্কর রোডের উঁচু রাস্তা থেকে নীচে নামলুম আমরা। বাঁদিকে একটা মন্দির। সেটা ছাড়িয়ে বাঁয়ে টার্ন নেবার পর খানিক বাদে ডাইনে একটা পার্ক পড়ল। পার্ক ছাড়াতে একটা মোড়। মোড়ের কাছে একটা তিনতলা বাড়ির সামনে গাড়ি থামিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “নেমে পড়ুন কিরণবাবু, আমরা এসে গেছি।”

সরস্বতীরা যে আমাদের জন্যেই উদ্‌গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছিল, তাতে সন্দেহ নেই। রাস্তায় গাড়ি থামবার আওয়াজ আর সিঁড়িতে জুতোর শব্দও তারা শুনতে পেয়েছিল নিশ্চয়। তাই আর আমাদের কলিং বেল বাজাবারও দরকার হল না। সিঁড়ির বাঁক ঘুরে উপরে তাকাতেই দেখলুম, দোতলার ফ্ল্যাটের দরজা খুলে সবাই বাইরে এসে দাঁড়িয়ে আছে।

ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী মশাই, কাউকে চিনিয়ে দেবার দরকার হবে?”

চোখে প্রায় জল এসে গিয়েছিল। প্রাণপণ চেষ্টায় সেটা সামলে নিয়ে অস্ফুট গলায় বললুম, “না। …তুমি তো সরস্বতী, তোমাকে গত মাসেই দেখেছি। …তুমি লছমি। …আর আপনি…” লছমির পাশে যিনি শ্বেতপাথরের একটা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁর দিকে তাকিয়ে বললুম, “আর আপনি তো আমার সেই দিদি, ‘ভাবি’ ডাকটা যিনি একটুও পছন্দ করতেন না।”

বছর-দুয়েকের একটা বাচ্চা ছেলেকে কোলে নিয়ে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা যে যুবকটি চুপচাপ সরস্বতীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, সে বলল, “এ পর্যন্ত ফুল মার্কস। কিন্তু আমি কে?”

“তুমি নিশ্চয় সুমঙ্গল।”

সরস্বতী বলল, “চমৎকার। আর সুমঙ্গলের কোলে ওই যে বিচ্ছুটি দেখছেন, ওটিকে চিনতে পারলেন?”

হাত বাড়াতেই বিচ্ছুটি একেবারে ঝাঁপিয়ে আমার কাছে চলে এল। বললুম, “এর মুখে তো দেখছি ায়ের মুখখানা একেবারে রসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা হলে আর চিনব না কেন? এ হচ্ছে সরস্বতীর পুত্র। চোখ দুটি যে-রকম ভাসা-ভাসা, তাতে মনে হচ্ছে, কবি হবে। তখন সবাই সরস্বতীর পুত্র না বলে একে সরস্বতীর বরপুত্র বলবে। কিন্তু আমি তো তখন বেঁচে থাকব না।”

যমুনা দেবী বললেন, “ও কী কথা ভাইয়া! তুমি আরও অনেকদিন বাঁচবে। …কিন্তু তোমরা বাইরে দাঁড়িয়ে রইলে কেন? ভিতরে এসো। ভাদুড়িদাদা, আপনিও আসুন।”

সবাই মিলে ভিতরে গিয়ে বসা গেল। লছমি যে সরাসরি আমার দিকে তাকাচ্ছে না, সেটা আমার নজর এড়ায়নি। সম্ভবত তারও চোখে জল এসে গিয়েছিল। আসাই স্বাভাবিক। এই যে এতদিন বাদে আমি ওদের সামনে এসে হাজির হয়েছি, এ তো হারিয়ে যাওয়া একটা মানুষেরই আবার ফিরে আসার ব্যাপার। এমন মানুষ, তেতাল্লিশ বছর আগে যে কিনা ওদের ঘরের মানুষ ছিল। সত্যিই তা-ই। আমি যে বাইরের লোক, বিষাণগড়ে তা তো ওরা আমাকে কখনও বুঝতেও দেয়নি। গঙ্গাধর মিশ্রকে প্রথম-প্রথম আমি ‘মিশ্রজি’ বলতুম। বয়সে তিনি আমার বাবার চেয়ে কিছু বড়। ভারী স্নেহ করতেন আমাকে। মাত্রই কিছুদিন আগে তাঁর ছেলেকে তিনি হারিয়েছিলেন। আমার দিকে তাকিয়ে সেই হারনো-ছেলেকেই যে তিনি দেখতে পেতেন, তাতে সন্দেহ নেই। তাঁর স্নেহের সেটাই মস্ত কারণ। আমি যে সেটা জানতুম না, তাও তো নয়। তাই ‘মিশ্রজি’ বলে সম্বোধন করতে একটু সংকোচই হত আমার। ফলে, দিন কয়েক বাদেই তাঁকে আমি ‘তাউজি’ বলতে শুরু করি। প্রথম যেদিন তাঁকে ‘তাউজি’ বলি, প্রসন্ন হাসিতে বৃদ্ধের মুখখানা যে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল, আজ এতদিন বাদেও তা আমার স্পষ্ট মনে পড়ে।

লছমি যে মুখ নিচু করে বসে আছে, কিছু বলছে না, তার একটা কারণ হয়তো সংকোচ। সেটা কাটিয়ে দেবার জন্যে বললুম, “কী লছমি, বিষাণগড়ের সেই দিনগুলির কথা কি ভুলে গেছ? আমি যে তোমাকে নিয়ে রোজ বিকেলে সসোতিয়ার ধারে বেড়াতে যেতুম, রোজ তোমাকে গল্প শোনাতুম, খাইয়ে দিতুম, এমনকি মাঝে-মাঝে ঘুম পাড়িয়েও দিতে হত, সে-সব কিছু তোমার মনে নেই?”

শুনে সবাই হেসে উঠল। এক যমুনা দেবী ছাড়া। সরস্বতী বলল, “সত্যি নাকি মা?”

মেয়ের কথার কোনও উত্তর দিল না লছমি। যেন কথাটা ও শুনতেই পায়নি। মুখ তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমার একটা নালিশ আছে, চাচাজি।”

“তোমার কথা না শুনে চলে এসেছিলুম, তাই নিয়ে নালিশ তো?”

“তা নিয়ে নয়।” এতক্ষণে হাসি ফুটল লছমির মুখে। বলল, “আগে তো আপনি আমাকে ‘তুই’ বলতেন, এখন তা হলে ‘তুমি’ বলছেন কেন?”

“এই ব্যাপার।” এবারে আমিও হোহো করে হেসে উঠলুম। তারপর বললুম, “কিন্তু লছমি, তুই-ই বা তা হলে তোর চাচাজিকে কেন ‘আপনি’ বলছিস? আগে তো দিব্যি ‘তুমি’ বলতি।”

কাজের মেয়েটি চা দিয়ে গেল। সেইসঙ্গে মস্ত একটা রেকাবিতে স্লাইস-করা প্রচুর কেক আর মিষ্টি। মিষ্টির দিকে এক পলক তাকিয়েই বললুম, “দিদির দেখছি সবই মনে আছে। কিছুই ভুলে যাননি।”

যমুনা দেবী বললেন, “আর বোলো না ভাইয়া। এদের ধারণা, আমি বুড়ো হয়ে গেছি, তাই কটোটি পর্যন্ত নাড়তে দেয় না। তো কাল ভাদুড়ি-দাদা ফোন করে বললেন, সম্ভবত তুমিও দিল্লিতে আসছ, যদি আসো তো আজ তোমাকে নিয়ে এখানে আসবেন। তার পরে আর হাত গুটিয়ে বসে থাকি কী করে? মনে পড়ল যে, তুমি ঠেকুয়া খেতে ভালবাসো, তাই তক্ষুনি তোমার জন্যে ঠেকুয়া বানাতে বসে গেলাম। ওগুলো সবই তোমার জন্যে। এরা সব একালের ছেলেমেয়েরা এ-সব মিষ্টি পছন্দ করে না।”

লছমি বলল, “আমি তো আর একেলে নই, মাথার চুলে পাক ধরতে আরম্ভ করেছে। কিন্তু মা, ঠেকুয়া আমিও পছন্দ করি না। আমি রসগুল্লা ভালবাসি, চাচাজি তাই দু-টিন রল্লা নিয়ে এসেছে।”

“বেশ, তা হলে তোরা তা-ই খা, এ-মিষ্টি পাবি না।

ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমিও না?”

যমুনা দেবী হেসে বললেন, “ঠিক আছে, আপনি হয়তো এক-আধটা পাবেন, তাও ভাইয়া যদি দেয়।”

সুমঙ্গল বলল, “কী পার্শিয়ালিটি রে বাবা, আমি নাতজামাই, আর আমিই বাদ?”

“ঠিক আছে, তোমাকেও এক-আধটা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু লছমিও পাবে না, সরস্বতীও পাবে না। ওরা তো আমার রান্নাঘরে ঢোকা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।”

লছমি বলল, “সাধে কি আর বন্ধ করেছি মা। সারাটা জীবনই তো সকলের জন্যে খেটে মরলে, এখন একটু বিশ্রাম নাও।”

কী যে ভাল লাগছিল, সে আমি বুঝিয়ে বলতে পারব না। এ যেন এক পারিবারিক পুনর্মিলনের ব্যাপার। যেন বিষাণগড়ের সেই দিনগুলিতেই আবার আমরা ফিরে গিয়েছি। তফাত শুধু এই যে, আমাদের প্রত্যেকেরই বয়স তখন তেতাল্লিশ বছর কম। আর হ্যাঁ, সরস্বতী সুমঙ্গলের তখনও জন্মই হয়নি। মিশ্রজি, তাঁর স্ত্রী, আমি, দিদি আর ল্ঽমি যে তখন পরস্পরের জীবনের সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলুম, আর মাঝে-মাঝে যখন ভাদুড়িমশাইকে নিয়ে ওদের কোয়ার্টার্সে গিয়ে হানা দিতুম, তখন তিনিও যে কীভাবে বাঁধা পড়ে যেতেন সেই একই ভালবাসার জালে, তা বোধহয় ওরা কল্পনাও করতে পারবে না।

আমরা গল্প করছিলুম, ওরা শুনছিল। সবই বিষাণগড়ের গল্প। রাজবাড়ির গল্প, রানি আর রাজকুমারদের গল্প, শহরে যাঁরা আমাদের পরিচিত ছিলেন তাঁদের গল্প, নদীতে ঢল নামবার গল্প, পাহাড় থেকে একটা হাতি একবার শহরে এসে ঢুকে পড়েছিল, সেই গল্প, জঙ্গলে পিকনিক করতে গিয়ে কীভাবে আমরা একবার পথ হারিয়ে ফেলেছিলুম তার গল্প। ভুলভাল হিন্দি বলতুম আর তার ফলে যে মাঝে-মাঝে কীরকম বিপদে পড়তে হত আমাকে, দিদির মুখে সেই গল্প শুনে তো সবাই হেসেই কুটিপাটি। মনে হচ্ছিল, টানা তিনদিন ধরে যদি এখন বিষাণগড়ের গল্প চলে, তাও বোধহয় আমাদের গল্পের স্টক ফুরিয়ে যাবে না।

গল্প যে আরও কতক্ষণ চলত কে জানে, কিন্তু সরস্বতী ইতিমধ্যে তার জায়গা থেকে উঠে গিয়েছিল, রান্নাঘর থেকে ঘুরে এসে সে বলল, “ডিনার রেডি। সুমঙ্গল, তুমি বড়দা আর ভাইয়াকে সাবান আর তোয়ালে এগিয়ে দাও, ওঁরা হাতমুখ ধুয়ে নিন, তারপর ওঁদের নিয়ে খেতে বসে যাওঁ।”

আজকাল যা হয় আর কি, মস্ত বড় লাউঞ্জটাকেই মাঝখানে একটা কাজ করা কাঠের পার্টিশান বসিয়ে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে, একদিকে বসবার জায়গা, অন্যদিকে ডাইনিং স্পেস। গল্প করতে-করতেই বাসনকোশনের আওয়াজ পাচ্ছিলুম, এবারে পার্টিশানের ওদিককার কথাবার্তা শুনে বুঝতে পারলুম যে, এর পরে আর বসে থাকা চলবে না, ডাইনিং টেবিলে খাবার-দাবার এসে গেছে। সুমঙ্গলের কোলে তার বাচ্চা ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাকে শুইয়ে রেখে এসে সুমঙ্গল বলল, “চলুন, হাতমুখ ধুয়ে বসে পড়া যাক।”

টেবিলে মাত্র চারটে প্লেট দেখে বললুম, “কী ব্যাপার, দুজন কী পরে খাবে নাকি? সবাই একসঙ্গে বসে পড়লেই তো হত।”

যমুনা দেবী বললেন, “তোমার মনে নেই, ভাইয়া, রাত্তিরে আমি খাই না। লছমি অবশ্য দুধ-খই খায়, তাও ও আজ খাবে না, আজ একাদশী। তোমরা খেতে বসে যাও।”

খাওয়ার ফাঁকে-ফাঁকে গল্প চলতে লাগল। শুনলুম, আমরা চলে আসবার পরে গঙ্গাধর মিশ্র আর মাত্র বছর পাঁচেক বেঁচে ছিলেন। শরীর ক্রমেই ভেঙে পড়ছিল। শেষের দিকে খুব জ্বর হত, আর মাথায় অসম্ভব যন্ত্রণা। মৃত্যুর আগের কয়েকটা দিন নাকি কাউকে চিনতে পর্যন্ত পারতেন না। শুধু অস্ফুট গলায় দু’জনের নাম করতেন।

বললুম, “কার?”

লছমির চোখে আবার জল এসে গিয়েছিল। মুখ নিচু করে আঁচলের খুঁটে জল মুছে নিয়ে বলল, “বাবুজির আর তোমার। শুধু বিড়বিড় করে বলতেন, একটা ছেলেকে কেড়ে নিয়ে ভগবান যদি আর-একটাকে পাঠিয়ে দিলেন, তো সেটাও কেন চলে গেল? চাচাজি, অমন হঠাৎ তুমি বিষাণগড় থেকে চলে গেলে কেন?”

“তাও জানিস না?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কেন, তোর মা তোকে পরে কিছু বলেননি?”

“কই না তো?”

যমুনা দেবী বললেন, “প্রায়ই ভাবতুম, বলে দিই; কিন্তু পরক্ষণেই মনে হত, থাক, কাজ নেই, এখন ওর বয়েস কম, ভুল বুঝবে, তাই বলি-বলি করেও বলা হত না। তারপরে তো শ্বশুরমশাই মারা গেলেন। মারা যাবার কিছুদিন আগে এই বিষাণগড়েই একটা ছোটমতন বাড়ি তৈরি করিয়ে রেখে যান, আমরা সেখানে উঠে আসি। তো লছমির ঠাকুমাও তার পরে আর খুব বেশিদিন বাঁচেননি। লছমির বয়েস তখন আর কত হবে, এই ধরুন এগারো-বারো। তো শাশুড়ি-ঠাকরুন বেঁচে থাকতে তাও যা হোক একটা ভরসা ছিল, তিনি মারা যাবার পরে আর মেয়েকে নিয়ে ওখানে থাকবার সাহস হল না, বাড়িতে তালা লাগিয়ে মেয়েকে নিয়ে দিল্লিতে আমার বাপের বাড়িতে চলে এলুম। তারপরে তো ব্যাপারটা আমি ভুলেই যাই, ভাইয়াকে যে কেন বিষাণগড় ছাড়তে হয়েছিল, তা আর ওকে আজ পর্যন্ত বলাই হয়নি।”

ভাদুড়িমশাই লছমির দিকে তাকিয়ে বললেন, “কারণটা তা হলে আমার কাছেই শোন্। তোর চাচাজিকে একটা খুনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

আঁতকে উঠে লছমি বলল, “সে কী! … যাঃ যত্ত সব বাজে কথা! বিলকুল ঝুট!”

“না রে, বাবা, বাজে কথা নয়। শিউশরণ ত্রিপাঠীর নোকর হরদেওয়ের খুনের তো কোনও কিনারা হল না। তারপর মার্চ, এপ্রিল, আর মে মাসটা মোটামুটি ভালয় ভালয় কাটল। কিন্তু জুনের শেষ হপ্তায়… তারিখটা এখনও আমার মনে আছে, আঠাশে জুন …. যা ঘটল, সে এক বীভৎস ঘটনা! সেও ভোরবেলাকার ব্যাপার। তা সর্সোতিয়ার ধারে যাঁরা মর্নিং ওয়াক করে, আমি তো তাদেরই একজন, আমারই চোখে পড়ল যে, ঠিক ওই নদীর ধারের ঢালু ঘাসজমির উপরে তিন-তিনটে লাশ পড়ে আছে। তিনজনেই ট্রাইবাল। তবে হ্যাঁ, এটা মাথা ফাটিয়ে মারবার ব্যাপার নয়, তিনজনকেই গুলি করে মারা হয়েছে।”

সুমঙ্গল বলল, “বলেন কী?”

যমুনা দেবী বললেন, “ভাদুড়িদাদা যা বলছেন, ঠিক বলছেন। বাধা দিও না, শুনে যাও।”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “বিষাণগড় তো বড় শহর নয়, ছোট জায়গা। একটা খুন হলেই সেখানে শহরশুদ্ধ লেকের পিলে চমকে যায়, আর এ তো ট্রিপ্ল মার্ডারের ঘটনা, বিষাণগড়ে একেবারে হুলুস্থুলু পড়ে গেল। সন্ধে নাগাদই বাড়িতে-বাড়িতে খিল পড়ে যেতে লাগল, দোকানপাট তো বিকেলের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়, পথঘাট একেবারে খাঁখাঁ।”

সরস্বতী বলল, “পুলিশ কী করছিল?”

“কী আর করবে, এ-সব ব্যাপারে যা তারা করে থাকে, তা-ই করছিল। অর্থাৎ চোর পালাবার পরে আস্তাবলে তালা লাগাচ্ছিল।” ভাদুড়িমশাই হাসলেন। “তারা এল, লাশ পরীক্ষা করল, তারপর খুব বিজ্ঞের মতন বলল যে, তিন-তিনবার গুলি চালানো সত্ত্বেও কেউ যখন কোনও শব্দ শুনতে পায়নি, তখন রিভলভারে সাইলেন্সার লাগানো ছিল নিশ্চয়। আর হ্যাঁ, এই আশ্বাসটাও তাদের কাছে পাওয়া গেল যে, এর পরে পাহারা আরও জোরদার হবে, সুতরাং কারও ভয় পাবার কিছু নেই।”

“আর তারপরেই গোটা ব্যাপারটার উপরে ধামা চাপা পড়ল!” আমি বললুম, “সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানো, পাহাড় থেকে পারতপক্ষে যারা শহরে আসে না, হঠাৎ তাদের তিনজন যে কেন রাতের অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে বিষাণগড় শহরে এসে ঢুকেছিল, এই প্রশ্নটা কেউই তুলল না।”

“আপনিই বা আগ বাড়িয়ে অমন প্রশ্ন তুলতে গেলেন কেন?” ভাদুড়িমশাই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “সুখে থাকতে ভূতে কিলোচ্ছিল বুঝি?”

লজ্জিত গলায় বললুম, “কৌতূহল, স্রেফ কৌতূহল।”

“অ্যান্ড দিস্ কিউরিয়সিটি কিল্ড দ্য ক্যাট। ওয়েল, অলমোস্ট।” ভাদুড়িমশাই হাসতে-হাসতে বললেন, “প্রায় মারাই তো পড়তে বসেছিলেন। তাই না?”

বললুম, “তা বটে।”

“পুলিশ দেখল, এ বড় গোলমেলে লোক। এ-লোককে যদি এক্ষুনি না সমঝে দেওয়া হয় তো পরে হয়তো আরও গোলমেলে সব প্রশ্ন তুলবে। তারা সুযোগের অপেক্ষায় রইল, আর সেটা এসেও গেল খুব তাড়াতাড়ি। …কী কিরণবাবু, সুরজপ্রসাদ আগরওয়াল কবে মারা গিয়েছিল?’

ম্লান হেসে বললুম, “ওই ট্রিপ্ল-মার্ডারের এক হপ্তার মধ্যে। দোসরা জুলাই।”

“কারেক্ট। তো শুধু ওইটুকু বললেই তো হবে না। ট্র্যাপটা কীভাবে পাতা হয়েছিল, সেটাও ওদের জানিয়ে দিন।”

“আর বলবেন না। আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুরারিকে একটা কাজে মার্কেট রোডে পাঠিয়েছিলুম। বিকেল চারটে নাগাদ দফতরে ফিরে এসে সে জানাল যে, মার্কেট রোডে সুরজপ্রসাদের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল তো আমার সঙ্গে তাঁর কী একটা জরুরি কথা আছে, আমি যদি আজ একবার মার্কেট রোডে তাঁর গয়নার দোকানে যাই তো বড় ভাল হয়। তা বিষাণগড়ের দোকানপাট তখন তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আমি দেখলুম, গেলে তাড়াতাড়ি যাওয়াই ভাল। এক কন্ট্রাক্টর তার ক’দিন আগে কিছু বিল্ডিং মেটেরিয়ালের দামের একটা কোটেশন দিয়েছিল, বাজারে গিয়ে সেটাও যাচাই করে দেখা যাবে। চটপট বেরিয়ে তাই পাঁচটার মধ্যেই সুরজপ্রসাদের দোকানে পৌঁছে যাই। গিয়ে দেখি, দোকান বন্ধ করে ভদ্রলোক তখন কোলসিবল গেটে তালা লাগাচ্ছেন।”

সরস্বতী বলল, “লোকটিকে আপনি আগে থেকেই চিনতেন?”

“চিনি বই কী। বিষাণগড়ে যেদিন প্রথম আসি, সেদিনই ট্রেনে ওঁর সঙ্গে আলাপ হয়। ভদ্রলোকের যেমন মার্কেট রোডে ওই গয়নার দোকান ছিল, তেমনি ছিল কাঠের কারবার। গয়নার দোকানের দায়িত্ব ছেলের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজে ইদানীং কাঠের কারবারটাই দেখছিল। সেই সূত্রে প্রায়ই জঙ্গলে-জঙ্গলে যেতে হত। তবে ইদানীং কিছুদিন ধরে যাচ্ছিলেন না। বিষাণগড়ে ওঁর একটা করাত-কলও আছে, ছেলেকে সেখানে বসিয়ে উনি তাই আবার গয়নার দোকানে বসতে শুরু করেছিলেন। মাঝে-মাঝে বিকেলের দিকে সেখানে যেতুম। আমাকে চা না-খাইয়ে ছাড়তেন না, লছমির জন্যেও পাশের দোকান থেকে লাড্ডু আনিয়ে দিতেন। কী রে লছমি তোর মনে নেই?”

মৃদু গলায় লছমি বলল, “আছে চাচাজি।”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “তো আপনাকে দেখে কী বললেন সেদিন সুরজপ্রসাদ আগরওয়াল?”

“আমাকে দেখে ফের দোকান খুললেন। কিছুক্ষণ গল্পগুজবও হল। তার আগেই অবশ্য তিনি জানিয়েছিলেন যে, বাজারে একবার মুরারির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল ঠিকই, তবে তার সঙ্গে কোনও কথাই হয়নি।”

“কথাবার্তা শেষ হয়ে যাবার পরে সুরজপ্রসাদও কি আপনার সঙ্গে দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন?”

“না। বললেন যে, আবার যখন দোকান খুলেছেন, তখন আরও দু-একটা কাজ সেরে তারপর বাড়ি ফিরবেন।”

ভাদুড়িমশাই লছমির দিকে তাকিয়ে বললেন, “শুনলে তো? এখন আমার কাছে শোনো, তারপরে কী হল। কিরণবাবু তো দোকান থেকে সওয়া পাঁচটা নাগাদ বেরিয়ে এলেন, আর পৌনে ছ’টা নাগাদ একটা লোক ছুটতে ছুটতে গিয়ে কাছেই পুলিশ-চৌকিতে এই খবর পৌঁছে দিল যে, আগরওয়ালজি তাঁর দোকানের মধ্যেই খুন হয়েছেন, কেউ কিছু দিয়ে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।…তো সুমঙ্গল, তুমি বলো তো, খুনের ব্যাপারে পুলিশের সন্দেহ সাধারণত কার-কার উপরে পড়ে?”

সুমঙ্গল হেসে বলল, “এ তো অতি সহজ প্রশ্ন। পুলিশ প্রথমেই খোঁজ নেবে যে, খুনটা হয়ে যাওয়ায় কার লাভ হল, আর খুন করবার সবচেয়ে সহজ সুযোগটাই বা ছিল কার।”

“আর?”

“আমাকে ঠকাতে পারবেন না বড়দা।” সুমঙ্গল বলল, “আমি গোয়েন্দা গল্পের পোকা। পুলি। আরও খোঁজ নেবে যে, লোকটাকে মৃত অবস্থায় প্রথম দেখেছিল কে, আর জীবন্ত অবস্থাতেই বা কে তাকে শেষ দেখেছিল।”

“শাবাশ।” ভাদুড়িমশাই এবারে লছমির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তো তোর চাচাজিই তো স্বজপ্রসাদকে জীবন্ত অবস্থায় শেষ দেখেছিলেন। সন্দেহের কাঁটাটাকে ওঁর দিকে ঘুরিয়ে দিতে তাই নেটিভ স্টেটের পুলিশের কিছুমাত্র অসুবিধে হল না। আসলে তারা এই রকমের একটা সুযোগের অপেক্ষাতেই বসে ছিল তো। সুরজপ্রসাদকে যাদের দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, দোকান থেকে বেশ কিছু গয়নাও সরিয়ে ফেলেছিল তারা। ফলে একটা মোটিভও দাঁড় করানো গেল। তার উপরে আবার মুরারিও অম্লানবদনে বলে বসল যে, সুরজপ্রসাদ যে কিরণবাবুকে তাঁর দোকানে গিয়ে দেখা করতে বলেছিলেন, সে নাকি তোর চাচাজিকে এমন কোনও কথাই কখনও বলেনি। অর্থাৎ একেবারে চমৎকার ফ্রেম-আপ।”

লছমি বলল, “তারপর?”

“তারপর আর কী,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “দু’চারদিন জেরার পরেই তোর চাচাজির নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল। তবে কিনা তা যে হবে, তাঁর এই বন্ধুটির কাছ থেকে তোর চাচাজি সে-কথা আগেই জেনে গিয়েচিলেন। যেদিন জেনেছিলেন, সেইদিনই তিনি আমার কাছে ছুটে আসেন, আর আমিও আমার জিপে করে সেই রাত্তিরেই তোর চাচাজিকে বিষাণগড় থেকে রায়পুরে পৌঁছে দিই। নইলে আর ওঁকে বাঁচতে হত না। তা এখন বুঝলি তো, হঠাৎ একদিন কিরণবাবু কেন বিষাণগড় থেকে চলে গিয়েছিলেন। … কিন্তু না, আর নয়, দশটা প্রায় বাজে। এবারে উঠব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *