আসল খুনির সন্ধানে (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত
বারো
পরদিন সকালবেলা চা খেতে খেতে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা শুরু করতে যাবেন দরজায় বেল। ওঁর খোকামামা! মায়ের সবচেয়ে ছোটো ভাই। হেন কাজ নেই, উনি করেননি –আবার কোনো কাজেই লেগে থাকেননি। ভালো লিখতেন, একটা বড়ো পত্রিকায় চিফ সাব এডিটর বা কিছু ছিলেন। পরে একটা সিনেমা পত্রিকায় ফিচার লিখতেন বেশ কিছুদিন। হঠাৎ লেখালেখি ছেড়ে কিছুদিন গান আর ছবি আঁকা নিয়ে মাতলেন। ছেলেবেলায় ওঁর গলা ভালোই লাগত। ওঁর আঁকা ছবি অবশ্য দেখেননি। তবে শিল্প-সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে ওঁর বেশ যোগ আছে। বহু ঘাটের জল খেয়েছেন, আর অসম্ভব স্মরণশক্তি। সব রকম বিষয়েই জমিয়ে আড্ডা দিতে পারেন। বিয়ে থা করেননি, মুক্ত পুরুষ। এমনিতে খোকামামার সঙ্গে গল্প করতে ভালোই লাগে একেনবাবুর। আজকে অবশ্য সময় নিয়ে একটু চাপের মধ্যে আছেন।
ঘরে ঢুকে সোফায় পা মুড়ে বসে থোকামামা হাঁক দিলেন, “বউমা, একটু চা দাও।”
একেনবউদিকে খুব স্নেহ করেন খোকামামা। একা একা থাকে বলে খোঁজখবর করে যান নিয়মিত। শুধু চা নয় আরও কিছু আসবে খানিক্ষণের মধ্যেই। একেনবাবুও তার প্রসাদ পাবেন।
“কেমন আছ খোকামামা?”
“শ্চমৎকার আছি। তুই কবে এলি?”
“বেশ কিছুদিন হল। একটা খুনের তদন্ত করতে এসেছিলাম, এসে দেখছি একাধিক খুন!”
“বাঃ, তাহলে তো সুখবর, কিছুদিনের জন্য আটকা। বউমা একা একা কতদিন আর থাকতে পারে!”
“হ্যাঁ, খোকামামা, ঠিকই বলেছ। এবার পাততাড়ি গুটিয়ে আসার কথা ভাবছি।”
এর মধ্যে চা নিয়ে একেনবউদি এলেন। সাইড টেবিলে কাপটা রাখতে রাখতে বললেন, “মামা, চা-টা নিন। খাবার হচ্ছে, একটু সময় লাগবে।”
“আরে তাড়া তো কিছু নেই, লাগুক সময়।” বলতে বলতে খোকামামার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাখা একেনবাবুর ছবিটা। “কী ব্যাপার! গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে তোর মনে হচ্ছে শিল্পে মতি হয়েছে… একেবারে টেবিলে রেখে ডিসপ্লে করছিস!”
“ওটাকে দেয়ালে টাঙাতে হবে।” লজ্জা পেয়ে একেনবাবু স্বীকার করলেন, “তোমার বউমা এখানে রেখেছে, যাতে ভুলে না যাই।”
“তোর যা ভুলো মন, ভালোই করেছে। কিন্তু বিনয় দত্তের এই পেইন্টিংটা তো আগে দেখিনি!”
“দেখনি, কারণ মাত্র কিছুদিন আগে এটা নিউ ইয়র্কে এঁকেছিলেন, আমাদের সামনেই।”
“ওর ছবি এক সময় ভালো লাগত, কিন্তু কী-যে আঁকে আজকাল!”
“উনি নাকি বিমূর্ত অতিভক্তিবাদ, না কী একটা মুভমেন্টের সঙ্গে জড়িত?”
“বিমূর্ত অভিব্যক্তিবাদ,” শুদ্ধ করে দিলেন খোকনমামা। “অ্যাবস্ট্রাক্ট এক্সপ্রেশানিজম। ওটাই তো কাল হয়েছে… এমন সিম্বলিক, কারো সাধ্য নেই বোঝার। আগে দুর্দান্ত মেয়েদের ফিগার আঁকত। একটু অ্যাবস্ট্রাক্ট, কিন্তু বোঝা যেত।”
“তুমি কি চিনতে ভদ্রলোককে?”
“বহুদিন আগে একটা ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম… তখনও উঠতি, স্ট্রাগল করছে। স্যাড লাইফ।”
“স্যাড লাইফ বলছ কেন? লাখ লাখ টাকায় ছবি বিক্রি করছেন!”
“তা করছে এখন। আমি বলছি আর্টিস্ট জীবনের প্রথম দিককার কথা। ছেলেবেলায় বাবাকে হারিয়েছিল, মাও অসুস্থ থাকত। বিনয়ই এদিক-ওদিক ছবি বেচে কোনো মতে সংসারটা চালাত। ছোটো বোনকেও হঠাৎ হারায় একটা ট্র্যাজেডিতে। ফলে বহুদিন ছবি আঁকতে পারেনি। পরে পেটের তাগিদে আবার আঁকা শুরু করে। ওই বোনটাই তখন ওর মিউজ হয়ে দাঁড়ায়, আমাকে বলেও ছিল সেটা।”
“মিউজ?” কথাটা একেনবাবু আগেও শুনেছেন, অর্থটা জানেন না। “মিউজ মানে?”
“মানে ইনস্পিরেশন। সেইজন্যেই মনে হয় মেয়েদের ছবিই শুধু আঁকত।”
“ভেরি ইন্টারেস্টিং! আর এখন আঁকছেন ত্রিভুজ, টাকাও কামাচ্ছেন বেশি!”
“ঠিকই, এখন ওর ছবির মাথামুণ্ডু বোঝা কঠিন। যাইহোক, খুনের তদন্ত করতে এসেছিস বললি… থাকিস তো তুই নিউ ইয়র্কে, কলকাতা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিস কেন?”
“কারণ কলকাতায় যিনি খুন হয়েছেন, তিনি নিউ ইয়র্কের এক ভদ্রলোকের জন্য কাজ করছিলেন।”
“তুই কি বিকাশ সেনের কথা বলছিস?”
এবার একেনবাবুর অবাক হবার পালা! “তুমি বিকাশ সেনকে চেনো?”
“চিনি না, তবে পত্রিকায় যা হইহই হয়েছিল ক’দিন। তা কিছু হদিশ হল?”
“না খুবই কনফিউসিং!”
খোকামামা কী জানি বলতে যাচ্ছিলেন, এর মধ্যেই একটা ফোন। রাখাল দত্তের উত্তেজিত গলা।
একেনবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “কালকের প্রশ্ন দুটোর উত্তর পেয়েছ?”
“আরে না দাদা, সময় পাইনি। আরেকটা মার্ডার! অরূপ চৌধুরীর মেসোমশাই সঞ্জয় চৌধুরী খুন হয়েছেন।”
“সেকি, উনি তো এই ভয়ই করছিলেন!”
“এক্সাক্টলি। তবে এবার খুনিকে হাতেনাতে ধরেছি।”
“কে?”
“যাদের সন্দেহ করেছিলাম, রমেশবাবু আর তার এক শাগরেদ। আমার লোক যে ওদের ফলো করছিল সেটা বোঝেনি। জানলা দিয়ে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাবার সময়ে ধরা পড়েছে। আমি ক্রাইম সিনটা দেখতে যাচ্ছি, তারপর দু-জনকে ইন্টারোগেট করব। আপনি আসবেন?”
“নিশ্চয়, ঠিকানাটা দাও।”
“খোকামামা, তুমি তোমার বউমার সঙ্গে গল্প করো, আমাকে একটু বেরোতে হবে, জরুরি কাজ।” একেনবাবু ট্যাক্সি ধরে ছুটলেন।
.
বাড়ির চারিদিকে জনতার ভিড়। বডিটা তখনও সরানো হয়নি। রাখাল দত্ত অপেক্ষা করছিলেন একেনবাবুর জন্য। বীভৎস দৃশ্য। সঞ্জয় চৌধুরীর দেহটা ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে বসা অবস্থায় রয়েছে। মাথাটা একপাশ হয়ে টেবিলের উপরে পড়েছে। বসে বসে যখন পত্রিকা পড়ছিলেন, তখন টেবিলের লাগোয়া খোলা জানলা দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে। রক্তে টেবিল ভেসে গেছে, চুঁইয়ে চুঁইয়ে নেমে মেঝেতে পড়েছে। জানলার ঠিক নীচে ঘরের মেঝেতে একটা কাগজ, সেখানে লেখা ‘your number 1’।
“ইট মেকস সেন্স,” একেনবাবু মাথা নাড়তে বললেন। “4/4’ মানে 1। এটাই এ যাত্রার শেষ খুন। এটা ঘটবে সেটা আমরা জানতাম, কিন্তু কে খুন হবেন জানতাম না, হোয়াট এ শেইম!”
.
হাতেনাতে খুনি ধরা পড়েছে। ক্রাইম সিন তেমন ভাবে পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। সঞ্জয় চৌধুরীর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারলে ভালো হত। তিনি বাইরের ঘরে বসে আছেন শুনে সেখানে গেলেন একেনবাবু। মিসেস চৌধুরী কথা বলার মতন অবস্থায় নেই, ঘন ঘন মূৰ্ছা যাচ্ছেন। পাশে দু-জন ওঁকে ধরে বসে আছেন। ঘরে বেশ কিছু লোক। নীচু গলায় কথাবার্তা চলছে। একেনবাবু সেখানে আর দাঁড়ালেন না। বেরোনোর মুখে নজর পড়ল দেয়ালে ঝোলানো বিশাল ফটোগ্রাফটার ওপরে। পুলিশের পোশাকে এক সুদর্শন যুবক। ফটোর নীচে লেখা সঞ্জয় চৌধুরী, আইপিএস, বিহার ক্যাডার। শেষে একটা তারিখও ছিল, সেটা একটু অস্পষ্ট। আইপিএস হবার পর বোধহয় নিজেই শখ করে ছবিটা স্টুডিওতে গিয়ে তুলেছিলেন।
রমেশবাবু আর তার দুই শাগরেদকে ইতিমধ্যেই পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। রাখাল দত্ত একেনবাবুর জন্যেই অপেক্ষা করছিলেন। আর সময় নষ্ট না করে ওঁরা থানার দিকে রওনা দিলেন। থানায় জিজ্ঞাসাবাদ যা কিছু করার রাখাল দত্তই করলেন। কিন্তু অনেক প্রশ্ন করেও খুনের পিছনে কে আছে সেটা জানা গেল না। প্রথমে রমেশবাবু অন্য তিনটে খুনের কথা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছিল। পরে বুঝল অস্বীকার করে লাভ নেই। পুলিশ ব্যালিস্টিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হবে একই হ্যান্ডগান থেকে গুলিগুলো ছোঁড়া হয়েছে, আর ওদের সেই হ্যান্ডগানটা এখন পুলিশের হেফাজতে। শেষে জেরায় জেরায় রমেশবাবু ভেঙে পড়ল। কেন এই খুনগুলো করেছে, প্রশ্ন করে করে রাখাল দত্ত পুরোটাই উদ্ধার করলেন। প্রশ্নগুলো বাদ দিয়ে রমেশবাবু যা বলল, শুধু সেটাই লিখছিঃ
“সপ্তাহ পাঁচেক আগে হায়দ্রাবাদে আমার সঙ্গে একজন এসে যোগাযোগ করে। বলে কলকাতায় ওঁর এক পার্টি কয়েকটা খুন করাতে চান, তার জন্য লাখ তিনেক টাকা পাওয়া যাবে। আমাকে ঠিক চারদিন বাদে সোমবার কলকাতায় ম্যাডক্স স্কোয়ার পার্কে রাত ন’টার সময়ে ওঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে।
এমনিতেই আমি হায়দ্রাবাদ থেকে গা-ঢাকা দেবার কথা ভাবছিলাম। দেখলাম ভালোই হল। জিজ্ঞেস করলাম, কী করে আমি তাঁকে চিনব?’ লোকটা বলল, ‘সেটা ভাবতে হবে না, সেই পার্টি আপনাকে ঠিক চিনে নেবে।’
আমি সেই রাত্রেই হাওড়ার ট্রেন ধরলাম। সোমবার নটা নাগাদ ম্যাডক্স স্কোয়ারে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমি রমেশবাবু কিনা। আমি ‘হ্যাঁ বলতেই, আমার হাতে একটা নোটের বান্ডিল ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এতে পঁচাত্তর হাজার টাকা আছে’। তারপর বিকাশ সেনের পরিচয়, তার বাড়ি আর অফিসের ঠিকানা দিয়ে বললেন, ওঁকে খুন করতে হবে। তবে শুধু খুন নয়, খুনের পর পকেটে একটা কাগজ ঢুকিয়ে বডিটা সোনাগাছিতে ফেলে রেখে আসতে হবে। যে কাগজটা পকেটে ঢোকাতে হবে সেটা উনি আমাকে দিলেন। খুনের পরে এগুলো ঝুট-ঝামেলা, কিন্তু আমার টাকার একটু টানাটানি চলছিল বলে রাজি হয়ে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, কবে খুন করতে হবে?’ বললেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর খুন করার পরের দিন রাত নটায় আবার ওই ম্যাডক্স-স্কোয়ার পার্কেই ওঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে। এর পর কাকে খুন করতে হবে, সেটা উনি জানিয়ে দেবেন। আমি বললাম, আমার তো তিন লাখ পাওয়ার কথা। উনি বললেন, তিন লাখই পাব, তবে একসঙ্গে নয়।
যাইহোক, বুধবার বিকাশ সেনকে আমি খুন করি। বৃহস্পতিবার রাত্রে ম্যাডক্স স্কোয়ারে ওঁর সঙ্গে আমার আবার দেখা হল। পঁচাত্তর হাজার টাকার আরেকটা বান্ডিল দিয়ে বললেন এবার যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রফেসর তন্ময় দত্তকে খুন করতে হবে। কিন্তু তন্ময় দত্তের বডিটা ফেলতে হবে ওয়াটগঞ্জের বেশ্যাপল্লীতে। সেখানে যে কাগজটা পকেটে ঢোকাতে হবে সেটাও দিয়ে দিলেন। তন্ময় দত্তের বাড়ির ঠিকানা উনি জানতেন না। আমি বললাম, আমার দরকার নেই, আমি পেয়ে যাব।’ এবার তাড়াহুড়ো নেই, দশ দিনের মধ্যে খুন করলেই চলবে। দশদিন বাদে আবার ওঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে সেই রাত ন’টার সময়ে ম্যাডক্স স্কোয়ারে। সেই মতন আবার আমাদের দেখা হল। এরপর আরেক বান্ডিল টাকা দিয়ে ভদ্রলোক বললেন ‘দ্য নাইট’ রেস্টুরেন্ট-এর মালিক অরূপ চৌধুরীকে খুন করে বডিটা কালীঘাটের বেশ্যাপল্লীতে ফেলতে। যে কাগজটা এবার পকেটে ঢোকাতে হবে সেটাও পেলাম। এবারও কবে খুন করতে হবে, সে নিয়ে কোন তাড়াহুড়ো ছিল না। শুধু খুন করার পরের দিন ওঁর সঙ্গে দেখা হবে একই জায়গায় একই সময়। কিন্তু অরূপ চৌধুরী-র ব্যাপারে একটু গোলমাল হয়ে গেল। খুন করে বডিটা তোলার আগেই লোকজন এসে পড়ায় আমাদের পালাতে হল। কাগজটাও পকেটে ঢোকানো হল না, তবে বডির কাছেই রাস্তায় অন্তত ফেলে দিয়ে এলাম। পরের দিন রাতে ভদ্রলোকের সঙ্গে যখন দেখা হল, দেখলাম উনি খুবই বিরক্ত। কিন্তু চুক্তির খেলাপ সত্ত্বেও টাকার ব্যাপারে কোনো ঝামেলা করলেন না। বললেন শুধু আরেকটা খুনই আমায় করতে হবে। এবার খুন করতে হবে লেক টাউনের সঞ্জয় চৌধুরীকে। বাড়ির ঠিকানা দিয়ে দিলেন। উনি চেয়েছিলেন যে, বডিটা যেন আমরা সোনাগাছিতে রেখে আসি। আমার ভয় হচ্ছিল এবার ওইসব জায়গায় ডেডবডি ফেলতে গেলে ফেঁসে যেতে পারি। আমি রাজি হলাম না। বললাম, “আপনি কিছু কম দিন আপত্তি নেই, কিন্তু ডেডবডি আমরা কোথাও নিয়ে যাব না। উনি তাও একটু জেদাজেদি করলেন। আমি কিছুতেই রাজি না হওয়াতে, টাকার একটা বান্ডিল আর একটা কাগজ আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, এই কাজটা শেষ করে চলে যাবেন। শুধু কাগজটা মনে করে ফেলবেন ডেডবডির পাশে। সেই আমাদের শেষ দেখা।”
“ভদ্রলোক দেখতে কীরকম?” রাখাল দত্ত জিজ্ঞেস করলেন।
সেটাই রমেশবাবু বলতে পারল না। বেঁটেখাটো চেহারা, মাথায় টুপি ছিল। একে অন্ধকার, তার ওপর টুপির জন্য মুখের অনেকটা দেখা যাচ্ছিল না।
কে হায়দ্রাবাদে যোগাযোগ করেছিল রমেশবাবুর সঙ্গে, তারও কোনো সদুত্তর নেই। যোগাযোগ হয়েছিল ফোনে। ফোন কলটা ট্রেস করা যাবে। তবে নিশ্চয় করা হয়েছে কোনো পাবলিক বুথ থেকে। কে করেছে বার করাটা সহজ হবে না। রমেশবাবুর কাছ থেকে কী ভাবে প্রতিটি খুন সে করল– তার বিশদ বিবরণ রাখাল দত্ত সংগ্রহ করলেন। কিন্তু কে খুন ওকে দিয়ে করাল, সেই রহস্যের সমাধান হল না।
