পাঁচ
ইন্ডিয়ান লাইফ সেভিং সোসাইটি রবীন্দ্র সরোবরের এক প্রান্তে। গোলপার্ক দিয়ে রবীন্দ্র সরোবরের দিকে গেলে রামকৃষ্ণ মিশন কালচারাল সেন্টারের পরে আসে সাউথ এন্ড পার্কে ঢোকার রাস্তা। তার সঙ্গে প্রায় লাগোয়া যে রাস্তাটা রবীন্দ্র সরোবরের দিকে গেছে সেটা একটু বাদেই আলাদা হয়ে দু-দিকে চলে গেছে। বাঁ-দিকের রাস্তা দিয়ে দুশো গজের মতন গেলেই ক্লাবটা ডানদিকে পড়বে। কলকাতায় এসে ছুটোছুটি করতে হবে বলে একেনবাবু দু-সপ্তাহের জন্যে একটা ভাড়ার গাড়ি নিয়েছেন। গাঁটের পয়সা খরচা করে কখনোই নিতেন না। নিয়েছেন পরস্মৈপদী বলে– ডাঃ গুপ্তের কলকাতা অফিস বিল মেটাচ্ছে।
গাড়িটা রবীন্দ্র সরোবরে ঢুকতেই একেনবাবু ব্ৰজেন রায়কে দেখতে পেলেন। রাস্তা দিয়ে আস্তে আস্তে হাঁটছেন। ড্রাইভারকে কাছাকাছি কোথাও পার্ক করতে বলে একেনবাবু গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন।
ব্ৰজেন রায় বেশ অন্যমনস্ক। একেনবাবু কাছে আসা সত্ত্বেও দেখতে পেলেন না।
“নমস্কার স্যার।”
ব্ৰজেনবাবু সচকিত হয়ে হাতের ঘড়ির দিকে এক ঝলক তাকিয়ে বললেন, “ও আপনি এসে গেছেন! এর মধ্যেই যে সাতটা বেজে গেছে বুঝিনি। চলুন, কোথাও গিয়ে বসা যাক।”
একেনবাবু এদিক-ওদিকে তাকাচ্ছেন দেখে বললেন, “ক্লাবের ওদিকে কতগুলো বেঞ্চি আছে, সকালে হাঁটতে এসে মাঝে মাঝে ওখানে বসে একটু জিরিয়ে নিই। বেঞ্চিগুলো এই সময়ে ফাঁকাই থাকে। সেখানে গিয়ে বসবেন?”
“বেশ তো স্যার, চলুন।”
“আপনি হয়তো ভাবছেন, বাড়িতে না দেখা করে এখানে কেন আসতে বললাম।” হাঁটতে হাঁটতে বললেন ডাঃ ব্রজেন রায়।
“তা একটু ভাবছিলাম স্যার। নিশ্চয় কথা বলতে এখানে সুবিধা হবে বলেই ডেকেছেন।”
“এক্সাক্টলি। আমি চাই না মনীষা বা মনীষার মা কথাগুলো শুনুক। নাতিনাতনিরাও এখন অনেক কিছু বোঝে।”
“তা তো বটেই স্যার।”
“ব্যাপারটা কী জানেন, কতগুলো জিনিস আপনার জানা দরকার। মনীষা সেগুলো বলতে পারবে না, কারণ ও নিজেও অনেক কিছু জানে না। যদি জেনেও থাকে, মন থেকে সেগুলো মানে না। বুঝতে পারছেন কি বলছি?”
“আপনার পয়েন্টগুলো বুঝতে পারছি স্যার, তবে ব্যাপারটা নয়।”
“সেটা স্বাভাবিক, কারণ সেটা আপনাকে এখনও বলিনি।”
“রাইট স্যার।”
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ডাঃ ব্ৰজেন রায় বললেন, “বিকাশকে নিয়ে এখন যে সব কেচ্ছা-কাহিনি বেরোচ্ছে তার বেশির ভাগই হয়তো বানানো। খুনের পর যেটা এখনচলছে, সেটা হল ওর ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন। তবে এটাও ঠিক, ও ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির ছিল না। কয়েকবার নারীঘটিত ব্যাপারে জড়িয়ে পড়ে ঝামেলা বাধিয়েছিল। একবার আমাকেও তার জট কাটাতে হয়েছিল– মনীষা সে ঘটনার কথা জানেও না।”
হঠাৎ কথা থামিয়ে কী জানি একটু ভাবলেন ব্ৰজেন রায়। দু-চার পা আরও এগোনোর পরে বললেন, “আসল ব্যাপার কী জানো,” বলেই একটু লজ্জা পেলেন, “এই দেখুন, আপনাকে ‘তুমি’ বলে ফেললাম।”
“কী যে বলেন স্যার, তুমি করেই তো বলবেন।”
“থ্যাঙ্ক ইউ। হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম। কী করব, আমার একমাত্র মেয়ের স্বামী তাকে তো ফেলে দিতে পারি না! আসলে বিকাশকে নিয়ে আমি একটা গিল্টি কমপ্লেক্সে ভুগছি।”
“গিল্টি কমপ্লেক্স স্যার!” একেনবাবু বিস্মিত হয়ে তাকালেন।
“হ্যাঁ। বিকাশের সঙ্গে মনীষার বিয়ে দিয়েছিলাম অনেকটা জোর করেই। বছর চোদ্দ আগে, বিকাশ তখন সবে এম.বি.এ পাশ করে একটা ব্যাঙ্কে কাজ করছিল অ্যাকাউন্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে। সাধারণ ফ্যামিলির ছেলে, কিন্তু ওর মধ্যে আমি একটা স্পার্ক দেখেছিলাম। আমার ভায়রার বিয়েটাতে আপত্তি ছিল। ও রাঁচিতে থাকত, ওদের কিছুটা চিনত। বিকাশ যখন স্কুল বা কলেজে পড়ে তখন কোনো একটা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছিল। আমার শালি, স্ত্রী– সবাই ভায়রার পক্ষ নিয়েছিল। আমিই ওদের আপত্তি কানে তুলিনি। ওসব ছেলেবেলার ব্যাপার। ছেলেবেলায় আমিও কিছু পোয়া তুলসী পাতা ছিলাম না। ব্রাইট ছেলে, সুন্দর চেহারা, ভালো কেরিয়ার– আমার সুন্দরী মেয়ের উপযুক্ত পাত্র। এখন বুঝছি মর্নিং শোজ দ্য ডে। মেয়েটা যে এখন এত কষ্ট পাচ্ছে, আমারই গোঁয়ার্তুমিরফল।”
“একটা কথা বলব স্যার…”
“কী?”
“পত্র-পত্রিকার খবরগুলোর তেমন মূল্য নেই। বিকাশবাবুর হত্যাকারী কে এখনও আমরা জানি না। আপনি স্যার অনেক কিছু কল্পনা করে খামোখা কষ্ট পাচ্ছেন।”
“তুমি তাই বলছ?” আন্তরিক ভাবেই প্রশ্নটা করলেন ব্রজেন রায়।
“হ্যাঁ, স্যার।”
একেনবাবুর কথায় কতটা আশ্বস্ত হলেন ব্রজেন রায় বলা শক্ত। এরমধ্যে একটা ফাঁকা বেঞ্চি পেয়ে দু-জনে বসলেন।
“একটা কথা স্যার, আমি মনীষা ম্যাডামকে বলার সুযোগ পাইনি। ডাঃ গুপ্ত আমাকে বলতে বলেছিলেন যে, ওঁর নার্সিং হোম-এ মনীষা ম্যাডামের জন্যে উপযুক্ত একটা পদ উনি রেখে দেবেন। আর কিছু না হোক স্যার, ফাইনানশিয়াল ব্যাপারটা তো উপেক্ষা করা যায় না।”
“তা যায় না।”
“ভালো কথা স্যার, বিকাশবাবুর লাইফ ইন্সিওরেন্স নিশ্চয় কিছুটা ছিল?”
ব্ৰজেন রায় কথাটার উত্তর দিলেন না। বোধহয় অন্য কিছু ভাবছিলেন। একেনবাবু সূত্রটা আবার ধরিয়ে দিলেন। “মনীষা ম্যাডামের এখন যা মানসিক অবস্থা, টাকাকড়ির কথা মনে না আসাই স্বাভাবিক। ধরে নিচ্ছি স্যার, আপনি বা আর কেউ ইন্সিওরেন্সেরএজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসবে তো সময় লাগে।”
“ও হ্যাঁ, এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে,” ব্রজেন রায় বললেন। “ও আমার একমাত্র সন্তান, টাকাকড়ির জন্যে ওর কোনো সমস্যা হবে না।”
“তা তো বটেই স্যার।”
“আপনাকে আমি সাতসকালে ডাকলাম, তার কারণ এক ভদ্রলোকের আজ সাড়ে আটটার সময় আসার কথা আছে,” বলে ঘড়ির দিকে তাকালেন ব্রজেন রায়।
“তাহলে চলুন স্যার, যাওয়া যাক। আপনার গাড়ি আছে সঙ্গে?”
“না, এইটুকু পথ, হেঁটেই এসেছি।”
“দাঁড়ান স্যার, আমি পৌঁছে দিচ্ছি।” বলে ড্রাইভারকে মোবাইলে ধরলেন একেনবাবু। কাছেই ছিল সে। ব্রজেন রায়কে ওঁর বাড়িতে নামিয়ে এলোমেলো চিন্তা শুরু হল। ব্ৰজেন রায় হঠাৎ এই কথাগুলো বলার জন্য সাতসকালে কেন ডাকলেন? অকারণে নিশ্চয় নয়! আরও কিছু হয়তো ওঁর মাথায় ছিল, শেষ পর্যন্ত বলেননি। কী হতে পারে সেটা? নাঃ, কিছুই মাথায় এল না…।
পাড়ার মোড়ে যখন গাড়িটা ঘুরছে, তখন দেখলেন গোবিন্দের দোকানে হিং-এর কচুরি ভাজা হচ্ছে। গাড়িটা থামাতে বলে একেনবউদিকে ফোন করলেন। “কচুরি নিয়ে আসছি, ব্রেকফাস্ট বানাতে যেও না।”
কচুরি একেনবউদির প্রিয়। ওই একটা জিনিস কিনলে, ঝামেলা হবার চান্স নেই। বাড়িতে নানান রকমের জিনিস রান্না করলেও, কচুরি একেনবউদি করেন না। গোবিন্দের দোকান থেকেই সেটা আসে। সকালের খাওয়া অনেক সময়েই কচুরি আর চা দিয়ে সারা হয়। আজকের এই কচুরি খাওয়াটা অবশ্য ‘আনপ্ল্যানড’, কারণ একেনবাবু বাড়ি ফেরার সময়টা ছিল অনিশ্চিত।
ড্রাইভারকে বিকেলে আসতে বলে গাড়িটা ছেড়ে দিলেন একেনবাবু।
.
কচুরি খেতে খেতেও ব্ৰজেনবাবুর কথাই মাথায় ঘুরছিল।
“কী এত ভাবছ?” একেনবউদি জিজ্ঞেস করলেন।
“বুঝলে মিনু, ভেরি কনফিউসিং।”
“কী কনফিউসিং?”
“এই রবীন্দ্র সরোবরে আসতে বলে দু-চার মিনিটে কথা সারা।”
“উনি বুড়ো মানুষ, অতশত কি ভেবেছেন?”
“ইউ হ্যাভ এ পয়েন্ট, ভেরি গুড পয়েন্ট,” একেনবাবু মাথা নাড়তে নাড়তে বললেন। “তাও একটু কনফিউসিং।”
“কী বললেন উনি?”
একেনবাবুর কাছে ব্যাপারটা শুনে একেনবউদি বললেন, “মানুষের মনে যখন দুঃখভার চাপে তখন কাউকে বলে বুক হালকা করতে হয়। উনি তাই করেছেন। অত হিসেব করেননি কতটা পেট্রল পুড়িয়ে তুমি ওখানে গিয়েছ।”
“না, তোমরা মেয়েরাই এসব ফাইন ব্যাপারগুলো ভালো বোঝে।” একেনবাবু মানলেন। “আই ওয়াজ কনফিউসড, কারণ উনি একজন বড়ো ডাক্তার ছিলেন, ইন্ট্যালিজেন্ট ম্যান।”
“ইন্ট্যালিজেন্ট লোকদের কি দুঃখকষ্ট হতে নেই?”
“না মিনু, ইউ উইন।” বলে একেনবাবু খবরের কাগজটা টেবিল থেকে তুলে নিয়ে পড়তে বসলেন। একটু বাদেই রাখাল দত্তের ফোন।
“দুটো খবর আছে স্যার। সেগুলো চা খেতে খেতে বললেই ভালো হয়। বউদি কি রাগ করবেন চা চাইলে?”
“কী যে বল তুমি! আর ভাই পুলিশে চাকরি করতে গেলে অত ভয় করলে কি চলে? চলে এসো।”
“আপনার বাড়ির কাছেই আছি। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই আসছি।”
ফোনটা নামিয়ে একেনবাবু পত্রিকার পাতা উলটোতে উলটোতে চেঁচিয়ে বললেন, “মিনু এক্ষুনি রাখাল আসছে, চা খাবে।”
“এক্ষুনি মানে?”
“পাঁচ মিনিটের মধ্যে।”
.
রাখাল দত্ত ঘরে ঢুকে বললেন, “বেশিক্ষণ বসতে পারব না স্যার, ডিসি একটা মিটিং ডেকেছেন। তাও ভাবলাম খবর দুটো আপনাকে দিয়েই যাই।”
“কী খবর?”
“এক নম্বর হল, বিকাশ সেন ওয়াজ ইনভলভড উইথ এ কল গার্ল। ইন ফ্যাক্ট, দ্যাট গার্ল গট প্রেগনেন্ট। বিকাশ সেন কুড ভেরি ওয়েল বি দ্য ফাদার।”
এই ধরনের কোনো খবর দিতে হলে রাখাল দত্ত ইংরেজিতেই দেয়, বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহার করতে অসুবিধা বোধ করে।
“তা তোমার এই কল গার্লটি কে?”
“মক্ষিরানির নাম মল্লিকা। মাথাফাটা রতনের খাস তালুক, মানে যাদবপুর এরিয়াতে থাকে। বিকাশবাবুর সঙ্গে মাথাফাটা রতনের ইদানীং এই মাখামাখির মূলে হয়তো এটাই। এনিওয়ে আমার লোক গেছে খোঁজখবর করতে। ডিটেলস পেলেই আপনাকে জানাব।”
“ভেরি ইন্টারেস্টিং, আর দ্বিতীয় খবরটা?”
“বিকাশের স্ত্রী মনীষা হ্যাড এ বয়-ফ্রেন্ড। শুধু চেনাজানার ব্যাপার নয়। অন্তরঙ্গতাটা একটু বেশি।”
“এটাও তো দারুণ খবর!”
“এক্সাক্টলি। আমরা ইন্সিওরেন্সের অ্যাঙ্গেলটা দেখতে একটু এগোচ্ছিলাম, তখনই বার হল। বিকাশ আগে যে কোম্পানিতে কাজ করতেন, সেখানকার একজন এক্সিকিউটিভ শেখর চৌধুরীর সঙ্গে মনীষা সেনের একটা সম্পর্ক আছে। শেখর চৌধুরী এখন দিল্লিতেপোস্টেড। কলকাতায় আলিপুরে এলে ফাইভ স্টার হোটেলে ওঠেন। সেখানে মনীষা সেন শেখর চৌধুরীর সঙ্গে মাঝে মাঝে রাত কাটিয়েছেন।”
“মাই গুডনেস! আর ইউ শিওর?”
“অ্যাবসলুটলি। হোটেলের সিকিউরিটি ক্যামেরায় ওদের একসঙ্গে রাতে ঢুকতে দেখা গেছে আর সকালেও বেরিয়েছেন একসঙ্গে। রিসেপশনিস্টদের একজন ছবি দেখে মনীষা সেনকে আইডেন্টিফাইও করেছে শেখর চৌধুরীর সঙ্গিনী বলে।”
“আজ সকালের ব্যাপারটা তাহলে একটু যেন পরিষ্কার হচ্ছে,” একেনবাবু পা নাচাতে নাচাতে বললেন।
ইতিমধ্যে চা এসে গেছে, সেই সঙ্গে নিমকি আর সন্দেশ। ওগুলো একেবউদি বাড়িতে সব সময়েই মজুত রাখেন।
“সকালের ব্যাপারটা কী?” চায়ে চুমুক দিয়ে একেনবাবুর দিকে সপ্রশ্নে তাকালেন রাখাল দত্ত।
“আজ সকালে মনীষা ম্যাডামের বাবা ডাঃ ব্ৰজেন রায় আমাকে ডেকেছিলেন। বাড়িতে নয়, রবীন্দ্র সরোবরে একটা ক্লাবের কাছে। বিকাশ সেন যে ছোটোবেলা থেকেই দুশ্চরিত্র লোক সেটাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শোনাচ্ছিলেন। আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম, কেন? কেন নিজের জামাই সম্পর্কে এসব কথা একজন অজানা, অচেনা লোককে অযাচিত ভাবে উনি শোনালেন। নাউ ইট মেকস সেন্স। উনি বোধহয় নিজের মেয়েকেও কিছুটা সন্দেহ করেন। তাই আমাদের ফোকাসটা যেন শুধু বিকাশের ওপরেই থাকে তারই চেষ্টা।”
“বলেন কি স্যার, আমি একটু অবাকই হচ্ছি! ডাঃ রায় এক সময়ে মেডিক্যাল কলেজে পড়াতেন। ভালো কার্ডিওলজিস্ট বলে নাম আছে। এখন বোধহয় পেশেন্ট আর দেখেন না। যখন সোদপুরে পোস্টেড ছিলাম, তখন একবার বাবার হার্টের সমস্যা হওয়ায় ওঁর কাছে বাবাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। খুব ভদ্র ব্যবহার। একজন ভালো, অনেস্ট ডাক্তার হিসেবে সুখ্যাতিই শুধু শুনেছি।”
“স্নেহ অতি বিষম বস্তু ভাই।”
“এখন আপনার প্ল্যান কী স্যার?”
“ভাবছি, তোমাদের সুদেব কুন্ডু, মানে মাথাফাটা রতনের সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করব। তবে তোমার রেফারেন্স পেলে বোধহয় ভালো হয়।”
“আমি বলে দেব। তবে সাবধান স্যার। আপনাকে আর কী বলব, একটু সাবধানে ডিল করবেন।”
“তা তো বটেই। পারলে আজকেই খবর পাঠিও। আমি কাল সকালের দিকে ওকে ধরার চেষ্টা করব।”
“ঠিক আছে।”
“আরেকটা কাজ তুমি করতে পারবে? এটা কিন্তু সময় লাগবে।”
“বলুন না স্যার।”
“বিকাশ সেন যখন রাঁচিতে স্কুল বা কলেজে পড়ে তখন কোনো একটা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছিল। ধরে নিচ্ছি সেটা নারীঘটিত… সেটা সম্পর্কে যদি কোনো খবর জোগাড় করতে পারো।”
“পুলিশ কেস-এর ব্যাপার?”
“তা জানি না।”
“সেটা না হলে এই খবর কি আর পাওয়া যাবে! তাও খোঁজ করব স্যার। অর্ধেন্দুদার বাড়ি রাঁচিতে, ওঁর অনেক কানেকশন আছে। ওঁকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারি যদি কিছু জোগাড় করতে পারেন।”
অর্ধেন্দুদাকে একেনবাবু চিনতেন। সাব-ইন্সপেক্টর থেকে প্রমোশন পেয়ে অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার হয়ে অবসর নিয়েছেন।
.
রাখাল দত্ত চলে যাবার পর একেনবউদি বললেন, “তুমি এখন আর পুলিশে চাকরি কর না, পিছনে বিশাল পুলিশ বাহিনী নেই। তার ওপর এখানে ওঁরাও (ওঁরা মানে আমি আর প্রমথ) সঙ্গে নেই, তুমি একা একা এসব গুন্ডা-লোকদের কাছে যাচ্ছ কেন?” (এই কথাটা একেনবউদি সত্যিই বলেছিলেন, না একেনবাবু আমাদের ইগো-বুস্ট করার জন্য বলেছিলেন– বলতে পারব না)।
“আরে মিনু ভেব না। দুটো কথা বলতে যাচ্ছি, তাতে বিপদ হবে কেন? আর যাচ্ছি তো রাখালের রেফারেন্সে।
