আসল খুনির সন্ধানে (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত

শেয়ার করুনঃ

তিন 

 

কলকাতায় পৌঁছে একেনবাবু প্রথমেই ওঁর পুরোনো সহকারী রাখাল দত্তের খোঁজ করলেন। কিছুদিন বাইরে বাইরে পোস্টিং-এর পর রাখাল দত্ত আবার কলকাতায় সি.আই.ডি-র দপ্তরে ফিরে এসেছেন। আছেন হিন্দুস্থান পার্কে ওঁর শ্বশুরবাড়িতে। একেনবাবুর ফোন পেয়ে রাখাল দত্ত উত্তেজিত!

 

“উঃ, কতদিন বাদে! বউদিকে নিয়ে আজ বিকেলে চলে আসুন স্যার, চা খেয়ে যাবেন।”

 

“ওটা আরেকদিন হবে ভাই, আজকে শুধু আমিই আসছি।”

 

.

 

একেই বলে ভাগ্য, রাখাল দত্তই তদন্ত করছেন বিকাশ সেনের কেসটা। সরকারি নিয়ম মানলে অবশ্য উনি একেনবাবুকে কিছুই জানাতে পারেন না। তবে একেনবাবুর ক্ষমতার উপর রাখাল দত্তর অগাধ ভক্তি। কেসটাও বেশ গোলমেলে। একেনবাবু যদি আনঅফিশিয়ালিও এতে মাথা খেলান, তাতে লাভ বই ক্ষতি নেই।

 

রাখাল দত্ত জানালেন, ২২ ক্যালিবারের কোনো হ্যান্ডগান দিয়ে মাথার খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে খুন করা হয়েছে। বিকাশ সেনের ঘড়ি, মানিব্যাগ, মোবাইল কিছুই পাওয়া যায়নি। খুনের সময়টা রাত নটা থেকে বারোটার মধ্যে। রাত এগারোটা নাগাদ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে সেন্ট লরেন্স স্কুলের কাছাকাছি বিকাশ সেনের মোবাইল সুইচড অফ হয়ে যায়। এর থেকে অবশ্য কোনো সিদ্ধান্তেই আসা যায় না। মৃত্যুর সময় মোবাইলটা হয়তো ওঁর কাছেও ছিল না। সোনাগাছিতে যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে গুলির আওয়াজ কেউ শোনেনি। হ্যান্ডগানে সাইলেন্সার না থাকলে ধরে নেওয়া যায় অন্য কোথাও খুন করে মৃতদেহটা সোনাগাছিতে এনে ডাম্প করা হয়েছে। রাতে সোনাগাছি অঞ্চলে পুলিশ মাঝেমাঝেই টহল দেয়, তাই অন্য জায়গায় খুন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিকাশ সেন প্রায় ছ-ফুট লম্বা স্বাস্থ্যবান পুরুষ, একজন লোকের পক্ষে কাজটা করা সহজ হবে না। মনে হয় একাধিক লোকই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। সোনাগাছির কেউ বিকাশ সেনের দেহ শনাক্ত করতে পারেনি। ওই চত্বরে বিকাশ সেনের আনাগোনা ছিল না বলেই পুলিশ মনে করছে। তবে এটা ঠিক যে, নারীঘটিত ব্যাপারে বিকাশ সেন অনেকবারই জড়িয়েছেন। অফিসে নিজের প্রাইভেট সেক্রেটারির সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি করেছেন বেশ কিছুদিন। ওঁর অফিসের একজন মেয়ে অ্যাসিস্টেন্ট তো সেক্সয়াল হ্যারাসমেন্টের চার্জ এনে চাকরি ছেড়েছিল। অফিশিয়াল কমপ্লেন বলতে সেই একটাই। অফিসের পার্সোনেল ডিপার্টমেন্ট দায়সারা গোছের একটা এনকোয়ারি করেছিল। পুলিশকে কিছু জানায়নি। বিকাশ সেন ওয়াজ এ ভেরি চার্মিং ম্যান এবং পলিটিক্যালি ওয়েল কানেক্টেড। ওঁর বিরুদ্ধে মারাত্মক কোনো অভিযোগ থাকলেও হাতেনাতে না ধরতে পারলে সেটা নিয়ে এগিয়ে কোনো লাভ হত না।

 

রাখাল দত্তের একটাই দোষ, কিছু বলতে শুরু করলে মাঝে মাঝে ডাইগ্রেস করে যান।

 

একেনবাবু ওঁকে থামিয়ে বললেন, “ওগুলো ভাই পরে ভালো করে শুনব। তার আগে বলো তো, বডিটা যেখানে পড়েছিল সেখানে এমন কি কিছু পেয়েছ, যেটা মনে কর খুনিরা ফেলে গেছে?”

 

“যা পেয়েছি তার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝছি না… এর সঙ্গে খুনিদের কতটা যোগ আছে। জানি না।”

 

“কী সেটা?”

 

“একটা কাগজ। বিকাশ সেনের শার্টের পকেটে একটা কাগজে লেখা ছিল ‘your number 1/4’।”

 

“ও হ্যাঁ, একটা অনলাইন পত্রিকাতেও সেটা দেখলাম! বেশ মিস্টিরিয়াস।” একেনবাবু বললেন।

 

“হাতের লেখা নয়। অন্য কোনো কাগজ থেকে অক্ষর আর সংখ্যাগুলো কেটে আঠা দিয়ে বসানো হয়েছে।”

 

“বিষ চিঠি বা পয়জন লেটার যেভাবে লেখা হত?”

 

“এক্সাক্টলি। আমার প্রশ্ন স্যার, বিকাশ সেন এটা পকেটে নিয়ে ঘুরছিলেন কেন? এটা কি খুনির কাছ থেকে পেয়েছিলেন? সেক্ষেত্রে মেসেজটা কী? 1/4 সম্ভবত একটা বাড়ির নম্বর যেটা বিকাশ সেনের চেনা। এছাড়া আর কী হতে পারে? সংখ্যাগুলোকে সংখ্যা না ভেবে যদি ইংরেজি অ্যালফাবেটের পজিশন ধরি, তাহলে 1 হল ‘A’, 4 হল ‘D’, অর্থাৎ A/D। এর অর্থ তো অনেক কিছু হয়– বিজনেসে অ্যাডভান্স-ডিক্লাইন লাইন, কম্পিউটারে অ্যানালগ-ডিজিট্যাল কনভার্টার। কিন্তু তার সঙ্গে খুনের কী সম্পর্ক?”

 

“A.D কি কোনো নামের আদ্যাক্ষর হতে পারে?”

 

“সেটাও স্যার ভেবেছি। কিন্তু তার আগে ‘ইয়ের নাম্বার’ বলার অর্থটা কী? পুরোটাই হেঁয়ালি।”

 

একেনবাবু মাথা নাড়লেন। এই হেঁয়ালির অর্থ যদি কিছু থেকেও থাকে, চট করে তার মর্মোদ্ধার সম্ভব নয়। জিজ্ঞেস করলেন, “কাগজে কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে?”

 

“না। সাধারণ কাগজ। তবে যে কাগজ থেকে সংখ্যা আর অক্ষরগুলো কেটে আঠা দিয়ে লাগানো হয়েছে, সেটা খুব ভালো কোয়ালিটির আশি পাউন্ড গ্লস পেপার স্টক। টাইপফেসটাও একটু আনইউসুয়াল ধরনের। আজকাল অনেক বিজনেস হাউস দামিকাগজে নানান ফ্যান্সি টাইপফেস ব্যবহার করে নিজেদের ম্যাগাজিন, বুলেটিন, ইত্যাদি ছাপায়… সম্ভবত তার কোনো একটা থেকে।”

 

“ভেরি ইন্টারেস্টিং।” কেন ইন্টারেস্টিং সেটা বিশদ না করে, ঘাড়টা একটু চুলকে আগের একটা কথার খেই ধরে একেনবাবু প্রশ্ন করলেন, “আশেপাশে 1/4 নম্বরের কোনো বাড়ি পেলে কি?”

 

“সোনাগাছিতে 1/4 নম্বরের বাড়ি নেই। সবচেয়ে কাছে যে বাড়িটা পেয়েছি, সেটা প্রায় দু-কিলোমিটারের মত দূরে। এক বৃদ্ধা বিধবা মহিলার বাড়ি। তার সঙ্গে কথা বলে এটা পরিষ্কার ওখানে কিছু ঘটেনি।”

 

“দ্যাট মেক্স সেন্স। আর খুন যদি দূরে কোথাও হয়ে থাকে, তাহলে আশেপাশে খোঁজ করে লাভ নেই।”

 

“এক্সাক্টলি। আরও খোঁজ করছি, তবে মনে হচ্ছে না এটা বাড়ির নম্বর।”

 

একেনবাবু মাথা চুলকোতে চুলকোতে বললেন, “1/4 মানে এপ্রিল মাসের 1 তারিখ। অর্থাৎ এপ্রিল ফুলস ডে। পয়লা এপ্রিল বিকাশ সেন কি কিছু করেছিলেন, যার জন্য ওঁকে প্রাণ হারাতে হয়েছে?”

 

“এটা তো আমি ভাবিনি,” রাখাল দত্ত বললেন।

 

“একটু খোঁজখবর নাও। আমেরিকা হলে বলতাম জানুয়ারির 4 তারিখে ওঁর জীবনে কিছু ঘটেছিল কিনা খোঁজ নিতে। আমেরিকায় প্রথম সংখ্যা মাস, দ্বিতীয় সংখ্যা তারিখ।”

 

“ওটাও বা বাদ দিই কেন,” রাখাল দত্ত হাসতে হাসতে বললেন, “খুনিরা তো স্যার আপনার মতো এন.আর.আই-ও হতে পারে।”

 

“তা পারে।”

 

এরমধ্যে চা এসে গেল, সেই সঙ্গে মিষ্টি। একেনবাবু সরভাজা ভালোবাসেন। রাখাল দত্ত ঠিক সেটা মনে রেখেছেন। সরভাজায় একটা কামড় বসিয়ে একেনবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “ভালোকথা, পত্রিকায় মাথাফাটা রতনের কথা পড়লাম। লোকটি কে? তার সঙ্গে বিকাশবাবুর দহরম মহরমের ব্যাপারটা কী? উনি কি আর কোনো ঝামেলায় পড়েছিলেন?” একেনবাবু ইচ্ছে করেই নার্সিং হোমের ব্যাপারটা চেপে গেলেন।

 

“মাথাফাটা রতনের আসল নাম সুদেব কুন্ডু। হ্যাঁ, সুদেবকেও আমরা জেরা করেছি। সুদেবের বক্তব্য পত্রপত্রিকাগুলো ওর পিছনে লাগার জন্যে অকারণে ঝামেলা পাকাচ্ছে। ও যাদবপুর অঞ্চলে বাড়িজমির দালালি করে। বিকাশবাবু জমির খোঁজ করছিলেন। সেই সুবাদে কথা বলার জন্যে মাঝেমধ্যে ওকে রেস্টুরেন্টে খেতে ডাকতেন।”

 

“তুমি ভাই, এটা বিশ্বাস করো?”

 

“পুরোপুরি করি না, তবে এ নিয়ে সুদেবকে ঘাঁটাতে চাই না। পলিটিক্যাল কানেকশনের জন্যে লালবাজারের বড়ো বড়ো কর্তাদের ওপর ওর অনেক হোল্ড আছে। খামোকা হ্যারাস করছি বলে আমার কেরিয়ারের দফারফা করে ছাড়বে।”

 

“বুঝলাম। আমার অবশ্য এখন কেরিয়ারের সমস্যা নেই। তা তুমি এই মাথাফাটা রতন, মানে সুদেবের ঠেকটা কোথায় বলতে পারবে? ভালোকথা, নামটা তো সুদেব–মাথাফাটা রতন’ এল কোত্থেকে… মাথা ফেটেছিল?”

 

“না, ফাটিয়েছিল। কয়েক বছর আগে জায়গা দখল নিয়ে গড়িয়ার সন্তোষ গুন্ডার দলবলের সঙ্গে মারামারির সময় বেশ কয়েকটা মাথা। রতন ওর ডাকনাম।”

 

“আই সি। একটা প্রশ্ন ভাই, এই সুদেববাবুর সঙ্গে কি সোনাগাছির কোনো কানেকশন আছে?”

 

“আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোথায় কী কানেকশন জোর করে বলা কঠিন। এমনিতে সুদেব মেয়েছেলে নিয়ে কারবার করে বলে তো শুনিনি, তবে হু নোজ? ঠিক নিষিদ্ধপল্লী বলতে যা বোঝায় সেটা ওর এরিয়াতে নেই। কল গার্লস আছে, সেটা কলকাতার কোথায় নেই! তবে সেখান থেকে যা রোজগার সম্ভব, তার থেকে অনেক বেশি মেলে জমিবাড়ির

 

কারবারে।”

 

“সুদেববাবু কি প্রমোটারি করেন?”

 

“না, তবে প্রমোটারদের প্রোটেকশন দেয়। ওর রোজগারের বেশির ভাগই আসে প্রোটেকশন মানি থেকে। শুধু প্রমোটার নয়, দোকানপাট, জবর-দখলি বাড়ি –সবাইকেই ও প্রোটেকশন দেয়।”

 

একেনবাবু মনে মনে ভাবলেন, বিকাশবাবু ঠিক লোককেই পাকড়েছিলেন। হঠাৎ মাথায় একটা চিন্তা এল। “আচ্ছা ভাই, বিকাশবাবুর সঙ্গে সুদেববাবুর রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা বললে– এটা কি অনেক দিন ধরে চলছে না ইদানীং কালের ঘটনা।”

 

“ইদানীং বলতে কী মিন করছেন জানি না স্যার, তবে খোঁজ যা পেয়েছি তা থেকে বলতে পারি প্রায় মাস চারেক হল।”

 

“ভেরি ইন্টারেস্টিং ভাই,” একেনবাবু বললেন।

 

“ইন্টারেস্টিং কেন?” রাখাল দত্ত একটু অবাক হয়ে প্রশ্নটা করলেন।

 

একেনবাবুর মাথায় ঘুরছিল ওঁর সঙ্গে অবনী গুপ্তের নার্সিং হোম নিয়ে আলোচনা। এই নিয়ে আলোচনাটা ঘটেছিল দু-মাসও হয়নি। সুতরাং বিকাশের সঙ্গে মাথাফাটা রতনের প্রথম যোগাযোগের কারণ আর যাইহোক, নার্সিং হোম নিয়ে নয়। রাখাল দত্তকে ব্যাপারটা বলেই ফেললেন একেনবাবু।

 

“আমি ভেবেছিলাম একটা নার্সিং হোমের প্রোটেকশনের ব্যাপারে বিকাশবাবু সুদেবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেটা তাহলে পুরো ঠিক নয়।”

 

“ঠিক বুঝলাম না এটা কেন বলছেন?”

 

“বিকাশবাবু এক নার্সিং হোমের পাবলিক রিলেশনস, প্রোমোশন ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই নার্সিং হোমের মালিকের বেশ দুশ্চিন্তা ছিল ভুল চিকিৎসার অজুহাতে লোকাল গুন্ডাদের ভাঙচুর করা নিয়ে। এটা মাত্র মাস দেড়েক আগের ব্যাপার।”

 

“বুঝেছি, আপনি এবিজি নার্সিং হোমের কথা বলছেন নিশ্চয়। ওটা নিয়েও জল ঘোলা হয়েছে– লাইসেন্স, পারমিট সংক্রান্ত ইরেগুলারিটি। বিকাশ সেন ওয়াজ এ গো-গেটার, কলকাতায় কিছু করাতে চাইলে ওই রকম লোককেই বিজনেসম্যানরা খোঁজে। আমার বিশ্বাস, সুদেব স্বীকার না করলেও নার্সিং হোম প্রোটেকশনের কথাও ওদের মধ্যে হয়েছে। আর কী হয়েছে সেটাই আমি ভাবছি। জমি, প্রমোটারি– এগুলো সব ডেঞ্জারাস বিজনেস। তবে যেহেতু ওঁর ডেডবডি পাওয়া গেছে সোনাগাছিতে ইট পয়েন্টস টু সামথিং এন্স।”

 

একেনবাবু বুঝতে পারলেন রাখাল দত্ত কী বলতে চান, তাও প্রশ্ন করলেন, “পয়েন্টস্ টু হোয়ার ভাই?”

 

“বিকাশ সেন সুদেবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন অন্য একটা কারণে। সেই ব্যাপারটাও নারীঘটিত।”

 

“দ্যাটস ইন্টারেস্টিং, নারীটি কে? তুমি তো বলছ সোনাগাছিতে উনি কখনোই যাননি, আর এই সুদেববাবুও নিষিদ্ধপল্লীর সঙ্গে তেমন ভাবে যুক্ত নন!”

 

“না, না, সোনাগাছির কেউ নয়। হয়তো কারোর সুন্দরী স্ত্রী, যার স্বামী হিংস্র ভয়ঙ্কর চরিত্রের। বিকাশ সেনের চার্মে স্ত্রীকে স্বৈরিণী হতে দেখে সহ্য করতে পারেনি, গুলি করে খতম করেছে। আর এই লোকটির হাত থেকে বাঁচতেই বিকাশ সেন হয়তো সুদেবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, পুলিশের সাহায্য তো এ ব্যাপারে চাওয়া যায় না।”

 

“সেটা খুবই সম্ভব। কিন্তু রাগের মাথায় খুন করে লাশটা বয়ে নিয়ে সোনাগাছিতে ফেলে রাখা..।”

 

“হয়তো সুপারি কিলার দিয়ে খুন করিয়েছে। লাশটা সোনাগাছিতে ফেলার পিছনে একটা মেসেজ রয়েছে। শুধু খুন করে রাগ মেটানো নয়, বিকাশ সেনের চরিত্রও পাবলিকলি হনন করা হল।”

 

“ইউ হ্যাভ এ পয়েন্ট ভাই।” একেনবাবু স্বীকার করলেন।

 

“বিকাশ সেনের যা ট্র্যাক রেকর্ড, তাতে এটা ঘটা বিচিত্র নয়। সম্প্রতি কোনো মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছিল কিনা তারই খোঁজখবর এখন নিচ্ছি। অ্যাট লিস্ট এটা একটা অ্যাঙ্গেল যেটা ফলো করা যেতে পারে। ঠিক কিনা?”

 

“অবশ্যই এটা ফলো করার মতো অ্যাঙ্গেল। সুপারি কিলার দিয়ে খুন করানোর প্রসঙ্গে আরেকটা সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যায় না। বিকাশবাবুর লাইফ ইন্সিওরেন্স পলিসির অঙ্কটা কত?”

 

“বিশাল। প্রায় আড়াই কোটি টাকা।”

 

“ওঁর স্ত্রী কি…?”

 

একেনবাবু কথাটা শেষ করতে পারলেন না। রাখালবাবু বললেন, “সেদিকটাও দেখছি। স্বামীর পরনারী আসক্তি সহ্য করতে না পেরে তাকে হত্যা করিয়ে ইন্সিওরেন্স ক্লেম করার ঘটনাও আগে ঘটেছে।”

 

এর পর মিসেস দত্ত গল্প করতে এলেন, ফলে এ নিয়ে আর কোনো কথা হল না। বাড়ি ফেরার আগে একেনবাবু মাথাফাটা রতনের ঠেকটা কোথায় সেটা রাখাল দত্তের কাছ থেকে জেনে নিলেন। বিকাশবাবুর বাড়ির ঠিকানা অবনী গুপ্ত দিয়ে দিয়েছিলেন। সেটা রাখাল দত্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে গিয়ে একটা ভুল পাওয়া গেল। ডাঃ গুপ্ত বলেছিলেন ২৪ কেয়াতলা লেন, আসলে হবে ২৪ কেয়াতলা বাইলেন। ফোন নম্বরটা অবশ্য ডাঃ গুপ্ত ঠিকই দিয়েছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *