শান্তিনিকেতনে অশান্তি (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত
নয়
একেনবাবু প্রভাস সম্পর্কে এমন একটা সন্দেহ ঢুকিয়ে দিয়েছেন যে রাত্রে ভালো করে ঘুম হল না। বন্দনাকে স্বপ্ন দেখলাম। আমায় বলছে, “তুমি জেনেও আমাকে কেন সতর্ক করনি? কী দোষ করেছি তোমার কাছে?
প্রভাস কে কি পুলিশ ধরেছে? চমকে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে গেছে আমার। ডাক্তার চৌধুরীর একটা কথা, যেটা নিয়ে আগে ভাবিনি –সেটা মাথায় ঘুরতে লাগল। কেন উনি বললেন, ‘এই একটু আগে শিশিরবাবু মারা গেছেন।’ বললেন খানিকটা অযাচিত ভাবে। কেন? প্রকারান্তরে আমাদের জানিয়ে দিলেন যে সেক্ষেত্রে শিশিরবাবুর মৃত্যুর সঙ্গে প্রভাসের যোগ থাকা অসম্ভব। কিন্তু আমাদের জানিয়ে লাভটা কি হল?
সকালে একেনবাবু উঠতেই আমি বললাম, “একটা উপকার আপনাকে করতেই হবে।”
“বলুন স্যার।”
“আপনাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বলতে হবে, প্রভাস এর মধ্যে কোনও মতে জড়িত কিনা।”
“কী ব্যাপার স্যার, এই রকম একটা টাইম লিমিট দিচ্ছেন?”
“বিয়ের আর দিন পনেরো বাকি,” ওঁকে বললাম, “কোনোমতেই বন্দনার যেন সর্বনাশ না হয়।”
“তাতো বটেই স্যার। তবে আপনি স্যার বোধহয় অযথা দুশ্চিন্তা করছেন। যাইহোক, শান্তিনিকেতনের ওসি-র নাম মনে আছে আপনার?”
“হ্যাঁ আছে। ইনফ্যাক্ট, আমাকে উনি ওঁর একটা ভিসিটিং কার্ড দিয়েছিলেন।”
আমি আমার কার্ডের বাক্স থেকে বার করে এনে ওঁর হাতে দিলাম।
“দুলাল মিত্র! বাঃ, আমি তো ওকে চিনি। আমার কলিগ ছিল এক সময়ে।”
“সত্যি! তাহলে ওঁকে একটা ফোন করুন না।”
একেনবাবু ইতস্ততঃ করছেন দেখে বললাম, “আরে মশাই ফোন ইজ অন মি। যা ফোন করার দরকার, করুন।”
দুলাল মিত্রকে অফিসে পাওয়া গেল না। একেনবাবু নিজের পরিচয় দিতে বাড়ির নম্বরটা পাওয়া গেল। দুলালবাবু কোথায় জানি বেরোচ্ছিলেন, তাই অল্পক্ষণই একেনবাবুর সঙ্গে কথা বলতে পারলেন। ফোন নামিয়ে একেনবাবু বললেন, “প্রভাসবাবুকে নিয়ে ভাববেন না। হি ইজ ক্লিয়ার।”
“ক্লিয়ার?”
“হ্যাঁ স্যার। আপনারা যখন শিশিরবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার আধঘন্টা আগে কাছেই একটা বাড়িতে শিশিরবাবু বই ফেরৎ দিতে গিয়েছিলেন। সুতরাং ওঁর মৃত্যুর অল্প পরেই আপনারা সেখানে গিয়েছিলেন।”
“বাঁচা গেল।”
“আমিও বাঁচলাম স্যার। যে-রকম একটা টাইম লিমিট চাপিয়েছিলেন ঘাড়ে!”
“ইনভেস্টিগেশনের কিছু এগিয়েছে?”
“কিছু এগিয়েছে। দুলাল মিত্র এক সময়ে ভালো ভালো ক্রাইম সলভ করেছে। কিন্তু এখন ওর উপর যা কাজের চাপ, তাতে এর পিছনে কতটা সময় দিতে পারবে জানি না।”
প্রভাস নির্দোষ জেনে অবশেষে স্বস্তি পেলাম। প্রভাস-বন্দনার বিয়ের দিন এগিয়ে আসছে। আশাকরি বন্দনা সুখী হবে। প্রমথ এমনিতে গানটান বিশেষ শোনে না, আজ কেন জানি একটা সিডি চালিয়েছে।
“আমারও পরাণ যাহা চায় তুমি তাই, তুমি তাই গো …..
যদি আর-কারে ভালোবাস, যদি আর ফিরে নাহি আস,
তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও, আমি যত দুখ পাই গো।”
আশ্চর্য এটা কি আমারই মনের কথা!
