শান্তিনিকেতনে অশান্তি (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত
তেইশ
সকালে কোনো ক্লাস ছিল না। বিকেলেও আজ না গেলে চলে। যে কাজ আছে বাড়িতে বসেই করতে পারি। প্রমথ ল্যাব-এ চলে গেছে। একেনবাবু সোফায় বসে বসে পা নাচাচ্ছিলেন। হঠাৎ উঠে গায়ে অলওয়েদার কোটটা চাপিয়ে বললেন, “একটু ঘুরে আসছি স্যার।”
এটা একেনবাবুর একটা বৈশিষ্ট্য। কিছুতেই বলবেন না ঠিক কোথায় যাচ্ছেন। এই নিয়ে প্রমথর সঙ্গে ওঁর প্রায়ই লাগে। প্রমথ বলে, “আপনি ভীষণ সিক্রেটিভ।”
“কেন স্যার?”
“বলে যেতে পারেন না, কোথায় যাচ্ছেন?”
“কী করে বলব স্যার, আমি নিজেই জানি না ঠিক কোথায় যাব।”
“কী যা তা বকছেন, আপনি জানেন না এখন কোথায় যাচ্ছেন?”
“তা জানি স্যার। কিন্তু সেখান থেকে কোথায় যাব –সেটা তো ঠিক করিনি।”
“তা এখন যেখানে যাচ্ছেন সেটা তো বলতে পারেন!”
“তাহলে তো স্যার ইনফরমেশানটা কমপ্লিট হল না।”
“আপনি কি বউদিকেও না জানিয়ে এরকম অদৃশ্য হতেন?”
“খেপেছেন স্যার, আমার ফ্যামিলির চোখ এড়িয়ে কিছু করা শিবের অসাধ্যি!”
“দাঁড়ান আজকেই বউদিকে লিখছি যে এখানে এসে আপনার পাখা গজিয়েছে!” প্রমথ থ্রেট করল।
তবে একটা কথা ঠিক একেনবাবু যখন ফিরে আসবেন বলেন, ঠিক সেই সময়েই ফিরে আসেন। যদি কোথাও আটকা পড়ে যান, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে আমাদের জানিয়ে দেন। এ নিয়ে কমপ্লিমেন্ট দিলে বলেন, “ কি যে বলেন স্যার, আপনারা ছাড়া এদেশে আমার কে আছেন বলুন।”
“তারমানে ওদেশে আমরা আপনার কেউ নই।” প্রমথ টিপ্পনি কাটে।
“প্রমথবাবু না স্যার, সত্যি!”
ওরা বেড়িয়ে যাবার পর আমি আমার ই-মেইল চেক করতে বসলাম। বেশিরভাগই কাজ সংক্রান্ত। শুধু একটা নয়, সেটা বন্দনার। বন্দনা লিখেছে, ওদের বিয়ের কথা। ওরা দুজনে শান্তিনিকেতনে চলে এসেছে। নতুন সংসার সাজাতে ব্যস্ত। প্রভাসের কাজের চাপ হঠাৎ বেড়েছে। একজন অধ্যাপক অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর ক্লাসও প্রভাসকে নিতে হচ্ছে। বন্দনা। ভাবছে ও-ও কিছু একটা করবে। কিন্তু কী করবে এখনও ঠিক করতে পারছে না। শেষে লিখেছে যার বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়,
তোমার কথা প্রায়ই ও বলে। আমার তো সব সময়েই মনে হয়। আর কতদিন ওদেশে পড়ে থাকবে? তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। আমার এক বন্ধু অছে, খুব মিষ্টি আর দারুণ সুন্দরী। তোমার সঙ্গে চমৎকার মানাবে। রাগ করলে না তো? এখানে কোনো কম্পিউটার নেই। অনেক পথ হেঁটে একটা সাইবার কাফে থেকে তোমায় লিখছি।
ভালোবাসা নিও।
তোমার বন্দনা
চিঠিটা পড়ে কেন জানি না একটা বিষণ্ণতা আমায় পেয়ে বসল। তোমার বন্দনা কথাটা পড়লাম কয়েকবার। সেন্স অফ গিল্ট? বন্দনার চোখ আমি কোনো দিনই ফাঁকি দিতে পারিনি, তাই নিশ্চয় ওর খারাপও লাগছে। আমি যে ওকে সম্পূর্ণ হারাইনি, সেটাই আমাকে মনে করিয়ে দেবার চেষ্টা করছে তোমার বন্দনা কথা দুটোর মধ্যে দিয়ে। আমার একাকিত্ব দূর করার জন্যও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। চোখের সামনে ফোটোগ্রাফিক ফ্রেমের মতো একের পর এক বন্দনার নানান ছবি চোখের সামনে ভেসে ভেসে উঠতে লাগল। কম-বয়সি বন্দনা, কিশোরী বন্দনা, যৌবনে পরিপূর্ণা বন্দনা। হঠাৎ তীব্রভাবে অনুভব করলাম বন্দনাকে কী ভীষণভাবে আমি চেয়েছিলাম! আমার বহু নিদ্রাহীন রাত্রি কেটেছে বন্দনার কথা ভেবে। কল্পনায় ওকে আমার পাশে পাশে রেখেছি, যা সামনা-সামনি বলতে পারিনি, তা অনায়াসে কল্পনায় ওকে বলেছি, যা শুনতে চেয়েছি তা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে কখনোই সাহস করে বলতে পারিনি যে ওকে চিরজীবনের জন্য কাছে পেতে চাই। হাসি ঠাট্টার মধ্যে দিয়ে একবার প্রেমের প্রসঙ্গ তুলেছিলাম ঠিকই, কিন্তু পরে নিজেই লজ্জিত হয়েছি সেই হাস্যকর প্রচেষ্টায়। আসলে আমার ভয় ছিল ও আমায় প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু প্রত্যাখ্যানেরও তো একটা মূল্য আছে। বহু অনাবশ্যক কল্পনা, স্বপ্নের জাল বোনা চিরতরে সেটা স্তব্ধ করে দিতে পারে। লাঠির বড় একটা বাড়ি মেরে রূঢ় বাস্তবের সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে দেয়, শরীর ও মনকে আশা-নিরাশার দ্বন্দে কুরে কুরে নষ্ট হতে দেয় না। আমার এই ভীরুতার ফল সারা জীবনই ভোগ করতে হবে। বন্দনার চিঠি আরও পাব, কারণ সিলেক্টেড হইনি ঠিকই, কিন্তু রিজেক্টেডও হইনি। আর সেই চিঠি আমায় যেমন দেবে আনন্দ, তেমনি বয়ে আনবে না পাওয়ার পুরোনো বেদনা।
আমি বন্দনাকে একটা উত্তর লিখতে বসলাম। লিখলাম “এক সুন্দরীকে চেয়ে পাইনি, কী করে তুমি ভাবছ আরেক সুন্দরীকে না চেয়েই পাব।” হঠাৎ মনে হল, একি পাগলের মতো লিখছি! কম্পিউটার বন্ধ করে টিভি খুলে বসলাম। মনকে বন্দনা-মুক্ত করা দরকার।
কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়ালও নেই। ঘুম যখন ভাঙল, তখন দেখি একেনবাবু কিচেনে কফি বানাবার চেষ্টা করছেন। আমি উঠেছি দেখে বললেন, “প্রমথবাবুও ফিরেছেন। একটু বাইরে গেছেন কি একটা পার্সেল করতে।”
আমি জানি সেটা কি। ফ্রান্সিস্কার এক বন্ধুর বিয়ে হচ্ছে বাল্টিমোরে-এ। ওরা যাবার প্ল্যান করেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে কাজের জন্য আটকা পড়েছে। বন্ধুকে দেবে বলে সুইস আপ্লসের একটা সুন্দর ফ্রেমে বাঁধানো ছবি কিনেছিল ফ্রান্সিস্কা। সেটাই নিশ্চয় প্রমথ পার্সেল করতে গিয়েছে।
প্রমথ বাড়ি ফিরতে জিজ্ঞেস করলাম, “কিরে, পার্সেল করা হল?”
প্রমথ বলল, “বলিস না, জোর গচ্চা গেছে স্টুপিড পার্সেলটা করতে!”
“কত নিলো?”
“পঞ্চান্ন ডলার, বিশ্বাস করবি? ছবিটা তিরিশ ডলার হবে কিনা সন্দেহ!”
একেনবাবু পয়সাকড়ির ব্যাপারে খুব সেন্সেটিভ। “বলেন কি স্যার, এত হাইওয়ে রবারি! যাই বলুন স্যার, আমেরিকা হল আজব দেশ। বিচির থেকে খোলের দাম বেশি।”
প্রমথ তর্ক করতে ভালোবাসে। বলল, “এ একটা বাজে কথা বললেন। লোকে বিচি ফেলে বাইরের অংশ খায় –আম বলুন, লিচু বলুন, আঙুর বলুন।”
একেনবাবু বললেন, “আপনি উলটোগুলো দেখছেন না কেন স্যার। খোলসের মধ্যেই থাকে চিনেবাদাম, শুক্তির মধ্যে থাকে মুক্তো।”
আমি ভাবছিলাম, উঃ, মাঝে মাঝে এত বাজে বকবক করতে পারে ওরা! প্রসঙ্গটা চাপা দেবার জন্য বললাম, “দুদিকেই অজস্র উদাহরণ আছে। আর সবই রিলেটিভ। যারা ছবিটা পাচ্ছে, তাদের কাছে ছবিটাই আসল। বাইরের বাক্স বা বাবল র্যাপিং-এর দাম কত, সে নিয়ে ভাববে না। অন্যদিকে প্রমথ গাঁটের পয়সা খরচা করে প্যাকিং করিয়েছে, এয়ারে শিপ করছে –তাই ওগুলোই ওর কাছে আসল।”
“এটা ভালো বলেছেন স্যার।” বলে একেনবাবু চুপ মেরে গেলেন।
প্রমথ বলল, “অবাক করলেন মশাই, শুধু একটা বাক্যবাণে মৌনীবাবা হয়ে গেলেন যে বড়ো?”
“কেন স্যার, আমি কি বেশি বকবক করি?”
“আলবাৎ করেন। যদি না আপনার মাথায় অন্য কোনো চিন্তা ঘুরপাক না খেতে শুরু করে!”
“আপনাকে বলিহারি স্যার, একেবারে বাঘের চোখ। ধরেছেন ঠিক।”
“কী ভাবছিলেন?”
“বাপিবাবুর কথায় হঠাৎ আরেকটা জিনিস মনে এল।”
“কী সেটা?”
“এই স্যার, শিশিরবাবুর কথা। উনি ওঁর মহামূল্য প্রেমপত্রগুলো বাক্সবন্দি করে রাখলেন। ওঁর কাছে প্রেমপত্রগুলোই বড়ো, বাক্সটা নিমিত্ত মাত্র। অথচ আরেকটা লোক সেই মহামূল্য চিঠিগুলোকে মাটিতে ফেলে দিয়ে বাক্সটা নিয়ে অদৃশ্য হল। ভ্যালু ব্যাপারটাই একেবারে রিলেটিভ স্যার।”
“শিশিরবাবুর প্রেমিকা যদি কোনো সেলিব্রেটি হতেন –ধরুন, নার্গিস বা সুচিত্রা সেন, অথবা তার থেকেও উর্ধে চলে যান, ক্লিওপেট্রা –তাহলে হয়তো চিঠিগুলোই চুরি হতো। কি মশাই, হত না?” প্রমথ প্রশ্ন করল।
“তা হতো স্যার। চড়া দামেই বিক্রি হত চিঠিগুলো।”
“এখন প্রশ্ন হল বাক্সটার অ্যান্টিক ভ্যালু কত। আপনার কোনো ধারণা আছে?”
“তেমন নেই স্যার। মিস্টার লংফেলোর সঙ্গে এই নিয়েই দু’দিন আগে কথা বলছিলাম।”
“লংফেলো মানে, যে লোকটি রোহিত রয়ের সঙ্গে সেদিন দেখা করতে এসেছিল?”
“হ্যাঁ স্যার। ভদ্রলোক অ্যান্টিক সম্পর্কে অনেক জানেন।”
“আপনি কি সেই জন্যেই ওঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন?”
“কী করব স্যার, মাথায় কিছুতেই ঢুকছিল না একটা পুরোনো বাক্স কেউ চুরি করতে যাবে কেন!”
“মিস্টার লংফেলো কি বললেন?” এবার আমিই প্রশ্নটা করলাম।
“বাক্সটা না দেখে দাম বলা শক্ত। তবে চিঠিপত্র ছিল শুনে বললেন বড় সাইজের একটা জুয়েলরি বক্স হওয়া সম্ভব। তবে বাক্সটা যদি বেশি বড়ো হয়, তাহলে সম্ভবত ওটা ছিল রাইটিং ডেস্ক।”
রাইটিং ডেস্ক-এর কথা আমি বইয়ে পড়েছি। আগেকার যুগে বাক্সের ডালা বন্ধ করে তার উপরে খাতা রেখে হিসেবটিসের চিঠিপত্র –এইসব লোকে লিখত। বাক্সের ভেতরে থাকত লেখার যাবতীয় সরঞ্জাম কাগজপত্র, খাতা-কলম ইত্যাদি।
“কি রকম দাম ওগুলোর?” প্রমথ জিজ্ঞেস করল।
“আমিও স্যার প্রশ্নটা করেছিলাম। বললেন, জিনিসটা না দেখে বলা যায় না।”
“একটা রেঞ্জ তো আছে?”
“তা আছে স্যার, পাঁচ ডলারও হতে পারে, আবার পাঁচ হাজার ডলারও হতে পারে। জর্জ ওয়াশিংটনের রাইটিং ডেস্ক হলে মিলিয়ন ডলার হওয়াও বিচিত্র নয়।”
“দু-চারশো টাকার রাইটিং ডেস্ক কখনোই ওটা ছিল না,” আমি বললাম। “সেক্ষেত্রে চুরি করার জন্য অত টাকা কেউ দিত না।”
“আরেকটা সম্ভবনার কথাও উনি বললেন, সেটা হল টি-ক্যাডি। টি ক্যাডি অবশ্য সব সময়ে কাঠের হত না, তবে এককালে টার্ন ব্রিজের কাঠের টি-ক্যাডির বেশ চল ছিল। তবে টি-ক্যাডি হলে ভেতরে খোপ খোপ থাকত। সেগুলো কেটে উড়িয়ে না দিলে সেখানে চিঠিপত্র রাখা যেত না। তাই মনে হয় ওটা টি-ক্যাডি নয়।”
“সেই টি-ক্যাডিগুলোর দাম বেশি না কম?”
“সেটা জিজ্ঞেস করিনি স্যার। তবে মনে হয় ঐ একই রেঞ্জ।”
“তাহলে আর কি এসে গেল?”
“আমি শুধু পসিবিলিটির কথাগুলো বললাম স্যার।”
“আরেকটা পসিবিলিটিও তো হয়, প্রমথ বলল। “শ্রীনিকেতনের কোনো কাঠের মিস্তিরির তৈরি। হয় না?”
“তা হয় স্যার।”
“তাহলে সেটা ধরছেন না কেন?”
“ইউ হ্যাভ এ পয়েন্ট স্যার। তবে কিনা তার জন্য কেউ পয়সা দিয়ে ওটা চুরি করাবে না।”
“আপনি মশাই, আপনার অ্যান্টিক নিয়ে মাথা ঘামান,” বলে প্রমথ আমাকে বলল, “এই বাপি, একটা সিডি কিনে আনলাম ইন্ডিয়া মিউজিক শপ থেকে। শ্যামলের। শুনবি?”
শ্যামল মিত্রের গান যদিও আমার মায়ের আমলের, কিন্তু ওই সময়কার গান শুনতেই আমার ভালো লাগে।
“তোর তো দেখছি ইদানিং বেশ গানে উৎসাহ হয়েছে? চমৎকার, লাগা।”
‘কার মঞ্জীর বাজে’ গান দিয়ে সিডির শুরু। আমার ফেভারিট।
একেনবাবু যিনি একেবারেই গান-বাজনা ভালোবাসেন না, তিনিও দেখলাম চোখ বুজে পা নাড়িয়ে নাড়িয়ে শুনছেন।
দেখেছি তোমাকে মুখর মেলায়
পথের বাঁকে আর রঙেরই খেলায়
জেনেছি তুমি মোর অনুরাগিনী।
হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “ইনফ্যাক্ট দারুণ বলেছেন স্যার।”
আমি অবাক হয়ে বললাম, “কিসের কথা বলেছেন?”
“ঐ যে স্যার, ছবি আর ছবির বক্স আর র্যাপিং-এর কথা।”
এটা কি এমন দারুণ সেটা অবশ্য আর ব্যাখ্যা করলেন না। উলটে একটা প্রশ্ন করলেন, “আচ্ছা স্যার, মাসিমা কি ফ্রেঞ্চ জানেন?”
সুভদ্রামাসি একটু আধটু ফ্রেঞ্চ জানেন আমি জানতাম। ফ্রান্সিস্কার সঙ্গে মাঝে মাঝে ফ্রেঞ্চে কথা বলতে শুনেছি। বললাম, “বোধহয়, কেন বলুন তো?”
“আসছি স্যার,” বলে বোঁ করে ঘুরে নিজের ঘরে চলে গেলেন।
একেনবাবুর সঙ্গে থেকে থেকে আমাদের এত অভ্যাস হয়ে গেছে যে এগুলো নিয়ে আর মাথা ঘামাই না। আমরা আয়েস করে বসে শ্যামলের গান শুনতে লাগলাম।
একটু বাদেই দেখি উনি ওঁর অল-ওয়েদার গায়ে চাপিয়ে এসেছেন।
“স্যার আমি একটু বেরোচ্ছি, খানিক বাদেই ফিরব।” তারপর প্রমথকে বললেন, “আমি স্যার আজ পিৎজা নিয়ে আসছি। রান্নাবান্না করবেন না।”
“হঠাৎ এই সুমতি?”
“না স্যার, আপনারাই তো খালি খাওয়ান, একদিন আমি খাওয়াতে পারি না?”
“একদিন কেন, চাইলে প্রতিদিন পারেন। এত আনন্দের কথা,” প্রমথ বলল।
“স্যার, আপনার দিদিমার ছবিটা একটু নিয়ে যাচ্ছি –আপনার অ্যালবাম থেকে।”
আমি অবাক হয়ে বললাম, “কেন, কি ব্যাপার?”
“বিরাট কোনো ব্যাপার নয় স্যার। হারাব না, ভয় নেই।” বলে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন।
একেনবাবুর অনেক কাজই খাপছাড়া, তাই খুব একটা অবাক হই না।
প্রমথ বলল, “জানি কেন নিয়ে যাচ্ছেন। তুই সেদিন কথায় কথায় বললি না কপি করা বলে ছবিটা খারাপ হয়েছে, সেটাই উনি ঠিক করে দেবেন। আজকে বেশ বদান্য-মুডে আছেন!”
