শান্তিনিকেতনে অশান্তি (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত

শেয়ার করুনঃ

পঁচিশ

পরদিন সকালে যে ভদ্রলোক একেনবাবুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন, তাঁকে আমি শান্তিনিকেতনে যাবার পথে দেখেছি। গলায় এখনও সেই BS লকেট লাগানো নেকলেস। বল্লভ শাহও আমাকে দেখে অবাক হলেন। “আপনাকে আগে কোথায় দেখেছি বলুন তো?”

“শান্তিনিকেতনে যাবার পথে।”

“ও ইয়েস, আপনার মেমারি তো ভীষণ শার্প!”

“না, আমার মেমারি খুবই বাজে। কিন্তু আপনার গলার নেকলেসটা যে দেখেছে, তার পক্ষে ওটা ভুলে থাকা কঠিন।”

“এটা ঠিকই বলেছেন। এই বুলশিট নেকলেসের জন্য আমাকে অনেকেই খ্যাপান। কিন্তু কি করব বলুন, পিতৃপুরুষের দেওয়া নামটাকে তো অস্বীকার করতে পারি না। বাই

দ্য ওয়ে, আমি বল্লভ শাহ।”

আমিও নিজের নাম বললাম।

ইতিমধ্যে একেনবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। “আরে আরে, আসুন স্যার আসুন। আমি ভেবেছিলাম আপনি একটু দেরি করে আসবেন।”

“আরেকটু দেরিতেই আসার কথা ছিল, কিন্তু সকালের কাজটা চট করে মিটে গেল। তাই ভাবলাম সময় নষ্ট করে আপনার কাছেই চলে আসি।”

“ভালো করেছেন, এসেছেন। একটু কফি বানাই?”

“সিওর, জাস্ট ব্ল্যাক।”

আমি একেনবাবুকে বললাম, “আপনারা বসুন, আমি বানাচ্ছি।”

“আরে না না স্যার, এটা একটা কথা হল।” একেনবাবু ব্যস্ত সমস্ত হয়ে কফির জল চড়ালেন।

ইনস্ট্যান্ট কফি। জলটা গরম করতে যে সময়টুকু। কফি নিয়ে আমরা সবাই বসলাম। একেনবাবু বল্লভ শাহকে বললেন, “আপনি স্বচ্ছন্দে বাপিবাবুর সামনে যা বলার বলতে পারেন। আমরা এক সঙ্গে কাজ করি।”

একেনবাবু সব সময়েই এই সম্মানটা আমাকে আর প্রমথকে দেন, যদিও রহস্য সন্ধানে আমার বা প্রমথের কন্ট্রিবিউশন তিল পরিমাণও নয়। একেনবাবুকে এ নিয়ে বললে বলেন, “স্যার, উইদাউট ইউ টু, আই ডোন্ট এক্সিস্ট।” আর এমন নাটকীয় ভাবে কথাটা বলেন যে তার উপর কিছু বলতে পারি না। প্রমথর অবশ্য বলতে আটকায় না। “জানি, জানি, আমাদের কন্ট্রিবিউশন হল আমার রান্না আর বাপির গাড়ি।”

“কী যে বলেন স্যার, গাড়ি তো ভাড়া করলেই পাওয়া যায়, আর খাবারও রেষ্টুরেন্টে মেলে।”

“কিন্তু তার জন্য গাঁটের পয়সা লাগে, সেখানেই তো আপনার মুশকিল!”।

“না না স্যার, আপনাদের সঙ্গে আলোচনায় কত যে কু পাই, তা আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না।”

এগুলো কিন্তু বেশ জেনুইনলিই উনি বলেন মনে হয়। সে কথা থাক।

বল্লভ শাহ একটু বোধহয় অস্বস্তি বোধ করছিলেন। বললেন, “এটা একটু ডেলিকেট ব্যাপার।”

একেনবাবু বললেন, “সেটা আমাকে বলাও যা, বাপিবাবুকে বলাও তাই। আপনি না চাইলে, কাকপক্ষীও জানতে পারবে না।”

একেনবাবু অবশ্য কাক-পক্ষী বলেননি। কাকের ইংরেজি শব্দটা বোধহয় মনে পড়েনি, তাই শুধু পাখি বলেই ম্যানেজ করলেন।

“অলরাইট,” বলে বল্লভ শাহ শুরু করলেন। “দেখুন আমি কতগুলো ব্যাপার জানি, যার সঙ্গে রোহিত রয়ের মৃত্যুর যোগ থাকতে পারে। কিন্তু পুলিশকে বলিনি। আই অ্যাম অলরেডি ইন ডিপ ট্রাবল উইথ দেম। আমি যাই বলি, উলটো ভাবে দেখবে।

আপনাকে বলছি, কারণ আমি জানি আমার অবস্থাটা বিবেচনা করে পুলিশের উপর আপনার যা ইনফ্লুয়েন্স সেটা অন্ততঃ আমার জন্য ব্যবহার করবেন।”

“আপনি নির্ভয়ে বলুন স্যার। আমি যতটুকু করতে পারি নিশ্চয় করব।”

“সেই জন্যেই আপনার কাছে এলাম,” বলে বল্লভ শাহ, তাঁর কাহিনি শুরু করলেন

“ডিসেম্বররের মাঝামাঝি আমার স্পেশালিটি স্টোরে একজন লোক আসে। মাথায় টুপি, চোখে কালো চশমা, মুখ-ভর্তি গোঁপ-দাড়ি। আমি অবশ্য তাকে দেখিনি। আমার সেলসম্যান দিলীপ-এর কাছে যে বর্ণনা শুনেছিলাম, সেটাই বললাম। লোকটা দিলীপকে বলে, তাকে একটা বাক্স এনে দিতে হবে। বাক্সটা ওয়েস্ট বেঙ্গলের একটা জায়গায় আছে।”

কথাটা শুনেই আমি একেনবাবুর দিকে তাকালাম। একেনবাবুর মুখ ভাবলেশহীন। বল্লভ শাহ তখন কফিতে চুমুক দিতে ব্যস্ত, তাই আমার এই তাকানোটা খেয়াল করলেন না।

তিনি বলে চললেন, “লোকটার রিকোয়েস্ট শুনে দিলীপ অবাক। দিলীপ লোকটাকে বলে এভাবে কোনো জিনিস আমাদের কোম্পানি আনায় না। আমাদের বিক্রির জিনিস সবই আসে আমাদের নিজস্ব সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে। কিন্তু লোকটা নাছোরবান্দা। বলে, এর জন্য সে দু’হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে রাজি আছে। দিলীপ তখন আমাকে ফোন করে। প্রথমে রাজি হইনি, মনে হচ্ছিল এর মধ্যে নিশ্চয় কোনও ঝুট-ঝামেলা আছে। ফোনে লোকটার সঙ্গে কথা বলি। লোকটা বলে যে এটা কাঠের বাক্স, এর মধ্যে কিছুই নেই। আমার লোক বাক্স খুলে দেখে নিতে পারে। এটা ওদের ফ্যামিলির পুরোনো স্মৃতিজড়িত একটা বাক্স, চাপে পড়ে বহু বছর আগে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এখন ফ্যামিলির সবাই সেটা ফিরে পেতে চায়।

“ভেবে দেখলাম, একটা ছোটো বাক্স এনে যদি দু’হাজার ডলার পাওয়া যায়, তাহলে মন্দ কি। আর যে লোকটা এভাবে দু’হাজার ডলার খরচা করতে চাইছে, সে নিশ্চয় মালদার লোক। আমি তখন দিলীপকে ফোনটা দিতে বলি। দিলীপ ফোন ধরতে ওকে বলি, পাঁচশো ডলার অ্যাডভান্স নিতে, আর চেষ্টা করতে লোকটাকে যদি আর কিছু বিক্রি করতে পারে। তবে দিলীপকে তা বলার দরকার ছিল না, ও ইতিমধ্যেই লোকটার হাতে পিতলের একটা বুদ্ধমূর্তি ধরিয়েছে। দিলীপ তিন হাজার চেয়েছিল ওটার জন্যে। লোকটা অনেক নেড়েচেড়ে হাজার ডলার দিতে রাজি হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে যখন বাক্সটা হাতে আসবে, তখনই মূর্তিটা কিনবে। পিতলের ঐ মূর্তিটা আমি তিনশো ডলার পেলেও বেচতাম। তাই দিলীপকে বললাম হাজার পেলে ওর কমিশন দুশো ডলার আর অর্ডার বইয়ে লোকটার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর লিখে রাখতে। পরে জানতে পারলাম, লোকটার নাম ঠিকানা দেয়নি; তবে ক্যাশ অ্যাডভান্স করে ব্ল্যাঙ্ক রসিদ নিয়ে চলে গেছে। আমার তখনই খটকা লাগল। দিলীপকে বললামও কাজটা ঠিক ভালো বলে মনে হচ্ছে না। যাই হোক, মানি ইজ মানি। দিলীপ বলল, লোকটাকে দিলীপ কোথাও দেখেছে, বিশেষ করে গলার স্বর যেন চেনা চেনা। কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছে না। দিলীপের কাছে বাক্সটার মোটামুটি একটা সাইজ আর কোথায় সেটা পাওয়া যাবে, লোকটা লিখে দিয়ে গেছে; শিশিরবাবু বলে শান্তিনিকেতনের একজন লোকের বাড়ি থেকে।” বল্লভ শাহ আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি শিশিরবাবুকে চেনেন?”

একেনবাবুর মুখে কোনও বৈকল্য নেই। আমি একটু থতমত খেয়ে উত্তর দিলাম, “না।”

মনে হল, বল্লভ শাহ হয়তো শিশিরবাবুর মৃত্যুর কথা জানেন না, নইলে এভাবে এত সহজে আমাদের কাছে কথাগুলো বলতেন না। অথবা উনি অদ্ভুত ভালো অ্যাক্টিং করছেন অন্য কোনো উদ্দেশ্যে।

বল্লভ শাহ বলে চললেন, “যাই হোক, আমি রতনলাল বলে একজন লোককে চিনতাম। সে শান্তিনিকেতনের কাছে থাকে। তাকে ফোন করে বললাম, শান্তিনিকেতনে শিশিরবাবু বলে এক ভদ্রলোক থাকেন, তাঁর বাড়িতে একটা পুরোনো কাঠের বাক্স আছে। সেটা যেন ও জোগাড় করে আমার জন্য রাখে। তারজন্য পাঁচ হাজার টাকা পাবে। আমার দেশে অন্য কাজ ছিল। সেগুলো শেষ করে আমি শান্তিনিকেতনে যাই। তখনই…” আমাকে দেখিয়ে বললেন, “এঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়। বাক্সটা সেদিনই পাওয়া গেল। খুবই পুরোনো, অযত্নে রাখা একটা বাক্স। যদিও সাইজটা মোটামুটি মিলে যাচ্ছে, কিন্তু এই বাক্সের জন্য কেউ দু’হাজার ডলার খরচা করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। রতনলালকে বললাম, “এটা সেই বাক্স নয়। রতনলাল আমতা আমতা করল। কিন্তু তখন নতুন করে বাক্স খোঁজার সময় নেই। ইন্ডিয়া থেকে আমি যে প্লেনে ফিরছি, রোহিতও সেই প্লেনে ছিল। রোহিত আমার অনেক দিনের বন্ধু। কিন্তু তখন রোহিতকে এ বিষয়ে কিছু বলিনি।

“কয়েকদিন বাদে রোহিত আমার দোকানে এল। কথায় কথায় ওকে এই গল্পটা করে বাক্সটা দেখালাম। রোহিত একটা অদ্ভুত কথা বলল। বলল, এই বাক্সটার কথা ও জানে, এটা কাউকে না দিতে। আমি পড়লাম বিপদে। আমি অ্যাডভান্স টাকা নিয়েছি। কী ভাবে সেই খদ্দেরকে ফেরাই! রোহিত আমার সমস্যাটা বুঝতে পেরে বলল, “ওকে বলে দাও তুমি ওটা পাওনি।” আমি বললাম, “তা কি করে হয়, লোকটা দিলীপকে গতকাল ফোন করেছে। দিলীপ তাকে বলেছে যে মাল এসে গেছে।” রোহিত বলল, “ঠিক আছে, আই উইল ডিল উইথ হিম। তুমি শুধু ওকে ওর টাকাটা ফেরত দিয়ে দাও। আর বলে দাও যে বাক্সটার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে।”

“রোহিত আমাকে একটা ঝামেলার মধ্যেই ফেলল। এই জিনিসটা জোগাড় করতে আমার অল্পই খরচ হয়েছে। সেটা নষ্ট হওয়া বড়ো কথা নয়। কিন্তু দোকানের সুনাম বলেও তো একটা ব্যাপার আছে। এদিকে রোহিত আমার বহুদিনের বন্ধু এবং ভালো খদ্দেরও। আমি ইতঃস্তত করছি দেখে রোহিত বলল, “আরে বল্লভ, যেটা যার প্রাপ্য নয়, সে সেটা পাবে কেন? তুমি ওর কাছ থেকে দু’হাজার পেতে, আমিও না হয় তাই দেব। তবে এক্ষুণি দিতে পারব না, দিন কয়েক সময় লাগবে। আমি বললাম, ঠিক আছে। দিলীপকে ডেকে বললাম, লোকটা এলে ওর অ্যাডভান্সডটা ফেরত দিয়ে দিতে। ঝামেলা করলে রোহিতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। লোকটা কয়েকদিন বাদেই এল। এসে যখন শুনল ওর বাক্সটা আর কাউকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন সে চটে আগুন! দিলীপ অনেক বোঝাবার চেষ্টা করল, কে কার কথা শোনে। বলল, তোমার মালিককে ডাকো। দিলীপ বলল যে মালিকের কাছে জিনিসটা নেই, চাইলে রোহিত রয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। লোকটা তখন অশ্রাব্য কুশ্রাব্য গালাগাল করে চলে গেল। সেই রাতে আমি আমার আরেক বন্ধু বাবুর কাছে গিয়েছিলাম। ও টাকা পয়সা নিয়ে ভীষণ সমস্যায় পড়ে আমার কাছে কিছু ধার চেয়েছিল সেটা দিতে।”

আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, “আচ্ছা, এই বাবু কি বাবু পিন্টো?”

“হ্যাঁ, আপনি চেনেন?”

“চিনি মানে একবার দেখা হয়েছে।”

একেনবাবু বললেন, “আমার তো ধারণা ছিল ওঁর বিজনেস খুব ভালো চলছে!”

“তা চলছে। কিন্তু শেয়ার মার্কেটে মার্জিন-ট্রেডিং করতে গিয়ে প্রচুর লোকসান করেছে। যাই হোক, রোহিতও সেই বিল্ডিং-এ থাকে। আমি ফেরার পথে রোহিতের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে রোহিতকে বললাম, সেই লোকটা এসে অনেক গালিগালাজ করে গেছে। রোহিত আমলই দিল না। এরপর বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে আমি বাড়ি চলে আসি। আর তার পরদিনই রোহিত মারা যায়। আমি অবশ্য সেটা জানতাম না। সেদিন সকালেই দু’দিনের জন্য আমি ফিলাডেলফিয়াতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দিলীপের কাছে সব ঘটনা শুনলাম। এর ক’দিন বাদে, আমি দোকানে যাই। দিলীপ সেখানে ছিল না। আমার আরেকটি কর্মচারী আছে, তার নাম শরৎ। সে দিলীপ যখন থাকে না, তখন দোকানটায় বসে। শরৎ বলল, দিলীপ নাকি ধরতে পেরেছে যে কোন লোকটা সেদিন বাক্সের খোঁজ করছিল। শরৎকে আমি চাকরি দিয়েছি বটে, কিন্তু ও অনেক সময়েই ভুলভাল বোঝে –উলটোপালটা করে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে সেই লোক? সেটা শরৎ বলতে পারল না। তবে বলল, দিলীপ নাকি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সে অস্বীকার করেছে, কিন্তু দিলীপ বলেছে ও ভুল করেনি। কিন্তু, তারপর আমিও কতগুলো ঝামেলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, দিলীপের সঙ্গে কথা এ নিয়ে আর কথা হয়নি। এরপর হঠাৎ দিলীপও খুন হল।” বলে বল্লভ শাহ চুপ করলেন।

“আপনার মনে হয় স্যার, এই দুটো মৃত্যুর সঙ্গেই সেই মিস্ট্রিম্যান জড়িত?”

“সেটা আমি বলতে পারব না। আমি শুধু যা জানি বললাম।”

একেনবাবু বললেন, “আপনি কি জানেন স্যার যে শিশিরবাবু মারা গেছেন?”

“ও মাই গড, না তো!” বল্লভ শাহর মুখে মনে হল অকৃত্রিম বিস্ময়!

“ওঁর বাড়িতে যারা চুরি করতে ঢুকেছিল, তারাই ওঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী।”

“চুরি করতে ঢুকেছিল!”

“হ্যাঁ, আপনার বাক্সটা।”

“কী বলছেন, আমি তো রতনলালকে ওটা কিনে রাখতে বলেছিলাম!”

“আপনার রতনলাল চুরিটাই শস্তা এবং সহজ পথ ভেবেছিলেন।”

বল্লভ শাহর মুখটা একেবারে সাদা হয়ে গেল! আবার “ও মাই গড,” বলে মাথা নাড়তে নাড়তে বললেন, “আই অ্যাম ইন ডীপ শিট।”

আমরা চুপ।

বল্লভ শাহ হঠাৎ উঠে একেনবাবুর হাতদুটো ধরে বললেন, “আমাকে আপনার বাঁচাতে হবে মিস্টার সেন, একটা কথাও আমি মিথ্যে বলছি না, বিশ্বাস করুন।”

 

রাতে প্রভাসের কাছ থেকে একটা ইমেইল পেলাম। লিখেছে পুলিশ রতনলাল বলে একজন লোককে গ্রেফতার করেছে। রতনলাল স্বীকার করেছে দুজন রিকশাওয়ালাকে সে শিশিরবাবুর বাড়িতে একটা বাক্স চুরি করতে পাঠিয়েছিল। সেইসময়েই ধাক্কাধাক্কিতে শিশিরবাবু মৃত্যু হয়। তবে রতনলালের বক্তব্য, তার নিজের জন্য নয়, আরেকজন তাকে বাক্সটা জোগাড় করে দিতে বলেছিল। বাক্সটা কেন এত বহুমূল্য সেটা পুলিশ বুঝতে পারছে না, তবে সেই আরেকজন কে পুলিশ জানে। ইন্টারপোলে খবর পাঠানো হয়েছে শুনে প্রভাসের ধারণা এর সঙ্গে কোনো বিদেশি চক্রের যোগ আছে। লিখেছে, শান্তিনিকেতন আর শান্তিনিকেতন নেই, চুরি-নিকেতনে দাঁড়াচ্ছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *