ম্যানহাটানের ম্যাডম্যান (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত

শেয়ার করুনঃ

(৩)

শনিবার মে ১৪, ২০১১

 

বিপাশা মিত্রের বাড়ি থেকে ফিরে আসার পরের দিন যা ঘটল, তার জন্যে আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। সকালে কফি খেতে খেতে বিপাশা মিত্রের হারানো ফটো, স্ট্যাম্প এসব নিয়ে আলোচনা করছি, হঠাৎ ডিং ডং বেল। ফোন টোন না করেই এক ভদ্রলোক একেনবাবুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। বছর চল্লিশের বেশি বয়স নয়। চুলগুলো একটু কোঁকড়ানো। মুখে চাপদাড়ি, হাতে কাঙ্গা, গায়ে দামি স্যুট। ভদ্রলোক যেই হোন, এভাবে জানিয়ে উপস্থিত হওয়াতে আমার বিরক্তি লাগল। একেনবাবু ইতিমধ্যে আমার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন। বাধ্য হয়ে বললাম, “ইনিই একেনবাবু।”

 

মুখে কিছু না বললেও একেনবাবুকে দেখে ভদ্রলোক মনে হল আশাহত। হওয়াটাই স্বাভাবিক, বেঁটেখাটো ক্যাংলা শরীর, খাড়া খাড়া চুল, চোখেমুখে কনফিউসড ভাব। প্রথম সাক্ষাতে একেনবাবুকে দেখে ইম্প্রেসড হতে এখন পর্যন্ত কাউকে দেখিনি। তবে চট করে সামলে নিলেন, নিজের পরিচয় দিলেন দেবরাজ সিং বলে।

 

“মাই গড! আপনিই কি স্যার নিউ হেরিটেজ হোটেল চেন-এর মালিক?”

 

“আপনি আমাকে চেনেন?” ভদ্রলোকের চোখেমুখে বিস্ময়।

 

“নামে চিনি স্যার।”

 

“বাঃ, আমিও তো আপনাকে নামে চিনি। বিপাশা, মানে বিপাশা মিত্রের সঙ্গে কাল রাত্রে আমার কথা হচ্ছিল। আপনার অনেক সুখ্যাতি করল। ফোন নম্বর আর ঠিকানাটাও দিল। আমি জানি ফোন না করে হঠাৎ এভাবে আসাটা উচিত হয়নি।”

 

“কী যে বলেন স্যার, আসুন আসুন, বসুন।”

 

“থ্যাঙ্ক ইউ,” দেবরাজ সিং ঘরে ঢুকলেন। চারদিকে একবার তাকিয়ে সোফায় বসতে বসতে বললেন, “ব্যাপারটা কী জানেন, সাত সকালে একটা জরুরী কাজে এদিকে আসতে হল। আপনার ঠিকানাটা মনে ছিল, কিন্তু ফোন নম্বরটা মনে পড়ল না। ভাবলাম একটু চান্স নিই।”

 

“বলুন স্যার, কী করতে পারি?”

 

“এঁরা?” প্রশ্নের উদ্দেশ্য আমরা।

 

একেনবাবু সাড়ম্বরে আমার আর প্রমথর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। “এঁরা দু’জন হচ্ছেন আমার ফ্রেন্ড, ফিলসফার এবং গাইড। আপনার যা বলার স্বচ্ছন্দে এঁদের সামনে বলতে পারেন।”

 

“নাইস টু মিট ইউ,” হাত এগিয়ে আমাদের দুজনের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলেন দেবরাজ। তারপর আর ভণিতা না করে একেনবাবুকে বললেন, “একটা বিশেষ দরকারে আপনার সাহায্যের প্রয়োজন। আপনি খবরের কাগজে পড়েছেন কি না জানি না, গত বৃহস্পতিবার রাত্রে হোবোকেন-এ একজন ইন্ডিয়ানকে খুন করা হয়েছে। যে খুন হয়েছে। সে আমার হোটেলের স্টাফ, অশোক দুবে।”

 

“এক অশোক দুবের খুন হবার খবর পড়েছি স্যার, কিন্তু উনি যে আপনার হোটেলে কাজ করতেন সেটা জানতাম না।”

 

“হ্যাঁ, অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার ছিল। খুব ভদ্র স্বভাবের, হার্ড ওয়ার্কিং ব্যাচেলার– কোনও রকম নেশাফেশা ছিল না, সিম্পল লিভিং আর হাই থিঙ্কিং-এ বিশ্বাসী এক আদর্শ কর্মী।”

 

দেবরাজ যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখনই মনে পড়ে গেল অশোক দুবে নামটা কেন এত চেনা লাগছিল। গত বছর ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ক্লাব-এর অ্যানুয়াল পার্টি হয়েছিল নিউ হেরিটেজ হোটেলের ইন্ডিয়া গ্রিল’ রেস্টুরেন্টে, সেখানেই অশোক দুবের সঙ্গে পরিচয় হয়। একটা জরুরি ই-মেইলের প্রিন্ট-আউট নেওয়ার প্রয়োজন পড়েছিল। ওঁকে বলতেই হোটেলের বিজনেস সেন্টারে নিয়ে গিয়েছিলেন।

 

জিজ্ঞেস করলাম, “উনি কি আপনাদের ইন্ডিয়ান গ্রিল রেস্টুরেন্টটা দেখাশুনো করতেন?”

 

“রাইট। আপনি কি ওকে মিট করেছেন? বাই দ্য ওয়ে, ও কিছুটা আপনার মতো দেখতে ছিল।”

 

“তাই নাকি?” একটু অবাকই হলাম। “কিন্তু খুব হেল্পফুল ছিলেন ভদ্রলোক।”

 

“ইয়েস, হি ওয়াজ। এরকম একটা লোককে কে খুন করতে পারে মাথায় আসছে না। হোবোকেন পুলিশ তদন্ত করছে ঠিকই, কিন্তু ওদের কম্পিটেন্সি নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তার ওপর যে খুন হয়েছে সে এক ভারতীয় ইমিগ্র্যান্ট। ভগবান জানেন কতটা ইন্টারেস্ট নিয়ে কাজটা করবে।”

 

দেবরাজের এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, আবার ঠিক মানাও যায় না। আমরা তিনজনই চুপ করে রইলাম।

 

দেবরাজ বলে চললেন, “অশোক আমার বহুদিনের কর্মী, ওর খুনি ধরা পড়বে না ভাবতেও পারি না। আমি চাই আপনি একটু দেখুন।”

 

একেনবাবু ইতস্তত করে বললেন, “সেটা দেখতে পারলে তো খুশিই হতাম স্যার, কিন্তু এখুনি তো আমি ঠিক সময় দিতে পারব না।”

 

“একটা খুনের ব্যাপারে আপনি সময় দিতে পারবেন না?” দেবরাজ মনে হল কথাটা বিশ্বাস করতে পারছেন না।

 

“আসলে স্যার, আমি আরেকটা কাজে একটু ব্যস্ত আছি।”

 

দেবরাজ এক মুহূর্ত চুপ। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “কাজটা কি বিপাশার?”

 

“মানে..” একেনবাবু আমতা আমতা করলেন।

 

“বিপাশার বিষ্ণুমূর্তিটা অদৃশ্য হয়েছে– রাইট?”

 

একেনবাবু চুপ।

 

“শুনুন, বিপাশার বিষ্ণুমূর্তি পাওয়া না গেলে পৃথিবী উলটে যাবে না, কিন্তু অশোকের খুনি বা খুনিরা যদি ধরা না পড়ে, সেটা হবে ট্র্যাভেস্টি অফ জাস্টিস।”

 

“তাতো বটেই স্যার। তবে,…।”

 

“তবে’ কী?”

 

“আরও একটা প্রব্লেম আছে স্যার। এসব কাজে পুলিশের সাহায্য লাগে। হোবোকেনের পুলিশ চিফ-কে আমি চিনি, উনি একটু ইয়ে টাইপের। নিউ ইয়র্কে ব্যাপারটা ঘটলে কোনও সমস্যা হত না। ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্টের সাহায্য আমি সব সময়ে পাই।”

 

“পুলিশকে দিয়ে আমি কিছু করাতে পারব না। কিন্তু আমার হোটেলের চারজন স্টাফ হোবোকেনে থাকে। একজন অশোক-এর সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্টও শেয়ার করত। ওদের পুলিশ অনেক জেরা করেছে ওরা যা জানে সবই আপনি জানতে পারবেন।

 

“তা বুঝলাম, স্যার। কিন্তু…।”

 

“প্লিজ আর ‘কিন্তু নয়, আমি না হয় বিপাশার সঙ্গে কথা বলব। আমি শিওর এতে ওর কোনও আপত্তি হবে না। শি ইজ সেন্সিবল। ও যদি আপনাকে রিলিজ করে দেয়, তাহলে তো আপনি ফ্রি, তাই না? আপনি যদি চান, এক্ষুনি আমি ফোন করছি।”

 

“না, না স্যার, ওঁকে এ নিয়ে বিরক্ত করার দরকার নেই। আসলে নিউ ইয়র্কের বাইরের কোনও কাজ আমি সাধারণত করি না। যাক সে কথা, যাঁদের কথা বলছিলেন,

 

তাঁদের তো আপনার হোটেলেই পাব স্যার, তাই না?”

 

“নিশ্চয়। আপনি যখন বলবেন আমি ওদের সঙ্গে দেখা করার বন্দোবস্ত করে দেব। যতক্ষণ ইচ্ছে ওদের সঙ্গে কথা বলুন, নো প্রব্লেম। এবার বলুন, কখন আসবেন?”

 

“আজ সন্ধেবেলায় কি ওঁদের পাব?”

 

“ইন্দ্র রায়কে পাবেন। ইন্দ্র বাঙালি, আপনাদের দেশের লোক। ওর সঙ্গেই অশোক থাকত। ইন্দ্রও আমার আরেকজন অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার।”

 

“তাহলে আজকেই আসব স্যার, সন্ধের সময়।” বলে একেনবাবু আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, “আপনাদের কোনও অসুবিধা নেই তো স্যার?”

 

প্রমথ বলল, “আমি পারব না, কিন্তু গো অ্যাহেড।”

 

“আমার কোনও অসুবিধা নেই,” আমি জানালাম।

 

“ক’টা নাগাদ আসবেন?” দেবরাজ সময়টা জানতে চাইলেন।

 

“ধরুন, সাড়ে ছ’টা সাতটার মধ্যে।”

 

“চমৎকার!” দেবরাজ সিং নিশ্চয় প্রস্তুত হয়েই এসেছিলেন। পকেট থেকে একটা খাম বার করে একেনবাবুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, “এইটে রাখুন অ্যাস এ রিটেইনার।”

 

“এটা এখন দেবার কোনও প্রয়োজন ছিল না স্যার।”

 

“না, না, এটা আমার প্রিন্সিপল। আমি কোনও ফেভার চাই না। আপনি আপনার সময় দেবেন, আমি সেই সময়ের দাম দেব। তাহলে পরে কোনও প্রশ্ন থাকবে না। নিন, ধরুন।”

 

একেনবাবু খামটা নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “একটা কথা স্যার, কী ভাবে অশোকবাবু খুন হলেন?”

 

“পুলিশের কাছ থেকে যেটুকু জেনেছি, তা হল খুব ক্লোজ রেঞ্জ থেকে কেউ ওর মাথায় গুলি করেছে।”

 

“আপনি বললেন বৃহস্পতিবার রাত্রে–ক’টা নাগাদ?”

 

“এক্সাক্ট টাইম বলতে পারব না। পুলিশ আমায় জিজ্ঞেস করেছিল, আমি রাত আটটা থেকে দশটার মধ্যে কোথায় ছিলাম? তাই ধরে নিচ্ছি ওই সময়ের মধ্যেই খুন হয়েছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।”

 

“পুলিশ স্যার, কাউকেই সন্দেহ করতে ছাড়ে না। কিন্তু খুনের এই টাইমটা পুলিশ জানল কী করে?”

 

“আমার কোনও ধারণাই নেই। রাত বারোটার সময় আমি হোবোকেন পুলিশের কাছ থেকে একটা ফোন পাই, অশোকের বডি আইডেন্টিফাই করতে থানায় আসতে বলে। গিয়ে দেখি ইন্দ্র আর কয়েকজন হোটেল স্টাফ ইতিমধ্যেই খবর পেয়ে সেখানে এসেছে। বডি আইডেন্টিফাই করার পর আলাদা আলাদা করে পুলিশ সবাইকেই জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমি তখন এত শকড পুলিশকে এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন করিনি।”

 

“ভালোই করেছেন স্যার না ঘাঁটিয়ে। তা আপনি কোথায় ছিলেন ওই সময়ে?” একেনবাবু জিজ্ঞেস করলেন।

 

“দেয়ার ইউ গো,” দেবরাজ সিং আমাদের দিকে তাকিয়ে একেনবাবুর দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, “নাউ আই নো, আপনাদের এই বন্ধু এককালে পুলিশ ছিলেন। টু দেম– এভরি ওয়ান ইজ এ সাসপেক্ট।”

 

“কী যে বলেন স্যার।” একেনবাবু লজ্জা পেলেন।

 

লজ্জাটা উপভোগ করে দেবরাজ সিং বললেন, “আপনার প্রশ্নের উত্তর হল, বিপাশার বাড়িতে ছিলাম রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত। ওর সঙ্গে ডিনার খেয়ে বাড়ি ফিরি।”

 

“বিপাশা ম্যাডাম আর আপনি বোধহয় খুব বন্ধু তাই না স্যার?”

 

“আপনি কি এর মধ্যে রোমান্স খুঁজছেন নাকি? সরি, তাহলে নিরাশ হবেন। ওটা ছিল স্ট্রিক্টলি বিজনেস ডিনার। তবে বিপাশাকে আমি বহুদিন ধরে চিনি। এক সময়ে একটা জয়েন্ট প্রজেক্ট করার কথা ভেবেছিলাম, সেই সূত্রেই আলাপ। আর কিছু জানতে চান?”

 

“না স্যার, দরকার পড়লে তো আপনার দেখা পাব।”

 

“নিশ্চয় পাবেন। এই নিন আমার কার্ড– এতে আমার মোবাইল নম্বরও আছে।” এই বলে দেবরাজ উঠে পড়লেন।

 

দেবরাজ চলে গেলে আমি বললাম, “এত বড়ো হোটেল চেইন-এর মালিক, দেখে বোঝার উপায় নেই।”

 

“তা নেই, কিন্তু চালু মাল।” প্রমথ টিপ্পনি কাটল। “সুন্দরী বিপাশা মিত্র রূপের ঝলক দেখিয়ে একেনবাবুকে নাচাতে গিয়েছিল। এ কিন্তু ঠিক জানে বিউটি দেখে পেট ভরে না, টু পাইস পকেটে আসা চাই। হাতে চেক ধরিয়ে বিপাশাকে অন্য লাইনে কেমন শান্ট করিয়ে দিল। ভালোকথা, কত ডলারের চেক?”

 

একেনবাবু খামটা খুলে লজ্জা লজ্জা মুখে বললেন, “তিন হাজার।”

 

“তিন হাজার ডলার অ্যাডভান্স! বাঃ, তার মানে বিপাশার ফটো-চোর ধরা মাথায় উঠল। দেবরাজ যদি সত্যিই ফটোটা চুরি করে থাকে, তাহলে বেশ কিছুদিনের জন্যে নিশ্চিন্ত।”

 

“ননসেন্স। দেবরাজ যদি ফটো চুরিও করে থাকেন, সেটা ঢাকার জন্যে নিশ্চয় কাউকে দিয়ে অশোককে খুন করাতে যাননি!”

 

“তা ঠিক, কিন্তু দেবরাজ যদি সত্যিই ফটোটা বা তোর থিওরিতে মিলিয়ন ডলারের স্ট্যাম্প চুরি করে থাকে, তাহলে এই খুনে ওঁর উপকারই হল।” প্রমথ বলল।

 

“আমার মনে হয় না দেবরাজ ওই চুরির সঙ্গে জড়িত। ইনফ্যাক্ট, ওঁর সঙ্গে বিপাশা মিত্রের সম্পর্কও খুব খারাপ বলে মনে হয় না। সেক্ষেত্রে বিপাশার বাড়িতে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ডিনার খেতেন না, আর বিপাশাও দেবরাজকে একেনবাবুর কথা বলতেন না।”

 

“সেটাই পাজলিং, স্যার,” একেনবাবু এবার মুখ খুললেন। “বিপাশা ম্যাডামের নিশ্চয় অজানা নয় খুনের কেস হাতে এলে, সেদিকে আমাকে মন দিতে হবে। এদিকে বিষ্ণুমূর্তি চুরি হয়েছে অছিলায় একটা ফটো খোঁজের কাজে আমায় ডাকলেন, আবার দেবরাজকে আমার কাছে পাঠালেন খুনের তদন্ত করতে… অঙ্কটা স্যার, ঠিক মিলছে না।”

 

“আপনি সব্যসাচী হয়ে যান না।” প্রমথ গম্ভীরমুখে বলল।

 

“তার মানে স্যার?”

 

“সব্যসাচী দু-হাতে খেল দেখাতেন, আপনি দু-ব্রেন দিয়ে খেল দেখান। বাঁ দিকের ব্রেনটা কাজে লাগান দেবরাজের জন্যে। ওই দিকটা সব লজিক্যাল, অ্যানালেটিক্যাল, আর র‍্যাশেনাল জিনিস নিয়ে মাথা ঘামায়। আর ডানদিকটা লাগান বিপাশার কাজে, যেখানে র‍্যান্ডাম, ইনটিউটিভ, হলিস্টিক চিন্তাগুলো কাজ করে। এটা ফালতু কথা নয়, ইন্টারনেট খুলে দেখতে পারেন।”

 

প্রমথর ফাজলামি মাঝেমাঝে সীমা ছাড়িয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *