ম্যানহাটানের ম্যাডম্যান (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত
(২৬)
সোমবার জুন ৬, ২০১১
অশোকের মৃত্যু রহস্য সমাধান নিয়ে একেনবাবু ঠিক কোথায় আছেন জানি না। যেটা জানি, সেটা হল নানান জিনিস নিয়ে কারণে অকারণে মাথা ঘামাচ্ছেন। আমাকে সকালে বললেন, এশিয়া ইনস্টিটিউটের আকাহাশির সঙ্গে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে। এই রকম অনুরোধ একেনবাবু প্রায়ই করেন। ফোনে ওঁর কথা নাকি কেউ বুঝতে পারে না। প্রমথ এ ধরণের অনুরোধ রিফিউজ করে। বলে, “কী ভেবেছেন আপনি, আমি আপনার পার্সোনাল অ্যাসিস্টেন্ট? একেনবাবুর স্ট্যান্ডার্ড উত্তর, কী যে বলেন স্যার, আমার যা ইংরেজি, তার ওপর এই তো অ্যাকসেন্ট।’ আমি অবশ্য ওঁর অনুরোধ না রেখে পারি না। ওঁর এই সমস্যাটা প্রমথরও অজানা নয়, ফোনে অচেনা বিদেশীদের কিছু বোঝাতে উনি যা স্ট্রাগ্ন করেন, তাতে খারাপই লাগে! যেটা ভেবে পেলাম না, সেটা হল আকাহাশির সঙ্গে ওঁর হঠাৎ কী দরকার পড়ল? সেটা জিজ্ঞেস করতেই বললেন, “চলুন না স্যার, সব সময়েই কারণ থাকতে হবে নাকি?”
অর্থাৎ, উত্তর দেবেন না। কারণ ছাড়া উনি কিছু করেন বলে আমার মনে হয় না। মুশকিল হল আকাহাশিকে সন্ধে ছ’টার আগে পাওয়া গেল না। ওঁর সেক্রেটারি প্রথমে প্রায় ভাগিয়েই দিচ্ছিল। শেষে আমি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বলায় কিছুটা কাজ হল।
অশোক দুবের মৃত্যু নিয়ে আমার নিজের কাজ প্রায় মাথায় উঠেছিল। অনেক কষ্ট করে পেপারটা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। যেটুকু বাকি ছিল, সেগুলো বিকেলের মধ্যেই শেষ করলাম। সন্ধে ছ’টা নাগাদ আমরা তিনজনই হাজির হলাম আকাহাশির অফিসে।
আকাহাশি বোধহয় ভেবেছিলেন আমি একা আসছি, কারণ ওঁর সেক্রেটারিকে আসার কারণ (যা তখন নিজেই জানতাম না) বা ক’জন আসছি কিছুই জানাইনি। এখানে আসার পথে একেনবাবুর কাছে একটু হিন্ট পেলাম কী উনি জানতে চান।
.
তিনজনকে দেখে আকাহাশি একটু অবাক হলেন।
আমি নিজের পরিচয় দিয়ে প্রমথ আর একেনবাবুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম।
“কী ব্যাপার বলুন তো?” আকাহাশি প্রশ্ন করলেন।
কথোপকথন আমিই শুরু করলাম। “মিস্টার জন হেক্টার মারা গেছেন, আপনি কি খবরটা জানেন?”
“হ্যাঁ।”
“উনি ইন্ডিয়াতে গিয়েছিলেন আপনাদের এক্সিবিশনে যে বিষ্ণুমূর্তিটা ছিল –সে সম্পর্কে কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করতে।”
“এটা কিন্তু আমি জানতাম না।” প্রসঙ্গটাতে আকাহাশি একটু অসোয়াস্তি বোধ করছেন বুঝতে পারলাম।
“এ ব্যাপারে আপনার মতামত পত্রিকায় পড়েছি। আপনার মতে ওটা কম্বোডিয়ার, তাই তো?”
“মূর্তিটা যেখান থেকে এসেছে… তাদের যা দাবি, সেটাই আমি বলেছি।” আকাহাশি একটু সতর্ক হয়ে উত্তর দিলেন।
“তার মানে স্যার, আপনি নিজে শিওর নন।” এবার একেনবাবু মুখ খুললেন।
“যিনি আমাদের এক্সিবিট হিসেবে ওটা দিয়েছেন, তাঁকে সন্দেহ করার কোনও কারণ দেখিনি।”
“তিনি তো স্যার, বিপাশা মিত্র।”
“হ্যাঁ।”
“মূর্তিটা এখন কোথায়?”
“ধরে নিচ্ছি, ওঁর কাছেই আছে।”
“তাই নাকি? কিন্তু ওঁর প্রাইভেট মিউজিয়ামের কিউরেটর কিন্তু জানেন না সেটা কোথায়।”
আকাহাশি এবার একটু বিরক্ত হলেন। বললেন, “আপনার কি মনে হয় উত্তরটা আমি জানব?”
“আপনার এখান থেকেই তো প্যাক করে মূর্তিটা ম্যাডামের কাছে গিয়েছিল?”
“হ্যাঁ।”
“কিন্তু ম্যাডামের কাছে পৌঁছোয়নি।”
“মিস মিত্র কি আপনাকে সেটা খুঁজে বার করার দায়িত্ব দিয়েছেন?”
“না স্যার।”
“তাহলে এ নিয়ে আপনি এত মাথা ঘামাচ্ছেন কেন?”
“না স্যার, মাথা ঘামাচ্ছি না। শুধু ভাবছিলাম বিপাশা মিত্র আপনাদের একজন বড় পেট্রন, তাই না স্যার?”
“হ্যাঁ, এটা পাবলিক নলেজ। শুধু উনি নন, ওঁর বাবাও এই প্রতিষ্ঠানকে বহু অর্থ দান করেছেন।”
“ভেরি ইন্টারেস্টিং স্যার।”
“কী ইন্টারেস্টিং?” আকাহাশি একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন।
“না, না, স্যার, ওঁদের অর্থদানের কথা ভাবছি না। ভাবছি মূর্তিটা না পাওয়া গেলে তো তার অথেন্সিটি নিয়ে তর্কাতর্কির অর্থ হয় না।”
আকাহাশি চুপ। বোধহয় বোঝার চেষ্টা করলেন, একেনবাবু কোনদিকে এগোচ্ছেন।
“থ্যাঙ্ক ইউ স্যার” আকাহাশিকে একটু হতভম্ব করেই একেনবাবু উঠে পড়লেন।
আমি আকাহাশিকে ধন্যবাদ জানালাম আমাদের সময় দেওয়ার জন্যে। উনিও সৌজন্য দেখিয়ে কিছু একটা বললেন। সেটা শোনার আগেই একেনবাবু দরজার বাইরে চলে গেছেন।
.
আকাহাশির অফিস থেকে বেরিয়েই প্রমথ একেনবাবুকে চেপে ধরল, “আপনার মাথায় কী ঘুরছে বলুন তো? এতদিন তো অশোকের খুন নিয়ে মেতেছিলেন, সেইসঙ্গে বিপাশার ছবি বা স্ট্যাম্প যাই বলুন, সেই নিয়ে। এখন বিষ্ণুমূর্তি নিয়ে পড়লেন কেন? বিপাশা তো বলেইছে ওটা চুরি হয়নি!”
“রাইট স্যার।”
“রাইট যদি হয়, তাহলে ওই নিয়ে আকাহাশিকে খোঁচা দেওয়া কেন?”
“ঠিকই বলেছেন স্যার, আসলে আমার এই নীলাটাই গন্ডগোল করছে। মাঝেমাঝেই অদ্ভুত চিন্তা মাথায় আসে, নিজেরই গুলিয়ে যায়।”
“দয়া করে আর নীলার দোহাই দেবেন না, সোজাসুজি বলুন মাথায় কী ঘুরছে জানাবেন না। এদিকে তো আবার বলে বেড়ান আমরা আপনার অ্যাসোসিয়েট!”
“আপনি না স্যার, সত্যি! আমি কি ইচ্ছে করে কিছু লুকিয়ে রাখি? আমি নিজেই কনফিউসড। ভাবছিলাম, বিষ্ণুমূর্তিটা লুকোনো হল কেন? নিশ্চয় জন হেক্টারের ভয়ে।”
“সেটা এখন অবভিয়াস,” আমি বললাম। “জন হেক্টার যদি পত্রপত্রিকায় একটা অকাট্য প্রমাণ দাখিল করতেন, তাহলে আকাহাশি আর বিপাশা দুজনের পক্ষেই সেটা এমব্যারাসিং হত।”
“ঠিক স্যার, এখন আর সে সমস্যা রইল না।”
“আপনি কি বলতে চান, তার জন্যেই জন হেক্টারকে খুন করা হল? দ্যাট্স ননসেন্স!”
“রাইট স্যার, তাই আমি কনফিউসড।”
“হয়তো এই দুটো জিনিস কানেক্টেড নয়। হেক্টারকে খুন করা হয়েছে ওঁর ক্যামেরা, ল্যাপটপ এইসবের লোভে।”
“রাইট স্যার।”
“আপনি তো দেখছি আজ রাইট’ বলার মুডে আছেন!”
“কী আর বলব স্যার, আপনারা ‘রং’-তো কিছু বলছেন না।”
.
সাতটা প্রায় বাজে। একেনবাবু বললেন, “স্যার আপনার গাড়ি চড়ে একটু হোবোকেন যেতে পারি?”
“এখন? কোথায়?”
“যেখানে অশোকবাবুর ডেড বডি পাওয়া গিয়েছিল।”
“আবার ওখানে কী দেখবেন? পৌঁছতে পৌঁছতে তো রাত্রি হয়ে যাবে?”
সত্যি বলতে কি, এই রাতে ওখানে যেতে আমার এতটুকু ইচ্ছে করছিল না।
“একটা জিনিস স্যার আজ জানতে পারলাম ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্টের কাছ থেকে, কী করে ডেথের টাইমটা হোবোকেন পুলিশ বার করেছে।”
“কী জানলেন?”
“রাস্তায় ঢোকার মুখটা আটটা পর্যন্ত ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা ছিল একটা গ্যাসলিকের জন্যে। আটাটার পর খোলা হয়। পুলিশ বডিটা পায় রাত দশটা নাগাদ। রাস্তাটা ওয়ানওয়ে সেটা তো সেদিনই দেখলাম। তাই এটা লজিক্যাল স্যার যে খুনি গাড়ি নিয়ে আটটার পর ওই রাস্তায় ঢুকেছিল। খুন করে বডিটা ফেলে চলে যায়।”
“আপনি গিয়ে ওখানে কি দেখতে চান?”
“সেটা কি আগে থেকেই জানি স্যার? চলুন না, এক্ষুনি বাড়ি ফিরে কী হবে? ওখান থেকে ফেরার পথে কোথাও ডিনার খেয়ে নেব।”
“আপনি খাওয়াবেন?” প্রমথ জিজ্ঞেস করল।
“দেখছেন স্যার, কোথাও খাওয়ার কথা উঠলেই প্রমথবাবু আমাকে কি রকম চাপ দেন?”
“তার কারণ আপনি এই কাজে টাকা পিটছেন, আর আমরা ঘুরে মরছি।”
“ঠিক আছে, ঠিক আছে স্যার, খাওয়াব।”
.
যে গ্যারাজে আমার গাড়ি থাকে সেটা আকাহাশির অফিস থেকে অনেকটা দূরে। গ্যারাজে পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় পৌনে আটটা। বহু লোক দেখলাম দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির জন্যে। একজন মাত্র অ্যাটেন্ডেন্ট। সে একটা একটা করে গাড়ি আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বার করে আনছে। প্রায় পনেরো মিনিট লেগে গেল গাড়ি পেতে। যখন গাড়িতে উঠছি, তখন যাকে দেখলাম, তাকে এক্সপেক্ট করিনি। এক ঝলকের জন্যে, কিন্তু চিনতে অসুবিধা হল না– এড গুয়ান্সিয়াল। আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি ওর দৃষ্টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গাড়ি নিয়ে বেরোলাম। বেরোতেই প্রমথ ঘোষণা করল, “আগে খাব, তারপর যাব।”
বললাম, “একটু আগে বলতে পারলি না, এখন কোথায় পার্ক করব!”
“পার্কিং না পেলে, আবার গ্যারাজে ঢুকিয়ে দে।”
ভাগ্যক্রমে রাস্তাতেই একটা কার্বাইড পার্কিং পেয়ে গেলাম। সেখানে গাড়ি রেখে সামনেই দেখি একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। একেনবাবু মেনু দেখে খুব সন্তুষ্ট। বললেন, “চাইনিজরা খুব রিজনেবল স্যার।”
“ক’দিন আগেই তো মুণ্ডুপাত করছিলেন, চ্যাং লি লনড্রি আপনার কোটের বোতাম ছিঁড়ে দিয়েছিল বলে?”
“তা করেছিলাম স্যার। আসলে আমরা দোষে-গুণে মানুষ।”
.
খেয়েদেয়ে যখন বেরোলাম, তখন অন্ধকার হয়ে গেছে। আজকে গাড়ি নিয়ে বেরোব ঠিক ছিল না, জিপিএস-টা বাড়িতে ফেলে এসেছি। সুতরাং কোনো গাইডেন্স সিস্টেম নেই। হোবোকেনে পৌঁছে রাস্তাটা খুঁজে বার করতে গিয়ে পথ হারালাম কয়েকবার। তখনই মনে হল একটা গাড়ি আমাদের পিছু নিয়েছে। ডাইনে বাঁয়ে যেদিকেই যাই, ছিনে জোঁকের মতো লেগে আছে। “সামথিং ইজ নট রাইট,” আমি একেনবাবু আর প্রমথকে বললাম। “আমাদের কেউ ফলো করছে!”
“কী বলছিস যা-তা!” প্রমথ একটা ধমক লাগাল।
“আমি গাড়ি চালাচ্ছি, আমি বুঝব না! একই হেডলাইট দেখতে পাচ্ছি।”
“কে ফলো করবে?” প্রমথ মুখ ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করল।
“গ্যারাজ থেকে যখন গাড়ি বার করছিলাম, এড গুয়ান্সিয়ালকে দেখেছিলাম।”
“তাতে হয়েছেটা কী?” প্রমথ অনেক সময় বেশি সাহসী ভাব দেখায়। এর উত্তর দেওয়া নিষ্প্রয়োজন।
“গাড়িটা স্যার রাস্তার ধারে দাঁড় করান না, তাহলে বুঝবেন সত্যি সত্যি ফলো করছে। কিনা।”
“ক্ষেপেছেন, লোকটা নির্ঘাত এড বা ওর গুণ্ডা দলের কেউ। আমি আর হোবোকেনে ঘুরছি না সোজা লিঙ্কন টানেল ধরে ম্যানহাটানে যাচ্ছি।” কথাটা বললাম ঠিকই, কিন্তু টেনশনে আমি এখন কোথায় আছি নিজেই জানি না। একবার ডানদিকে ঢুকছি, একবার বাঁদিকে ঢুকছি। রাস্তাগুলো সরু সরু, গোটা অঞ্চলটাই নির্জন দোকানপাট কিছু নেই। পেছনের গাড়িটা চুম্বকের মতো লেগে আছে। গাড়ি আস্তে করলে, আস্তে করছে, জোরে চালালে দ্রুত পিছু নিচ্ছে। অন্ধকারের মধ্যেও আশেপাশে যেটুকু নজরে আসছে, তাতে বুঝতে পারছি একই জায়গায় চক্কর খাচ্ছি। কিন্তু মাথা স্থির করে গোলোকধাঁধা থেকে বেরোতে পারছি না। হঠাৎ একটা বড় রাস্তার জাংশন দেখেই দ্রুত গতিতে গাড়ি ঘোরালাম। সঙ্গে সঙ্গেই পেছনের গাড়ির উপরে লাল-বাতি চক্কর খেতে শুরু করল। পুলিশের গাড়ি!
গাড়ি দাঁড় করাতেই, একটা দশাসই চেহারার লোক গাড়ি থেকে নেমে এসে মুখে টর্চ ফেলল। তারপর জানলার কাঁচে টোকা দিয়ে কাঁচটা নামাতে বলল। চোখের ওপর তখনো টর্চ, একটা গম্ভীর গলা কানে এল, “লাইসেন্স এন্ড রেজিস্ট্রেশন।”
উচ্চবাচ্য করে দিলাম। সেটা নিয়ে হাতে ধরা কম্পিউটারে কী সব পাঞ্চ করে পুলিশটা বলল, “কোথায় যাচ্ছিলে?”
দেখলাম এখানে সত্যি কথা বললে বিপদ। “ভুল করে এখানে ঢুকে পড়েছি, লিঙ্কন টানেল খুঁজছিলাম।”
“তুমি স্টপ সাইনে থামনি।” বলে খসখস করে একটা ট্র্যাফিক টিকিট লিখল। তারপর আরও বার কয়েক টর্চ দিয়ে প্রমথ আর একেনবাবুকে দেখল। ভাগ্যিস আমরা মদ্যপান করিনি, তাহলে আরও ফ্যাচাং হত। টিকিটটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল। “এই রাস্তা দিয়ে সোজা চলে যাও, টানেলের সাইন পাবে।”
.
জীবনে এই প্রথম ট্র্যাফিক টিকিট পেয়ে তেমন খারাপ লাগল না, ভাগ্যিস আমাদের ফলো করছিল পুলিশ, এড বা ডট বাস্টার টাইপের কোনো গ্যাং নয়! এই অচেনা জায়গায় ওদের পাল্লায় পড়লে কী হত ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
পুলিশ চলে যেতেই গাড়ি স্টার্ট করলাম। ঠিক এমন সময় একেনবাবুর নতুন মোবাইল বেজে উঠল।
“হ্যালো… হ্যাঁ স্যার।” অন্যপক্ষের কথা শুনতে পাচ্ছিলাম না। তবে একেনবাবুর মুখ দেখে বুঝতে পারছিলাম তিনি যথেষ্ট অবাক। শেষে বললেন, “বলেন কি? মিস্টার এডের লকারে পাওয়া গেছে? কংগ্রাচুলেশনস স্যার, ভেরি ইন্টারেস্টিং ডেভালপমেন্ট… থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।”
“কী ব্যাপার?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“এড গুয়ান্সিয়ালকে গতরাত্রে পুলিস ধরেছে একটা ইললিগ্যাল গ্যাম্বলিং জয়েন্ট থেকে। আজ সকালে ওঁর লকার থেকে পুলিশ একটা সিন্ধ ডাক স্ট্যাম্প পেয়েছে। এড অবশ্য বলছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। দোষীরা যেটা সবসময়েই বলে থাকে।”
প্রমথ আমাকে বলল, “তুই একটা স্টুপিড, একটু আগে কী করে এডকে দেখলি, আর সেই ভয়ে উলটোপালটা গাড়ি চালালি?”
কী আর বলব, একটু আগে ফোনটা এলে এই টেনশনটা হত না, টিকিটও হয়তো পেতাম না।
“যাক, অশোকের মৃত্যুর সমস্যাটা মনে হচ্ছে মিটে গেল,” প্রমথ বলল। “এবার এডকে চাপ দিয়ে বার করুন ফটোটা সে কোথায় ফেলেছে? তারপর সেটা নিয়ে বিপাশার কাছে বুক ফুলিয়ে কিছু টাকা দাবি করুন। একেই বলে ঝড়ে বক পড়ে আর ফকিরের কেরামতি বাড়ে।”
একেনবাবু চুপ।
