শান্তিনিকেতনে অশান্তি (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত
আঠেরো
বাড়িতে ফিরে প্রথম কাজ হল সুভদ্রামাসিকে ফোন করে এদিকের খবর জানানো। যদিও জানাবার বিশেষ কিছুই ছিল না। একেনবাবু একবার সুভদ্রামাসির সঙ্গে একটু কথা বলতে চান। আগামিকাল বিকেলে যেতে পারি নাকি জানতে চাইলাম। সুভদ্রামাসি বললেন বাড়িতে থাকবেন। আমি আর একেনবাবু পরের দিন বিকেল ছটা নাগাদ রওনা দিলাম। প্রমথর কাজ ছিল বলে আসতে পারল না। ফ্রান্সিস্কাও বাইরে কোথায় গেছে।
রাস্তায় বহু গাড়ি, অফিস টাইমের ভিড় তখনও কাটেনি। কিন্তু ভাগ্যক্রমে জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজে জ্যাম ছিল না। তাই সুভদ্রামাসির বাড়িতে সাতটার একটু আগেই পৌঁছে গেলাম।
বেল বাজাতেই সুভদ্রামাসির গলা শুনলাম, “দরজা খোলা, তোমার এসো।” সুভদ্রামাসি বাড়িতে একাই ছিলেন। সুভদ্রামাসির কুক-কাম-হাউসকিপার সুজাতা বাজারে গিয়েছেন তরি-তরকারি কিনতে। পাছে সুভদ্রামাসিকে আমরা এলে উঠতে হয়, তাই দরজা লক করে যাননি।
আমরা ঘরে ঢুকতেই বললেন, “সুজাতা আসুক, তারপর তোমাদের চা করে দেবে।”
“ওসব নিয়ে ভেব না,” আমি বললাম। “তুমি কেমন আছো?”
সুভদ্রামাসি সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলেন না। বুঝলাম নিজেকে একটু সামলাবার চেষ্টা করছেন। তারপর আস্তে আস্তে বললেন, “ভেবেছিলাম শরীর-মন দুটোই পাথর হয়ে গেছে, অনেক ধকলই তো সইতে হয়েছে জীবনে। কিন্তু দেখলাম এখনও হয়নি।”
সুভদ্রামাসির পাশের চেয়ারে একেনবাবু বসলেন। ঘরের কোনায় একটা শান্তিনিকেতনী মোড়া ছিল। সেটা তুলে এনে আমি সুভদ্রামাসির আরেক পাশে বসলাম। সুভদ্রামাসি ওঁর হাতটা আমার হাতের উপর রেখে জিজ্ঞেস করলেন, “প্রমথ আর ফ্রান্সিস্কা এল না?”
“ওরা কোথায় জানি গেছে।”
সুভদ্রামাসি চুপ করে রইলেন।
নিরবতা ভেঙ্গে একেনবাবু বললেন, “মাসিমা, দুয়েকটা কথা ছিল আপনার সঙ্গে?”
সুভদ্রামাসি বুদ্ধিমতী। জিজ্ঞেস করলেন, “রোহিত সম্পর্কে?”
একেনবাবু অনুচ্চস্বরে বললেন, হ্যাঁ, মানে আপনার যদি এখন বলতে অসুবিধা না হয়।”
“অসুবিধা কিছুই নেই, তবে মনটা বিক্ষিপ্ত –গুছিয়ে কি সব কিছু বলতে পারব!”
“একেনবাবু নিউ ইয়র্ক পুলিশকে এ ব্যাপারে সাহায্য করছেন,” আমি একেনবাবুর প্রশ্নের কারণটা বিশদ করলাম।
“সে আমি বুঝতে পারছি,” সুভদ্রামাসি বললেন। “কী জানতে চাও তুমি?”
“রোহিত সম্পর্কে যা জানেন, তাই বলুন। মানে আপনার সঙ্গে তো বহুদিনের পরিচয় –অনেক কিছুই আপনি জানেন ওঁর সম্বন্ধে।”
সুভদ্রামাসি আবার খানিকক্ষণ চুপ করে রইলেন। “এতদিনের পরিচয় বলেই সব কিছু এলোমেলোভাবে মনে পড়ছে।”
“যেভাবে খুশি আপনি বলুন মাসিমা। বুঝতে না পারলে, আমি প্রশ্ন করব।”
সুভদ্রামাসি শুরু করলেন, “রোহিত রিচার্ডের ছাত্র ছিল। তবে রোহিতকে আমি চিনি তার অনেক আগে থেকে। ও যখন হাইস্কুলে পড়ে তখনই ওর বাবা-মার সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়। রোহিতের বাবা মোহিত রিচার্ডেরই সমবয়সি, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। মা হিলডা কাজ করত কোনো একটা ব্যাঙ্কে। আমাদের সঙ্গে মোহিত আর হিলডার বেশ বন্ধুত্বই গড়ে উঠেছিল। রোহিত স্কুলের পরে অনেক সময়ে আমার কাছে চলে আসত। রোহিত যে বছর হাইস্কুল পাশ করল, সেই বছরই রোহিতের বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন। তারপর কী যে হল, রোহিতকে নিয়ে হিলডা হঠাৎ জার্মানি চলে গেল। আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই রাখল না।
রোহিত বছর দুই বাদে ফিরে এসে যেদিন কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ঢোকে, সেদিনই রিচার্ডের সঙ্গে দেখা হয়। রিচার্ডের বকাবকি খেয়েই বোধ হয় আবার যোগাযোগ করে। রোহিত আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পাশ করার পর রিচার্ডই ওকে অ্যাসিস্টেন্টশিপ দেয়, অ্যান্থপলজি-তে মাস্টার্স করার জন্যে। ১৯৯২, অর্থাৎ প্রায় বছর দশেক আগের কথা বলছি। রোহিতের বয়স তখন কত হবে, বছর চব্বিশেক। পড়াশোনায় মেধাবী ছিল রোহিত, রিসার্চের কাজও মন দিয়ে করত, কিন্তু হঠাৎ কী যে ভূত মাথায় চাপল। সব কিছু ছেড়েছুঁড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।”
“অদৃশ্য!”
“হ্যাঁ, নেপালে না কোথায় তিনমাসের জন্য চলে গেল। ওর মাস্টার্স থিসিসটা তখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল! সেই যে গেল, কোনো সাড়াশব্দ নেই! পরে জেনেছিলাম একটা ট্র্যাভেল ম্যাগাজিনের কাছ থেকে নামমাত্র টাকা নিয়ে নেপালের নানান জায়গায় ছবি তুলতে গিয়েছিল। নেপাল থেকে ফিরে রোহিত আমাদের সঙ্গে দেখাও করেনি। এর ওর মুখে শুনেছিলাম ওখান থেকে ড্রাগের নেশা নিয়ে এসেছে। রোহিতের এক বান্ধবী ছিল সেইসময়ে। ইজিপ্টের মেয়ে ফতেমা। সেও পড়াশুনো ছেড়ে ড্রাগ-অ্যাডিক্ট হয়ে গেল। তারপর ঘটল একটা দুর্ঘটনা। রোহিত আর ফতেমা বেয়ার মাউন্টেনে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে একটা টিলার উপর থেকে পড়ে ফতেমা মারা গেল। পুলিশ কারোর বিরুদ্ধে চার্জ আনেনি। ফতেমার দাদা আব্দুল বস্টনে থাকত। সে একদিন নিউ ইয়র্কে এসে রোহিতকে কোনো একটা বার-এ হঠাৎ ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে। রোহিতকে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। খুনের চেষ্টা করেছিল বলে পুলিশ আব্দুলের বিরুদ্ধে কেস আনে। বিচারে আব্দুল বছর পনেরোর জেল হয়। এই ঘটনাটাই রোহিতের জীবনের মোড় আবার ঘুরিয়ে দেয়। ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে গিয়ে নিজেকে নেশামুক্ত করে। ছবি তোলাটাকে আরও সিরিয়াসলি নিয়ে একটা অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এজেন্সিতে কাজ নেয়। রিচার্ডের সঙ্গেও আবার ওর যোগাযোগ হয়। এবার আর ছাত্র হিসেবে নয় –বন্ধু হিসাবে। ধীরে ধীরে রিচার্ডের, পরে নতুন করে আমারও একজন আস্থাভাজন স্নেহের পাত্র হয়ে ওঠে।”
“নেপালে যাবার কতবছর পরে আবার আপনাদের যোগাযোগ হয়?” একেনবাবু প্রশ্ন করলেন।
“তা প্রায় আড়াই বছর হবে।”
“ঠিক আছে মাসিমা, বলুন।”
“আরেকটা ঘটনাও মনে পড়ছে। রোহিতের রিসার্চের কাজ চুরি করে টম ক্যাসিডি নামে একটি ছেলে তোমাদের নিউ ইউর্ক ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স প্রোগ্রামে থিসিস জমা দেয়। ঘটনাচক্রে সেই থিসিস রিচার্ডের নজরে আসে। পরে রোহিত দেখে শুধু চুরি নয়, হুবহু চুরি। ওর ডেটা, ওর অ্যানালিসিস –এমনকি ওর লেখা সেন্টেন্সগুলো পর্যন্ত টম ক্যাসিডি ব্যবহার করেছে। রোহিত তখন ওর পুরোনো কম্পিউটার থেকে ডেটা-ফাইল আর লেখাগুলো নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে জমা দেয়। যদুর আমার মনে পড়ছে, টম ক্যাসিডিকে এর পর স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।”
“এই টম ক্যাসিডি এখন কোথায় আছে জানেন?”
“আমার কোনো ধারণাই নেই।”
“রোহিতের এখনকার বান্ধবীর নাম বা যোগাযোগের ঠিকানা আপনি জানেন কি?”
“না, লন্ডনে ওর একটা বুটিক শপ আছে –এইটুকুই জানি। নাম আইলিন স্মিথ। ওকে নিয়ে কয়েকবার এসেছে আমার কাছে। ভারি মিষ্টি মেয়ে।”
এরপর আরও এলোমেলো অনেক কথা হল। একেনবাবু বেশ কিছু প্রশ্ন করলেন, কিন্তু আমার খুব একটা রেলেভেন্ট মনে হল না। একেনবাবু সুভদ্রামাসির জিনিওলজির অ্যালবাম আর রিচার্ডমেসোর নোটবুকটা ফেরত এনেছিলেন। সেটা গাড়িতে ফেলে এসেছিলেন। গাড়ি থেকে এনে সুভদ্রামাসির হাতে দিতে, হঠাৎ সুভদ্রামাসি চোখ দিয়ে জল পড়তে শুরু করল। আমি আর একেনবাবু দুজনেই ঠিক কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
সুভদ্রামাসি নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, “হঠাৎ মা’র কথা ভীষণ মনে পড়ল। আমাদের বিয়ের পর বাবার আপত্তিতেই মা আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখতে পারেননি। কিন্তু বাবুর মৃত্যুর খবর পেয়েই মা একটা চিঠি লিখেছিলেন। রোহিত আমার ছেলে নয়, কিন্তু ওকেও আমি ছেলের মতোই দেখতাম। আজ তাই সকাল বেলায় রোহিতের খবর পেয়ে মা’র পুরোনো চিঠি পড়ছিলাম।” মাসিমা টেবিলে বইয়ের মধ্যে গোঁজা একটা পুরোনো চিঠি বার করে দেখালেন।
নলিনী দিদিমার সেই সুদীর্ঘ চিঠি আমাদের পড়ার জন্য সুভদ্রামাসি দেননি। কিন্তু তাও আমি আর একেনবাবু কয়েকলাইন পড়ার ভান করলাম। এ অবস্থায় কি যে বলা ঠিক, আমার মাথায় খেলছিল না।
একেনবাবু বললেন, “মাসিমা আপনার মা ছিলেন গ্রেট লেডি। আপনিও তাঁরই সুযোগ্য সন্তান। আমি আর কি বলব, আপনার কাছ থেকে আমাদের শেখা উচিত শোক কী ভাবে নিতে হয়।”
আমার এই প্রথম মনে হল বাঁচাল হবার সুবিধা আছে! সুভদ্রামাসি চুপ করে রইলেন।
আমি বললাম, “এবার উঠি সুভদ্রামাসি।”
“উঠবে? ও হ্যাঁ, ঠিক আছে এসো।”
আমরা উঠে যাচ্ছি, সুভদ্রামাসিও দেখলাম উঠে আমাদের পেছন পেছন আসছেন।
একেনবাবু ব্যস্ত হয়ে বলে উঠলেন, “মাসিমা, আপনি আসছেন কেন?”
একথা শুনে সুভদ্রামাসি হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে কেমন যেন হয়ে গেলেন। আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে ওঁর হাত ধরলাম, তারপর ওঁকে ধরে ধরে নিয়ে আবার চেয়ারে বসিয়ে দিলাম। ঠিক এই সময়েই সুজাতা বাড়িতে ফেরায় আমরা খানিকটা নিশ্চিন্ত হয়ে বেরোলাম।
সুভদ্রামাসির বাড়ি থেকে ফেরার পথে আমরা অনেক্ষণ চুপ করে রইলাম। ওঁর কান্না ভরা মুখটা বারে বারে মনের মধ্যে ফিরে আসছিল। খানিকটা আত্মগতভাবেই আমি বললাম, “আজ ফ্রান্সিস্কা এলে সুভদ্রামাসির ভালো লাগত। মেয়ের মতো স্নেহ করেন ওকে।”
একেনবাবু কোনো মন্তব্য করলেন না। খানিক বাদে আমায় প্রশ্ন করলেন, “মাসিমার কথা থেকে কি বুঝলেন আপনি?”
আমি বললাম, “অন্ততঃ দু’জন লোক আছে, যাদের রোহিতকে খুন করার মোটিভ থাকতে পারে।”
“দু’জন কেন বলছেন স্যার?”
“কেন টম ক্যাসিডির কেরিয়ার তো রোহিতের জন্য নষ্ট হল।”
“মিস্টার রয়তো নষ্ট করেননি। ক্যাসিডিই চুরি করেছিলেন।”
“তা হোক, কিন্তু রোহিতের জন্যেই তো কলেজ ক্যাসিডিকে তাড়াল –যদিও এতদিন রাগ পুষে রাখাটা অস্বাভাবিক।”
“আপনি ঠিকই বলেছেন স্যার।”
“আব্দুলের ব্যপারটা স্বতন্ত্র। কেউ যদি বিশ্বাস করে একজন তার বোনের মৃত্যুর জন্য দায়ী, সেই রাগ সে আজীবন পুষে রাখতে পারে। কী বলেন, পারে না?”
“পারে বইকি স্যার। প্রশ্ন হল, অপরচুনিটি বা সুযোগ স্যার। মোটিভ আছে, কিন্তু খুন করার সুযোগ কি আছে?” একটু অন্যমনস্ক ভাবেই মনে হল কথাটা একেনবাবু বললেন। তারপর হঠাৎ বললেন, “স্যার আপনার মোবাইলটা একটু ব্যবহার করতে পারি?” মোবাইলটা নিয়ে ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্টকে ফোন করলেন একেনবাবু। আব্দুল আর টম ক্যাসিডির খোঁজ নিতে বললেন।
.
পরদিন কলেজ থেকে এসে আরও কয়েকটা নতুন খবর একেনবাবুর কাছ থেকে জানলাম। পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে নেই। বেশ কিছু তথ্য উদঘাটিত হয়েছে রোহিত রয়ের সম্পর্কে। সুভদ্রামাসির কাছ থেকে রোহিতের যে ছবিটা আমরা পেয়েছিলাম, সেটা পজিটিভ লাইটে। পুলিশ সবকিছু দেখেছে একটা সন্দেহের চোখ নিয়ে। রোহিতের ‘বান্ধবী আইলিন মিষ্টি হতে পারে, কিন্তু ড্রাগ অ্যাডিক্ট। ইললিগ্যাল ড্রাগ থাইল্যান্ড থেকে পাচার করার জন্য বার দুই জেল খেটেছে। রোহিতের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব এখনও টিকে আছে কিনা, সে সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত নয়। আইলিন দুদিন আগে নিউ ইয়র্কে এসেছে। কিন্তু রোহিতের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের গার্ডরা এর মধ্যে আইলিনকে দেখেনি। সবাই আইলিনকে ভালো করে চেনে, রোহিতের অ্যাপার্টমেন্টে বহুবার এসে থেকেছে। যদি কোনো কারণে রোহিতের সঙ্গে আইলিনের ছাড়াছাড়ি হয়ে থাকে, তাহলে জানা দরকার কারণটা কী? রোহিত কি অন্য কোনো নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ট হয়েছে? সেটা জেনেই আইলিন ছুটে এসেছে আমেরিকাতে! ব্যর্থ প্রেমের পরিণতি অনেক সময়েই সাংঘাতিক হয়।
আরেকটা দিকও পুলিশ দেখছে। সে দিক একটু পঙ্কিল। পুলিশের সন্দেহ রোহিত একটা ব্ল্যাকমেইলিং গ্রুপের সঙ্গে ছিল। এরা টার্গেট করত বড়োেলোক ও সেলিব্রেটিদের। তাদের দুষ্কর্মের ছবি বা ভিডিও পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখাত। অনেক সময়ে প্রতারণার আশ্রয়ও নিত। যেমন, যখন ওরা আঁচ করতে পারত কোথাও ফষ্টিনষ্টি চলছে, কিন্তু অশালীন অবস্থায় ছবি তোলার সুযোগ মিলছে না। তখন সেই জায়গার ছবি আলাদা করে তুলে, পাত্রপাত্রীদের সাধারণ ছবি থেকে কম্প্রোমাইজিং পজিশনের ছবি ডিজিটালি রি-কনস্ট্রাক্ট করে সেই জায়গায় তারা বসিয়ে দিত। দুষ্কর্ম করে থাকলে অনেক সময়েই এই ধরণের ছবি দেখে লোকেরা ভয় পেয়ে যেত! রোহিত জড়িত ছিল এই ডিজিটাল রিকনস্ট্রাকশনের ব্যাপারে।
পুলিশ এই অ্যাঙ্গেলটার কথা আগে ভাবেনি। কিন্তু একটা উড়ো ফোন পেয়ে রোহিতের কম্পিউটার থেকে এই ধরণের দুয়েকটা ছবি আবিষ্কার করেছে। অসম্ভব নয় যে এই দলের সঙ্গেই কোনো কারণে বনিবনা না হওয়ায়, রোহিতকে প্রাণ দিতে হয়েছে। যাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে বা করার চেষ্টা হচ্ছে –সেও সুযোগ পেয়ে এই কাজ করতে পারে। এরকম বহু ধরণের সম্ভাবনাই চিন্তা করা যেতে পারে।
আব্দুল সম্পর্কেও কিছু তথ্য পুলিশ পেয়েছে! গুড কন্ডাক্টের জন্য আব্দুল জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে কয়েক মাস আগে। ইমিগ্রেশন অথরিটি সম্ভবত ইতিমধ্যেই ওকে ডিপোর্ট করে দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত টম ক্যাসিডির কোনও খোঁজই পাওয়া যায়নি।
