নিনিকুমারীর বাঘ (ঋজুদা) – বুদ্ধদেব গুহ
ছয়
এখন সকলেই কুচিলা খাঁই বাংলোর বারান্দাতে। আমি শুয়েছিলাম ইজিচেয়ারে। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল সারা শরীর। এখুনি রওনা হয়ে চলে যাব। আমারই চিকিৎসার জন্যে।
চিৎকারে কারও কথাই শোনা যাচ্ছে না। বিশ্বল সাহেব, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট, বলভদ্র সাহেব, ডাক্তার, নার্স, অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ি, অনেক জিপ, প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে আছে। আর সমুদ্রর মত গর্জন করছে অসংখ্য মানুষ। উল্লাসের গর্জন। কিছু কানে যাচ্ছে আমার, কিছু যাচ্ছে না। ঘোরের মধ্যে আছি। মরে যাব কি?
ঋজুদা বলভদ্রবাবুকে দেখিয়ে বললেন, ইনি তোকে বাঁচিয়েছেন। ঐরকম ঝুঁকি নিয়ে তোর ওপরে পড়া বাঘের কানে রাইফেলের নল ঠেকিয়ে গুলি না করলে তোর বাঁচার কোনো আশা ছিল না। আমি ঘোরের মধ্যেই হাসবার চেষ্টা করে বলভদ্রবাবুকে বললাম, থ্যাংক উ্য।
তারপর বললাম, তুমি কোথায় ছিলে? কী করছিলে ঋজুদা? তুমি গুলি করলে না কেন?
ঋজুদা আমার বাঁ কাঁধে হাত দিয়ে বলল, পরে বলব।
তাকিয়ে দেখলাম, রাসকেল ভটকাই! চোখদুটো চোরের মত। লজ্জায় আমার দিকে তাকাতেও পারছে না।
আমি ক্ষমা করে দিলাম। দোষটা ওর নয়। ঋজুদার ওকে নিয়ে যাওয়া উচিত হয়নি।
তারপর ভাবলাম, আসল দোষ তো আমারই, ওকে আমি যদি ঋজুদার ঘাড়ে জোর করে না চাপাতাম তবে তো….।
অ্যাম্বুলেন্সে আমাকে তুলল ওয়ার্ডবয়রা। ইজিচেয়ারে শুইয়ে স্যালাইনের নলের আর রক্তের নলের ছুঁচ লাগানো হল হাতে। অ্যান্টিসেপটিক-এর তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ। সাঙ্ঘাতিক ব্যথা। কে যেন বলল, তাড়াতাড়ি কর। গ্রাংগিন সেট করে যাবে নইলে। হাত কেটে বাদ দিতে হবে। আমার ডান হাত। যে হাত দিয়ে আমি লিখি। দু চোখ ভরে এল জল।
অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দিল। ঋজুদা আমার পাশে বসে। অন্য পাশে নার্স। অগণিত মানুষের আনন্দ উচ্ছ্বাস পেছনে ফেলে অ্যাম্বুলেন্স এবং জিপ ও গাড়ির কনভয় এবারে নির্জন পথে এসে পড়ল। অ্যাম্বুলেন্সের জানলা দিয়ে দেখতে পাচ্ছি নীল আকাশে ঝকঝক করছে প্রথম শীতের রোদ্দর। গাছ গাছালি ঝুঁকে পড়েছে দু পাশ থেকে। বড্ড ঘুম পাচ্ছে। তবু নিনিকুমারীর বাঘ যে শেষপর্যন্ত মরল, এই আনন্দেই হয়ত বেঁচে যাব।
এখুনি কি মরতে হবে আমাকে? আরও কত বন-পাহাড়ে যাবার ছিল! আরও কত বিপদের মুখোমুখি হওয়ার ছিল। কত অভিজ্ঞতা বাকি রয়ে গেল। একটাই তো জীবন!
মায়ের মুখটা ভেসে এল চোখের ওপরে।
যন্ত্রণার জন্যে বোধহয় ঘুমের ওষুধ দিয়েছিল। যখন ঘুম ভাঙল তখন কটা বাজে, কী বার কিছুই বোঝার উপায় ছিল না।
চোখ খুলেই দেখলাম ঋজুদা আর ভটকাই বসে আছে আমার পায়ের দিকে, দুটো চেয়ারে। আমি চোখ খুলতেই ভটকাই মুখ ভ্যাটকাল।
ঋজুদা বলল, তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে নে। জখম সামান্যই। বাঘ আসলে তোর গুলি খেয়েই মরে গেছিল। তোর ডান কাঁধে থাবার একটা অংশ শুধু লেগেছিল। অবশ্য বাঘের থাবা বলে কথা। বলভদ্রও গুলিটা করেছিল মোক্ষম মুহূর্তে। ওর সঙ্গে আগে মোলাকাৎ হলে আমাদের সুবিধা হত।
নার্স ঘরে এলেন। বললেন, আমাকে দাঁত মাজতে, মুখ ঘোয়াতে এসেছেন। তারপর ড্রেসিং করে ব্রেকফাস্ট দেবেন। ঋজুদারা গতকাল থেকে এখানেই আছে সার্কিট হাউসে। বামরা হয়ে এসেছি আমরা ঝাড়সুগুদাতে।
বাথরুম সেরে ব্রেকফাস্টও খেয়ে নে। আমরাও আসছি ব্রেকফাস্ট সেরে। ঋজুদা বলল। আমরা থাকলে তোর বেড প্যান নিতে অসুবিধে হবে।
আমি বললাম, নিনিকুমারীর বাঘ তাহলে ভটকাই-এরই হল!
ঋজুদা হাসল। বলল, হিংসে হচ্ছে?
–না। আমি বললাম।
ভটকাই বলল, আমরা ব্রেকফাস্ট খেয়েই ফিরে আসছি।
আমার খুব খুশি খুশি লাগছিল। সকালের রোদ এসে পড়েছে ঘরে। হাসপাতালের হাতায় বড় একটা নিম গাছ। নানা পাখি কিচিরমিচির করছে তাতে। হেমন্তর রোদ ঝিলমিল করছে পাতায় পাতায়। মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গেছিলাম। এখনও চোখ খুললেই বাঘের মুখটা দু-চোখ জুড়ে ভেসে উঠছে। জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে ফাঁক অতি সামান্যই। এমন করে না জানলে সে কথা হয়ত কখনই বুঝতাম না।
নার্স আমার ড্রেসিং করতে করতেই সুপারিনটেণ্ডিং সার্জনের সঙ্গে ঋজুদা আর ভটকাই ফিরে এল। সঙ্গে আরও তিন-চারজন ডাক্তার, মেট্রন। ডাক্তারদের মধ্যে একজন আমাকে ইনজেকশন্ দিলেন। নার্সের কাছ থেকে চেয়ে ওষুধের লিস্ট, টেম্পারেচারের চার্ট দেখলেন মেট্রন। সুপারিনটেণ্ডিং সার্জন বললেন, দিন পনেরো থাকতে হবে। দেখতে দেখতে কেটে যাবে দিন। বেস্ট অফ লাক।
ওঁরা ঘর ছেড়ে চলে যেতেই আমি ঋজুদাকে শুধোলাম, সার্জন বেস্ট অফ লাক বললেন কেন?
ঋজুদা পাইপটা মুখ থেকে নামিয়ে একবার কাশল, তারপর চেয়ার টেনে বসল। ভটকাইও চেয়ারে বসে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল যাতে আমার চোখে চোখ না পড়ে। বুঝতে পারলাম কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। কোনো কথা গোপন করতে চাইছে ঋজুদারা আমার কাছ থেকে। ঋজুদার চোখের দিকে তাকিয়ে শুধোলাম, কলকাতার খবর সব ভাল?
মাথা হেলিয়ে ঋজুদা বলল, ভাল।
তারপর আবার পাইপ টানতে লাগল।
ভটকাইকে বললাম, কনগ্রাচ্যুলেশনস ভটকাই। কাগজে তোর ছবি বেরয়নি? শিকারে এসে রংরুট শিকারি অ্যাকাউন্ট-ওপেন করল বিভীষিকা-জাগানো মানুষখেকো বাঘ দিয়ে!
ভটকাই টাগরায় জিভ দিয়ে চুক-চুক করে শব্দ করল একটা। বলল, ব্যাপারটা গুবলেট হয়ে গেছে। যা ভাবছিস তা নয়।
বিছানাতে উঠে বসতে গেলাম উত্তেজিত হয়ে এবং উঠতে গিয়েই বুঝলাম যে ডানহাতের চোটটা বেশ ভালই। কত টিস্যু, নার্ভ আর ফিলামেন্ট যে ছিঁড়েছে তা ডাক্তাররাই জানেন! আবার শুয়ে পড়লাম। নার্স বললেন, ওঠাউঠি একদম চলবে না। ঘা শুকোতে তাহলে সময় বেশি লাগছে। বাঘের থাবা খেয়ে মানুষ বাঁচে না। আপনার বরাত ভাল।
ঋজুদা সায় দিয়ে বলল, নিশ্চয়ই ভাল। কোনো সন্দেহ নেই।
নার্স বললেন, আমি একটু আসছি।
–হ্যাঁ। আমরা আছি তো।
দশ মিনিটের মধ্যেই আসছি। তারপর আপনাদের চলে যেতে হবে। আমি পেশেন্টকে ঘুমের ওষুধ দেব।
নার্স চলে যেতেই ঋজুদা বলল, ভটকাই অ্যাকাউন্ট ওপেন করেছে বাঘ দিয়েই, সন্দেহ নেই, কিন্তু নিনিকুমারীর বাঘ মারা পড়েনি।
আবারও আমি উঠে বসতে গেলাম এবং আবারও শুয়ে পড়লাম।
বললাম, কী বলছ! আমি যে নিজের চোখে দেখলাম বাঘের পায়ের দাগ, শিকার-গড়ের নহবতখানাতে তার শুয়ে থাকার চিহ্ন।
–ঠিকই দেখেছিস।
তবে?
মনে হয়, নিনিকুমারীর বাঘ নহবতখানা থেকে নেমে শিকার-গড় ছেড়ে বিটারদের লাইনের সমান্তরালে হেঁটে তাদের নজরের বাইরে চলে গেছিল তারপরেই। এরকম ধূর্ত বাঘ খুবই কমই দেখেছি।
–তবে ঐ বাঘটা কোথা থেকে এল?
–এল। তবে কোত্থেকে তা বলতে পারব না। তোকে নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়তে হল যে তার খবর আর নিতে পারিনি। আগে কুচিলাখাঁইয়ের বাংলোতে ফিরি। তারপর আবার তার খোঁজ নেওয়া যাবে।
–এ কী পি. সি. সরকারের ম্যাজিক নাকি?
–প্রায় সেরকমই ব্যাপার।
ঋজুদা বলল।
এদিকে সবাই যে ভাবল নিনিকুমারীর বাঘ মারা পড়েছে। লোকেরা যে অসাবধানী হয়ে যাবে। বাঘ তো পটাপট মানুষ মারবে।
মেরেছে।
মুখ নিচু করে ঋজুদা বলল। তুই এরকম আহত না হলে প্রথমেই বাঘটাকে পরীক্ষা করতাম ভাল করে। বাঘের দিকে তাকাবার সময়ই পাইনি তখন। আর সে তো বাঘ ছিল না, ছিল বাঘিনী। প্রথমবার তখন কাভার ব্রেক করে নদীতে ঝাঁপাল, আর ভটকাই গুলি করে দিল হড়বড়িয়ে, তখনই আমার একবার সন্দেহ হয়েছিল যে, সাইজে নিনিকুমারীর বাঘের মত হলেও এ বাঘিনী, বাঘ নয়। কিন্তু তোর অবস্থা দেখে তো বাঘের কাছে যাওয়ার সময়ই পেলাম না আর।
তুমি গুলি করলে না কেন?
ঋজুদাকে শুধালাম আমি।
ভটকাই উত্তেজিত হয়ে বলল, গুলি ফুটল না। করেছিলো রে গুলি, ঋজুদা।
-বলিস কি?
ঋজুদা বলল, তাই। অনন্তবাবু নিজে গুলি দিয়েছিলেন। ইস্ট-ইন্ডিয়া আর্মস কোম্পানির গুলি ফোটেনি কখনও এমন হয়নি। সে গুলির ক্যাপে স্যাঁতলাই পড়ে যাক আর পেতলের ক্যাপ কালোই হয়ে যাক। কিন্তু ফুটল না। ডাবল ব্যারেল রাইফেল নিয়ে গেছিলাম সেদিন। জানিসই তো! একটা ব্যারেলের গুলিও ফায়ার হল না!
আমার মাথার মধ্যে ভোঁ-ভোঁ করতে লাগল। বললাম, ঠাকুরানীর বাঘ তাহলে কি সত্যি?
–যাই ঘটে থাকুক, আমি ওসবে বিশ্বাস করি না। বিশ্বল সাহেবকে বলে কলকাতায় লোক পাঠিয়েছি চিঠি দিয়ে, একেবারে ফ্রেশ গুলি নিয়ে আসার জন্যে। অনন্তবাবুকে সব ঘটনা জানিয়ে চিঠি লিখেছি।
ঋজুদা বলল।
ভটকাই বলল, জিম করবেট-এর বইয়েতেও তো টেম্পল টাইগারের কথা আছে। জিম করবেটও কি মিথ্যেবাদী?
তা বলে আমাদেরও কি এসব আনক্যানি ব্যাপার বিশ্বাস করতে হবে?
ঋজুদাকে জিজ্ঞেস করলাম।
বিশ্বাস না করতে হলেই খুশি হব। তবে কী জানিস? বনে-জঙ্গলে প্রান্তরে-পাহাড়ে কখনও কখনও অনেক ঘটনা ঘটে, পৃথিবীর সব জায়গাতেই, যার ব্যাখ্যা বুদ্ধি বা যুক্তি দিয়ে করা যায় না। কলকাতার চোখ ধাঁধানো আলোয় রাস্তায় বা বাড়িতে বসে এই সব ঘটনা বা দুর্ঘটনা, যাই বলিস, সহজেই উড়িয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু যাঁরা এইরকম পরিবেশে দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন, জিম করবেট-এর মত, তাঁদের কথা চট করে মিথ্যে বলে উড়িয়েও দেওয়া যায় না।
এটা হয়ত পুরোই কাকতালীয় ব্যাপার। আমি বললাম।
কোয়াইট লাইলি। আমারও তাই মনে হয়। তবে ব্যাপার যাই হোক, আমি নিনিকুমারীর বাঘের শেষ না দেখে ফিরছি না। হয় বাঘের শেষ, নয় আমার।
বল, আমাদের। ভটকাই মুরুব্বীর মত বলল।
আমি থাকতে তোদের কিছু হলে তো কলকাতায় ফিরে মুখ দেখাতে পারব না।
ভটকাই বলল, সবে মিলি করি কাজ হারি জিতি নাই লাজ।
বড় ফাজিল হয়েছে। এখন কিছু বলাও যায় না। বাঘের গা থেকে রক্ত ঝরিয়েছে ও-ই প্রথম। বাঘ শিকারি তো হয়েছে! কিন্তু এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনের মত কাজ মানুষখেকো বাঘ শিকারে ভাবাই যায় না।
ভাবলাম আমি।
ঋজুদা যেন আমার মনের কথা বুঝেই বলল, তবে ভটকাইকে তার বাঘের চামড়া সমেত পাঠিয়ে দিচ্ছি কলকাতাতে। ওর পুরস্কার যেমন পেয়েছে, শাস্তিও ওকে পেতে হবে। শিকার এবং মানুষখেকো বাঘ শিকার যে ছেলেখেলা নয় তা ও এখনও বুঝতে পারেনি। তুই না ভাল হয়ে ওঠা পর্যন্ত ও অবশ্য আমার সঙ্গেই থাকবে, কিন্তু জঙ্গলে যাবে না। বাংলোতেই থাকবে।
ভটকাই-এর মুখ কালো হয়ে গেল। মুখ নামিয়ে নিল ও। তারপর আমার দিকে ফিরে বলল, বিশ্বাস কর রুদ্র, আমি কিন্তু গুলি করিনি।
একথা ঋজুদাকেও বলেছি। ঋজুদা বিশ্বাস করেনি।
তবে কে করেছে? তুই গুলি করিসনি মানে?
অবাক হয়ে বললাম আমি।
বিশ্বাস কর, কে যেন আমার পেছন থেকে দুহাতে আমার হাতের বন্দুক তুলে ধরে আমার আঙুল দিয়ে ট্রিগার টানিয়ে দিল। আমি কিছু জানবার আগেই।
গুল মারিস না। আমি বললাম।
ঋজুদা বলল, ভটকাই বড় হলে ভারতীয় রাজনীতিক হবে। সিচুয়েশনের এমন অ্যাডভান্টেজ রাজনীতির লোক ছাড়া আর কেউই নিতে পারে না।
এমন সময় নার্স এসে বললেন, এবার তো আপনাদের উঠতে হবে।
আমিও ভাবছিলাম, এবার ঋজুদারা গেলেই ভাল। একে শরীরের এইরকম অবস্থা, তার ওপর যা শুনলাম তাতে মাথা একেবারে ভোঁ ভোঁ করছে। এখন সত্যিই ঘুমের দরকার।
ঋজুদা উঠল।
বলল, চলি রে! ঝাড়সুগুদাতে থেকে তোর দেখাশোনা করতে পারলে ভাল হত কিন্তু ওদিকে তো অবস্থা সঙ্গীন। ভটকাইকে তোর দেখাশোনাতে রেখে যেতে পারতাম কিন্তু ওকে হয়ত দরকার হতে পারে। ডঃ মহাপাত্রকে সবই বলা আছে। বলছেন, পনের দিন। কিন্তু আর দশদিনের মধ্যেই হয়ত তুই কুচিলাখাঁই বাংলোতে ফিরে যেতে পারবি। ডঃ মহাপাত্রের মেয়ে তোকে বই-টই পড়তে দেবে। ভারী স্মার্ট মেয়ে। এবারে ফাইনাল পরীক্ষা দেবে। বই-টই পড়ে, ঘুমিয়ে গায়ে জোর করে নে। অনেক খাটনি আছে পরে।
আমি বললাম, তুমি ইতিমধ্যেই নিনিকুমারীর বাঘকে মেরে দেবে না তো?
প্রার্থনা কর, তাই যেন হয়। এখান থেকে মানে মানে ফিরে যেতে পারলে কাজ শেষ করে, অ্যাডভেঞ্চার করার সুযোগ জীবনে অনেকই আসবে তবে কী হবে শেষ পর্যন্ত জানি না। তবে ওড়িশা সরকারের বিভিন্ন স্তরের আমলারা যে সম্মান ও সহযোগিতা আমাদের দেখালেন ও দিলেন তার কথা মনে রেখেই আমাদের করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে-তে বিশ্বাস করতেই হবে। নিনিকুমারীর বাঘ নিয়ে ওড়িশা বিধানসভায় ও দিল্লি সংসদেও প্রশ্ন উঠেছে।
চলি রে রুদ্র।
ভটকাই বলল।
ঋজুদা দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, সব বন্দোবস্তই করা আছে। ঠিক সময়মত গাড়ি করে ওঁরা নিজেরাই তোকে পৌঁছে দেবেন। চীফ-সেক্রেটারি নিজে যেখানে যেখানে বলবার বলে দিয়েছেন। কলকাতায় তোর মায়ের সঙ্গে আমি গতকাল রাতে কথা বলেছি। তুইও একটু ভাল হলে এখান থেকেই কথা বলতে পারিস। আমি বলে গেলাম।
মা জানে?
হ্যাঁ।
কী বলল মা?
বলল, রুদ্রকে বোলো ঋজু, যেন খালি হাতে না ফেরে! বাঘ মেরে যেন ফেরে। আমার একমাত্র সন্তান ও। কিন্তু ওকেও একদিন মরতে হবে। মৃত্যু অমোঘ। কিন্তু হার নয়। হেরে যাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া অনেকই বেশি সম্মানের।
তাই?
ইয়েস্।
ভটকাই বলল। আমিও কথা বলেছি।
আমার গলার কাছে কী যেন দলা পাকিয়ে এল।
গর্ব? নিজের জন্যে? না মায়ের জন্যে। বুঝলাম না।
