মেলাবেন তিনি মেলাবেন (একেনবাবু) – সুজন দাশগুপ্ত
(৫)
ক্রুজে যাবার দিন এগিয়ে আসছে। তার আগে বেশ কিছু কাজ সারতে হবে। ঘুম থেকে উঠে ভাবছিলাম আজ দুপুরে বেরিয়ে একটা মোটা সোয়েটার আর মাফলারের খোঁজ করব। ও দুটো থাকলে আলাস্কায় একটা একস্ট্রা প্রোটেকশন থাকবে। কিন্তু কোথায় মিলবে সেটাই প্রশ্ন। এই সময়ে দোকান থেকে ওগুলো সব হাওয়া হয়ে যায়, আবার উদয় হয় শীত যখন আসব আসব করছে। মেসি-র বেসমেন্টে যদি পাওয়া যায়! আর কী কী সম্ভাব্য দোকান আছে ভাবছি। এড ফাউলারের ব্যাপারটাও মাথা থেকে যায়নি। তবে ফাউলার মারা যাওয়ায় একদিক থেকে আমরা বেঁচ্ছি। ওই রহস্যে একবার ঢুকলে সেই জল গড়াতে গড়াতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াত তার ঠিক-ঠিকানা নেই।
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে আমি এক পট কফি চাপিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস নিয়ে বসলাম। ভেবেছিলাম ফাউলারের মৃত্যুর খবরটা নিউ ইয়র্ক টাইমসে নিশ্চয় পাওয়া যাবে। খুন সম্পর্কে কিছু না কিছু ইনফর্মেশন সেখানে অন্তত থাকবে। না, কোনো খবরই নেই।
একেনবাবু পাশেই বসেছিলেন। বললাম, “দেখলেন, কালকে একটা মার্ডার দেখে এলেন, কিন্তু তার কোনো উল্লেখ নেই আজকের পেপারে।”
“মার্ডার তো দেখিনি স্যার, মার্ডার ভিক্টিমকে দেখেছি।”
“ওই হল। কিন্তু কোথাও তো কিছু দেখছি না পেপারে। হয়তো লোকটা মরেনি।”
“না স্যার, অনলাইনে আছে খবরটা।”
“সেকি! নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইনে? কাগজে তো নেই।”
“নিউ ইয়র্ক টাইমস নয় স্যার, কুইনস ট্রিবিউনের অনলাইনে।”
যে কথাটা আগে কোথাও লিখিনি, একেনবাবু এখন নেট স্পেশালিস্ট হয়ে গেছেন। প্রথম যখন ম্যানহাটানে এসেছিলেন, তখন কম্পিউটারের কী-বোর্ডে হাত দিতেও ভয় পেতেন। প্রমথই অসামান্য ধৈর্য সহকারে একেনবাবুকে কম্পিউটার ব্যবহার আর নেট সার্ফ করা শিখিয়েছে। এমন কি ওঁকে দিয়ে একটা ল্যাপটপও কিনিয়েছে। শেষেরটাই সবচেয়ে বড়ো অ্যাচিভমেন্ট। একেনবাবু বারবার আপত্তি জানিয়েছিলেন, “কী দরকার স্যার, আপনাদের দুটো তো আছেই!”
“সেইজন্যেই তো কেনাচ্ছি, আমাদের কম্পিউটারে যাতে ভাইরাস না ঢোকান।”
“কী যে বলেন স্যার, আপনার এত ট্রেনিং-এর পরে কি আর সেই ভুল করব!”
যাক সে কথা। আমি একেনবাবুকে বললাম, “কুইনস ট্রিবিউন বলে যে একটা পত্রিকা আছে, সেটাই তো জানতাম না।”
“আমিও জানতাম না স্যার। উইকলি পেপার, তবে অনলাইনটা মনে হয় আপডেটেড হয়। নেট সার্ফ করতে করতে পেয়ে গেলাম।”
“কী লিখেছে সেখানে?”
“খুবই ছোট্ট করে স্যার। বৃহস্পতিবার দুপুর এগারোটা নাগাদ করোনার এক অ্যাপার্টমেন্টে একজন লোক খুন হয়েছে। লোকটির বয়স চল্লিশের কোঠায়। খুনি পলাতক।”
“ভিকটিমের নাম দেয়নি?”
“না স্যার।”
“তার মানে লোকটা তো এড ফাউলার নাও হতে পারে।”
“আমিও সেটা ভাবছিলাম স্যার।”
“থাক গে, আর ভাবাভাবি না করে একটা সাহায্য করুন। নেট-এ দেখুন তো সোয়েটার আর মাফলার কাছাকাছি কোন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে?”
একেমবাবু পরম উৎসাহে কাজে লাগলেন।
