(১৪)
বাসন্তী এতক্ষণ শোবার ঘরে বসে মালতীর সঙ্গে গল্প করছিল। এবারে ড্রইংরুমে এসে ঢুকল তারা। বাড়ি ফেরার কথাটা সম্ভবত আমাকে দেখেই বাসন্তীর মনে পড়ে গিয়ে থাকবে। বলল, “কী ব্যাপার, বাড়ি ফিরতে হবে না?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “এত তাড়া কিসের? সবে তো তিনটে বাজে। এরই মধ্যে ফেরার কথা উঠছে কেন?”
“বাঃ, সারাটা দিন গল্প করে কাটালেই চলবে? ওবেলা কী রান্নাবান্না হবে, কাজের লোকটিকে তাও তো বলে দিয়ে আসিনি।”
মালতী বলল, “তাতে ভারী বয়েই গেছে। রাত্তিরের খাওয়াটাও এখান থেকে খেয়ে গেলেই তো হয়!”
বাসন্তী শিউরে উঠল। “ওরে বাবা, দুপুরে তো ফাঁসির খাওয়া খেয়েছি! তার উপরে যদি এ-বেলাও খাওয়াও, তবে আর বাঁচব না।”
অরুণ সান্যাল বললেন, “ও-কথা বলে আর লজ্জা দেবেন না বউঠান। নতুন পাড়া, হাটবাজারের অন্ধিসন্ধি এখনও ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারিনি, তাই ইচ্ছে থাকলেও ব্যবস্থাটা মোটেই ভাল হল না। তবে কিনা আপনারা ঘরের লোক, তাই জানি যে, নিজগুণে সব মার্জনা করে দেবেন।”
বাসন্তী বলল, “বাস্ রে, সান্যালমশাই তো একেবারে নেমন্তন্নের চিঠির ভায়ায় কথা বলছেন দেখছি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “একবেলা তো এখন চেম্বারে যায় না, সেই সময়টা বোধহয় ভাষাশিক্ষার কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু সে-কথা থাক্। আসল কথাটা হল রাত্তিরে এখানে খাও বা না-খাও, এক্ষুনি বাড়ি ফেরা চলবে না। চা-টা খাও, তারপর সন্ধের দিকে বাড়ি ফিরবে।”
“ততক্ষণ আপনাদের খুন-জখমের গল্প চলবে?”
“তা তো চলবেই। ইচ্ছে করলে তোমরাও তাতে যোগ দিতে পারো।”
“রক্ষে করুন।” বাসন্তী বলল, “ও-সব গল্প আমাদের একটুও ভাল লাগে না। আমরা পাশের ঘরে চললুম। চায়ের তেষ্টা পেলে জানাবেন, পাঠিয়ে দেব।”
মালতী আর বাসন্তী ড্রইংরুম থেকে বেরিয়ে গেল। ভাদুড়িমশাই বললেন, “যা বলছিলুম, পিস্তল পড়ে যাওয়ার ব্যাপারটা সম্ভবত ওইভাবেই ঘটেছে। কিন্তু ও-প্রসঙ্গ এখনকার মতো মুলতুবি রেখে ভাবা যাক যে, শনিবার থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত ঠিক কী কী সূত্র আমাদের হাতে এসেছে।”
পাঞ্জাবির পকেট থেকে ছোট্ট একটা খাতা বার করে কৌশিক বলল, “সূত্রগুলি আমি এই খাতার মধ্যে নোট করে রেখেছি। পরপর বলে যাব?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা বল্, তবে একটু আস্তে-আস্তে বলবি।”
“অ্যাম্বাসাডরের জখম ড্রাইভারকে নার্সিংহোমে পৌঁছে দেবার নাম করে যে-লোকটি তার ফিয়াটে তুলে নেয়, তার চুলদাড়ি সাদা, বয়েস অন্তত পঁয়ষট্টি। এটা কম করে বললুম, পঁয়ষট্টি না-হয়ে সত্তর-পঁচাত্তরও হতে পারে।”
“ঠিক আছে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এখন ওই এনট্রিটার পাশে একটা স্টার দিয়ে লিখে রাখ যে, ফিয়াটের নাম্বার-প্লেট ফল্স; আর হ্যাঁ, লোকটি যে সত্যি-সত্যি বুড়ো, তা নাও হতে পারে। যেমন নাম্বার-প্লেট তেমনি চুলদাড়িও ফল্স হওয়া কিছু বিচিত্র নয়।”.
সদানন্দবাবু বললেন, “অ্যাঁ?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “হ্যাঁ। সবটাই সম্ভবত মেক-আপের ব্যাপার। … নেক্সট পয়েন্ট।”
কৌশিক বলল, “অ্যাম্বাসাডরের গ্লাস কম্পার্টমেন্টে দু’খানা এয়ার-টিকিট আর একটা পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, এই খবর পেয়ে পরদিন অর্থাৎ রবিবার সকালে কিরণমামাকে সঙ্গে নিয়ে তুমি প্ৰকাশ চৌহানের সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে যাও। প্রকাশ চৌহান জানায় যে, তার পাসপোর্ট খোয়া গেছে দশ দিন আগে, কিন্তু তখনও পর্যন্ত এই খোয়া যাবার খবরটা সে রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসে কিংবা পুলিশকে জানায়নি। …আচ্ছা মামাবাবু, তারপর কি জানিয়েছে? মানে রবিবার থেকে আজ বুধবারের মধ্যে?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ইম্মেটিরিয়াল…অব নো কনসিকোয়েন্স অ্যাট অল! এখন এই এনট্রিটার পাশে যা বলছি, ক, খ দিয়ে লিখে যা। …(ক) প্রকাশ চৌহানের ফ্ল্যাটটা আসলে একটি আপিস, সেটা রবিবারেও খোলা ছিল, আর আমাদের দেখে চৌহান প্রথমে ভেবেছিল যে, আমরা রুংতার লোক। (খ) রুংতা কে, আমরা জানি না। তবে যে অ্যাম্বাসাডরটার টায়ার ফাটিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট ঘটানো হয়, তারও মালিক যে এক রুংতা, সেটা আমরা জেনেছি। (গ) প্রকাশ চৌহানের আপিসের টাইপিস্ট মেয়েটির নাম মিস রবিনসন। …নেক্সট পয়েন্ট।”
“অ্যাম্বাসাডর গাড়ির জখম ড্রাইভারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। কাগজে তার ছবি দেখে দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজার মি. ভার্গব তাকে শনাক্ত করেন। লোকটির নাম প্রসাদ গুপ্ত। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে গত জানুয়ারিতে সে ওই কোম্পানিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের চাকরি করতে ঢোকে, কিন্তু চেকিংয়ে ধরা পড়ে যে, তার সার্টিফিকেট জাল, ফলে ফেব্রুয়ারিতে তার চাকরি যায়। প্রসাদ গুপ্তের টেবিলের টানায় পাঁচখানা প্রেমপত্র পাওয়া গেছে। লেখিকার নাম-ঠিকানা নেই। সে শুধু ‘ডিয়ার’ বলে তার পরিচয় দিচ্ছে। চিঠি পড়ে মনে হয়, মেয়েটির এক পিসির জন্য প্রসাদ গুপ্তের সঙ্গে তার বিয়ে হতে পারছিল না। পিসির ইচ্ছা ছিল, বিয়ের আগে প্রসাদ গুপ্তকে বিলেত থেকে ঘুরে আসতে হবে!”
“ওর পাশে মাত্র একটা কথাই লিখে রাখ!” ভাদুড়িমশাই বললেন, “প্রসাদ গুপ্তের গাড়িতে যে এয়ার-টিকিট আর পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, তাতে মনে হয়, সে বিলেত যাবার জন্যেই রওনা হয়েছিল। কিন্তু অন্য নামে যাচ্ছিল কেন?… নেক্সট পয়েন্ট।”
“বিমল বরাটের তোলা ছবিগুলির মধ্যে প্রথম দু’খানার দুটো অংশ ব্লো-আপ করে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায়, পথের ধারে পার্ক করা একটা মারুতি গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে অ্যাম্বাসাডরের টায়ার ফাটানো হয়েছে। যে গুলি চালিয়েছে, তাকে শনাক্ত করা শক্ত হবে না। …এখানে কি আর-কিছু লিখে রাখব?”
ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “লেখ যে, যেমন বিমল বরাটকে তেমন আমাকেও ভয় দেখানো হচ্ছে। বিমল বরাটকে ভয় দেখানো হচ্ছে টেলিফোন করে। কে ফোন করছে, জানবার উপায় নেই। আমাকে ভয় দেখানো হয়েছে টাইপ-করা চিঠি লিখে। ফলে, সেখানে অন্তত একটা ক্লু পেয়েছি। যে টাইপরাইটারে চিরকুটটা টাইপ করা হয়েছিল, তার ছোট হাতের ‘এ’ আর বড় হাতের ‘টি’ ভাঙা। …..লিখেছিস?”
খাতা থেকে ডট-পেন তুলে কৌশিক বলল, “হ্যাঁ, মামাবাবু।”
“ঠিক আছে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এবারে খাতাটা বন্ধ করে যা বলছি শোন। এই যে প্রকাশ চৌহানের পাসপোর্ট খোয়া গেল, অথচ খোয়া যাবার পরে পুরো দশ দিনের মধ্যেও সে তা-ই নিয়ে কোনও রা কাড়ল না, পুলিশ কি পাসপোর্ট আপিসে, কোথাও কিছু না জানিয়ে স্রেফ গ্যাঁট হয়ে বসে রইল, এটা সে কেন করল, কিছু আন্দাজ করতে পারিস?”
কৌশিক বলল, “কেন করল?”
“স্রেফ এইজন্যে করল যে, এটা আসলে খোয়া-টোয়া বাবার ব্যাপারই নয়।”
সদানন্দবাবু বললেন, “বলেন কী মশাই, প্রকাশ চৌহানের পাসপোর্ট খোয়া যায়নি?”
“আমার অন্তত সেইরকমই মনে হয়।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “পাসপোর্ট খোয়া যাওয়া কি চাট্টিখানি ব্যাপার? খোয়া গেলে কেউ চুপচাপ বসে থাকতে পারে? প্রকাশ চৌহান কিন্তু পুরো দশ-দশটা দিন চুপচাপ বসে ছিল। আমার সঙ্গে যখন এই নিয়ে তার কথা হয়, তখনও তাকে বিশেষ উদ্বিগ্ন বলে মনে হয়নি। তার থেকে আমার কী সন্দেহ হয় জানেন?”
“কী সন্দেহ হয়?”
“সন্দেহ হয় যে, পাসপোর্ট খোয়া যাওয়া আসলে একটা সাজানো ব্যাপার। প্রকাশ চৌহান নিজের থেকেই তার পাসপোর্টটা প্রসাদ গুপ্তের হাতে তুলে দিয়েছিল, যাতে ছবিটা সামান্য একটু পালটে নিয়ে ওই পাসপোর্ট নিয়েই প্রসাদ গুপ্ত বিদেশে চলে যেতে পারে। তা হয়তো সে যেতও। প্রকাশ চৌহান সে-ক্ষেত্রে কোনও উচ্চবাচ্য করত না। কিন্তু সে যেতে পারেনি, যাবার আগেই সে খুন হয়ে গেছে। ফলে প্রকাশ চৌহানকে বলতে হচ্ছে যে, তার পাসপোর্টটা খোয়া গিয়েছিল।”
বললুম, “ওরে বাবা, রামের পাসপোর্ট নিয়ে শ্যাম বিদেশে যাচ্ছিল, এ তো সাংঘাতিক ব্যাপার। ইমিগ্রেশন অফিসারদের হাতে ধরা পড়ে যেত না যে, এটা জাল পাসপোর্ট?”
ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “কিরণবাবু, আপনি এমনভাবে কথা বলছেন যেন জাল পাসপোর্ট নিয়ে কেউ কখনও কোথাও যায় না। হরবখত যায়। যারা যায়, তাদের সবাই কি আর ধরা পড়ে? অনেকে পড়ে, অনেকে পড়ে না। আর তা ছাড়া, যে পাসপোর্ট নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটা তো আবার আদ্যন্ত জালও নয়। শুধু ওই ছবিটাই যা অল্প-একটু অদল-বদল করা হয়েছে। খুব-একটা পালটাবার দরকারই তো হয়নি।
কৌশিক বলল, “দরকার হয়নি কেন?”
“সেটা আর-কেউ না বুঝুক, তোর কিরণমামা অন্তত বুঝতে পারবে। তাই না কিরণবাবু?”
সদানন্দবাবু বললেন, “কেন, শুধু কিরণবাবু বুঝবেন কেন?”
বললুম, “এইজন্যে বুঝব যে, প্রকাশ চৌহানকে আপনিও দেখেননি, কৌশিকও দেখেনি। দেখেছি শুধু আমরা দু’জন, অর্থাৎ ভাদুড়িমশাই আর আমি। ফলে আপনারা না-বুঝলেও আমরা বুঝতে পারছি যে, দু’জন লোকের চেহারা যদি মোটামুটি এক রকমের হয়, তা হলে একজনের পাসপোর্ট নিয়ে আর একজন স্বচ্ছন্দেই বিদেশে চলে যেতে পারে। ছবিতে সে-ক্ষেত্রে আর খুব বেশি অদলবদল ঘটাবার দরকার করে না।”
সদানন্দবাবু বললেন, “তা-ই? প্রকাশ চৌহানকে দেখতে একেবারে প্রসাদ গুপ্তের মতো?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “একেবারেই যে প্রসাদ গুপ্তের মতো তা নয়; বরং কিরণবাবু যা বললেন সেটাই ঠিক, মোটামুটি প্রসাদ গুপ্তের মতো। তফাতগুলোর কথা বলি। এক-নম্বার তফাত, প্ৰকাশ চৌহান ডাইনে থেকে বাঁয়ে চুল আঁচড়ায় আর প্রসাদ গুপ্ত বাঁ থেকে ডাইনে। দু’নম্বর তফাত, প্রকাশ চৌহানের চুলে সামান্য পাক ধরেছে, তার বয়স অন্তত চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ; প্রসাদ গুপ্তের চুল সে-ক্ষেত্রে কুচকুচে কালো, বয়সও তিরিশ-পঁয়তিরিশের বেশি হবে না। তিন নম্বর তফাত, প্রকাশ চৌহানের কপালের বাঁ-দিকে একটা বড়সড় তিল রয়েছে, কিন্তু প্রসাদ গুপ্তের কপালে অমন কোনও তিল নেই। তা এ-তিনটে তফাত তো খুব সহজেই ঘুচিয়ে দেওয়া যায়। পাসপোর্টের মধ্যে প্রকাশ চৌহানের যে ফোটোগ্রাফ রয়েছে, তাতে চুলের যেখানে-যেখানে সাদা, সেখানে কালো করে দিতে হবে আর কপালের বাঁ-দিককার তিলটা মুছে দিতে হবে। বাস, এইটুকু কারিকুরিই যথেষ্ট, তার বেশি কিছু অদলবদল করতে হয়নি।”
“আর চুলের ফেরতাইটা?”
“তার জন্যে পাসপোর্টের ছবি পালটাতে হবে কেন?” ভাদুড়িমশাই আমার প্রশ্নের উত্তরে বললেন, “তার জন্যে প্রসাদ গুপ্ত তার চুলটা যদি ডাইনে থেকে বাঁয়ে আঁচড়ায়, পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে তা হলে আর তার চুলের বিন্যাসেরও কোনও তফাত থাকে না। আমার ধারণা, দিল্লি থেকে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট ধরবার আগে প্রসাদ গুপ্ত ঠিক সেইভাবেই তার চুল আঁচড়ে নিত।
কৌশিক বলল, “এই ব্যাপার?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “বললুম তো, আমার ধারণা, এটাই হচ্ছে ব্যাপার। পাসপোর্ট খোয়া যায়নি, প্রকাশ চৌহান ওটা ‘স্বেচ্ছাতেই প্রসাদ গুপ্তের হাতে তুলে দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, স্বেচ্ছায় সেটা সে দিল কেন? বিনা স্বার্থে লোকটা এ-কাজ করেছে বলে আমার মনে হয় না, নিশ্চয়ই এর পিছনে তার কোনও স্বার্থ ছিল। সেটা কী, তা যদি জানতে পারি, এই রহস্যের অনেকটাই তা হলে পরিষ্কার হয়ে যায়।”
পাশের ঘরে ফোন বেজে উঠল। একটু বাদেই মালতী এসে বলল, “দাদা, তোমার ফোন।”
ভাদুড়িমশাই সোফা থেকে উঠে পাশের ঘরে চলে গেলেন। ফিরে এলেন মিনিট পাঁচেক বাদে। সোফায় বসে সিগারেট ধরিয়ে বললেন, “শোভন ফোন করেছিল।”
“কিছু খবর আছে?”
“তা আছে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “দুটো খবর। প্রথমত, বেনারস থেকে জানিয়েছে যে, প্ৰসাদ গুপ্তের কথাটা মিথ্যে নয়। সত্যিই সে ওখান থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বেরিয়েছে।” অরুণ সান্যাল বললেন, “যাচ্চলে! জেনুইন ডিগ্রি-হোল্ডারই যদি হবে, তো মরতে জাল-সার্টিফিকেট দেখিয়ে চাকরিতে ঢুকেছিল কেন? অন্য সব টেস্টিমোনিয়ালও তো শুনলুম বোগাস! কোনও মানে হয়?”
সদানন্দবাবু বললেন, “এ তো ভাবাই যায় না!”
কৌশিক বলল, “এটা নিয়ে পরে ভাবা যাবে, এখন দ্বিতীয় খবরটা বলো তো?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “দ্বিতীয় খবর মারুতি গাড়ির ড্রাইভার সম্পর্কে। তার খোঁজ মিলেছে।”
“কোথায়?”
“ট্যাংরার এক ডেজার্টেড বস্তিবাড়ির মধ্যে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “নোন্ ক্রিমিন্যাল, এর আগে বার-দুই জেল খেটেছে। কিছুদিন আগে যে দাঙ্গা হয়ে গেল, তার সূত্রে এমনিতেই পুলিশ ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল।”
সদানন্দবাবু বললেন, “তা খোঁজ যখন পাওয়া গেচে, লোকটাকে তখন অ্যারেস্ট করা হয়েচে তো?”
ভাদুড়িমশাই তিক্ত হাসলেন, “কী করে অ্যারেস্ট করবে। বড্ড দেরি হয়ে গেল যে!”
বললুম, “তার মানে?”
“মানে আর কী, লোকটাকে জ্যান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। পুলিশ গিয়ে পৌঁছবার আগেই কেউ তার গলায় ছুরি বসিয়ে সরে পড়েছে!”
একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর বললেন, “ও হ্যাঁ, একটা কথা বলা হয়নি। লোকটার ডান হাতটা কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত ব্যান্ডেজ বাঁধা। তার মানে আমি ঠিকই আন্দাজ করেছিলুম। গুলি চালিয়ে হাতটা তো আর তাড়াতাড়ি ভিতরে টেনে নিতে পারেনি, অ্যাম্বাসাডরের পিছন-দিককার ধাক্কাটা তাই ভালমতোই লেগেছিল।”
