চশমার আড়ালে (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
১৯
হাওড়া স্টেশনে ঢুকে বড় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলুম, পাঁচটা চল্লিশ। এইখানেই আমার দাঁড়াবার কথা।
বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হল না। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ভাদুড়িমশাই এসে গেলেন। বললেন, “চলুন, ভিতরে যাওয়া যাক। গাড়ি ছাড়বে পাঁচটা পঞ্চান্নয়।”
তা ঠিক পাঁচটা পঞ্চান্নতেই ধৌলি এক্সপ্রেস ছাড়ল। এয়ারকন্ডিশন্ড ফার্স্ট ক্লাস চেয়ার-কারে আসন পেয়েছি। হ্যান্ডব্যাগ দুটোকে উপরে তুলে দিয়ে আরাম করে বসা গেল। স্টেশনে ঢুকবার সময় ভাদুড়িমশাই দুখানা খবরের কাগজ কিনে ফেলেছিলেন। তার একটা আমাকে দিয়ে অন্যটার হেডলাইনে চোখ বুলোতে লাগলেন তিনি।
খবরের কাগজে আমার মন বসছিল না। আমি ভাবছিলুম গত কয়েক দিনের কথা। ৫ মার্চ মঙ্গলবার আমি ত্রিপুরায় যাই। সেখানে ছিলুম মোট চার রাত্রি। ৫ মার্চ সিপাহিজলায়, ৬ মার্চ সাগরমহলে, ৭ মার্চ উদয়পুরে আর ৮ মার্চ আগরতলায়। কাল ৯ মার্চ বিকেলের ফ্লাইটে কলকাতায় ফিরেছি। কিন্তু বিশ্রাম পাইনি। মাত্র একটা রাত্রি কলকাতায় থেকেই আজ আবার শেষ-রাত্তিরে ঘুম থেকে উঠে ভোরবেলায় ট্রেন ধরে চলেছি ভুবনেশ্বরে।
ভুবনেশ্বরে যে যেতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা অবশ্য ছিল না। কিন্তু বাড়ি ফিরে শুনলুম, ছেলের এখুনি এলাহাবাদে ফিরবার দরকার নেই, আরও হপ্তাখানেক সে কলকাতায় থাকবে। তখন মন হল, যাই তা হলে, ভুবনেশ্বর থেকে ঘুরেই আসি। বাসন্তীও বলল, ‘দিন দুই-তিনের জন্যে যদি হয় তো ঘুরে আসতে পারো, তবে তার বেশি থেকো না।’ এদিকে ভাদুড়িমশাই বলেছিলেন যে এয়ারপোর্ট থেকে তিনি সরাসরি বেহালায় যাবেন। সেখানে অরুণবাবুর মায়ের খবর জেনে তারপর ফিরে আসবেন যতীন বাগচি রোডে। সেখানকার ফোন যদি না ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে থাকে তো অন্য কোনও জায়গা থেকে রাত নটা থেকে দশটার মধ্যে আমাকে ফোন করে জেনে নেবেন যে, রবিবার সকালে আমার পক্ষে ভুবনেশ্বর যাওয়া সম্ভব হবে কি না। মোট কথা, আমার ফোন করবার দরকার নেই, তিনিই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেবেন।
বাড়ি ফিরে ছেলের সঙ্গে দেখা হয়নি। বাসন্তী বলল, বঙ্কুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়েছে। সেটা স্বাভাবিক। অনেকদিন বাদে-বাদে কলকাতায় আসে, তাই যখনই আসে, রোজই একবার বঙ্কুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বেরোয়। ছেলে বাড়ি ফিরল সাতটা নাগাদ। তার খানিক বাদে এলেন সদানন্দবাবু। ঘরে ঢুকে একগাল হেসে বললেন, “ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন শুনলুম। কী ব্যাপার মশাই?”
সদানন্দবাবুকে আমার পাঠকরা আশা করি ভুলে যাননি। ভদ্রলোক আমাদের সামনে বাড়িতে থাকেন। পরোপকারী, সদাহাস্যময় মানুষ। অতিমাত্রায়া স্বাস্থ্যসচেতন, চায়ের সঙ্গে দুধ কিংবা চিনি খান না, রোজ ভোরবেলায় দু-মাইল হাঁটেন। বয়স সত্তরেরও বেশ কয়েক বছর বেশি, কিন্তু স্বাস্থ্য একটুও টসকায়নি। তো এই মানুষটি কিছুকাল আগে একটা খুনের মামলায় জড়িয়ে যান। ভাগ্যিস তখন ভাদুড়িমশাই কলকাতায় ছিলেন, নইলে আর সেই বিপদ থেকে তাঁকে উদ্ধার পেতে হত না। তো তখন থেকেই সদানন্দবাবু ভাদুড়িমশাইয়ের দারুণ ভক্ত।
বললুম, “ত্রিপুরায় গিয়েছিলুম ঠিকই, তবে ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে যাইনি। ফিরেছি অবশ্য তাঁরই সঙ্গে। কিন্তু খবরটা আপনি কোথায় পেলেন?”
“কেন, বউমার কাছে। ভাদুড়িমশাই যে সেখানে ছিলেন, সেও তো তাঁরই কাছে শুনলুম। শুনেছি, খুব বিউটিফুল জায়গা। সত্যি?”
“ষোলো-আনার উপরে আঠারো-আনা সত্যি। বেড়াবার পক্ষে একেবারে আদর্শ।”
“কিন্তু আপনারা তো আর বেড়াবার জন্যে ত্রিপুরায় যাননি। ব্যাপারটা কী বলুন তো।”
বললুম, “অতি ভয়ঙ্কর ব্যাপার। এক কোটিপতির ছেলে, তাকে মারবার জন্যে একদল গুন্ডা লাগানো হয়েছে, কিন্তু কিছুতেই তারা ছেলেটাকে ঘায়েল করতে পারছে না। যতবার তারা গুলি চালাচ্ছে, ততবারই ফশকে যাচ্ছে।”
“দূরমশাই, আপনি ঠাট্টা করছেন।”
“বা রে, এর মধ্যে আবার ঠাট্টা দেখলেন কোথায়?”
“ঠাট্টা নয়? গুলিই যদি চালাচ্ছে, তো বারবার ফশকে যাচ্ছে কেন?”
সদানন্দবাবুর প্রশ্নের জবাব দেওয়া গেল না। ফোন বেজে উঠল। ভাদুড়িমশাই। বললুম, “কী খবর? মালতীর শাশুড়ি ভাল আছেন তো?”
“পার্ফেক্টলি অল রাইট। লো ব্লাডপ্রেশার। মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। অরুণরা কালই যতীন বাগচি রোডে ফিরে এসেছে। ফোনও ঠিক হয়ে গেছে। ওদের বাড়ি থেকেই কথা বলছি।”
“ভুবনেশ্বরে কালই যাচ্ছেন তো?”
“কথা যখন দিয়েছি, তখন নিশ্চয় যাব। আপনার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হবে?”
“মনে হয়েছিল, হবে না। কিন্তু ছেলে আরও হপ্তাখানেক কলকাতায় থাকবে। তা হলে আর বাধা কী?”
“তা হলে চলুন। ধৌলি এক্সপ্রেসে যাচ্ছি। ভোর পৌনে ছটায় হাওড়া স্টেশনে বড় ঘড়ির নীচে অপেক্ষা করব। দেরি করবেন না। গাড়ি যে পাঁচটা পঞ্চান্নয় ছাড়ে এটা মনে রাখুন।”
জায়গা পাওয়া যাবে কি না, জিজ্ঞেস করতে ভাদুড়িমশাই বললেন, “রিজার্ভেশন নেই। তবে চিন্তা করবেন না। খুব ভোরের ট্রেন তো, তাই ভিড় বড়-একটা হয় না। ব্যবস্থা একটা ঠিকই হয়ে যাবে।”
তা হলও। দিব্যি পা ছড়িয়ে ঠান্ডা কামরায় বসে আমরা ভুবনেশ্বরে চলছি।
খড়গপুর পর্যন্ত হকারদের ভিড় ছিল। হকার থাকলে যা না-থেকে পারে না, সেই চেঁচামেচিও ছিল। তার উপরে আবার মাঝে-মাঝেই কারা যেন চেন ট্রেনে থামিয়ে দিচ্ছিল ট্রেনটাকে। তা খড়গপুর ছাড়াবার পরে আর সে-সব উৎপাত নেই। কামরা একেবারে শান্ত। শেষ রাত্তিরে উঠে ট্রেন ধরতে হয়েছে বলে অনেকে ইতিমধ্যে ঘুমিয়েও পড়েছেন দেখছি।
খবরের কাগজখানাকে সামনের সিটের পিছনে লাগানো জালি ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে ভাদুড়িমশাই ইতিমধ্যে একটা ইংরেজি নিউজ-ম্যাগাজিনের পাতা ওলটাতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাতে সম্ভবত মন বসাতে পারছিলেন না। তাই সেটাও একটু বাদেই তিনি জালি-ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখলেন। হাত দুখানাকে বুকের উপরে জড়ো করে চোখ বুজে বসে রইলেন খানিকক্ষণ। আমি জানি, উনি ঘুমোচ্ছেন না। কিছু-একটা নিয়ে ভাবছেন। ওঁকে এখন বিরক্ত করা ঠিক হবে না। জানলায় চোখ রেখে আমি বাইরের দৃশ্য দেখতে লাগলুম।
এয়ার-কন্ডিশনড কামরা, তাই জানলায় কাচ লাগানো, ফলে একটু অস্বস্তি হয় ঠিকই, তবে বাইরের ঘরবাড়ি গাছপালা আর মানুষজন দেখতে কোনও অসুবিধে হয় না। দেখতে ভালই লাগছিল। গাছপালাগুলো এমন জোরে মাথা নাড়ছিল আর মাঝে-মাঝেই মাঠ জুড়ে এমন ধুলো উড়ছিল যে, বুঝতে পারছিলুম, বাইরে ঝোড়ো হওয়া বইছে। একটু আগে ভদ্রক ছাড়িয়েছি। ছোটবড় কয়েকটা নদীও পরপর পেরিয়ে এলুম। এ-সব নদীর কী নাম, কিচ্ছু জানি না। সদানন্দবাবুর কথা মনে পড়ল। ত্রিপুরা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন ‘বিউটিফুল জায়গা’। আসলে কিন্তু সব জায়গাই সুন্দর। তবে সৌন্দর্যেরও আছে রকমফের। সেইটে যিনি বোঝেন, নিষ্পাদপ মরুভূমিও তাঁর চোখে মোটেই অসুন্দর ঠেকে না।
কামরার মধ্যে ধূমপান নিষেধ। ভাদুড়িমশাই ইতিমধ্যে তাই সিগারেট খাবার জন্যে কামরা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে বললেন, “কী ভাবছেন এত?”
বললুম, “ভাবছিলেন তো এতক্ষণ আপনিই। কী নিয়ে ভাবছিলেন, তাও আন্দাজ করতে পারি। কিছু কিনারা হল?”
ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “ভাবনার কোটি হাত-পা, লাখো মাথা, প্রকান্ড হাঁ।”
“কাব্যি করতে হবে না। কিছু কিনারা হয়নি, কেমন?”
“একেবারেই যে হয়নি তা নয়। কিন্তু এখন থাক, এ-সব কথা পরে হবে। আপনি কী ভাবছিলেন বলুন।”
“আমি ভাবছিলুম সদানন্দবাবুর কথা।”
“কাল তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে?”
“না হয়ে পারে? আমি যে ত্রিপুরায় গিয়েছিলুম, আর আপনিও যে সেখানে ছিলেন, আগরতলা থেকে ফোনে আমাদের খবর পেয়ে বাসন্তীই তা ওঁকে জানিয়ে দিয়েছিল যে।”
“বটে? তা কেন আমরা ত্রিপুরায় গিয়েছিলুম, তা ওঁকে বলেছেন?”
“একটু অন্যভাবে বলেছি।”
“কী রকম?”
“ওই মানে আসল ঘটনাকে একটু পালটে নিয়ে বললুম যে, এক কোটিপতির ছেলেকে খতম করবার জন্যে গুন্ডা লাগানো হয়েছে। কিন্তু গুন্ডারা কিছুতেই তাকে খতম করতে পারছে না। যতবার গুলি চালাচ্ছে, ততবারই ফশকে যাচ্ছে।”
“সদানন্দবাবু তাতে কী বললেন?”
হেসে বললুম, “সদানন্দবাবু বললেন, গুলিই যদি চালাচ্ছে তো বারবার ফশকে যাচ্ছে কেন? ভাদুড়িমশাই গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন। বললেন, “অ্যাঁ, সদানন্দবাবু এই কথা বললেন? অব অল পার্সনস সদানন্দবাবু?”
বললুম, “বুঝুন ব্যাপার!”
“বুঝবার তো কিছু নেই। ভদ্রলোক যা বলেছেন, সেটাই হচ্ছে মোক্ষম কথা। হি হ্যাজ হিট দ্য নেইল রাইট অন ইটস হেড! গুলিই যদি চালাচ্ছে তো বারবার ফশকে যাচ্ছে কেন? ঠিক, ঠিক, এ একেবারে লাখ কথার এক কথা! গলাই যদি টিপে ধরছে তো দমবন্ধ করে মেরে ফেলছে না কেন? ধাক্কাই যদি মারছে তো মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে না কেন? ইটই যদি ছুড়ে মারছে তো সেটা মাথায় না পড়ে পাশে পড়ছে কেন? …বাঃ, বাঃ, চমৎকার! এক্সেলেন্ট! …আরে মশাই, এই কথাটা আমিও আপনাকে বলেছি, অথচ আপনি কিছুই বুঝতে পারেননি!”
এর পর আর কী বলব। গলা টিপে ধরলেই যে কেউ পটাং করে মরে যাবে তার কোনও মানে নেই, আচমকা একটা ধাক্কা মারলেই যে কারও মাথা ফাটবে তার কোনও মানে নেই, আবার ইট ছুড়ে মারলেই যে সেটা কারও মাথায় লাগবে, তারও কোনও মানে নেই। অথচ নীরমহলের ঘটনাটার পর থেকে দেখছি, এরই উপরে ভাদুড়িমশাই যত গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেন দিচ্ছেন, ঈশ্বর জানেন। কিন্তু ভদ্রলোক যে-রকম উত্তেজিত, তাতে মনে হল, এখন আর এ বিষয়ে কিছু না-বলাই ভাল। জানলায় মুখ রেখে চুপচাপ দেখতে লাগলুম যে, গাড়ি একটা মস্ত বড় নদী পার হচ্ছে।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “নদীটার নাম জানেন?
মুখ না ফিরিয়েই বললুম, “না।”
“রাগের কিছু নেই। সদানন্দবাবু সত্যি একটা বুদ্ধির কথা বলেছেন। যা-ই হোক, এটা মহানদী। নদী পেরোলেই কটক, এ-রাজ্যের পুরনো রাজধানী। তা ভুবনেশ্বর তো প্রায় এসে গেল।”
কটকে ঢুকতে গেলেও নদী, আবার কটক থেকে বেরোতে গেলেও নদী। সেটা অবশ্য মহানদীর মতন এত চওড়া নয়। ভুবনেশ্বর এখান থেকে মাত্রই তিরিশ কিলোমিটার। সেই তিরিশ কিলোমিটার পথ পেরোতেই এক ঘন্টার মতো সময় লেগে গেল। কথায় বলে ‘তালগাছের আড়াই হাত’। শেষের ওই আড়াই হাত ওঠাই নাকি সবচেয়ে শক্ত। তা এও দেখছি সেই ব্যাপার। নামে যদিও এক্সপ্রেস, শেষ পথটুকু এল একেবারে প্যাসেঞ্জার-গাড়ির মতন ঢিকুস-টিকুস করে। যেন বড়ই অনিচ্ছেয় আমাদের ভুবনেশ্বরে এনে পৌঁছে দিল।
হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলুম দেড়টা বাজে। ঠিক ছিল, স্টেশনের বাইরে এসে আমরা একটা ট্যাক্সি ধরে নেব। তার আর দরকার হল না। ওদিকের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে বাইরে বেরোতে হবে। তার জন্যে লাইন পেরোনো দরকার। সেটা পেরোবার জন্যে ওভারব্রিজে উঠতে যাচ্ছি, হঠাৎ কোত্থেকে বিজ এসে আমাদের হাত থেকে হ্যান্ডব্যাগ দুটো ছিনিয়ে নিয়ে বলল, “আসুন স্যার, আমি গাড়ি নিয়ে এসেছি।”
বললুম, “আমরা যে গাড়িতে আসব, তুমি তা জানলে কী করে?”
বিজু বলল, “আমরাও আজই সকালে এসে পৌঁছেছি। তো বাড়ি থেকে দুখানা গাড়ি স্টেশনে এসেছিল তখন। বাবুরা তার একটা নিয়ে বাড়ি চলে গেলেন, আর আমাকে বললেন, তুই একটা গাড়ি নিয়ে শহরেই থেকে যা, ভাদুড়িসাহেব আর চ্যাটার্জিসাহেব হয়তো ধৌলি এক্সপ্রেসেই চলে আসবেন, যদি আসেন তা হলে একেবারে তাঁদের নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিবি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “বাবুদের ওই একটা গাড়িতেই হয়ে গেল?”
“তা কেন হবে না? ওঁরা তো মাত্র তিনজন।”
“তার মানে দীপক আর রাজেশ আসেনি?”
“দীপকবাবুর টিকিট কাল পাওয়া যায়নি। উনি আজ রাত্তিরের গাড়িতে উঠে কাল সকালে এসে পৌঁছবেন।”
“আর রাজেশ?”
“তিনি আসবেন না। কলকাতায় তাঁর কী কাজ রয়েছে।”
কিন্তু আমরা যে আজ ধৌলি এক্সপ্রেসে আসছি, বঙ্কুবাবু সে-কথা বুঝলেন কী করে? ভাদুড়িমশাইকে জিজ্ঞেস করলুম, “আপনি কি বঙ্কুবাবুকে বলে রেখেছিলেন?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ধৌলি এক্সপ্রেসেই যে আসব, তা বলিনি। শুধু বলেছিলুম যে, তোমরা যে-দিন পৌঁছচ্ছ, আমরাও সেইদিন পৌঁছব, তবে ভোরে নয়, দুপুরে। তা চালাক মানুষ তো, ওর থেকেই যা বুঝবার ঠিক বুঝে নিয়েছে।”
কথা বলতে-বলতে আমরা স্টেশনের বাইরে চলে এসেছিলুম। প্রাইভেট গাড়ি রাখবার জায়গাটা একটু দূরে। বিজু বলল, “আপনারা এখানে একটু অপেক্ষা করুন। আমি গিয়ে গাড়িটা নিয়ে আসছি।”
মিনিট দুই-তিনের মধ্যেই গাড়ি আমাদের সামনে এসে দাঁড়াল। দরজা খুলে দিয়ে বিজু বলল, “উঠুন স্যার।”
গাড়িতে উঠে ভাদুড়িমশাই বললেন, “একটা কথা জিজ্ঞেস করি বিজু। সকাল থেকে তো এইখানেই রয়েছ, তোমার স্নান-খাওয়াদাওয়া নিশ্চয় হয়নি?”
বিজু বলল, “ও নিয়ে ভাববেন না স্যার, আমার বাড়ি তো এইখানেই, বাড়ি থেকে ও-সব সেরেসুরে এসেছি। রোজ আমি এইখান থেকে ডিউটি করতে যাই, তারপর ডিউটি সেরে ফের বাড়িতে ফিরে আসি।”
গাড়ি চলতে শুরু করল।
ভুবনেশ্বর যে কলকাতা কি বোম্বাইয়ের মতো মস্ত শহর, তা নয়, তবে স্বাধীনতার পরে এখানকার যে নতুন এলাকাটা গড়ে উঠেছে, সেটা বেশ ছড়ানো। রাস্তাগুলো চওড়া-চওড়া, বসতিগুলি ঘিঞ্জি নয়, জায়গায় তুলনায় লোকসংখ্যা এখনও কমই বলতে হবে, কেউ কারও ঘাড়ের উপরে নিশ্বাস ফেলছে না, নতুন বলেই কিছু বাড়ি বেশ হাল ফ্যাশনের, মাঝে মাঝেই পার্ক। সব মিলিয়ে রীতিমত ঝকঝকে চেহারা।
বিজু বলল, “আপনারা কি কয়েকটা দিন থাকবেন স্যার?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কেন বলো তো?”
“যদি থাকেন, তো এর মধ্যে একদিন নন্দনকানন থেকে আপনাদের ঘুরিয়ে আনি। এখানে যত সাদা বাঘ আছে, আর কোনও চিড়িয়াখানায় তা নেই।”
আমার দিকে তাকিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “নন্দনকাননটা কী জানেন তো? এখানকার চিড়িয়াখানা।” তারপর বিজুর উদ্দেশে বললেন, “না হে বিজু, কথাটা তো ভালই বলেছ, কিন্তু এ-যাত্রায় বোধহয় সময় করতে পারব না।”
শহরের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে গাড়ি একটু বাদেই হাইওয়েতে গিয়ে পড়ল। এই হাইওয়ে ধরে পুরী চলে যাওয়া যায়। দূরত্ব বেশি নয়, মাত্রই ষাট কিলোমিটার। এখন ভরদুপুর, কিন্তু টুরিস্ট বাস চলার কামাই নেই। পুরী, কোণার্ক, ভুবনেশ্বর—পর্যটক-পরিক্রমার এই যে ত্রিভুজাকৃতি পথ, আজকাল দেখছি অনেকে একে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল বলতে শুরু করেছেন! বলতেই পারেন, কারণ পুরী কিংবা ভুবনেশ্বরে যাঁরা ছুটি কাটাতে আসেন, নিতান্ত একটা জায়গা দেখে তাঁরা খুশি হন না, তিনটেই তাঁদের দেখা চাই। ফলে, কন্ডাকটেড টুরের অজস্র অফিস আজকাল গজিয়ে উঠেছে সর্বত্র। তাদের লাক্সারি কোচ এই রাস্তা দিয়ে অনবরত ছুটছে। এয়ার-কন্ডিশন্ড কোচ, ভিডিও কোচ, কোনওটারই কিছু অভাব নেই। পথেই পড়ে বলে যেমন খন্ডগিরি-উদয়গিরি তেমন ধৌলির জাপানি বুদ্ধমন্দিরও তারা টুরিস্টদের দেখিয়ে দেয়।
গাড়ির জানলা থেকেই পাহাড়চূড়ার সেই ধরধবে সাদা মন্দির আমি দেখতে পেয়েছিলুম। জায়গাটা যে ভুবনেশ্বরের খুব কাছে, ভাদুড়িমশাই সে-কথা আমাকে আগেই বলেছিলেন, কিন্তু তাই বলে যে এত কাছে, তা আমি ভাবিনি।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমরা ধৌলিতেই যাচ্ছি বটে, তবে মন্দিরের দিকে নয়। নদী পার হয়ে বাঁ-দিকে একটা রাস্তা পড়বে। সেই রাস্তা ধরে খানিক এগোলেই বঙ্কুর বাড়ি। একদম নদীর ধারে, কাছেপিঠে অন্য কোনও ঘরবাড়ি নেই। বঙ্কু আসলে একটু নিরিবিলি থাকতে ভালবাসে, ভিড়ভাট্টা পছন্দ করে না।”
বললুম, “সে তো বুঝতেই পারছি। ভিড়ভাট্টাই যদি পছন্দ করবেন, তা হলে আর এমন জায়গায় বাড়ি করবেন কেন, ভুবনেশ্বর শহরেই তো থাকতে পারতেন।
দেখতে দেখতে নদী এসে গেল। ভাদুড়িমশাই বললেন, “নদীটার নাম জানেন?”
বললুম, “না।”
“দয়া। বড় বিচিত্র নাম।”
“নামটাকে বিচিত্র বলছেন কেন?”
“এইজন্যে বলছি যে, এই দয়া নদীর ধারেই বড় নির্দয় একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। নদীর পাশের মাঠটা দেখছেন তো? এই মাঠেই হয়েছিল অশোকের কলিঙ্গজয়ের যুদ্ধ। গোটা নদী ভরে গিয়েছিল মানুষের রক্তে। সেই রক্তধারা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন চন্ডাশোকও। তা নইলে আর তিনি ধর্মাশোক হয়ে উঠবেন কেন?”
দয়া নদীর ব্রিজ পেরিয়ে গাড়ি বাঁ-দিকের পথ ধরল। বেশি দূর যেতে হল না। খানিকটা এগিয়েই বিজু বলল, “আমরা এসে গেছি স্যার।”
বঙ্কুবাবু যে বিরাট বড়লোক, সেটা জানতুম। তাই ধরেই নিয়েছিলুম যে, তাঁর বাড়িটাও বেশ বড় মাপেরই হবে। এখন দেখলুম, বাড়ি নেহাতই একটা নয়, তিনটে। গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলে বাঁ-দিকে আউটহাউস, ডানদিকে কাজের লোকদের কোয়ার্টার্স। তারপরে মস্ত লন। লনের দু-দিক দিয়ে দুটো চওড়া রাস্তা গিয়ে মূল বাড়ির গাড়িবারান্দার সামনে পৌঁছেছে। রাস্তার দু-দিকে দেবদারুর সারি। গাছগুলোর ফাঁকে-ফাঁকে নানা রকমের দেশি-বিদেশি ফুলের টব।
মূল বাড়িটা বাংলো প্যাটার্নের, দোতলা। বঙ্কুবাবু চোখে খুবই কম দেখেন বটে, কিন্তু তাঁর শ্রবণশক্তি নিশ্চয়ই খুব প্রখর। বাড়িতে গাড়ি ঢুকবার শব্দ পেয়েই তিনি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু আমরাই এসেছি, সম্ভবত সেটা বুঝতে পারেননি বলেই বিশেষ হাসছিলেন না। ভাদুড়িমশাই গাড়ি থেকে নেমে বললেন, “আমরা এসেছি বঙ্কু।”
এতক্ষণে হাসি ছড়িয়ে পড়ল বঙ্কুবাবুর মুখে। হাত বাড়িয়ে ভাদুড়িমশাইকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “তোমার কথার যে কখনও কোনও নড়চড় হয় না, সে তো সেই ছেলেবেলা থেকেই দেখে আসছি। এসো, এসো।”
গাড়ি থেকে বিজু আমাদের হ্যান্ডব্যাগ দুটো নামিয়ে এনেছিল। ব্যাগ দুটো কোথায় রাখবে, জিজ্ঞেস করতে বঙ্কুবাবু বললেন, “দোতলার পুব-দক্ষিণ-খোলা ঘরটায় এঁরা থাকবেন, সেইখানেই রেখে আয়।” তারপর ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমরাও বিজুর সঙ্গে দোতলায় চলে যাও। কিন্তু দেরি কোরো না, হাতমুখ ধুয়েই নীচে চলে এসো। তোমরা তো নিশ্চয় স্নান করে বেরোওনি?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমি করেছি, কিন্তু কিরণবাবু সম্ভবত করেননি। তবে আমি বলি কী, এত বেলায় কিরণবাবুরও আর স্নান করে কাজ নেই, বরং বিকেলে স্নান করে নেবেন।”
বঙ্কুবাবু বললেন, “সেই ভাল। আড়াইটে বাজে, উপর থেকে ঘুরে এসে তোমরা খেতে বসে যাও।”
বিজু আমাদের দোতলায় পৌঁছে দিয়ে বলল, “আমি বরং একটু দাঁড়াই। আপনারা মুখ-হাত ধুয়ে নিন, তারপরে আপনাদের খাবার ঘরে নিয়ে যাব।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “দরকার হবে না, আমি তো এ-বাড়িতে আগেও এসেছি, তুমি যেতে পারো।”
বিজু চলে গেল।
আমরাও একটু বাদে নীচে নেমে এলুম। বঙ্কুবাবু ডাইনিং হলে আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছিলেন। বললেন, “ডলি আর রামু খেয়ে নিয়েছে। তোমরা যে সত্যিই এই ট্রেনে আসবে, তা ওরা বিশ্বাসই করতে পারেনি। নয়তো ওরাও তোমাদের জন্যে অপেক্ষা করত।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তুমিও খেয়ে নিলেই বুদ্ধির কাজ করতে। তা ওরা কোথায়? একজনকেও তো দেখছি না।”
“ট্রেনে কাল ওদের একজনেরও ঘুম হয়নি। দুজনেই ঘুমিয়ে নিচ্ছে। ডেকে দেব?”
“আরে না না, ডাকবার দরকার নেই। রাত্তিরে তো দেখা হচ্ছেই।”
বঙ্কুবাবু বললেন, “রাত্তিরে কেন, বিকেলেই দেখা হবে।”
“বিকেলে আমি থাকছি না।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “একবার ভুবনেশ্বরে যেতে হবে। ফিরতে-ফিরতে একটু রাত হয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে ভেবো না। … ও হ্যাঁ, একটা কথা, বোম্বাইয়ে গোটা দুই-তিন ফোন করা দরকার।”
“সে তো তোমার ঘর থেকেই করতে পারো। এস টি ডি-র ব্যবস্থা রয়েছে। স্ট্রেট ডায়াল করবে, কোনও অসুবিধে নেই। বোম্বাইয়ের কোড নাম্বার হল জিরো ডাব্ল টু।”
“ঠিক আছে, তা হলে ওই কথাই রইল।”
খাওয়া শেষ হয়েছিল। আমরা উঠে পড়লুম।”
দোতলায় উঠে ভাদুড়িমশাই বললেন, “চলুন, চট করে একবার ছাত থেকে ঘুরে আসি।” বিরাট ছাত। এ-বাড়ির কম্পাউন্ডটা যে কত বড়, ছাতে না উঠলে সেটাও আমি বুঝতে পারতুম না। যেমন সামনে, তেমন পিছন দিকেও বিস্তর জমি। সামনে যেমন লন, পিছনে তেমন সুইমিং পুল। তারও পিছনে অনেকখানি জায়গা জুড়ে বাগান। পুব দিকের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়াতে নদীটাও চোখে পড়ল। জমি সমতল নয়, একটু ঢেউ-খেলানো। গোটা কম্পাউন্ডই উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। এতই উঁচু যে, কোনও দিক থেকেই পাঁচিল ডিঙিয়ে কারও ভিতরে ঢোকা সম্ভব নয়।
ভাদুড়িমশাইকে সে-কথা বলতে তিনি বললেন, “যদি বা, কেউ ঢোকে, সে বেরুবে কী করে? অসম্ভব। অথচ এই ছাতেই নাকি রামুর গলা টিপে ধরা হয়েছিল। লোকটা কী করে পাঁচিল ডিঙিয়ে পালিয়ে গেল, তাই ভাবছি।”
বললুম, “কাজটা যে বাইরের কারও, তা ভাবছেন কেন? ভিতরের কারও তো হতে পারে।”
“তা পারে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ভূতের হওয়াও কিছু বিচিত্র নয়। চলুন নীচে যাওয়া যাক।”
দোতলায় নেমে ভাদুড়িমশাই বললেন, “এবারে বোম্বাইয়ে তিনটে ফোন করতে হবে।”
“কাকে?”
“একটা আমাদের বোম্বাই-এজেন্টকে, আর দুটো দুই বঙ্কুকে। আজ তো রবিবার, অফিস ছুটি। দেখি বাড়িতে পাওয়া যায় কি না। যদি পাই তো ওদের ছুটির বারোটা বেজে গেল!”
দুজনকে পাওয়া গেল। বোম্বাই অফিসের এজেন্টকে আর দুই বঙ্কুর একজনকে। অন্যজন নাকি ছুটি কাটাবার জন্যে শুক্রবার বিকেলেই লোনাভুলা চলে গিয়েছেন, সোমবার সকালের আগে ফিরবার আশা নেই।
যে দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেল, ভাদুড়িমশাই তাঁদের একই কথা বললেন। বোম্বাইয়ে যাঁরা ক্রিকেট-কোচিং দেন, তাঁদের প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করতে হবে, নিশাকর ঘোষ নামের কোনও বাঙালি ছেলেকে তিনি কোচ করেন কি না। যদি তাঁদের কেউ এমন কথা বলেন যে, হ্যাঁ, ওই নামে কাউকে কিছুদিন আগেও তিনি কোচ করতেন, কিন্তু এখন আর করেন না, তা হলে জেনে নিতে হবে, কবে থেকে সে কোচিং ক্যাম্পে আসা বন্ধ করেছে।
ওদিক থেকে কে কী বলেছিলেন, জানি না, তবে ভাদুড়িমশাই দেখলুম ফোন নামিয়ে রাখবার আগে দুজনকে একেবারে একই নির্দেশ দিলেন। “ও ইয়েস, ই’ট্স এক্সট্রিমলি আর্জেন্ট, অ্যান্ড আই লুক ফরওয়ার্ড টু হিয়ারিং ফ্রম ইউ।”
কথা শেষ হল। ভাদুড়িমশাই বললেন, “একটু বাদেই আমি বেরিয়ে যাচ্ছি। ফিরতে হয়তো রাত হবে। তার মধ্যে বোম্বাই থেকে কোনও কল্ আসবে বলে বিশ্বাস করি না। কিন্তু কাল সকালেও আমার এখানে থাকবার আশা কম। সম্ভবত আটটা নাগাদ বেরিয়ে গিয়ে বারোটা-একটার মধ্যে ফিরব। তো আমি থাকব না, সেই সময়ে যদি বোম্বাই থেকে কেউ আমার খোঁজ করে, তা হলে মেসেজটা আপনি রেখে দেবেন।”
বললুম, “আমাকে কোনও মেসেজ দিতে যদি ওরা রাজি না হয়?”
“দেবে। একটা কোড-নাম্বার মনে রাখুন, ফাইভ জিরো ডাব্ল এইট। এই নাম্বারটা কোট করলেই দেবে। …আপনি বিশ্রাম নিন, আমি ভুবনেশ্বরে চললুম।”
কোড-নাম্বারটা আমার পকেট-ডায়েরিতে টুকে নিতে-নিতে বললুম, “চলুন, আপনাকে নীচে পৌঁছে দিয়ে আসি।”
নীচে নেমে দেখলুম, বঙ্কুবাবু তখনও শুতে যাননি, ড্রইংরুমে বসে আছেন। সামনে দাঁড়িয়ে পীতাম্বর তাঁকে কিছু বলছিল। আমরা ঘরে ঢুকতে সে চুপ করে গেল।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমি ভুবনেশ্বরে যাচ্ছি বঙ্কু। ফিরতে যদি বেশি রাত্তির হয়, তা হলে আর আমার জন্যে বসে না-থেকে তোমরা খেয়ে নিয়ো।”
বঙ্কুবাবু বললেন, “একটু বোসো। ড্রাইভারদের কাউকে ডেকে পাঠাই।”
“ড্রাইভার শুধু গাড়িটা বার করে দিক, সঙ্গে যেতে হবে না। এদিককার পথঘাট তো সবই আমার চেনা।”
পীতাম্বর গিয়ে ড্রাইভারদের খবর দিয়ে এল। তার কয়েক মিনিট বাদেই একটা কটেসা দেখলুম গাড়িবারান্দার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ড্রাইভারের কাছ থেকে চাবিটা নিয়ে ভাদুড়িমশাই গিয়ে গাড়িতে উঠলেন। আমি আবার উপরে চলে এলুম।
