ব্রিফকেস রহস্য (কর্নেল সিরিজ) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

শেয়ার করুনঃ

দুই 

 

সৌম্য ও অরিত্র খুব ভোরে ঝিলের জলে রোয়িং করছিল।

 

বাউন্ডারি ওয়ালে ঘেরা প্রায় তিরিশ একর বাগানবাড়ির পূর্বসীমানায় একতলা আউটহাউস। তার নিচে পুরনো ঘাট। এই শরতের ঝিলের জল ঘাটের বেশ কয়েকটা ধাপ বুকের তলায় আশ্রয় নিয়েছে।

 

ঝিলটা এখানে বিস্তীর্ণ। উত্তরে সাদাফুলে ভরা ঘন কাশবন। দক্ষিণে বাঁধের গায়ে এলোমেলো জঙ্গল। পশ্চিমে কিছুটা দূরে হাইওয়ের ওপর উঁচু ব্রিজ। পূর্বে ঝিলটা সংকীর্ণ হতে হতে বাঁক নিয়েছে। সেদিকে এখন নীলচে কুয়াশার পর্দা ঝুলছে।

 

এক চক্কর রোয়িং করে সৌম্য ঝিলের মাঝামাঝি পৌঁছে বলল, এনাফ। একটু রেস্ট নেওয়া যাক।

 

অরিত্র বলল, এই ঝিলের মালিকও কি তোমার মামাবাবু?

 

সৌম্য হাসল। নাহ্। ফিশারিজ ডিপার্টমেন্ট। তবে এটা আসলে কোনও পুরনো নদীর–কী বলব? স্মৃতিরেখা।

 

রেখাটা ঠিক ফিট করছে না।

 

করবে। আরও পূর্বে গেলে।

 

চলো, যাই।

 

যাওয়া যাবে না। জাল পাতা আছে। ওদিকটায় মামাবাবুর তদ্বিরে। ফিশারিজ কোঅপারেটিভ হয়েছে।

 

এই ঝিলটার কোনও নাম থাকা উচিত।

 

আছে। ডাইনির ঝিল।

 

সে কী।অরিত্র হেসে ফেলল। এমন সুন্দর ঝিলের সঙ্গে ডাইনি-ফাইনির কী সম্পর্ক?

 

গ্রাম্য সুপারস্টিশন। ছোটবেলায় দিদিমার কাছে সব সাংঘাতিক সাংঘাতিক গল্প শুনেছি। জেলেরাও নাকি সন্ধ্যার পর এদিকে মাছ ধরতে আসত না। ওই ব্রিজ পেরিয়ে গেলে একটা পুরনো শোন আছে। কালীমন্দির ছিল। এখনও তার চিহ্ন আছে। সব মিলিয়ে একটা সুপারস্টিশন তৈরি হয়েছিল।

 

তুমি তো মাঝেমাঝে এখানে এসে থাকো বলেছিলে।

 

আসি। মা মামাবাবুর দেখাশোনার জন্য এখানেই থাকেন। তাই আসতে হয়। তা ছাড়া আমার ভালোও লাগে। বিশেষ করে জ্যোৎস্নারাতে ঝিলের জলে রোয়িং–জাস্ট ইমাজিন ইট।

 

তোমার ভয় করে না?

 

নাহ্।

 

তুমি একা?

 

তোমার মতো আমার কোনও স্মার্ট গার্লফ্রেন্ড নেই। থাকলেও তাকে এখানে আনা যেত না।

 

অরিত্র কৌতুক গায়ে নিল না। বলল, এই বোটটা তা হলে তুমিই তৈরি করিয়েছ?

 

না। এটা মামাবাবুর বোট। তার রোয়িংয়ের হবি ছিল।

 

উনি কি হুইলচেয়ারে বসেই রোয়িং করেন?

 

রিস্ক আছে। চাইলেও মা বাধা দেবেন।

 

ওঁর মাঝে মাঝে ক্র্যাচ ব্যবহার করা উচিত। সবসময় হুইলচেয়ার ব্যবহার করা ঠিক নয়।

 

করেন। বাথরুমে গেলে বা শোওয়ার সময়।

 

নিচে নামেন না?

 

দ্বারিককে দেখেছ। ও একটা দৈত্য। হুইল চেয়ারসুদ্ধ তুলে মামাবাবুকে বাগানে পৌঁছে দেয়। তারপর হোল এরিয়া চক্কর দিয়ে বেড়ান। বডিগার্ড জনি।

 

জনি?

 

অ্যালসেশিয়ান। কোনও আউটসাইডারকে বরদাস্ত করে না।

 

অরিত্র ঘড়ি দেখল। তারপর বলল, বটুকদা বলছিল, কোথায় নাকি প্লেনক্র্যাশ হয়েছিল। শুধু তোমার মামাবাবু বেঁচে যান।

 

হ্যাঁ। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের প্লেনে লন্ডন যাচ্ছিলেন। ইতালির ওই এরিয়ায় তখন রাফ ওয়েদার। প্লেনটা ক্র্যাশল্যান্ডিং করেছিল। সৌম্য একটু চুপ করে থাকার পর বলল, ছোটবেলা থেকে লক্ষ করেছি, মামাবাবুর একটা ইন্সটিংকট আছে–র্যাদার এ সিক্সথ সেন্স। ঠিক সময়ে এমার্জেন্সি ডোর খুলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তোমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব। ওঁর মুখেই শুনবে। খুব স্ট্রেঞ্জ অ্যান্ড থ্রিলিং এক্সপিরিয়েন্স। চলো। আর এক চক্কর ঘুরে আসি।

 

থাক। আমি এবার একটু ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করব।

 

দুজনে বোট নিয়ে ঘাটের দিকে এগোল। সৌম্য বলল, আচ্ছা, মাথায় টাক পেল্লায় গোঁফ ওই ভদ্রলোক কে?

 

তোমার সঙ্গে আলাপ হয়নি? খুব মালদার পার্টি। এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসা আছে। ফরেন ফিল্ম মার্কেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। অবিনাশদা ওঁকে পেয়ে বসেছেন, নাকি উনিই অবিনাশদাকে পেয়ে বসেছেন, আমি জানি না।

 

নাম কী ভদ্রলোকের?

 

রমেশ ভার্মা।

 

অবাঙালি?

 

হ্যাঁ। কিন্তু কথা বলে বুঝতে পারবে না। তবে ভদ্রলোকের একটা গুণ অস্বীকার করা যাবে না। আর্টফিল্ম বুঝুন বা না বুঝুন, ওয়েস্টার্ন অডিয়েন্স ইন্ডিয়ান ফিল্মের কাছে কী চায়, সেটা দারুণ বোঝেন!

 

অবিনাশদা বলছিলেন, তার এ ছবির থিম ডেকাডেন্স অব ইন্ডিয়ান ফিউড্যালিজম। এ কিন্তু বস্তাপচা হয়ে গেছে। সৌম্য হাসতে হাসতে বলল। আমার ভয় করছে। মামাবাবুকে না অ্যাপ্রোচ করে বসেন। মামাবাবু কোনও কোনও ব্যাপারে ভীষণ রিঅ্যাক্ট করেন।

 

অবিনাশদা তো এসেছিলেন।

 

হ্যাঁ। আলাপ করেও গেছেন। কিন্তু

 

সৌম্য ঘাটে লাফ দিয়ে নেমে একটা লোহার আংটার সঙ্গে বোটের দড়িটা বাঁধল। অরিত্র নেমে এসে বলল, কিন্তুটা হচ্ছে এই যে, আমি স্টোরিলাইনটাই জানি না। আমার রোলটাই বা কী, তাও জানি না।

 

নীতা সোম জানে। দ্যাটস অল।

 

দ্যাট আই ভেরি মাচ ডাউট।

 

জানে না বলছ?

 

অরিত্র খুবই আস্তে বলল, অবিনাশদার একটা ছবিতে আমি কাজ করেছি। একটা মাইনর রোলে। সে-ও প্রায় একবছর আগে। বড় পর্দার ছবির। এই। ছবিটা ছোট পর্দার জন্য। টিভি ফিল্ম।

 

সৌম্য ওর দিকে তাকাল। তাতে কী?

 

ছোট পর্দার জন্য এই লোকেশানের কী দরকার ছিল?

 

বুঝলাম না। অরিত্র ঘাটের মাথায় দাঁড়িয়ে জগিংয়ের ভঙ্গিতে এক্সারসাইজ করছিল। সৌম্য আবার বলল, কত বিখ্যাত টিভি ফিল্ম আউটডোর লোকেশানে তোলা হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের সদগতি।

 

অরিত্র বলল, পরে বলব।

 

সৌম্য শর্টস খুলে ঘাটের মাথায় রাখা প্যান্ট পরে নিল। তারপর পায়ে চটিজোড়া গলিয়ে নিল। কিছুক্ষণ অরিত্রের দিকে তাকিয়ে থাকার পর সে ঘাটের মাথায় বসল।

 

একটু পরে আউটহাউসের একটা ঘরের জানলা থেকে বটুকবাবু ডাকলেন, সৌম্য।

 

সৌম্য ঘুরে বসল। বলল, উঠেছেন দেখছি। রাত্রে বলছিলেন, আটটার আগে ওঠেন না।

 

উঠলাম। তো অরিত্র বাঁদরের মতো লাফায় ক্যানে?

 

এটাই নাকি অরিত্রের ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ।

 

খাইছে।

 

একটু পরে বটুকবাবু ডোরাকাটা রাত-পোশাকটা পরে বেরিয়ে এলেন। কাঁধে তোয়ালে। হাতে সাবান এবং পেস্টলাগানো টুথব্রাশ। সৌম্য বলল, আপনি কি ঝিলের জলে স্নান করবেন নাকি? না বটুকদা। জলে ভীষণ জোঁক আছে। বিলিভ মি।

 

আরে। ঘাট আছে। স্নান করা যাইব না? কও কী?

 

সত্যি বলছি। ঘাটটা শুধু রোয়িংয়ের জন্য। দাদামশাইয়ের আমলে নাকি এখানে পানসি বাঁধা থাকত। পানসি চেপে হাঁস মারতে যেতেন। মামাবাবুর একেবারে মডার্ন চালচলন।

 

বটুকবাবু বেজার মুখে বললেন, রাত্রে ভালো ঘুম হয় নাই। মশারি। তার ওপর হঠাৎ-হঠাৎ কারেন্ট বন্ধ।

 

অরিত্র আসন করার ভঙ্গিতে বসল। বলল, মশা এবং জোঁক। সাপও আছে বটুকদা। তা ছাড়া এই ঝিলটার নাম ডাইনির ঝিল। সাবধান।

 

হঃ। বলে বটুকবাবু ভেতরে ঢুকে গেলেন।

 

বটুক দত্ত বাংলা সিনেমার ভাষায় ব্যবস্থাপক বা তত্ত্বাবধায়ক। তাছাড়া তাঁকে এই টিমের সবরকম দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

আউটহাউসের মধ্যিখানে একটা চওড়া করিডর। তার একদিকে প্রায় হলঘরের মতো বড় একটা ঘর। অন্যদিকের ঘরটা ছোট। বড় ঘরটার লাগোয়া বাথ এবং স্যানিটারি ল্যাট্রিন। কাল দুপুরে সৌম্য এসে সব সাফসুতরো করিয়েছিল। সামনে খুঁটি পুঁতে তেরপল টাঙিয়ে অস্থায়ী কিচেনের ব্যবস্থাও হয়েছে। ঘাসের ওপর একটা লিমুজিন এবং একটা ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে। একসময় ওখানে ফুলবাগিচা ছিল। এই আউটহাউসে বারীন্দ্রনাথের গণ্যমান্য বন্ধুরা এসে থাকতেন। এখান থেকে সুরকি-বিছানো সংকীর্ণ একটা রাস্তা দোতলা বাগানবাড়ির পার্টিকোর পাশ দিয়ে ঘুরে পশ্চিমের ফটকে পৌঁছেছে। বিশাল ফটকের পর একটা প্রাইভেট রোড এগিয়ে গিয়ে হাইওয়ের সঙ্গে মিশেছে। সেখানে একটা মরচেধরা লোহার খুঁটির মাথায় আটকানো ফলকে লেখা প্রাইভেট রোড কথাটা ক্ষয়ে গেছে।

 

বাড়িটার নাম বিশ্রাম। বারীন্দ্রনাথের ঠাকুরদা সুরেন্দ্রনাথ ছিলেন চণ্ডীতলা মহালের জমিদার। এটা ছিল আসলে তার কাছারিবাড়ি। সেই আমলে চণ্ডীতলা ছিল জেলাবোর্ডের পিচরাস্তার ধারে একটা সমৃদ্ধ গ্রাম। স্বাধীনতার পর ক্রমে ক্রমে চণ্ডীতলা মফস্বল শহর হয়ে উঠেছে। প্রায় সাড়ে তিন মাইল দূরে ঝিলের ধারে এই নিরিবিলি পরিবেশে উঁচু তিরিশ একর মাটি তাকে টেনেছিল। বারীন্দ্রনাথের বাবা সৌরীন্দ্রনাথ হাওয়া বুঝে চলতেন। স্বাধীনতার আগেই রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বাবার কাছারিবাড়ি দ্রুত বাউন্ডারি ওয়ালে–ঘিরে ফেলেন। স্বাধীনতার পর ভোটে জিতে মন্ত্রী হন। আত্মরক্ষার একটা লড়াই।

 

বারীন্দ্রনাথ ছিলেন অন্য ধাতের মানুষ। তার কিছু আদর্শবাদ ছিল। তাঁর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া সেই আদর্শবাদের তাগিদে। তার পার্টি তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। লোকসভার আসনে তিনি বিপুল গরিষ্ঠতায় জিতে যান। কিন্তু তারপর তার মোহভঙ্গ হতে থাকে। টার্ম শেষ হওয়ার পর আর সক্রিয় রাজনীতি করেননি। ক্রমশ নিজেকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে এনেছিলেন। এলাকায় নানা রকম সমাজসেবার কাজে নামেন। দু বছর আগে তাঁর জীবনে ঘটে যায় আকস্মিক এক দুর্বিপাক।…

 

অরিত্র তার এক্সারসাইজ শেষ করে বলল, ঝিলের জলে সত্যি জোঁক আছে নাকি?

 

সৌম্য বলল, আছে। তুমি এক মিনিট জলে পা ডুবিয়ে দেখে নিতে পারো।

 

তোমার মামাবাবু কি জোঁক পোষেন?

 

সৌম্য হাসল। একটা গল্প কিন্তু চালু আছে।

 

কী গপ্প?

 

দাদামশাইয়ের বাবা নাকি ঝিলে জোঁক ছেড়েছিলেন। প্রজারা বদমাইশি করলে ঝিলের জলে অদের ফেলে দিতেন। তারা রক্তশূন্য হয়ে মারা পড়ত। এই জোঁকগুলো সেই থেকে বংশানুক্রমে ম্যানইটার হয়েছে।

 

জোঁক নয় তাহলে। জোক!

 

গল্পটা সত্যি হতেও পারে। আগের দিনে কোনও কোনও জমিদার মূর্তিমান টেরর ছিল!

 

সৌম্য উঠে দাঁড়াল। তারপর আস্তে বলল, ফিল্মের ব্যাপারে কি যেন বলছিলে?

 

বলেছি তো। পরে বলব।

 

জাস্ট একটু হিন্ট দাও না?

 

প্লিজ সৌম্য। ইনসিস্ট কোরো না। অরিত্র তার একটা হাত ধরে পা বাড়াল। তারপর আউটহাউসের করিডরে ঢুকে বলল, তোমার মামাবাবুর সঙ্গে একটু আলাপ করতে চাই। অবিনাশদা এসে গেলে আর সুযোগ পাব না।

 

আচ্ছা দেখছি। বলে সৌম্য এগিয়ে গেল। অরিত্র তাকে একটা অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।

 

হলঘরে ঢুকে সে দেখল, দ্বারিক আর বাবুরাম ঝাড়পোঁছে ব্যস্ত। সুদক্ষিণা সিঁড়ির ধাপে নির্দেশ দিচ্ছেন। সৌম্যকে দেখে বললেন, হ্যাঁ রে। ডাইরেক্টর ভদ্রলোক কখন পৌঁছুবেন বলেছেন?

 

এগারোটা নাগাদ। কেন?

 

আগেভাগে সব সাজিয়েগুছিয়ে রাখাই ভালো। কিন্তু একটা কথা ভাবছি। চল, তোকে দেখিয়ে নিই।

 

সুদক্ষিণা নেমে এসে দক্ষিণের একটা ঘরে ঢুকলেন। সৌম্য দেখল, দরজায় সাবেক আমলের ভেলভেটের নকশাকাটা পর্দা ঝোলানো হয়েছে। ঘরে ঢুকে সুদক্ষিণা বললেন, এই ঘরে দেশের বিখ্যাত লোকেরা এসে থেকেছেন। আমি ভাবছি, তোদের হিরোইন এসে যদি বলে, এ ঘর তার পছন্দ নয়। ফিল্মের মেয়েদের একটু উঁট হয়।

 

সৌম্য একটু হেসে বলল, সে অবিনাশদা দেখবেন। উনি নিজেই তো দেখে গেছেন।

 

ফ্যামিলির মান-সম্মানের প্রশ্ন, সৌম্য। তেমন কিছু ঘটলে দাদা রেগে যাবেন।

 

ঘটবে না। নীতা সোম সুপারস্টার নয়।

 

সুদক্ষিণা একটু ইতস্তত করার পর খুব আস্তে বললেন, তুই যে ফিল্মম্যাগাজিনটা এনে দাদাকে দিয়েছিস, ওতে নীতা সোমের ছবি আছে।

 

কিছুক্ষণ আগে দাদা বলছিলেন, মেয়েটিকে চেনা লাগছে। খুলে কিছু বললেন না। কিন্তু লক্ষ্য করলাম, দাদা ভীষণ গম্ভীর হয়ে আছেন। সবসময় হাসিখুশি মানুষ। হঠাৎ যেন কেমন বদলে গেছেন।

 

আমি দেখছি। বলে সৌম্য বেরিয়ে গেল…

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *