এগারোর অঙ্ক (কর্নেল সিরিজ) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

শেয়ার করুনঃ

 

আকস্মিক যোগসূত্র

কর্নেল, আমি বিপন্ন।

 

ডার্লিং আজকাল সবাই বিপন্ন। তাহলেও তোমার বিপন্ন হওয়ার কারণ তো দেখছি না। আবার কি নকশাল অভ্যুত্থান ঘটেছে? কাগজটাগজ তত পড়ি না। ভাল লাগে না। বয়সও একটা কারণ আর

 

কর্নেল! প্লিজ, শুনুন।

 

শুনছি। বলো।

 

আমি আধঘণ্টার মধ্যে যাচ্ছি। সি পি’র ঘরে একটা জরুরি কনফারেন্স চলছে। একবার ঢু মেরেই আপনার কাছে হাজির হবো পাছে আপনি কোথায় কোন দুর্লভ প্রজাতির পোকামাকড় বা গাছপালার খোঁজে বেরিয়ে যান, তাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে রাখলাম। বেরুবেন না যেন।

 

অরিজিৎ! মানুষের মধ্যে আজকাল তত বেশি রহস্য নেই–প্রায় সবই জানা হয়ে গেছে। তাই আমি প্রকৃতি রহস্যে তলিয়ে পড়তে চাইছি। দুর্লভ প্রজাতি বললে। কথাটার সত্যিকার তাৎপর্য যদি তোমার জানা থাকত ডার্লিং!

 

কর্নেল, ঘাট মানছি। বেঁফাস বলে ফেলেছি।

 

আচ্ছা, এস।

 

ফোন রেখে কর্নেল একটু হাসলেন। একালে পুলিশের গোয়েন্দা দফতরে ছেলেছোকরাদের রাজত্ব। এই ডি সি ডি ডি অরিজিৎ লাহিড়ী–এখনও গাল টিপলে দুধ বেরুনোর আশঙ্কা আছে। পুনা ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে বেরুনো ছেলে হঠাৎ কী খেয়ালে আই পি এস করে লালবাজারে ঢুকে পড়েছে। হা– বুদ্ধিমান, চতুর, প্রত্যুপন্নমতি। সামান্যতেই উৎসাহে চনমন করে ওঠে। কিন্তু বয়স জিনিসটার চেয়ে অভিজ্ঞতার পরিধিই এ লাইনে খুব কাজের জিনিস। যেমন ডাক্তারদের। আগের দিনে ডি সি ডি ডি মনেই তুম্বো মুখো পাকা কুমড়ো এক প্রৌঢ়। ঠোঁটের কোনায় সব সময় বাঁকা হাসি। খুনে ডাকাতের মতো চাউনি। আর অরিজিতের চোখ দুটো যুবতীদের মতো কোমল। জঘন্যতম অপরাধের মধ্যেও সে আর্টের রূপরেখা আবিষ্কার করতে চায়। অবশ্য কোনো কোনো মার্ডারেও আর্ট থাকে ব্ল্যাক আর্ট বলাই ভাল। কিন্তু সব আর্টের মতো ব্ল্যাক আর্টও বাজারের পণ্য হয়ে গেছে। গার্ডেনিংয়ের পোশাক খুলে কর্নেল হাত ধুয়ে এলেন বাথরুমের বেসিনে। তারপর চিঠি আর আতসকাচ বের করে ড্রয়িংরুমে বসলেন। এবার চিঠিটার ওপর আতসকাচ রেখে দেখতে থাকলেন হরফগুলো।

 

মানুষের হাতের লেখায় তার চারিত্রিক ছাপ ফুটে ওঠে। ভদ্রলোক যখন চিঠিটা লিখছিলেন, তখন মানসিক চাঞ্চল্য ছিল। উৎকণ্ঠা ছিল। গোপনেই লিখছিলেন বোঝা যায়। কিন্তু হরফের গড়ন বলে দিচ্ছে, উনি লেখালিখিতে অভ্যস্ত নন। প্রচুর রহস্য কথাটায় ওঁর রোমান্টিক মনের ছাপ আছে। তাড়াহুড়ো করে লিখলেও গুছিয়ে লিখতে পেরেছেন। তার মানে ব্যক্তিত্বপূর্ণ চরিত্র, খানিকটা হিসেবী। একটু জেদীও যেন। যেতে বলার মধ্যে সেটা আঁচ করা যায়।

 

বরদাবাবুর কথা লিখেছেন। বরদাবাবু ছিলেন দ্বারভাঙ্গা স্টেটের দেওয়ানের পুত্র। ম্যানেজার ছিলেন একসময়। পরে ইস্তাফা দিয়ে সেতাপগঞ্জে বাড়ি করেছিলেন। ভদ্রলোকের শিকারের বাতিক ছিল। ১৯৭৮ সালের মার্চে কর্নেল সেতাপগঞ্জ গিয়েছিলেন ভারত সরকারের লোকাস্ট রিসার্চ সেন্টারের একটা সেমিনারে। গঙ্গা নদীর অববাহিকায় সিস্টেসার্কা গ্রেগারিয়া প্রজাতির যে ঘাসফড়িংয়ের প্রজননক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, সেবারই তা ধ্বংস করা হয় পেস্টিসাইডস ছড়িয়ে। দেখতে নিরীহ ঘাসফড়িং হলেও ওগুলো পরবর্তী বিবর্তনে ডেজার্ট লোকাস্ট বা মরু পঙ্গপালে পরিণত হয় রাজস্থানে গিয়ে। এক শ্রেণীর পাখির মতো ওরাও পরিযায়ী। এ যেন যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। গাঙ্গেয় ঘাসফড়িং কালক্রমে পঙ্গপালে বিবর্তিত হয়ে রাজস্থান থেকে পশ্চিম এশিয়া আর আরব হয়ে আফ্রিকার সাহারায় যায়। তারপর সর্বনাশের মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকে আফ্রিকা জুড়ে। দুর্ভিক্ষের হাহাকার ওঠে কালো মানুষদের দেশে।

 

তো বরদাবাবুর সঙ্গে আলাপ ওই সূত্রে। গত বছর ওঁর মেয়ে বিবি সুনেত্রার চিঠিতে জানতে পেরেছিলেন, বরদাবাবু গঙ্গার চরে হাঁস মারতে গিয়ে নৌকাডুবি হয়ে মারা পড়েছেন। খুব সহৃদয় অমায়িক আর বন্ধুবৎসল ছিলেন বরদাভূষণ ত্রিবেদী। কর্নেল খুব বিচলিত হয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুসংবাদে।

 

উনি বেঁচে থাকলে আগে যোগাযোগ করে রুদ্ৰেন্দুবাবুর ব্যাপারটা জেনে নেওয়া যেত। সুনেত্রাকৈ লিখবেন? কিন্তু ইতিমধ্যে সুনেত্রার যদি বিয়ে হয়ে গিয়ে থাকে, রেলওয়ে রেস্টরুমে ওঠা যায়। দেখা যাক।

 

অরিজিৎ সটান ঢুকে বললেন, আসা করি লেট নই।

 

না। অবিশ্বাস্য, পনের মিনিটের মধ্যে এসে গেছ, ডার্লিং! বসো।

 

অরিজিৎ একটু অবাক হয়ে বললেন, সর্বনাশ! আপনার অসাধারণ চোখদুটো কি হঠাৎ বিশ্বাসঘাতক হয়ে উঠল, কর্নেল? আতস কাঁচ দিয়ে আপনাকে চিঠি পড়তে হচ্ছে যে!

 

চিঠিটা খামে ঢুকিয়ে হাসলেন কর্নেল। নাঃ! এও এক বাতিক তোমার বিবেচনায় দুর্লভ প্রজাতির কিছু খোঁজার মতো।

 

অরিজিৎ হাসতে লাগলেন। আপনার অভিমান এখনও যায়নি। ষষ্ঠী কফির ট্রে রেখে গেল। কর্নেল কফি ঢালতে ঢালতে বললেন, বৃদ্ধরা হয়তো একটু অভিমানী হয়।

 

বিশেষ করে আপনার মতো ক্রনিক ব্যাচেলাররা!

 

কর্নেল ওঁর হাতে কফির পেয়ালা তুলে দিয়ে বললেন, ক্রনিক শব্দটা অসুখবিসুখের সম্পর্কিত, ডার্লিং!

 

একস্যাক্টলি! বলেই চোখে একটা ভঙ্গি করলেন অরিজিৎ। না–আপনাকে রোগী বলছি না। যদিও বিয়ে না করে বুড়ো হয়ে যাওয়াটা একটা রোগ অবশ্য মানসিক। যেমন ধরুন আমাদের কমিশনার সাহেব। কিংবা ধরুন হোম সেক্রেটারি ভদ্রলোক। একা রামে রক্ষা নেই, তাতে লক্ষ্মণ দোসর! বাপস! প্রাণান্তকর অবস্থা একেবারে। বুঝুন, দুজনেই ব্যাচেলার এবং রিটায়ারিং এজের কিনারায় ঠেকেছেন। তাই যেন তর সইছে না। তাতে গোদের ওপর বিষফেঁড়ার মতো এক মন্ত্রীমশাইয়ের যন্ত্রণা।

 

কর্নেল কফিতে চুমুক দিয়ে একটু হাসলেন। কোনো মন্ত্রীর জামাইয়ের কলম চুরি গেছে বুঝি?

 

উঁহু-ভাগ্নের। তবে কলম চুরি নয়, বউঘটিত ব্যাপার। না, না–পালাননি ভদ্রমহিলা। মার্ডার হয়েছেন।

 

কর্নেল তাকালেন। অরিজিৎ কফিতে ঘনঘন চুমুক দিচ্ছিলেন। কর্নেল চুরুট বের করে হাল্কা গলায় বললেন, মার্ডার নিয়ে লালবাজার বিপন্ন! এ যে বানরে সঙ্গীত গায়, শিলা জলে ভেসে যায়, ডার্লিং! আর মার্ডারের কথা বলছ–এ তো আজকাল ডালভাতের সামিল। অরিজিৎ, তোমার ভেতর একজন আর্টিস্ট আছে জানতাম। ইদানীং মার্ডারের আর্ট কোথায়? সিধে খুনে বুদ্ধির চাতুর্য দরকার হয় না। কোনো ধুরন্ধর মেধার প্রয়োজন নেই। চিন্তাভাবনা অবান্তর। তুমি যে-কোনো একটা অস্ত্র তুলে নাও হাতে। অসংখ্য লোকের সামনে দাঁড়িয়ে কাউকে

 

ওয়েট প্লিজ। হাত তুললেন অরিজিৎ। এটা একজন মিনিস্টারের কেস। কিন্তু শুধু সে জন্যও নয়, ব্যাপারটা আগাগোড়া জটিল। আপনার ভাষায় আর্টিস্টিক এবং নিপুণ হাতের কাজ। কর্নেল চুরুট জ্বেলে পা ছড়িয়ে ইজিচেয়ারে হেলান দিলেন। চোখ বুজে বললেন, হুঁ বলো।

 

লেক প্লেসে একটা নতুন বাড়ি হয়েছে দশতলা–লেকভিলা নাম। তার সাততলায় একটা ফ্ল্যাটে থাকেন মৃগাঙ্ক ব্যানার্জি নামে এক ভদ্রলোক– মিনিস্টারের দূর সম্পর্কের ভাগ্নে তিনি। এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের কারবার আছে। এগারো জুলাই মর্নিং ফ্লাইটে মৃগাঙ্কবাবু বোম্বে যান। ফ্ল্যাটে তার স্ত্রী ঊর্মিমালা একা ছিলেন। ওইদিন বিকেল থেকে সারারাত বৃষ্টি ছিল! রাত নটা নাগাদ লোকাল থানায় কেউ ফোন করে জানায়, লেকভিলার সাততলায় তিন নম্বর ফ্ল্যাটে একটা গলাকাটা ডেডবডি পড়ে আছে। তার কয়েকমিনিট পরে ওই বাড়িরই একই ফ্লোরের দু নম্বর ফ্ল্যাট থেকে রঞ্জন অধিকারী নামে এক ভদ্রলোক ফোন করেন থানায়। তার কুকুর খুব ছটফট করছিল বাইরে যাবার জন্য। দরজা খুলে। দিলে কুকুরটা তিন নম্বর ফ্ল্যাটের দরজায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওই সময় লোডশেডিং ছিল। রঞ্জনবাবু দরজা নক করে কোনো সাড়া পান না। কুকুরের কাণ্ড দেখে একটু ভয়ও পেয়েছিলেন ভদ্রলোক। অন্য ফ্ল্যাটের লোকেদের ডেকে আনেন। তারপর হাতল টানাটানি করতেই দরজা খুলে যায়। তার মানে দরজা খোলা ছিল। দরজার কাছে ঊর্মিদেবীকে পড়ে থাকতে দেখেন। মাংসপোড়া গন্ধ পান।

 

মাংসপোড়া?

 

হ্যাঁ–পরনে সিন্থেটিক ফাইবারের নাইটি ছিল। পুড়ে মাংসের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। রঞ্জনবাবুরা সুইসাইড ভেবেই ফোন করে থানায়। কিন্তু শ্বাসনালী কাটা।

 

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কী বলেছে?

 

খুন করা হয়েছে শ্বাসনালী কেটে। পরে আগুন ধরে গেছে নাইটিতে। ভদ্রমহিলার হাতে মোমবাতি ছিল। সম্ভবত খুনীকে দরজা খুলে দেওয়ার সময় সে তাকে ধরে ফেলে এবং গলায় ড্যাগার চালিয়ে দেয়। মোমটা হাত থেকে পড়ে গিয়ে আগুন ধরে থাকবে। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে একটা অদ্ভুত কথা বলা হয়েছে। ঊর্মিদেবীর শরীরে–আই মিন ফিমেল অর্গানে সদ্য যৌনমিলনের প্রমাণ ছিল। এটা রেপ বলা মুশকিল। কারণ অন্য কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যাতে মনে হবে কেউ ওঁকে রেপ করেছিল। তবে বলা কঠিন। শি ওয়াজ ম্যাচিওর্ড।

 

প্রাণভয়ে যৌনমিলনে রাজি হলে অবশ্য অমনটা স্বাভাবিক।

 

আমাদের থিওরিও তাই। ঠিক দরজা খোলার মুখে খুনী ঊর্মিদেবীকে খুন করেছে, তাতে ভুল নেই। কিন্তু পোস্টমর্টমের আগে মনে হয়েছিল, খুনী ফ্ল্যাটে ঢুকেই খুনটা করেছে। চেঁচানোর সময় দেয়নি। পরে দেখা যাচ্ছে, ঊর্মিদেবীকে ভোগ করার পর

 

কর্নেল চোখ খুলে সোজা হলেন। তাহলে দরজার কাছে কেন? ঊর্মি নিশ্চয় দরজা খুলে তাকে বিদায় দিতে যাচ্ছিলেন কি?

 

অরিজিৎ তাকালেন। দ্যাটস এ পয়েন্ট। অনিচ্ছায় বা প্রাণভয়ে যৌনমিলনে রাজি হবে যে, সে লোকটাকে দরজা খুলে দিতে যাবে কেন?

 

যাবে–যদি সে ঊর্মির প্রেমিক হয়। ধরো, ঊর্মির সঙ্গে মিলনের পর দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ সে কর্নেল থেকে মাথাটা দোলালেন। নাঃ! খুনের ইচ্ছা নিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকলে সে কামনা মিটিয়ে নিয়ে বিছানাতেই ঊর্মিকে খুন করতে পারত। –ঠিক তাই করত। দরজার কাছে খুন করাটাই গণ্ডগোল বাধাচ্ছে। যাই হোক, কোনো সূত্র খুঁজে পেয়েছ কি ঘরে?

 

বলছি। কিন্তু আরও অবাক লাগে, বিছানায় কিন্তু তেমন কোনো চিহ্ন পাইনি–যাতে মনে হবে যে বিছানায় কিছু ঘটেছিল। ইন্সপেক্টর মোহনবাবুর মতে, মেঝেয় ব্যাপারটা ঘটে থাকবে।

 

বিছানার অবস্থা কেমন ছিল?

 

বেডকভার চাপানো। বেডশিটও নির্ভজ। অরিজিৎ এতক্ষণে সিগারেট ধরালেন। বেডরুমের মেঝেয় একটা বিদেশী লাইটার পড়ে ছিল। মৃগাঙ্কবাবু পরদিন বিকেলের ফ্লাইটে ফিরে আসেন। লাইটারটা তাকে দেখানো হয়েছে। ওঁর নয়। ডগস্কোয়াড থেকে রেক্সিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। লাইটার শুঁকে সিঁড়ি দিয়ে নিচের ফুটপাত পর্যন্ত গিয়ে রেক্সি থেমে যায়। সম্ভবত খুনী গাড়ি চেপে এসেছিল। তবে লাইটারে আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে।

 

মৃগাঙ্কবাবুর আঙুলের ছাপ নিয়েছ?

 

হ্যাঁ। তাঁর আঙুলের ছাপ নয়।

 

মৃগাঙ্কবাবুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন ছিল খোঁজ নিয়েছ?

 

হ্যাঁ। তেমন কোনো খারাপ সম্পর্ক ছিল না এটুকু বলা যায়। তাছাড়া ওঁরা প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। গতবছর জুনে ওঁদের বিয়ে হয়েছিল। এবং হয়তো জাস্ট কোইনসিডেন্স–বিয়ের তারিখও ১১।

 

ঊর্মিদেবীর আগের জীবন সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছ কি? ওঁর প্রেমিক ছিল কি—

 

ব্যাপারটা হল, ভদ্রমহিলার বাবার বাড়ি বিহারে। পাটনা কলেজের গ্রাজুয়েট ঊর্মি। কলকাতায় মামার বাড়ি ভবানীপুরে। সেখানে থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে এম এ পড়তে এসেছিলেন। তারপর মৃগাঙ্কবাবুর সঙ্গে ঘটনাচক্রে এক বিয়েবাড়িতে আলাপ, তারপর প্রেম, তারপর পড়াশোনা খতম করে বিয়ে। মৃগাঙ্কবাবু লোকটিকে আমার সরল মনে হয় না অবশ্য।

 

কর্নেল তাকিয়ে ছিলেন অরিজিতের দিকে! আস্তে বললেন, বাবার বাড়ি বিহারে? কোথায়?

 

ভাগলপুরের কাছে কী গঞ্জ যেন। ওয়েট, বলছি। অরিজিৎ ব্রিফকেস খুলতে ব্যস্ত হলেন।

 

সেতাপগঞ্জ নয় তো? কর্নেল আস্তে বললেন।

 

অরিজিৎ একটু চঞ্চল হলেন হঠাৎ। কেন? চেনা মনে হচ্ছে নাকি? বলে নোটবই বের করে গম্ভীর হলেন আগের মতো। বলেছি কেসটা জটিল। কারণ। মাস তিনেক আগে ওঁর বাবাকেও ঠিক একইভাবে কেউ শ্বাসনালী কেটে খুন করেছিল। বিহার পুলিশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। হ্যাঁ–ইউ আর রাইট। সেতাপগঞ্জ। রুদ্রেন্দুপ্রসাদ রায়চৌধুরি।

 

হোয়াট? কর্নেল উত্তেজিতভাবে উঠে দাঁড়ালেন।

 

অরিজিৎ বললেন, হ্যাঁ–সেতাপগঞ্জের রুদ্রেন্দুপ্রসাদ রায়চৌধুরি।…..

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *