শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাণী সংকলন ও উক্তি

শেয়ার করুনঃ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক। তাঁর রচিত উপন্যাসগুলিতে তিনি মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। এছাড়াও তিনি অনেক ছোট গল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর রচনা গুলি বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর উক্তিগুলিও অত্যন্ত চিন্তাশীল ও গভীর। এখানে তাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি দেওয়া হল:

 

  • যাহাকে ভালোবাসি সে যদি ভালো না বাসে, এমনকি ঘৃণাও করে তাও বোধ করি সহ্য হয়! কিন্তু যাহার ভালোবাসা পাইয়াছি বলিয়া বিশ্বাস করেছি, সেইখানে ভুল ভাঙ্গিয়া যাওয়াটাই সবচেয়ে নিদারুন। পূর্বের টা ব্যাথা দেয়। কিন্তু শেষের টা ব্যাথাও দেয়, অপমান ও করে।
  • যাকে তাকে গছিয়ে দেওয়ার নামই বিবাহ নয়! মনের মিল না হলে বিবাহ করাই ভুল।
  • অতীত মুছে ফেলার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে স্থান পালটানো।
  • বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলে দেয়।
  • ভালাে বক্তার কাছে জনতা যুক্তিতর্ক চাহে না, যাহা মন্দ তাহা কেন মন্দ এ খবরের তাহাদের আবশ্যক হয় না। শুধু মন্দ যে কত মন্দ অসংখ্য বিশেষণ যােগে ইহাই শুনিয়া তাহারা চরিতার্থ হইয়া যায়।
  • নারীর মূল্য নির্ভর করে পুরুষের স্নেহ সহানুভূতি ও ন্যায়ধর্মের ওপর।
  • বনের পাখির চেয়ে পিঞ্জরের পাখিটাই বেশি ছটফট করে।
  • পুরুষেরা যাহা ইচ্ছা করে, যাহা ধর্ম বলিয়া প্রচার করে, নারী তাহাই বিশ্বাস করে এবং পুরুষের ইচ্ছাকেই নিজের ইচ্ছা বলিয়া ভুল করে এবং ভুল করিয়া সুখী হয়। হইতে পারে ইহাতে নারীর গৌরব বাড়ে, কিন্তু সে গৌরবে পুরুষের অগৌরব চাপা পড়ে না।
  • সন্তানের নামকরণকালে পিতামাতার মূঢ়তায় বিধাতাপুরুষ অন্তরীক্ষে থাকিয়া অধিকাংশ সময়ে শুধু হাস্য করিয়াই শান্ত হন না, তীব্র প্রতিবাদ করেন। তাই তাহাদের সমস্ত জীবনটা তাহাদের নিজেদের নামগুলােকেই যেন আমরণ ভ্যাঙচাইয়া চলিতে থাকে।
  • পৃথিবীর আকর্ষণ তাে চিরদিনই আছে কিন্তু সে আকর্ষণে আত্মসমর্পণ করতে গাছের পাকা ফলটিই পারে, কাঁচায় পারে না। তার আঁশ শাঁস পৃথিবীর রসেই থাকে, স্বর্গের রসে পাকে না। সুন্দর ফুল রূপ দিয়ে, গন্ধ দিয়ে, মধু দিয়ে, মৌমাছি টেনে এনে ফলে পরিণত হয়, সেই ফল আবার ঠিক সময়ে মাটিতে পড়ে অঙ্কুরে পরিণত হয়। এ তার প্রকৃতি, এই তার প্রবৃত্তি, এই তার স্বর্গীয় প্রেম। বিশ্বজুড়ে এই যে অবিচ্ছিন্ন সৃষ্টির খেলা, রূপের খেলা চলেছে, স্বর্গীয় নয় বলে এতে দুঃখ করবার বা লজ্জা পাবার তাে কিছু দেখিনে।
  • লােকে বলে, এই তাে দুনিয়া। এমনি ভাবেই তাে সংসারের সকল কাজ চিরদিন হইয়া আসিয়াছে। কিন্তু এই কি যুক্তি। পৃথিবী কি শুধু অতীতের জন্য, মানুষ কি কেবল তাহার পুরাতন সংস্কার লইয়া অচল হইয়া থাকিবে! নূতন কিছু কি সে কল্পনা করিবে না! উন্নতি করা কি তাহার শেষ হইয়া গেছে!
  • সমস্ত রমণীর অন্তরে নারী বাস করে কিনা তাহা জোর করিয়া বলা অত্যন্ত দুঃসাহসের কাজ। কিন্তু নারীর চরম সার্থকতা যে মাতৃত্বে এ কথা বােধ করি গলা বড়াে করিয়াই প্রচার করা যায়।

 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উক্তিগুলি আজও আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর উক্তিগুলি আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলতে সাহায্য করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *