কলম সরদার – লীলা মজুমদার

আমার ছোট ঠাকুরদা একদিন বললেন, ভূতফুত কিছু না। কেন যে পাঁচির মা রাতে ছাদে গিয়ে কালো কুকুরকে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখে ভয় পেল এ আমি ভেবে পেলাম না। ভূত আবার কী? বুঝলি, গত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বোমার ভয়ে কলকাতা…
ভূতে বিশ্বাস করে কি না, এ-কথা কাউকে জিজ্ঞাসা করতে হয় না। বিশ্বাস না করলেও কিছু এসে যায় না। তবে একটি কথা বলি। শুনেছি মরে গেলে শরীরের এক কণাও নষ্ট হয় না। সবই পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে চিরকাল রক্ষা পায়। তা হলে মানুষের সত্তার শ্রেষ্ঠাংশই বা বিনষ্ট হবে কেন? আরও বলি, মরে গেলে সেই শ্রেষ্ঠাংশের একটা অশুভ পরিণতিই বা হবে কেন? বিধাতার মঙ্গলবিধানে আমার আস্থা আছে, তাই আমার এই ভূতদের একটু সুনজরে দেখতে হবে। এ-সমস্তর একটিও সত্যি ঘটনা নয়। সব আমি বানিয়েছি। বহু বছর ধরে নানা পত্রিকায়, ও পরে ছোট বই হয়েও কিছু বেরিয়েছে। এখন যতগুলোকে সম্ভব একসঙ্গে করে এই বই হল। তোমরা সকলে বইটি উপভোগ কর।
ইতি— লীলা মজুমদার।

আমার ছোট ঠাকুরদা একদিন বললেন, ভূতফুত কিছু না। কেন যে পাঁচির মা রাতে ছাদে গিয়ে কালো কুকুরকে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখে ভয় পেল এ আমি ভেবে পেলাম না। ভূত আবার কী? বুঝলি, গত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বোমার ভয়ে কলকাতা…

ছোটবেলা থেকে আমার মেজো কর্তাদাদামশায়ের গুণগান শুনে শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যেত। ছুটি-ছাটাতে যখনি ডায়মন্ডহারবারে বাবাদের বিশাল পৈতৃক বাড়িতে যেতাম বুড়ো-ঠাকুমা, ঠাকুমা আর মা-পিসিমাদের মুখে মেজো কর্তাদাদামশায়ের প্রশংসা আর ধরত না। ঐ অত বড় বাড়ি, বাড়ি ভরতি কালো কালো কাঠের…

আকাশ পিদ্দিমটা জ্বেলে কাচের ডোমে পুরে বাঁশের ডগায় তুলতে বেশ খানিকটা সময় লেগে গেল। ততক্ষণে অন্ধকার হয়ে গেছে। এ-পাড়ায় থেকে থেকেই বিজলি বন্ধ, কাজেই ছাদটা দিব্যি ঘুটঘুটে। চিলেকোঠার দোর অবধিও পৌঁছয়নি, পেছন থেকে খোলা গলায় কে ডাকল, “এ্যাঁই।” ফিরে দেখি…

তাসজোড়া বাক্সে পুরতে পুরতে ডাক্তারবাবু বললেন, “তা বললে তো আর হবে না, গোপেনবাবু, সব জিনিস যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এত লোকে দেখেছে, সবাই কি আর মিথ্যে কথা বলে?” গোপেনবাবু নরম গলায় বললেন, “না, ঠিক তা বলছি নে,…

চেতলা, কালীঘাট, আদিগঙ্গা যতই পবিত্র স্থান হোক-না-কেন, ও-সব জায়গা মোটে ভালো না। আর লোকের মুখে মুখে কী সব অদ্ভুত গল্পই যে শোনা যায় তার লেখাজোখা নেই। তা ছাড়া মশামাছি তো আছেই। চিলতে চিলতে সব গলি, তাতে মান্ধাতার আমলে তৈরি ঝুরঝুরে…

পেনেটিতে, একেবারে গঙ্গার ধারে, আমার বড় মামা একটা বাড়ি কিনে বসলেন। শুনলাম বাড়িটাতে নাকি ভূতের উপদ্রব তাই কেউ সেখানে থাকতে চায় না। সেইজন্য বড় মামা ওটাকে খুব সস্তাতেই পেয়েছিলেন। যাই হোক, বিয়ে-টিয়ে করেননি, আপত্তি করবার লোকও ছিল না। মেজো…