গল্পগুচ্ছ

গল্পগ্রন্থ, লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

দুর্বুদ্ধি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভিটা ছাড়িতে হইল । কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না , আভাস দিব মাত্র ।   আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার , পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি । যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত তাহা অপেক্ষা কম…

Read Moreদুর্বুদ্ধি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দৃষ্টিদান – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুনিয়াছি, আজকাল অনেক বাঙালির মেয়েকে নিজের চেষ্টায় স্বামী সংগ্রহ করিতে হয়। আমিও তাই করিয়াছি, কিন্তু দেবতার সহায়তায়। আমি ছেলেবেলা হইতে অনেক ব্রত এবং অনেক শিবপূজা করিয়াছিলাম।   আমার আটবৎসর বয়স উত্তীর্ণ না হইতেই বিবাহ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু পূর্বজন্মের পাপবশত আমি…

Read Moreদৃষ্টিদান – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নিশীথে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

“ডাক্তার! ডাক্তার! ”   জ্বালাতন করিল। এই অর্ধেক রাত্রে—   চোখ মেলিয়া দেখি আমাদের জমিদার দক্ষিণাচরণবাবু। ধড়্ফ্ড় করিয়া উঠিয়া পিঠভাঙা চৌকিটা টানিয়া আনিয়া তাঁহাকে বসিতে দিলাম এবং উদ্‌বিগ্নভাবে তাঁহার মুখের দিকে চাহিলাম। ঘড়িতে দেখি, তখন রাত্রি আড়াইটা।   দক্ষিণাচরণবাবু বিবর্ণমুখে…

Read Moreনিশীথে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মুকুট – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম পরিচ্ছেদ ত্রিপুরার রাজা অমরমাণিক্যের কনিষ্ঠ পুত্র রাজধর সেনাপতি ইশা খাঁকে বলিলেন, “দেখো সেনাপতি, আমি বারবার বলিতেছি তুমি আমাকে অসম্মান করিয়ো না।” পাঠান ইশা খাঁ কতকগুলি তীরের ফলা লইয়া তাহাদের ধার পরীক্ষা করিতেছিলেন। রাজধরের কথা শুনিয়া কিছুই বলিলেন না, কেবল…

Read Moreমুকুট – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মাল্যদান (গল্প) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সকালবেলায় শীত-শীত ছিল । দুপুরবেলায় বাতাসটি অল্প একটু তাতিয়া উঠিয়া দক্ষিণ দিক হইতে বহিতে আরম্ভ করিয়াছে ।   যতীন যে বারান্দায় বসিয়া ছিল, সেখান হইতে বাগানের এক কোণে এক দিকে একটি কাঁঠাল ও আর-একদিকে একটি শিরীষগাছের মাঝখানের ফাঁক দিয়া বাহিরের…

Read Moreমাল্যদান (গল্প) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উলুখড়ের বিপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাবুদের নায়েব গিরিশ বসুর অন্তঃপুরে প্যারী বলিয়া একটি নূতন দাসী নিযুক্ত হইয়াছিল। তাহার বয়স অল্প; চরিত্র ভালো। দূর বিদেশ হইতে আসিয়া কিছুদিন কাজ করার পরেই একদিন সে বৃদ্ধ নায়েবের অনুরাগদৃষ্টি হইতে আত্মরক্ষার জন্য গৃহিণীর নিকট কাঁদিয়া গিয়া পড়িল। গৃহিণী কহিলেন,…

Read Moreউলুখড়ের বিপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর