শ্যামনিবাস-রহস্য (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শেয়ার করুনঃ

(৯)

চাকলাদার বললেন, “এ কী, আপনি বিছানা থেকে উঠে এলেন কেন? প্রেশার বেড়েছে, মাথা ঘুরে গিয়েছিল, এখন আপনার কমপ্লিট রেস্ট দরকার। না না, এইভাবে উঠে আসা আপনার মোটেই উচিত হয়নি।”

সদানন্দবাবু ম্লান হাসলেন। বললেন, “এখন অনেকটা সুস্থ বোধ করছি। মাথাও আর ঘুরছে না।” সামন্ত বললেন, “আপনিই সদানন্দ বসু?”

“হ্যাঁ।”

“এই বাড়ির মালিক?”

“হ্যাঁ।”

“নীচে এসে একটু বসতে পারবেন?”

“তা কেন পারব না? ভালই তো আছি।”

“বেশ, তা হলে একটু নীচে এসে বসুন। আপনাকে দু-একটা কথা জিজ্ঞেস করব।”

রেলিং ধরে সিঁড়ির ধাপগুলি সাবধানে ভেঙে সদানন্দবাবু নীচে নেমে এলেন। আমি তাঁকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিলুম।

কৌশিক পটাপট ছবি তুলে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে সদানন্দবাবুর সামনে এসে দাঁড়াল। বলল, “মিঃ সামন্ত আপনাকে যে-প্রশ্নই করুন, আপনি কিন্তু তার উত্তর দিতে বাধ্য নন। দরকার বোধ করলে একজন ল-ইয়ারও রাখতে পারেন। উত্তর যা দেবার, আপনার হয়ে তিনিই দেবেন।”

সামন্ত হেসে বললেন, “ওরেব্বাবা, এ তো দেখছি নরাণাং মাতুলক্রমঃ। ঠিক আছে ঠিক আছে, সদানন্দবাবুকে আমি যে-সব প্রশ্ন করব, ইচ্ছে হয় তো উনি তার উত্তর দেবেন, না হয় তো দেবেন না।”

সদানন্দবাবু বললেন, “ইচ্ছে-অনিচ্ছের কথা উঠছে কেন? তবে হ্যাঁ, উত্তরটা জানা থাকলে তবেই দেব, তা নইলে আর দেব কী করে?”

সামন্ত বললেন, “ফেয়ার এনাফ। এখন অবশ্য সামান্য দু-একটা প্রশ্নই করব, দরকার বুঝলে অন্য-সব প্রশ্ন পরে করা যাবে। তা হলে শুরু করি?”

“করুন।”

“আমার প্রথম প্রশ্ন, ডেডবডি তো আপনিই প্রথম দেখেছিলেন, তা-ই না?”

প্রশ্নের মধ্যে যে ফাঁদটা ছিল, ভেবেছিলুম, সদানন্দবাবু নির্ঘাত তার মধ্যে পা বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু না, সন্তর্পণে তিনি সেটা এড়িয়ে গেলেন। বললেন, “তা কী করে বলব? আমি কখন কী অবস্থায় ডেডবডিটা দেখেছিলুম, শুধু সেটাই আপনাকে বলতে পারি।”

সামন্ত বললেন, “বেশ, তা-ই বলুন।”

অতঃপর সদানন্দবাবু যা বললেন, তা আগেই বলেছি। এই একটা ব্যাপার লক্ষ করলুম যে, ভদ্রলোক খানিক আগে আমাকে যা বলেছিলেন আর এখন গঙ্গাধর সামন্তকে যা বললেন, তা একেবারে হুবহু এক রকমের, কোথাও কোনও অসঙ্গতি নেই।

সামন্ত তাঁর দ্বিতীয় প্রশ্ন করলেন লাঠিটা নিয়ে। আমাদের সঙ্গে কথা বলবার সময়ে তাঁর চোখ যে বারবার লাঠিটার দিকেই ঘুরে যাচ্ছিল আগেই সেটা দেখেছিলুম। মৃতদেহের পাশে শুধু রক্ত নয়, বেশ-খানিকটা জায়গা জুড়ে জলও ছড়িয়ে আছে। ঠিক জলও নয়, ধুলোর উপরে জল পড়লে যেমন হয়, তেমনি; কাদা-কাদা। সেই কাদা-জলও অবশ্য প্রায় শুকিয়ে গেছে। তবু পাছে পা হড়কে যায়, তাই সামন্ত খুব সাবধানে সেই কাদার উপর দিয়ে দু-পা এগিয়ে লাঠিটার কাছে উবু হয়ে বসলেন, তারপর বিষ্টুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “খানিকটা ন্যাকড়া দিতে পারেন?”

ঘর থেকে বিষ্টু খানিকটা ন্যাকড়া এনে দিল। সেই ন্যাকড়ার ফালি নিয়ে যেখানটায় রক্ত নেই, খুব সন্তর্পণে সেইখানে ধরে লাঠিটাকে মেঝের উপর থেকে তুলে এনে মিনিট খানেক সেটাকে নিরীক্ষণ করে নিয়ে যখন সামন্ত আবার সদানন্দবাবুর দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন, তখন দেখলুম যে, তাঁর ঠোঁটের উপরে খেলা করছে একটা রহস্যময় হাসি, আর চোখ দুটিও ঈষৎ কুঁচকে গেছে।

বললেন, “এটা তা হলে আপনারই?”

প্রশ্নটা যে-ভাবে করলেন, তাতেই সম্ভবত সদানন্দবাবুর গলায় কিঞ্চিৎ শ্লেষ্মা জমে গিয়েছিল। ঘড়ঘড়ে গলায় তিনি বললেন, “লাঠিটার কথা বলছেন তো? আজ্ঞে হ্যাঁ, ওটা আমারই। সে তো একটু আগেই বললুম।”

“এর মাথায় লোহার বল বসানো কেন?”

“না বসিয়ে উপায় ছিল না, তাই বসিয়েছি। আসলে ভোরবেলায় রোজই আমি এক চক্কর মর্নিং ওয়াক করতে বেরোই তো, তখন কুকুরগুলো বড্ড উৎপাত করে। গত বছর একদিন যখন শ্রদ্ধানন্দ পার্কে মর্নিং ওয়াক সেরে বাড়ি ফিরছি, তখন ওই পার্কের উত্তর-পশ্চিম দিকের ফুটপাথে যে ময়লা ফেলার ভ্যাটটা রয়েছে না, একটা নেড়িকুত্তা হঠাৎ সেই ভ্যাটের পাশ থেকে ছুটে এসে আমাকে কামড়েও দিয়েছিল।”

সদানন্দবাবু তাঁর ধুতিটা একটু সরিয়ে ডান পায়ের একটা জায়গা দেখিয়ে বললেন, “এই দেখুন, সেই কামড়ের দাগ এখনও মিলিয়ে যায়নি। তা সেইজন্যে আমাকে গুচ্ছের ইঞ্জেকশান নিতে হয়েছিল স্যার। এই তো ডাক্তার চাকলাদারও তো রয়েছেন এখানে। ওঁকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, উনিও সব জানেন। যা-ই হোক সে-যাত্রা রক্ষে পেয়ে গেলুম, কিন্তু নেড়িকুত্তার ভয়ে তো আর মর্নিং ওয়াক বন্ধ করতে পারি না, তাই লাঠির মাথার ওই লোহার বলটা বসিয়ে নিয়েছি।”

ডঃ চাকলাদারের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন সামন্ত। চাকলাদার বললেন, “সত্যি ওকে জলাতঙ্কের ইঞ্জেকশান নিতে হয়েছিল।”

সামন্ত আবার সদানন্দবাবুর দিকে তাকালেন। “লাঠিতে লোহার বল বসিয়ে নেবার পরে আর কুকুরগুলো আপনাকে তাড়া করে না, কেমন?”

“আজ্ঞে তার পরেও তাড়া করত। কিন্তু ওইটে দিয়ে একদিন একটা নেড়িকুত্তাকে আমি মোক্ষম এক-ঘা বসিয়ে দিই। ব্যাস তারপর থেকে আর তেড়ে আসে না। ওই যা দূর থেকেই খেউ-খেউ করে, কিন্তু লাঠি উঁচিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেই ছুটে পালায়।”

লাঠিটা পড়ে ছিল রক্তের ধারে, আর তার পাশেই পড়ে ছিল টর্চটা। কিন্তু সেটা যেহেতু নেহাতই এক-ব্যাটারির পকেট-টর্চ এবং অতটুকু একটা জিনিসকে যেহেতু গঙ্গাধর সামন্তের পক্ষেও ব্রহ্মাস্ত্র কি পাশুপত অস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব নয়, তাই আর তিনি টর্চটা নিয়ে কিছু বললেন না।

বাইরে একটা গাড়ির শব্দ পাওয়া গেল। সদর দরজার দিকে এগোতে এগোতে সামন্ত বললেন, “রওনা হবার আগে যেমন আমাদের ডাক্তার গুপ্ত তেমনি ডি.সি. কেও একটা ফোন করে সব জানিয়ে এসেছিলুম। বোধহয় তাঁরাই এলেন।”

গাড়ি থেকে যাঁকে নাগতে দেখলুম, হাতের স্টেথিসকোপ দেখেই বোঝা গেল যে, তিনি ডাক্তার গুপ্ত। ডি.সি. আসেননি। সামান্য একটা মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর আসবার কথাও নয়। শুনলুম, কোথায় কোন পোলিটিক্যাল পার্টির অফিসে নাকি বোমা পড়েছে, তিনি সেখানে গিয়েছেন।

ডাক্তার সুরেশ গুপ্ত বাড়িতে ঢুকেই কাজে লেগে গেলেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে নানান দিক থেকে মৃতদেহটি নিরীক্ষণ করলেন তিনি, গায়ে হাত রেখে উত্তাপটা দেখে নিলেন, তারপর বেসিনে ভাল করে হাত ধুয়ে, পকেট থেকে একটা রুমাল বার করে হাত মুছতে মুছতে সামন্তের দিকে তাকিয়ে বললেন, “অ্যাকসিডেন্ট নয়, এটা মার্ডার।”

সামন্ত বললেন, “কী করে বুঝলেন?”

ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “কেন, আপনার তা মনে হয় না?”

“সে কথা হচ্ছে না। সত্যি বলতে কী, আম’র ধারণাও একই। কিন্তু আপনি সে।” কী করে বুঝলেন, সেটাই জানতে চাইছি।”

ডাক্তার গুপ্ত ধীরে-সুস্থে একটা সিগারেট ধরালেন। তারপর বললেন “সিম্পল ব্যাপার, বুঝবার জন্যে খুব বেশি মাথা খাটাবার দরকার নেই। কেউ যদি পা হড়কে কি দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে টাল সামলাতে না পেরে চিত হয়ে মেঝের উপরে দড়াম করে পড়ে গিয়ে মারা যায়, তা হলে তার খুলির পিছনের দিকটা ফাটবার কথা, আর যদি উপুড় হয়ে পড়ে তো সামনের দিকটা ফাটবে। তার কোনওটাই কিন্তু এ-ক্ষেত্রে ঘটেনি। এ লোকটির মথার খুলির না-ফেটেছে পিছনের দিকটা, না ফেটেছে সামনের দিক। ফেটেছে এর খুলির একেবারে উপরের দিকটা। অর্থাৎ সাধুভাষায় যাকে আমরা ব্রহ্মতালু বলি আর সাদা বাংলায় বলি চাঁদি, সেই জায়গাটা। মাথার উপরে ফ্যান কি ঝাড়লণ্ঠন ভেঙে পড়লে খুলির এই জায়গাটা এভাবে ফাটতে পারে।”

কৌশিক এতক্ষণ চুপচাপ সব শুনে যাচ্ছিল। ডাক্তার গুপ্ত একটু থামতেই সে বলল, “কিন্তু এখানে ওঁর মাথায় উপরে ফ্যানও ছিল না, ঝাড়লণ্ঠনও ছিল না। চাঁদিটা তা হলে ফাটল কী করে?”

হঠাৎ একজন অপরিচিত লোক তাঁর কথার মধ্যে ঢুকে পড়ায় স্পষ্টতই একটু বিরক্ত হলেন ডাক্তার গুপ্ত। সামন্তকে জিজ্ঞেস করলেন, “এঁকে তো চিনতে পারলুম না, আপনাদের নতুন রিক্রুট?”

সামন্ত বললেন, “ওঃহো, পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। ইনি মিঃ কৌশিক সান্যাল। প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটার চারুচন্দ্র ভাদুড়িকে মনে আছে?”

“চারু ভাদুড়ি….মানে ওই যাঁকে আমরা সিসিবি বলতুম? তিনি তো এ-লাইনে একটা লিজেন্ড মশাই। শুনেছি এখন ব্যাঙ্গোলোরে থাকেন।”

“হ্যাঁ, তাঁরই কথা বলছি। ব্যাঙ্গোলোরেই থাকেন বটে, তবে দিন কয়েকের জন্যে নাকি কলকাতায় এসেছেন। তা মিঃ সান্যাল তাঁরই ভাগ্নে। মামার লাইন ধরেছেন আর কি।”

ডাক্তার গুপ্ত কৌশিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বটে? সিসিবি তোমার মানা? ‘তুমি’ বলছি বলে আবার কিছু মনে কোরো না যেন।”

কৌশিক বলল, “মনে করব কেন? আপনি আমার চেয়ে অনেক বড়! ‘তুমিই তো বলবেন।”

“মামার লাইনে এসেছ…..মানে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশান? বাঃ বাঃ, চমৎকার। লাইক মামা লাইক ভাগ্নে। এক্সেলেন্ট। তা মামাবাবুকে বোলো, উই অল্ রিমেমবার হিম সো ফন্ডলি।”

কৌশিক বলল, “নিশ্চয় বলব। মামাবাবু প্রায়ই তাঁর কলকাতার বন্ধুবান্ধব দের গল্প করেন।”

সামন্ত বললেন, “মিঃ সান্যালের প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এখনও আপনি দেননি গুপ্ত সাহেব।”

ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “ও হ্যাঁ, প্রশ্নটা কী ছিল যেন? ফ্যানও নেই, ঝাড়-লই ও নেই, চাঁদিটা তা হলে ফাটল কী করে? তাই না?”

কৌশিক বলল, “হ্যাঁ, কী করে ফাটল?”

ডাক্তার গুপ্ত একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “আমার সন্দেহ, একটু উঁচু জায়গা থেকে, এই ধরো ঐ সিঁড়িটার দু-তিন ধাপ উপরে দাঁড়িয়ে আচমকা কেউ ভারী কিছু দিয়ে ওর মাথার ওই জায়গাটায় একটা আঘাত করেছিল। খুব জোরেই যে সেটা করেছিল, সে তো বোঝাই যাচ্ছে। তা নইলে নিশ্চয় খুলিটা এভাবে ফেটে যেত না।”

গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “পাড়ার এই ডাক্তারবাবুটি ইট কি পাথর আর নয়তো মশলা-বাটা নোড়ার কথা বলছিলেন।”

“না, না,” ডাক্তার চাকলাদার ব্যস্ত হয়ে বললেন, “নিশ্চিত হয়ে আমি কিছু বলিনি। একটা সম্ভাবনার কথাই বলেছিলুম মাত্র।”

কৌশিক তার কাজ বন্ধ করেনি। যে-সব কথা হচ্ছিল, তা শুনতে-শুনতেই তার মিনলটা ক্যামেরা দিয়ে ডেডবডির আরও কয়েকটা ছবি তুলে নিল সে। মৃতদেহের পাশে পড়ে থাকা কিছু ধুলোবালি আর কাঠের গুঁড়োর মতো কিছু জঞ্জাল কুড়িয়ে নিয়ে ছোট-ছোট দুটো প্ল্যাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে রাখল। তারপর একটা ব্যাগ সামন্তের হাতে তুলে দিয়ে বলল, “একটা ব্যাগ আপনি রাখুন, অন্যটা আমি নিয়ে যাচ্ছি, মামাবাবুকে একবার দেখাব। আপনার আপত্তি নেই তো?”

গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “কাজটা ইরেগুলার, তবে কিনা সিসিবিকে দেখাবেন তো, তাই আপত্তি করার কোনও অর্থ হয় না। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি পারেন ফেরত দেবেন মশাই, নইলে আমি মুশকিলে পড়ব।”

ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “লোকে কী ভাবে জানো তো? ভাবে যে, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের লোকেরা প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটারদের দু’চক্ষে দেখতে পারে না। তাদের দোষ দেব কী করে, গোয়েন্দা-ক হিনিগুলোতে যা লেখা হয়,তাতে ওইরকমই মনে হয় যে। আরে বাবা, ক্রাইমের কিনারা ক্রাটাই তো কাজ, তা বাইরের কেউ যদি সে-কাজে সাহায্য করেন তো তাতে আমাদের আপত্তি হবে কেন? ইন ফ্যাক্‌ট উই অলওয়েজ লুক ফরোয়ার্ড টু গেটিং সাম্ হেল্প ফ্রম পিপল লাইক সিসিবি।”

কৌশিক বলল, “আপনারা ভাবছেন এটা খুন, তা-ই না?”

ডাক্তারবাবু বললেন, “সে তো বললুমই। শুধু খুন বললে অবশ্য কমই বলা হয়। ইট্স এ গ্রুসাম মার্ডার।”

“ছবি তুলতে তুলতে আপনাদের কথা শুনছিলুম। কী দিয়ে খুন করা হয়েছে, তাও ভাবছেন নিশ্চয়?”

গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “ডাক্তার চাকলাদার ইট, পাথর আর মশলাবাটা নোড়ার কথা বলছিলেন।”

চাকলাদার আবার বললেন, “না না, আমি নিশ্চিত হয়ে কিছু বলিনি।”

কৌশিক বলল, “যদি খুনই হয়, অস্ত্রটা তা হলে ইট-পাথর কি একটা নোড়া অবশ্য হতেই পারে। তবে এক-সেরি কি দু’সেরি একটা বাটখারা হওয়াও কিছু বিচিত্র নয়।”

ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “নয়ই তো। আবার শেষপর্যন্ত যদি প্রমাণ হয় যে, বড়সড় একটা রেঞ্চ কিংবা হাতুড়ি দিয়ে মাথা ফাটানো হয়েছে, তো তাতেও আমি অবাক হব না।…. কিন্তু ব্যাপার কী বলুন তো, এখানে আসা অবধি একটা দুর্গন্ধ পাচ্ছি। হঠাৎ যেন সেটা আরও বেড়ে গেল। ব্যাপার কী?”

তাকিয়ে দেখলুম, যে ঘরে মাছ রাখা হয়, হাওয়ায় তার দরজাটা খুলে গিয়েছে। গঙ্গাধর সামন্ত ও সেটা লক্ষ করেছিলেন। বললেন, “বন্ধ করুন, বন্ধ করুন, দরজাটা এখুনি বন্ধ করে দিন।”

বিষ্টুচরণ গিয়ে দরজাটা ফের বন্ধ করে দিল। এবারে হুড়কোটাও টেনে দিল সে, বাতাসে যাতে না দরজাটা আবার খুলে যায়।

সামন্ত বললেন, “মাছের গন্ধ। পচা মাছ। এইসব মাছ খেয়েই তো ক্যালকাটার মানুষদের স্বাস্থ্যের একেবারে বারোটা বেজে যাচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *