(১৬)
বাড়ি ফিরে শুনলুম, ভাদুড়িমশাই ফোন করেছিলেন। একটু বাদে আবার করবেন। ঠিক ন’টায় ফোন বাজল। রিসিভার তুলে ‘হ্যালো’ বলতেই ও-দিক থেকে প্রশ্ন ভেসে এলে, “আজ বিকেলে আসছেন তো?”
“তা যাচ্ছি। কৌশিক ফিরেছে?”
“পরশু ফিরতে পারেনি, কালও দুপুরে ফেরা হল না, ফিরেছে কাল রাত্তিরে। অনেক খবর। বিকেলে আসুন, তখন বলব। আজ অফিসে যাচ্ছেন?”
“না, ছুটি নিয়েছি।”
“শরীর খারাপ?”
“না,” হেসে বললুম “সদানন্দবাবু আজ জামিন পাচ্ছেন। তাঁকে রিসিভ করতে হবে তো।”
“অর্থাৎ আপনি ধরেই নিয়েছেন যে, তিনি নির্দোষ। তাই না?”
বললুম, “ভাদুড়িমশাই, আমার কাছে এটা দোষ-গুণ বিচারের প্রশ্ন নয়, বিপদের মেয়ে বন্ধুর পাশে দাঁড়াবার প্রশ্ন। তা আপনি খুব ভালই জানেন যে, আই অলওয়েজ স্ট্যান্ড বাই মাই ফ্রেন্ডস।”
“জানি বলেই তো কৌশিককে পাঠিয়ে দিয়েছিলুম। কিন্তু সে-কথা থাক। দুগুরটা যখন হাতে রয়েছে, তখন একটা কাজ করুন দেখি।”
“কী কাজ?”
“বলছি। গত শনিবার সকালে চিৎকারটা শুনেই আপনি ও-বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন। তাই না? “
“হ্যাঁ, তা প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই গিয়েছিলুম।”
“গিয়ে যা দেখেছিলেন…মানে কে কোথায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসে ছিল, কে কী বলছিল কিংবা করছিল, ডিটেলসে সব লিখে ফেলুন। মানে ওই যাকে অকুস্থল বলা হয় আর কি, তার একেবারে হুবহু একটা রিপোর্ট আমি চাইছি। কিচ্ছু বাদ দেবেন না।”
“পারব কি?”
“খুব পারবেন। আপনার মেমারি যে সব কিছুকেই ধরে রাখে, তার পরিচয় আমি আগেও পেয়েছি। নইলে কি আপনার রিপোর্টটার উপরেই সবচেয়ে জোর দিতুম?”
“তার মানে? আরও কাউকে-কাউকে এটা লিখতে বলেছেন নাকি?”
“আরও তিনজনকে বলেছি। গঙ্গাধর সামন্ত, ডাক্তার গুপ্ত আর কৌশিক। সো, কিরণবাবু, ইউ আর ইন গুড কম্প্যানি। কৌশিক তো ব্রেকফাস্ট করেই খাতা-কলম নিয়ে লিখতে বসে গেছে। …তা হলে ছেড়ে দিই?”
“দাঁড়ান, দাঁড়ান, একটা কথা আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি।”
“কী কথা?”
“বিকেলে এক ভদ্রলোক আমার সঙ্গে আপনার ওখানে যেতে চান। নিয়ে যাব?”
“ভদ্রলোকটি কে?”
“ডাক্তার চাকলাদার। বলছেন যে, আপনাকে কিছু জানাতে চান।… পাড়ার ডাক্তারবাবু তো, খবরটা তাই ওঁকেই আগে দিয়েছিলুম।”
“আই সি। উনি তা হলে ঘটনাস্থলে ছিলেন?”
“তা তো ছিলেনই। কৌশিক ওঁকে দেখেওছে ওখানে।”
“আমাকে উনি কী জানাতে চান? …এনি আইডিয়া?”
“না, মশাই, কিছু আমার জানা নেই। শুধু বললেন যে, আপনাকে একটা কথা না-বলা পর্যন্ত ওঁর শান্তি হচ্ছে না।”
“ঠিক আছে,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওঁকে নিয়ে আসুন।”
লাইন কেটে গেল। রিসিভার ক্রেড্লে নামিয়ে রাখা হয়েছে।
.
কয়েকটা দিন হাজতবাসের ফলেই যে একটা লোকের চেহারা আর চরিত্র কতটা পালটে যেতে পারে, সদানন্দবাবুকে না-দেখলে সেটা বিশ্বাস করা শক্ত হত। এ কাকে দেবনারায়ণবাবু জামিনে ছাড়িয়ে আনলেন? বাড়িতে ফিরে এসেছেন, চারটে নাগাদ এই খবর পেয়ে, বাসন্তীকে নিয়ে পাঁচ-নম্বরের দোতলায় উঠে ‘কেমন আছেন সদানন্দবাবু’ বলে যাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালুম, আমাদের চেনা সদানন্দবাবুর সঙ্গে তাঁর আকাশ-পাতাল ফারাক। শুকনো মুখ, চোখের কোলে কালি, মাথার প্রায় সবটাই সাদা, মুখ নিচু করে যে মানুষটি বসে আছেন, বলতে গেলে তাঁকে আমরা চিনিই না। দেখে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। একই সঙ্গে বুঝতে পারছিলুম যে, তাঁর ব্যক্তিত্ব একটা মারাত্মক রকমের ঝাঁকুনি খেয়েছে, এটা সামলে উঠতে তাঁর সময় লাগবে। তা ছাড়া, জামিন পেয়েছেন বটে, কিন্তু রোজ একবার থানায় গিয়ে হাজিরা দিয়ে আসতে হবে।
মিনিট পনেরো ওখানে থেকে আমি বেরিয়ে এলুম। আসবার সময় নমস্কার করে বললুম, “আজ আসি, পরে আসব।” সদানন্দবাবু তাতে প্রতি-নমস্কার তো করলেনই না, একটু হাসলেন না পর্যন্ত। ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
বাসন্তী বসে ছিল তার কুসুমদির পাশে। আমাকে উঠতে দেখে সেও উঠে পড়ল। বলল, “সন্ধের দিকে আবার আসব কুসুমদি।”
বাড়িতে ফিরে এসে বাসন্তী বলল, “উঃ, কেমন যেন দম আটকে যাচ্ছিল আমার।”
বললুম, “সে তো আমারও। কিন্তু তবু যেতে হবে। আগে তো তুমি রোজই যেতে, আমি যেতুম না। এখন থেকে আমিও রোজ যাব। কেন যাব, সেটা তুমি বুঝতেই পারছ।”
বাসন্তী বলল, “সে তো পারছিই। এখন না-গেলে কুসুমদি ভুল বুঝবেন। তা ছাড়া, দেখলে তো, এক শম্ভুবাবুর স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ও-বাড়িতে যায়নি।”
বললুম, “সে তো দেখলুমই। তবে শম্ভুবাবু যাবেন। ভদ্রলোক অফিস থেকে এখনও ফেরেননি। ফিরে একবার যাবেন নিশ্চয়। নাও, এবারে চা করো, চা খেয়ে আমি বেরিয়ে পড়ব। দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
চা খেয়ে চাকলাদারের কাছে যেতে-যেতে পাঁচটা দশ বাজল। ভদ্রলোক তৈরি হয়েই বসে ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন, “গ্যারাজ থেকে আমার মরিস-মাইনরটা এইমাত্র মেরামত হয়ে ফিরল। চলুন, ওটাতেই যাওয়া যাক। কেমন সারিয়েছে, সেটা বুঝতে পারা যাবে। চা খেয়ে বেরিয়েছেন তো?”
“তাতেই তো দেরি হয়ে গেল। গ্যাস ফুরিয়েছে, কেরোসিন নেই, তাই কাগজ পুড়িয়ে চা বানাতে হল, মশাই। ডবল সিলিন্ডার করে কী যে লাভ হল বুঝি না। যা দেখছি, ফের সেই ঘুঁটে-কয়লার ব্যবস্থা করতে হবে।”
চাকলাদার হাসলেন। বললেন, “তা যা বলেছেন, চলুন বেরিয়ে পড়ি।”
যতীন দাস রোডে মালতীদের বাড়িতে পৌঁছতে পৌঁছতে সওয়া ছ’টা বাজল। উপরে উঠে দেখি, বসবার ঘরে আসর একেবারে জমজমাট। গঙ্গাধর সামন্ত এসে গেছেন। বাকি শুধু ডাক্তার গুপ্ত। সামন্ত বললেন, “তিনিও এসে পড়বেন এবারে।”
বলতে-না-বলতেই ডাক্তার গুপ্ত এসে গেলেন। ঘরে ঢুকে হাত থেকে স্টেথোসকোপটা নামিয়ে রেখে একটা সোফায় বসতে-বসতে বললেন, “খুব দেরি হয়নি তো?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আরে না। …তা হলে সামন্তমশাই, শুরু করা যাক, কেমন? নকুলের ব্যাবসার কাগজপত্র যা সিজ করেছেন, সবই নিয়ে এসেছেন তো?”
কৌশিক বলল, “কাগজপত্র তো বেশি নয়, খান তিনেক জমা-খরচের খাতা, আর কিছু রসিদ। সবই উনি এনেছেন। আমার ঘরে রেখে দিয়েছি। এতক্ষণ তো তারই উপরে চোখ বুলোচ্ছিলুম। এখানে নিয়ে আসব?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “এখন আনবার দরকার নেই। যখন দরকার হয়, বলব।”
সামন্ত বললেন, “সবই কিন্তু আজই আমি ফেরত নিয়ে যাব।”
“বেশ তো, নিয়ে যাবেন, একটা কুটোও আমি এখানে আটকে রাখব না। কিন্তু আগের কথাটা আগে হোক। যা-যা আটক করেছেন, তার মধ্যে মার্ডার-ওয়েপন বলে কোন্টা সাব্যস্ত হল?”
সামন্তমশাই একেবারে নিবে গেলেন। বললেন, “কোনওটাই না।”
কৌশিক বলল, “লাঠি দিয়ে যে মাথা ফাটানো হয়নি, সে তো আমি আগেই বুঝেছিলুম।”
গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “কী করে বুঝলেন?”
কৌশিক বলল, “বা রে, লাঠিটার এখানে-ওখানে রক্ত লেগে ছিল ঠিকই, কিন্তু যে-জায়গাটা দিয়ে মারলে মাথা ফাটানো সম্ভব, সেই লোহার বলটার গায়ে এক ছিটেও রক্ত ছিল না। সেটা আমি শনিবার সকালেই লক্ষ করেছিলুম। আমার শুধু ভয় ছিল যে, অসাবধানে নাড়াচাড়া করার ফলে ওই লোহার বলেও না রক্ত লেগে যায়। তা আপনি সাবধানে ওটা হ্যান্ডল করেছেন, তাই রক্তও লাগেনি।”
গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “লাঠিটাকে আমি মার্ডার-ওয়েপন বলে সন্দেহ করেছিলুম ঠিকই, কিন্তু তাই বলে অসাবধান হব কেন? কোনওভাবে যাতে কোনও ট্যাম্পারিং না হয়, সেদিকে আমি কড়া নজর রাখি। দোষীর শাস্তি হোক, এটা আমি চাই নিশ্চয়ই। কিন্তু আমি সন্দেহ করছি বলেই একটা লোক দোষী, আর আমারই ভুলে কিংবা অসাবধানতায় তার ফাঁসি হয়ে যাবে, এটা নিশ্চয়ই চাই না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “মারণাস্ত্র হিসেবে ওই লাঠিটা ছাড়া আর কী কী যেন আটক করা হয়েছিল ও-বাড়ি থেকে?”
গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “তার লিস্টি আমি মিঃ সান্যালকে দিয়েছি। আটক তো করেছিলুম অনেক-কিছুই। ইট, পাথর, নোড়া, হাতুড়ি, বাটখারা, রেঞ্চ, বিস্তর জিনিস।”
“অন্যগুলো কী কাজে লাগে, সে তো বুঝতে পারছি। বাটখারা দিয়ে কী হত?”
“বাটখারা যেমন একতলা থেকে অনেকগুলো পেয়েছি, তেমনি অন্তত একটা পেয়েছি দোতলা থেকেও। একতলায় এত বাটখারা কেন জিজ্ঞেস করেছিলুম। তা বিষ্টুচরণ বলল, ওগুলো মাছ ওজন করার কাজে লাগে।”
“লাগতেই পারে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “মাছের ব্যাবসা, বাড়িতেই খুচরো দোকানিদের মাছ বিক্রি করা হত, তা বাটখারা তো লাগবেই। কিন্তু সদানন্দবাবুর তো কোনও ব্যাবসা ছিল না, তাঁর বাটখারা কী কাজে লাগত?”
আমি বললুম “সদানন্দবাবু কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন আমি জানি না, তবে কেন যে তিনি বাটখারা রাখতেন সেটা জানি। আসলে আমরা সকলেই পুরনো খবরের কাগজ কি অকেজো শিশিবোতল বিক্রি করি তো, তা ও-সব যারা কেনে, তাদের বাটখারাকে সদানন্দবাবু বিশ্বাস করতেন না। বলতেন, ‘ওরা ডাকাত মশাই, ডাকাত। যেটাকে ওরা এক কিলোর বাটখারা বলে চালায়, তার ওজন অন্তত বারো শো গ্রাম।’ নিজের বাটখারা ছাড়া তিনি তাই ও-সব জিনিস বিক্রি করতেন না। আমাকেও একটা বাটখারা কিনতে বলেছিলেন।”
ডাক্তার গুপ্ত হেসে উঠলেন। বললেন, “ওরব্বাবা, এ তো দেখছি ভীষণ হিসেবি লোক, এ-সব তো আমাদের মাথাতেই আসে না!”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “যাক, যে-সব জিনিস আটক করেছিলেন, তার একটাও তা হলে পরীক্ষায় ওতরায়নি, কেমন?”
গঙ্গাধর বললেন, “একটাও না। ছাতে যে জলের ট্যাঙ্ক রয়েছে, সেটার মধ্যেও লোক নামিয়েছিলুম। বাড়ির সামনে যে কর্পোরেশনের ডাস্টবিন রয়েছে, সেটাকেও হাঁটকে দেখতে ছাড়িনি। কিন্তু না, কিচ্ছু পাওয়া গেল না। মার্ডার-ওয়েপনটা একটা মিস্ত্রিই রয়ে গেল।”
আমি বললুম, “তা তো হল, আপনি যে রিপোর্টটা দিতে বলেছিলেন, সেটা আমি লিখে এনেছি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কৌশিকের রিপোর্টও লেখা হয়ে গেছে। সামন্ত মশাই, আপনি?”
“আমিও লিখে ফেলেছি।”
ভাদুড়িমশাই আমাদের তিনজনের লেখা তিনটে রিপোর্ট নিয়ে সেন্টার-টেবিলের উপরে একটা পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে রাখলেন। তারপর ডাক্তার গুপ্তের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, “আপনারটাও দিয়ে দিন।”
ডাক্তার গুপ্ত কাঁচুমাচু মুখে বললেন, “ইয়ে…আমারটা এখনও লেখা হয়নি।”
গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “আমাদের তিনটেই আপাতত পড়ে দেখুন।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “এখন নয়। রাত্তিরে নিজের ঘরে বসে ধীরেসুস্থে পড়ব। এখন বরং কৌশিকের কথা শুনুন।”
কৌশিক প্রথমে গিয়েছিল কোলাঘাটের মাইল কয়েক পশ্চিমে, রহমতপুর গ্রামে। সেখানকার কাজ শেষ করে সে বাগনানের কাছে বিষ্ণুহাটি গ্রামে যায়।
ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “হঠাৎ আবার ও-সব জায়গায় যাবার দরকার হল কেন?”
গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “নকুলচন্দ্র রহমতপুরের লোক আর বিষ্ণুহাটিতে হল যমুনার বাপের বাড়ি। সোমবার সকালে মিঃ সান্যাল থানায় এসে আমার কাছ থেকে এই দুটো গাঁয়ের কথা জেনে গিয়েছিলেন!”
কৌশিক বলল, “একবার ভেবেছিলুম সরাসরি পাঁচ নম্বর বাড়িতে ঢুকে বিষ্টুচরণকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিই যে, ওরা কে কোথাকার লোক। কলকাতার লোক যে নয়, সে তো ওদের কথা শুনেই বুঝতে পেরেছিলুম। পরে মনে হল, বিষ্টুচরণকে জিজ্ঞেস করবারই বা দরকার কী, জেরার সময়েই মিস্টার সামন্ত সে-সব জেনে নিয়েছেন নিশ্চয়। তাই আর পাঁচ-নম্বর বাড়িতে গেলুম না, একেবারে থানায় চলে গেলুম। তারপর আর কী, থানা থেকে ঠিকানা নিয়ে সেইদিনই বেরিয়ে পড়লুম কলকাতা থেকে।”
ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “বেরিয়ে পড়বার দরকার হল কেন, সেটা কিন্তু এখনও বুঝতে পারছি না।” কৌশিক বলল, “দরকার হল মামাবাবুর জন্যে। আপনারা তো গত রবিবার এখানে এসেছিলেন। সেদিন রাত্তিরে আপনারা চলে যাবার পরেই মামাবাবু আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে, নবু চন্দ্ৰ কোথাকার লোক তা আমি জানি কি না। তা আমি বললুম, নকুলের সঙ্গে কথা বলবার সুযোগ তো আমার হয়নি, আমি তার ডেডবডিটাই দেখেছি মাত্র, তবে যমুনা আর বিষ্টুচরণের কথা শুনে মনে হল যে, তারা কলকাতার লোক নয়। তখন মামাবাবু বললেন যে, নকুল যদি বাইরের লোক হয়, তো যেখান থেকে সে কলকাতায় এসেছে, সেখানেও একবার যাওয়া দরকার; সেইসঙ্গে যমুনার বাপের বাড়িতে গিয়েও একটু খোঁজখবর করলে ভাল হয়।”
গঙ্গাধর সামন্ত ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এমন কথা আপনার মনে হল কেন? খুন তো হয়েছে কলকাতায়। বাড়িওয়ালার সঙ্গে ভাড়াটের ঝগড়া, এ তো একেবারে স্ট্রেট কেস।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওপর ওপর দেখলে সেটাই মনে হয় বটে। কিন্তু প্রথম থেকেই আমার মনে হচ্ছিল যে, অত স্ট্রেট কেস এটা না-ও হতে পারে। অর্থাৎ খুনটা কলকাতায় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার কারণটাও যে কলকাতাতেই খুঁজে পাওয়া যাবে, এমন কথা তো নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না।”
একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর বললেন, “কজালিটি অর্থাৎ কার্যকরণের ব্যাপারটা আপনারা সবাই বোঝেন। কারণ ছাড়া কার্য হয় না। কিন্তু কাজটা যেখানে হল, কারণটাকেও যে সেখানেই খুঁজে পাওয়া যাবে, এমন তো কোনও কথা নেই। সত্যি বলতে কী, সেইজন্যেই কৌশিককে আমি কলকাতার বাইরে গিয়ে একটু খোঁজখবর করতে বলেছিলুম।”
গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “আপনি কি মনে করেন যে, খুনটা কেউ বাইরে থেকে এসে করেছে?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমি কী মনে করি না-করি, এখুনি তা বলছি না। বলা সম্ভবও নয়। তবে লক্ষণ যা দেখছি, তাতে মনে হয়, উই আর অন দি রাইট ট্র্যাক। কিন্তু সে-কথা থাক। কৌশিক কী বলছে, শুনুন!”
