(১০)
ভোরবেলায় যখন পাঁচ নম্বর বাড়িতে এসে ঢুকি, যমুনাকে তখন ডেডবডির পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলুম। ফোন করে ফিরে আসার পর থেকে আর তাকে দেখতে পাইনি। অনেকক্ষণ থেকেই অবশ্য চাপা একটা কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তাতেই বুঝেছিলুম যে, সে তার শোবার ঘরে গিয়ে ঢুকেছে, সেখানে বসে কাঁদছে। একটানা কান্নার শব্দ। সেইসঙ্গে ভেসে আসছিল, টুকরো-টুকরো কিছু কথা। যে-রকমের কথা, তাতে মনে হচ্ছিল, কাঁদতে কাঁদতেই কাউকে সে সমানে গালমন্দ করে যাচ্ছে। কাকে গালমন্দ করছে, নিজের ভাগ্যকে না আর-কাউকে, তা অবশ্য বোঝা যাচ্ছিল না।
সদানন্দবাবুর স্ত্রী কুসুমবালা যে বাতের রুগি, আগেই সে কথার উল্লেখ করেছি। ভদ্রমহিলা বিশেষ হাঁটাচলা করতে পারেন না, করেনও না। সদানন্দবাবুর সঙ্গে তিনিও ইতিমধ্যে একবার নীচে নেমে এসেছিলেন। নীচে নেমে যমুনাদের ঘরেও ঢুকেছিলেন একবার। খুব সম্ভব সান্ত্বনা দিতেই গিয়েছিলেন, কিন্তু বেশিক্ষণ থাকেননি। ভিতরে একটা চেঁচামেচি শুনেছিলুম, কিন্তু সেটা যে কী নিয়ে তা বুঝতে পারিনি। তার পরেই অবশ্য যমুনার ঘর থেকে কুসুমবালা বেরিয়ে আসেন। দেড়তলার ল্যান্ডিংয়ে এখন একটা মোড়ার উপরে তিনি বসে আছেন। শুনছেন কে কী বলে। নিজে কিছু বলছেন না।
সদানন, তাঁকে বললেন, “বাচ্চাটাকে উপরে নিয়ে গিয়ে কিছু খাইয়ে দিলে পারতে। ও তো আজ কিছুই খায়নি। অবিশ্যি খাবেই বা কী, আজ তো দুধই আনতে পারলুম না।”
কুসুমবালা বললেন, “দুধের জন্যে আটকাচ্ছে না। ও তো আর হরিণঘাটা কি মাদার ডেয়ারির দুধ খায় না, টিনের দুধই খায়। সে-দুধ তো ওর জন্যে দু-টিন কিনেই রেখেছি।”
সদানন্দবাবু বললেন, “তা হলে আর দেরি কোরো না। ওর মাকে একটু বুঝিয়ে শুঝিয়ে ওকে উপরে নিয়ে যাও।”
কুসুমবালা বললেন, “বোঝাতেই তো গিয়েছিলুম, তা শুনছে কে। কমলিকে কিছুতেই ছাড়ল না।”
গঙ্গাধর সামন্ত কথা বলছিলেন ডাক্তার গুপ্ত আর কৌশিকের সঙ্গে। কিন্তু সদানন্দবাবু আর কুসুমবালার কথাবার্তাও তাঁর কানে যাচ্ছিল নিশ্চয়ই। হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে কুসুমবালাকে তিনি প্রশ্ন করলেন, “কমলিটা আবার কে?”
উত্তরটা কুসুমবালার বদলে সদানন্দই দিলেন। বললেন, “নকুলের মেয়ে।” তারপর কুসুমবালাকে বললেন, “যমুনাকে একটু ভাল করে বুঝিয়ে বলো। না-বুঝবার তো কিছু নেই।”
কুসুমবালা বললেন, “তবেই হয়েছে। যমুনা তখন আমাকে কী বলল জানো?”
সদানন্দবাবু কিছু বলবার আগেই সামন্ত তাঁকে আড়াল করে দাঁড়ালেন। তারপর খর চোখে কুসুমবালার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কী বলল?”
কুসুমবালা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু মুখ খুলবারও সময় পেলেন না। চারদিক থেকে ক্যানেস্তারা পিটিয়ে হাঁকোয়া করতে শুরু করলে রাগী বাঘিনি যেমন ক্রমাগত কোণঠাসা হতে-হতে তারপর হঠাৎ এক সময় জঙ্গলের আড়াল থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসে, মেয়েকে কোলে করে ঘর থেকে ঠিক তেমনি করেই ছুটে বেরিয়ে এসে যমুনা বলল, “বাপকে মেরে এখন মেয়েকে সোহাগ দেখানো হচ্ছে। ঝ্যাঁটা মারি তোদের সোহাগের মুখে। কী ভেবেছিস তুই রাক্ষুসি, অ্যাঁ? ভেবেছিস যে, কিছুই আমি জানি না! জানি, জানি, জানি। কমলির বাপকে তোরাই মেরেছিস। হ্যাঁ, হ্যাঁ, তোরাই!”
তারপরেই সে গঙ্গাধর সামন্তের সামনে এসে আছাড় খেয়ে পড়ল। চেঁচিয়ে বলল, “দারোগাবাবু, জলজিয়ন্ত মানুষটাকে ওরাই খুন করেছে। ওদের আপনি ফাঁসিতে লটকে দিন, দারোগাবাবু, ফাঁসিতে লটকে দিন!”
গোটা ব্যাপারটা এমন হঠাৎ করে ঘটল যে, আমি একেবারে হতবাক। সদানন্দবাবুর দিকে তাকিয়ে দেখলুম, তাঁর ঠোট থরথর করে কাঁপছে। যেন কিছু বলতে চাইছেন তিনি, কিন্তু মুখ দিয়ে কোনও কথা সরছে না। কুসুমবালা স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। কৌশিক, চাকলাদার আর ডাক্তার গুপ্তও স্তম্ভিত। শুধু গঙ্গাধর সামন্তই দেখলুম হকচকিয়ে যাননি। কড়া ধাতের থানা-অফিসার। যমুনা তাঁর পায়ের কাছে পড়ে ছিল। সেখান থেকে দু’পা পিছিয়ে এসে কঠিন গলায় তিনি যমুনাকে বললেন, “এখন ও-সব থাক। একটু বাদেই তো আপনার সঙ্গে আমরা কথা বলব। কাকে আপনার সন্দেহ হয়, সে-কথা তখনই শোনা যাবে! এখন আপনি ঘরে যান। আমরা কাজ করতে এসেছি। কাজ করতে দিন।”
মেঝের উপর থেকে হাত ধরে তুলে বিষ্টুচরণই যমুনাকে আবার তার শোবার ঘরে পৌঁছে দিয়ে এল। ডাক্তার চাকলাদার বললেন, “উরেব্বাবা, এই বুঝি নকুলবাবুর স্ত্রী?”
বিষ্টুচরণ বলল, “আজ্ঞে হ্যাঁ।”
“আর যাকে কোলে করে এনেছিল, সেই বাচ্চা মেয়েটি?”
“ওর মেয়ে কমলি।”
“মেয়েটা কবে হল?”
“গত বছরের আগের বছর চোতমাসে হয়েছে।” সিঁড়ির ল্যান্ডিং থেকে কুসুমবালা বললেন, “গত বুধবারই তো ওর জন্মদিন গেল।”
ডাক্তার চাকলাদার আর কিছু বললেন না। মাথা নিচু করে কী যেন ভাবতে লাগলেন। তারপর হঠাৎ এক সময় মুখ তুলে গঙ্গাধর সামত্তের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমার আর এখানে কোনও কাজ নেই তো?”
ডাক্তার গুপ্তকে সামন্ত বললেন, “ওকে দিয়ে কি আর কোনও দরকার আছে আমাদের?”
“কিছু না।” গুপ্ত বললেন, “এখন ওঁকে ছেড়ে দিন। পরে যদি দরকার হয় তো আমরাই বরং ওঁর ল্যাবরেটরিতে গিয়ে দেখা করব।’
সামন্ত বললেন, “ঠিক আছে, ডক্টর চাকলাদার, আপনি এবারে যেতে পারেন। অনেকক্ষণ আপনাকে আটকে রেখেছিলুম, তার জন্যে কিছু মনে করবে না।”
চাকলাদার চলে গেলেন।
থানা থেকে ইতিমধ্যে আরও দুজন লোক এসে পৌঁছেছিল। সদানন্দবাবু আর বিষ্টুচরণকে উদ্দেশ করে সামন্ত বললেন, “এরা এই বাড়িটা একটু সার্চ করে দেখবে, আপনাদের তাতে আপত্তি নেই তো?”
সদানন্দ বললেন, “কিছুমাত্র না।”
সামন্ত বললেন, “ধন্যবাদ। আপনারা কেউ এঁদের সঙ্গে থাকুন।” তারপর লোক দুটির দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, “তা হলে তোমরা কাজ শুরু করে দাও। একেবারে ছাত থেকে শুরু করবে।”
যাকে বললেন, সে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাতেই তাকে একপাশে খানিকটা সরিয়ে নিয়ে গিয়ে নিচু গলায় কিছু বললেন। কী খুঁজতে হবে, সেটাই জানিয়ে দিলেন সম্ভবত। লোক দুটিকে সঙ্গে নিয়ে উপরে চলে গেলেন সদানন্দবাবু। কুসুমবালা সেই থেকে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়েই বসে ছিলেন। এবারে তিনিও উঠে দাঁড়ালেন। স্বামীকে বললেন, “চলো, আমিও তোমার সঙ্গে যাচ্ছি।”
বিষ্টুচরণও ইতিমধ্যে ঘরে গিয়ে ঢুকেছিল। সম্ভবত তার বোনকে বলতে গিয়েছিল যে, একটু বাদেই একতলা সার্চ হবে।
সিঁড়ির সামনের জায়গাটায় এখন আমরা চারজন রয়েছি। সামন্ত, ডাক্তার গুপ্ত, কৌশিক আর আমি। পুলিশের পাহারাদারটিও রয়েছে অবশ্য। তবে সে ঠিক এই জায়গাটায় নেই। সদর-দরজার সামনে তাকে মোতায়ান করা হয়েছিল, সেইখানেই সে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।
ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “কী দিয়ে আঘাত করার ফলে মৃত্যু হয়েছে, তাই নিয়ে কথা হচ্ছিল। হ্যাঁ, ইট, পাথর, নোড়া, রেঞ্চ, হাতুড়ি, মুগুর বাটখারা, অনেক কিছু দিয়েই ও-রকম আঘাত করা সম্ভব। মানে এমন আঘাত যাতে মাথার খুলি ফেটে যায়। তা মিস্টার সামন্ত, আপনি কি আশা করছেন যে, সার্চ করে অমন-কিছু পাওয়া যাবে?”
সামন্ত বললেন, “দেখা যাক, তল্লাসি তো চলছে। ওই ধরনের জিনিস যা-কিছু পাওয়া যাক, পরীক্ষার জন্যে আটক করা হবে। গেরস্ত বাড়িতে ও-সব জিনিস কিছু-না-কিছু থাকেই। কিন্তু থাকলেই তো আর হল না, পরীক্ষা করে নিশ্চিন্ত হওয়া চাই যে, যে-সব জিনিস পাওয়া গেল, তারই কোনও একটা দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল।”
ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “তা তো বটেই, কিছু-একটা পাওয়াই যথেষ্ট নয়, পরীক্ষা করে দেখতে হবে। তার আগে কোনও সিন্ধান্ত করবার উপায় নেই।”
কৌশিক বলল, “মিস্টার সামন্ত ঠিক-কথাই বলেছেন। নোড়া, হাতুড়ি, রেঞ্চ কি এই ধরনের আরও নানা জিনিস যে গেরস্ত বাড়িতে থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। না-থাকলেই বরং আমি অবাক হব।”
সামন্ত বললেন, “এ সব জিনিস যে থাকতেই পারে একটু আগে আমিই সে কথা বলেছি, তা-ই না?”
ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “ঠিকই বলেছেন।”
সামন্ত বললেন, “না মশাই ঠিক বলিনি।”
আমি বললুম, “সে কী, বেঠিকটা কী বললেন? যে-ক’টা জিনিসের নাম করা হল তার সবই তো গেরস্তবাড়িতে থাকে। রেঞ্চ হাতুড়ি কিংবা এই ধরনের জিনিসও গেরস্তকে রাখতে হয়। কল-টল সারাবার কাজ অনেকে নিজেই করে নেন, তাতেই ও-সব লাগে। সব সময়ে তো আর প্লাম্বারকে ডেকে পাওয়া যায় না, তাই রেঞ্চ আর হাতুড়ি না-রেখে উপায় নেই। অন্তত সদানন্দবাবুকে তো অনেক সময় এ-সব খুঁটিনাটি কাজ আমি নিজের হাতেই করতে দেখেছি।”
সামন্ত বললেন, “আরে মশাই, রেঞ্চ আর হাতুড়ির কথা আমি ভাবছি না।”
“তা হলে কিসের কথা ভাবছেন?”
“আমি ভাবছি নোড়ার কথা।”
“কেন নোড়াই বা কী অপরাধ করল?”
গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “তাও বুঝতে পারছেন না? তা হলে ভাবুন যে, নোড়া কোন্ কাজে লাগে।”
“কেন, মশলা বাটার জন্যেই তো নোড়া রাখতে হয়। নোড়া না-থাকলে মশলা বাটা হবে কী দিয়ে? “অবশ্য অবশ্য।” গঙ্গাধর সামন্ত হেসে বললেন, “তা হলে এবারে ভাবুন যে, ক’টা বাড়িতে আজকাল মশলা বাটা হয়। আরে মশাই, সব বাড়িতেই আজকাল গুঁড়ো মশলা দিয়ে কাজ চলছে, সুতরাং নোড়ার কোনও ভূমিকাই কোথাও নেই। দি রোল অফ নোড়া হ্যাজ বিন কমপ্লিটলি প্লেড আউট।”
গঙ্গাধর সামন্ত হাসতে লাগলেন। হাসি থামবার পরে আমি বললুম, “কথাটা কিন্তু ঠিক হল না।”
“কেন, এবারে আবার বেঠিকটা কী বললুম?”
“অনেকেই যে আজকাল গুঁড়ো মশলা ব্যবহার করছেন, সেটা বেঠিক কথা নয়। কিন্তু তাঁদের বাড়িতেও হয়তো নোড়ার সন্ধান মিলবে। কাজ ফুরিয়েছে বলেই যে নোড়াটা তাঁরা ফেলে দিয়েছেন এমন না-ও হতে পারে; হয়তো হেঁশেলের মধ্যেই সেটা ফেলে রেখেছেন। গেরস্ত-বাড়িতে এমন কত জিনিসই তো থাকে, আসলে যা কোনও কাজেই লাগে না।”
ডাক্তার গুপ্ত বললেন, “কথাটা আপনি মন্দ বলেননি।” তারপর সামন্তের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আই থিংক হি হ্যাজ এ পয়েন্ট দেয়ার!”
আমি বললুম, “আর তা ছাড়া এটাও ভেবে দেখুন যে, গুঁড়ো মশলার চলন হয়েছে কোন ধরনের পরিবারে। মোটামুটি সেইসব পরিবারেই হয়েছে, যেখানে গিন্নিরাও চাকরি-বাকরি করেন। কাজে বেরুবার তাগিদে রান্নার পাট তাঁদের চটপট চুকিয়ে নিতে হয়, ফলে মশলা-বাটাবাটির ঝামেলার মধ্যে তাঁরা যেতে চান না। নোড়াও অতএব আউট। পুরনো আমলের গিন্নিরা কিন্তু গুঁড়ো মশলায় অতটা বিশ্বাসী নন, তাঁরা এখনও শিলের উপরে নোড়া দিয়ে মশলা পিষে নেন। তা সদানন্দবাবুর গিন্নিটি যে পুরনো আমলের মানুষ, সে তাঁকে দেখেই আপনারা বুঝেছেন। তো আমার বিশ্বাস, অন্তত তাঁর হেঁশেলে শিল-নোড়ার ভূমিকা এখনও শেষ হয়নি।”
সামন্ত মশাই বললেন, “ঠিক আছে, আই উইথড্র মাই স্টেটমেন্ট। তবে কিনা নোড়া দিয়েই যে নকুলচন্দ্রের মাথা ফাটানো হয়েছে, তাও কিন্তু আমি ভাবছিলুম না।”
ডাক্তারবাবু বললেন, “তা হলে কী ভাবছিলেন?”
সদানন্দবাবুর লাঠিটা সামন্তের হাতে ধরাই ছিল। সেটার দিকেই খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন তিনি। তারপর বললেন, “আমি ভাবছিলুম অন্য কথা।”
কৌশিক চুপচাপ আমাদের কথা শুনছিল। এবারে সে এগিয়ে এসে বলল, “কী ভাবছেন সেটা বোঝা মোটেই শক্ত নয়। লাঠিটা একবার দেখতে পারি?”
কৌশিকের দিকে লাঠিটা এগিয়ে দিয়ে সামন্ত বললেন, “সাবধানে ধরুন। জায়গায় জায়গায় রক্তের ছিটে লেগে আছে, মুছে না যায়।”
লাঠির মাথায় যে লোহার বল বসানো, এইটে দেখেই কৌশিকের ভুরু দুটো একটু উপরে উঠে গিয়েছিল। খানিক বাদেই সে-দুটো আবার যথাস্থানে ফিরে এল। সামন্তের হাতে লাঠিটা ফিরিয়ে দিয়ে সে বলল, “আপনার ধারণা, এইটে দিয়েই খুন করা হয়েছিল, তাই না?”
সামন্ত বললেন, “করা কি অসম্ভব?”
কৌশিক বলল, “তা কেন বলব? বিশেষ করে যে-দিকটায় লোহার বল বসানো রয়েছে সেই দিক দিয়ে তেমন-তেমন জোরে মারতে পারলে মানুষ তো মানুষ হাতির মাথাও হয়তো ফাটিয়ে দেওয়া যায়। ….কিন্তু না, আর নয়, আপনি আপনার জেরার কাজ শুরু করুন। অনেক বেলা হয়েছে, আমি এবারে চলি।”
কৌশিক চলে যাচ্ছিল। হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে আমাকে বলল, “কাল তো আমাদের বাড়িতে আপনার আসবার কথা, তাই না?”
বললুম, “হ্যাঁ, কালই তো রবিবার।”
“আসবেন কিন্তু। মামাবাবু বিশেষ করে বলে দিয়েছেন।”
