একটার পর একটা ঘটনা বলছে দুর্গাদা তার ঠাণ্ডা একঘেয়ে গলাতে আর আমরাও তা শুনে ঠাণ্ডা মেরে যাচ্ছি।
সব শুনেটুনে ঋজুদা শুধোল, পায়ের ছাপ দেখলে কোথাও?
হ্যাঁ। মাঠিয়াকুদু নালাতে দেখলাম। হাতিটা, মনে হয়, দিনের বেলা ওই নালার কাছের গভীর জঙ্গলে থাকে। সন্ধের পর উঠে আসে ফরেস্ট রোড ধরেই লবঙ্গির আশপাশের গ্রামে। লবঙ্গিতেও।
কী কী গাছ আছে নালার কাছে? ঋজুদা শুধোল।
প্রাচীন সব জংলি আম, গেণ্ডুলি, নিম, বয়ের; শিমুল আর নানারকম জ্বালকাঠ।
জ্বালকাঠ মানে যেসব গাছ চেলাকাঠ করে উনুনে জ্বালাবার জন্য ব্যবহার হয়। হরজাই গাছও বোঝায়, জ্বালকাঠ কথাটাতে। মানে উল্লেখযোগ্য বা দামি যা নয়, তাই জ্বালকাঠ।
কত বড় হাতি?
ও বাপ্পালো বাপ্পা। সে ষড়া তো গুট্টে ঐরাবত হেলা।
ওরা দুজনে সমস্বরে বলে উঠল।
দুর্গাদা বলল, গোদা হাতিটা, টুকার জঙ্গলে যে দল ছিল, তারই পুরনো সর্দারটা হবে। বয়সও হবে কম করে ষাট। তাকে তো আমরা পিলাবেলে অর্থাৎ শিশুকাল থেকে দেখে আসছি।
ঋজুদা বলল, তা হলে বল-বুদ্ধিতেই শুধু আমাদের চেয়ে বড় নয় সে, বয়সেও বড় বোঝা যাচ্ছে। তাকে গোদাদাদা বলেই ডাকা হবে তা হলে।
বড্ড ভয় ধরিলানি ঋজুবাবু। মো, পুও-ঝিও সব্ব সেঠি অছি। কোনদিন্থ সেমানংকু মারি সারিবে সে ষড়া হাতি তার কিছি ঠিক অছি কি?
দুর্গা মহান্তির বাড়ি পম্পাশরে। পম্পাশর হয়েই লবঙ্গি যেতে হয়। সেখানে একটি ছোট্ট চালাঘরে দুর্গার বউ আর ছেলেমেয়েরা থাকে। আমি গিয়েছিলাম একবার শীতকালে অষ্ঠমী পুজোর সময়ে। গুলগুলা আর এণ্ডুলি পিঠে খাওয়ার উৎসব ছিল ওদের তখন। ওদের বাড়ির সামনে কন্দমূলের খেত ছিল সেই সময়টিতে। মনে আছে। সত্যিই অমন নিরাপত্তাহীন বাড়িতে বউ-বাচ্চাদের একা রাখলে ভয় হওয়া তো স্বাভাবিকই।
তিতির শুধোল, কন্দমূল মানে কী, ঋজুদা?
কন্দমূল মানে হল গিয়ে, আরে কী যেন বলে, কী যেন বলি আমরা বাংলাতে, বল না রুদ্র, ও, মনে পড়েছে, রাঙা আলু।
তারপর একটু চুপ করে থেকে বলল, আমাদের দেশের বন-পাহাড়ের মানুষেরা বছরের বেশিটা সময় এমন মূল আর ফল খেয়েই তো বেঁচে থাকে। পালাতে খায় কান্দা-গেঠি। গরমের দিনে কী কষ্ট করে ভালুক, শুয়োর আর শজারুদের সঙ্গে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা সেই মূল খুঁড়ে বের করে! কিন্তু গেঠি এতই তেতো হয় যে, ঝুড়ি ভরে তা সারারাত ঝরনার স্রোতের বা প্রপাতের নীচে রেখে দেয় ওরা। তাতেও তেতো ভাব তেমন কমে না। তারপর কোনওক্রমে খায় অন্য কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে।
কিছুক্ষণ চুপচাপ।
দুর্গাদারাও কোনও কথা বলছে না।
ঋজুদা বলল, এখানেও আমি এমন অনেক মানুষ দেখেছি যাদের গায়ের চামড়া সাপের চামড়ার মতো উঠে যায় চৈত-বৈশাখ মাসে।
কেন? কেন? তিতির আর ভটকাই শুধোল।
তিতির এ-অঞ্চলে আগে আসেনি, তাই ওদের অজ্ঞতা উৎসাহকেই চাগিয়ে দিচ্ছে বারবার।
কারণ, তারা এতই গরিব যে, পুরো বছর একটি গামছাকে দুভাগ করে পরে আর গায়ে দেয়। ছিঁড়ে গেলে অবশ্য বছর শেষ হওয়ার আগেই আর-একখানা কেনে। ওড়িশার গামছা অবশ্য খুব বড়-বড় হয়। তবে পাতলা তো বটেই।
গায়ের চামড়া উঠে যায় কেন? তিতির আবার শুধোল।
শীতের সময় ঘরের মধ্যে আগুন করে আগুনের দিকে বুক করে শোয়। প্রথম রাতে, তারপর অসহ্য হয়ে গেলে আগুনের দিকে পিঠ দিয়ে শোয়। এমনি করে-করেই রোস্টেড হয়ে যায় শীতের শেষে। ফাঙ্গুন-চৈত্র মাসে তাদের সেই পুড়ে-যাওয়া চামড়া পরতের পর পরত উঠে যায়।
সত্যি ঋজুকাকা? ভটকাই বলল, অবিশ্বাসী গলায়।
সত্যি রে। এই আমাদের আসল দেশ। কলকাতা নয়, নতুন দিল্লি বা চণ্ডীগড়ও নয়। ফ্লাইওভার আর পাতাল রেল আর ফোয়ারা নয়। যেদিন আমাদের দেশের এই সাধারণ, ভাল, গ্রামীণ মানুষরা দৃবেলা খেতে পাবে, ভদ্রভাবে পোশাক পরে থাকতে পারবে, শীতে কষ্ট পাবে না, গরমে খাবার জল আর চাষের জল পাবে, সেদিনই জানবি যে আমাদের দেশের কিছু হল।
তারপর একটু চুপ করে থেকে বলল, তোদের আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি এই গরমে শুধু মহানদীর দুপারের ভয়াবহ ও সুন্দর সব পাহাড়-জঙ্গল দেখাবার জন্যই নয়, নিয়ে এসেছি আমাদের দেশকেও দেখাতে। কীভাবে সাধারণ মানুষেরা থাকে, কী পরে, কী খায়? মানুষকে বাদ দিলে প্রকৃতির কোনও ভূমিকাই থাকে না।
ভটকাই বলল, আরও বলো।
আমাকে আমার ছেলেবেলায় যখন প্রথম ক্যামেরা কিনে দেন আমার বাবা, তখন কোডারমার জঙ্গলে গিয়ে অনেকগুলো ছবি তুলি। বাবা ফোটোগুলি দেখে বলেছিলেন, শুধুই প্রকৃতি, বিষয় হিসেবে বড় একঘেয়ে, ম্যাড়ম্যাড়ে। প্রকৃতির পটভূমিতে মানুষ যদি না থাকে, নিদেনপক্ষে অন্য কোনও প্রাণীও; তা হলে অন্য মানুষের চোখে তার দাম কমে যায়, প্রকৃতির বিরাটত্বকে অনুভব করতে অসুবিধে হয়। আজকে এতদিন পরে বুঝি, বাবা কী বোঝাতে চেয়েছিলেন ন বছর বয়সী আমাকে।
ঋজুদা থেমে যেতেই আমরাও সবাই চুপ করে গেলাম।
চাঁদটা আরও অনেকখানি উপরে উঠেছে। দুটি পিউ-কাঁহা বা ব্রেইন-ফিভার পাখি পাগলের মতো ডেকে চলেছে বাংলোর দুপাশ থেকে। আবার একবার হাতির দলের বৃংহণের আওয়াজ শোনা গেল। ওরা বোধহয় জলে যাচ্ছে। অথবা জলের মধ্যেই রয়েছে। জল খাচ্ছে, শুড় দিয়ে একে অন্যকে চান করাচ্ছে, বাচ্চাদের ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করছে।
দুর্গাদা বলল, কঁড় করিবে বাবু? যিব্বেনি সিয়াড়ে? সে মানে বড্ড কান্দা কাটা করিলা। সে হাতিটাকু নাশ না করিলে সে কাশ্ম সারিবে। পোশর আউ লবঙ্গি গাঁয়েরে আউ বাঁচিবা হেব্বনি।
রাজেনদা হাঁটুর উপরে ধুতি তুলে দুহাঁটু ভাঁজ করে দুহাঁটুর উপরে দুহাতের কনুই রেখে দুহাতের পাতার উপর মুখ রেখে বসে ছিল বারান্দায়। সে হঠাৎ মুখ তুলে বলল, দুর্গা যা কহিলা বাবু তা সত্য। কিছি বন্দোবস্ত করি না পারিলে আউ বাঁচা হেব্বনি সে গাঁ-দ্বিটার ঝিও-পুওংকু।
মু কঁড় করিবি, ক। ঋজুদা অনেকক্ষণ পর পাইপটা তুলে নিয়ে আগুন ধরিয়ে বলল।
ডান-হিল তামাকের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে গেল বারান্দাময়। গ্রীষ্মবনের গা থেকে যে একটা গোড়া-পোড়া ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়, অথচ যে গন্ধটা উত্তরবঙ্গে বা অসমে, বা সুন্দরবনে বা বিহারে বা ওড়িশায় বা মধ্যপ্রদেশে একটু আলাদা-আলাদা, সেই গন্ধের সঙ্গে মিশে গেল টোব্যাকোর গন্ধ।
কালই যীবী। জিপ ধরিকি। কঁড় কহিচ্ছন্তি তমমানে? ঋজুদা শুধোল।
আউ কহিবি কঁড়? নিশ্চয় যীবা-হেব্ব।
ওরা দুজনে সমস্বরে বলল।
লবঙ্গি ফরেস্ট বাংলোরে আম্মেমানে রহিবি আউ সারা দিনমান জঙ্গলরে বুলিবুলিকি চালিবি সে হাতি পাঁই।
কেত্তেদিন রহিবে সেটি? রাজেনদা শুধোল।
মু তম্বে কহি দেলু সর্বসমেত কেবন্ধু তিনদিন মু রহিপারিবি সেট্টি। ঈ পিলামানংকু ঈ প্রচণ্ড গরম মধ্যে কলকাতাটু নেই কি আসিলি, সেমানংকু কোহ উঠিবে।
হেব্ব। হেব্ব। ঠাকুরানির দয়া হেন্ধে তিনদিনই যথেষ্ট আইজ্ঞা। শুনন্ত ঋজুবাবু, তস্বপরু সে গাঁ-দ্বিটার সব্বে মানুষংকু পূর্ণ বিশ্বাস অচ্ছি। তমকু দেব পাঁই সব্বে মানিছি। তমকু যীবা হব নিশ্চয়ই।
যীবী। কঁহিলু তো যীবী বলিকি কাল সক্কালবেলে। আউ কাঁই পাট্টি করিচি। বুঝিলু। এব্বে তমমানে যাইকি গা-ধেইকি খাই-পীকি শুই পড়। কাল সক্কালবেলে মত্বে উঠাইবি।
হ আইজ্ঞা। এব্বে চালিলি।
ওরা চলে গেলে ঋজুদাকে একটু চিন্তান্বিত দেখাল। যা কথাবার্তা হল ঋজুদা আর ওদের মধ্যে আন্দাজে কিছুটা তিতির আর ভটকাইও বুঝেছিল। ওড়িয়া বড় মিষ্টি ভাষা, ওড়িয়া মানুষদেরই মতো।
যা ভেবেছিলাম, ভটকাই বলল, পাঁই, পিলামানংকু, ঠাকুরানি আর গা-ধেইকি শব্দগুলোর মানে বুঝলাম না ঋজুদা। অন্যগুলোর মানে আন্দাজে বুঝে নিয়েছি। ওড়িয়া আর বাংলাতে তফাত বিশেষ নেই!
না নেই। তবে যে-কোনও ভাষা বলতে হলে গান গাইবারই মতো কান চাই। যার কান যত ভাল, সে তত তাড়াতাড়ি অন্য ভাষা সেই ভাষাভাষীদের মতো বলতে পারে।
মানেগুলো বললে না শব্দগুলোর?
হ্যাঁ। পাঁই মানে জন্য। ইংরেজি, ফর। পিলামানংকু মানে ছেলেদের বা ছেলেমেয়েদের বা তাদের জন্য। ঠাকুরানি হচ্ছেন অরণ্যদেবী। গা-ধেইকি মানে চান করে।
একটু যত্ন করে শুনবি, তা হলেই শিখে নিতে পারবি, অন্তত বলবার মতো।
তারপর বলল, সরি, তিতির আর ভটকাই, তোমাদের এই বাঘ্যমুণ্ডাতেই থাকতে হবে তিনদিন। আমরা ফিরে এলে তারপর সকলে মিলে রওনা হওয়া যাবে। টুকাতে দুদিন, পুরানাকোটে একদিন, টিকরপাড়ায় একদিন, দুদিন দুদিন করে বৌধে আর ফুলবানীতে, তারপর দশপাল্লার কাছে টাকা গ্রামে একদিন, তারপর ওইদিক দিয়ে ফিরে কটুক হয়ে কলকাতা। মহানদী, তোদের বড়সিলিডার আশ্চর্য সুন্দর জঙ্গলও দেখিয়ে আনব। মন ভরে যাবে। দেখিস।
আমরা কি সত্যিই যেতে পারি না তোমাদের সঙ্গে? রোগ এলিফ্যান্টের খোঁজে?
তিতির বলল অনুনয় করে।
না তিতির। লবঙ্গির যে-ফরেস্ট বাংলো সেটি বাঘ্যমুণ্ডার মতো এইরকম হলে তোদের নিশ্চয়ই নিয়ে যেতাম। কোনও কথাই ছিল না। লবঙ্গির ফরেস্ট বাংলো খড়ের চালের গোল একটি ঘর। শীত-গ্রীষ্মের হাত থেকে বাঁচার জন্য গোল করে উলটানো বাটির মতো করে তৈরি। দেখে মনে হয়, আফ্রিকার কোনও উপজাতিদের বাড়ি। সেই বাংলোয় এত লোকের থাকাও অসুবিধেজনক হবে। দুর্গা, রাজেন, আমি আর রুদ্রই যাই। তোদের জন্য গাড়ি থাকবে। ফুটুদা আর এবিকাকুও থাকবেন। টিকরপাড়ায় কুমির বাড়ানোর জন্য যে প্রকল্প হচ্ছে, তাও দেখে আসতে পারবি। আমরা যখন এসব অঞ্চলে শিকার করেছি পঞ্চাশের দশকে এবং ষাটের দশকের গোড়ার দিকে তখন এসব কিছুই হয়নি। তিনটে দিন। দেখতে-দেখতেই তোদের সময় কেটে যাবে। আর এবিকাকু ফুটুদা যখন সঙ্গে রয়েছেন, তখন খাওয়া-দাওয়ার কোনও কষ্টের কথা তো ভাবাই যায় না। বরং খেয়েই কষ্ট পাবি। এবিকাকু তো মিস্টার আর-একটু খান প্রশান্তকাকুরই ভাই। লাইক ব্রাদার, লাইক ব্রাদার। বুঝলি না!
ঋজুদার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হতেই বারান্দায় আবার নিস্তদ্ধতা নেমে এল।
গ্রীষ্মবনে এখন শুক্লানবমীর চাঁদ পুরো আধিপত্য বিস্তার করেছে। দূরে জঙ্গলের সীমানা আর ঝটিজঙ্গলের মধ্যে ডিড-ড্য-ডু-ইট, ডিড-ড্য-ডু-ইট করে ডেকে ফিরছে একজোড়া পাখি। পাহাড়, প্রান্তর, বন এবং ওই রাতপাখির ডাকের উপর চাঁদের যে প্রভাব তাতে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, ভন্টুদা এই মুহূর্তে আমেরিকায় চাঁদের মাটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে করেছে এবং করবে। বিজ্ঞান বোধহয় বড়ই বেশি কৌতূহলী। এর চেয়ে একটু কম হলেও বোধহয় এই পৃথিবীর এবং পৃথিবীর যারা বাসিন্দা, তাদের ক্ষতি হত না কোনওই। কিন্তু এই কৌতূহল আর জিজ্ঞাসাই অবশ্য যুগ যুগ ধরে মানুষকে ছুটিয়ে নিয়ে গেছে এক দিগন্ত থেকে অন্য দিগন্তে। এ না থাকলেও মানুষের মস্তিষ্কে হয়তো মরচে ধরে যেত। দৌড়ে চলার আর-এক নামই জীবন। সামনে কী আছে? জানার বাইরে কী আছে? তাকে জানার চেষ্টা আর বেঁচে থাকা আজকের আধুনিক মানুষের কাছে সমার্থক।
হঠাৎ গমগমে গলায় ঋজুদা বলল, তুই আড্ডা না মেরে, এবারে যা রুদ্র। রাইফেল দুটো ঠিকঠাক করে নে। কাল অত ভোরে বেরোব। সময় পাওয়া যাবে না।
কোনটা-কোনটা দেব? আমি শুধালাম।
ফোর-সেভেনটি-ফইভ ডাবল ব্যারেলটা, আর ফোর-ফিফটি ফোর-হান্ড্রেড ডাব ব্যারেলটা, আর গুলি। বেশির দরকার নেই। পাঁচ রাউন্ড করে নে। হার্ড নোজড।
হার্ড-নোজড নেব? সক্ট-নোজড নয়? না। হাতির বেলা আমি হার্ড-নোজড দিয়ে মারাই পছন্দ করি। যদিও অনেকে সক্ট-নোজই পছন্দ করেন?
এ-গুলিগুলো ফুটবে তো? নিনিকুমারীর বাঘের বেলা যেমন হয়েছিল, তেমন হবে না তো?
এবারে তো ইস্ট ইন্ডিয়া আর্মস কোম্পানির এবিকাকু, অর্থাৎ অনন্ত বিশ্বাসবাবু খোদ হাজিরই আছেন, এবারে ওঁকে ধরব না সঙ্গে-সঙ্গে।
তা তো ধরবে। কিন্তু নিনিকুমারীর বাঘের মতো হাতিও যদি ঠাকুরানির হাতি হয়।
ঋজুদা বলল, বলিস না, বলিস না। এক ঠাকুরানির বাঘেই অনেক মহাত্ম দেখিয়েছেন ঠাকুরানি। হাতজোড় করছি তাঁর কাছে। আর দেখতে চাই না।
