ঋজুদা এবং ডাকু পিপ্পাল পাঁড়ে – বুদ্ধদেব গুহ

শেয়ার করুনঃ

আট

পান খেতে খেতে বাংলোতে ফিরে দেখি, রামখিলাওন বসে মশলা বাটছে মাংস রান্না করবে বলে। কিন্তু আমরা যেতেই সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ইক খাত আয়া হুজৌর।

চিঠি?

কে আমাদের চিঠি লিখতে পারে?

কলকাতার চিঠি নয়তো?

গোপাল চিন্তিত মুখে বলল।

চাতরা সে শেঠনে ভেজিন ক্যা?

লটকা জিজ্ঞেস করল রামখিলাওনকে।

রামখিলাওন বলল, নেহি লটকা বাবু। ইক আনজান আদমি ঘোড়ে পর আয়াথা ইয়ে খাত লেকর। খাত দেকর তুরন্ত ঘোড়েপর চল দিয়া। ঔর ঈ দেখিয়ে লাড়ু দেকে গিয়া আপলোঁগোকি লিয়ে।

লাড্ডু! ম্যায় আভভি খায়গা। বলেই, লটকা বলল, কাঁহা, রাখখা কাঁহা?

সফর আলি হাঁ হাঁ করে উঠল। বলল, খেয়ো না। নিশ্চয়ই বিষ মিশানো লাড্ডু।

রামখিলাওন বলল, আমি তো তোমার জন্যে জলখাবার করিনি। আমি তো আপনাদের অনুমতি ছাড়াই চারটে খেয়ে নিয়েছি। চমৎকার লাড্ড। বিষটিষ তো মেশানো নেই!

দিয়েছে কে?

চিঠি আছে। আমি কি লেখাপড়া জানি। ওই যে, টেবিলের উপরে আছে পড়ে দেখুন।

সফর আলি চিঠিটা তুলে নিয়ে খাম খুলে পড়ল। কোনও সম্বোধন নেই, কারও নাম নেই। তুলোট কাগজে দোয়াতের কালিতে কলম ডুবিয়ে লেখা।

পররনাম!

গতবছর শীতে আপনারা এই জঙ্গলেই কাঠুরেদের একশো টাকা দিয়ে গেছিলেন। সেই রাতে খাওয়া-দাওয়া নাচ-গান খুব হয়েছিল। আমিও এসেছিলাম। তখন আপনারা এলে দেখা হত।

এবারে আবার এ জঙ্গলে এসেছি সাতদিন হল। সকালে অত কষ্ট করে ওই পথ দিয়ে এলেন কেন? একটা শর্টকাট আছে টুটিলাওয়া থেকে তিনমাইল আগে। একটা মস্ত শিমুল গাছের পাশ দিয়ে গোরুর গাড়ির চাকার দাগ আর ঘোড়ার খুরের দাগ দেখতে পাবেন। ওই পথ দিয়ে আজ সন্ধেবেলাতে আসুন। আলাপ তো হবেই, তার সঙ্গে হরিণের মাংসও থাকবে শুখা-শুখা। আমি যদিও নিরামিশাষী।

বন্দুক নিয়েই আসবেন। ভয় নেই। আমি কেড়ে নেবে না। বন্দুক রাইফেলের অভাব নেই আমার। তবে করণপুরা থেকে কী করে একটা বড় দাঁতাল হাতি এসেছে এই জঙ্গলে। বোধহয় দল থেকে বিতাড়িত। মাঝে মাঝে ওই পথটি আগলে দাঁড়িয়ে থাকে। আমাদের ঘোড়াগুলো খুবই ভয় পায়। ওই হাতির জন্যই আনতে বলছি বন্দুক। যদি পথে ঝামেলা করে।

সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে আমরা একজন নিরস্ত্র অনুচর ওই সিমুল গাছটির নীচে আপনাদের অপেক্ষাতে দাঁড়িয়ে থাকবে। তার নাম শিউপূজন। ওকে জিপে তুলে নেবেন, তাহলে চিনে আসতে অসুবিধে হবে না। যদি চা খান তাহলে সঙ্গে করে চায়ের পাতা একটু নিয়ে আসবেন। আমাদের চা-পাতা ফুরিয়ে গেছে।

আশা করি আজ সন্ধেতে দেখা হবে।

চাতরা থেকে একটু লাড্ড এনেছিলাম। আপনাদের জন্য পাঠালাম।

পররনাম ইতি–শ্রী পিপ্পাল পাণ্ডে।

তারপর? বলো ঋজুদা। তীরে এসে তরী ডুবিয়ো না।

ভটকাই বলল।

আজ্জু বলল, আব্বা জানতে থে কি আপলোঁগোকি ইসব হরককি বারে মে?

জরুর। মগর বাদমেহি না জানা উনোনে।

অজিব বাত হ্যায়। কভি হামলোগোঁকি বতায়া নেহি থে।

তারপর একটি মিটিং বা কনফারেন্স যাই বলল, হল। লটকা এবং রামখিলাওন বলল, আপলোগোঁকি কানসে ভুজা বনাকর খায়েগা পিপ্পাল। মত যাইয়ে মরনেকে লিয়ে।

গোপালেরও ইচ্ছা ছিল না যাবার। ভয়ে নয়। গোপাল ভিতু ছিল না। ও বলল, কী দরকার! হেরে তো আমরা গেছিই। আমরা কোথা দিয়ে গেছি, এঞ্জিন বন্ধ করে, ঠেলে গাড়ি ব্যাক করে দূরে এসে এঞ্জিন স্টার্ট করেছি, কখন এসেছি, কখন গেছি সবই সে জানে। ইচ্ছে করলে তখনই সে এবং তার দলবল আমাদের মেরে দিতে পারত। বন্দুকগুলো নিয়ে নিতে পারত। কিন্তু তা না করে সে আন্তরিকভাবে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছে। লাড্ড পাঠিয়েছে। গতবার তুমি যে একশো টাকা দিয়েছিলে কাঠুরেদের সে কথা উল্লেখ করেছে। সে রাতে নাজিম সাহেব আমাদের আটকে না দিলে, মোলাকাত হয়েই যেত। আবার গিয়ে কী হবে! সে যে আলতু-ফালতু ডাকাত নয়, হাজারিবাগ-এর রবিন হুড তা তো বোঝাই গেছে।

তবুও যে ডাকাতের মাথার উপরে দশ হাজার টাকার পুরস্কার ঝুলছে তার সঙ্গে মুখোমুখি আলাপ করাও তো একটা অভিজ্ঞতা!

আমি বলেছিলাম।

লটকা বলল,কাহেলা ঝুঠঠো জানকি খাতরে মে ফাঁসিয়েগা? চালিয়ে, ম্যায় আজ রাতমে আপলোঁগোকি লিয়ে ছাত্ৰুকি লিট্টি পাকায় গা। সাথমে নই আমকি খাট্টা-ধনিয়া-পাত্তি ঔর হারা-মিরচা ডালকর। খাসিকি মাস-ভিতো রহিবেই করে গা। রাবড়ি ভি তো হ্যায়। ঔর চাহিয়ে ক্যা?

সফর আলি রেগে বলল, ম্যায় আভি যাকর চন্দনবাবুকি বাতাতা যো তুম হিয়া আকর মেহমানলোঁগোকি তংক কর রহ্যাঁ হ্যায়।

তারপর বলল, তোর মতো পেটুক আমি জন্মে দেখিনি। আরও যদি খাওয়া-দাওয়া করিস তো তোর পেটটাই ফাঁসাবো একদিন।

গোপাল বলল, পেট না ফাঁসালেও প্যাংক্ৰিয়াটাইটিস হতে পারে যে কোনও সময়ে।

লটকা বলল, লেহ লটকা। ক্যা টাইটিস বোলা খোকাবাবু আপনে?

প্যানক্রিয়াটাইটিস।

সফর আলির দিকে চেয়ে মুখে আরও দুটো পান আর একমঠো কালি-পিলি জরদা ফেলে লটকা বলল, বহত কিসিমকি বিমারিকি কা বারেমে শুনা মগর এইসি টাইটিসকি নাম কভূভি নেহি শুনা।

গোপাল বলল, সন্ধেবেলা চলো, পিপ্পাল পাঁড়ের জন্যে ভাল মিষ্টি-টিষ্টি কিনে নিয়ে।

তাহলে? যাবে না বলছিলে যে?

যাব নাই তো।

মানে?

মানে, ওই শিমুলতলিতে ওই লোকটির হাতে মিষ্টি দিয়ে চলো চলে যাই হাজারিবাগ। কতদিন চমনলাল-এর খিচুড়ি খাই না, নাজিম সাহেবের হাতের বিরিয়ানি আর চাঁব আর পায়া আর লাব্বা। ওখানে গিয়ে জিপ ছেড়ে দেব। আলি সাহেব এবং লটকা রাতটা আমাদের অতিথি হয়ে হাজারিবাগেই কাটিয়ে কাল সকালে ফিরে এসে রামখিলাওনকে তুলে নিয়ে ফিরে যাবেন চাতরা।

বাঃ। জিপটা চালিয়ে আসবে কে?

তাহলে চন্দনমনলবাবুকে বলে একজন ড্রাইভার নিতে হয়। তাহলে ওঁদের হাজারিবাগ অবধি যেতেও হবে না। ড্রাইভার আমাদের হাজারিবাগ ছেড়ে রাতেই না হয় ফিরে আসবে এখানে। তারপর কালকে আলি সাহেব, লটকা আর রামখিলাওন চাতরা ফিরে যেতে পারবেন বাস-এ। কিন্তু.

আবার কিন্তু কী?

গোপাল বলল।

এমন একটা সুযোগ হাতছাড়া করা কি ঠিক হবে? যাকে বলে এক্সপিরিয়েন্স অফ আ লাইফ টাইম।

গোপাল বলল, আমরা তো তাকে ধরে নিয়ে যেতে বা মারতেই এসেছিলাম। মন থেকে তা যখন করতে সায় পাচ্ছি না, অথবা অন্যভাবে বললে বলতে হয়। সাহসও পাচ্ছি না তার অতন্দ্র প্রহরা দেখে, তখন মিছিমিছি দেখা করতে গিয়ে লাভ কী? তার মহত্ত্ব সম্বন্ধেও তো আমাদের কারও কোনও সন্দেহ নেই। তা ছাড়া সে যা করছে তাকে নীতিগতভাবে আমরা সমর্থন করলেও আইন নিজের হাতে নেওয়াটা তো দণ্ডনীয় অপরাধ অবশ্যই। যে পঁচিশটা খুন করেছে, সে খুন যে উদ্দেশ্যেই করা হয়ে থাকুক না কেন, আইনের চোখে সে তো অপরাধী বটেই। তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেলে অন্য কথা ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র দেখা করতে যাওয়ার কি কোনও মানে হবে?

ওরা তিনজনেই গোপালের মতেই সায় দিল। আমি একা হয়ে গেলাম।

তাহলে চলো, চন্দনমলবাবুকে বলে আসি ড্রাইভারের জন্যে। আমরা কয়েকদিন হাজারিবাগে থেকে, কুসমভাতে শিকার করে, মোরব্বা ক্ষেতে তিতির-খরগোস মেরে সারিয়া হয়ে ট্রেনে ফিরে যাব কলকাতা।

চন্দনমলবাবুর কাছে লটকা বা সফর আলি তো যেতে পারবে। যদি এখানে আর নাই থাকা হয়, এই সারাদিনটা এই সীমারিয়ার ডাকবাংলোতে আলসে-বিলাসে কাটানো যাক, গাছের ছায়াতে, চড়াইদের লড়াই দেখে।

মন্দ বলোনি ঋজু।

গোপাল বলল।

আমরা সফর আলিকে বলে দিলাম যে, ফেরার সময়ে গিরধরের দোকানে বলে আসতে, ভাল মিষ্টি, ভাল করে প্যাক করে যেন রাখে, কালাকাঁদ আর গোলাবজামুন চার চার করে আট কেজি। আমরা সন্ধের সময়ে টাকা দিয়ে তুলে নিয়ে যাব।

সফর আলি বলল, চল রে লটকা। হামারা বাত গিরধর সায়েদ মানেগা নেহি। ইতনা আচ্ছা তো জানতা নেহি না মুঝকো।

গোপাল দুটো দশ টাকার নোট দিয়ে বলল, ঈ লিজিয়ে চাচা। অ্যাডভান্স দে দিজিয়ে গা। রুপাইয়াসে জাদা জান-চিন ঔর কওন চিজ সে হোতা বানিয়ালোগোঁকো ইস দুনিয়ামে।

ঈ বাত তো সাহি।

লটকা বেঁচে গেল নড়াচড়া করার হাত থেকে।

সে বলল, আনেকা ওয়াক্ত, জারা কালি-পিলি জরদা লেকর আনা চাচা। পান কাফি হ্যায়, জরদা খতম হোনেওয়ালা হ্যায়।

.

সন্ধের মুখে মুখে সফর আলি আর লটকার এবং রামখিলাওন-এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গিরধর-এর দোকান থেকে মিষ্টি উঠিয়ে হাজারিবাগের দিকে যাব বলে বেরোলাম। জিপের এঞ্জিন স্টার্ট করার আগে সফর আলি হাত মিলিয়ে বললেন, সত্যি করে বলুন তো খোকাবাবুরা আপনারা কি শিকার খেলতেই এসেছিলেন, না ডাকু পিপ্পাল পাঁড়ের সঙ্গে টক্কর দিতে?

গোপাল বলল, শিকার করতেই তো এসেছিলাম, কিন্তু..

সফর আলি বুঝি-হাসি হাসলেন একটু। তারপর দুজনের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে বললেন, খুদাহ হাফিজ। ইনশাল্লা, ফিন ভেট হোগা।

জরুর।

আমরা বললাম।

লট্‌কা, বাঘের দুই থাবার মতো দু’হাত জড়ো করে বলল, পররনাম খোকাবাবু লোগ। এইসা হিম্মৎদার খোকাবাবু হাম কভূভি না ভেটিন।

মানে, এমন সাহসী খোকাবাবু আমি কখনও দেখিনি। রামখিলাওনও বলল, পররনাম বাবু। ফিন আইয়েগা।

.

শিমুলতলিতে ডাকু পিপ্পাল পাঁড়ের লোকটি কিন্তু ঠিক দাঁড়িয়েছিল। আমরা জিপ দাঁড় করিয়ে জিপ থেকে নেমে তাকে ভাল করে বুঝিয়ে ব্রুকবণ্ডের রেড-লেবেল চা পাতার একটা বড় প্যাকেট এবং মিষ্টির হাঁড়ি দিয়ে বললাম, পিপ্পালবাবু যেন আমাদের ক্ষমা করেন। আমাদের সোজা হাজারিবাগ চলে যেতে হচ্ছে। একজন বন্ধুর অসুখের খবর পেয়ে। পরের বার এলে অবশ্যই দেখা হবে।

তারপরে বললাম, এতগুলো জিনিস একা নিয়ে যাবে কী করে?

ও বলল হাতের লাঠি দেখিয়ে, এটাতে বাঁকের মতো ঝুলিয়ে নেব।

হাতি পড়ে যদি পথে।

পড়লে পড়বে বাবু। আমাদের তো হাতি, বাঘ, পুলিশকে নিয়েই ঘর করতে হয়। অত ভাবলে কি আমাদের চলে।

ভাল করে বুঝিয়ে বলবে তো?

জরুর। তবে পিপ্পাল খুব আশা করেছিল আপনাদের। নিজের হাতে খিচুড়ি রাঁধছে সে বিকেল থেকে ইন্তেজাম করে।

আমরা বললাম, মাপ করো ভাই।

গোপাল একটা দশ টাকার নোট দিয়ে বলল। খইনি খেয়ো।

না। পিপ্পাল শুনলে খুব রাগ করবে।

ভালবাসার জিনিস কখনও ফেরাতে নেই।

হাজারিবাগে রাত সাড়ে আটটারও আগে পৌঁছে যাওয়া উচিত। কিন্তু টুটিলাওয়া ছাড়িয়ে মাইল পাঁচ সাত যাবার পরই পুলিশের ট্রাকের একটা কনভয় পাস করল বলে জিপ সাইড করে দাঁড়াতে হল। দশ ট্রাক ভর্তি আর্মড পুলিশ। আমাদের সঙ্গে বন্দুক দেখে একজন অফিসার, কোতোয়ালির ঘোট দারোগা হবেন, নেমে এসে আমাদের চ্যালেঞ্জ করলেন।

গোপাল বলল, আমরা এস. পি. চ্যাটার্জি সাহেবের ছেলে সুব্রতবাবুর দোস্ত। হাজারিবাগে নিজেদের বাড়িতে যাচ্ছি।

শুনেই তক্ষুনি ছেড়ে দিলেন ছোট দারোগা আমাদের।

আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। পিপ্পাল পাঁড়ে কি জানতে পেরেছিল যে মস্ত বড় ফোর্স আসছে তার মোকাবিলা করতে? তাই কি আমাদের হোস্টেজ হিসেবে ধরে রেখে সে পুলিশের সঙ্গে দরকষাকষি করত?

গোপালও সে কথাই ভাবছিল, মুখ দেখে মনে হল। কিন্তু মুখে কিছু বলল না।

সাড়ে আটটার আগেই গয়া রোডের উপরে গোপালদের ছবির মতো বাড়ি পূর্বাচল-এ পৌঁছে গেলাম আমরা। তারপর ড্রাইভারকে বকশিস দিয়ে বললাম, তুমি রাতটা এখানেই থেকে যাও না।

ও বলল, চন্দনমলবাবু জানেন, যে রাতেই ফিরব। চিন্তা করবেন। চলেই যাই।

যা ভাল মনে করো।

চমনলাল আমাদের দু’জনকে অনেকদিন পরে একসঙ্গে দেখে খুব খুশি হল।

গোপাল অর্ডার দিল, মুঙ্গকা ডালকি খিচড়ি বানানা।

তারপর বলল, কপালে নেই ডাকু পিপ্পাল পাঁড়ের নিজহাতে বানানো খিচুড়ি খাওয়া, তার কী আর হবে!

আমি বললাম, গোপালবাবু, কপালে গোপাল করে!

গরম জলে স্নান করে, গল্প-টল্প করে, খেয়ে-দেয়ে শুতে শুতে এগারোটা বাজল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *