পাহাড়ি বিছে (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
(২)
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তারপরে কী হল?”
সদানন্দবাবু বললেন, “যা হবার তা-ই হল। হাত জোড় করে সেই নরপাষণ্ডের কাচে আমাকে ক্ষমা চাইতে হল। বলতে হল যে, আমার বয়েস হয়েচে, চোকে ভাল দেকতে পাই না, তাই লোক চিনতে ভুল করিচি। তারপর ভিড়ের মদ্যে মিনিট দশ-পনরো ঘুরে বেড়িয়ে যখন মনে হল যে, গদাই-ব্যাটাচ্ছেলে ধারেকাচে কোতাও নেই, তখন গুটি-গুটি আমার ওয়াইফের কাচে এসে বললুম, যা কিনেচ খুব কিনেচ, আর-কিচু কিনতে হবে না, এবারে বাড়ি চলো দিকি। বলে, অনেক কষ্টে একটা ট্যাক্সি ধরে বাড়ি চলে এলুম।…উঃ, ট্যাক্সিতে ওটার পরেও আমার বুক ধড়ফড় করছিল, মশাই। খালি-খালি মনে হচ্চিল যে, সেই বজ্জাতটা না আবার ট্যাক্সি থামিয়ে আমার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে!”
“বাড়ি ফেরার পরে এই নিয়ে আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল?”
“আমি কিছু বলিনি। তবে তিনি যে কিচু টের পাননি, তা নয়। বাড়িতে ফেরার আগেই… মানে ট্যাক্সিতে করে যখন বাড়ি ফিরচি, তখন বললেন, ‘আচ্ছা, একটু আগে তুমি কি আমাদের গদাইয়ের সঙ্গে কথা কইচিলে?’ ফলে আমাকে বলতে হল যে, হ্যাঁ, গদাইয়ের সঙ্গে ওই ফুটপাথের ভিড়ের মদ্যেই আমার দেকা হয়ে গেসল বটে। তাতে তিনি বললেন, তা হলে নিশ্চয় ছুটি নিয়ে জামালপুর থেকে এয়েচে, এবারে ওদের জোড়ে একদিন নেমন্তন্ন করে খাওয়াতে হবে।”
“খাইয়েছিলেন?”
“তা খাইয়েছিলুম বই কি,” সদানন্দবাবু বললেন, “তবে কিনা পরদিন সকালেই যে আমি চোরবাগানে আমার শালার বাড়িতে যাই, সেটা যে গদাইকে নেমন্তন্ন করতেই গেসলুম, তা নয়। আসলে জানতে গেসলুম যে, সত্যিই সে-ব্যাটা জামালপুর থেকে কলকাতায় এয়েচে কি না।”
“তার মানে আপনার সন্দেহ হয়েছিল যে, বালিগঞ্জের ফুটপাথে যে আপনার কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল, দেখতে একরকম হলেও সে আপনার পিসতুতো শালার ছেলে গদাই নয়; কেমন?”
“দেকতে একরকম মানে? একটু-আধটু মিলের ব্যাপার নয় মশাই, নাক মুখ চোক ভুরু হাইট—সব ব্যাপারে মিল। ইস্তক গায়ের রং আর চুলের ফেরতাইটা পর্যন্ত একরকম। আপনারা হুবহু মিলের কথা কইছিলেন না, সেই ব্যাপার। তার উপরে ভাবুন নামটা পর্যন্ত মিলে গেল। আমার জিজ্ঞেসার জবাবে সে তো বলল না যে, সে গদাই নয়! একে চেহারার মিল, তায় নামটাও গদাই! উঃ, এ তো ভাবাই যায় না!”
“তবু আপনার সন্দেহ হয়েছিল?”
“হবে না?” সদানন্দবাবু ডুকরে উঠে বললেন, “আমারই শালার ব্যাটা, ছেলেবেলায় যে আমার কোল থেকে নাবতেই চাইত না, চোরবাগানের বাড়িতে গেলেই যার জন্যে আলাদা করে এক বাক্সো গোলাপি গুঁজিয়া নিয়ে যেতে হত, যাকে আমি ফড়েপুকুরের দোকান থেকে ঘুড়ি আর হাতিবাগানের বাজার থেকে একজোড়া লক্কা পায়রা কিনে দিয়েচি, বড়রাস্তার ফুটপাথে দাঁড়িয়ে একগাদা লোকের সামনে সে আমাকে খামোকা ইনসাল্ট করেচে, আমাকে শালা বলেচে, রাস্কেল বলেচে, বুড়ো ভাম বলেচে, জুতিয়ে আমার মুখ ভেঙে দেবে বলেচে, তবু সন্দেহ হবে না? মশাই, এ কি কখনও হয়, না হতে পারে? সন্দেহ তো হয়েছিলই।”
“তা শালার বাড়িতে গিয়ে কী দেখলেন?”
এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে সদানন্দবাবু বললেন, “তা হলে সত্যি কতাটাই বলি। গিয়ে যদি দেখতুম যে, না, জামালপুর থেকে গদাই তার বউকে নিয়ে কলকাতায় আসেনি, তা হলে আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচতুম, মশাই। নিশ্চিন্ত চিত্তে ভাবতে পারতুম, যাক্, পথের মদ্যে যে-লোকটা আমাকে ওইভাবে ইনসাল্ট করেচে, চেহারায় হুবহু মিল থাকতে পারে, নামটাও দু’ জনের এক হতে পারে, কিন্তু সেই পাষণ্ড একটা অন্য লোক, একটা উটকো লোক, সে আমাদের গদাই নয়, আমাদের গদাই তো জামালপুরে রয়েচে!…কিন্তু তা-ই বা ভাবতে পারলুম কই?”
“তার মানে জামালপুরের গদাইও ইতিমধ্যে কলকাতায় এসে গেল?”
“হ্যাঁ, এসে গেল। আমি যে-দিন চোরবাগানে যাই, তার তিন দিন আগেই এসে গেল।”
“ওখানেই তাকে দেখতে পেলেন?”
“হ্যাঁ, পেলুম।” সদানন্দবাবু একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন; “চোরবাগানে গিয়ে দেকি, বাড়ির রোয়াকে বসে সে পাড়ার জনাকয় ইয়ার-দোস্তের সঙ্গে আড্ডা দিচ্চে। আমাকে দেকে রোয়াক থেকে নেবে এসে পায়ের ধুলো নিয়ে বলল, ‘আসুন পিসেমশাই, ভেতরে গিয়ে বসবেন চলুন, ভাবছিলুম আজই বিকেলে শ্যালদায় গিয়ে আপনাদের সঙ্গে দেকা করে আসব।’ এও বলল যে, বিয়ের সময় তো আপিসে কাজের লোকের অভাব ছিল বলে তিন দিনের ক্যাজুয়াল লিভ নিয়ে আসতে হয়েছিল, এদিকে জামালপুরে গিয়েই বাপের বাড়ির কতা ভেবে নতুন বউ খুব কান্নাকাটি জুড়ে দেয়, তাই এবারে পনরো দিনের ছুটি নিয়ে কলকাতায় এয়েচে।”
“নতুন বউয়ের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হল?”
“তা হল বই কী। দিব্যি বউ। যেমন ভব্যিযুক্ত চালচলন, তেমনি নাকি কাজেকর্মেও খুব পটু। শালাজ অন্তত সেই কতাই বলল।”
“বালিগঞ্জের ফুটপাতে যার থুতনি ধরে আদর করেছিলেন, তার সঙ্গে কোনও মিল দেখলেন?…মানে চালচলন নয়, চেহারার মিলের কথা বলছি।”
“তা কী করে বলব?”
“কেন, বলতে না-পারার কী আছে?”
“আরে মশাই, নতুন বউয়ের সঙ্গে কতা বলিচি ঠিকই, কিন্তু তার মুকই দেকিনি!” সদানন্দবাবু বললেন, “আসলে এ-কালের বউ হলে কী হয়, বনেদি বাড়ির মেয়ে তো, সহবত একেবারে অন্য রকমের, তার উপরে আবার পিশ্বশুর বলে কতা, সারাক্ষণই তাই জড়সড় হয়ে মস্ত বড় ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়ে রইল। তা হলে আর মুক দেকব কেমন করে!…আর হ্যাঁ, একটা কথা জানিয়ে রাকাই ভাল। বালিগঞ্জের ব্যাপারটাতেই আমার শিক্ষা হয়ে গেল তো, তাই এর বেলায় আর আমি থুনি ধরে আদর-টাদর করতে যাইনি। খালি ভয় হচ্চিল যে, কী জানি বাবা, এ যদি সে-ই হয়, তা হলেই তো গেচি!”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “বউয়ের মুখ তার পরেও দেখেননি? মানে গদাই তার বউকে সঙ্গে করে তার পরে যখন একদিন আপনাদের বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে এসেছিল, তখনও না?”
“পরে আর এল কোথায়। কতা ছিল জোড়ে আসবে, কিন্তু গদাই একাই এল। এসে বলল, বাপের বাড়িতে গিয়ে বউ জ্বর বাদিয়ে বসেচে, তাই আসতে পারল না।”
“যাচ্চলে!” কৌশিক বলল, “কিন্তু বোস-জেঠু, আপনি যেদিন ওদের চোরবাগানের বাড়িতে যান, সেদিন তো একটা কথা ওদের জিজ্ঞেস করতে পারতেন।”
“কী জিজ্ঞেস করব?”
“গদাই তার আগের দিন বিকেলে বউকে নিয়ে বালিগঞ্জের চত্তির-সেলে কিছু কেনাকাটা করতে গিয়েছিল কি না।”
“তা কি আর জিজ্ঞেস করিনি, করেছিলুম।” সদানন্দবাবু বললেন, “তবে হ্যাঁ, দুম করে জিজ্ঞেস করলে পাছে কিছু সন্দেহ করে, তাই কতাটা খুব কায়দা করে তুলতে হয়েছিল। কুটুমবাড়িতে গেচি, শালাজের হাতে সন্দেশের বাসো তুলে দিয়ে সক্কলের কুশল-সম্বাদ নিলুম, শালাবাবুর ব্লাড শুগার শুনলুম বড্ডই বেড়ে গেচে, তাঁকে রোজ ভোরবেলায় অন্তত ঘণ্টাখানেক মর্নিং ওয়াক করবার অ্যাডভাইস দিলুম, বাড়ির ছোট মেয়েটার বিয়ের ব্যাপারে কতাবার্তা হচ্চিল, সেটা কদ্দুর কী এগোল জিজ্ঞেস করলুম, তারপর মিষ্টিমুখ করতে-করতে গদাইয়ের বউকে এক ফাঁকে বললুম, ‘দু’ বেলা ঘরে বসে থেকে লাভ কী, বালিগঞ্জের চত্তির-সেল খুব জমে উটেচে, গদাইকে নিয়ে ওদিক থেকে একবার ঘুরে এলেও তো পারো। ঘোরাও হবে, আবার জামালপুরে তো নতুন সংসার পেতেচ, সেখানকার জন্যে কিছু জিনিস কিনে নিয়ে যেতেও পারবে। তাতে বউটি কী বলল জানো?”
“কী বলল?”
“বলল যে, আগের দিন বিকেলে তারা ওই দিকেই গেল। তবে কিছু কেনাকাটা করেনি, গেল হিন্দুস্থান রোডে বউয়ের সেজোমাসির বাড়িতে।”
কৌশিক বলল, “যাব্বাবা, বালিগঞ্জে যেখানে সেলের বাজার বসে, হিন্দুস্থান রোড তো সেখান থেকে এক মিনিটের রাস্তা।”
অরুণ সান্যাল বললেন, “গদাইয়ের বউ ওই যে বলল, আগের দিন তারা ওই পাড়াতেই গিয়েছিল বটে, এটাও কি সে ঘোমটার আড়াল থেকে বলল?”
“তা-ই তো বলবে।” সদানন্দবাবু বললেন, “আপনাদের তো বলেইচি যে, বনেদি বাড়ির মেয়ে, খুব সহবত-জ্ঞান, যতক্ষণ ও-বাড়িতে ছিলুম, একটিবারের জন্যেও ঘোমটা খোলেনি।”
মালতী বলল, “বোদা, সেটাই হচ্ছে ভয়ের ব্যাপার! আজকালকার মেয়েরা ঘোমটা-টোমটা বড়-একটা দেয় না। বনেদি বাড়ির মেয়েরাও দেয় না। তারাও আর সেকালের সেই পুতুল-বউটি নেই। তাও যদি বা ঘোমটা দেয়, তো বড়জোর ভাশুরের সামনে দেয়। তাও বড়জোর প্রথম দু” চার দিনের জন্যে। কিন্তু সম্পর্কটা তো আপনার গদাইয়ের বউয়ের সঙ্গে ভাশুরঠাকুরের নয়।”
“তা তো নয়ই।” দাঁতে জিভ কেটে সদানন্দবাবু বললেন, “আরে ছি ছি, আমি কেন ওর ভাশুর হতে যাব। আমি ওর শ্বশুরমশাইয়ের ভগ্নিপোত, গদাইয়ের পিসেমশাই, গদাইয়ের বউয়ের পিশ্বশুর।”
“তা হলে ও সারাক্ষণ কেন এমনভাবে ঘোমটা দিয়ে রইল যে, ওর মুখটা আপনি একবারটির জন্যেও দেখতে পেলেন না?”
অরুণ সান্যাল বললেন, “এর থেকে কিছু বোঝা গেল?”
“একেবারেই যে কিচু বুজিনি, তা নয়,” সদানন্দবাবু বললেন, “একটু-একটু বুজিচি। কিন্তু যা বুজিচি, সেটা ঠিক বুজিচি কি না, সেটাই ঠিক বুজে উটতে পারচি না।”
“আমার তো মনে হয়, আপনি যা বুঝেছেন, ঠিকই বুঝেছেন। কিন্তু সেটা মেনে নেবার জন্যে মনের যে জোর থাকা দরকার, সেটাই আপনার নেই।”
“তার মানে…” কথাটা শুরু করেও শেষ করলেন না সদানন্দবাবু; অরুণ সান্যালের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনিও তা-ই মনে করেন চাটুজ্যেমশাই?”
বললুম, “এর মধ্যে আর মনে করাকরির কী আছে। আসল ব্যাপারটা আপনিও যেমন বুঝতে পেরেছেন, তেমনি আমরাও পেরেছি। বউমা আপনাকে তার মুখ দেখায়নি, তার কারণ মুখ দেখলেই আপনি ধরে ফেলতেন যে, এ-ই হচ্ছে সেই মেয়ে, বালিগঞ্জের ফুটপাথে যার থুতনি ধরে আদর করতে গিয়ে আপনি বিপদে পড়ে গেসলেন। সদানন্দবাবু, আপনি এখনও এই কথা ভেবে স্বস্তি পাচ্ছেন যে, রাস্তার উপরে যে-ছোকরা আপনাকে উস্তুম-কুস্তুম করে ছেড়েছিল, চেহারায় মিল থাকলেও আর নামটা গদাই হলেও সে আসল গদাই নয়, কিন্তু আপনাদের বউমাটিও যে সেই একই মেয়ে, এটা বুঝলে আর সেই স্বস্তিটুকুও আপনার থাকত না।”
অরুণ সান্যাল বললেন, “তার মানে মিল-টিল সব বাজে কথা। বালিগঞ্জের সেই মারমুখো ছোকরাটিই আপনাদের আসল গদাই। যে-কোনও কারণেই হোক, ভেতরে-ভেতরে সে আপনার ওপরে খুব খাপ্পা হয়ে ছিল, সেদিন সুযোগ পেয়ে ঝাল মিটিয়ে নিয়েছে।”
সদানন্দবাবু বললেন, “কিন্তু আমার ওপরে খাপ্পা হয়ে থাকার কোনও কারণই তো তার নেই। আমি তার পিসেমশাই, সে আমার শালার ছেলে, আমি তাকে কত কোলেপিটে করিচি, কত লেবেঞ্চুস বাদামতক্তি আর নানখাটাই বিস্কুট খাইয়েচি, তার আব্দার মেটাতে কত ঘুড়ি নাটাই কিনে দিয়েচি, শুধু লক্কা পায়রা নয়, ওই হাতিবাগান থেকেই একবার একজোড়া ধপধপে সাদা বিলিতি ইঁদুরও কিনে দিয়েছিলুম, তাই পেয়ে সে কত খুশি, আর সেও তো বরাবরই দেকিচি আমাকে যেমন ভালবাসে তেমনি ভক্তিছেদ্দা করে। তা হলে?…না না, আমার ওপরে খাপ্পা হয়ে থাকার কোনও কারণই তো তার নেই।”
সুরিন্দর বেদী অনেকক্ষণ কোনও কথা বলেননি। চুপচাপ সব শুনে যাচ্ছিলেন। এবারে বললেন, “ওয়াজ্হ তো কুছ-না-কুছ হোগাই। শোচিয়ে, বোস সাহাব, থোড়াসা শোচিয়ে।”
অরুণ সান্যাল বললেন, “সুরিন্দর ঠিকই বলেছে। কারণ কিছু-না-কিছু আছেই।”
“কই,” ভুরু কুঁচকে সদানন্দবাবু বললেন, “আমার তো কিচু মনে পড়চে না।”
কৌশিক বলল, “ভেবে দেখুন, ভাল করে ভেবে দেখুন।…আচ্ছা এমন কি কখনও হয়নি যে, ছেলেবেলায় ও একদিন লুকিয়ে-লুকিয়ে বিড়ি খাচ্ছিল, আর আপনি সেটা দেখে ফেলে ওকে খুব বকাঝকা করেছিলেন কি কান ধরে দুটো থাপ্পড় মেরেছিলেন? ও হয়তো সেটা ভুলতে পারেনি। মুখে সেটা কখনও প্রকাশ করেনি, কিন্তু মনে-মনে রাগ পুষে রেখেছে। সেই রাগটাই সেদিন হয়তো…মানে বালিগঞ্জের ফুটপাথে আপনাকে একলা পেয়ে হয়তো দুম করে বেরিয়ে এসেছিল।…কী মামাবাবু, এমনটা কি হতেই পারে না?”
আমি বললুম, “কী ভাদুড়িমশাই, কিছু বলুন, চুপ করে আছেন কেন?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “অনেক বছর আগেকার একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। দেউলগিরি থেকে জাহাজে করে বোম্বাইয়ে আসছিলুম, সেই সময়ে ঘটনাটা ঘটে। সেই কথাই ভাবছিলুম।”
কী ভাবছিলেন, তা আর শোনা হল না। কেননা, কাজের মেয়েটি এসে বলল যে, মির্জাপুর স্ট্রিট থেকে এক ভদ্রলোক দেখা করতে এসেছেন।
