অন্য শিকার (ঋজুদা) – বুদ্ধদেব গুহ

শেয়ার করুনঃ

রোদ উঠে গেছে। কিন্তু মাঠ-প্রান্তর পাহাড়-জঙ্গল সবই ভেজা রয়েছে এখনও। রোদ পড়ে শিশিরভেজা পাতায় আর ভোঁর আর ছির ঘাসের ফিকে হলুদ মাঠে, লান্টানার ফুলে, মাকড়সার জালে অসংখ্য হিরে ঝিমিকিয়ে উঠছে।

বুড়ো শিকারি হৈঁটে যাচ্ছে সেগুনবন পেরিয়ে, বাঁশের বনের পাশ দিয়ে; দূরের শান্ত শিশিরভেজা গাঢ় সবুজ শাল-জঙ্গলের দিকে।

তাঁবু থেকে অনেকই দূরে চলে এসেছে সে, ছোট ছোট সাবধানী পা মেলে ফেলে বুড়হা-বাঘার পায়ের দাগ খুঁজে খুঁজে। বুড়োরাও শিশুর মতোই হাঁটে অনিশ্চিত টালমাটাল পায়ে।

অনেক দূরে, ডানদিকে দেখা যাচ্ছে মুক্কি গ্রামটা। একটা ছোট্ট গ্রাম, বাজারের তীরে। নদীর অন্য পারে আছে আরও একটি গ্রাম। যদিও অনেকখানি ভিতরে। সে-গ্রামের নাম বানজার-বামনি। তা ছাড়াও আছে রুঝঝানি। কোনও কোনও রাতে বাজার বানি থেকে ভেসে আসে মাদলের শব্দ আর মেয়ে-পুরুষের গলার ঘুমপাড়ানি গান। কার্মা নাচের গান। বুড়ো, সাদা-দাড়ি শিকারির হাড়ে হাড়ে ভোরে শিশির ভেজা এই প্রকৃতি, এই রোদ, এই নদী, সবই গেঁথে রয়েছে। সেঁধিয়ে গেছে তার মজ্জার মধ্যে এই দেশ। এই দেশের গ্রীষ্ম, এর শীত, বর্ষা এবং বসন্ত। তার কান ভরে রয়েছে এদেশের নদী-নালার ঝরঝরানি গানে, ঝরাপাতার মর্মরধ্বনিতে, মৌটুসিপাখির ফিসফিসে সুরে, বড় বাঘেদের বন পাহাড় গমগমানো পুরুষালি ডাকে। এই দেশের বন-জঙ্গলের দিন ও রাতের সমস্ত স্পষ্ট ও অস্পষ্ট শব্দে। নাক ভরে রয়েছে চিতল হরিণের নীল গাইয়ের আর বসন্তবৌরি পাখির গায়ের গন্ধে।

কোনওই দুঃখ নেই বুড়োর। অনুযোগ, অভিযোগ, আক্ষেপও নেই। তবুও এই হেঁয়ালিভরা বুড়ো হেঁটে চলেছে হেঁয়ালির মতো আঁকাবাঁকা সুঁড়িপথ বেয়ে। কাঁধের স্লিপিং-এ ভারী দোনলা রাইফেলটাকে ঝুলিয়ে নিয়ে, সামনে একটু ঝুঁকে, দুঃখ-সুখের বাঁচা-মরার শেষ দেখার জন্যে চলেছে সে। পিঠে তার ছোট্ট একটি র‍্যাক-স্যাক। জলপাই-সবুজ। তার মধ্যে জলের বোতল আর কিছু চিড়ে আর গুড়। পাইপের তামাকের টিন। পাইপ পরিষ্কার করার জিনিস। একটি টর্চ। আর তার প্রিয় কবি ওয়াল্ট হুইটম্যানের বই লীভস অফ গ্রাস।

সকালবেলার বনের পটভূমিতে মাঝে-মাঝে সে হারিয়ে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে মুছে যাচ্ছে; যেমন করে খয়েরি ডানার চিল মুছে যায় ঝড়ের আগের খয়েরি মেঘে।

তুরু চলেছে তার পেছন পেছন। বিরক্ত মুখে। চিন্তিত মনে। যতক্ষণ না বারণ করবে বুড়ো, ততক্ষণ সে যাবেই। তুরুর হাতে বুড়োর দোনলা বন্দুকটি। ফেরার সময় অথবা এখনই যদি কায়দামতো পায়, তবে একটি নধর অল্পবয়সী চিতল বা ননদে শুয়োর ধড়কে দেবে তুরু। নয়তো কুটরা বা চিংকারা বা কৃষ্ণসার। রাতে ঝাবে, মোষের ঘি ঢেলে-ঢেলে; তাঁবুর সামনের আমকাঠের আগুনে। মাংস না খেলে গায়ে জোস্ত হয় না। বুড়ো কিছুই খায়ই না বলতে গেলে, তবুও এই বুড়োর পাল্লায় পড়ে জোয়ান তুরুও হাঁফিয়ে উঠেছে। ভেলকি জানে এই হেঁচকি-তোলা বুড়ো। জোয়ান তুরুর আগে আগে যেন বার্ধক্যর ভাঙা ঘর থেকে বেরিয়ে যৌবনের নতুন চকচকে বাড়ির দিকে নিঃশব্দে হেঁটে যাচ্ছে বুড়ো।

আধঘন্টা পর ওরা দুজনেই ঝুঁকে পড়ে দেখল যে, কাল রাতের বুড়হা-বাঘার পায়ের দাগ মুক্কি গ্রামের দিকের পায়ে-চলা পথ ধরেই এগিয়ে গেছে। বনের ধারেই, তার মাটির ঘরের সামনেই, তামাক পাতার গাছ লাগিয়েছে বেড়া দিয়ে ঘিরে একজন গরিব গোঁন্দ। শীতের রোদ পড়ে সতেজ হলদে-সবুজ বড় বড় গোল গোল তামাক পাতাগুলোকে ভারী সুন্দর দেখাচ্ছে দূর থেকে। মোষের পিঠে চড়ে বাঁশি বাজাতে বাজাতে দুলে দুলে চলেছে একটি বাইগা কিশোর। জঙ্গলের গভীরে। তার মাথার উপর দিয়ে, শীতের সকালের হিমেল আড়ষ্টভাবে হঠাৎ চমকে দিয়ে চলে যাচ্ছে একঝাঁক টিয়া নীল আকাশে মুঠো মুঠো সবুজ আবির ছুঁড়ে দিয়ে।

পথটার কাছে এসে, সাদা-দাড়ির বুড়ো শিকারি থামল।

একটা খুব পুরনো শিমুলগাছের নীচের বড় সাদা পাথরে বসে, রাইফেলটা নামিয়ে রাখল পাশে বুড়ো শিকারি।

বাঁচা গেল।

ভাবল তুরু।

তুরু বলল, খাবে নাকি একটু? কফি?

দে, বুড়ো বলল, পাইপটা খোঁচাতে খোঁচাতে। এবার তুই তোর পথে যা। আমি যাব আমার পথে।

বিরক্ত গলায়, থার্মোসের কাপে কফি ঢালতে ঢালতে তুরু বলল, ঠিক আছে। তবে তুমি যে-পথে যাও সে পথে কি যেতে মানা?

মানা নেই কোনও। তবে প্রত্যেকেরই পথ আলাদা আলাদা।

বনের মধ্যে যখন অনেকগুলো পায়ে-চলা-পথ একসঙ্গে এসে মেলে, তখন পথ চিনতে ভুল হয় না তোমার বাপ্পা?

হয়। সেই জন্যেই তো ঘুরে মরা। জীবনভর। যে পথ চিনেছে, সে সে তো গন্তব্যেই পৌঁছে গেছে রে তুরু। তার আর চিন্তা কী?

এই শিমুলটাতে অনেক ফুল হয় গরমের সময়।

একটুখন চুপচাপ দুজনেই।

একসময় বুড়ো-শিকারি নিজের মনেই বলল, তাই?

হ্যাঁ।

তোর বাবা এই শিমুলের নীচে প্রায়ই কুটরা হরিণ মারত। শিমুলের ফুল খেতে খুব ভালবাসে তো কুটরারা।

জানি। তুরু বলল।

তারপর উপরে চেয়েই বলল, ওই দ্যাখো।

বুড়ো শিকারিও উপরে চাইল। দেখল, একটা বুড়ো বাজ একেবারে মগডালে রোদের রঙিন বালাপোশে ডানা মেলে বসে আছে।

তুরু বলল, বুড়ো বাজ।

হুঁ।

বুড়োদের শীত বেশি? না?

হুঁ।

তোমার?

হুঁ।

তুমি একটা অদ্ভুত বুড়ো। সব বুড়োরা শুধু ভাবেই। বেশি ভাবলে, কাজ করা যায় না কোনও। ঠিক না, বাপ্পা?

তুমি বুড়ো হয়েও এমন কেন? জোয়ানের মতো? যাকে যেমন মানায় তেমনই হওয়া উচিত।

আমি আমারই মতো। আমি ঠিকই মানিয়ে যাই আমাতে।

জানি না! কী তুমি চাও বাপ্পা?

সে তুই বুঝবি না।

কেন? আমি কি বোকা?

বোকা-চালাকের ব্যাপার নয় এটা।

তবে?

এটা একটা অন্য ব্যাপার। বলেইছি তো। অন্য ব্যাপার। কিছু কিছু ব্যাপার থাকে তা পৃথিবীর সব চালাকি দিয়েও ছোঁওয়া যায় না, বুঝবি না তুই।

কী তুমি খুঁজছ বাপ্পা? এমন পাগলের মতো করছ কেন? বাঘ শিকার কি আমিও করিনি, না দেখিনি? আমিও আমার বাবার আমল থেকেই… এ তোমার কী হরকত? আসলে, তুমি বাঘ শিকারে আসেনি। এসেছ, অন্য কিছু শিকার করতে।

হবে। কী জানি!

বিড়বিড় করে বলল বুড়ো দূরে তাকিয়ে।

আজই তুমি মুখ ফুটে বলো তো ভাল করে হাঁকোয়ার বন্দোবস্ত করি। বুড়হা-বাঘা ওই বড় পাহাড়টাতে থাকে যে, তা সকলেই জানে। তবে, ঠিক কোথায় যে থাকে তা কেউই জানে না। কেউ কখনও জানতে যায়নি। সকলকে তো আর তোমার মতো সুখে থাকতে ভূতে কিলোয় না!

সেই তো! ভাসা-ভাসা জানা সকলেই জানে। তলায় যায়নি কেউই। বাঘটা কোথায় থাকে সেটাই আমি সঠিক জানতে চাই। কোনও কিছুই ভাসা-ভাসা জানা আমি পছন্দ করি না। আমি ভাসমান মানুষ নই। ভেসে থাকার মধ্যে কষ্ট নেই কোনও।

কিন্তু তোমাকে বলছি বাপ্পা, বাঘটাকে তুমি মারতে পারবে না। শুধু দম্ভ দিয়ে কিছু পাওয়া যায় না। যোগ্যতা লাগে।

জানি।

সে কী? জানো? তবু…?

হুঁ। মানুষের মতো মানুষ যারা, তাদের কিছু দম্ভ থাকেই। বাঘের মতে, যে বাঘ, তারও থাকে।

তাহলে? করাব হাঁকোয়া?

হাঁকোয়া করাবি কী করে? দশজন শিকারিকে মেরে বাঘটা ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে সকলেরই শিরদাঁড়ায়। হাঁকোয়া করে বাঘকে বের করা সোজা। কিন্তু ভয়কে কি পারবি হাঁকোয়া করে মানুষগুলোর বুকের মধ্যে থেকে টেনে বের করতে? রাজিই হবে না ওরা। ভয়ও রাজি হবে না। ভয় নিজেও কম ভিতু নয়।

সে-ভার আমার। এবার বুঝেছি, তুমি কী চাও। বুড়হা-বাঘা যেসব মানুষকে ভয় পাইয়ে এত বছর জুজু করে রেখেছে, সে ভয়টাকেই তুমি মারতে চাও, ভাঙতে চাও, তাই না?

না।

তাও না! তবে?

তুই বুঝবি না।

কী খুঁজতে পারো তুমি আর? বুড়হা-বাঘা তো কাল রাতে নিজে এসেই জানিয়ে গেল যে, সে আছে। এবং বনের রাজা হয়েই আছে। এবং থাকবেও। আরও কী খোঁজার আছে?

আছে। নে, কাপটা ধর তুরু। তুই বড়ই বেশি কথা বলিস। বনের মধ্যে এত কথা বলতে নেই। বনের পরিবেশ তাতে নোংরা হয়ে যায়। যা এবার। ফিরে যা তুই। এবার আমি একা এগোব। আসলে একা সবাই-ই।…একা একাই..

রাতে কী খাবে? শুয়োর না চিতল না চিংকারা?

অনেক খেয়েছি রে তুরু এ জীবনে। অনেকই রকম খাবার। খাওয়ার সাধ আর নেই।

শিকারি বুড়ো পাইপটা পরিষ্কার করে, তামাক ভরল নতুন করে। তারপর আগুন ধরাল পাইপে, লাইটার দিয়ে।

তুরু হাত পাতল।

বুড়ো তামাকের টিন খুলে কিছুটা সুগন্ধি তামাক দিল ডান হাতের খোলা পাতায়। তামাকটুকু নিয়ে খৈনির মতো মারতে লাগল তুরু, বাঁ হাতের তেলোতে রেখে ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে।

বুড়ো উঠে দাঁড়িয়ে আস্তে রাইফেলটাকে কাঁধে তুলে নিল। মাথার টুপিটা খুলে রাকস্যাকে রাখল।

বলল, চলি রে।

ফিরবে কখন বাপ্পা?

শিকারি আকাশের দিকে তাকাল। বলল, দেখি…সন্ধের মুখেই ফিরব। আশা করি। যদি সন্ধে লাগার পরও না ফিরি…সন্ধের আগেই ফিরে না আসতে পারলে ফেরা মুশকিল..।

খুঁজতে যাব তোমাকে? যদি না ফেরো?

একদম্ না। যারা না-ফেরে, তাদের খোঁজা বৃথা।।

আমি যাবই। তুমি পাগল বলে তো আর আমি নই।

গেলে, একেবারে পরদিন ভোরে যাবি। অন্ধকারে একদমই না। তোর মাকে আমি কথা দিয়ে এসেছি যে, তোকে তার কাছে ফিরিয়ে দেব।

হুঁ! যেন কচি-খোকা আমি। ফিরিয়ে দেব?

যা বলছি, তাই-ই করবি।

গুলির শব্দ যদি পাই, তা হলে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই যাব আমি। ওই পাহাড়ে ফোর-সেভেন্টি রাইফেলের গুলি হলে তার শব্দ এখানে ঠিকই পৌঁছবে।

একদমই না। বলেছি, না। না, তো নাই-ই। মনে থাকে যেন!

তাহলে আমাকে আনলে কেন? তোমাকে রান্না করে খাওয়াব বলে? আমি কি তোমার রাঁধুনি, না বেয়ারা? আমিও তো শিকারি একজন। তোমার গুমোর আছে, আমার নেই?

অভিমানের গলায় বলল তুরু।

বুড়ো তুরুর কাঁধে হাত রেখে বলল, নিশ্চয়ই। তোর মতো ভাল শিকারি কজন আছে? তা ছাড়া, যে-মানুষের গুমোর নেই, সে তো…। কিন্তু তুরু, এটা শিকারের ব্যাপারই যে নয়!

তুমি পুরোপুরিই পাগল হয়ে গেছ বাপ্পা। এটা শিকারের ব্যাপার নয় তো কিসের ব্যাপার? অবাক করলে তুমি!

এটা অন্য ব্যাপার। বলেছি তো।

এবারে বুঝেছি। সাহসের ব্যাপার? তা, আমার বুঝি সাহস নেই? সব সাহস বুঝি তোমার একারই? আমার বাবা মরেছে বাইসনের পায়ে আর শিং-এ। দশ বছর বয়স থেকে আমিও শিকার করছি বাপ্পা। অন্যকে এত ফালতু ভাবা তোমার উচিত নয়। তুমি মনে করো, তুমি একাই ভীষণ সাহসী!

তুত্ তুত করে জিভ দিয়ে একরকম বিরক্তিসূচক শব্দ করল বুড়ো। কী বলল, তা শোনা গেল না ভাল করে।

তারপর বলল, বড়ই বিপদে ফেললি তুই। কী যে বলি তোকে! মিছিমিছি তুই…

বলেই বলল, বাঘ মারাতে কোনওই বাহাদুরি নেই। সে তো ফালতু শরীরের সাহস রে। শরীরের সাহস হচ্ছে সবচেয়ে কম দামি সাহস। ওটা কোনও সাহস নয়। বুঝলি?

তুরু বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকল বুড়োর দিকে অনেকক্ষণ।

বিড়বিড় করে বলল, আজই তোমার শেষদিন। কালকে তোমাকে আমি জোর করেই ফিরিয়ে নিয়ে যাব ভোপালে। তোমার চিকিৎসার দরকার। আর যদি না যাও তাহলে মুক্কি আর বানজার বামনির পাহানদেরও ডেকে নিয়ে আসব। দেখি, তুমি কেমন না ফিরে চলো। গাওয়ানদেরও বলছি আমি গিয়ে।

ঠিক আছে রে, ঠিক আছে। কালকের কথা কালকে। আজ তো যেতে দে।

শেষবার বলো বাপ্পা। আমাকে নেবে কি নেবে না?

না। তুই যা। এগোচ্ছি আমি তাহলে। দেরি হয়ে গেল। লক্ষ্মীছেলে হয়ে থাকিস কিন্তু। রাগ করিস না বুড়োর উপরে। আমি তোর মরে-যাওয়া বাবার চেয়েও অনেক বেশি বুড়ো রে। বুড়ো বাপের উপর কোনও ছেলে রাগ করে? তোর মতো ভাল ছেলে?

তবুও, তুরু ফিরে গেল না। বন্দুক কাঁধে, বনপথেই দুপা ফাঁক করে টেটিয়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। বুড়ো যে পথে যাবে, সেই পথের দিকে চেয়ে।

সাদা-দাড়ি শিকারি রাইফেলটার ভারে সামনে একটুখানি কুঁজো হয়ে খুব আস্তে-আস্তে হেঁটে যেতে লাগল। দেখতে দেখতে সুঁড়িপথের বাঁকে মিলিয়ে গেল বুড়ো। জঙ্গল গিলে নিল জংলিকে।

তুরু, মুক্কির দিকে পা বাড়াল। চাল, ডাল, তেল-মশলা, লঙ্কা, পেঁয়াজ যে-সবের জন্যে তুরুর মতো সাধারণ মানুষের সব খাটাখাটনি, যে-সবের জন্যে ঝগড়া মারামারি স্ট্রাইক ল-আউট; যা-কিছু খেয়ে সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকে; সেই সব জিনিসেরই খোঁজে। তুরু একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ। সাদা-দাড়ি বুড়ো শিকারির মতো পাগল তো নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *