পনের
সত্যপ্রকাশ বললেন, “কী বুঝেছেন?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “বলছি। কিন্তু তার আগে একবার রামদাসকে ডাকুন।”
একটা প্লেটে সুপুরি, লবঙ্গ আর এলাচদানা নিয়ে নিরু এসে বসবার ঘরে ঢুকেছিল। প্লেটটাকে সেন্টার টেবিলে নামিয়ে রেখে সে-ই গিয়ে ডেকে আনল রামদাসকে।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “রামদাস, এই চাবিটা তুমি চেনো?”
পেতলের চাবিটা হাতে নিয়ে রামদাস বলল, “এটা তো সেই তালার চাবি, যা ভেঙে চোর সেদিন ঠাকুরঘরে ঢুকেছিল।”
“এ-চাবি কার কাছে থাকত?”
“রঙ্গিলার কাছে।”
“সব সময়ে তারই কাছে থাকত? ভাল করে ভেবে দ্যাখো।”
“ভাববার কিছু নেই বাবু,” রামদাস বলল, “সব সময়ে তারই কাছে থাকত।”
“আর কেউ এই চানি দিয়ে ঠাকুরঘরের দরজা কখনও খোলেনি কিংবা বন্ধ করেনি?”
“রঙ্গিলা তা আর-কাউকে করতে দিলে তো করবে। না বাবু, এ-চাবি সে কক্ষনো কাউকে দিত না। আমাকেও না। শেষ-রাত্তিরে নিজে গিয়ে ঠাকুরঘরের দরজা খুলত, তারপর সন্ধের পরে নিজেই আবার দরজায় তালাচাবি লাগাত।”
“এ-কাজ ও কতদিন থেকে করছে?”
“তা বছর সাতেক হল।”
“রঙ্গিলার বয়েস এখন কত?”
একটু ভেবে নিয়ে রামদাস বলল, “গত আষাঢ় মাসে ও সতেরো পেরিয়ে আঠারোর পড়েছে।”
“তার মানে ওর বয়েস যখন বছর-দশেক, তখন থেকেই রঙ্গিলা এ-কাজ করছে, কেমন?”
“হ্যাঁ বাবু,” রামদাস বলল, “ঠাকুরঘরের কাজ তার আগে কর্তা-মা আর পিসিমাই করতেন। তাঁরাই ভোর-রাতে দরজা খুলতেন, তারপর সন্ধের আরতি হয়ে গেলে দরজায় তালা-চাবি লাগিয়ে দিতেন। তা বয়েস হয়েছে তো, সেইজন্যে আর এত সব ঝক্কি ওঁরা সামলাতে পারছিলেন না। বছর সাতেক আগে একদিন রঙ্গিলার হাতে ঠাকুরঘরের চাবি তুলে দিয়ে ওঁরা বললেন, ‘নাগ- পঞ্চমীর রাত্তিরে তোর জন্ম, মা-মনসার কাজকর্ম এবারে তুই-ই বুঝে নে। ঠাকুরঘরের দরজা খোলা, দরজা বন্ধ করা, পুজো-আচ্চার জোগাড়যন্তর করা, সবকিছুর ভার এখন থেকে তোর উপরেই রইল।’ তা সেই চাবি ও-মেয়ে একদিনের তরেও হাতছাড়া করেনি।”
“নাগ-পঞ্চমীর রাত্তিরে ওর জন্ম বুঝি?”
উত্তরটা সত্যপ্রকাশ দিলেন। বললেন, “হ্যাঁ, আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চমীতে এখানে মস্ত মেলা হয়, সেই মেলার রাত্তিরেই ও জন্মেছিল।”
ভাদুড়িমশাই কী যেন ভাবলেন কিছুক্ষণ। তারপর বললেন, “মন্দিরের কাজ তো নেহাত কম নয়। দশ বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে এত সব কাজ একাই করত?”
রামদাস বলল, “একা করত না, বাবু, ওকে সাহায্য করবার জন্যে খোকাবাবু দু’দুজন লোক দিয়েছিলেন। এই গাঁয়েরই লোক। তা বছর দুয়েক আগে রঙ্গিলা গিয়ে কর্তা-মা’কে বলল, ‘ওদের তুমি অন্য কাজে লাগাও ঠাকুমা, ওদের কাজকর্ম আমার পছন্দ হয় না, যা পারি আমি একাই করব।’ তা সেই থেকে ও একাই সবকিছু সামলাচ্ছে।”
“কিন্তু ছোটখাটো জ্বরজারিও তো লোকের হয়। তাও কি গত দু’বছরে ওর হয়নি।”
“তা কেন হবে না,” রামদাস বলল, “ওরও হয়েছে। কিন্তু সে-সব যেন ও গেরাহ্যিই করত না। তারই মধ্যে শেষ-রাত্তিরে উঠে ও ঠাকুরঘরের দরজা খুলেছে, বাসনপত্র মেজেছে, ঘর-বারান্দা ধুয়ে-মুছে সাফ রেখেছে, পুজোর জোগাড়যন্তর করেছে, তারপর আরতি হয়ে গেলে সন্ধের পরে আবার চাবিও লাগিয়েছে নিজের হাতে।”
“অর্থাৎ চাবিটা ও কক্ষনো কাউকে দিত না, কেমন?”
“কক্ষনো দিত না।”
“কিন্তু আমরা যখন তালা কিনি, প্রত্যেকটা তালার সঙ্গেই তখন দু-দুটো চাবি পাওয়া যায়। সত্যবাবু, আপনাদের এই তালারও নিশ্চয় দু-দুটো চাবি ছিল। অন্য চাবিটা কোথায়? সেটা বেহাত হয়নি তো?”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “না, বেহাত হয়নি। যে-সব দলিলপত্র কি চাবি আমার রোজ-রোজ দরকার হয় না, গয়নাগাঁটির সঙ্গে সেগুলোও আমি লকারে রাখি। এইরকম আরও কয়েকটা চাবির সঙ্গে সেটাও শিলিগুড়িতে আমার ব্যাঙ্কের লকারে রয়েছে। না না, সেটা বেহাত হয়নি, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।”
“চোর তা হলে তালা ভেঙেই ঢুকেছিল, কেমন?” ভাদুড়িমশাই জিজ্ঞাসা করলেন।
“তা ছাড়া আর কীভাবে ঢুকবে?”
“চাবি দেখে বুঝতে পারছি, তালাটা ছোট নয়, বেশ বড় মাপের। তার উপরে আবার নামী কোম্পানির তালা। ভাঙতে গেলে একটা শব্দ তো হবে।”
“সেইটেই তো আশ্চর্য ব্যাপার বাবু,” রামদাস বলল, “কোনও শব্দই আমরা শুনিনি। ঠাকুরমশাই বলছেন, তিনি লোকজন ছুটে পালাবার শব্দ শুনেছেন, একটা গাড়ির শব্দও পেয়েছিলেন। কিন্তু তেমন-কোনও শব্দ না শুনেছেন পিসিমা, না শুনেছেন কর্তা-মা, না শুনেছে নিরুদিদি। আর আমি যে শুনিনি, সে তো বললুমই।”
“ঠাকুরমশাই কে?”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “আমাদের মন্দিরের পুরুতঠাকুর। গোবিন্দ ভট্চাজ।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ভদ্রলোককে এখনও দেখিনি। দেখা হবে নিশ্চয়। তখন জিজ্ঞেস করা যাবে। এখন যা বলছি, একটু ভেবে দেখুন, মিঃ চৌধুরি। এমন হওয়া কি একেবারেই অসম্ভব যে, তালা ভাঙবার কোনও দরকারই চোরের হয়নি?”
অবাক হয়ে সত্যপ্রকাশ বললেন, “তার মানে? যে-চাবি রঙ্গিলার কাছে থাকে, সেটা সে হাতছাড়া করেনি, আর তার ডুপ্লিকেটটা রয়েছে আমার ব্যাঙ্কের লকারে, অথচ চোরেরও দরকার হল না তালা ভাঙবার। তা কী করে হয়? এ কি পি.সি. সরকারের ম্যাজিক?”
ভাদুড়িমশাই মৃদু হেসে বললেন, “ম্যাজিক কেন হবে? খুবই সহজ ব্যাপার। ধরুন, মঙ্গলবার সন্ধের সময় রঙ্গিলা যখন ঠাকুরঘরের দরজায় তালাচাবি দেয়, তার আগে থাকতেই চোর হয়তো সেখানে লুকিয়ে ছিল। তারপর বুধবার ভোর হবার আগে রঙ্গিলা যখন ঠাকুরঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢোকে, চোর তখন তার মাথা ফাটিয়ে দিয়ে খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। কী, এমনটা কি হতেই পারে না?”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “না, তা পারে না। তার কারণ, ঠাকুরঘরের মধ্যে শুধু ওই মূর্তি আর কিছু বাসনপত্র ছাড়া কিছুই থাকে না। মূর্তিটিও তো বড় নয়, নেহাতই ছোট। হাইট মেরেকেটে ফুট খানেক। এক-আধ ইঞ্চি কমও হতে পারে। তার পিছনে লুকোনো যায় না। চোর তা হলে কোণায় লুকিয়ে বসে থাকবে? না না, সেটা সম্ভব নয়।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “দরজার পাল্লার পিছনেও কি লুকিয়ে থাকা সম্ভব নয়?”
রামদাস বলল, “তাও সম্ভব নয়, বাবু।”
“কেন?”
উত্তরটা সত্যপ্রকাশ দিলেন। বললেন, “ঠাকুরঘরটা খুব ছোট তো, এমনিতেই চলাফেরার জায়গা বড় কম, তার উপরে আবার দরজার পাল্লা খোলে ভিতরের দিকে, তা সেই পাল্লা দুটো যদি ঘরের মধ্যে বেরিয়ে থাকে তো জায়গা আরও কমে যাচ্ছে। সেইটে যাতে না হয়, তার জন্যে দরজার পাল্লায় এমনভাবে ফোল্ডিং কব্জা লাগানো হয়েছে, যাতে পাল্লা দুটো ভিতরের দিকে পুরোপুরি ঘুরে গিয়ে একেবারে দেওয়ালের সঙ্গে সেঁটে যায়। দরজার পাল্লার পিছনে কারও লুকিয়ে থাকার কোনও প্রশ্নই তাই উঠছে না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “যাক্, মঙ্গলবার সন্ধেয় ঠাকুরঘরের দরজা বন্ধ হবার আগেই যে চোর সেখানে ঢুকে পড়েনি, অন্তত এই একটা ব্যাপারে তা হলে নিশ্চিন্ত হওয়া গেল। তাতেও অবশ্য প্রমাণ হচ্ছে না যে, ঠাকুরঘরে ঢুকবার জন্যে চোরকে তালা ভাঙতেই হয়েছিল।”
আমি চুপ করে রইলুম।
সত্যপ্রকাশ বললেন, “আপনার কথাটা ঠিক বুঝতে পারছি না, মিঃ ভাদুড়ি। আগে থাকতেও ঢোকেনি, আবার তালাও ভাঙেনি, চোর তা হলে ঢুকল কী করে?”
ভাদুড়িমশাই এ-কথার সরাসরি কোনও উত্তর না দিয়ে বললেন, “চোর যদি তালা ভেঙেহ ঢুকে থাকে, তো সেই ভাঙা তালাটা কোথায়? ভাঙা তালাটা তো আর এমন-কিছু মূল্যবান জিন্সি নয় যে, মূর্তির সঙ্গে সেটাকেও সে নিয়ে যাবে। তালাটা ওখানে পড়ে থাকবার কথা। তাই না?”
মাথা চুলকে সত্যপ্রকাশ বললেন, “তা বটে।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “এক হতে পারে যে, তাঙা-তালায় পাছে তার আঙুলের ছাপ থেকে যায়, তাই তালাটাও সে সরিয়েছে। সে-ক্ষেত্রে আমাকে ধরে নিতে হয় যে, চোর শুধুই লোভী নয, খুব চালাকও বটে। কিন্তু অত চালাকই যদি হবে, তো খালি হাতে সে তালা ভাঙবে না, হাতে এটা দস্তানা পরে নেবে, কি অন্তত একটা কাপড় জড়িয়ে নেবে, যাতে তালায় কিছুতেই তার আঙুলের ছাপ থেকে না যায়।”
সত্যপ্রকাশের মুখ দেখে মনে হচ্চিল, তিনি বিভ্রান্ত বোধ করছেন। চোর কীভাবে ঠাকুরঘরে ঢুকেছে, তা নিয়ে যেমন রামদাসের, তেমনি তাঁরও ছিল অতি সহজ সিদ্ধান্ত। তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে, এটা স্রেফ তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার ব্যাপার। ব্যাপারটাকে যে আরও হরেক দিক থেকে দেখা যেতে পারে, তা তাঁর ধারণাতেই ছিল না। সত্যি বলতে কী, ধারণায় ছিল না আমারও। ব্যাণ্ডারটা যেন ক্রমেই আরও তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল।
বললুম, “আপনার কী মনে হয় বলুন দেখি। চোর কি সত্যিই খুব চালাক?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “চালাক তো হতেই পারে, আবার না-ও পারে। কিন্তু আপাতত তা নিয়ে গবেষণা করে লাভ নেই। আপাতত যা বুঝতে পারছি, সেটা এই যে, ভাঙা-তালাটা পাওয়া যায়নি। তাই না মিঃ চৌধুরি?”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “এটা আপনি ঠিকই বলেছেন। সত্যিই সেটা পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজাখুঁজি করবার ব্যাপারে কোনও গাফিলতি ছিল না। আমরা তো খুঁজেছিই, পুলিশও নেহাত কম খোঁজেনি। কিন্তু না, কোথাও সেটা পাওয়া গেল না।”
ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “না-পাওয়াই স্বাভাবিক। তালাটা আসলে ভাঙা হয়নি, খোলা হয়েছিল।”
সত্যপ্রকাশ অবাক হয়ে বললেন, “খোলা হয়েছিল? এ তো বড় আশ্চর্য কথা বলছেন আপনি! কী দিয়ে খুলবে?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কেন, যা দিয়ে সবাই তালা খোলে। চাবি দিয়ে।”
“চাবি সে পাবে কোথায়?”
ভাদুড়ি শাইয়ের উত্তরটা আর শোনা হল না। নিরু এসে ঘরে ঢুকল। সত্যপ্রকাশকে বলল, “দাদাবাবু, গোপালের মা এসে বলল, থানা থেকে লোক এসেছে। এখানে পাঠিয়ে দিতে বলব?”
সত্যপ্রকাশ বললেন, “আরে না না, ভিতর-বাড়িতে আর পুলিশ ঢোকাবার দরকার নেই। কাচারি ঘরে বসাতে বলে দাও। আমি আসছি।”
তারপর সোফা ছেড়ে উঠতে-উঠতে বললেন, “আপনারাও চলুন না। পুলিশের লোক কদ্দুর কী হদিস করল, শুনবেন।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমি প্রাইভেট ডিটেকটিভ, পুলিশের লোকেরা আমাদের বিশেষ ছিন্দ করে না। কী জানি কেন, আমাদের সম্পর্কে ওদের একটু অ্যালার্জি আছে। না মশাই, আমার আর গিয়ে কাজ নেই। এমন কী, চুরির কিনারা করতে যে আমাদের এখানে ডাকা হয়েছে, তাও বোধহয় ওদের এখন না জানালেই ভাল। আপনারা যান, আমি বরং এই ভদ্রমহিলার সঙ্গে ততক্ষণ একটু কথা বলি।”
রামদাসকে নিয়ে সত্যপ্রকাশ বেরিয়ে গেলেন।
ভাদুড়িমশাই নিরুকে বললেন, “দাঁড়িয়ে রইলেন কেন, বসুন।”
মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল নিরু। বসল না। বলল, “আমি এ-বাড়িতে কাজ করি, আমাকে ‘আপনি’ বলবেন না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ঠিক আছে, তুমিই বলব। তবে তুমি এ-বাড়ির কাজ করো বলে নয়, বয়সেও তুমি আমার চেয়ে অনেক ছোট, তাই বলব। তা নিরু, তোমাকে কয়েকটা কথা জিজ্ঞেস করবার ছিল যে।”
নিরু বলল, “পরে করলে হয় না? আমাকে এখুনি আবার রান্নাঘরে ফিরতে হবে।”
“কেন, রান্নার লোক আজ আসেনি?”
‘এসেছে, কিন্তু তাকে সব দেখিয়ে দিতে হয়। নইলে সে যা রান্না করবে, আপনারা তা মুখে তুলতে পারবেন না।”
ঘরের দেওয়ালে এক সধবা ভদ্রমহিলার একটি রঙিন ফোটোগ্রাফ ঝুলছে। ছবির ফ্রেম ঘিরে ঝুলছে ফুলের মালা। কার ছবি, জানি না। তবে মালা দেখে মনে হয়, ভদ্রমহিলা বেঁচে নেই। কাল রাত্তিরে ছবিটা আমার চোখে পড়েনি। সম্ভবত ভাদুড়িমশাইয়েরও পড়েনি। আজ কিন্তু তিনি কথা বলতে-বলতেই ছবিটা বারবার দেখছিলেন।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ঠিক আছে, কয়েকটা কথা জানবার ছিল, তবে পরে জানলেও ক্ষতি নেই। আপাতত শুধু দুটো প্রশ্নের জবাব দাও। বেশিক্ষণ তোমাকে আটকে রাখব না। কী, তাতে আপত্তি আছে?”
“না না, আপত্তি থাকবে কেন, কী বলবেন বলুন?”
“এ-বাড়িতে তুমি কত দিন হল কাজে ঢুকেছ?”
“তা বছর পাঁচেক হল।”
“বাঃ,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আর মাত্র একটা প্রশ্ন করব। বাস্, তারপরেই তোমার ছুটি। দেওয়ালে টাঙানো ওই ছবিটা কার?”
মুখ না তুলেই নিরু বলল, “দাদাবাবুর স্ত্রীর।”
“তোমার দিদির নয়?”
এতক্ষণে মুখ তুলল নিরু। স্থির, বিষণ্ণ চোখে তাকিয়ে রইল ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে। তারপর আবার মুখ নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
