মিসেস তালুকদারের আংটি (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
চার
টর্চটা হাতের কাছেই ছিল। সেটা জ্বেলে বললুম, “আরে, আসুন, আসুন। রোজ-রোজ এ কী কাণ্ড হচ্ছে বলুন তো?”
মনোজবাবু হেসে বললেন, “দাঁড়ান মশাই, সবে খাওয়া শেষ করেছি, এই সময়ে আলো নিবল। মুখটা পর্যন্ত ধুতে পারিনি। আগে আপনাদের বাথরুম থেকে ভাল করে মুখ-হাত ধুয়ে আসি তো, তারপর কথা হবে।”
“বাথরুম তো অন্ধকার, টর্চটা নিয়ে যান।”
“দরকার হবে না।” বাথরুমে ঢুকে ভদ্রলোক দরজা বন্ধ করে দিলেন।
বেরিয়ে এলেন একটু বাদেই। তারপর খাটের একধারে আরাম করে বসে, একটা সিগারেট ধরিয়ে সিগারেটের প্যাকেটটা আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, “হ্যাঁ, কী যেন বলছিলেন?”
অন্ধকারটা যে একেবারে ঘুটঘুটে, তা নয়। একটু হালকা ধরনের। ফলে স্পষ্ট করে কিছু দেখতে না পেলেও ঘরের ভিতরকার সবই আমরা মোটামুটি ঠাহর করতে পারছি। বললুম, “হঠাৎ-হঠাৎ এই যে আলো নিবে যায়, এর কারণটা কী?”
“এ তো খুবই সহজ কথা,” মনোজবাবু বললেন, “লাইন ট্রিপ করতে পারে, সাপ্লাই লাইনে ছোটখাটো মেরামতির জন্যে খানিকক্ষণের জন্যে পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ রাখতে হতে পারে, কারণ তো এই রকমের অনেক কিছুই হওয়া সম্ভব। তবে কিনা বেশিক্ষণ তো আর ভুগতে হচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের চেয়ে এটা নিশ্চয় অনেক ভাল।”
বললুম, “তা বটে। দু’পাঁচ মিনিটের মধ্যেই যে সাপ্লাই আবার রেস্টোর্ড হচ্ছে, সেটা ঠিক।”
ভাদুড়িমশাই এতক্ষণ কিছু বলেননি। অন্ধকারের মধ্যে বসে চুপচাপ সিগারেট টেনে যাচ্ছিলেন। এবারে টর্চ জ্বেলে হাতঘড়িটা দেখে নিয়ে বললেন, “আজ কিন্তু দু’পাঁচ মিনিটের জায়গায় অলরেডি দশ মিনিট হয়ে গেছে। সওয়া আটটায় আলো নিবেছে, আর এখন আটটা পঁচিশ। আর তা ছাড়া, পুবদিকের জানলায় যদি চোখ রাখেন তো দেখতে পাবেন, ওদিককার বাড়িগুলোতে আলো এসে গেছে। এ বাড়িটায় তা হলে এখনও আলো জ্বলল না কেন?
সদানন্দবাবু বললেন, “আরে তাই তো, ওদিককার বাড়িগুলো তো অন্ধকার নয়!”
মনোজবাবু বললেন, “তা হলে তো এই বাড়ির লাইনেই কিছু একটা ট্রাব্ল হয়েছে বুঝতে হবে। দাঁড়ান, নীচ থেকে খবর নিয়ে আসছি।”
ঘর থেকে মনোজবাবু বেরিয়ে গেলেন।
বললুম, “কী রকমের ট্রাব্ল বলে মনে হয়?”
সদানন্দবাবু বললেন, “এ নিশ্চয় জোড়াসাঁকোর সেই…
তাঁকে বাধা দিয়ে বললুম, “থামুন মশাই, জোড়াসাঁকো আপনার একটা ব্যাধি হয়ে দাঁড়াল দেখছি! আর তা ছাড়া, আপনাকে নয়, কথাটা আমি ভাদুড়িমশাইকে জিজ্ঞেস করেছিলুম।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আহা, ওঁকে অত বকাবকি করছেন কেন। …আমার ধারণা, আলো নিবার পরে-পরেই কেউ মেন-সুইচ অফ করে দেয়। কিন্তু সেটা তো কথা নয়। কথা হচ্ছে, যে-ই সে-কাজ করে থাকুক, কেন করল। … কিরণবাবু, লক্ষণ খুব সুবিধের বলে মনে হচ্ছে না। কারেন্ট চলে যেতেই যে নীচ থেকে কেউ চিৎকার করে উঠেছিল, সেটা শুনতে পেয়েছিলেন?”
“পেয়েছিলুম। তবে চিৎকার-চেঁচামেচি তো এখনও সমানে চলছে। মনে হচ্ছে, হোটেলের লোকজনেরা মিঃ মহাপাত্রের ঘরে গিয়ে…’
বলতে যাচ্ছিলুম, ‘হাঙ্গামা করছে’। কিন্তু বলা আর হল না, তার আগেই দপ করে ফের আলো জ্বলে উঠল।
অন্ধকারের মধ্যে সদানন্দবাবু গিয়ে ভাদুড়িমশাইয়ের পিছনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, এবারে আলো জ্বলতেই সেখান থেকে সরে এসে তিনি আবার তাঁর আগের জায়গা অর্থাৎ আর্ম-চেয়ারটির দখল নিলেন। বললেন, “বাব্বা, বাঁচা গেল!”
মনোজবাবু ফিরে এলেন তার মিনিট দুয়েক বাদে। ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে হাসতে-হাসতে বললেন, “আর বলবেন না মশাই, কে যেন মেন সুইচটিই অফ্ করে রেখেছিল, অথচ সেটাই কারও নজরে পড়েনি! ভাবা যায়?”
“শেষ পর্যন্ত কার নজরে পড়ল?” প্রশ্নটা ভাদুড়িমশাইয়ের।
“মিসেস তালুকদারের।” মনোজবাবু বললেন, “ভদ্রমহিলা তাঁর ব্যাগ থেকে একটা টর্চ বার করে ঘুরে-ঘুরে সব দেখছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে মেন-সুইচের কাছে গিয়ে বললেন, এ কী, এটা কে অফ্ করে রেখেছে!”
“কে অফ্ করে রেখেছিল, জানা গেল?”
“তাই কখনও জানা যায়?” মনোজবাবু হেসে বললেন, “দোষ করে কেউ স্বীকার করে নাকি? অবশ্য কোনও আনাড়ির কাজও হতে পারে। অজান্তে করে ফেলেছে, এখন লজ্জায় সে-কথা বলতে পারছে না।”
একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর বললেন, “আমার তা মনে হয় না।”
“কী মনে হয় না?”
“আনাড়ির কাজ বলে মনে হয় না। এটা পাকা হাতের কাজ। তবে কাজটা যে কেন করেছিল, সেটা বুঝতে পারছি না। …নাঃ, ভাবিয়ে তুলল দেখছি।”
ভাদুড়িমশাই একটা সিগারেট ধরালেন। কিন্তু তক্ষুনি আর-কিছু বললেন না।
দরজায় টোকা পড়ল তার মিনিট পাঁচেক বাদে।
উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখলুম, মিঃ মহাপাত্র দাঁড়িয়ে আছেন। বললুম, “কী ব্যাপার?”
নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে খুবই কুণ্ঠিত ভঙ্গিতে মিঃ মহাপাত্র বললেন, “একটা কথা জানাতে এলুম।”
“বলুন।”
“দয়া করে আপনারা কেউ এখন ঘর থেকে বেরুবেন না।”
“কেন?”
“এস. পি.-র অর্ডার।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তার মানে?”
“মানে,” ঢোক গিলে মিঃ মহাপাত্র বললেন, “এটা একটা পুলিশ-রেডের ব্যাপার। হোটেলটাকে কর্ডন করে রেখে ঘরে-ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। এস.পি. সাহেব নিজেই এসেছেন। তিনিই বললেন যে, যিনি সেখানে রয়েছেন, ঠিক সেইখানেই যেন থাকেন, তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত জায়গা ছেড়ে কারও নড়া চলবে না।”
“কেন?”
“তা তো বলতে পারব না,” একই রকমের কুণ্ঠিত ভঙ্গিতে মিঃ মহাপাত্র বললেন, “চারতলা থেকে তল্লাশি শুরু করেছে। …আমার তো সবাইকে খবর দেবার কথা। তা তিনতলার কাজ হয়ে গেল, এবারে দোতলায় গিয়ে ঘরে-ঘরে খবর দিতে হবে।”
“ভার্মাজির ঘরে খবর দিয়েছেন তো?”
“দিয়েছি।”
মিঃ মহাপাত্র সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় নেমে গেলেন।
সদানন্দবাবু বললেন, “এ তো খুব মুশকিলে পড়া গেল!”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “মুশকিলটা কী দেখলেন? এমনিতেও তো বৃষ্টির জন্যে বাইরে বেরুনো যাচ্ছিল না।”
মনোজবাবু বললেন, “আমি অবশ্য রাত্তিরের খাওয়ার পাট চুকিয়ে ফেলেছি, সেদিক দিয়ে কোনও অসুবিধে নেই, কিন্তু আপনারা তো যা বুঝলুম খেতে যেতে পারবেন না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “রাত্তিরের দিকে এমনিতেও আমরা দশটা সাড়ে দশটার আগে খাই না। তল্লাশির পাট তার আগেই নিশ্চয় চুকে যাবে। সুতরাং আমাদেরও কোনও অসুবিধে নেই।”
আমি বললুম, “আপনারা বসে গল্প করুন। ইতিমধ্যে আমি বরং স্নানটা সেরে নিই।”
মনোজবাবু বললেন, “রাত্তিরেও আপনি স্নান করেন?”
বললুম, “রোজ করি। অনেক কালের অভ্যাস।”
সদানন্দবাবু বললেন, “অভ্যাস নয়, বদভ্যাস।”
উত্তরে কিছু না-বলে আমি বাথরুমে গিয়ে ঢুকলুম। কিন্তু শাওয়ার খুলে দেখলুম, জল পড়ছে না। বেরিয়ে এসে বললুম, “স্নানের দফা রফা। শাওয়ারে জল নেই।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “বেসিনে আছে?”
“তা আছে। তবে চুলকাটার সেলুনে যেমন খদ্দেরের মাথাটাকে বেসিনের মধ্যে ঠেসে ধরে শ্যাম্পু করানো হয়, হোটেলেও কি সেইভাবে বেসিনে মাথা ডুবিয়ে চান করতে হবে নাকি? না মশাই, ও আমার দ্বারা হবে না।”
মনোজবাবু বললেন, “তা হলে?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “রাত্তিরের স্নানটা একদিন নাহয় না-ই করলেন কিরণবাবু। তাতে এমন-কিছু মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।”
মনোজবাবু বললেন, “তা তো হল, কিন্তু আমি যদি এখানে বসে থাকি তো পুলিশ আমার ঘর তল্লাশি করবে কী করে? আমার কি এখন নিজের ঘরে যাওয়া উচিত নয়?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তাড়াহুড়োর কিছু নেই। আগে তো পুলিশ আসুক। এসে যদি বলে যে, আপনার ঘর তল্লাশি করবে, তো তখন গিয়ে ঘরটা খুলে দেবেন?”
সদানন্দবাবু বললেন, “বেড়াতে এসে এ তো মহা মুশকিলে পড়া গেল!”
কথাটা শেষ-হতে-না-হতেই দরজায় টোকা পড়ল আমাদের। দরজা খুলে যাঁকে দেখা গেল, পুলিশ-অফিসারের ইউনিফর্ম পরা সেই ঝকঝকে চেহারার অল্পবয়সি মানুষটির উপরে চোখ বুলিয়েই আমি আন্দাজ করেছিলুম যে, ইনি এস.পি. না-হয়ে যান না। বললুম, “আসুন, আসুন।”
ভিতরে ঢুকে ভদ্রলোক বললেন, “নমস্কার। আমার নাম ইন্দুভূষণ পাণিগ্রাহী। আমি এখানকার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “নমস্কার। কিন্তু আমরা আপনার জন্য কী করতে পারি?”
মিঃ পাণিগ্রাহী বললেন, “এই হোটেলের প্রতিটি ঘর যে সার্চ করা হচ্ছে, সেটা জানেন নিশ্চয়। এই ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করতে পারেন। সার্চ এখন চারতলায় চলছে, সেখান থেকে আমার লোকেরা একটু বাদেই তিনতলার ঘরগুলো সার্চ করতে নেমে আসবে। তখন দয়া করে তাদের বাধা দেবেন না। এটা সকলকেই বলছি। আপনাদেরও বলে গেলুম।”
বললুম, “ভাদু। মশাই, সার্চ কতক্ষণ ধরে চলবে, সেটাও এঁর কাছ থেকে জেনে নিলে হত না?” মিঃ পাণিগ্রাহী থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ দরজা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, “ডিড আই হিয়ার সামওয়ান মেনশন দ্য নেম অভ্ মিস্টার ভাদুড়ি?”
বললুম, “হ্যাঁ।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমারই নাম চারুচন্দ্র ভাদুড়ি।”
“ব্যাঙ্গালোরের মিঃ ভাদুড়ি?”
“হ্যাঁ।”
মিঃ পাণিগ্রাহী বললেন, “আরে, কী কাণ্ড! আপনাকেই আমি খুঁজছিলুম। হোটেলের রেজিস্টারে আপনার নাম দেখেই বুঝেছি যে, আপনি সেই বিখ্যাত ইনভেস্টিগেটর। কিন্তু সেখানে তো দেখলুম যে, আপনি তিনতলার দু-নম্বর ঘরটা নিয়েছেন। এদিকে আবার দু’নম্বর ঘরটা তো দেখলুম তালা-বন্ধ।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আসলে এই তিনতলার এক নম্বর আর দু-নম্বর দুটো ঘরই আমরা নিয়েছি। এই এক নম্বর ঘরটায় আমার দুই বন্ধু থাকেন। নিজের ঘরে তালা ঝুলিয়ে ওঁদের ঘরে বসে আড্ডা দিচ্ছিলুম।”
“ওঁদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন।”
আমাকে আর সদানন্দবাবুকে পরপর দেখিয়ে দিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “উনি মিঃ কিরণ চট্টোপাধ্যায়, জর্নালিস্ট, আর ইনি মিঃ সদানন্দ বসু, আ ভেরি ক্লোজ ফ্রেন্ড অভ মাইন।”
মনোজবাবু বললেন, “আমার নাম মনোজ সেন। কলকাতার একটা কোম্পানির সেল্স এগজিকিউটিভ। ওড়িশায় মাঝে মাঝে ট্যুরে আসতে হয়।”
“ঘরের নম্বর?”
“আমি এখানে মিঃ ভাদুড়ির পাশের ঘরে অর্থাৎ তিন-নম্বর ঘরে আছি। এঁদের এখানে বসে একটু গল্প করছিলুম। যখন দরকার হবে আমাকে জানালেই আমি গিয়ে আমার ঘরের দরজা খুলে দেব।”
মিঃ পাণিগ্রাহী ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকালেন। ভাদুড়িমশাই বললেন, “সার্চ করে দেখতে পারেন, তবে দরকার হবে বলে মনে হয় না।”
“ব্যস, ব্যস, আপনার কথাই যথেষ্ট।” পাণিগ্রাহী বললেন, “মিঃ সেনকেও তা হলে আর কষ্ট দিচ্ছি না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা তো হল, এবারে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?”
“কী জিজ্ঞেস করবেন, সেটা বুঝতে পারছি। হঠাৎ এখানে কেন রেড করবার দরকার হল, এই তো?”
“বিলক্ষণ।”
“জানানো উচিত নয়,” মিঃ পাণিগ্রাহী হেসে বললেন, “তবে কিনা আপনার কথা আলাদা। আসলে আজ সকালে আমরা ক্যালকাটা পুলিশের কাছ থেকে একটা মেসেজ পেয়েছি। একটা গ্যাং ওখানে ফ্ল্যাটে ডাকাতি করে বেড়াচ্ছিল। আ গ্যাং অব ফোর, টু বি প্রিসাইজ। তা ক্যালকাটা পুলিশের ইনফরমেশন, ওখানকার জোড়াসাঁকো এলাকার একটা ফ্ল্যাটে ডাকাতি করবার পরে তারা দিন কয়েকের জন্যে এখানে এসে গা-ঢাকা দিয়েছে।”
“ক্যালকাটা পুলিশ এটা জানল কী করে?”
“ওয়েল মিঃ ভাদুড়ি, অ্যাট লিস্ট ইউ শুডন্ট আস্ক দ্যাট কোয়েশ্চেন। আপনি খুব ভালই জানেন যে, আন্ডারওয়র্লডে পুলিশের একটা নেটওয়ার্ক অব ইনফর্মারস থাকে। আমার ধারণা, তাদেরই কেউ পুলিশকে এটা জানিয়ে থাকবে।”
“তারা কি সবসময় নির্ভুল খবর দেয়?”
মিঃ পাণিগ্রাহী তৎক্ষণাৎ এই প্রশ্নের জবাব দিলেন না। ভাদুড়িমশাইয়ের মুখের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর বললেন, “না, সব সময়ে দেয় না। তবে কিনা, যদ্দুর বুঝতে পারছি, দিস পার্টিকুলার পিস অব ইনফর্মেশন ইজ অ্যাবসলুটলি কারেক্ট। তা নইলে কি আর আপনাদের উপরতলার দু’-নম্বর ঘর থেকে একটি ইয়াং কালকে ইতিমধ্যে আমরা গ্রেফতার করতুম? তাদের ঘরে কী পাওয়া গেছে জানেন?”
“আপনি না-বললে কী করে জানব?”
“একটি স্যুটকেস ভর্তি দশ হাজার টাকার কারেন্সি নোট।” মিঃ পাণিগ্রাহী হেসে বললেন, “মজা কী জানেন, জোড়াসাঁকোর ফ্ল্যাট থেকে ঠিক দশ হাজার টাকাই নাকি লুঠ হয়েছিল। এটা যদি সেই দশ হাজার হয় তো বলব, লুঠের টাকার একটা পয়সাও এরা খর্চা করেনি। মনে হয় কারও জন্য এরা অপেক্ষা করছিল। সে এসে পৌঁছলে তারপর লুঠের টাকা ভাগ হত।”
আমি বললুম, “শুধু টাকা নয়, কাগজে পড়েছি, কিছু গয়নাও ওই ফ্ল্যাট থেকে লুঠ হয়।”
মিঃ পাণিগ্রাহী বললেন, “স্যুটকেসের মধ্যে তাও কয়েকখানা পাওয়া গেছে। তবে মিলিয়ে দেখা হয়নি।”
সিঁড়িতে বুটজুতোর শব্দ। দরজা খোলাই ছিল। দেখি, চারতলা থেকে ইউনিফর্ম পরা তিনজন লোক তিনতলায় নেমে আসছে। মিঃ পাণিগ্রাহীকে দেখেই তারা সেলাম ঠুকে, বুটে-বুটে ঠকাস করে শব্দ তুলে দাঁড়িয়ে পড়ল। একজন একটু এগিয়ে এসে বলল, “চারতলার কাজ শেষ হয়ে গেছে স্যার, এবারে তিনতলাটা সার্চ করব।”
মিঃ পাণিগ্রাহী বললেন, “এ-তলায় এক, দুই আর তিন নম্বর ঘর সার্চ করবার দরকার নেই। শুধু পশ্চিমের ওই চার নম্বর ঘরটা সার্চ করে তোমরা দোতলায় নেমে যাবে। দ্যাখো যদি আর-কিছু পাওয়া যায়।” তারপর আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি আরও কিছুক্ষণ এই হোটেলে থাকব। যদি কোনও দরকার হয় তো ম্যানেজারের ঘরে আমাকে ফোন করবেন। আচ্ছা, নমস্কার।”
