(৫)
ভাদুড়িমশাই প্রশস্ত হেসে দু’দিকে ঘাড় নাড়লেন। অর্থাৎ আমরা রুংতার কাছ থেকে আসিনি।
অর্থটা বুঝবামাত্র ভদ্রলোকের চোখ দুটো একটু কুঁচকে গেল। বললেন, “তব্?”
“আমরা মিস্টার প্রকাশ চৌহানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”
“আমিই পরকাশ চৌহান।
“আপনার পাসপোর্ট নিয়ে কথা বলতে চাই।”
“জাস্ট আ মিনিট।” মেয়েটির দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রকাশ চৌহান বললেন, “যেটা ডিকটেট করলাম, ওটার শেষে ‘বেস্ট রিগার্ডস’ দিয়ে টাইপ করে রাখুন। এঁদের সঙ্গে কথা বলে আমি সাইন করে দিব।” তাপর আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনারা ভিতরে আসুন।”
ভিতরের ঘরটা আয়তনে ছোট, তবে আরও শৌখিন করে সাজানো। ফোম-লেদারের সোফা-সেটগুলো আরও দামি, কার্পেটও অনেক পুরু। ঘরের একদিকে একটা হোয়াট-নট, অন্যদিকে একটা ডিভান। দেওয়ালে ছবি নেই। শুধু দুই গোলার্ধের একটা মস্ত মাপের মানচিত্র। প্রকাশ চৌহান বললেন, “বৈঠিয়ে।”
এর পিছনেও যে একটা-দুটো ঘর আছে, ভারী একটা পর্দা ঝোলানো থাকলেও, পিছনের দরজাটা খোলা থাকায় সেটা বুঝতে পারছিলুম। পর্দার পিছন থেকে টুকরো-টাকরা কথা ও হাসির আওয়াজও ভেসে আসছিল। হাসতে হাসতেই কেউ বলল, “নেহি নেহি, আভি ক্যায়সে হো শতা?” নারীকণ্ঠ, তাতে কিঞ্চিৎ কৌতুক মেশানো রয়েছে।
প্রকাশ চৌহান উঠে গিয়ে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে এলেন। তারপর সোফায় বসে বললেন, “আপনারা ওটা… আই মিন আমার পাসপোর্টটা কোথায় পেলেন?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমরা তো পাইনি।”
“তা হলে?”
“পুলিশ পেয়েছে। অ্যাক্সিডেন্ট হওয়া একটা অ্যাম্বাসাডর গাড়ির গ্লাভস্ কম্পার্টমেন্টে ওটা পাওয়া যায়। আপনার পাসপোর্ট এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।”
“তা-ই?” প্রকাশ চৌহান বললেন, “তা ওটা ফেরত পাব কী করে?”
“অল ইউ হ্যাভ টু ডু ইজ গেট ইন টাচ উইথ লালবাজার।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “সেখানে গিয়ে শোভন চৌধুরির সঙ্গে দেখা করলেই আপনার পাসপোর্ট আপনি ফেরত পেয়ে যাবেন।
“তা-ই?”
“তা-ই। কিন্তু তার আগে আপনাকে দু-একটা প্রশ্ন করব।”
“বাট আই ডু নট আন্ডারস্ট্যান্ড ওয়ন থিং। হাউ ডাজ ইট কনসার্ন ইউ? আপনি কি পুলিশের লোক?”
“না। তবে কখনও-কখনও তাদের হয়ে কাজ করতে হয়। যেমন এখন করছি।”
“বাস, তা কী জানবার আছে, বলুন।”
“আপনার পাসপোর্টটা কবে হারায়?”
“দিন সাতেক আগে। না না,” মনে-মনে কিছু-একটা হিসাব করে নিয়ে প্রকাশ চৌহান বললেন, “এগজ্যাক্টলি দশ দিন আগে। দ্যাট ওয়াজ এ থার্সডে।”
“কীভাবে কোথায় হারাল, মনে পড়ে?”
“তা পড়ে বই কী!” প্রকাশ চৌহান বললেন, “ওই থার্সডে সকালে আমি আমার ইনকাম ট্যাক্সের উকিলের বাড়ি যাই। নিজের গাড়িটা খারাপ ছিল, তাই ট্যাক্সি করে গিয়েছিলুম। সঙ্গে ছিল কাগজপত্রের একটা ফাইল আর একটা কিট-ব্যাগ। ট্যাক্সি থেকে নেমে ভাড়া মেটাই। ট্যাক্সিওয়ালা তার গাড়ি নিয়ে চলে যায়। তখন খেয়াল হয় যে, কিট-ব্যাগটা নামানো হয়নি। দরকারি আর দু’-পাঁচটা জিনিসের সঙ্গে আমার পাসপোর্টও ওই কিট-ব্যাগের মধ্যে ছিল।”
“আপনি তো গিয়েছিলেন ইনকাম ট্যাক্সের উকিলের বাড়িতে। সেখানে পাসপোর্ট নিয়ে যাবার দরকার হল কেন?”
“বাঃ, অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারে আমি কোন্ কোন্ ফরেন কানট্রিতে গিয়েছিলাম, উকিলকে তার নথি দেখাতে হবে না? তার জন্যে যে খর্চা হল, সেটা আমি ছাড় পাব। বিজনেস টুর, অল ডান ইন কনেকশান উইথ মাই এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট বিজনেস। উকিল বলেছিল, কবে কোথায় গিয়েছিলাম, কোথায় কত দিন ছিলাম, রিটার্নের সঙ্গে তার একটা ডিটেল্ড স্টেটমেন্ট জুড়ে দিতে হবে। না দিলে এক্সপেন্স বাবদে ওই ছাড়টা মিলবে না।”
“ঠিক আছে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু পাসপোর্ট যে খোয়া গেছে, পুলিশে কিংবা রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসে সেটা আপনি জানিয়েছেন তো?”
“সেইটা জানানো হয়নি।” প্রকাশ চৌহান কুণ্ঠিতভাবে বললেন, “রোজ ভাবি, জানিয়ে দিব। কিন্তু কাজের এত প্রেশার যে, ভুলে যাই। কয়েকটা আইটেমের এক্সপোর্টের ব্যাপারে একটু পিছিয়ে আছি, মালটা যাদের দিবার কথা, লেবার ট্রাবলের জন্যে তারা দিতে পারছে না, ফলে আমাকেও বারবার মাফি মেঙে পার্টিকে চিঠি লিখতে হচ্ছে, এখন ভয় হচ্ছে যে, অর্ডারটা না ক্যানসেল্ড্ হয়ে যায়। সেটা হলে খুব নুকসান হয়ে যাবে। ঝামেলায় পড়ে যাব, মিঃ ভাদুড়ি।”
“পাসপোর্ট হারানোর ব্যাপারটা যে সঙ্গে-সঙ্গে জানিয়ে দেননি, তাতেও ঝামেলা হতে পারে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওটা আপনার সেইদিনই জানানো উচিত ছিল। যা-ই হোক, বেটার লেট দ্যান নেভার। ওটা আপনি যত তাড়াতাড়ি পারেন, জানিয়ে দিন।”
“আজ তো ছুটির দিন, কালই ফার্স্ট আওয়ারে জানিয়ে দিব।” প্রকাশ চৌহান বললেন, “কিন্তু আপনাদের তো কিছুই অফার করা হল না। কম সে কম এক কাপ কফি তো পিয়ে যান।”
ভাদুড়িমশাই সোফা ছেড়ে উঠে পড়েছিলেন। বললেন, “থ্যাঙ্কস। কিন্তু এখন আর কফি খাবার সময় নেই, আর-এক জায়গায় যেতে হবে।”
কথা বলতে-বলতে আমরা ভিতর থেকে বাইরের ঘরে চলে এসেছিলুম। বাইরের ঘরের টেবিলের কাছে কার্পেটের উপরে টাইপ করা এক শিট কাগজ পড়ে রয়েছে। সেটা কুড়িয়ে নিয়ে টাইপিস্ট-মেয়েটির হাতে তুলে দিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “বোধহয় হাওয়ায় আপনার টেবিল থেকে পড়ে গিয়েছিল।”
প্রকাশ চৌহান বিরক্ত গলায় বললেন, “ও মিস রবিনসন, ইউ আর অলওয়েজ সো ক্লামজি অ্যান্ড কেয়ারলেস।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “না না, এ তো হতেই পারে।”
টাইপিস্ট-মেয়েটি কিছু বলল না, শুধু চোখ তুলে আমাদের দিকে একবার তাকাল মাত্র। আমরা বাইরে বেরিয়ে এলুম।
বাড়িতে ফিরতে-ফিরতে সাড়ে বারোটা। বললুম, “দুপুরের খাওয়াটা এখানেই সেরে নিন। তারপর খানিকক্ষণ বিশ্রাম করে মালতীদের ওখানে ফিরবেন। বড্ড বেশি ধকল যাচ্ছে, মশাই। শরীরটাকে এত খাটাবেন না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “খাব না, তবে উপরে যাব, বাসন্তীর সঙ্গে একবার দেখা করে যাই। নইলে বড্ড রেগে যাবে।”
বাসন্তী অবশ্য না-খাইয়ে ছাড়ল না। বলল, “পাগল নাকি? এত বেলায় যদি না-খেয়ে ফিরে যান তো গেরস্তের অকল্যাণ হবে।”
“কিন্তু ও-বাড়িতে ওরা না-খেয়ে আমার জন্যে বসে থাকবে যে!”
“কেউ বসে থাকবে না।” বাসন্তী হেসে বলল, “মালতীকে আমি ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি যে, আপনি এখানেই চাট্টি ডালভাত খেয়ে নেবেন।”
খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকতে-চুকতে দেড়টা বাজল। তারপর বিশ্রাম, অর্থাৎ গল্পগুজবের পালা শেষ হতে-হতে তিনটে। তারপর চা। চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “এবারে কিন্তু উঠতে হবে।”
ফোনটা এল ঠিক সেই সময়েই। শোবার ঘরে বসে গল্প করছিলুম। সেখান থেকে বসবার ঘরে এসে রিসিভার তুলে বললুম, “হ্যালো…”
“এটা কি কিরণ চ্যাটার্জি মশাইয়ের বাড়ি?”
“হ্যাঁ।”
“চারু ভাদুড়িমশাই ওখানে আছেন?”
“তা আছেন, কিন্তু আপনি কে, তা তো বুঝতে পারলুম না।”
“আমি শোভন চৌধুরি কথা বলছি। ওঁর খোঁজে ডক্টর সান্যালের ওখানে ফোন করেছিলুম। তা ওঁরাই আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে জানালেন যে, আপনার বাসায় ওঁকে হয়তো পাওয়া যাবে।”
“ওঁকে ডেকে দেব?”
শোভন চৌধুরি কুণ্ঠিত গলায় বললেন, “না না, ওঁকে ডাকবার দরকার নেই। শুধু একটা মেসেজ দেওয়া দরকার। সেটা ওঁকে দিয়ে দিলেই হবে।”
“বেশ তো, কী বলতে হবে বলুন।”
“বলবেন যে, উনি যদি একবার ভি. আই. পি. রোডের ধারে শ্রীভূমির কাছে চলে আসতে পারেন তো বড় ভাল হয়। অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল। আমি সেখানে অপেক্ষা করব। …আর হ্যাঁ, আসল কথাটাই বলা হয়নি। আসবার সময় কাঁকুড়গাছি তো পথেই পড়বে। উনি যেন কৌশিকবাবুকে তুলে নিয়ে আসেন। আমি তাঁকে বলে রেখেছি।”
শোভন চৌধুরি ফোন ছেড়ে দিলেন।
শোবার ঘরে ফিরে গিয়ে ভাদুড়িমশাইকে মেসেজটা দিয়ে বললুম, “কিছু বুঝতে পারলেন?”
“তা কেন পারব না?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওখানে একটা-কিছু ঘটেছে নিশ্চয়, তাই আমাকে যেতে বলছে। এতে তো না-বুঝবার কিছু নেই।”
“কী ঘটেছে?”
“গেলেই সেটা জানতে পারব। তবে কৌশিককেও যে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে বলেছে, এটাই হচ্ছে ভয়ের কথা। …কী, আপনিও যাবেন নাকি?”
কাগজের একটা সাপ্লিমেন্ট বেরুচ্ছে। তাতে একটা প্রবন্ধ লিখবার কথা। ভেবেছিলুম, সকালবেলাটা তো ঘোরাঘুরিতে কেটেছে, রাত্তিরে সেটায় হাত দেব। কিন্তু এখন যদি আবার বেরিয়ে পড়ি তো ফিরতে কত রাত হবে, কে জানে। রাত যদি বেশি হয়ে যায় তো আজ আর কাগজ-কলম নিয়ে বসতে পারব না। এদিকে আবার কৌতূহলটা ক্রমেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিল। ফলে, লেখার ভাবনা মুলতবি রেখে বললুম, “চলুন তা হলে বেরিয়ে পড়া যাক।”
আমহার্স্ট স্ট্রিট দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি যাওয়া যেত। কিন্তু ও রাস্তায় আজকাল দক্ষিণ থেকে উত্তরে যেতে দেয় না বলে ফ্লাই ওভার দিয়ে খানিক এগিয়ে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে ব্রিজ পেরিয়ে আমরা বেলেঘাটা মেন রোডে গিয়ে পড়লুম। তারপর আলোছায়া সিনেমা হলের পাশের রাস্তা দিয়ে পৌঁছলুম সি.আই.টি. রোডে। পরপর ফুলবাগান আর কাঁকুড়গাছির মোড় পেরিয়ে খানিক এগোতে-না-এগোতেই চোখে পড়ল, মালতীদের মালটি-স্টোরিড ফ্ল্যাটবাড়ি আকাশ-বিহারের সামনের ফুটপাথে কৌশিক দাঁড়িয়ে আছে।
কৌশিককে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ার পালটে অ্যাকসিলেটরে চাপ দিলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর উল্টোডাঙার মোড়ের কাছে এসে ফের গিয়ার পালটে গাড়ির স্পিড কমিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কিছু বুঝতে পারছিস কৌশিক?”
“কী করে পারব?” পিছনের সিট থেকে কৌশিক বলল, “শোভন চৌধুরি তো কিছুই ভেঙে বললেন না। আমাদের ফ্ল্যাটে ফোন করে তোমাকে চাইলেন। তুমি নেই শুনে জিজ্ঞেস করলেন, এই সময় কোথায় থাকতে পারো। আমি কিরণমামার ফোন-নাম্বার দিলুম। তাতে ভদ্রলোক বললেন, ঠিক আছে, তিনি কিরণমামার নাম্বারে ফোন করে তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেবেন। তোমাকে নাকি কোথায় যেতে হবে। সেই সঙ্গে আমিও যেন যাই।”
“তাও কিছু আঁচ করতে পারলি না?”
“না। তুমি পেরেছ?”
“বোধহয় পেরেছি।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “তোরও পারা উচিত ছিল।”
কৌশিক বোধহয় বুঝতে পেরেছিল যে, ভাদুড়িমশাই এক্ষুনি আর কিছু বলবেন না। সম্ভবত সেই জন্যেই সে আর কোনও প্রশ্ন না তুলে চুপ করে গেল।
গাড়ি ততক্ষণে প্রায় শ্রীভূমির কাছে এসে পড়েছে। ভাদুড়িমশাই স্পিড কমিয়ে আনতে চোখে পড়ল যে, শোভন চৌধুরি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছেন। এগিয়ে এসে তিনি বললেন, “গাড়িটা এদিকে কোনও গাছের তলায় পার্ক করে রাখুন। রাস্তা পেরিয়ে আমরা ওদিকে যাব।”
এতক্ষণ যা দেখতে পাইনি, এইবারে সেটা দেখতে পেলুম। রাস্তার উল্টোদিকে অর্থাৎ খালের ধারের গাছতলায় রীতিমত একটা ভিড় জমে গেছে। বললুম, “কী ব্যাপার?”
রাস্তা পার হতে-হতে শোভন চৌধুরি বললেন, “আসুন, তা হলেই দেখতে পাবেন।”
যা দেখলুম, তা দেখবার জন্যে আমি তৈরি ছিলুম না। খালের ধারে ঘাসের উপরে একটি লোককে শুইয়ে রাখা হয়েছে। যদিও কাপড় দিয়ে ঢাকা, তবু দেখবামাত্র বোঝা যায় যে, এটি আসলে একটি ডেডবডি। জনাকয় কনস্টেবল ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ইউনিফর্ম পরা যে ভদ্রলোকটি একটু দূরে একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলেন, শোভন চৌধুরিকে দেখে হাতের সিগারেট ফেলে দিয়ে এগিয়ে এলেন তিনি। বললেন, “ওঁরা এসে গেছেন, স্যার?”
শোভন চৌধুরি তাঁর কথার কোনও উত্তর না দিয়ে ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “পাশের খাল থেকে আজ দুপুরে এই লাশটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেখুন তো আপনার ভাগ্নে একে শনাক্ত করতে পারেন কি না।”
একজন কনস্টেবল এসে লাশের উপরকার কাপড়খানা তুলে নিতেই চাপা গলায় কৌশিক বলল, “এই তো সেই লোক!”
“কোন্ লোক?”
“সেই অ্যাম্বাসাডর গাড়ির ড্রাইভার। এরই তো কপাল কেটে গিয়ে রক্ত পড়ছিল। ওই তো, কাটা দাগটাও তো রয়েছে।”
