কুয়াশার রঙ নীল (কর্নেল সিরিজ) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
চার
কর্নেলের অ্যাপার্টমেন্ট গিয়ে দেখি, হালদারমশাই মনমরা হয়ে বসে আছেন। কর্নেলের মুখে যে ঘটনা শুনলাম, তা যেমন অদ্ভুত, তেমনই সাংঘাতিক।
তখন রাত প্রায় এগারোটা। শ্রীলেখা ব্যানার্জির অ্যালসেশিয়ান কুকুরটা রাত্রে ছাড়া থাকে। বদ্রীনাথের ঘরে সুরেন মোটরসাইকেলের ঘটনাটা নিয়ে উত্তেজিতভাবে কথা বলছিল সেই কুকুরটা প্রচণ্ড গর্জন শুরু করে। ওরা দুজনেই বেরিয়ে দেখে কুকুরটা পাঁচিলের ওপর ওঠার চেষ্টা করছে। ওখানে ঘন। ঝোপ-ঝাড় এবং একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। আলো কম। দুজনে দুটো লাঠি আর টর্চ নিয়ে দৌড়ে যায়। সেই মুহূর্তে একটা লোক পাঁচিল থেকে হুড়মুড় করে ঝোপে পড়ে যায়। সুরেন কুকুরটাকে আটকায় এবং টর্চের আলো ফেলে চমকে ওঠে।
কিন্তু তখনও দুজনে জানত না, লোকটার পিঠে একটা ছুরি বিধে আছে। সে যন্ত্রণার্ত কণ্ঠস্বরে অতি কষ্টে বলে, মাড্যামকো বোলাও!
শ্রীলেখা তখনও শুয়ে পড়েননি। দোতলার ব্যালকনি থেকে জানতে চান কী হয়েছে। পাঁচিলের কাছে গিয়ে তিনিও চমকে ওঠেন। হিপিটাইপের এক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান যুবক ঝোপের ভেতর হাঁটু দুমড়ে বসে আছে। সে জড়ানো গলায় বলে, টেক ইট! টেক ইট!
তার হাতে ছিল একটা ঘড়ি। সেই নীলডায়াল রোমার রিস্টওয়াচ।
ঘড়িটা কম্পিত হাতে শ্রীলেখা তার হাত থেকে নেন। তারপরই যুবকটি উপুড় হয়ে পড়ে যায়। তখন ওঁরা দেখতে পান তার পিঠে একটা ছুরি বিঁধে আছে।
শ্রীলেখা বুদ্ধিমতী। পুলিশকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ঘড়িটার কথা বলেননি। সুরেন এবং বদ্রীনাথকেও কিছু বলতে নিষেধ করেন। পুলিশ সুরেন বা বদ্রীকে জেরা করার পর আবিষ্কার করে, যুবকটিকে ছুরি মারা হয়েছে বাইরে। ওদিকটায় একটা মোটর গ্যারেজ এবং পোড়ো এক টুকরো জায়গা আছে। সেখান থেকে রক্তের ছাপ এগিয়ে এসেছে পাঁচিলের দিকে। পুলিশ বলেছে, এই সেই রুটি ছিনতাইকারী পাগল।
হালদারমশাই ওদিকটায় ঘোরাঘুরি করেছিলেন বটে, কিন্তু মোটর গ্যারেজের পাশে পোড়ো জায়গায় অন্ধকার ছিল। ওখানে কী ঘটছে গলির মোড় থেকে তা তার চোখে পড়ার কথাও নয়। তিনি প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে তার মক্কেলের বাড়ির কাছে এসে টের পান, বাড়িতে একটা কিছু ঘটেছে। পরে পুলিশ তাকে জেরা করেছে। কিন্তু বুদ্ধিমতী শ্রীলেখা তার একজন আত্মীয় বলে পরিচয় দেন।
হালদারমশাই ওখান থেকেই কর্নেলকে ফোন করেছিলেন। কর্নেল তখনই বেরিয়ে পড়েন। নোনাপুকুর ট্রামডিপোর কাছে একটা ট্যাক্সি পেয়ে যান। শ্রীলেখার বাড়িতে তখনও পুলিশ ছিল। রক্তাক্ত যুবকটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছেন তাকে। কর্নেল শ্রীলেখাকে ডেকে নিয়ে দোতলায় যান। ঘড়িটা তার কাছে চেয়ে নিয়ে সেই ঘরে ঢুকে কম্পিউটারের সামনে বসেন। ঘড়ি পিছনে কয়েকটা সংখ্যা খোদাই করা ছিল। আতসকাঁচে সেগুলো দেখে সাবধানে সংখ্যাগুলোর বোতাম টেপেন। আগের মতো একটা টাইপকরা কাগজ বেরিয়ে আসে। কাগজটা তিনি শ্রীলেখাকে পরে দেখাবেন বলেছেন। শ্রীলেখা ওই অবস্থায় তাকে অবশ্য পীড়াপীড়ি করেননি। তবে শ্রীলেখার অগোচরে দুটে কোডিফায়েড ডেটাই কর্নেল কম্পিউটার থেকে মুছে নষ্ট করে দিয়েছেন।
কর্নেলের ড্রয়িংরুমেই ব্রেকফাস্ট খেতে খেতে ঘটনাটা শুনলাম। কালকের মতো আজও কর্নেল সকাল-সকাল ব্রেকফাস্ট সেরে নিলেন। হালদারমশাইয়ের খুব ধকল গেছে। তবু পুলিশ জীবনের ট্রেনিং এখনও কাজে লাগে। আসার পথে ব্রেকফাস্ট করেছেন। ষষ্ঠী এবার কফি আনলে বেশি দুধমেশানো ওঁর নির্দিষ্ট পেয়ালাটা তুলে নিয়ে চুমুক দিলেন। আপনমনে শুধু বললেন, ভেরি স্যাড!
বললাম, দুটো প্রশ্ন আমার মাথায় আসছে।
কর্নেল গলার ভেতর বললেন, বলো!
এক : যুবকটি ম্যান ক্যান নট লিভ বাই ব্রেড অ্যালেন ইত্যাদি আওড়াত। তার মানে সে ওই কম্পিউটারের ফাইভ লেটারস কি ওয়ার্ড ব্রেড কথাটা জানত। কিন্তু কেমন করে সে জানতে পেরেছিল? দুই : কড়েয়া থানায় তাকে পুলিশ সার্চ করে কোনও রোমার ঘড়ি পায়নি। ঘড়িটা তখন সে কোথায় রেখেছিল?
যে যুবক মোটরসাইকেলে চেপে ঘুরে বেড়াত, তার একটা নির্দিষ্ট ডেরা থাকতে বাধ্য। ঘড়িটা সেখানে লুকিয়ে রাখত সে। বলে কর্নেল মাথা নাড়লেন। না এখনও এর প্রমাণ পাইনি। কিন্তু তোমার প্রথম প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর এ ছাড়া আর কী হতে পারে? আর ব্রেড-হ্যাঁ। এই কথাটা সে জানত। মিসেস ব্যানার্জিকে তার উড়ো ফোনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তার দিক থেকে একটা আগ্রহ সে আশা করেছিল। কিন্তু আমরা জানি, উনি তার উড়ো ফোন শুনে একটুও আগ্রহ দেখাতে চাননি। তৎক্ষণাৎ ফোন নামিয়ে রাখতেন। কেন এমন করতেন, তা-ও স্পষ্ট। কেউ তাকে উত্ত্যক্ত করছে ভাবতেন। কোনও যুবতীর পক্ষে এটাই কি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নয়? আজকাল টেলিফোনে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার খবর প্রায়ই বেরোয়।
হালদারমশাই বললেন, আমার ক্লায়েন্টেরে কেউ ঘড়ির জন্য থ্রেটন না। করলে উনি আমার লগে যোগাযোগ করতেন না। তাই না কর্নেলস্যার?
তা ঠিক। তবে ব্রেড শব্দের রহস্য যুবকটি জানত। জয়ন্ত যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন তুলেছে। কী ভাবে জেনেছিল? কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, এ প্রশ্নের উত্তর অন্তত তার মুখ থেকে আর পাওয়া যাবে না। হি ইজ ডেড। কর্নেল একটু চুপ করে। থাকার পর ফের বললেন, মিসেস ব্যানার্জিকে সে চিঠি লিখেই বা কোনও কথা জানায়নি কেন? এ-ও আশ্চর্য?
বললাম, তার আচরণ অদ্ভুত! সরাসরি ওঁর সঙ্গে দেখা করতেও পারত।
সাহস পায়নি। শ্রীলেখার অফিস এবং বাড়িতে তার প্রতিপক্ষ সারাক্ষণ নজর রেখেছিল, এটা স্পষ্ট। গত রাতে মরিয়া হয়ে শ্রীলেখার সঙ্গে দেখা করতে যায় সে। তাই তাকে মারা পড়তে হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য! ঘড়িটা সে শ্রীলেখাকে শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে পেরেছে। তার যেন একান্ত উদ্দেশ্য ছিল দুর্ঘটনার পর জয়দীপ ব্যানার্জির হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ঘড়িটা তার স্ত্রীকে ফেরত দেওয়া। তাই না?
বুঝলাম প্রাজ্ঞ রহস্যভেদী তার থিওরি সাজিয়ে ফেলেছেন এবং তাতে কোনও দুর্বল পয়েন্ট আছে কি না বুঝতে চাইছেন। হালদারমশাই অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, হঃ! আমি বললাম, জয়দীপকে সে জগিংয়ের সময়। উত্ত্যক্ত করত–শ্রীলেখা বলেছিলেন। দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে তাকে জয়দীপের। পেছনে দৌড়তে দেখা গেছে–জনৈক ঠিকা শ্রমিক বাবুয়ার স্টেটমেন্ট অনুসারে হেস্টিংস থানার ট্রাফিক সার্জেন্ট আপনাকে একথা বলেছেন। কর্নেল! উত্তেজনায় আমি নেড়ে উঠলাম। সে কি জানত জয়দীপের হাতের ঘড়িটা সে ছিনিয়ে না নিলে অন্য কেউ ছিনিয়ে নেবে এবং ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই অন্য কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল?
কর্নেল বললেন, তুমি বুদ্ধিমানের মতো প্রশ্ন তুলেছ। ঠিক তা-ই।
তা হলে তাকে সৎ এবং বিবেকবান বলতে হয়।
সো ইট অ্যাপিয়ারস। আপাতদৃষ্টে তার আচরণ থেকে এরকম ধারণা অবশ্য করা চলে। কিন্তু যতক্ষণ না তার পুরো পরিচয় জানা যাচ্ছে, ততক্ষণ তাকে ফুলমার্ক আমি দিতে পারছি না। আমাদের সামনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সে জয়দীপের, কম্পিউটারে ফিড করা কোডিফায়েড ডেটা সম্পর্কে অবহিত ছিল। বাট হাউ? বলে কর্নেল হালদারমশাইয়ের দিকে তাকালেন। হালদারমশাই! পুলিশ অফিসিয়াল প্রসেসে কাজ করে। পুলিশকে থু প্রপার চ্যানেলে এগোতে হয়। এটা একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আপনি একবার বলেছিলেন মনে পড়ছে, মোটরভেহিকেলস ডিপার্টমেন্টে আপনার জানাশোনা লোক আছে।
হালদারমশাই ঝটপট বললেন, আছে। আমার এক ভাগনা।
আপনি মোটরসাইকেলটার মালিকের নাম-ঠিকানা যোগাড় করে দিতে পারবেন?
হালদারমশাই ঘড়ি দেখে নিয়ে যথারীতি যাই গিয়া বলে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে গেলেন।
জিজ্ঞেস করলাম, বডি শনাক্ত হয়েছে কি না খবর নেওয়া উচিত। নিয়েছেন?
কর্নেল বললেন, এখন পর্যন্ত সে-খবর পাইনি। পুলিশের অনেক ইনফরমার থাকে। দেখা যাক।
ওর পকেটে নিশ্চয় কোনও কাগজপত্র আছে?
কিছু পাওয়া যায়নি।
মোটরসাইকেলের ডকুমেন্টস, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পলিউশন সার্টিফিকেট।
নাথিং।
অদ্ভুত তো! আচ্ছা কর্নেল, গত পরশু কড়েয়া থানায় ওকে সার্চ করেছিল পুলিশ। তখনও কি কোনও কাগজপত্র পাওয়া যায়নি?
নাহ্। শুধু হিপপকেটে নগদ শতিনেক টাকা, ডান পকেটে একটা সিগারেটের প্যাকেট আর বাঁ পকেটে একটা রুমাল। ডান পকেটে কিছু খুচরো পয়সাও ছিল। আর একটা লাইটার।
সিটিজেন রিস্টওয়াচ ছিল কিন্তু!
হুঁ। দ্যাটস্ অল।
গত রাতের সেই রিস্টওয়াচটা ছিল না?
না।
মোটরসাইকেলটা সার্চ করা হয়েছে তো?
কর্নেল হাসলেন। পার্টস বাই পার্টস অবশ্য খোলা হয়নি।
তার মানে কিছু পাওয়া যায়নি। অদ্ভুত! সত্যিই অদ্ভুত! কর্নেল! আপনি ওকে যতই ধুরন্ধর বা সেয়ানা বলুন, আমার এবার মনে হচ্ছে সত্যিই ওর মাথার গণ্ডগোল ছিল। ওই যে একটা কথা আছে, সেয়ানা পাগল!
কর্নেল ঘড়ি দেখলেন। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, চলো, বেরুনো যাক। শ্রীলেখা আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আজ অফিস যাবেন না।
নিচে গিয়ে গাড়িতে উঠে বললাম, জয়দীপের দ্বিতীয় ডেটা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ হচ্ছে। কথায় কথায় ওটা ভুলে গিয়েছিলাম। সঙ্গে কাগজটা থাকলে দিন। চোখ বুলিয়ে নিই।
কর্নেল চোখ কটমটিয়ে বললেন, আমার মাথাখারাপ যে সঙ্গে ওটা নিয়ে ঘুরব ভাবছ? তা ছাড়া তুমি গাড়ি ড্রাইভ করার সময় ওটা পড়বে এবং নির্ঘাত অ্যাকসিডেন্ট বাধাবে।
বলেন কী! ওতে কোনও সাংঘাতিক রোমাঞ্চকর তথ্য আছে বুঝি?
থাক বা না থাক, ড্রাইভিংয়ের সময় অন্যমনস্কতা বিপজ্জনক।
পার্ক স্ট্রিটের মোড়ে পৌঁছে কর্নেল বললেন, জে সি রোড ধরে সোজা চলো। তারপর বাঁদিকে সার্কাস অ্যাভেনিউতে ঢুকে যাবে। একটা সাদা মারুতি সম্ভবত আমাদের ফলো করছে। না না, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
ব্যাকভিউ মিররে পেছনে তেমন গাড়ি দেখতে পেলাম না। বললাম, গাড়িটা কোথায়?
পেছনে বাঁদিকে। একটা বড় ট্রাক ওকে এগোতে দিচ্ছে না। এক কাজ করো! থিয়েটার রোডের পরই বাঁদিকের গলিতে ঢুকে পড়ো। লুকোচুরি খেলা যাক।
ভয় যে পাইনি, তা নয়। এই ভিড়ে আমার গাড়ির টায়ারে গুলি ছুঁড়ে ফসানো সহজ। তারপর পেছনকার ট্রাক এসে আমার গাড়ির ওপর পড়লেই গেছি।
কিন্তু পেছনকার বিশাল ট্রাকের ড্রাইভার কোনও গাড়িকে পাশ কাটাতে দিচ্ছে না। দ্বিমুখী রাস্তার মাঝ বরাবর ছোট ছোট আইল্যান্ড এবং উল্টোদিক থেকে আসা গাড়ির আঁকও ঘন। থিয়েটার রোডের মোড়ে থামতে হলো। কর্নেল বাঁদিকের উইন্ডো দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখে বললেন, সাদা মারুতিটা বাঁদিকের গলিতে ঢুকে গেল। তুমি বরং সিধে চলো। কারণ যে-গলিতে ও ঢুকল, তা বেজায় পেঁচালো। আমি সিওর এই এলাকা ওর অজানা। ওই গলিটার দুধারে মোটর গ্যারাজ, পুরনো পার্টসের ঘিঞ্জি দোকান। তা ছাড়া শেষপর্যন্ত যেখানে বেরুনোর রাস্তা পাবে, সেখানেও আবার পেঁচালো গলি।
আপনার কেন মনে হচ্ছে, ওই গাড়িটা আমাদের ফলো করছিল?
আজ সকালে জানালা থেকে লক্ষ্য করেছি গাড়িটা আমার অ্যাপার্টমেন্টের নিচে উল্টোদিকে একটা গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। বেরুনোর, সময়ও তাকে দেখলাম। তারপর সে আমাদের পিছু নিল।
নেমে গিয়ে বরং চার্জ করা উচিত ছিল। আপনার সঙ্গে তো লাইসেন্স আর্মস আছে।
কর্নেল প্রায় অট্টহাসি হাসলেন। রাস্তাঘাটে ফিল্মের নকল করতে বলছ ডার্লিং? এ বয়সে নাচন-কোঁদন ঢিসুম ঢিসুম আমার সাজে না, অবশ্য তোমার তা সাজে। একজন হিরোইনও এক্ষেত্রে আছে।
থিয়েটার রোডের মোড় পেরিয়ে গিয়ে বললাম, গাড়িটার নাম্বার নেওয়া উচিত ছিল। নিয়েছেন?
এ সব গাড়িতে ভুয়ো নাম্বারপ্লেট লাগানো থাকে।
আমাদের ফলো করে ওর কী লাভ?
আমার টাক ফুটো করবে বলেছিল হালদারমশাইকে! তবে?
কর্নেল! আপনি ব্যাপারটা হালকাভাবে নেবেন না।
কর্নেল এতক্ষণে গম্ভীর হলেন। বললেন, নাহ্। আর টাক ফুটো করবৈ না। কারণ তা হলে জয়দীপ ব্যানার্জির গোপন তথ্য হাতানোর আশায় ছাই পড়বে। এখন ওর কাজ আমাকে শুধু ফলো করা।
সার্কাস অ্যাভেনিউতে কিছুটা যাওয়ার পর কর্নেলের নির্দেশে ডানদিকের একটা গলিরাস্তায় ঢুকলাম। এবার চিনতে পারলাম বাড়িটা।
হর্ন শুনে বদ্রী গেট খুলে দিল। পোর্টিকোর তলায় গাড়ি রেখে দুজনে বেরোলাম। সুরেন দাঁড়িয়েছিল। সেলাম দিয়ে ওপরে নিয়ে গেল। গত সন্ধ্যায় যে ঘরে আমরা বসেছিলাম, সুরেন সেই ঘরে আমাদের ঢোকাল। একটু অবাক হয়ে বললাম, ঘরটা আপনি লক করে রাখতে বলেছিলেন!
কর্নেল চাপাস্বরে বললেন, আজ সকালে ফোন করে বলেছি, আর লক করে রাখার দরকার নেই।
কর্নেলের চোখে কৌতুক ঝিলিক দিল। দ্রুত বললাম, আপনি চাইছেন এ ঘরে চোর এসে হানা দিক। ইজ ইট এ ট্র্যাপ, বস্?
উনি ইশারায় চুপ করতে বললেন। শ্রীলেখা এলেন প্রায় পাঁচ নিমিট পরে। চেহারায় চঞ্চল বিভ্রান্ত ভাব। বললেন, আপনাদের বসিয়ে রাখার জন্য দুঃখিত। আমার পি এ সুদেষ্ণা আজ আসেনি। মর্নিংয়ে অনেক জরুরি কাজ থাকে। আশ্চর্য ব্যাপার! ফোনেও জানাতে পারত। অগত্যা আমি রিং করলাম। কেউ ফোন ধরল না। দিস ইজ সামথিং অড।
সুদেষ্ণার পুরো নাম কী?
সুদেষ্ণা দত্ত। আমার অবাক লাগছে, গত রাতে ওকে রিং করে আজ সাড়ে ছটার মধ্যে আসতে বললাম। এ-ও বললাম, একটা মিস-হ্যাপ হয়েছে। অফিস যাব না। তাই শ্রীলেখা বিরক্ত মুখে বললেন, সুদেষ্ণা এমন কখনও করে না। বর্ষার সময় প্রচণ্ড বৃষ্টি, রাস্তায় জল, রাফ ওয়েদার–তবু সে এসেছে।
আমি বললাম, রিং হচ্ছে, কেউ ফোন ধরছে না। তার মানে, সুদেষ্ণা হয়তো বেরিয়েছিল এখানে আসার জন্য। পথে তার কোনও বিপদ হয়নি তো?
শ্রীলেখা চমকে উঠেছিলেন। আস্তে বললেন, কিন্তু ওর কী বিপদ হবে? কেন হবে?
কর্নেল বললেন, সুদেষ্ণা কতদিন আপনার পি এর পোস্টে আছে?
মাস দুয়েক। তার আগে অফিসে সে স্টেনোটাইপিস্ট ছিল। জয় আমার কাজে সাহায্যের জন্যই সুদেষ্ণাকে দিয়েছিল। শি ইজ সিনসিয়ার, অনেস্ট অ্যান্ড রিলায়েবল কর্নেল সরকার!
বিবাহিতা?
না। নামের আগে মিস লেখে। ফ্লুয়েন্টলি ইংলিশ বলে।
সে থাকে কোথায়?
গোবরা এরিয়ায়। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ওদিকে–আমি চিনি না।
আপনি আর একবার রিং করে দেখুন।
শ্রীলেখা টেলিফোন তুলে ডায়াল করে বললেন, রিং হয়ে যাচ্ছে আগের মতো। এই দেখুন।
শ্রীলেখা কর্নেলের হাতে টেলিফোন দিলেন। কর্নেল একটু পরে ফোন রেখে বললেন, অবশ্য কলকাতার টেলিফোন হঠাৎ-হঠাৎ অচল হয়ে যায়। রিং ঠিকই হয়। কিন্তু আসলে লাইনটাই খারাপ। তো সুদেষ্ণার বয়স কত–আই মিন, আপনার চেয়ে নিশ্চয় কম?
শি ইজ ইয়াং। অফিসিয়াল রেকর্ডে ঠিক কত বয়স লেখা আছে জানি না। জেনে বলতে পারি।
ঠিকানাটা আপনি জানেন?
না। অফিস রেকর্ড থেকে ফোন করে জেনে নিতে পারি। কিন্তু আপনি কি ভাবছেন সত্যি তার কোনও বিপদ হয়েছে?
এই সময় মালতী তেমনই গম্ভীর মুখে ট্রেতে কফির পট পেয়ালা স্ন্যাকস ইত্যাদি নিয়ে ঘরে ঢুকল। নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল। শ্রীলেখা তার কোম্পানি অফিসে টেলিফোন করছিলেন। একটু পরে বললেন, শেখর…হ্যাঁ, শোনো! সুদেষ্ণা এখনও আসেনি। ওর বাড়ির ঠিকানাটা দরকার।….তুমি নিজে দেখ। কম্পিউটারাইজড করা আছে। দিস ইজ আর্জেন্ট। আমি ধরে আছি।…
কিছুক্ষণ পরে একটা স্লিপে ঠিকানা লিখে শ্রীলেখা কর্নেলকে দিলেন। ফের বললেন, আপনি কি সত্যিই ভাবছেন সুদেষ্ণার কিচ্ছু হয়েছে?
কর্নেল মাথা নাড়লেন। নাহ্। জয়ন্তের ভাবনাচিন্তার সঙ্গে আমার ভাবনাচিন্তা খুব কদাচিৎ মেলে। বাই দা বাই, এর আগে কখনও দরকার হলে আপনি সুদেষ্ণাকে কি রিং করেছেন?
করেছি।
প্রতিবারই সুদেষ্ণা ফোন ধরেছেনাকি কখনও অন্য কেউ ধরেছে?
কখনও কখনও অন্য কেউ। সে সুদেষ্ণাকে ডেকে দিয়েছে।
মেল অর ফিমেল?
মেল। সুদেষ্ণাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বলেছিল, তার এক রিলেটিভ। শ্রীলেখা ভুরু কুঁচকে কিছু স্মরণ করার পর ফের বললেন, সুদেষ্ণা বলেছিল, সে বাই চান্স বাইরে গেলে যে টেলিফোন ধরবে, তাকে যেন মেসেজটা দিই। তা হলে সুদেষ্ণা ফেরার পর আমাকে রিংব্যাক করবে। আমার ধারণা, শি ইজ লিভিং উইদ হার বয়ফ্রেন্ড। তবে ওর ব্যক্তিগত কোনও ব্যাপারে আমি কোনও ইন্টারেস্ট দেখাইনি। জাস্ট ওর কথার সূত্রে আমার একটা প্রশ্ন মাত্র।
সুদেষ্ণা তার নাম বলেছিল?
নাম– শ্রীলেখা কর্নেলের দিকে তাকালেন। চশমার ভেতর থেকে তার দৃষ্টিটা তীক্ষ্ণ দেখাল। কর্নেল সরকার! ডু ইউ ফিল এনিথিং রং উইদ মাই পি এ?
কর্নেল কফির পেয়ালা নামিয়ে রেখে বললেন, আই অ্যাম নট সিওর মিসেস ব্যানার্জি। আমার এই বদ অভ্যাস বলতে পারেন–যা কিছু জানতে চাই, তা যথাসাধ্য পুরোটা জেনে নিতে চেষ্টা করি।
শ্রীলেখা একটু চুপ করে থাকার পর বললেন, মনে পড়ছে, সুদেষ্ণা একজ্যাক্টলি যা বলেছিল–বাই চান্স আমি বাইরে গেলে ববকে রিং করে মেসেজটা দেবেন!
বব?
হ্যাঁ। সুদেষ্ণার সেই আত্মীয়ের ডাকনাম–দ্যাট ওয়াজ মাই ইমপ্রেশন্। তবে ঠিক এই নামটা শুনেও আমার মনে হয়েছিল বব ইজ হার বয়ফ্রেন্ড অ্যান্ড দে আর লিভিং টুগেদার।
কর্নেল চুরুট বের করেই পকেটে ঢোকালেন। নো স্মোকিং লেখা আছে। একটা বোর্ডে, তা গতকাল সন্ধ্যায় দেখেছি। সেনসিটিভ পার্সোনাল কম্পিউটারের পক্ষে ধোঁয়া ক্ষতিকর। কর্নেল বললেন, বব বাংলায় না ইংরেজিতে কথা বলত?
ইংলিশ। সুদেষ্ণাও বাংলা খুব কম বলে।
ববের ইংলিশ উচ্চারণ সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?
পারফেক্ট প্রোনানসিয়েশন। আমার সন্দেহ হয়েছিল, সে বাঙালি কি না।
আই সি। কর্নেল একটু হেসে উঠে দাঁড়ালেন। আমার চুরুটের নেশা পেয়েছে। তা ছাড়া এখন আমি সত্যিই আপনার পি এ সম্পর্কে আগ্রহী।
বাট শি ইজ রিলায়েবল অ্যান্ড সিনসিয়ার, কর্নেল সরকার! এমন কি হতে পারে না সুদেষ্ণা তার সো-কল্ড বয়ফ্রেন্ড ববের সঙ্গে কোথাও যেতে বাধ্য হয়েছে? মে বি, হি ইনসিস্টেড হার টু অ্যাকম্প্যানি হিম, কর্নেল সরকার। খ্রিসমাস ইভে এটা খুব স্বাভাবিক।
কর্নেল আস্তে বললেন, সুদেষ্ণা দত্ত খ্রিশ্চিয়ান?
হ্যাঁ। কিন্তু তাতে কী?
কথাটা গোড়ার দিকে জানলে আমি অন্তত দুস্টেপ এগিয়ে যেতে পারতাম মিসেস ব্যানার্জি!
আপনি জিজ্ঞেস করেননি। করলে বলতাম।
আসলে অনেক সময় আমরা জানি না যে আমরা কী জানি! বলে কর্নেল বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। ওঁকে অনুসরণ করলাম।
শ্রীলেখা আমাদের পিছনে আসছিলেন। সিঁড়িতে নামার সময় আর্তকণ্ঠস্বরে বললেন, কর্নেল সরকার! আপনি জয়ের ব্যক্তিগত কাগজপত্র খুঁজে দেখতে বলেছিলেন। আমি একটা অদ্ভুত চিঠি খুঁজে পেয়েছি। অনীশ রায়ের লেখা চিঠি। চিঠিটা দেখে যান।
কর্নেল ঘুরে দাঁড়ালেন। তারপর বললেন, এখন আমার প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান মিসেস ব্যানার্জি! আপনি অফিসে চলে যান। চিঠিটা নিয়ে যাবেন। আমি যথাসময়ে যাব। হা–আপনার অফিসে থাকা জরুরি। প্লিজ মিসেস ব্যানার্জি! শীগগির আপনি অফিসে যান। আমার অনুরোধ কারণ আমার সন্দেহ, আপনার অ্যাবসেন্সে এমন কিছু ক্ষতি হতে পারে, দ্যাট মে স্ম্যাশ ইওর কোম্পানি।
কর্নেল কথাগুলো বলেই হন্তদন্ত নেমে গেলেন। পোর্টিকোতে পৌঁছে বললেন, কুইক জয়ন্ত! আমরা এবার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের দিকে যাব।..
বরাবর দেখে আসছি, কলকাতার নাড়ি-নক্ষত্র কর্নেলের জানা। সারাপথ ওঁকে প্রশ্নে প্রশ্নে জেরবার করছিলাম, কারণ শ্রীলেখা ব্যানার্জির পি এ সম্পর্কে ওঁর এই উত্তেজনা কেন তা বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু মাঝে মাঝে পথনির্দেশ ছাড়া আমার কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দিচ্ছিলেন না।
রেলব্রিজের তলা দিয়ে এগিয়ে ঘিঞ্জি আঁকাবাঁকা গলিরাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে আমি তিতিরিক্ত। এদিকটায় ঠাসাঠাসি বস্তিবাড়ি, মাঝে মাঝে কলকারখানার টানা পাঁচিল, কখনও ঝকঝকে নতুন দোতলা-তিনতলা ইটের বাড়ি। জগাখিচুড়ি অবস্থা। অবশেষে কর্নেলের নির্দেশে একখানে থামতে হলো।
বাঁদিকে একটা নতুন চারতলা ফ্ল্যাটবাড়ি। নিচের তলায় সারবন্দি দোকান পাট। ডানদিকে সংকীর্ণ একটা প্যাসেজ এবং তার পাশে টানা নিচু পাঁচিল। গাড়ি লক করে রেখে কর্নেলকে অনুসরণ করলাম। সেই প্যাসেজ দিয়ে কিছুটা এগিয়ে বাঁদিকে ওপরে ওঠার সিঁড়ি চোখে পড়ল। সিঁড়িতে ওঠার সময় প্রতিটি ফ্ল্যাটের নেমপ্লেটে যে সব নাম দেখলাম, তা থেকে অনুমান করা যায় এটা একটা কসমোপোলিটান বাড়ি। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষজন এর বাসিন্দা। তেতলায় একটা ফ্ল্যাটের দরজায় নেমপ্লেটে লেখা আছে, মিস এস দত্ত। কর্নেল বললেন, দরজায় তালা আটকানো দেখছি। মিসেস ব্যানার্জির অনুমান ঠিকই ছিল। তবু নিশ্চিত হওয়ার দরকার ছিল।
এইসময় চারতলা থেকে এক ভদ্রলোক নেমে আসছিলেন। আমাদের দেখে একটু থমকে দাঁড়ালেন। তারপর পাশ কাটিয়ে তিনি নামতে যাচ্ছেন, কর্নেল বললেন, এক্সকিউজ মি! আমরা মিস দত্তের কাছে এসেছিলাম। আপনি নিশ্চয় ওঁকে চেনেন?
ভদ্রলোক পাশের একটা ফ্ল্যাট দেখিয়ে হিন্দিতে বললেন, গোমস্ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন। মিস দত্তের খবর উনিই বলতে পারবেন।
ভদ্রলোক নেমে গেলেন। কর্নেল পাশের ফ্ল্যাটের ডোরবেলের সুইচ টিপলেন। নেমপ্লেটে লেখা আছে : মিঃ পি গোমস্। প্রেসিডেন্ট। ইস্টার্ন সুবারব্যান খ্রিশ্চিয়ান কালচারাল সোসাইটি।
একটু পরে দরজা ফাঁক হলো। একটা লম্বাটে এবং জরাগ্রস্ত মুখ দেখা গেল। মাথার চুল পাকা এবং টাক আছে। দরজার ওপাশে মোটা চেন আটকানো। বললেন, ইয়েস?
মিঃ গোমস্! কর্নেল অমায়িক স্বরে বললেন। আই ওয়ান্ট টু টক অ্যাবাউট মিস দত্ত।
হু আর ইউ স্যার?
কর্নেল তার নেমকার্ড দিলেন। তারপর ইরেজিতে বললেন, ব্যাপারটা খুব জরুরি মিঃ গোমস্। আপনি স্থানীয় খ্রিশ্চিয়ান সোসাইটির প্রেসিডেন্ট। তাই আপনার সঙ্গেই কথা বলা দরকার।
আপনি রিটিয়ার্ড মিলিটারি অফিসার?
হ্যাঁ। তবে আমি সরকারি কাজে আসিনি। আপনার বেশি সময় নেব না।
একটু ইতস্তত করার পর গোমস্ দরজা খুলে আমাদের ভেতরে ঢোকালেন। দরজা আটকে দিয়ে বললেন, আপনারা বসুন। বলুন কী করতে পারি আপনাদের জন্য?
কর্নেল বললেন, মিস দত্তকে আপনি চেনেন। তার আত্মীয় ববকেও নিশ্চয় চেনেন। তো–
গোমস্ একটু চমকে উঠলেন যেন। বব? বব একটা বাজে ছেলে। আমি সুসানকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। কিন্তু সুসান আমার পরামর্শ নেয়নি।
সুসান কে?
কে? আপনি যার সম্পর্কে কথা বলতে চাইলেন! সুসান ডাট্টা?
কিন্তু আমি জানি ওর নাম সুদেষ্ণা দত্ত।
হতে পারে। সে বাঙালি মেয়ে তা জানি। তবে সে আমার কাছে সুসান বলে পরিচয় দিয়েছিল, আমাকে আংকেল বলে ডাকে। যাই হোক, নামে কিছু আসে যায় না। সুসান কোনো প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করে। আজ ভোরে সে বেরিয়েছে। বলে গেছে, বব গত রাতে বাড়ি ফেরেনি। আমি যেন ওর ফ্ল্যাটের দিকে লক্ষ্য রাখি। ফিরলেই যেন তাকে বলি এই নাম্বারে রিং করতে। আপনি দেখতে চান কি নাম্বারটা? বলে গোমস্ টেবিলে পেপারওয়েট চাপা দেওয়া একটা কাগজ তুললেন।
কর্নেল নাম্বারটা দেখে বললেন, মিস দত্তের অফিসের ফোন নাম্বার।
তাহলে আপনি সুসানের পরিচিত।
বব আপনার কতটা পরিচিত?
আমি ওকে পছন্দ করি না। সুসান ওকে জুটিয়েছিল। আমি জানি বব সুসানের বয়ফ্রেন্ড।
ববের চেহারা দেখে বোঝা যায় সে ইউরেশিয়ান– কর্নেল হাসলেন। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান কথাটা অনেকে পছন্দ করেন না। তবে ববকে দেখলে হিপি মনে হয়। তাই না?
ঠিক বলছেন। এবার বলুন, সুসান সম্পর্কে কী কথা বলতে এসেছেন। আমাকে?
এই বাড়িতে সুসান কবে এসেছে?
গত বছর।
বব?
মাসতিনেক আগে।
এই ফ্ল্যাটগুলো কি ওনারশিপ ফ্ল্যাট, নাকি রেন্টেড?
ওনারশিপ। সুসানের ফ্ল্যাটটা আগে এক বাঙালি হিন্দু ভদ্রলোক কিনেছিলেন। তার কাছে সুসান কিনেছে। গোমস্ বিকৃত মুখে বললেন, এলাকাটা ভাল নয়। এখানে ভদ্রলোকদের বাস করা কঠিন। কিন্তু কী করব? আমি খিদিরপুর ডকে কাজ করতাম। অবসর নেওয়ার পর
কর্নেল গোমসের কথার ওপর বললেন, বুঝেছি। আচ্ছা মিঃ গোমস্! ববের কি একটা মোটরসাইকেল ছিল জানেন?
গোমস্ হাসলেন মোটরসাইকেল? চালচুলোহীন একটা বাউণ্ডুলে! হ্যাঁ, আমি অবশ্য ইদানীং মোটরসাইকেলে তাকে চাপতে দেখেছি। সুসান তাকে কিনে দেয়নি, আমি নিশ্চিত জানি। নিচের তলায় একটা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি আছে। আপনি তাদের কাছে খোঁজ নিতে পারেন। ববৃকে ওরা চেনে।
ধন্যবাদ। বলে কর্নেল উঠে পড়লেন। গোমস্ হতবাক হয়ে বসে রইলেন। এমন নাটকীয় প্রবেশ ও প্রস্থান বৃদ্ধ ভদ্রলোককে নিশ্চয় অবাক করেছিল।…
