গুগুনোগুম্বারের দেশে (ঋজুদা) – বুদ্ধদেব গুহ

শেয়ার করুনঃ

ছয়

ভোর হল। বনে-জঙ্গলে ভোর মানেই দ্বিধা আর অনিশ্চয়তার অবসান। আমি তাড়াতাড়ি ঋজুদার জন্যে শুধু একটু কফি করে দিলাম। খাবার সব শেষ।

 

ঋজুদা আমার দিকে একবার তাকাল কফির কাপটা হাতে নিয়ে। হাভারস্যাকে হেলান দিয়ে উঠে বসতে গেল, কিন্তু পারল না। দেখলাম জ্বরটা আবার বেড়েছে। প্রায় বেহুঁশ।

 

আমিও একটু কফি খেয়ে গাড়ির এঞ্জিন স্টার্ট করে, কম্পাস দেখে, বেয়ারিং ঠিক করে চললাম গাড়ি চালিয়ে। কোথায় যাচ্ছি জানি না, এই চলার শেষে কী আছে তাও জানি না। জানি না, বড় রাস্তায় গিয়ে পড়তে পারব কিনা। কিন্তু এটা বুঝতে পারছিলাম যে, আজকের মধ্যে যদি ঋজুদাকে হাসপাতালে নেওয়া না যায়, তাহলে বাঁচানোই যাবে না আর।

 

সকাল সাড়ে-আটটা নাগাদ চোঁ চোঁ আওয়াজ করে গাড়িটা বন্ধ হয়ে গেল। তেল শেষ হল বোধহয়। মিটার সেই কথাই বলছে। গাড়ি থামিয়ে ট্রেলারে গেলাম। জেরিক্যান ভাল করে পরীক্ষা করে দেখি জেরিক্যানের তলাটা ফুটো। কবে ফুটো হয়েছে, কেমন করে হয়েছে তা এখন জানার উপায় নেই। ভুষুণ্ডা ইচ্ছে করেই প্যাক করার সময় হয়তো খালি টিন ভরেছিল।

 

এখন আর কিছু করার নেই। গাড়ি আর চলবে না। ট্রেলারের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। জেরিক্যানটা নামিয়ে দেখি একটা খুব বড় আগামা গিরগিটি দৌড়ে গেল পায়ের সামনে দিয়ে। এই গিরগিটিগুলো দারুণ দেখতে। নীল শরীর, লাল গলা, আর মাথাটাও খুব সুন্দর। টেডি আমাকে চিনিয়েছিল।

 

গাড়িটা থেমে থাকায় ঋজুদা বলল, কী হল রুদ্র?

 

আমি বললাম, তেল শেষ হয়ে গেল ঋজুদা।

 

ওঃ। ঋজুদা বলল।

 

আমি বললাম, তোমাকে একা রেখে আমি একটু দেখে আসব? দূরে যেন মনে হচ্ছে গরু চরছে।

 

ঋজুদা বলল, বাইনাকুলার দিয়ে ভাল করে দ্যাখ।

 

বাইনাকুলার দিয়ে দেখে মনে হল, গরুই। আফ্রিকাতে তো নীল গাই নেই। দূর থেকে ভুলও হতে পারে। হয়তো কোনো হরিণ এখানকার বা বুনো মোষ। এখানের গরুদের রঙ লাল ও কালো। গায়ে লোমও অনেক।

 

ঋজুদা বলল, সাবধানে যাবি। আমার জন্যে চিন্তা করিস না। জলের বোতলটা সঙ্গে নিয়ে যা।

 

আমি কোমর থেকে পিস্তলটা খুলে ঋজুদাকে দিয়ে দিলাম। বললাম, একা থাকবে, সঙ্গে রাখো।

 

ঋজুদা আমার মুখের দিকে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর নিল।

 

কপালে হাত দিয়ে বললাম, এখন কেমন আছ?

 

ঋজুদা হাসল কষ্ট করে। তারপর বলল, ফাইন।

 

ফাইনই বটে, ভাবলাম আমি। রাইফেলটা কাঁধে ঝুলিয়ে, জলের বোতলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

 

হাঁটছি তো হাঁটছিই, যতই হাঁটছি ততই যেন গরুগুলো দূরে-দূরে সরে যাচ্ছে। আশ্চর্য। তাছাড়া গরুদের কাছে কোনো রাখাল দেখব ভেবেছিলাম, কিন্তু কাউকেই দেখা গেল না। গরুগুলো সত্যিই গরু না গুগুনোগুম্বার, বা ওগরিকাওয়া বিবিকাওয়া, তা বোঝা গেল না। সেই নির্জন, নিস্তব্ধ, হু-হু হাওয়া, ঘাসবনে ভরদুপুরে মনে নানান আজগুবি চিন্তা আসে। নিজেকে এত অসহায় লাগতে লাগল ঋজুদার কথা ভেবে যে, বলার নয়। বারোটা বাজে। আমাদের ল্যাণ্ড-রোভার আর ট্রেলার দেখাই যাচ্ছে না অনেকক্ষণ হল। সঙ্গে যদিও কম্পাস এনেছি তবু হারাবার ভয় করছে। এ যে সমুদ্র। বেরিয়েছিলাম পৌনে ন’টায়, সোয়া তিন ঘন্টা ক্রমাগত হেঁটেও গরুদের কাছে পৌঁছনো গেল না, কাউকে দেখাও গেল না। আশ্চর্য!

 

আমার গা ছমছম করতে লাগল। পিছু ফিরলাম আমি।

 

ক্লান্ত লাগছিল। তিনদিন হল বিশেষ কিছুই খাইনি। ঘুমও প্রায় নেই। শরীরে যেন জোর পাচ্ছি না আর। সবচেয়ে বড় কথা, মনটাও ধীরে-ধীরে দুর্বল হয়ে আসছে। তাহলে কি আমাকে আর ঋজুদাকে এইখানেই শকুন, শেয়াল আর হায়নার খাবার হয়ে থেকে যেতে হবে? পরে যদি কেউ এদিকে আসে তাহলে হয়তো আমাদের গাড়ি ল্যাণ্ড-রোভার আর কঙ্কাল দেখতে পেয়ে, গাড়ির কাগজপত্র নেড়ে-চেড়ে আমাদের কথা জানতে পারে। অবশ্য যদি হাতি কি গণ্ডার কি বুনোমানুষ ওগুলো অক্ষত রাখে।

 

আরও ঘন্টাখানেক হাঁটার পর দূর থেকে ট্রেলার সুদ্ধু ল্যাণ্ড-রোভারটাকে একটা ছোট্ট পোকার মতো মনে হচ্ছিল। আরও এগোবার পর দেখতে পেলাম কতগুলো পাখি গাড়িটার কাছে উড়ছে। ছোট-ছোট কালো পাখি।

 

আমি এবার বেশ জোরে যেতে লাগলাম। আরও ঘন্টাখানেক লাগবে পৌঁছতে। পাখিগুলো আস্তে-আস্তে বড় হতে লাগল। আরও কিছুদিন যাওয়ার পরই বুঝতে পারলাম সেগুলো শকুন।

 

শকুন? কী করছে অতগুলো শকুন ঋজুদার কাছে? ঋজুদা কি…?

 

আমি যত জোরে পারি দৌড়তে লাগলাম। রাইফেলটা হাতে নিয়ে আর-একটু এগিয়েই আমি রাইফেলটা উপরে তুলে একটা গুলি করলাম। ভাবলাম, শব্দে যদি উড়ে পালায়।

 

টেডি বলেছিল, যদি জীবন্ত কোনো লোককে শকুন তিন দিকে ঘিরে থাকে, তবে সে মারা যায়। আমাকে আর ঋজুদাকে শকুনরা দুদিন আগে চারদিকে ঘিরেছিল।

 

শকুনগুলো উপরে উঠে ঘুরতে লাগল। অনেকগুলো। তারপরই আবার নেমে এল নীচে। আর-একটু এগিয়েই আবার গুলি করলাম। কিন্তু এবারেও চক্রাকারে ঘুরতে লাগল। ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল না একটাও।

 

কাছে গিয়ে দেখি, গাড়ির ছাদে শকুন, ট্রেলারের উপর চার পাঁচটি শকুন এবং ট্রেলারের তিন পাশে দশ-বারোটা বিরাট বড়-বড় তীক্ষ্ণ ঠোঁট আর বিশ্রী গলার শকুন।

 

ওরা যেন ঝুঁকে পড়ে সকলে মিলে ঋজুদার নাড়ি দেখছে। নাড়ি থেমে গেলেই ওরা ঝাঁপিয়ে পড়বে ঋজুদার উপর।

 

আমার গায়ে কাঁটা দিল। শিরদাঁড়া শিরশির করে উঠল। আর সহ্য করতে না পেরে মাটিতে বসা একটা বড় শকুনের দিকে রাইফেল তুললাম। গুলিটা শকুনটাকে ছিটকে ফেলল কিছুটা দূরে। আমি দৌড়ে গিয়ে ওটাকে লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দিলাম। গাড়ি তো আর চলবে না। গাড়ির কাছে মরে পড়ে থাকলে আমাদেরই মুশকিল।

 

সঙ্গীর হাল এবং আমার রণমূর্তি দেখে বোধহয় একটু ভয় পেল ওরা। উড়ে গিয়ে সব জমায়েত হল মৃত সঙ্গীর কাছে।

 

কানের এত কাছে রাইফেলের আওয়াজেও উঠল না ঋজুদা। আমি দৌড়ে গিয়ে ডাকলাম, ঋজুদা, ঋজুদা।

 

ঋজুদা কথা বলল না কোনো। মুখের উপর চাপা দিয়ে রাখা টুপিটা সরিয়ে দেখলাম, চোখ বন্ধ। একেবারেই অজ্ঞান। গায়ে ভীষণ জ্বর।

 

রাইফেলের গুলি আর রইল না। এখন থাকার মধ্যে শটগানের দুটো গুলি মাত্র। প্রয়োজন হলেও ঋজুদাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করতে পারব না। আমি সত্যিই জানি না, এবার কী করব। আমার বড়ই ভয় করছে।

 

এদিকে বেলা পড়ে এসেছে। খিদে-তেষ্টা সবই পেয়েছে, কিন্তু কোনো কিছুরই হুঁশ নেই।

 

আমার একার জন্যেই একটু জল গরম করে কফি করলাম, আর কিছুই নেই। কফি খেয়ে, লম্বা রাতের জন্যে তৈরি হতে লাগলাম। ঋজুদার একেবারেই জ্ঞান নেই। কিন্তু নাড়ি আছে। খুব অস্পষ্ট ধুকপুক আওয়াজ হচ্ছে। কিছু খাওয়ানোই গেল না। ব্যাগ থেকে ব্র্যাওি-ওষুধটা নিয়ে একটু ঢেলে দিলাম জোর করে দাঁত ফাঁক করে। কিন্তু খেতে পারল না, কষ বেয়ে গড়িয়ে গেল। তাড়াতাড়ি মুছে দিলাম।

 

অন্ধকার হয়ে এল। তারা ফুটলো একে একে। চাঁদ উঠেছে সূর্য যাবার আগেই। আমি বসে আছি ট্রেলারের উপর। ভাবছিলাম রাইফেলের গুলিগুলো শকুনদের উপর নষ্ট করলাম মিছিমিছি। আজ রাতে যদি হায়নারা আসে? অথবা আরও হিংস্র কোনো জানোয়ার?

 

কাল রাতের কথা মনে হতেই আমার বুক কেঁপে উঠল। আজ আর ঘুমোব না। ঘুমোলে হয়তো ঋজুদাকে টেনে নিয়েই চলে যাবে ওরা। যে করেই হোক আমাকে আজ সারা রাত জেগে থাকতে হবে।

 

রাত এগারোটা বাজল। দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে বসে রইলাম, মাথায় টুপি দিয়ে। বড় শীত বাইরে, ঋজুদার গায়ে ভাল করে কম্বল মুড়ে দিয়েছি। মাথার উপরে টেডির ওভারকোটের তাঁবুও খাঁটিয়ে দিয়েছি। রক্তে, ধুলোয়, শিশিরে কম্বলটার অবস্থা যাচ্ছেতাই হয়ে গেছিল। তাই আমার কম্বলটা দিয়েছি আজ।

 

আমি স্বপ্ন দেখছিলাম, ঋজুদা আমাদের বাড়ি এসেছে কলকাতায়। মা ঋজুদার জন্যে পাটিসাপ্টা পিঠে করেছেন, আর কড়াইশুঁটির চপ। মায়ের কী একটা কথায় ঋজুদা খুব হাসছে। মা-ও খুব হাসছেন। আমিও। মায়ের শোবার ঘরের আলোগুলো জ্বলছে। মা সোফাতে বসে, আমি আর ঋজুদা খাটে। পায়জামা-পাঞ্জাবি পরেছে ঋজুদা। খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।

 

ভীষণ ঘুমোচ্ছিলাম আমি। কে যেন আমার ঘুম ভাঙাল গায়ে হাত দিয়ে। তাড়াতাড়ি চমকে উঠে, হাতে-ধরা বন্দুকটা শক্ত করে ধরেই আমি চোখ খুললাম। দেখি, ট্রেলারের তিনপাশে পাঁচজন সাতফুট লম্বা মাসাই যোদ্ধা দাঁড়িয়ে আছে, হাতে বল্লম ও কোমরে দা। ওদের বলে মোরান।

 

আমি ঘোর কাটিয়ে বললাম, জাম্বো।

 

ওদের মধ্যে একজন বোধহয় সোয়াহিলী জানে। সে বলল, সিজাম্বো!

 

বলেই, সকলেই প্রায় একই সঙ্গে পিচিক পিচিক করে থুতু ফেলল। বর্শার সঙ্গে পা জড়িয়ে অদ্ভুতভাবে দাঁড়িয়ে রইল।

 

আমি ঋজুদাকে দেখিয়ে বাংলায় বললাম, এঁকে বাঁচাতে পারো ভাই?

 

তারপর বোঝাবার জন্যে ঋজুদার পা-টা খুলে দেখালাম। পেটে হাত দিয়ে বললাম খাবারও নেই।

 

ওরা গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ল। আবার পিচিক পিচিক্ করে থুতু ফেলল।

 

হঠাৎ আমার মনে হল, নাইরোবি সর্দারের দেওয়া হলুদ গোল পাথরটার কথা। ঋজুদা আমাকেই রাখতে দিয়েছিল সেটা। তাড়াতাড়ি আমি পকেট হাতড়ে সেটা বের করে ওদের দেখালাম। বললাম, নাইরোবি সর্দার দিয়েছে। নাইরোবি। নাইরোবি। দুবার বললাম।

 

ওরা পাথরটা হাতে নিয়ে, ভাল করে দেখে, সকলে একসঙ্গে কী সব বলে উঠল।

 

দুজন মাসাই দুটো হাত পাশে ঝুলিয়ে রেখেই সোজা উপরে লাফিয়ে উঠল তিন চার ফুট। তারপর হাতের মধ্যে থুতু ফেলে দুহাতে থুতু ঘষে আমার মুখটা দুহাতে ধরল। বোধহয় আদর করে দিল।

 

প্রথম দিন নাইরোবি সর্দার এমন করাতে আমার বড় ঘেন্না হয়েছিল। ওডিকোলন ঢেলে শুয়েছিলাম। আজ এই রাতে কিন্তু বড় ভাল লাগল। বড় ভালমানুষ ওরা, ভারী সহজ, সরল।

 

দেখতে-দেখতে দুটো বল্লমের মধ্যে একজনের লাল কম্বল কায়দা করে বেঁধে একটা স্ট্রেচার-মতো করে ফেলল ওরা। তারপর ঋজুদাকে তার উপর শুইয়ে, কম্বল দিয়ে ঢেকে, কাঁধে তুলে নিয়ে আমাকে ইঙ্গিতে বলল, চলো।

 

ঋজুদার পিস্তলটা একজন আমার হাতে দিল। আমি কোমরে রাখলাম সেটা। বন্দুকটা হাতে নিলাম।

 

ওরা শনশন করে হাঁটতে লাগল।

 

ভিজে চাঁদের আলোর মধ্যে সেই ধু-ধু ঘাসের বনে সাত ফুট লম্বা লাল পোশাকের মাসাইদের গুগুনোগুম্বার বা ওগরিকাওয়া-বিবিকাওয়া বলে মনে হচ্ছিল আমার।

 

এরাও কি আমাদের সঙ্গে ভুষুণ্ডার মতো বিশ্বাসঘাতকতা করবে?

 

যারা ঋজুদাকে বইছিল তারা আগে-আগে প্রায় দৌড়ে চলল।

 

মেরানদের মধ্যে যে সর্দার গোছের, সে আবার পিচিক্ করে থুতু ফেলে আমাকে কী যেন দুমদাম বলল। মানে বুঝলাম না।

 

যুদ্ধ করলেই আহত হয় কেউ-কেউ। ওরা যোদ্ধার জাত। জড়িবুটি, তুকতাক এবং বনজ-ভেষজ দিয়ে আহতের চিকিৎসা ওরা নিশ্চয়ই জানে। জানে কি না আমি জানি না। এই মুহূর্তে আমি জানি যে, আমি ভীষণ খুশি। এত কিছুর পরে, এত ঘটনার পরে, এই মনখারাপ-করা নির্জনতার মধ্যে মানুষের মুখ দেখে।

 

হাড়গোড় আর পাথরের গয়না-পরা, লাল-হলুদ রঙে মুখে কপালে আঁকিবুকি কাটা, টাটকা-রক্ত-খাওয়া কতগুলো স্বাধীন সাহসী, বড় মনের মানুষদের পিছনে-পিছনে ছোট্ট শহুরে মনের ছোট্ট ভীরু আমি ছোট-ছোট পা ফেলে চলতে লাগলাম।

 

দূর থেকে ওদের ড্রামের শব্দের মতো গুমগুম্ করে সিংহ ডেকে উঠল। বারবার ডাকতে লাগল। আর একটা বড় পেঁচা আমাদের মাথার উপরে ঘুরে ঘুরে, উড়ে উড়ে, সঙ্গে-সঙ্গে চলতে লাগল। ডাকতে লাগল, কিঁচি কিঁচি কিঁচর…।

 

গুগুনোগুম্বারের দেশের দুজন দৈত্যের মতো মানুষের কাঁধের উপর আমার ঋজুদার ঠাণ্ডা, নিথর শরীরটা কাঁপতে কাঁপতে, দুলতে দুলতে যেন সেই নীলচে চাঁদের আলোয় ভেসে উড়ে চলল এই আদিম আফ্রিকার কুয়াশা-ঘেরা রহস্যময় দিগন্তের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *