চশমার আড়ালে (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
৭
সাগরমহলের সাগর আসলে একটা বিরাট জলা, আর মহল হচ্ছে একটা সরকারি টুরিস্ট লজ। দোতলা বাড়ি। দেখলে বোঝা যায় যে, সদ্য তৈরি হয়েছে। বিছানার চাদর থেকে বালিশের ওয়াড়, সবই একেবারে ধোপদুরস্ত। ওয়াশ-বেসিন থেকে চেয়ার-টেবিল, কোথাও একটা দাগ পর্যন্ত পড়েনি।
বঙ্কুবাবু আর ভাদুড়িমশাই কালও একবার সাগরমহলে এসেছিলেন। তখনই তাঁরা বুকিং করে যান। তিনটে ডাবল বেড আর একটা ট্রিপল-বেডের ঘর নেওয়া হয়েছে। ভাবা হয়েছিল, তিনটে ডাবল-বেডের ঘরের একটায় থাকবেন সস্ত্রীক বঙ্কুবাবু, একটায় ভাদুড়িমশাই আর আমি, একটায় রামু আর রাজেশ। ট্রিপল-বেডের ঘরটা নেওয়া হয়েছিল বিজু, পীতাম্বর আর শঙ্করের জন্য। শঙ্করের বদলে দীপক আসায় ব্যবস্থাটার একটু অদল বদল করতে হল। ডাবল-বেড ঘরটা বিজু আর পীতাম্বরকে ছেড়ে দিয়ে রামু, দীপক আর রাজেশ চলে গেল ট্রিপল-বেডের ঘরে। বঙ্কুবাবুর এই একটা ব্যাপার দেখে ভাল লাগল যে, ড্রাইভার আর বেয়ারার থাকার জন্যে তিনি আলাদা কোনও ব্যবস্থা করেননি।
ঘরগুলো সবই দোতলায়। বঙ্কুবাবুর সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়। রেলিং ধরে আস্তে-আস্তে তিনি দোতলায় উঠলেন। দেখলুম, পীতাম্বর তাঁর সঙ্গে-সঙ্গে রয়েছে। মিসেস ঘোষ একটু আগেই দোতলায় উঠে গিয়েছিলেন। কী একটা কাজে পীতাম্বরকে তিনি ডেকেছিলেনও। কিন্তু লক্ষ করলুম, বঙ্কুবাবু দোতলায় না ওঠা পর্যন্ত পীতাম্বর তাঁর পাশ থেকে নড়ল না।
একতলার একপাশ থেকে শান-বাঁধানো খুব চওড়া একটা সিঁড়ি ধাপে-ধাপে যেখানে জলার মধ্যে নেমে গিয়েছে, সেখানে কয়েকটা নৌকো চোখে পড়ল। নৌকোগুলির খোলের দু’দিকে গদি-আঁটা বেঞ্চি পাত!
বললুম, “ওগুলো নিশ্চয় জলার মধ্যে ঘুরে বেড়াবার জন্যে?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ঘুরে যদি বেড়াতে চান তো কেউ আপত্তি করবে না। কিন্তু খাওয়া-দাওয়ার পাট না চুকিয়ে খামোখা এখন আপনি জলার মধ্যে ঘুরে বেড়াতে যাবেন কেন? বরং দূরের ওই বাড়িটা ভাল করে দেখুন।”
বাড়িটা অনেক আগেই আমার চোখে পড়েছিল। বেশ কিছুটা দূরে, জলার একেবারে অন্য প্রান্তে, জলের তলা থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল একটা বাড়ি। এতই বিশাল যে, বাড়ি না বলে রাজপ্রাসাদ বললেই ঠিক হয়।
বললুম, “ও তো মনে হচ্ছে রাজবাড়ি মশাই।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কারেক্ট, ওটা একটা প্রাসাদই বটে। ওর নাম নীরমহল। শখ করে ওটা তিরিশের দশকে তৈরি করা হয়েছিল। খাওয়া-দাওয়ার পরে নৌকো করে আমরা ওখানে বেড়াতে যাচ্ছি। রাজপ্রাসাদের অবস্থা যে ইতিমধ্যে কী দাঁড়িয়েছে, তখন সেটা স্বচক্ষে দেখবেন।”
দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলুম আমরা। হুহু করে বাতাস বইছে, কিন্তু বাতাসে দুপুরবেলার গরম ভাবটা নেই। তার উপরে আবার জলের উপর দিয়ে আসছে বলে ধুলো-ময়লাও নেই বিশেষ। জল অবশ্য কোনওখানেই খুব একটা গভীর বলে মনে হল না। জলার মধ্যে যেমন প্রচুর পাখি, তেমন কিছু-কি মানুষও চোখে পড়ল। বুক-সমান জল ঠেলে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রত্যেকের পাশেই একটা করে ডিঙি। ডিঙির মধ্যে কাঠি দিয়ে বানানো বাক্স। এক-একটা বাক্স নিয়ে তারা ডুব দিচ্ছে, তারপর জলের উপরে মাথা জাগিয়ে সেখানে পুঁতে রাখছে একটা করে নিশানা।
জিজ্ঞেস করলুম, “ব্যাপারটা কী বলুন তো?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “বুঝলেন না? জলের তলার বাক্সগুলোকে রেখে আসছে, তারপর কাল কি পরশু ওই নিশানা দেখে জায়গা চিনে ওরা এক-এক করে বাক্সগুলোকে আবার জলের তলা থেকে তুলবে। তখন দেখা যাবে যে, বাক্সগুলো চিংড়িমাছে বোঝাই হয়ে আছে। জল তো মোটেই গভীর নয়, তাই চিংড়ির চাষের এখানে খুব সুবিধে।”
বললুম, “লাঞ্চে তা হলে চিংড়ির মালাইকারি পাব?”
ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “কপালে থাকলে পাবেন।”
কপালে যে নেই, সেটা খানিক বাদে ডাইনিং হলে গিয়ে বোঝা গেল। চিংড়ি নয়, নিত্য যা খাই, সেই কাটাপোনা। লজেব ম্যানেজার আমাদের আক্ষেপের কথা শুনে বললেন, “ঠিক আছে, রাত্তিরে যাতে চিংড়ি মাছ পান, তার ব্যবস্থা করছি।”
খাওয়া শেষ হতে-হতে দেড়টা বাজল। বঙ্কুবাবু বললেন, “আধ-ঘন্টাটাক বিশ্রাম করে তারপর একটা নৌকো নিয়ে আপনারা নীরমহল থেকে ঘুরে আসুন। আমি অবশ্য যাচ্ছি না। বিজুও থাক। ও আমার দেখাশুনো করবে। মিঃ চ্যাটার্জি, জায়গাটা আপনি বেশ ভাল করে দেখুন। ডলি বলছিল, হিরো আর হিরোইন নৌকো করে ওখানে যাবে। নৌকো যখন চলছে, তখন একটা ডুয়েট গাইবে তারা। গান শেষ। নৌকো ওখানে পৌঁছে গেছে। সিঁড়ি বেয়ে ওরা দুজন উপরে উঠছে। কাট। পরের দৃশ্যটা ভাইটাল। প্রাসাদের একেবারে হাইয়েস্ট পয়েন্ট, হঠাৎ মাথা ঘুরে গিয়ে হিরোইন সেখান থেকে পড়ে যাচ্ছে, কিন্তু হিরো তৎক্ষণাৎ হাত বাড়িয়ে তাকে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নিল। এই সময়ে একটা গান থাকলে ভাল হয়। লাভ-সং। ডলি বলছিল, গানটা যদি পল্লিগীতি হয়, আর যদি মাঝিকে দিয়ে সেটা গাওয়ানো যায়, দৃশ্যটা তা হলে দারুণ জমবে। চারু তো ডিরেক্টর। ও বলছিল, ইটস এ ভেরি ব্রাইট আইডিয়া।….না না, মাঝিকে গাইতে হবে না, সে লিপ দেবে, গাইবার জন্যে নাম-করা কোনও ফোক-আর্টিস্টকে ধরা যাবে তাখন। …..তো মিঃ চ্যাটার্জি, আপনি তো ডলির এই আইডিয়াটাকে স্ক্রিপটে ট্রান্সফার করবেন, তাই আপনার ওপিনিয়নটাও জানা দরকার। আপনি কী বলেন?”
আমাকে কী বলতে হবে, সে তো ভাদুড়িমশাইয়ের কাছে আমি জেনেই গিয়েছি। তাই উচ্ছ্বসিত গলায় বললুম, “দারুণ, দারুণ। এর আর কোনও জবাব নেই।”
দীপক বলল, “ফোক-সং না-দিয়ে ওইখানে একটা ফাইট দেওয়া যায় না?”
বঙ্কুবাবু তাঁর প্রায় নাতির বয়সী শ্যালকটির মন্তব্য শুনে বললেন, “ওটা একটা ডেজার্টেড রাজবাড়ি, ওখানে কে কার সঙ্গে লড়বে?”
“কেন, এমন তো দেখানো যায় যে, ওটা স্মাগলারদের আড্ডা, হিরো যে তাদের আড্ডার হদিশ পেয়েছে এইটে বুঝে গিয়ে হিরোকে তারা খতম করতে চায়। আর ওই হিরোইন, ও আসলে স্মাগলার-গ্যাঙের লিডারের মেয়ে। দিদি, তুই বরং এইভাবে তোর স্টোরি-লাইনটাকে পালটে নে। দেখিয়ে দে যে, হিরোকে লটকে ওখানে নিয়ে আসার জন্যেই হিরোইনকে কাজে লাগানো হয়েছিল। কিন্তু তার ড্যাডি যেই হিরোকে অ্যাটাক করেছে, সেও অমনি হিরোর পাশে দাঁড়িয়ে তার ড্যাডির এগেনস্টে ফাইট করতে লাগল।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কেন? হিরোইন হঠাৎ দুম করে তার ড্যাডির এগেনস্টে ফাইট করতে যাবে কেন?”
“বুঝলেন না?” দীপক বলল, “হিরোর সঙ্গে তার মোহব্বত হয়ে গিয়েছে যে।”
ভাদুড়িমশাই বলনে, “অ।”
বঙ্কুবাবু তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকাতে গিয়ে রাজেশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কী গো, তোমার কী মনে হয়? তোমার ভাইটাকে আমি একেবারে গবেট ভাবতুম, কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে কথাটা নেহাত খারাপ বলেনি।”
মিসেস ঘোষ বললেন, “একটু ভেবে দেখি। প্লটটাকে যেভাবে সাজিয়ে নিয়েছিলুম, ঠিক সেইভাবেই তো আর হবে না, এখানে-ওখানে মাইনর কিছু-কিছু চেঞ্জ তো করতেই হবে।”
আমি বললুম, “এটা কিন্তু একটা মেজর চেঞ্জ। ছবি একেবারে অন্যদিকে ঘুরে যাচ্ছে।’
রাজেশ এতক্ষণ চুপচাপ সব শুনে যাচ্ছিল। এবারে বলল, “দীপক যা বলছিল, তাতে কিন্তু আমার কাজের অনেক সুবিধে হবে।”
গলা শুনতে পেয়েছিলেন, তাই বঙ্কুবাবু এবারে ভুল-লোকের দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করলেন না। সরাসরি রাজশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমার আবার কী সুবিধে?”
“বিস্তর সুবিধে।” রাজেশ বলল, “নীরমহলে তো আমি আগেও এসেছি। ওখানে যদি ফাইট হয়, তো নানা অ্যাংগল থেবে আমি তার ছবি তুলতে পারব।”
বঙ্কুবাবু বললেন, “অ্যাঁ, তুমি ছবি তুলবে মানে? তার জন্যে তো ক্যামেরাম্যানই রয়েছে।”
দীপকের দিকে ঘুরে দাঁড়াল রাজেণ। বলল, “সে কী, তুই তা হলে কলকাতা থেকে এখানে আমাকে আসতে বললি কেন? ক্যামেরাম্যানের কাজটা আমি পাব না?”
দীপক জানলার দিকে তাকিয়ে জলার শোভা দেখতে লাগল।
মিসেস ঘোষ বললেন, “আরে বাবা, এত ব্যস্ত হবার কী আছে। আগে লোকেশন ঠিক করি, স্ক্রিপট লেখা হোক, কাস্টের ব্যাপারটা চুকিয়ে ফেলি তা নয়, ক্যামেরার কাজ কে করবে, তাই নিয়ে ঝামেলা আরম্ভ হয়ে গেল।”
বঙ্কুবাবু বললেন, “ঝামেলার তো কিছু নেই, ক্যামেরার কাজ অগের ছবিগুলোতে সুনীল গুপ্ত করেছেন, হি ইজ অ্যান এক্সেলেন্ট ক্যামেরাম্যান, এবারেও তিনিই কাজ করবেন। এ একেবারে পায়।”
রাজেশ বলল, “তা হলে আর আমার নীরমহলে গিয়ে কী হবে? আমি যাচ্ছি না।”
বঙ্কুবাবু বললেন, “সে তোমার যেতে ইচ্ছে হয় যাবে, ইচ্ছে না হলে যাবে না। …..ও হ্যাঁ, বিজু কাল নীরমহল দেখে এসেছে, পীতাম্বরের দেখা হয়নি, ও আমার কাছে ছিল। তা পীতাম্বর আজ তোমাদের সঙ্গে যাক্, বিজু আমার কাছে থাকবে।”
কথাটা মিসেস ঘোষকে বলা। তিনি বললেন, “সে তো তুমি আগেই বলেছ।”
বঙ্কুবাবু বললেন, “বলেছি বুঝি? মনে ছিল না। এখন আমি উপরে যাব। বিজু কোথায়?”
বিজু আর পীতাম্বর আড়ালে কোথাও অপেক্ষা করছিল। বঙ্কুবাবুর শেষ কথাটা শুনে সে সামনে এসে দাঁড়াল। বলল, “চলুন স্যার।”
বঙ্কুবাবু দোতলায় চলে গেলেন। রামুকে কিছুক্ষণ ধরেই দেখা যাচ্ছিল না। মনে হল, খাওয়ার পাট চুকে যাবার পরেই সে দোতলায় উঠে গেছে। দীপক আর রাজেশও গম্ভীর মুখে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল।
একতলার ডাইনিং হলে এখন শুধু আমি, ভাদুড়িমশাই আর মিসেস ঘোষ। ডাইনিং হলের পাশেই লাউঞ্জ। মিসেস ঘোষ বললেন, “চলুন, লাউঞ্জে গিয়ে বসা যাক।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “একটু বিশ্রাম করে নিলে হত না? একটু বাদেই তো ফের বেরুতে হবে।”
মিসেস ঘোষ বললেন, “আমি আর এখন উপরে যাব না। আপনারা বরং নিজেদের ঘরে গিয়ে একটু গড়িয়ে নিন।”
ভাড়িনশাই হেসে বললেন, “আমাদের কথা ভেবে ও-কথা বলিনি। আমাদের এ-সব অভ্যেস আছে, আমি আপনার কথা ভাবছিলুম। সকাল থেকে আপনার উপর দিয়ে ঝড় তো নেহাত কম গেল না।”
“ঝড় আবার কোথায় দেখান?”
আমি বললুম, “সে কী, সক্কালবেলায় রামুকে নিয়ে ওই কাণ্ড। তারপরে এতটা পথ আসতে হল। তারপর এখন আবার রাজেশকে নিয়ে এই ঝামেলা। যা রেগে গেছে, সত্যি-সত্যি চলে না যায়!”
মিসেস ঘোষ বললেন, “এ-সব ঝামেলা নিত্যি আমাকে পোহাতে হয়। তবে হ্যাঁ, ক্যামেরাম্যানের ক’টা রাজেশকে দিলেও ক্ষতি হত না। সুনীল গুপ্ত সম্পর্কে আপনাদের বঙ্কু মোটেই ঠিক কথা বলেননি। ভদ্রলোকের নামডাক আছে ঠিকই, কিন্তু কাজ এমন কিছু আহামরি নয়।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা হলে এত নামডাক হল কী করে?”
মিসেস ঘোষ বললেন; “সে-সব আমার জানতে কিছু বাকি নেই। ফিল্ম-ম্যাগাজিনগুলো যারা চালায়, তাদের তো হাড়ে হাড়ে চিনি, কাকে কীভাবে তুষ্ট করতে হয়, সে-সব আমার জানা হয়ে গেছে। আপনাদের বঙ্কুর সঙ্গে পরিচয় হবার আগে যে আমি ফিল্মের লাইনেই ছিলুম সেটা ভুলে যাবেন না। লাইনটা কেন ছেড়ে দিয়েছিলুম জানেন?”
বললুম, “কেন?”
“স্রেফ ঘেন্নায়। দু-লাইন প্রশংসার জন্য কী দিতে হবে আর পাঁচ লাইন প্রশংসার জন্যে কী, তা কি জানি না ভেবেছেন? সব জানি। কাগজে-কাগজে সুনীল গুপ্তর অত প্রশংসা বেরোয় কেন, তাও জানি। সবই ওর শালির জন্যে। তাও তো সেটা দেখতে একটা কালপেঁচির মতো, কারও পাতে দেবার যুগ্যি নয়। বলব, সবই একদিন বলব।”
কথাটাকে অন্য দিকে ঘোরাবার জন্যে বললুম, “একটু বাদেই কিন্তু আমাদের নৌকোয় উঠতে হবে।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তাও তো বটে। সওয়া দুটো বাজে। আমার খেয়ালই ছিল না। মিনিট পনেরোর মধ্যেই বেরোতে পারলে ভাল হয়। চলুন কিরণবাবু, জামাকাপড় পালটে আসা যাক।”
মিসেস ঘোষ বললেন, “চলুন, আমিও যাচ্ছি। ও হ্যাঁ, প্লটটা আমি আজই শোনাতে চাই। ওখানে নিয়েই শোনাব। মিঃ চ্যাটার্জি, কাল রাত্তির থেকে আজ এখন পর্যন্ত তো আপনি সময় করে উঠতে পারলেন না। নীরমহলে পৌঁছে আবার ‘পরে হবে’ বলবেন না যেন।”
বললুম, “আরে ছিছি, এ আপনি কী বলছেন। স্ক্রিপট লিখতে এসেছি, আর আপনার প্লটটা শুনে নেবাব সময় হবে না? তবে কিনা, প্লটটা একটু মন দিয়ে শুনতে হবে তো, সেটা কি এত ডামাডোলের মধ্যে হয়! ব্যাপারটা নিয়ে একটু ভাবনাচিন্তা করতে হবে, আপনার সঙ্গে ডিটেলস নিয়ে আলোচনা করতে হবে, তার একটা উপযুক্ত পরিবেশ চাই না?”
মিসেস ঘোষের মুখে যে একটা বেজার-ভাব দেখতে পাচ্ছিলুম, সেটা তবু কাটল না। বললেন, “আশা করি নীরমহলে সেটা পাওয়া যাবে।”
বললুম, “তবে তো খুবই ভাল। গল্পের আউটলাইনটা আপনি আমাকে বলবেন, তারপরে উই শ্যাল হ্যাভ এ থ্রেডবেয়ার ডিসকাশন, ভাদুড়িমশাইও যে তাতে যোগ দেবেন, সে-কথা বলাই বাহুল্য। তারপর যদি দেখা যায় যে, অধিকাংশ ব্যাপারেই আমরা একমত, তবে তো কথাই নেই, পরো কাহিনীর একটা খসড়া দাঁড় করাতে আমার তিন দিনের বেশি সময় লাগবে না। ব্যস, সেই াড়াটা যদি আপনাদের ভাল লাগে, তো পরদিন থেকেই আমি স্ক্রিপট লিখতে আরম্ভ করব।”
মিসেস ঘোষের মুখে এতক্ষণে হাসি ফুটল। বললেন, “চলুন তা হলে উপরে যাওয়া যাক।”
ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আমি হাসতে-হাসতে বিছানায় গড়িয়ে পড়লুম।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আস্তে, আস্তে। মিসেস ঘোষ বুঝতে পারলেই সর্বনাশ। আর যা-ই করুন, দয়া করে ওঁকে বোকা ভাববেন না।”
বললুম, “যা অভিনয় করলুম, তাতে একটা পুরস্কার নিশ্চয়ই আশা করতে পারি?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা পারেন। তবে বেস্ট-অ্যাক্টিংয়ের পুরস্কারটা কাকে দেব, ভাবছি। আপনাকে না বঙ্কুকে।
