বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

খেলা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মতিলাল ছেলেকে বললে–বোসো বাবা, গোলমাল করো না। হিসেব দেখছি—   ছেলে বাবার কোঁচার প্রান্ত ধরে টেনে বললে–ও বাবা, খেলা করবি আয়–   -না, এখন টানিসনে—আমার কাজ আছে—   -–ও বাবা, খেলা কববি আয়—ঘোয়া খেলা কববি আয়—   —আঃ জ্বালালে—চল দেখি—…

Read Moreখেলা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

জাল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘুরতে ঘুরতে কীভাবে আমি যে রামলাল ব্রাহ্মণের কাছে গিয়ে পড়েছিলাম, তা আমি এখনো বলতে পারি না। হাজারিবাগের জঙ্গলে ঘুরছিলাম জীবিকা অর্জনের চেষ্টায়। সামান্য অবস্থার গৃহস্থের ছেলে, ম্যাট্রিক পাস দিয়ে অর্থ উপার্জনের ব্যাপারে কত জায়গায় না গিয়েছি। কে যেন বলেছিল, হর্তুকী…

Read Moreজাল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঝগড়া – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধ্যার সময় কেশব গাঙ্গুলীর ভীষণ ঝগড়া হয়ে গেল দুই কন্যা ও স্ত্রীর সঙ্গে। কন্যা দুটিও মায়ের দিকে চিরকাল। এদের কাছ থেকে কখনো শ্রদ্ধা ভালোবাসা পাননি কেশব।   শুধু এনে দাও বাজার থেকে, এই আক্রা চাল মাথায় করে আনো দেড়কোশ দূরের…

Read Moreঝগড়া – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

উপেন ভটচাজের পুত্রবধূ বেশ সুন্দরী। একটিমাত্র ছোটো ছেলে নিয়ে অত বড়ো পুরোনো সেকেলে ভাঙা বাড়ির মধ্যে একাই থাকে। স্বামীর পরিচয়ে বউটি এ গ্রামে পরিচিতা নয়, অমুকের পুত্রবধূ এই তার একমাত্র পরিচয়। কারণ এই যে স্বামী ভবতারণ ভটচাজ ভবঘুরে লোক। গাঁজা…

Read Moreসংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

হিঙের কচুরি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের বাসা ছিল হরিবাবুর খোলার বাড়ির একটা ঘরে। অনেকগুলো পরিবার একসঙ্গে বাড়িটাতে বাস করত। এক ঘরে একজন চুড়িওয়ালা ও তার স্ত্রী বাস করত। চুড়িওয়ালার নাম ছিল কেশব। আমি তাকে ‘কেশবকাকা’ বলে ডাকতাম।   সকালে যখন কলে জল আসত, তখন সবাই…

Read Moreহিঙের কচুরি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দাদু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঠাকুরদাদা আমার শৈশবের অনেকখানি জুড়ে আছেন। সমস্ত শৈশব-দিগন্তটা জুড়ে আছেন। ছেলেবেলায় জ্ঞান হয়েই দেখেছি আমাদের বাড়িতে তিনি আছেন।   তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় একশো। জ্ঞান হয়ে পর্যন্ত দেখেছি তিনি আমাদের পশ্চিমের ঘরের রোয়াকে সকাল থেকে বসে থাকতেন। একটা বড়ো গামলায়…

Read Moreদাদু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়