অ্যালবিনো (ঋজুদা) – বুদ্ধদেব গুহ

শেয়ার করুনঃ

আট

টেলিগ্রামটা যে এত তাড়াতাড়ি এসে যাবে আমরা কেউই ভাবিনি। কাল দুপুরে আমার যখন প্রাণ যায়-যায় অবস্থা–অসুখে নয়, ওষুধ খেয়ে; তখনই টেলিগ্রামটা এল। ভটকাই, আমার পিসতুতো ভাই, এবং ঋজুদার গ্রেট অ্যাডমায়ারার খুব প্রমপ্ট অ্যাকশান নিয়েছে। অনেকদিন ধরেই ওর আমাদের সঙ্গে আসার ইচ্ছা। ডিটেকটিভ বই পড়ে পড়ে ও ক্ষুদে ডিটেকটিভ হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। ঋজুদা হয়ত এর পরের বার ওকে আমাদের সঙ্গে নেবে। ভটকাই সঙ্গে থাকলে একেবারে জমে যাবে ব্যাপার-স্যাপার। শারীরিক কারণে এমনিতেই কান্না পাচ্ছিল, তাই টেলিগ্রাম পেয়ে কাঁদতে অসুবিধে হয়নি একটুও। মনে মনে, মায়ের আয়ু বেড়ে যাবে এই প্রার্থনা করে, মায়ের অসুখের খবরে খুব কাঁদলাম।

ঋজুদা বিষেণদেওবাবুদের মিথ্যে বলল, কবেকার টেলিগ্রাম কবে এলো। তবুও চলে যা রুদ্র, এক্ষুনি গাড়ি নিয়ে চলে যা। মা যদি ভাল থাকেন তবে ফিরে আসিস সঙ্গে সঙ্গে। তোর জন্যে আমরা দু’দিন অপেক্ষা করব। বীটিং করাবো না অ্যালবিনোর জন্যে। ওঁরা বললেন, আলবাৎ! আলবাৎ! ছেলেমানুষ, সবচেয়ে উৎসাহ বেশী! ও না থাকলে।

আমাকে একা গাড়ি চালিয়ে যেতে সকলেই মানা করছিলেন। ঋজুদাও, দেখাবার জন্যে। আমি বললাম, ঠিক আছি আমি।

ধানবাদে গাড়ি রাখতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। নারাং আয়রণ অ্যান্ড স্টীলের অরুণ নারাং খুব আদর-যত্ন করলেন রাতে। অনেক কিছু খেতে বললেন। কিন্তু খাব কি!

ঋজুদার বাড়ি পৌঁছে বেল দিতেই গদাধর গেট খুলল। আমি বললাম, কাউকে বলবে না যে আমি এসেছি। আমি আজ রাতেই ফিরে যাব। গদাধর বলল, কি গো খিচুড়ি খেইবে নাকি?

ভীষণ রেগে বললাম, একদ্দম্ খাওয়ার কথা বলবে না।

গদাধর আহত হল। আমি যে কতখানি আহত; তা যদি গদাধর জানত।

চান করে নিয়ে সোজা মিনি ধরে চলে এলাম ড্যালহাউসী পাড়াতে। গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলের পাশেই–ওয়াটার্লু স্ট্রীটের ঠিক মোড়ে কাথবার্টসন হার্পারের দোকান। আমি এতদিন এটিকে শুধু জুতোর দোকান বলেই জানতাম। কিন্তু একসময়ে এদের প্রধান ব্যবসা যে ছিল জংলী জন্তু জানোয়ারের চামড়া ট্যানিং করা, ট্রোফি মাউন্টিং করা, স্টাফিং করা, তা জানতাম না। কতটুকুই বা জানি আমি। কতদিনই বা জন্মেছি।

ম্যানেজার হালদারবাবুকে খোঁজ করতেই, আমাকে গুপী বলে একজন বুড়োমত লম্বা লোক ভিতরের ঘরে নিয়ে গেলো সুইং-ডোর ঠেলে। কোমরে কোঁচা গোঁজা, ধুতির উপরে সাদা ফুলহাতা শার্ট, আর ঘি-রঙের জিনের কোট পরে হালদারবাবু বসেছিলেন সামনে পানের ডিবে নিয়ে।

বললেন, কি চাই থোকা?

আমার খুব রাগ হলো। এখনও খোকা। কাল থেকে আমার পৃথিবীর সকলের উপরই রাগ হচ্ছিল। যতক্ষণ না রাগের কারণটা ক্লিয়ার হচ্ছে, ততক্ষণ রাগ থাকবেই। তবু, রাগ না করে ঋজুদার চিঠিটা ওঁকে এগিয়ে দিলাম।

উনি আদ্যোপান্ত পড়লেন। পড়ে বললেন, করেছিই ত’।

কি করেছেন তা আর বললেন না।

খোকা, তোমার সঙ্গে বোসসাহেব কিছু পাঠাননি?

আমি চমকে গেলাম।

–কি হল? বোসসাহেব যে লিখেছেন আপনার হাতে….

আমার মনে পড়ল, ঋজুদা একটা বড় খামও দিয়েছিলো বটে ওঁকে দেওয়ার জন্যে।

খামটা এগিয়ে দিলাম ব্রিফকেস থেকে বের করে।

উনি ওটাকে নিয়ে অন্য ঘরে চলে গেলেন, তারপর ফিরে এসে বললেন, হুঁ, মিঃ বোসকে বলবেন যে, তিনি যা ভেবেছেন তা ঠিক। কিন্তু এ জিনিস বোসসাহেব পেলেন কি করে?

আমি বললাম, তা ত’ আমি জানি না।

অ! জানো না। স্ট্রেঞ্জ!

তারপর বললেন, বোসসাহেবকে বোলো যে, জিনিসটি ডেলিভারী দিয়েচি মাত্র মাস দেড়েক আগে। আমি বিল নম্বর অর্ডার নম্বর সব নোট করে রাখব। অর্ডার বুক, বিল বুক, ডেলিভারী বুক সব ঠিকঠাক রাখব। বোলো, কোনো চিন্তা নেই। বোসসাহেবের সঙ্গে ত’ আমার আজকের সম্পর্ক নয়।

তারপর আমার দিকে চেয়ে বললেন, বোসসাহেবের জেঠুমণি একবার একটা শম্বর মেরে তার চামড়া ট্যান করতে দিয়ে গেলেন। চামড়া ট্যান হতে না হতে দলে দলে লোক আসতে লাগলো, বুঝলে খোকা, সেই শম্বরের চামড়ার জুতো বানানোর জন্যে। অত বড় ব্যারিস্টার, কত জানাশোনা, সকলকেই একটি করে স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছেন–যাও কাথবার্টসন গেলেই জুতোর মাপ নেবেন ওঁরা আর শম্বরের চামড়ার জুতো বানিয়ে দেবেন। পয়সা দেবে না তোমরা কেউ।

আমার মজা লাগছিল, ঋজুদার জেঠুমণির কথা ওঠাতে।

হালদারবাবু বললেন, তা বোঝই ত’ একটা শম্বরের চামড়াতে কি আর একশ তেত্রিশ জন লোকের দু’পাটি করে জুতো হয়?

-জেঠমণি কি আবারও শম্বর মারলেন? আমি উত্তেজিত হয়ে বললাম।

হালদারবাবু বললেন, মাততা খারাপ; শম্বর কি মশা না মাছি যে, মারলেই হল? শেষে আমিই মুশকিল আসান করলুম।

–কি করলেন?

-ষাঁড়ের চামড়া দিয়ে জুতো বানিয়ে শম্বরের রঙ করে দিলুম-চামড়া চেঁচে রাফ করে নিয়ে। বোস সাহেবের সম্মান রাখা নিয়ে কতা। আমি কিন্তু কোনোই তঞ্চকতা করিনি। কোনো লোককে বলিওনি যে, শম্বরের চামড়াই দিচ্চি। বোসসাহেব জুতো বানাতে লিখেছেন, আমিও জুতো বানিয়ে দিয়েচি। ওঁদের সঙ্গে বোসসাহেবের কি কথা হল না হল আমি জানব কি করে? ব্যারিস্টার মানুষ। শম্বরের চামড়া শেষ হয়ে যাবার পর উনিও কোনো চিঠিতে লেখেননি যে, একে শম্বরের চামড়ার জুতো বানিয়ে দাও। শুধু লিখেছিলেন, জুতো বানিয়ে দেবেন। কতায় বলে, শতং বদ মা লিখ।

ঋজুদা যে খামটি দিয়েছিল সেটি আবার বন্ধ অবস্থায় ফেরত দিয়ে উনি বললেন, এসো খোকা।

এবার রাইটার্স বিলডিং-এ।

আই. জি. সাহেবের নামেও ঋজুদা একটা চিঠি দিয়েছিলেন। চিঠির উপরে লেখা, কোটাল-বন্ধু।

আই. জি. সাহেব চিঠি পড়েই বললেন, নো-প্রবলেম। আমি বিহারের আই, জি, সাহেবের অফিসে কথা বলে হাজারীবাগের এস. পি. ও ডি. এম.-কে ওয়্যারলেস করিয়ে দিচ্ছি। তারপর বললেন, তুমি ফিরবে কবে?

আজই বিকেলে। কোলফিলড এক্সপ্রেস ধরে রাতে ধানবাদে পৌঁছব। তারপর রাতটা ওখানে থেকে ভোরে গাড়ি নিয়ে যাবো মুলিমালোয়াঁতে।

আই. জি. সাহেব বললেন, তোমার ট্রেন কোলকাতা ছাড়বার আগেই যেখানে যেখানে খবর পৌঁছবার পৌঁছে যাবে। তারপর বললেন, এক সেকেন্ড বোসো, তারপর ওঁর পি. এ.-কে যেন কী বললেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার লাইসেন্সটা?

একটু পরই ওঁর ফোনটা বাজল।

উনি বললেন, তোমার পিস্তলের লাইসেন্স হোম ডিপার্টমেন্ট থেকে ওককে হয়ে গেছে। তোমাদের গান-ডীলার ডেলিভারী নিয়ে গেছেন। গুডলাক। ঋজুবাবুকে বোলো। আমি উঠতে যাব, এমন সময় বললেন, স্টেশনে যাবার সময় লালবাজার থেকে ট্রান্সমিটারটা নিয়ে যেও। ঋজুবাবুকে বোলো–পাস-ওয়ার্ড হচ্ছে, গুললি-অলি। মনে রেখো, গুললি-অলি।

আমি ওখান থেকে বেরিয়ে ফেয়ারলি প্লেসে গিয়ে টিকিটটা কেটে ফেলেই চৌরঙ্গীতে ইস্ট-ইন্ডিয়া-আর্মস কোম্পানীর দোকানে গেলাম। ঋজুদার কথামত এ-বি বাবুর সঙ্গে দেখা করতে চাইলাম।

একজন ধুতিপরা, ফর্সা, খুব লম্বা, ভদ্রলোক, সামনের দিকে চুল কম, স্ট্রাইপড-ফুলহাতা শার্ট কিন্তু হাতা-গুটিয়ে খদ্দেরদের নানারকম বন্দুক রাইফেল দেখাচ্ছিলেন। তাঁর কাছেই আমাকে নিয়ে গেল ছোটে বলে, খাকি প্যান্ট-শার্ট পরা একজন বেয়ারা।

এ-বি বাবু বললেন, কিসের জন্য আসা হয়েছে?

ঋজুদার চিঠিটা দিলাম ওকে।

উনি বললেন, অ! তুমিই সেই আফ্রিকা-ফেরত ছোঁড়া? কি যেন নাম, শূদ্র না কি যেন? যে, ঋজুবাবুকে ঢুষুণ্ডার হাত থেকে বাঁচিয়ে ছেল।

বললাম, শূদ্র নয়; রুদ্র। আর ঢুষুণ্ডা নয়, ভুষুণ্ডা।

উনি বললেন, ঐ হল।

তারপর বললেন, অজিতবাবু, সেই লামা পিস্তলটা বের করুন ত’।

টু-টু বোরের একটা দারুণ ঝকঝকে পিস্তল লোহার আলমারী থেকে বের করে দিলেন অজিতবাবু।

এ-বি বাবু বললেন, নাও এইটে তোমার। ঋজুবাবু তোমাকে প্রেজেন্ট করেছেন রেজাল্ট ভালো করায়।

কিন্তু এটা আমার কেন বলছেন?

আজ্ঞে? কেন মানে? লাইসেন্স-এর অ্যাপ্লিকেশানে সই করার সময় দ্যাকোনি কিসে সই করছ?

না ত’। ঋজুদা বলেছিল সই কর, সই করে দিয়েছিলাম।

–বেশ করেচো!

–কোন্ দেশী এটা? আমি জিজ্ঞেস করলাম।

লামা! স্প্যানিশ!

ও! আমি বললাম।

উনি বললেন, কি করে হ্যান্ডল করতে হয় জানো ত?

এ্যাই দ্যাকো–এই হচ্ছে ম্যাগাজিন; এ্যাই এমনি করে গুলি ভ’রবে; এই দিলে ত’ ভেতরে, এই কক্ করলে; আর এই হচ্ছে সেফটি। খুব সাবধান। এ বড় সব্বনাশা জিনিস। বুয়েচো!

বললাম, তা টু-টু পিস্তল দিয়ে কি মানুষ মরবে?

–মরবে না? বল কি হে তুমি! আরে ঐ যে গো, আমাদের জ্যাকি কেনেডির দেওর গো, ধুততেরি আমার কিসসুই মনে থাকে না, সেই থমাস কেনেডি না কি যেন?

-রবার্ট কেনেডি? আমি বললাম।

–হ্যাঁ, হ্যাঁ! সেই রবার্ট কেনেডি তাকে হোটেলে কোন্ পিস্তল দিয়ে মারলে?

মরবে না মানে? বুকের উপরের যে কোন জায়গায় ঠুকে দেবে–ব্যস তার আত্মীয়রা গিয়ে নিমতলায় কাঠ কিনতে লাইন দেবে সঙ্গে সঙ্গে। কোনো দেরী নয়। এক দিক দিয়ে গুলি ঢুকবে, অন্য দিক দিয়ে প্রাণ বেরিয়ে যাবে।

তারপর একটুক্ষণ আমার মুখের দিকে চেয়ে কি প্রতিক্রিয়া হ’ল দেখে নিলেন একটু।

তারপর বললেন, এই নাও। আর গুলিও নিয়ে যাও। লাইসেন্সটাও নাও। দাঁড়াও, এন্ট্রি করে নিই গুলিগুলো।

আমি উঠে দাঁড়ালাম। এ-বি বাবু সটান উঠে দাঁড়ালেন।

বললেন, এইটে নিয়ে আবার চলে যাও অস্ট্রেলিয়া, গিয়ে ঢুষুণ্ডাকে সাবড়ে দিয়ে এসো।

আমি বললাম, আজ্ঞে অস্ট্রেলিয়া নয়, আফ্রিকা। আর ঢুষুণ্ডা নয়, ভুষুণ্ডা।

উনি বললেন, আরে যাও ত’! ঐ হল। ওতেই হবেখন।

বিরাট দোকানটা থেকে বেরুতে ইচ্ছে করছিল না আমার। কার্তুজের গন্ধ, বন্দুকের তেলের গন্ধ; নেশা লেগে যায়।

ওখান থেকে বেরিয়েই বিশপ-লেফ্রয় রোডে যাবার জন্যে ট্যাক্সি ধরলাম। পথে কিছু কেনাকাটা করে নিয়ে যেতে হবে ঋজুদার অর্ডার মাফিক।

ট্যাক্সিতে বসে ভাবছিলাম এ-বি বাবুর আসল নামটা যে কি ঋজুদাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। তবে আসল নাম যা-ই হোক, এ-বি লোকটা আসলে বোধহয় অসম্ভব ভুলো।

ঋজুদার ফ্ল্যাটে ফিরে ভটকাইকে ফোন করলাম। বললাম, থ্যাংক উ্য।

তারপর বললাম, বুঝলি, এবার আর শিকার-টিকার নয়। ডিটেকটিভ-গিরি।

ভটকাই হাসল। বলল, দেশের কী করুণ অবস্থা।

-মানে?

–মানে, তুইও ডিটেকটিভ হলি!

–আমি বললাম, তোর সঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট করার সময় নেই আমার।

–ও বলল, সুনির্মল বসুর লেখা পড়েছিস?

মানে?

–মানে উনি একজন তোর মত গোয়েন্দার গল্প লিখেছিলেন। তোরই মত সায়েন্টিস্ট। এবং ব্রিলিয়ান্ট গোয়েন্দা। সেই গোয়েন্দা এক দারুণ ছারপোকা বিধ্বংসী পাচন আবিষ্কার করেছিলেন। ছোট ছোট হোমিওপ্যাথীর ওষুধের শিশিতে সেই লাল-নীল পাঁচন বিক্রী করতেন, সঙ্গে ব্যবহারবিধি লেখা থাকত কাগজের মোড়কে।

তারপর একটু চুপ করে থেকে বলল, কি লেখা থাকত জানিস?

–কি? আমি রাগের গলায় বললাম।

–লেখা থাকত–সাবধানে ছারপোকা ধরিয়া, মুখ হাঁ করাইয়া এক ফোঁটা গিলাইয়া দিবেন–মৃত্যু অনিবার্য।

আমি চুপ করে থাকলাম। ফালতু লোকের সঙ্গে কি কথা বলব।

ভটকাই বলল, ওল দ্যা বেস্ট-টিকটিকি।

আমি বললাম, এটা ইয়ার্কির ব্যাপার নয়। তোর সঙ্গে আর কথা নেই আমার। ঋজুদা বলেছে রোজ ফোন করে গদাধরদার খোঁজ নিতে–আর আমি এসেছিলাম তা যেন কেউ না জানে।

তারপর বললাম, মা ভালো আছে ত’?

ভটকাই বলল, সীরিয়াসলী ইল।

আমি ফোন ছেড়ে দিলাম ঘটাং করে।

কথা ছিল, রাতে গিয়ে ধানবাদেই খাব, তারপর ভোর চারটেতে গাড়ি টাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাব। অরুণবাবু নিজে থেকেই বলেছিলেন যে, গাড়ি সার্ভিস করিয়ে, তেল-মবিল, ব্রেক অয়েল, গীয়ার ও ডিফারেন্সিয়াল অয়েল, ব্যাটারীর জল, চাকার হাওয়া সব চেক-টেক করিয়ে রেডি করে রেখে দেবেন যাতে সকালে গাড়িতে সোজা বসে স্টার্ট দিতে পারি।

স্টেশনে যাওয়ার পথে লালবাজার হয়ে যেতে হবে। ট্যাক্সিতে উঠেই পিস্তলটাকে একটু খুলে দেখলাম।

চুমু খেতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু চারধারে লোকজন। কে কি ভাববে; পিস্তলটা একটা নরম কিন্তু মোটা পলিথিনের হোস্টারে আছে। এই হোস্টারটা বেল্টের মধ্যে ঢুকিয়ে নিলেই পিস্তলটা কোমরের সঙ্গে ঝুলবে। দেখা যাবে না, জামার তলায় থাকলে।

ভাবলাম, এবার এসো-ওফিফাগাস্ সাপ, অ্যালবিনো বাঘ…

কিন্তু এন্টারোস্ট্রেপ ট্যাবলেটগুলো যে পিস্তল দিয়ে মারা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *