সোহম – লীলা মজুমদার

কিশোরীবাবু ইচ্ছা করেই এই সময়টা নিজের পুরোনো ঘরে একা কাটাচ্ছিলেন। সোমবার থেকে আর এ ঘরে বসবেন না; যে ঘরে বসবেন, সে ঘর আজ প্রায় কুড়ি বছর ধরে তাঁর হৃদয়ের পীঠস্থান হয়ে বিরাজ করছিল। সোমবার থেকে সেই ঘর তাঁর হবে। তাঁর…
ভূতে বিশ্বাস করে কি না, এ-কথা কাউকে জিজ্ঞাসা করতে হয় না। বিশ্বাস না করলেও কিছু এসে যায় না। তবে একটি কথা বলি। শুনেছি মরে গেলে শরীরের এক কণাও নষ্ট হয় না। সবই পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে চিরকাল রক্ষা পায়। তা হলে মানুষের সত্তার শ্রেষ্ঠাংশই বা বিনষ্ট হবে কেন? আরও বলি, মরে গেলে সেই শ্রেষ্ঠাংশের একটা অশুভ পরিণতিই বা হবে কেন? বিধাতার মঙ্গলবিধানে আমার আস্থা আছে, তাই আমার এই ভূতদের একটু সুনজরে দেখতে হবে। এ-সমস্তর একটিও সত্যি ঘটনা নয়। সব আমি বানিয়েছি। বহু বছর ধরে নানা পত্রিকায়, ও পরে ছোট বই হয়েও কিছু বেরিয়েছে। এখন যতগুলোকে সম্ভব একসঙ্গে করে এই বই হল। তোমরা সকলে বইটি উপভোগ কর।
ইতি— লীলা মজুমদার।

কিশোরীবাবু ইচ্ছা করেই এই সময়টা নিজের পুরোনো ঘরে একা কাটাচ্ছিলেন। সোমবার থেকে আর এ ঘরে বসবেন না; যে ঘরে বসবেন, সে ঘর আজ প্রায় কুড়ি বছর ধরে তাঁর হৃদয়ের পীঠস্থান হয়ে বিরাজ করছিল। সোমবার থেকে সেই ঘর তাঁর হবে। তাঁর…

অপরাহ্নে বিজন পথে ঘোর ঘনঘটা করে বৃষ্টি নেমেছিল। দেখছিলাম সুনীল সুঘন মেঘে আকাশ আচ্ছন্ন। পথের পাশের কৃষ্ণচূড়ার অঙ্গ বেয়ে অবিরাম জলধারা নেমেছে। তারই অন্তরালে কতকালের পুরোনো চকমেলানো ছাই রঙের বাড়ি। খিলানে তার মাধবীলতার সম্ভার; দেয়ালে অশ্বত্থ গাছের আলিঙ্গন। না…

চিরদিন আমি এইরকম মোটাসোটা গিন্নিবান্নি ছিলাম না। ইয়ে-কী-বলে আমাকে বিয়ে করবার আগে আয়তলোচনা তন্বী তরুণী ছিলাম। আর এই যে আমার ইঁদুরের ল্যাজের মতন বিনুনিটা পাকিয়ে বড়ি খোঁপা করে রেখেছি, এ তখন ছিল কুণ্ডলিনী সর্পিণীর মতন, মিশকালো, চকচকে, মসৃণ। কিন্তু আমার…

শম্ভুর মেজদাদু পঞ্চাশ বছর আমেরিকায় কাটিয়ে, ৭০ বছর বয়সে মেলা টাকাকড়ি নিয়ে দেশে ফিরলেন। যাদের উনি বিদেশ থেকে এটা-ওটা পাঠাতেন, তারা কত বারণ করেছিল— অমন কাজ-ও কর না, এটা খুব খারাপ জায়গা, নোংরা, গরম, বেকারে আর জোচ্চোরে ভরা, দেখতে দেখতে…

আমার বন্ধু বটু নিজে কখনও নাথুকে দেখেনি। গল্প শুনেছে। ওর দাদুর বাড়িতে সে আসত। দাদু বললেন, “ওর ভালো নাম হল নাথিং, তার থেকেই ছোট করে হয়েছে নাথু। দেখিসনি, কেমন কেউ-না হয়ে থাকে। ঘরে থাকলেও মালুম দেয় না। আগে নাকি কোন…

জায়গাটার নাম বলা বারণ। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় যেমন, এখনো ঠিক তেমনি সংকটময় অবস্থান। মালিক বদলায়, জায়গা বদলায় না। এইটুকু বলি যে ভারতের উত্তর-পুব কোণের নাকের ডগা। দুদিকে ভারত, একদিকে বাংলাদেশ, একদিকে বর্মা। চারদিকে পাহাড়। সেইসব পাহাড়ের চাইতে উঁচু এই পাহাড়।…