গোলাবাড়ির সার্কিট হাউস – লীলা মজুমদার

যারা শহরে বাস করে তারা দুচোখ বুজে জীবনটা কাটায়। কোনো একটা বিদেশি তেল কোম্পানির সব থেকে ছোট সাহেব অরূপ ঘোষের মুখে এ কথা প্রায়ই শোনা যেত। সাহেব বলতে যে বাঙালি সাহেব বোঝাচ্ছে, আশা করি সে কথা কাউকে বলে দিতে হবে…

যারা শহরে বাস করে তারা দুচোখ বুজে জীবনটা কাটায়। কোনো একটা বিদেশি তেল কোম্পানির সব থেকে ছোট সাহেব অরূপ ঘোষের মুখে এ কথা প্রায়ই শোনা যেত। সাহেব বলতে যে বাঙালি সাহেব বোঝাচ্ছে, আশা করি সে কথা কাউকে বলে দিতে হবে…

এখন আমি একটা সাধারণ খবরের কাগজের আপিসে কাজ করলেও, এক বছর আগেও একটা সাংঘাতিক গোপনীয় কাজ করতাম। সে কাউকে বলা বারণ। বললে আর দেখতে হত না, প্রাণটা তো বাঁচতই না, তারও পর সব চাইতে খারাপ কথা হল যে চাকরিটাও চলে…

অনেক দিন আগের ঘটনা, লিখেওছিলাম এ বিষয়ে সে সময়ে, তবে তার কাগজপত্র হারিয়ে গেছে। সত্যি না বানানো যদি জানতে চান তাহলে বলি, যে গল্প শুনবে তার অত খবরের কী দরকার? তার কাছে যে ঘটনা বানানো আর যে ঘটনা কোন কালে…

ছাপাখানাটি খুব ছোট হলেও সারাদিন সেখানে কাজ হত। ছুটি হতে হতে সেই সন্ধে হয়ে যেত। ছাপাখানার পাশে একটা চায়ের দোকান ছিল। কুড়ি পয়সা দিলে এক ভাঁড় গুড়ের চা আর ঝালঝাল আলু-চচ্চড়ি দিয়ে মোটা একটা হাতরুটি পাওয়া যেত। খেয়েই বন্ধু রওনা…

নটের বেশি সাহস। সে বলল, “কী যে বলিস, গুরু! লোকে বলে তেপান্তরের মাঠ জায়গা ভালো নয়। তোর যেমন কথা! আরে, লোকে তো এও বলে যে নটে-গুরু ছেলে ভালো নয়!” বলতেই গুরু ফিক করে হেসে ফেলল। তা ছাড়া একেবারে দশ-দশটা…

প্রতি মাসে একবার করে আমাদের মহিলা সমিতি বসে শনিবার সন্ধ্যাবেলায়। সেদিন হিসাবপত্র দেখা হয়, কাজ গুছোনো হয়, একটু চাও খাওয়া হয় আর এনতার গল্পগুজব হয়। এক একদিন ফিরতে একটু রাত হয়ে যায়, কারো কিছু গাড়িঘোড়া নেই, দূরও নয়, যে যার…