শ্যামনিবাস-রহস্য (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শেয়ার করুনঃ

(৮)

ডাক্তার চাকলাদারকে সংক্ষেপে সব জানিয়ে রেখেছিলুম। তিনি এলেন সাড়ে ছটায়। একতলায় এসে আমার খোঁজ করতে শম্ভুবাবু তাঁকে সঙ্গে নিয়ে দোতলায় উঠে আসেন। ডাক্তার চাকলাদারকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে শম্ভুবাবুকে বললুম “আপনি একটু থেকে যান। অন্তত যতক্ষণ না থানা থেকে ওরা এসে পৌঁছচ্ছে। নীচেই থাকুন, নইলে, কে কী নাড়াচাড়া করবে, কোথার থেকে কোন জিনিসটা সরিয়ে রাখবে, তার ঠিক কী।

শম্ভুবাবু নীচে নেমে গেলেন। ডাক্তার চাকলাদার বললেন, “ওরেব্বাবা, এতটা তো ভাবিনি। একতলায় তো রক্তারক্তি কান্ড। কী হয়েছিল মশাই?”

বললুম, “ঈশ্বর জানেন। কিন্তু ও তো মারাই গেছে, ওকে নিয়ে আর ভাববার কিছু নেই। যিনি বেঁচে আছেন তাঁকে দেখুন।”

ডাক্তার চাকলাদার খাটের কাছে তাঁর চেয়ারটাকে সরিয়ে আনলেন। সদানন্দবাবুর কপালে হাত রাখলেন, টেম্পারেচার নিলেন,বুকে-পিঠে স্টেথোস্কোপ বসিয়ে লম্বা করে নিঃশ্বাস টানতে বললেন, তারপর ব্লাড প্রেশার নিয়ে বললেন, “কিছু না, শুধু প্রেশারটা একটু বেড়েছে। একটা ওষুধ লিখে দিচ্ছি, খান, আর আজকের দিনটা চুপচাপ শুয়ে থাকুন, নড়াচড়া করবেন না। কাল সকালে কাউকে দিয়ে প্রেশারটা আর-একবার দেখিয়ে নেবেন।”

কুসুমবাল। আলমারি খুলে টাকা বার করে এনেছিলেন, চাকলাদার হেসে বললেন, “টাকা কীসের? জানেন তো আমি কারও বাড়িতে যাই না।”

কথাটা মিথ্যে নয়। ডঃ চাকলাদার আসলে প্যাথলজিস্ট। পাশের গলির মোড়েই তাঁর ল্যাবরেটারি। জ্বরজারি হলে আমরা তাঁর কাছে যাই বটে, প্রেসক্রিপশনও লিখিয়ে নিই, কিন্তু তার জন্যে তিনি এক পয়সাও নেন না। বাড়িতেও যান না কারও। আজ যে এসেছেন, সেটা একেবারে না এসে উপায় ছিল না বলেই।

চাকলাদার উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। বললেন, “চলি তা হলে।”

ঘর থেকে ভদ্রলোক বেরিয়েওছিলেন, কিন্তু সিঁড়ির মাথা থেকেই ফিরে এসে বললেন, “যাওয়া হল না। মনে হচ্ছে আটকে গেলুম।”

“কেন কী হল?”

“পুলিশ এসে গেছে।”

বললুম, “তা হলে একটু থেকেই যান। অসুবিধা নেই তো?”

“অসুবিধে আর কী, ল্যাবরেটারিতে ক’টা টেস্ট করবার ছিল, তা সে ঘন্টা-খানেক বাদে করলেও ক্ষতি নেই। চলুন, নীচে যাওয়া যাক।”

বাসন্তীও উঠে দাঁড়াল। বলল, “চলি কুসুমদি। মেয়েটা একলা রয়েছে। পরে আবার আসব।”

তিনজনে মিলে নীচে নেমে এলুম।

আমাদের থানা অফিসার গঙ্গাধর সামন্তকে আমি আগে কখনও দেখিনি। নামটাই মাত্র শোনা ছিল। এও শুনেছিলুম যে, মানুষটি ধান্ধাবাজ নন; পোলিটিক্যাল পেট্রনেজের ধার ধারেন না; এলাকার শান্তি যাতে মোটামুটি বজায় থাকে, তার জন্যে যেটা করা দরকার বলে তাঁর মনে হয়, সেটাই করেন। আর তা ছাড়া খুব পরিশ্রমীও নাকি।

তা পরিশ্রম করার জন্য যে-রকম স্বাস্থ্য চাই, সামন্তমশাইয়ের স্বাস্থ্য দেখলুম সেইরকম‍ই। চওড়া কাঁধের ছ’ফুট লম্বা মানুষ; শরীর একেবারে লোহা-পেটানো। মোটা একজোড়া গোঁফ থাকায় যেন ভদ্রলোকের চেহারার বাহার আরও খোলতাই হয়েছে। ঝুলো গোঁফ নয়, আদ্যন্ত সমান করে ছাঁটা; ওই যাকে ইংরেজিতে টুথব্রাশ-গোঁফ বলে সেই বস্তু।

বাসন্তী আর দাঁড়াল না। সিঁড়ির সামনের জায়গাটুকু দেওয়াল ঘেঁষে সন্তর্পণে পার হয়ে রাস্তায় নেমে বাড়ির দিকে চলে গেল। সামন্তমশাই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনিই তো মিঃ চ্যাটার্জি?”

“হ্যাঁ। আমিই আপনাকে ফোন করেছিলুম।”

“এইমাত্র যিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন, তিনি কে?”

“আমার স্ত্রী। বলতে গেলে উল্টো দিকের বাড়িতেই থাকি আমরা। টেলিফোনেই তো সে-কথা আপনাকে বলেছি।”

গঙ্গাধর সামন্ত ডাক্তার চাকলাদারের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন, তারপর তাঁর গলায়-ঝোলানো স্টেথোস্কোপ আর ডান-হাতে ধরা ব্লাড প্রেশার মাপবার যন্ত্রটার উপর চোখ বুলিয়ে বললেন, “আপনি তো দেখছি ডাক্তার। এদের ফ্যামিলি-ফিজিশিয়ান?”

“আজ্ঞে না। আমি ডাক্তার ঠিকই, তবে প্র্যাকটিস করি না। আমি প্যাথলজিস্ট, কাছেই আমার ল্যাবরেটারি রয়েছে। সব রকমের পরীক্ষা হয় সেখানে।”

“আপনার নামটা জানতে পারি?”

“বিলক্ষণ। হরষিত চাকলাদার। এ-পাড়ার সবাই আমাকে চেনেন। সাধারণত কারও বাড়িতে আমি রোগী দেখতে যাই না। তবে পাড়ায় থাকি যখন, এ-সব ক্ষেত্রে আসতেই হয়।”

“যিনি মারা গেছেন, তাঁকে পরীক্ষা করে তারপর উপরে গিয়েছিলেন?”

ডাক্তার চাকলাদার অবাক হয়ে গঙ্গাধর সামন্তের দিকে তাকালেন, তারপর বললেন, “যিনি মারা গেছেন, তাঁকে আবার পরীক্ষা করব কী। পরীক্ষা করবার কথা উঠছেই বা কেন? আমি তো ময়না-তদন্ত করি না। যিনি বেঁচে আছেন তাঁকেই আমি পরীক্ষা করে এলুম।”

“অর্থাৎ?”

“অর্থাৎ আমি বাড়িওয়ালা সদানন্দ বসুকে দেখতে গিয়েছিলুম। এখন আমি যেতে পারি?”

“একটু থেকে যান।” গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “না না, আমি জোর করছি না, অনুরোধ করছি মাত্র। আমাদের পুলিশ-ডিপার্টমেন্টের ডাক্তার সুরেশ গুপ্তকে খবর দিয়েছি, তিনি এক্ষুনি এসে পড়বেন। এলেই আপনার ছুটি। অবশ্য যা দুর্গন্ধ এখানে, কাউকে থাকতে বলতেও সঙ্কোচ হয়।”

দুর্গন্ধের কারণ আর কিছুই নয়, মাছের ঘরের দরজা খুলে বিষ্টুচরণ ইতিমধ্যে থানা অফিসার আর আমাদের জন্যে খান তিন-চার টিনের চেয়ার বার করে এনেছিল। গঙ্গাধর সামন্ত পকেট থেকে একখানা রুমাল বার করে গেঁফের উপরে সেটাকে ঠেসে ধরে বললেন, “ওরে বাবা, এ যে মারাত্মক গন্ধ মশাই। কীসের গন্ধ?”

আমি বললুম, “পচা মাছের। ও-ঘরটায় মাছ থাকে। যা গরম, কিছু মাছ নিশ্চয় পচেছে।”

“তা হলে ও-ঘরের দরজা খুললেন কেন?” বিষ্টুচরণের দিকে তাকিয়ে সামন্তমশাই বললেন, “শিগগির বন্ধ করুন। নইলে একজন তো মরেইছে, এবারে আমরাও মারা পড়ব।”

বিষ্টুচরণ তক্ষুনি দরজা বন্ধ করে দিল। গন্ধটা তবু ঝুলেই রইল, মিলিয়ে গেল না।

নাক থেকে রুমাল নামিয়ে গঙ্গাধর সামন্ত বললেন, “সদানন্দবাবুকে কেমন দেখলেন?”

চাকলাদার বললেন, “প্রেশারটা একটু বেড়ে গেছে, আর কোনও ট্রাব্‌ল নেই।”

“যিনি মারা গেছেন, তাঁর স্ত্রী আর শালা ছুটে এসে তো শুনলুম সদানন্দবাবুকেই সিঁড়ির কয়েক ধাপ উপরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন, তা-ই না?”

বিষ্টুচরণ বলল, “হ্যাঁ, স্যার।”

বাইরে রাস্তার উপরে একটা গাড়ি এসে থামার শব্দ হল।

সদর দরজায় যাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই কনস্টেবলটি ভিতরে এসে জিজ্ঞেস করল, “ইখানে কোই কিরোনবাবু আছেন?”

বললুম, “আমিই কিরণ চ্যাটার্জি। কী দরকার?”

কনস্টেবলটি উত্তর দেবার আগেই যে এসে সদর দরজায় দাঁড়াল, তাকে দেখে তো আমি অবাক। ভাদুড়িমশাই অবশ্য বলেছিলেন যে, নিজে না এলেও কাউকে তিনি পাঠিয়ে দিচ্ছেন, আর যে-লোকটিকে পাঠাচ্ছেন তাকে আমি চিনতেও পারব, কিন্তু সে যে কৌশিক, তা আমি ভাবতেও পারিনি।

কৌশিককে আমি প্রথম দেখি বছর পনরো আগে, সেই যে-বারে আমরা মুকুন্দপুরের মনসামূর্তি উদ্ধার করতে নর্থ বেঙ্গল গিয়েছিলুম তখন। কৌশিক তখন তীর্থপতি ইনস্টিটিউশনে পড়ত, আর এখন একেবারে জবরদস্ত যুবাপুরুষ।

বললুম, “দাঁড়াও, দাঁড়াও, মিঃ সামন্তের সঙ্গে তোমার আলাপ করিয়ে দিই। মিঃ সামন্ত, আপনি চারুচন্দ্র ভাদুড়ির নাম নিশ্চয় শুনেছেন?”

“চারুচন্দ্র ভাদুড়ি…চারুচন্দ্র ভাদুড়ি….” নামটাকে দু’বার জিভের উপরে নাচিয়ে নিয়ে সামন্ত বললেন, “আপনি কি সি. সি. ভাদুড়ির কথা বলছেন? মানে এখন যিনি ব্যাঙ্গালোরে থাকেন?”

“আরে হ্যাঁ, মশাই।”

“ওরেব্বাবা,” সামন্ত বললেন, “তিনি তো স্বনামধন্য ইনভেস্টিগেটার। আমাদের লাইনে তাঁকে কে না চেনে! তা ইনি তাঁর কেউ হন নাকি?”

বললুম, “এ হল কৌশিক সান্যাল। তাঁর ভাগ্নে। আর কৌশিক, ইনি মিঃ গঙ্গাধর সমান্ত, আমাদের থানার ও. সি.।”

নমস্কার বিনিময়ের পরে সামন্ত বললেন, “তা মিঃ সান্যাল, আপনিও কি মামার লাইন ধরেছেন নাকি?”

কৌশিক হাসল। বলল, “এখনও ঠিকমতো ধরিনি, তবে চেষ্টায় আছি। কিরণমামা আজ সকালে মামাবাবুকে ফোন করেছিলেন। তা মামাবাবুর একটা কাজ পড়ে গেছে, তাই আসতে পারলেন না, আমাকে বললেন, তুই গিয়ে ব্যাপারটা একটু দেখে আয়।”

আমি বললুম, “গোয়েন্দা হিসেবে কৌশিকও কিন্তু এরই মধ্যে বেশ নাম করেছে।”

সামন্ত বললেন, “বটে? তা মিঃ ভাদুড়ি এখন কলকাতায়?”

“হ্যাঁ, একটা কাজে এসেছেন, সামনের হপ্তাটা থেকে যাবেন।

“ভাল, ভাল, খুব ভাল।” সামন্তমশাই হেসে বললেন, “ভাল করে সব দেখে যান। কাউকে যদি কিছু জিজ্ঞেস করতে হয় তো করুন। তারপর মিঃ ভাদুড়িকে গিয়ে বলুন যে, কী বুঝলেন। দরকার হলে, আমিও তাঁর পরামর্শ নিতে যাব। তবে দরকার হবে বলে মনে হয় না। এ তো যদ্দুর বুঝতে পারছি একেবারেই সিম্পল ব্যাপার। ওই যাকে ইংরেজিকে ‘ওপন অ্যান্ড শাট্ কেস্’’লা হয় তাই আর কি।”

বলেই ডাক্তার চাকলাদারের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন সামন্ত। বললেন, “কী, ঠিক বলিনি?”

চাকলাদার হকচকিয়ে বললেন, “কী ঠিক বলেননি? মানে আপনাব কথাটা ঠিক বুঝতে পারছি না।”

সামন্ত বললেন, “না-বুঝবার তো কিছু নেই। ইটস এ প্লেন অ্যান্ড সিম্পল কেস অভ মার্ডার। তা প্র্যাকটিস করুন আর না-ই করুন আপনি একজন ডাক্তার তো বটেন, খুনটা কান হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?”

চাকলাদার চুপ করে রইলেন। বুঝতে পারছিলুম যে, তিনি সাবধানী লোক, চটপট কোনও সিদ্ধান্ত করতে চাইছেন না। সামন্ত বললেন, “কী হল, কিছু বলুন।”

চাকলাদার বললেন, “দেখুন মশাই, এটা খুন কি না, তা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আনন্যাচারাল ডেথ অবশ্যই। তা পড়ে গিয়ে মাথা কেটে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে, আবার কেউ ভারী কিছু… এই ধরুন থান-ইট কি পাথর কি মশলা-বাটার নোড়ার মতো কিছু দিয়ে মারবার ফলে মাথা ফেটেছে, এমনটাও হওয়া সম্ভব। সত্যি বলতে কী, যদি শুনি যে, আগেই ভদ্রলোক হার্ট-ফেল করে মারা গিয়েছেন, তারপর পড়ে যাবার ফলে মাথা ফেটেছে, তো তাতেও আমি অবাক হব না। তেমন কেসও আমি দেখছি। তা এর মধ্যে কোনটা এক্ষেত্রে ঘটেছে, অর্থাৎ এটা অ্যাকসিডেন্ট না মার্ডার, নাকি ন্যাচারাল ডেথ ইন আনন্যাচারাল সারকামস্ট্যান্সেস, তা আমি কী করে বলব, তার জন্যে তো আপনাদের এক্সপার্টরাই রয়েছেন।”

সামন্ত বললেন, “অর্থাৎ আপনি কিছু কমিট করতে চাইছেন না, কেমন? তা না-ই করুন, অন্তত একটা কথা তো বলতে পারেন।”

“কী বলব?”

“ঘটনাটা কতক্ষণ আগে ঘটেছে? না না, মিনিট আর সেকেন্ড মিলিয়ে কাঁটায় কাঁটায় নির্ভুল সময় আপনাকে বলতে হবে না, তা আমাদের এক্সপার্টদের পক্ষেও বলা সম্ভব নয়, আপনি একটা আন্দাজের কথা বলুন।”

চাকলাদার এক পা এগিয়ে গিয়ে ডেডবডির পাশে উবু হয়ে বসলেন। ভেবেছিলুম, নকুলের মৃতদেহের উপরে হাত রেখে তিনি তার উত্তাপ পরীক্ষা করবেন। দেখে নেবেন যে, শরীর কতটা ঠান্ডা হয়ে এসেছে। এইভাবেও অনেককে মৃত্যুর সময়টা আন্দাজ করতে দেখেছি। চাকলাদার কিন্তু সে-সব কিছু করলেন না। মৃতদেহের মাথার পাশে মেঝের উপরে যে চাপ-বাঁধা রক্ত দেখা যাচ্ছিল, সেই রক্তের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে রইলেন তিনি। পকেট থেকে একটা ম্যাচবক্স বার করলেন। তার থেকে একটা কাঠি বার করে নিয়ে চাপ-বাঁধা রক্তের একপাশে সেটাকে চেপে ধরলেন একটু। কী যেন ভাবলেন। তারপর দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, “আমার ধারণা, খুব বেশিক্ষণ আগের ব্যাপার এটা নয়।”

সামন্ত বললেন, “অ্যাবসলিউটলি কারেক্ট। এবারে ওই লাঠিটা দেখুন।”

প্রথম যখন এই বাড়িতে এসে ঢুকি, লাঠিটা আমি তখনই দেখেছিলুম। সদানন্দবাবুর লাঠি। যেমন সদানন্দবাবুর টর্চ, তেমনি তাঁর লাঠিটাও সিঁড়ির নীচে পড়ে আছে। দুটো বস্তুতেই অল্পবিস্তর রক্ত লেগে রয়েছে দেখলুম।

সামন্ত বললেন, “দেখেছেন?”

চাকলাদার বললেন, “লাঠির আর কী দেখব?”

“আরে মশাই, আমি কি আর লাঠি দেখতে বলছি? আসলে দেখতে বলছি ওর মাথায় বসানো লোহার বলটাকে।”

আমি বললুম, “মনে হচ্ছে, আপনি কিছু বলতে চান।”

সামন্তমশাই হাসলেন। বললেন, “চাই-ই তো। ব্রহ্মাস্ত্রটি কার?”

“লাঠিটার কথা বলছেন তো? ওটা আমার।”

গলা শুনেই চমকে গিয়েছিলুম। তাকিয়ে দেখলুম দেড়তলা-বরাবর একটা বাঁক নিয়ে সিঁড়িটা যেখানে দোতলায় উঠে গিয়েছে, সদানন্দবাবু সেই ল্যান্ডিংয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *