(৬)
রাইটার্সে একটা ফোন করবার দরকার ছিল। সংক্ষেপে যাকে পি. এ. বি. এক্স. বলে, ডায়াল ঘুরিয়ে সেই প্রাইভেট অটোমেটিক ব্রাঞ্চ এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই সেখানকার মেয়েটি বলল, “একটু আগেই এক ভদ্রলোক আপনাকে চাইছিলেন। আপনি নেই শুনে বললেন যে, খানিক বাদে আবার ফোন করবেন।”
“নাম বলেননি?”
“আমি জিজ্ঞেস করেছিলুম, উনি কিছু বললেন না। শুধু বললেন যে, উনি বাইরে থেকে এসেছেন, আপনাকে এই মেসেজটা দিয়ে দিলেই হবে।”
কিছুই বুঝতে পারলুম না। বাসন্তীর দাদা দিল্লিতে থাকেন, কিন্তু তাঁর তো এখন কলকাতায় আসবার কথা নয়, এলেও নিশ্চয় অফিসে না করে বাড়িতেই ফোন করতেন। ছেলে থাকে এলাহাবাদে। সে-ই কি হঠাৎ তার অফিসের কাজে কলকাতায় এল? অফিসে কোনও জরুরি কনফারেন্স আছে হয়তো, তাই স্টেশন থেকে একেবারে সরাসরি অফিসে চলে গিয়ে সেখান থেকে ফোন করেছে। কিন্তু সে-ই বা অফিসে ফোন করবে কেন?
এক্সচেঞ্জের মেয়েটিকে বললুম, “ঠিক আছে, এখন রাইটার্সকে একবার ডেকে দাও তো।”
বাইটার্সের সঙ্গে কথা শেষ করে সদ্য ডেস্কের কাজে হাত দিয়েছি, এমন সময় টেলিফোন বেজে উঠল।
“কেমন আছেন মশাই?”
এ যে কার গলা, সে আর বলে দিতে হয় না। হাজার লোকের গলার ভিতর থেকেও এই গলাটিকে একেবারে আলাদা করে চিনে নেওয়া যায়। চারু ভাদুড়ি।
বললুম, “কী কান্ড! কোথেকে ফোন করছেন?”
“কলকাতায় এসে বরাবর যেখানে উঠি সেখান থেকে।”
“তার মানে মালতীদের বাড়ি থেকে, তাই না?”
“বিলক্ষণ।”
“কিন্তু এখন তো আপনার কলকাতায় আসবার কথা ছিল না। গত হপ্তাতেই তো আপনার চিঠি পেয়েছ। তাতে লিখেছিলেন যে, পুজোর আগে কলকাতায় আসার কোনও প্ল্যান নেই।
“প্ল্যান সত্যিই ছিল না।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু হঠাৎ একটা কাজ পড়ে গেল। এমন কাজ যে, না এলেই নয়।
“কবে এসেছেন?”
“তা চার-পাঁচ দিন হল। …দাঁড়ান, দাঁড়ান, হিসেব করে বলছি। আজ তো বুধবার। আমি এসেছি গত শুক্রবার। তা শুক্র, শনি, রবি সোম, মঙ্গল—পাঁচ রাত্তিরই তো হল, মোট পাঁচ রাত্তির এখানে কাটিয়েছি।”
“কাজ মিটেছে?”
“পনরো আনা মিটেছে। আজ বিকেলে একজনের আসবার কথা আছে এখানে। সে এলে বাকি এক আনাও মিটে যায়। তা শুধু কাজ মিটলেই তো চলে না, তার একটা রিপোর্ট লিখে ক্লায়েন্টের হাতে দিতে হয়। কাল দুপুরে রিপোর্টটা লিখে ফেলব। ক্লায়েন্ট আসবে রাত্তিরে। রিপোর্টটা তার হাতে ধরিয়ে দিলেই আমার ছুটি।”
“তার মানে পরশুই ব্যাঙ্গালোরে ফিরবেন?”
“তা-ই তো ভেবেছিলুম। কিন্তু মালতী আটকে দিয়েছে। অরুণের শরীরটা বিশেষ ভাল যাচ্ছে না। তাই ব্যাঙ্গালোরে ফোন কবে বলে দিলুম যে, সামনের হপ্তাটাও আমি কলকাতাতেই থাকব।”
“অরুণের কী অসুখ?”
“সেই একই অসুখ। ওর যে একটা মাইল্ড স্ট্রোক হয়ে গিয়েছিল, তা তো আপনি জানেনই। তার পর থেকেই খুব সাবধানে থাকতে হয়। তা মালতী ওকে যথাসাধ্য সাবধানে রাখেও। তবু যে কেন প্রেশারটা এত ফ্লাকচুয়েট করে, বুঝতে পারি না। দিন কয়েক হল, ওই প্রেশারই একটু ট্রাব্ল দিচ্ছে। ….না না, চিন্তা করবেন না। মাঝে-মাঝে তো এ-রকম ওর হয়ই, আবার ঠিকও হয়ে যায়।”
“কবে যাব আপনার কাছে?”
“কাল পর্যন্ত ব্যস্ত আছি। পরশু থেকে একদম ফ্রি।”
“শুক্রবার আর শনিবার, দুটো দিন একটু ঝঞ্ঝাটে থাকব। অর্থাৎ পরও আর তরশু। তারপরেই তো রোব্বার। বলেন তো রোব্বার বিকেলেই যেতে পারি। ফোনে অবশ্য রোজই খবর নেব।”
“ঠিক আছে।” ভাদুড়িমশাই বললেন। “তা হলে রোব্বারই আসুন। তবে বিকেলে নয়, সকালে। …..এই নিন, মালতীর সঙ্গে কথা বলুন।”
“সকালেই চলে আসুন, কিরণদা।” ফোনে মালতীর গলা ভেসে এল। “দুপুরে এখানেই খাবেন বিকেলের আগে আপনাকে ছাড়া হচ্ছে না। পারুল আর বউদিকেও নিয়ে আসবেন কিন্তু।”
“আবার খাওয়া-দাওয়ার হাঙ্গামা বাধাচ্ছ কেন মালতী? অরুণের শরীর তো শুনলুম ভাল যাচ্ছে না। আর তা ছাড়া তোমার বউদি যে যেতে পারবে, এমন আশাও নেই। পারুলের জন্যেই পারবে না। সামনের মাসেই পারুলের বি.এ. ফাইনাল। সারা দিন পড়ছে। অর্থাৎ কিনা মরণকালে হরিনামের ব্যাগার। তা বাসন্তীও গত দুমাস ধরে পাড়া ছেড়ে কোথাও যায়নি। বলছে, মেয়ের পরীক্ষা যন্দিন না শেষ হয়, কোথাও যাবেও না।”
“ঠিক আছে, তা হলে আপনি একাই আসুন। অরুণকে নিয়ে ভাববেন না। আজ প্রেশার নেওয়া হয়েছিল, আগের চেয়ে অনেক ভাল আছে।”
ফোন নামিয়ে রেখে কাজে বসে গেলুম।
কাজকর্ম চুকিয়ে অফিস থেকে বাড়িতে ফিরতে-ফিরতে রাত দশটা। বাসন্তী বলল, “চটপট জামা কাপড় পালটে হাত-মুখ ধুয়ে নাও, সেই ফাঁকে আমি খাবারগুলো গরম করে ফেলি। দেরি কোরো না।”
বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখি, খাবার টেবিলে বাসন্তী সব সাজিয়ে ফেলছে। পারুন চটপট নাকে-মুখে দুটি গুঁজে উঠে পড়ল। বলল, “তোমরা ধীরেসুস্থে খাও, আমি গিয়ে পড়তে বসছি। আজ দুটো পর্যন্ত পড়ব।”
বাসন্তী বলল, “দেখিস, পরীক্ষার আগে আবার একটা অসুখ বাধিয়ে বসিস না। চারদিকে বড্ড জ্বরজারি হচ্ছে।”
পারুল গিয়ে পড়তে বসে গেল। বাসন্তীকে বললুম, “বাবা রে বাবা, ভাল করে খেল না পর্যন্ত, মেয়েটা তো দেখছি পড়তে-পড়তেই পাগল হয়ে যাবার জোগাড়।”
বাস্তী বলল, “বা রে, না-পড়লে চলবে কেন? পার্ট ওয়ানে অল্পের জন্যে ফার্স্ট ক্লাস পায়নি, ফাইনালে সেটা মেটাতে হবে না? ওহো একটা কথা তোমাকে তো বলা-ই হয়নি, ও-বাড়ির খবর শুনেছ?”
“কী করে শুনব? আমি তো এইমাত্র বাড়ি ফিরলুম। কেন, আবার কী হয়েছে?”
বাসন্তী হেসে বলল, “ভাড়াটেদের জল আর লাইট আজ বিকেল থেকে আবার চালু হয়ে গেছে।”
বললুম, “তা-ই নাকি? সদানন্দবাবু সুবুদ্ধি হয়েছে দেখছি।”
বাসন্তী বলল, “ওঁর আবার সুবুদ্ধি কী হল? যা-কিছু হয়েছে সবই কুসুমদির জন্যে। তুমি অফিসে চলে যাবার পরে ও বাড়িতে একবার গিয়েছিলুম তো, কুসুমদিই ওঁদের কাজের মেয়েটাকে দিয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তা গিয়ে দেখলুম কর্তা-গিন্নিতে একেবারে ধুন্ধুমার কাণ্ড হচ্ছে। কুসুমদি আমার সামনেই তাঁর কর্তাটিকে বলে দিলেন যে, আজ বিকেলের মধ্যেই ভাড়াটেরা যদি জল আর লাইট না পায় তো বাড়ি ছেড়ে তিনি যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাবেন। তা সদানন্দবাবুও দেখলুম, গায়ে একটা পাঞ্জাবি চাপিয়ে সুড়সুড় করে অমনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন। কুসুমদির অমনি অন্য চেহারা। একগাল হেসে আমাকে বললেন, ‘ভয় পাসনি রে বাসন্তী, মিস্ত্রি ডাকতে গেল, আমাকে ভীষণ ভয় পায় তো!’ বোঝো ব্যাপার!”
আমি বললুম, “বটে? সদানন্দবাবু যে এত স্ত্রৈণ তা তো জানতুম না।”
বাসন্তী মুখ টিপে হেসে বলল, “এতে এত অবাক হচ্ছ কেন? অল্প বয়েসে যে যা-ই করুক, বুড়ো বয়েসে তো বউ ছাড়া আর গতি থাকে না, তখন আর স্ত্রৈণ না-হয়ে উপায় কী।”
শুনে প্রায় বিষম খেতে যাচ্ছিলুম, অনেক কষ্টে সেটা সামলে নিয়ে বললুম, “তা বটে।”
“এত করেও কিন্তু কিছু হল না। কুসুমদির যেটা সমস্যা, সেটা রয়েই গেল।”
“তার মানে?”
বাসন্তী বলল, “তাও তোমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে? সমস্যাটা যে কী, তা তুমি এখনও টের পাওনি?”
“না পাইনি। একটু বুঝিয়ে বলবে?”
“এত তো বুদ্ধির বড়াই করো, অথচ আসল ব্যাপারটাই তুমি ধরতে পারোনি। কুসুমদির সমস্যা ওই কমলিকে নিয়ে। বাদবাকি ভাড়াটেদের কী হল না হল তা নিয়ে ওঁর কিছু মাথাব্যথা নেই, কিন্তু ‘ কমলির যে অসুবিধে হচ্ছে, এইটে উনি সহ্য করতে পারছেন না।”
বললাম, “এ তো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ভদ্রমহিলার ছেলেপুলে হয়নি, তাই কমলির উপরে ওঁর যে একটা টান পড়ে যাবে, সে আর বিচিত্র কী। মেয়েটা তো শুনলুম সারাদিন ওঁরই কাছে থাকে।” বাসন্তী বলল, “আগে থাকত, কাল রাত্তির থেকে আর থাকছে না। কাল বিকেলের মধ্যেই তো জল আর লাইট আবার চালু হয়ে গেল, তার পরেও একবার সন্ধে-নাগাদ কুসুমদির কাছে গিয়েছিলুম। গিয়ে দেখলুম মুখ ভার করে বসে আছেন। কী ব্যাপার? না কমলিকে উপরে নিয়ে আসবার জন্যে ওঁদের কাজের মেয়েটিকে উনি একতলায় নকুলের বউয়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তা নকুলের বউ তাকে খুব মুখঝামটা দিয়েছে। বলেছে, ‘থাক থাক, আর অত সোহাগ দেখাতে হবে না!’ কমলিকেও উপরে নিয়ে আসতে দেয়নি।”
বললুম, “তাই তো, সমস্যাটা দেখছি ক্রমেই ঘোরালো হয়ে উঠছে।”
বাসন্তী বলল, “পরকে আপন করার এই হচ্ছে বিপদ। ওই যে বলে না পরের সোনা কানে দিতে নেই, ঠিকই বলে। কখন হ্যাঁচকা টান মারবে, তার ঠিক কী। তখন সোনাও যাবে কানও যাবে।”
বললুম, “কমলির উপরে মিসেস বসুর এত মায়া না পড়লেই ভাল ছিল। ভদ্রমহিলাকে কষ্ট পেতে হবে।”
খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। মুখ ধুয়ে শোবার ঘরে এসে একটা সিগারেট ধরালুম। মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল।
রাত্তিরে একবার ঘন্টাখানেকের জন্যে লোডশেডিং হয়েছিল। বাড়িতে একটা ইনভার্টার আছে বটে, কিন্তু সেটা পারুলের ঘরে থাকে। ফ্যান বন্ধ। ভাল ঘুম হল না। হাতপাখা চালাতে চালাতে শেষ রাত্তিরে ঘুমিয়ে পড়েছিলুম, ঘুম ভাঙল বেলা আটটায়। তাও ভাঙত না, যদি না বাসন্তী এসে ঠেলা মেরে আমাকে তুলে দিত।
চোখ খুলে বললুম, “কী ব্যাপার?”
“আর কত ঘুমোবে, উঠে পড়ো। সদানন্দবাবু সেই কখন থেকে বসে আছেন।”
“একটু বসিয়ে রাখো। বলো যে, হাত-মুখ ধুয়েই আমি বৈঠকখানায় যাচ্ছি। ওঁকে চা দিয়েছ তো?”
“দিয়েছি। এখন ওঠো তো।”
হাত-মুখ ধুয়ে চায়ের পেয়ালা হাতে নিয়ে বৈঠকখানা ঘরে ঢুকলুম। ঢুকেই বুঝলুম, অবস্থা সুবিধের নয়। সদানন্দবাবুর মুখ একেবারে অন্ধকার।
বললুম, “কী ব্যাপার মশাই, আবার কিছু হল নাকি?”
“আর বলবেন না!” সদানন্দবাবু বললেন, “আমি এবারে নির্ঘাত পাগল হয়ে যাব।”
“কেন পাগল হবার মতো কী ঘটল?”
“জল আর লাইট যে কাল বিকেলেই ফের চালু করে দিয়েছি, সেটা শুনেছেন তো?”
“শুনেছি। সে তো ভালই করেছেন।”
“কিন্তু ভালটা আমি কার জন্যে করলুম? এই বজ্জাতগুলো কি ভাল ব্যবহার পাবার যোগ্য? “
“এ-কথা বলছেন কেন?”
সদানন্দবাবু বললেন, “তা হলে শুনুন, যার কষ্টের কথা ভেবে আমার গিন্নির ঘুম হচ্ছিল না, সেই বাচ্চা মেয়েটাকে আজ সকালেও ওরা উপরে আসতে দেয়নি। কমলি আসতে চায়, কিন্তু ওরা আসতে দেবে না। কমলি তাই কাল থেকে সমানে কাঁদছে। তা সে কাঁদতেই পারে। ও যে এত বড়টা হয়েছে সে তো বলতে গেলে আমার গিন্নির হাতেই। সারাটা দিন তো তিনিই ওকে দেখতেন। রাত্তিরে গিয়ে মায়ের কাছে শুত; বাস, একতলার সঙ্গে ওইটুকুই ওর সম্পর্ক। সেই মেয়েকে ওরা কিনা উপরে আসতে দেবে না! ফলে একতলায় যেমন কমলি একটানা কেঁদে যাচ্ছে, তেমনি দোতলায় কাঁদছেন আমার গিন্নি। কাল থেকে সমানে কাঁদছেন। আমার হয়েছে মহা জ্বালা। কী যে করি, কিছুই বুঝতে পারছি না। একটা-কিছু পরামর্শ দিন তো।”
এ-সব ক্ষেত্রে কী আর পরামর্শ দেব। একবার ভাবলুম বলেই ফেলি যে, মাদার টেরিজার কাছ থেকে একটা বাচ্চাকে নিয়ে এসে আপনার গিন্নির কোলে ফেলে দিন। তাতে একটা অনাথ শিশুও যেমন বেঁচে যাবে, তেমনি বাঁচবেন আপনার গিন্নিও। কিন্তু সাত-পাঁচ ভেবে আর সে-কথা বললুম না। চুপ করে রইলুম।
সদানন্দবাবু বললেন, “তার উপরে আবার কাল রাত একটা-দেড়টার সময়ে বাড়ি ফিরে নকুল যে কান্ডটা করল, সে আর কহতব্য নয়। তখন লোডশেডিং চলছিল, কিন্তু হারামজাদা সে-কথা বুঝল না, ভাবল যে, আমিই বোধহয় ফের লাইট কেটে দিয়েছি। তাই প্রথমেই তো আমার চোদ্দোপুরুষ উদ্ধার করে গালাগাল করতে লাগল, তারপর শুরু হল ঠেঙানি। শুধু যে বউকে ধরে ঠেঙিয়েছে তা নয়, ব্যাটা একেবারে বেহেড মাতাল, দুধের বাচ্চাটাকেও ছাড়েনি, তাকেও বোধহয় চড়চাপড় দিয়েছে গোটাকয়। মেয়েটা যেমন ডাক ছেড়ে কাঁদছিল, তাতে তো মশাই সেইরকমই মনে হল।”
একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন সদানন্দবাবু। তারপর চেয়ার ছেড়ে উঠতে-উঠতে বললেন, “আপনি কিছু বলবেন না, কেমন?”
বললুম, “কী যে বলব, কিছুই তো বুঝতে পারছি না।”
“বেশ, আপনি তা হলে চুপ করেই থাকুন। কিন্তু এই আমি বলে গেলুম যে, আমিও ছেড়ে দেবার পাত্র নই। পাড়ার সক্কলকে আমি বলেছি যে, যদি দরকার হয় তো গুন্ডা লাগিয়ে আমি ওকে তাড়াব আর গুন্ডারই বা দরকার কী, এই যে লাঠিটা দেখছেন না, এটাই যথেষ্ট, এইটে দিয়েই ওর মাথা ফাটিয়ে ছাড়ব আমি।”
সদানন্দবাবু বেরিয়ে গেলেন।
এ হল বৃহস্পতিবার সকালের কথা। কাল ছিল শুক্রবার। কালও নকুলচন্দ্র নাকি অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছিল। আর আজ শনিবার ভোরবেলায় একটা বিকট আর্তনাদ শুনে পাড়ার লোকেরা ছুটে গিয়ে যা দেখল, তাতে তাদের রক্ত একেবারে হিম হয়ে যাবার জোগাড়। সে এক ভয়াবহ দৃশ্য। পাঁচ-নম্বর বাড়ির একতলার সিঁড়ির ঠিক সামনেই তার নিষ্প্রাণ শরীরটা লুটিয়ে পড়ে আছে।
