শ্যামনিবাস-রহস্য (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শেয়ার করুনঃ

(১২)

ভাদুড়িমশাই এবারে কলকাতায় এসেছেন তা প্রায় বছর দুই বাদে। দেখে ভাল লাগল যে, তাঁর শরীর ইতিমধ্যে একটুও টসকায়নি। অরুণ সান্যালও দেখলুম ভালই আছেন। ভাদুড়িমশাই মাঝখানে একবার টেলিফোন ধরবার জন্যে ঘর থেকে উঠে গিয়েছিলেন। তখন মালতীকে জিজ্ঞেস করলুম, “ব্যাপার কী বলো তো? অরুণের শুনেছিলুম শরীর বিশেষ ভাল নয়, কিন্তু কই, তোমার কর্তাকে দেখে তো তা মনে হচ্ছে না।”

উত্তরটা অরুণই দিলেন। বললেন, “বুঝলেন না কিরণদা, ওই কথা বলে দাদাকে আটকে রাখা হয়েছে আর কি। নইলে তো কাজ মিটবার সঙ্গে-সঙ্গেই উনি চলে যাচ্ছিলেন।”

মালতী মুখ টিপে হাসল। তারপর বলল, “দাদা যে এই বয়সেও এত খাটাখাটি করছে কেন, বুঝতে পারছি না। একটামাত্র মেয়ে, তা সে তো তার স্বামীর সঙ্গে বিদেশে থাকে। বউদিও সেই কবেই স্বর্গে গেছেন। তা হলে আর এত খাটাখাটি করছে কার জন্যে? কোনও মানে হয়? এত বলি যে, ব্যাঙ্গালোরের অফিসটা গুটিয়ে ফেলে এবারে কলকাতায় ফিরে এসে একটু থিতু হয়ে বোসো, তা সে-কথা শুনছে কে। আপনি একটু বুঝিয়ে বললেও তো পারেন।”

কৌশিক বলল, “কালই তো কিরণমামাকে আমি বলছিলুম যে, মামাবাবুর এবারে বড্ড ধকল গেল। এই বয়সে এত দৌড়ঝাঁপ করা ওঁর ঠিক হচ্ছে না।”

বললুম, “সে তো আমি যখনই দেখা হয়, তখনই বলি। এও বলেছি যে, আপনার এখন আর এত ছোটাছুটি করা ঠিক নয়। আপনার ভূমিকা হওয়া উচিত কনসালট্যান্টের। লোকে আপনার কাছে পরামর্শ নিতে আসবে, আপনি একটা ফি নিয়ে বলে দেবেন যে, কোন পথে কীভাবে তদন্তটা হওয়া উচিত। ব্যাস, ঝামেলা মিটে গেল। তা উনি সে-কথায় কানই দেন না। যত বলি, তত হাসেন। আসলে ব্যাপারটা যে কী তা তো তোমাদের না-বুঝবার কথা নয়। মানুষটা আসলে কাজ- পাগলা, সবকিছু নিজের হাতে করতে ভালবাসেন।”

ভাদুড়িমশাই ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, “সব শুনেছি, সব শুনে ফেলেছি।”

“কী শুনলেন?”

“ওই আমাকে নিয়ে যে-সব কথা হচ্ছিল। ঠিক আছে, যা চাইছেন তা-ই হবে, অন্তত আপনাদের এই পীতাম্বর চৌধুরি লেনের কেসটাতে আমি নিজের হাতে কিছু করব না। করবার অবশ্য দরকারও নেই, কৌশিকই তো রয়েছে। আমি স্রেফ পরামর্শ দেব। এতদিন তো নিজের হাতে সব করেছি। এবারে দেখা যাক কনস্যালট্যান্ট হয়ে কদ্দুর কী করা যায়। তবে হ্যাঁ, জায়গাটা কিন্তু স্বচক্ষে একবার দেখব।”

“আজই বিকেলে চলুন।”

“আজ যাব না।”

“কেন, আবার কী অসুবিধে ঘটল? বলেন, তো আমি ফোন করে গঙ্গাধর সামন্তকে একটা খবর দিয়ে রাখি। হাতে কোন জরুরি কাজ না-থাকলে বিকেল নাগাদ তিনিও সেখানে হাজির থাকবেন।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “অসুবিধে ওই গঙ্গাধর সামন্তকে নিয়েই। আজ বিকেলে সে তো ওখানে যেতে পারবে না। অন্য জায়গায় তার একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে যে!”

“কোথায়?”

ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “বুঝতে পারছেন না?”

কৌশিক বলল, “অত হেঁয়ালি কোরো না মামা।বু। বলেই দাও?”

মালতী বলল, “আমিই বলে দিচ্ছি কিরণদা, তোমাদের ওই থানা-অফিসারটিকে আজ বিকেলে আমাদের এখানে চা খেতে বলা হয়েছে। কিন্তু আন নয়, এবারে তোমরা খেয়ে নাও। তবে এখুনি বলে দিচ্ছি, খাবার টেবিলে বসে এ-সব খুন-জখম নিয়ে কিন্তু একটা কথাও বলা চলবে না। এ-সব কথা পরে হবে।”

তা-ই হল। কলকাতায় এখন চ্যাপলিন-উৎসব চলছে। তারই সূত্রে মঁসিয়ে ভের্দুর প্রসঙ্গটা একবার উঠছিল বটে, কিন্তু কৌশিক যে-ই না ভাদুড়িমশাইকে বলতে শুরু করেছে, ‘আচ্ছা মামাবাবু, পাথরের সঙ্গে একটা দড়ি বেঁধে আর দড়ির মাথায় একটা ফাঁস লাগিয়ে ভদ্রলোক ওই যেখানে তাঁর… মানে কী বলব… তাঁর নতুন বউয়ের গলায় সেটা…’ মালতী অমনি কটমট করে কৌশিকের দিকে তাকিয়ে বলল, “থাক, থাক, এখন আর ও-সব কথার দরকার নেই, যথেষ্ট হয়েছে।”

কৌশিক চুপ করে গেল। অরুণ একবার হাসিমুখে বলেছিলেন, “কেন, খুনের কথা বললে কী হয়? উইল দ্যাট স্পল ইয়োর অ্যাপিটাইট?” তাতে মালতী তাঁকেও এমন ধমক কষাল যে, অরুণ আর তারপরে একবারও মুখ খুলবার সাহস পেলেন না।

খাওয়া-দাওয়ার পরেই যে পীতাম্বর চৌধুরি লেনের প্রসঙ্গটা উঠল তাও নয়। ভাদুড়িমশাইয়ের ঘরে ঢুকে দুজনেই গড়িয়ে নিলুম খানিকক্ষণ। গড়ানো মানে ঘুম নয়, শুয়ে শুয়ে ঘন্টা দেড়েক হরেক বিষয়ে গল্প চলল। তিনটে নাগাদ চা নিয়ে এল মালতী। চা খেয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “সামন্তকে সাড়ে-চারটেয় আসতে বলেছি, নিজেদের মধ্যে কথাবাতাটা তার আগেই সেরে নেওয়া যাক।” তারপর মালতীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “হ্যাঁ রে, কৌশিক বাড়িতে আছে তো?”

মালতী বলল, “কোথায় আর যাবে, শুয়ে শুয়ে রাজ্যের ম্যাগাজিনের পাতা ওলটাচ্ছে।”

“তা হলে ওকে একবার এ-ঘরে পাঠিয়ে দে।”

কাপ-প্লেট তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেল মালতী। তার মিনিট খানেক বাদেই কৌশিক এসে ঢুকল। ভাদুড়িমশাই বললেন, “হ্যাঁ রে কৌশিক, ব্যাকগ্রাউন্ডটা তো মোটামুটি বুঝতে পেরেছি; তুই ওখানে যাবার পর যা-যা ঘটেছে, তারও একটা রিপোর্ট তোর কাছে কাল শোনা গেল। এখন বল তো সব্বাইকে বাদ দিয়ে একা ওই সদানন্দের উপরেই সামন্তের সন্দেহটা এ-ভাবে পড়ছে কেন?”

কৌশিক বলল, “ওর সন্দেহের কারণ আপাতত দুটি। প্রথমত, যে ভাড়াটেকে তুলে দেবার জন্যে বাড়িওয়ালা নানানভাবে চেষ্টা করছে, আর সেই চেষ্টার কথাটা বলেও বেড়াচ্ছে সবাইকে, তার উপরে আবার জল আর লাইটের লাইন কেটে দেবার মতো দু-দুটো ক্রিমিন্যাল অফেন্স করতেও ছাড়েনি, সেই ভাড়াটে যদি হঠাৎ এইভাবে বাড়ির মধ্যেই মারা পড়ে, তো বাড়িওয়ালাই যে তাকে মেরেছে, এমন সন্দেহ হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। যেটাকে খুন-খারাবির ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে, পুলিশ সেখানে মোটিভের সন্ধান করবেই। তা সদানন্দবাবুর ক্ষেত্রে যে সেটা ছিল, সে তো আর অস্বীকার করা চলে না।”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “এটা তো প্রথম কারণ। দ্বিতীয় কারণটা কী?”

“সেটাও তুমি আন্দাজ করেছ নিশ্চয়। সামন্তর সন্দেহের প্রথম কারণ যদি হয় মোটিভ তো দ্বিতীয় কারণ সুযোগ। খুন করবার একটা সুযোগ চাই তো, তা সদানন্দবাবুর সেটা ভালই ছিল।”

“মোটিভ আর সুযোগ।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “খুনের একটা মোটিভ চাই, একটা সুযোগও চাই। ঠিক কথা। কিন্তু ও-দুটো বস্তু কি শুধু সদানন্দেরই ছিল? আর কারও ছিল না?”

কৌশিক বলল, “থাকতে পারে, না-ও থাকতে পারে। তবে সদানন্দবাবুর যে দুটোই ছিল সেটা মিথ্যে নয়। তার উপরে আবার ওই যে ওখানে লোহার বল লাগানো লাঠিটা পাওয়া গেল, সামন্তের সন্দেহ তার ফলে আরও জোরদার হয়েছে।”

“অর্থাৎ একেবারে ওয়ান-ট্র্যাক মাইন্ডের ব্যাপার। কিন্তু চোখ তো আর একটা নয়। তা হলে কথামালার সেই একচক্ষু, হরিণের মতো শুধু একটা দিকেই দেখছে কেন?”

কৌশিক বলল, “কী জানি। লাঠিটা অবশ্য দাঁড়াচ্ছে না।”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “সে তো বুঝলুম। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা। হ্যাঁ রে কৌশিক, তুই তো আজ সকালে আমার নাম করে টেলিফোনে সামন্তর সঙ্গে কথা বললি। জেরায় কে কী বলেছে, সেটা বোঝা গেল?”

“সামন্ত কিছু বললে তবে তো বুঝব। আমাকে তো কিছু জানাতেই চায় না। যা-ই জানতে চাই উত্তরে শুধু বলে যে, বিকেলে তো যাচ্ছিই, তখন সিসিবিকে সব বলা যাবে।”

“ঠিক আছে।”

ভাদুড়িমশাই একটা সিগারেট ধরালেন।

আমি বললুম, “সিগারেটটা এখনও ছাড়তে পারলেন না?”

“আপনি ছেড়েছেন?”

“একেবারে যে ছেড়েছি, তা বলতে পারব না। তবে কমিয়েছি।”

“আমিও গোটা চার-পাঁচের বেশি খাই না।”

কৌশিক বলল, “আমি তা হলে নিজের ঘরে যাই মামাবাবু?”

ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “সিগারেটের কথা শুনেই উঠে পড়বার ইচ্ছে হল বুঝি? যা তা হলে, খেয়ে আয়। তবে বেশি দেরি করিস না।”

কৌশিক রেগে গিয়ে বলল, “কী যে বলো! ওই সব ছাইভষ্ম আমি খাই নাকি? ওর চেয়ে একটা রসগোল্লা খাওয়া ভাল।”

“রসগোল্লাও একটা-দুটোর বেশি খাস না। জানিস তো সর্বমত্যন্তং গর্হিতম্। কোনও কিছুরই অতিশয্য ভাল নয়। যেমন অন্য-সব ব্যাপার তেমনি খাওয়ার ব্যাপারেও এটা একেবারে খাঁটি কথা। যা-ই হোক, সিগারেট খাওয়ার তাড়া যখন নেই, তখন একটু বোস, তোর সামনেই কিরণবাবুকে দু-একটা কথা জিজ্ঞেস করি। সদানন্দবাবুর ব্যাপারে ওঁর মতামতও তোর শুনে রাখা ভাল।”

আমি বললুম, “কী জিজ্ঞেস করবেন করুন, আমি যা জানি সবই আপনাকে খোলাখুলি বলব।”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “দেখুন মশাই, নকুলচন্দ্র কীভাবে কখন মারা গেল, আর এটা যদি খুনের ব্যাপারই হয়, তা হলে কে-ই বা খুন করল তাকে, তার বিন্দুবিসর্গও আপনার জানবার কথা নয়। তার কারণ ঘটনাটা যখন ঘটে, তখন সেখানে আপনি ছিলেন না। সুতরাং ও-ব্যাপারে আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করে কোনও লাভ নেই, আর তা আমি করছিও না। আমি আপনাকে এমন প্রশ্ন করব, যার উত্তর দেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব।”

“বেশ তো, তা-ই করুন।”

“সদানন্দবাবুকে আপনি কতদিন ধরে চেনেন?”

“যতদিন ও পাড়ায় আছি, ততদিন ধরেই চিনি। তা ধরুন দশ বছর তো হলই।”

“লোকটিকে আপনার কেমন লাগে?”

“ভালই তো লাগে। গায়ে পড়ে একটু উপদেশ-টুপদেশ দেন ঠিকই, ‘এটা খাবেন না, ওটা করবেন, না’ বলেন, তা সেও তো আমাদের ভালর জন্যেই বলেন। না মশাই, লোকটি খারাপ নন, পরোপকারী সজ্জন সদালাপী মানুষ

“উনি কাউকে খুন করতে পারেন বলে আপনার মনে হয়?”

“সেইটে ভেবেই তো কূলকিনারা পাচ্ছি না। এটা ঠিকই যে, নকুলচন্দ্রকে উনি ভুলে দিতে চাইছিলেন। ওর জল আর লাইটের কানেকশন যে কেটে দিয়েছিলেন, সেটাও মিথ্যে নয়। তা ছাড়া, নকুলের ডেডবডি তো কাল সকালে সিঁড়ির নীচে পড়ে থাকতে দেখা গেল, তার মাত্র দুদিন আগে অর্থাৎ বিষ্যুতবার সকালে আমার বৈঠকখানা থেকে বেরিয়ে আসবার সময় উনি এমন কথাও বলেছিলেন যে, কিছুতেই যখন নকুলচন্দ্রকে তাড়ানো যাচ্ছে না, তখন দরকার হলে ওঁর ওই লোহার বল বসানো লাঠিটা দিয়েই উনি নকুলের মাথা ফাটিয়ে ছাড়বেন।”

“এটা আপনি গঙ্গাধর সামন্তকে বলেছেন?”

“না, এটা বলিনি। তবে কথাটা উনি আমাকে যেমন বলেছিলেন, তেমনি আরও দু’চারজনকেও বলে থাকতে পারেন। তাদের কেউ গঙ্গাধর সামন্তকে এটা জানিয়েছে কি না, বলতে পারব না।”

“ঠিক আছে। আর-কেউ যদি বলে থাকে তো বলুক, আপনার অন্তত এক্ষুনি এটা জানিয়ে কাজ নেই। না না, পুলিশের কাছ থেকে কোনও তথ্য আমি আপনাকে গোপন করতে বলছি না। অন্য-কোনও সূত্রে এই খবরটা জেনে তারপর পুলিশ যদি আপনার কাছে এটার করোবরেশন চায়, তো তখন আপনাকে বলতেই হবে যে, হ্যাঁ, আপনার কাছেও অমন কথা সদানন্দ বলেছিলেন বটে। কিন্তু সেটা তো তারা এখনও চায়নি, তাই আপনারও আগ বাড়িয়ে কিছু বলবার দরকার নেই।”

“এটা বলছেন কেন?”

“এইজন্যে বলছি যে, সদানন্দের গলায় তা হলে ফাঁসটা আরও শক্ত হয়ে এঁটে যাবে। কৌশিক যে থটার কথা ভাবছে সেইটে ধরে এগিয়ে তখন আর বিশেষ লাভ হবে না। সেইজন্যেই বলছি, আপাতত আপনি চুপ করে থাকুন। নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে, যাকে সাপ্রেশান অভ এভিডেন্স বলে, এটা মোটেই সেই পর্যায়ে পড়ে না।”

“কৌশিক কোন পথের কথা ভাবছে?”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “সেটা এখন আপনার জেনে কোনও লাভ নেই। কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর এখনও পাইনি।’

“কী প্রশ্ন? যা যা বলছেন, সবকিছুরই তো উত্তর দিয়ে যাচ্ছি।”

“একটা প্রশ্নের উত্তর পাইনি। সদানন্দবাবু যে আদৌ কাউকে খুন করতে পারেন এটা আপনার বিশ্বাস হয়?”

“বড় ভাবনায় ফেললেন দেখছি।”

“বেশি ভাবনাচিন্তা করবেন না। ভাবনাচিন্তা না-করে যা বলবেন সেটাই আমার শোনা দরকার।’ পকেট থেকে প্যাকেটটা বার করে একটা সিগারেট ধরালুম। বুকের মধ্যে ধোঁয়া টেনে নিলুম অনেকটা। তারপর আস্তে-আস্তে ধোঁয়াটা ছেড়ে দিয়ে বললুম, “দেখুন মশাই, নজিরের অভাব নেই। এমনিতে যাকে নেহাত নিরীহ গোবেচারা কি ভালমানুষ বলে মনে হয়, সেও যে খুন করতে পারে, করেছে, এমন ঘটনার কথা আপনিও জানেন, আমিও জানি। শেষ পর্যন্ত হয়তো আদালতে এই গঙ্গাধর সামন্তই প্রমাণ করে ছাড়বে যে, আমাদের সদানন্দবাবুও আসলে একেবারে সেই রকমের একজন মানুষ। উপরে-উপরে খুবই ভদ্র খুবই শান্ত খুবই নিরীহ, কিন্তু ভিতরে ভিতরে যেমন নির্মম, তেমনি নিষ্ঠুর। কিন্তু তবু বলছি, না, সত্যিই যে উনি কাউকে খুন করতে পারেন তা আমি বিশ্বাস করি না।”

কৌশিক বলল, “ব্যস ব্যস, এইটুকুই আমার জানবার দরকার ছিল। জানো মামাবাবু, লোকটিকে দেখে সত্যি আমার বড় মায়া হচ্ছিল। খালি মনে হচ্ছিল লোকটা বোকা, বোকামি করে একটা জালের মধ্যে জড়িয়ে গেছে, এখন আর জাল কেটে বেরুতে পারছে না।”

আমি বললুম, “কৌশিক সম্ভবত ঠিক কথাই বলছে।”

কলিং বেল বেজে উঠল।

ভাদুড়িমশাই বললেন, “খুব সম্ভব গঙ্গাধর সামন্ত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *