মুকুন্দপুরের মনসা (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
সতের
দুপুরের খাওয়ার পাট চুকতে আজ বিশেষ দেরি হয়নি। কিন্তু ঘরে ঢুকেই বুঝতে পারা গেল যে, তারই মধ্যে কেউ এখানে এসে যত্ন করে সব গুছিয়ে রেখেছে। বিছানা একেবারে টান করে পাতা, পায়ের কাছে ভাঁজ করা লাইসাম্পি, ছাইদান পরিষ্কার, বালিশে একটা ভাঁজ পর্যন্ত নেই। শিয়রের দিকের দেওয়ালে যে দুটি ওয়াল-ভাস রয়েছে, কাল রাত্তিরে তো নয়ই, আজও এতক্ষণ সেটা খেয়াল করিনি। এখন দেখলুম, কেউ তার মধ্যে টাটকা দু’গুচ্ছ গোলাপ সাজিয়ে রেখেছে।
ঢকঢক করে এক গ্লাস জল খেয়ে নিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে সবে ভাবছি যে, এবারে একটু গড়িয়ে নিলে মন্দ হয় না, এমন সময়ে জগদীশ এল।
এমন-কিছু মানুষ আছে, যাদের দেখলেই কেমন যেন অস্বস্তি হয়, গা’টা একটু শিরশির করে। ‘হোটেলের দরোয়ান’ শুনে ভেবেছিলুম লম্বা-চওড়া বিশাল গালপাট্টাওয়ালা জবরদস্ত পালোয়ান হবে। তা তো নয়ই, বরং সিড়িঙ্গে-গোছের চেহারা। মাঝারি হাইট, রং কালো, দুই ভুরুর একটার নীচে চোখ আছে, অন্যটার নীচে নেই। যে-চোখটা আছে, তারও চাউনি স্থির। এত স্থির যে, মানুষের চোখ বলে মনেই হয় না।
নিজের পরিচয় দিয়ে জগদীশ বলল, “বড়বাবু আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে বললেন।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “একটা পাহারা দেবার কাজ আছে জগদীশ।”
“কোথায় পাহারা দিতে হবে বলুন।”
“এই বাড়িতেই।”
“গোটা বাড়ি?”
“না, না, ভাদুড়িমশাই বললেন, “গোটা বাড়ি নয়, শুধু একটা ঘরের উপর নজর রাখলেই চলবে। বাইরের উঠোনের পুবদিকের ঘরটা।’
জগদীশের স্থির চোখে যেন এতক্ষণে একটু বিস্ময় ফুটল। কিন্তু সেও মাত্র এক লহমার জন্য। পরমুহূর্তেই তার চাউনি আবার সেই আগের মতোই স্থির। বলল, “যে-ঘরে রামদাসদাদা থাকে?”
‘হ্যাঁ, যে-ঘরে রামদাস আর তার নাতনি থাকে। এখন অবশ্য আয়াও আছে একজন। সেই ঘরটার উপরে নজর রাখতে হবে তোমাকে। তবে এখন নয়, সন্ধের পর থেকে সারা রাত। নজর রাখবে, কেউ যেন ওই ঘরের ধারেকাছেও যেতে না পারে। কেউ যদি যাবার চেষ্টা করে, তাকে আটকাতে হবে। পারবে?”
“পারব, বাবু।’
“কী দিয়ে আটকাবে? লাঠি চালাতে জানো?”
আমি লাঠি চালাই না,” জগদীশ বলল, “ছোরা চালাই।”
“বটে?”
“আগে আমি সার্কাসে ছোরার খেলা দেখাতাম, নির্বিকার নিরুত্তাপ গলায় জগদীশ বলল, “মাঝরাত্তিরে কেউ যদি ওই ঘরের কাছে যায়, তাকে গেঁথে ফেলব।”
“না, না,” শিউরে উঠে ভাদুড়িমশাই বললেন, “একেবারে গেঁথে ফেলবার দরকার নেই। সত্যিই যদি কেউ আসে তো তাকে আটকে দিলেই চলবে।”
“ঠিক আছে, তা হলে আটকে দেব।”
“মনে রেখো, কাজটা খুব জরুরি। সারা রাত জেগে থাকা চাই, আর জেগে থেকে নজর রাখা চাই ওই ঘরটার উপরে। পারবে তো?”
জগদীশ বলল, “রাত্তিরে আমি ঘুমোই না।
আর একটাও কথা না বলে ঘর থেকে সে বেরিয়ে গেল।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী মনে হয় কিরণবাবু?”
“কী আর মনে হবে, গেঁথে ফেলার কথাটা যে-ভাবে বলল, তাতে তো আমি কেঁপে গিয়েছিলুম মশাই। উরেব্বাবা, এ তো ডেঞ্জারাস লোক।”
“এ ডেঞ্জারাস মানে উইথ এ ওয়ান-ট্র্যাক মাইন্ড,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এবং সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে ডেঞ্জারাস ব্যাপার। এ-সব মানুষ দু’রকম বোঝে না, যা-কিছু বুঝবার একরকম বোঝে। অনেকটা যেন দম-দেওয়া সেই গাড়ির মতো, যার কোনও ড্রাইভার নেই। সামনে যে-ই পড়ুক, তাকে চাপা দিয়ে বেরিয়ে যাবে।”
“ঠিক ঠিক,” আমি বললুম, “আপনি যদি না স্পষ্ট করে নিষেধ করে দিতেন তো রাত্তিরে কেউ রঙ্গিলাদের ঘরের কাছে গেলে নির্ঘাত ও তার লাশ ফেলে দিত।”
“অর্থাৎ চুরির কিনারা করতে এসে খুনের মামলায় জড়িয়ে যেতুম আমরা।”
ভাদুড়িমশাই হাসতে লাগলেন।
আমি বললুম, “কিন্তু চুরির কিনারাই বা হচ্ছে কোথায়? আচ্ছা, রঙ্গনাথবাবু সেই বউটিকে যা বললেন, তার থেকে কোনও সন্দেহ হয় না আপনার?”
“কী বললেন যেন রঙ্গনাথ?”
“ওই যে তিনি বউটিকে বললেন, ‘যেখানে থেকে নিয়ে এসেছ সেইখানেই আবার রেখে এসো।’ কথাটা আপনার মনে নেই?”
“ও, সেই কথাটা? তা কথাটা তো আপনি পুরো শোনেননি। তাই না?”
“তা শুনিনি ঠিকই, কিন্তু যেটুকু শুনেছি, সেইটুকুও তো কম সন্দেহজনক নয়।”
ভাদুড়িমশাই স্থির চোখে আমাকে দেখলেন কিছুক্ষণ। তারপর তাঁর চোখে একটু কৌতুক যেন ঝিলিক দিয়ে উঠল। বললেন, “কথাটা শুনে আপনার কী মনে হল?”
“মনে হল যে, লোভে পড়ে ওই বউটিই সম্ভবত মনসামূর্তি চুরি করেছে।”
“শুধু চুরি করলেই তো হবে না, সেটা বিক্রি করা চাই।”
“বা রে, বিক্রি করবে বলেই তো চুরি করেছিল।”
“আমার কাছে করবে?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এ তো আর মাচার লাউ কি পুকুরের মাছ্ নয় যে, হাটে নিয়ে গেলেই খদ্দের মিলে যাবে। তা হলে?”
“হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রির কথা উঠছে কেন? বাইরের লোক তো এখানে আসেই। তাদের মধ্যে মতলববাজ লোক দু’চারজন থাকাও কিছু বিচিত্র নয়। তাদেরই কেউ হয়তো বউটিকে বুঝিয়েছে যে, মূর্তিটা চুরি করে তার হাতে তুলে দিতে পারলেই বউটিকে সে হাজার দু’চার পাইয়ে দেবে। সেটা কি খুবই অসম্ভব?”
“অসম্ভব হবে কেন? তবে কিনা মূর্তিটা চুরি হবার পরেও তো পুরো ছ’ছটা দিন কেটে গেল। বউটি তা হলে এখনও সেই লোকের হাতে মূর্তিটা তুলে দেয়নি কেন?”
“লোকটা আর ইতিমধ্যে আসেনি হয়তো। মানে সে হয়তো সুযোগের অপেক্ষায় আছে। হয়তো ভাবছে যে, উত্তেজনাটা একটু থিতিয়ে আসুক, তারপরে এক ফাঁকে সে ফের এই গ্রামে এসে বউটির কাছ থেকে ওই চোরাই মূর্তি হাতিয়ে নেবে।”
ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “কথাটা নেহাত মন্দ বলেননি কিরণবাবু। অর্থাৎ কিনা আপনার থিয়োরিটা একেবারে হেসে উড়িয়ে দেবার মতো নয়।”
“তা হলে আপনি হাসছেন কেন?”
“হাসছি এইজন্যে যে, তার পরেও একটা প্রশ্ন থেকে যায়।”
“এর মধ্যে আবার প্রশ্ন কীসের?”
“প্রশ্নটা এই যে, মুর্তিটা যেখান থেকে সে নিয়ে এসেছে, রঙ্গনাথবাবু সেইখনেই আবার মূর্তিটা তাকে রেখে আসতে বলছেন কেন?”
এবারে আমার হাবার পালা। বললুম, “তারও একটা সহজ ব্যাখ্যা আছে ভাদুড়িমশাই। কেন রেখে আসতে বলছেন জানেন?”
“জানি না। আপনি বুঝিয়ে বলুন।”
“বলছি। আমার ধারণা, গ্রামের চাষিবাড়ির বউ তো, আসলে খুবই ধর্মভীরু, বাইরের লোকের উশকানিতে লোভে পড়ে হঠাৎ মনসামূর্তি চুরি করেছিল, কিন্তু তারপর থেকেই সে ভয়ে ভয়ে রয়েছে। শুধু ধরা পড়বার ভয় নয়, ছেলেপুলের অকল্যাণ হতে পারে, এই ভয়টাও রয়েছে পুরোমাত্রায়।”
“তা তো থাকতেই পারে।”
“পারে তো? ব্যাস, সেইজন্যেই সে এখন ঘোর অশান্তির মধ্যে রয়েছে। ঠিক বুঝতে পারছে না যে, এখন কী করা যায়। আর তাই রঙ্গনাথবাবুর কাছে সব কথা খুলে বলে সে একটা পরামর্শ চাইতে গিয়েছিল।”
“তারপর?”
“তারপর আর কী, রঙ্গনাথ সৎ লোক, যে রকমের পরামর্শ দেওয়া তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক, ঠিক সেই রকমের পরামর্শই তিনি দিলেন। বললেন যে, যেখানে থেকে নিয়ে এসেছ, সেইখানেই আবার রেখে এসো।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ব্রেভো। শাবাশ। চমৎকার। তা হলে তো কাজ মিটেই গেল। বউণ্ট যদি আজই এক ফাঁকে মূর্তিটাকে ফের মন্দিরের মধ্যে রেখে যায়, তা হলে আব ভাবনা কী, ‘মামবা কলকাতা ফিরে যেতে পারি।”
ভাদুড়িমশাইয়ের কথার মধ্যে যে একটা ঠাট্টার সুর বেজে উঠল, তাতেই বুঝতে পারলুম যে, আমার থিয়োরিটা তাঁর মোটেই পছন্দ হয়নি। বললুম, “বেশ তো, আমার কথা যদি বিশ্বাস না হয়, তো আপনি কী ভাবছেন, সেটা অন্তত খুলে বলুন।”
“আমি কি আর একরকম ভাবছি,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমি ভাবছি পাঁচ-ছ রকত্বের ভাবনা। কিন্তু মুশকিলটা কী হয়েছে জানেন, যতই ভাবছি, ততই যেন ভাবনাগুলো আরও জট পাকিয়ে যাচ্ছে। এক-একবার মনে হচ্ছে, এইবারে বোধহয় জট খুলবে; কিন্তু না, খুলছে না।”
“বউটি তা হলে চুরি করেনি?”
অন্যমনস্কভাবে ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী জানি, করতেও পারে।”
“রঙ্গনাথবাবুকে খোলাখুলি জিজ্ঞেস করব?”
ভাদুড়িমশাই সরাসরি আমার মুখের দিকে তাকালেন। তাঁর মুখে ফের হাসি ছড়িয়ে পড়ল। বললেন, “বেশ তো, তাঁকে জিজ্ঞেস করুন।”
রামদাস এসে ঘরে ঢুকল। বলল, “আপনাদের কিছু লাগবে? মানে সিগারেট কি দেশলাই?”
বললুম, “সবই তো রয়েছে। কিচ্ছু লাগবে না।—ও হ্যাঁ, সত্যপ্রকাশবাবু কি শিলিগুড়ি রওনা হয়ে গেছেন?”
“না, খোকাবাবু এখন কাগজপত্তর সব গুছিয়ে নিচ্ছেন। রওনা হবার আগে আপনাদের সঙ্গে দেখা করে যাবেন।”
“ঠিক আছে, তুমি যেতে পারো।”
রামদাস তবু দাঁড়িয়ে রইল। বুঝলুম যে, কিছু বলতে চায়। বললুম, “আর-কিছু বলবে?”
“হ্যাঁ, বাবু,” রামদাস বলল, “মাস্টারমশাই এসেছেন। আপনাদের সঙ্গে একবার দেখা করতে চান।’
“মাস্টারমশাই মানে?”
“ওই মানে আমাদের রঙ্গনাথবাবু। বললেন যে, একবার দেখা করতে পারলে ভাল হত।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আচ্ছা রামদাস, এই রঙ্গনাথবাবু মানুষটি কেমন?”
“খুব ভাল মানুষ, বাবু।” রামদাস বলল, “সাতে-পাঁচে থাকেন না, পয়সাওলা মানুষ তো নন, তবু সাধ্যিমতো গাঁয়ের লোকদের সাহায্য করেন। আপদে বিপদে সকলেই তাই ওঁরই কাছে ছুটে যায়। আমাদের খোকাবাবুও ওঁকে খুব ভালবাসেন।”
“তা তো বাসেনই, “ভাদুড়িমশাই বললেন, বিশ্বাসও করেন খুব। তা নইলে আর ওঁকে এখানে ডেকে এনে ইস্কুলের ভার দেবেন কেন? আর তা ছাড়া মানুষটি দেখলুম খুব হাসিখুশি। কারও বিরুদ্ধে কোনও নালিশ নেই।
“ঠিক বলেছেন বাবু। মাস্টারমশাই একেবারে সদানন্দ মানুষ।” রামদাস বলল, “তবে কিনা দুঃখ ওঁরও কম নেই। একটামাত্র ছেলে, সেটা মানুষ হয়নি। নিজে মাস্টার, পাঁচজনের ছেলেপুলেকে লেখাপড়া শেখান, অথচ কী কান্ড দেখুন, নিজের ছেলেটা লেখাপড়া শিখল না, ইস্কুলের পড়া শেষ হবার আগেই কুসঙ্গে গিয়ে ভিড়ল।”
“সে এখন কোথায় থাকে?”
“তা তো জানি না। তবে শুনতে পাই যে, কোথায় কোন এক গুন্ডার দলে গিয়ে নাম লিখিয়েছে। বুড়ো বাপ-মায়ের একটা খোঁজ পর্যন্ত নেয় না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী আর করা যাবে, সবই অদৃষ্ট।…..তো ঠিক আছে, তুমি গিয়ে রঙ্গনাথবাবুকে পাঠিয়ে দাও।”
রামদাস চলে গেল।
একটু বাদে রঙ্গনাথ এসে ঘরে ঢুকলেন। কুণ্ঠিত ভঙ্গিতে বললেন, “আপনাদের বিশ্রামের ব্যাঘাত ঘটালুম, তার জন্যে ক্ষমা চাইছি।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “আরে, অত কিন্তু-কিন্তু করছেন কেন? বসুন।”
রঙ্গনাথ বললেন, “বেশিক্ষণ বসব না। আপনাদেরও বিশ্রাম করা দরকার, ওদিকে আমিও দুজন রোগীকে আমার বাড়িতে রেখে এসেছি, ফিরে গিয়ে তাদের ওষুধ দিতে হবে।”
বললুম, “তার মানে? আপনি তো এখানকার মাস্টারমশাই, সেই সঙ্গে ডাক্তারিও করেন নাকি?”
রঙ্গনাথ যেন আরও কুঁকড়ে গেলেন। বললেন, “ওই মানে একটু হোমিওপ্যাথি করি আর কি। এখানে তো ধারেকাছে কোনও ডাক্তার নেই, ভাল ডাক্তার বলতে সেই এক হাসিমারার ডাক্তার সরকার। মানুষটি তিনি অবশ্য খুবই ভাল, ভিজিট না-নিয়েও চিকিচ্ছে করেন, তবে কিনা সামান্য জ্বরজারিতে তো আর তাঁকে কল দেওয়া যায় না, তাই ছোটখাটো অসুখ-বিসুখ হলে…..এই ধরুন সর্দিদুর কি ওই রকমের কিছু হলে এরা আমার কাছেই ছুটে আসে…..যা-ই হোক, যে-কথাটা বলতে এসেছিলুম ..আপনারা কোনও চিন্তা করবেন না।”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “অর্থাৎ সত্যপ্রকাশবাবু আপনাকে সব বলেছেন?”
রঙ্গনাথ বললেন, “হ্যাঁ, বলেছেন। আমিও এখানকার লোকজনদের বুঝিয়ে বলব যে, ক’টা দিন তারা একটু ধৈর্য ধরে থাকুক, হঠাৎ রেগে গিয়ে যেন সাধুবাবার উপরে হামলা-টামলা না করে।”
“আমরা যে আসলে মনসামূর্তির সন্ধান করতে এসেছি, তা বলেছেন?”
“আজ্ঞে হ্যাঁ, তাও বলেছেন। তবে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, আমি ছাড়া আর-কেউ তা জানে না। জানবেও না।”
রঙ্গনাথ উঠে পড়লেন। তারপর পকেট থেকে একটা কৌটো বার করে একই রকমের কুণ্ঠিত গলায় বললেন, “সকালে আপনারা আমার বাড়িতে পরের ধুলো দিয়েছিলেন, কিন্তু তখন শুধু চা ছাড়া আর-কিছু আপনাদের দিতে পারিনি। আমার স্ত্রী তাই ক’টা নারকোলের নাড়ু পাঠিয়ে দিয়েছেন। আপনারা খেলে আমরা দুজনেই খুব তৃপ্তি পাব।”
ভাদুড়িমশাইয়ের হাতে কৌটোটা তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন রঙ্গনাথ। প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই আবার বামদাস এসে ঘরে ঢুকল।
