মুকুন্দপুরের মনসা (ভাদুড়ি) – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শেয়ার করুনঃ

চোদ্দ

সাধুবাবার হুঙ্কার শুনে যে আমার বুকের মধ্যে ধড়াস করে উঠেছিল, আগেই সে-কথা বলেছি। এখন মনে হল যে, তাঁর চাপা-গলার শাসানিটাও সেই হাঁকারের চেয়ে কিছু কম ভয়ঙ্কর ব্যাপার নয়।

 

বাগান থেকে বেরিয়ে বাড়ির দিকে এগোতে এগোতে ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী হল কিরণবাবু? ভয় পেলেন নাকি?”

 

বললুম, “ভয় পাবার মতোই তো ব্যাপার। কেন, আপনি ভয় পাননি?”

 

“কেন পাব না? চোখ পাকিয়ে একটা লোক বলছে যে, আমাকে মেরে ফেলবে, আর আমি ভয় পাব না? তবে হ্যাঁ, ওই যে মন্তর দিয়ে মারবে বলল, ওটা স্রেফ গাঁজাখুরি গপ্পো।”

 

“আপনি বলছেন, গাঁজাখুরি গপ্পো’, কিন্তু এই বিশ শতকেও বিস্তর মানুষ বিশ্বাস করে যে, মন্তর দিয়ে মানুষ মারা যায়।”

 

“তা করে।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “কিন্তু অষ্টাদশ শতকের মানুষ হয়েও ভলতের বিশ্বাস করতেন না। মন্তর দিয়ে ভেড়া মারা যায় কি না, একজনের এই প্রশ্নের জবাবে ভলতের কী বলেছিলেন জানেন?”

 

“কী বলেছিলেন?”

 

“বলেছিলেন যে, তা হয়তো যায়, তবে কিনা মন্তরের সঙ্গে খানিকটা সেঁকোবিষ মিশিয়ে দিলে আর ভাবনার কিছু থাকে না। তখন একেবারে ষোলো-আনা নিশ্চিন্ত হয়ে বলা যায় যে, ভেড়াটা মরবেই।”

 

বললুম, “তা সাধুবাবাও যে মন্তরের সঙ্গে বিষ মেশাবার কথা ভাবছেন না, তা আপনি জানছেন কী করে? …ও হ্যাঁ, একটা কথা আপনাকে জিজ্ঞেস করি। সাধুবাবার ওখানে যখন বসে ছিলুম আমরা, তখন একটা গন্ধ পেয়েছিলুম। আপনি পাননি?”

 

“পেয়েছিলুম বই কী?”

 

“কীসের গন্ধ বলুন তো?”

 

“কারবলিক অ্যাসিডের।” ভাদুড়িমশাই একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “নাঃ, সাধুবাবা বড় চিন্তায় ফেললেন দেখছি।”

 

বাগানের পুব দিক দিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে ততক্ষণে আমরা চৌধুরি-বাড়ির বাইরে উঠোনে এসে ঢুকেছি। দেখলুম, রামদাসের ঘরের সামনে একটি বউ আর একজন ষন্ডামতন লোক দাঁড়িয়ে আছে। বউটির বয়স বছর পঁয়ত্রিশ। চেহারা বেশ চটকদার। রামদাস তাদের সঙ্গে কথা বলেছিল। মনে হল, সে একটু উত্তেজিত। কথা বলতে-বলতেই হঠাৎ সে তার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। ষন্ডামতন লোকটি বেশ রাগত ভঙ্গিতে কী যেন বলল বউটিকে। কিন্তু বউটি তার উত্তরে কিছু বলল না। যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, সেইখানেই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। লোকটি তাকে আরও কিছু বলত হয়তো, কিন্তু হঠাৎ আমাদের দিকে চোখ পড়ে যাওয়াতেই বোধহয় আর মুখ খুলল না। হনহন করে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির দক্ষিণ দিকের রাস্তায় গিয়ে নামল।

 

ভিতরের উঠোনে ঢুকতেই একেবারে হই-হই করে উঠলেন সত্যপ্রকাশ। দোতলার বারান্দায় একটা ইজিচেয়ারে তিনি বসে ছিলেন। সেইখানে থেকেই চেঁচিয়ে বললেন, “আরে মশাই, কোথায় গিয়েছিলেন আপনারা? আপনাদের কি খিদে-তেষ্টা পায় না? সেই কখন থেকে আপনাদের জন্যে বসে আছি।”

 

ভাদুড়িমশাই বললেন, “সেই কখন থেকে মানে ঠিক কখন থেকে বসে আছেন বলুন তো?”

 

“তা মিনিট দশ-পনেরো তো হবেই।” সত্যপ্রকাশ লজ্জিতভাবে বললেন, “এই মানে প্রায় শেষ-রাত্তিরে শুয়েছিলুম তো, উঠতে-উঠতেই সাড়ে আটটা বেজে গেল।”

 

“তা যে বাজবে, সেটা জানতুম বলেই আমরা একটা লম্বা-গোছের চক্কর মেরে এলুম।”

 

“বেশ করেছেন, বেশ করেছেন,” সত্যপ্রকাশ তাঁর আরাম-কেদারা থেকে উঠে পড়ে বললেন, “ব্রেকফাস্ট রেডি, আমিও রেডি, আপনারা তা হলে আর দেরি করবেন না, ডাইনিং হলে গিয়ে বসে পড়ুন।”

 

দোতলা থেকে নেমে এলেন সত্যপ্রকাশ। সবাই মিলে ডাইনিং হলে ঢুকে এক-একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লুম। থালা গেলাস বাটি সাজানোই ছিল। নিরু পরিবেশন করতে লাগল। ব্রেকফাস্ট মানে অবশ্য বিলিতি কায়দার ছোটা হাজরি নয়, একেবারে বনেদি বাঙালি কেতার লুচি, আলুর চচ্চড়ি, মাছভাজা আর পায়েস। মা আর পিসিমাও চেয়ার টেনে বসে পড়েছিলেন, তবে তাঁরা বিধবা মানুষ, আমিষের ছোঁয়া রয়েছে বলেই সম্ভবত আমাদের সঙ্গে কিছু খেলেন না, বসে-বসে শুধু নজর রাখতে লাগলেন যে, কারও পাত যেন না খালি থাকে।

 

ব্রেকফাস্টের পালা চুকিয়ে আমরা আবার সত্যপ্রকাশের বসবার ঘরে এসে জমায়েত হলুম। ভাদুড়িমশাই বললেন, “আপনাদের পারিবারিক ইতিহাস তো কাল রাত্তিরেই আপনার কাছে শুনলুম। ডায়েরিটাও কালই পড়ে ফেলেছি। এখন আর সময় নষ্ট করে লাভ নেই, চুরিটা কখন হল, কীভাবে হল, আপনিই বা কখন খবর পেলেন, সব এবারে খুলে বলুন।”

 

সত্যপ্রকাশ বললেন, “আজ তো মঙ্গলবার, চুরিটা হয়েছে আজ থেকে ছ’দিন আগে, গত বুধবারে, যদ্দুর বুঝতে পারছি, ভোর হবার একেবারে আগের মুহূর্তের ঘটনা। ওই যাকে খনার বচনে বলে মঙ্গলে উষা বুধে পা, ঠিক সেই সময়ের ব্যাপার।”

 

“আপনি কখন খবর পেলেন?”

 

“বুধবার বিকেলে। শিলিগুড়িতে লোক পাঠিয়ে খবর দেওয়া হয়েছিল।”

 

“খবর পেয়েই আপনি চলে আসেন?”

 

“না,” সত্যপ্রকাশ বললেন, “আমি ব্যবসায়ী লোক, হুট্ বলতেই কি আর চলে আসতে পারি, -্যাবসার কাজকর্ম অন্যদের বুঝিয়ে না-দিয়ে আসি কী করে? তাই খবরটা পাবার পরেও কিছুক্ষণ—তা ধরুন ঘন্টাদেড়েক কি ঘন্টাদুয়েক সময় –আমি শিলিগুড়িতেই আটকে ছিলুম।’

 

“খবরটা যেখানে বাইরের কাউকে বলেছিলেন?”

 

“তা বলেছিলুম বই কী। গ্রামের বাড়িতে সাধারণত আমি শনিবার-শনিবার আসি, তারপর শনি-রবি দু’রাত এখানে কাটিয়ে সোমবার সকালে আবার শিলিগুড়িতে ফিরে যাই। এবারে হঠাং বুধবার আসছি কেন, বন্ধুবান্ধবরা জিজ্ঞেস করায় সব খুলে বলতে হয়।”

 

অর্থাৎ খবরটা তখুনি চাউর হয়ে যায়, কেমন?”

 

সত্যপ্রকাশ বললেন, “হ্যাঁ। কলকাতার হরেক কাগজের যে-সব করেসপন্ডেন্ট শিলিগুড়িতে থাকেন, তাঁরাও হয়তো আমার বন্ধুদেরই কারও কাছে খবরটা পেয়ে গিয়ে কলকাতায় জানিয়ে থাকবেন?”

 

আমি বললাম, “হ্যাঁ, পরশু অর্থাৎ রোববার আমরা কলকাতার কাগজে এই খবরটা দেখেছি।”

 

সত্যপ্রকাশ বললেন, “আমি দেখেছি পরশু বিকেলবেলায়। আপনাদের হোটেলে রেখে আমার অফিসে ফিরে গিয়ে দেখলুম। কাগজ এখানে সকালের ফ্লাইটেই আসে বটে, তবে বিকেল তিনটের আগে তো আর ডেলিভারি হয় না। খবরটা যে ছেপে বেরিয়েছে, তা অবশ্য পরশু সকালেই আমার বড় মেয়ে আমাকে ট্রাঙ্ককল করে জানিয়েছিল।”

 

“যাক্ গে,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “বুধবারের কথা হচ্ছিল, সেটাই আগে শুনি। মুকুন্দপুরে সেদিন আপনি কখন এসে পৌঁছলেন?”

 

“কর্মচারীদের কাজকর্ম বুঝিয়ে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে সেই রাত্তিরেই এখানে চলে এলুম। আসতে বেশ রাত হয়েছিল, তবে আমার জন্যেই বসে ছিল সবাই, কেউ ঘুমোয়নি। ঘুমোবার উপায়ও অবশ্য ছিল না।”

 

“কেন?”

 

“রঙ্গিলার জন্যে। মেয়েটার তখন যাকে বলে যায়-যায় অবস্থা। বেঁচে থাকবে, এমন আশাই তো কেউ +রেনি। ওই যে বলেছি, মন্দিরে ঢুকে মেয়েটা একেবারে মূর্তি-চোরের সামনে পড়ে গিয়েছিল, ওর মাথা কাটিয়ে চোর পালিয়ে যায়।”

 

একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই! কী যেন ভাবলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “সবই বুঝলুম, কিন্তু একটা কথা এখনও বুঝতে পারছি না। শেষ রাত্তিরে রঙ্গিলা হঠাৎ মন্দিরে ঢুকতে গিয়েছিল কেন?”

 

“হঠাৎ তো ঢোকেনি,” সত্যপ্রকাশ বললেন, “রোজই ঢোকে। বড় লক্ষ্মী মেয়ে। কাউকে কিছু বলতে পর্যন্ত হয় না, রাত থাকতেই ঘুম থেকে উঠে, চান করে, বাসী কাপড় ছেড়ে, মন্দিরে গিয়ে কাজে লেগে যায়।”

 

“সেখানে ওর কী কাজ?”

 

“বিস্তর কাজ। কাজের কি আর শেষ আছে। পুজোর বাসন-কোশন, কোষাকুষি, পেতলের ঘড়া, গঞ্চপ্রদীপ, ধূপদান, সব তো রঙ্গিলাই মাজে। তা ছাড়া ঠাকুরঘরের মেঝে আর বারান্দা সেই ভোর-রাত্তিরেই ও য়েমুছে একেবারে ঝকঝকে করে রাখে। তারপর চন্দন ঘষে, পুজোর ফুল তোলে, পুরুতমশাইকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে দেয়…কাজ কি কম?”

 

“তারপর?”

 

“তারপরেই সেই সর্বনেশে ব্যাপার। রোজকার মেতো বুধবারও সে রাত থাকতেই ঘুম থেকে উঠেছিল. চান করেছিল, বাসী কাপড় পালটে মন্দিরে গিয়ে ঢুকেছিল। আর তারপরেই তার ভয়ঙ্কর চিৎকারে বাড়ির সক্কলের ঘুম ভেঙে যায়। চিৎকার শুনে রামদাস ছুটেও এসেছিল। তবে কিনা একে তো রামদাসের বয়স হয়েছে, চোখে ভাল দেখতে পায় না, তার উপরে আবার তখন রাত পুরোপুরি কাটেনি, চতুর্দিকে অন্ধকার, তাই লণ্ঠন জ্বেলে তার মন্দিরে এসে পৌঁছতে পৌঁছতেই সর্বনাশ যা হবার তা হয়ে গেল।”

 

“রামদাস এসে কী দেখল?”

 

“দেখল যে ঠাকুরঘরের মেঝে একেবারে রক্তে ভেসে গেছে, আর সেই রক্তের উপরে বেহুঁশ হয়ে পড়ে রয়েছে তার নাতনি।”

 

“মুর্তিটিও যে উধাও হয়েছে, তা তখনও বুঝতে পারেনি রামদাস?”

 

“বোঝবার মতন অবস্থাই তখন তার ছিল না।” সত্যপ্রকাশ বললেন, “রঙ্গিলার ওই অবস্থা দেখে সে ডুকরে কেঁদে ওঠে। নিরু ইতিমধ্যে তার ঘর থেকে ছুটে চলে এসেছিল। এসে পড়েছিলেন আমার মা, পিসিমা আর পুরুতঠাকুরও। তবে, মূর্তিটি যে নেই, নিরুই সেটা প্রথম টের পায়।”

 

“রঙ্গিলা কি চোরকে চিনতে পেরেছিল?” আমি প্রশ্ন করলুম, “সানে রঙ্গিলা কি তেমন কোনও কথা বলেছে?”

 

“কথা?” অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালেন সত্যপ্রকাশ। বললেন, “সে তো এখনও কথাই বলছে না। বলতে গেলে সে তো এখনও বেহুঁশ হয়েই পড়ে আছে।”

 

“একবারও জ্ঞান ফেরেনি তার?” ভাদুড়িমশাই জিজ্ঞেস করলেন।

 

“তবে আর বলছি কী,” হাত উলটে সত্যপ্রকাশ বললেন, “গত বুধবার ভোর রাত্তিরের ঘটনা এটা…তারপর পুরো ছ-ছ’টা দিন কেটে গেল, অথচ অবস্থা এখনও যথাপূর্বম্। জ্ঞান যে একেবারেই ফেরেনি, তা অবশ্য নয়, তবে কিনা এখনও একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে… মানে একটা ট্রমাটিক এক্সপিরিয়েন্স তো, ধকলটা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি, ফ্যালফ্যাল করে শুধু এদিক-ওদিক দেখছে, কিন্তু কাউকে যে চিনতে পারছে, এমন মনে হয় না।”

 

“হাসপাতালে দেননি কেন?”

 

“কী করে দেব? এখানে হাসপাতাল বলতে তো সেই আলিপুরদুয়ার। কাছাকাছি একটা রুর‍্যাল হেল্থ সেন্টার আছে বটে, কিন্তু একে তো মাস তিনেক হল সেখানে ডাক্তার নেই, তার উপরে আবার যন্ত্রপাতি আর ওষুধপত্রের স্টকও যৎসামান্য, পারতপক্ষে তাই সেখানে কেউ যেতে চায় না।”

 

“তা হলে ওকে দেখছে কে?”

 

“হাসিমারার ডাক্তার সরকার। মানুষটি ভাল, অভিজ্ঞও বটেন, তা ছাড়া তাঁর দায়িত্ববোধের তুলনা নেই। রোজ বিকেলে এসে দেখে যান। মাথায় স্টিচ যা করবার তিনিই করেছেন। ব্যান্ডেজ-ট্যান্ডেজ সব তিনি নিজের হাতে করেন। আবার তা পালটাবার দরকার হলেও নিজের হাতেই পালটে দেন।”

 

“তিনিই তা হলে প্রথম থেকে দেখছেন?”

 

“একদম প্রথম থেকে। খবর পেয়েই ভদ্রলোক ছুটে এসেছিলেন। ওই যে বললুম, মানুষটির দায়িত্ববোধের সত্যি তুলনা হয় না।”

 

একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই! তারপর প্রসঙ্গ পালটে জিজ্ঞেস করলেন, “রাত্তিরে নিশ্চয় মন্দিরের দরজায় তালা দেওয়া থাকত?”

 

“বাইরের গেটে থাকত না, থাকত শুধু যে-ঘরে বিগ্রহের পুজো হয়, সেই ঘরে।”

 

“তার চাবি কার কাছে থাকত?”

 

“রঙ্গিলার কাছে। শেষ-রাত্তিরে সে-ই গিয়ে ঠাকুরঘরের দরজা খুলত। কিন্তু বুধবার ভোর রাত্তিরে তার আগেই কেউ নিশ্চয় তালা ভেঙে ঠাকুরঘরে ঢুকেছিল।”

 

“কিন্তু বিগ্রহ নিয়ে পালাবার আগেই সে রঙ্গিলার সামনে পড়ে যায়, কেমন?”

 

“তা-ই তো মনে হয়।”

 

“ভাঙা তালাটা খুঁজে পেয়েছিলেন?”

 

“না,” সত্যপ্রকাশ বললেন, “বিস্তর খুঁজেও সেটা পাওয়া যায়নি। এখন যেটা লাগিয়ে রাখা সেটা নতুন তালা।”

 

“আগের তালার চাবিটা নিশ্চয় হারিয়ে যায়নি?”

 

“সেটা কেন হারাবে, সেটা তো রঙ্গিলার কাছেই ছিল, সেই চাবি দিয়েই তো সেদিনকার মতো সেদিনও তালা খুলে ঠাকুরঘরে ঢুকতে গিয়েছিল। আমি সেটা রেখে দিয়েছি।”

 

“চাবিটা একবার দেখতে পারি?”

 

টেবিলের টানা খুলে বেশ বড় সাইজের একটা পেতলের চাবি বার করে ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে এগিয়ে দিলেন সত্যপ্রকাশ। বললেন, “রঙ্গিলার মুঠোর মধ্যেই ছিল এটা।”

 

চাবিটা হাতে নিয়ে মাত্র এক পলক সেটাকে দেখেই ভাদুড়ি শশাই বললেন, “বুঝেছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *