(৮)
নাইট-শোতে সিনেমা সেখবার বাতিক এককালে ছিল বটে, কিন্তু এখন আর নেই, অন্নপ্রাশন বিয়ে কি শ্রাদ্ধের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে মাঝেমধ্যে যান বটে, কিন্তু ফার্স্ট ব্যাচেই খাওয়ার পাট চুকিয়ে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরেন, সদানন্দবাবু যে রাত নটার পরে কখনও বাড়ির বাইরে থেকেছেন, এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। কাল কিন্তু কাঁকুড়গাছি থেকে ফিরতে- ফিরতে এগারোটা বেজে যায়। তার জন্য অবশ্য তাঁর স্ত্রী কুসুমবালা দেবীকে কোনও দুর্ভাবনায় পড়তে হয়নি। ঠিক ন’টাতেই বাড়িতে ফোন করে বাসন্তীকে আমি বলেছিলুম যে, আমাদের ফিরতে একটু দেরি হবে, এই খবরটা সে তার সামনের বাড়িতে কুসুমদিকেও যেন জানিয়ে দেয়। আসলে অরুণ সান্যালেরই কাল তার বন্ধুর বাড়ি থেকে ফিরতে-ফিরতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে, আমাদেরও অপেক্ষা না করে উপায় ছিল না। অরুণ অসুস্থ মানুষ। সে ফিরবার আগেই যদি আমরা উঠে পড়তুম, তা হলে সেটা ভারী বিশ্রী দেখাত।
সকালে ঘুম থেকে উঠেছি যথাসময়ে। তারপর চোখেমুখে জল দিয়ে, এককাপ চা খেয়ে, বৈঠকখানা ঘরে এসে দৈনিক বার্তাবহের প্রথম পৃষ্ঠায় সদ্য চোখ বুলোতে শুরু করেছি, এমন সময় সদানন্দবাবু এসে দরজার বাইরে থেকেই বললেন, “এইমাত্র ঘুম থেকে উঠলেন বুঝি?”
বললুম, “এইমাত্র নয়, মিনিট দশ-পনেরো আগে। তা বাইরে দাঁড়িয়ে কেন?”
“এখন আর বসতে পারব না, মশাই। মাদার ডেয়ারির দুধটা এখনও বাড়িতে পৌঁচে দেওয়া হয়নি।”
“তা সেটা পৌঁছে দিয়ে আসুন।”
“পৌঁছে দিয়েই কি আর আসতে পারব?” সদানন্দবাবু বললেন, “আপনি মশাই সুখে আচেন, সংসারের তাবৎ ঝক্কি বউমা সামলাচ্চেন, আপনাকে তাই কুটোটি পর্যন্ত নাড়তে হয় না। আর আমাকে এখন দুধটা পৌঁচে দিয়ে বাজারে ছুটতে হবে।”
“বেশ তো, বাজার সেরে তারপর আসুন।”
“তা আসব অখন। ইতিমধ্যে একটা খবর দিয়ে যাই।”
“কী খবর?”
“রাত্তিরে বাড়ি ফেরার সময় আপনি তো কাল বললেন যে, যে-লোকটা খুন হয়েচে, মঙ্গলবারের কাগজে তার ছবি বেরুবে। কী, বলেননি?”
“হ্যাঁ, তা বলেছিলুম বটে।”
“সে-ছবি আজকেই বেরিয়ে গেচে। তিনের পাতাটা দেকুন।”
তিনের পাতা উল্টে দেখলুম, সদানন্দবাবু ভুল বলেননি। পুলিশের বিজ্ঞাপন সত্যি বেরিয়েছে। বিজ্ঞাপনের সঙ্গে বেরিয়েছে নিহত ড্রাইভারের ছবি।
বললুম, “এটা যে কী করে সম্ভব হল, বুঝতে পারছি না। বিজ্ঞাপন-বিভাগ তো রবিবার বন্ধ থাকে।”
“বন্ধ থাকলে কী হয়, পুলিশই খুলিয়ে ছেড়েচে। পুলিশকে অত হেলাচ্ছেদ্দা করবেন না, মশাই। ওরা না পারে এমন কাজ নেই। …যাই, দুধটা পৌঁচে দিই গিয়ে।”
সদানন্দবাবু চলে গেলেন। একটু বাদেই শোবার ঘরে ফোন বেজে উঠল। রিসিভার তুলে হ্যালো বলতেই ওদিক থেকে ভাদুড়িমশাই বললেন, “বিজ্ঞাপনটা দেখেছেন?”
বললুম, “দেখছি। দৈনিক বার্তাবহের কথা বলছেন তো?”
“শুধু দৈনিক বার্তাবহ নয়, সব কাগজেই বেরিয়েছে।”
“তা-ই? কিন্তু কাল তো সব কাগজেরই বিজ্ঞাপন-বিভাগ বন্ধ ছিল। বিজ্ঞাপনটা তা হলে ঢোকাতে পারল কী করে?”
“পারল খবরের কাগজগুলোর সঙ্গে ওর ব্যক্তিগত সম্পর্কের দৌলতে।”
“ওর মানে?”
“ওর মানে শোভন চৌধুরির।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “শোভনের পি.আর.-এর কোনও জবাব নেই।”
“তা-ই তো দেখছি।” আমি বললুম, “এখন ছবি দেখে কেউ নাম-ধাম জানালে হয়। সেটা তো আর পি.আর. দিয়ে হবে না।”
“আরে, অত হতাশ হচ্ছেন কেন?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ডেডবডি ক্লেম করতে আত্মীয়স্বজনদের কেউ-না-কেউ ঠিকই এগিয়ে আসবে। …ওই যা, আসল কথাটাই বলা হয়নি। আপিসে এখন কাজের চাপ কীরকম?”
“খুব একটা চাপ নেই। কেন বলুন তো?”
“চাপ না-থাকলে ছ’টা নাগাদ এখানে চলে আসুন না। ওই সময়ে শোভনও থাকবে। মনে হচ্ছে, নতুন কিছু খবর দিতে পারব।”
রিসিভার নামিয়ে রাখতে-রাখতেই শুনতে পেলুম যে, ডোর-বেল বাজছে। বাসন্তীকে বললুম, “আজ একটু তাড়াতাড়ি আপিসে বেরুতে হবে। ব্রেকফাস্ট খাব না। বোধহয় কেউ দেখা করতে এসেছে। বাইরের ঘরে স্রেফ কিছু চা-বিস্কুট পাঠিয়ে দাও।”
বৈঠকখানা ঘরে এসে দরজা খুলে যাকে দেখতে পেলুম, সাধারণত সে আপিসেই আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে, বাড়িতে আসে না। বিমল বরাট।
নিয়মিত যাঁরা খবরের কাগজ পড়েন, বিমলের নাম তাঁদের না-জানবার কথা নয়। কলকাতার নানা কাগজে তার তোলা ফোটোগ্রাফ মাঝে-মাঝে ছাপা হয়, সেইসব ফোটো গাফের তলায় আলোকচিত্রী হিসেবে বিমলের নামও যথারীতি ছাপা হয়ে থাকে। বিমল মানিকতলার ছেলে, আঠারো আনা ক্যালেকেশিয়ান, হিন্দুস্থান টাইমসের চাকরি নিয়ে বছর পাঁচেক আগে দিল্লি চলে গিয়েছিল, কিন্তু যেখানে না আছে মোহনবাগান, না আছে রকের আড্ডা, সেই ‘মরুভূমির দেশে? তার মন টেকেনি, চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে আড়াই মাস বাদেই সে আবার ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসে। ফিরে এসে অবশ্য আর চাকরি জোটাতে পারেনি, কিংবা কে জানে—চাকরি আর হয়তো করতেও চায়নি। কলকাতায় এখন ফ্রিলান্স ফোটোগ্রাফারের তো অভাব নেই। বিমল বরাট তাদেরই একজন। ছবিটা অবশ্য অনেক চাকুরে ফোটোগ্রাফারের তুলনায় ভালই তোলে। ফলে, নানান কাগজে ছবি বিক্রি করে যে টাকা পায়, তার অঙ্কটা নেহাত খারাপ হবে না।
হঠাৎ সে কেন বাড়ি বয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এল, বুঝতে পারলুম না। বললুম, “কী খবর বিমল?”
ঘরে ঢুকে কাঁধের ঝোলাটা আমার রাইটিং টেবিলে নামিয়ে রেখে, আমার টেবিলের উল্টো দিকের চেয়ারে বসে বিমল বলল, “একটা কথা জিজ্ঞেস করতে এলুম, দাদা। ছবিটা কি আমি খুব খারাপ তুলি?”
বললুম, “এ কি একটা কথা হল? ফোটো-এগজিবিশনে পরপর দু’বছর তুমি স্পেশ্যাল প্রাইজ পেয়েছ। একবার বন্ধের কলকাতার চৌরঙ্গির ছবি তুলে, আর একবার বস্তির মধ্যে মাদার টেরিজার ছবি তুলে।”
কাজের মেয়েটি দু’কাপ চা আর একটা প্লেটে করে খানকয় বিস্কুট দিয়ে গিয়েছিল। ট্রে থেকে একটা কাপ তুলে নিয়ে বিমল বরাটের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললুম, “কী, ভুল বলেছি?”
“না, কিরণদা, ভুল বলেননি।” চায়ে চুমুক দিয়ে পেয়ালাটা নামিয়ে রেখে বিমল বলল, “সবই আপনার মনে থাকে দেখছি। আর হ্যাঁ, বস্তির মধ্যে মাদার টেরিজার ওই যে ছবিটা তুলেছিলুম না, দিন তিনেক আগে একটা কেব্ল পেয়ে জানলুম যে, আলবুকার্কিতেও ওটা একটা প্রাইজ পেয়েছে।”
“বলো কী হে, আলবুকাকি তো নিউ মেক্সিকোর মস্ত শহর!”
“সেখানে একটা ইন্টারন্যাশনাল ফোটো এগজিবিশন হচ্ছিল।”
“বাপ রে, সেখানেও প্রাইজ পেয়েছে!” হাত থেকে চায়ের পেয়ালা নামিয়ে বললুম, “আর তারপরেও কিনা জিজ্ঞেস করছ যে, ছবিটা তুমি খুব খারাপ তোলো কি না। ব্যাপার কী বলো তো, হঠাৎ এত বিনয় দেখাচ্ছ কেন?”
“আর বলবেন না, কিরণদা,” কাঁচুমাচু হয়ে বিমল বলল, “প্রাইজ-ট্রাইজ তো পাচ্ছি, কিন্তু কাগজে আজকাল আমার ছবি তো বলতে গেলে ছাপাই হচ্ছে না।”
“এই ব্যাপার? তা কেন ছাপা হচ্ছে না, সেটা জিজ্ঞেস করেছ?”
“করেছি। তাতে সবাই বলে জায়গা নেই।”
“সেটা কিন্তু মিথ্যে নয়, বিমল। খবরের যা চাপ যাচ্ছে, অন্তত গত কয়েকটা হপ্তা ধরে যাচ্ছিল, তাতে মেইন স্টোরিগুলোকে ধরাতেই তো হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিল সবাই। আর তা ছাড়া, এটাও ভেবে দ্যাখো যে, ছবি যদি দু’চারটে দিতেই হয়, তো স্টাফ ফোটোগ্রাফারদের ছবিকেই তো প্রেফারেন্স দিতে হবে।”
“কিন্তু আমি যদি তেমন ছবি তুলি, যা স্টাফ-ফোটোগ্রাফাররা তুলতে পারেনি? তা হলেও কি আমার ছবি ছাপা হবে না?”
হেসে বললুম, “সেটা নির্ভর করছে যে-ছবি তুমি তুলেছ, তার নিউজ-ভ্যালুর উপরে। গঙ্গাতীরে সূর্য অস্ত যাচ্ছে কি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনের ময়দানে বসে ছেলেবুড়ো জোয়ানমদ্দ ফুচকা খাচ্ছে, এ-সব ছবির তো কোনও নিউজ-ভ্যালু নেই।”
“সে-সব ছবির কথা হচ্ছে না, কিরণদা।” অসহিষ্ণু ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকিয়ে বিমল বলল, “গত এক মাসে কম করে অন্তত পাঁচটা স্ট্রিট-অ্যাক্সিডেন্টের ছবি আমি তুলেছিলুম। কিন্তু তার একটাও কেউ কেনেনি। ইস্টার্ন ক্যুরিয়ার কেনেনি, দিনকাল কেনেনি, ক্যালকাটা স্ক্যানার কেনেনি, দৈনিক বার্তাবহ কেনেনি, এমন কী আপনাদের কাগজও কেনেনি। অথচ, ওর একটাও ওই যাকে নিউট্রাল ছবি বলে, তা ছিল না। সব ক’টাই ছিল অ্যাকশন-পিকচার।”
“অ্যাক্সিডেন্টে লোক দু’চারটে মারা পড়েছিল?”
“তা অবশ্য পড়েনি।”
“তা হলে আর কী করে ছাপা হবে? লোকজন যাতে মারা পড়ে না, তা তো মাইনর অ্যাক্সিডেন্ট। কাগজে তার ছবি ছাপবার মতো জায়গা কোথায়?”
শুনে বিমল একেবারে হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল খানিকক্ষণ। গুটিকয়েক লোক যাতে হতাহত হয়নি, এমন অ্যাক্সিডেন্টকে যে কেউ আজকাল পাত্তাই দেয় না, ফলে পাতে দেবার জুগ্যি বলে গণ্য হয় না তার ছবি, এইটে শুনে তার বাক্শক্তি সম্ভবত লোপ পেয়েছিল। সেটা ফিরে পাবার পরে বলল, “বলেন কী কিরণদা?”
“ঠিকই বলছি।” আমি বললুম, “ছবি তো দূরের কথা, ও-সব অ্যাক্সিডেন্টের সংক্ষিপ্ত বিবরণও আজকাল ছাপা হয় না।”
বিমল উঠে পড়ল। তারপর টেবিল থেকে তার ঝোলাটা তুলে নিয়ে বলল, “আপনি ঠিকই বলেছেন, কিরণদা। অ্যাক্সিডেন্টটার রিপোর্টই যখন ছাপা হয়নি, তখন ছবি ছাপা হবে কোত্থেকে?”
আমি জানি, ওই ঝোলার মধ্যে ওর মিনল্টা ক্যামেরা রয়েছে। ওটাকে সঙ্গে না-নিয়ে ও কোথাও যায় না। ছেলেটার মুখ দেখে বড় মায়া হচ্ছিল। বললুম, “বোসো বিমল। আজ একটু তাড়াতাড়ি আপিসে যাব ঠিকই, তবে কিনা সবে তো সাড়ে আটটা বাজে, ন’টার আগে স্নান করতে যাব না। খানিকক্ষণ বসে যাও।”
বিমল বসতে-বসতে বলল, “ছবিটা কিন্তু ভাল এসেছিল, দাদা। তাও কেউ নেয়নি।”
বললুম, “কীসের ছবি? ফের সেই অ্যাক্সিডেন্টের?”
“হ্যাঁ, কিরণদা।”
হেসে বললুম, “আচ্ছা বিমল, তুমি কি অ্যাক্সিডেন্ট ছাড়া আর কোনও সাবজেক্ট আজকাল খুঁজে পাচ্ছ না? তার উপরে আবার এটাও বোধহয় নেহাতই মাইনর একটা ব্লাডলেস অ্যাক্সিডেন্ট?”
“হ্যাঁ, কিরণদা, সেটা আপনি বলতে পারেন। স্রেফ টায়ার ফেঁসে গিয়ে একটা গাড়ি হঠাৎ টাল সামলাতে না পেরে ফুটপাতের উপরে উঠে যায়। না না, কেউ মারা যায়নি। কিন্তু, লাইটটা দারুণ পেয়েছিলুম তো, তাই ছবিগুলো একেবারে দুর্দান্ত এসেছে। একটাও আউট অব ফোকাস হয়নি।”
টায়ার ফেঁসে গাড়ি যে ফুটপাথে উঠে পড়েছে, এই পর্যন্ত শুনেই আমার বুকের মধ্যে দুপদুপ করে শব্দ হতে শুরু হয়েছিল। ভিতরে গিয়ে আর-এক প্রস্ত চা পাঠাতে বলে দিয়ে বৈঠকখানা ঘরে ফিরে বললুম, “এটা কবেকার ঘটনা বিমল?”
“পরশু অর্থাৎ শনিবার সকালবেলার। বাড়িতে ফিরে ফিল্মগুলোকে ডেভেলাপ আর প্রিন্ট করিয়ে…”
“দাঁড়াও, দাঁড়াও, ঘটনাটা কোথায় ঘটেছিল?”
“কাঁকুড়গাছির মোড়ের কাছাকাছি একটা হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের সামনে। … গাড়িটা গিয়ে একটা লাইটপোস্টে ধাক্কা মারতেই সেটা ফুটপাথের উপরে আছড়ে পড়ছে, গাড়িটার উইন্ডস্ক্রিন ভেঙে চুরমার, ড্রাইভারের কপাল কেটে রক্ত গড়াচ্ছে, লোকটা একেবারে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে, লোকজনের ভিড় জমছে, দোতলা-তিনতলার জানলা থেকে সবাই নীচের দিকে তাকিয়ে আছে। …ছবিগুলোর একটাও কেউ কিনল না বটে, কিন্তু কিরণদা, একবার ভেবে দেখুন যে…”
বিমলকে বাধা দিয়ে বললুম, “কখানা ছবি তুলেছ?”
“তা খান দশ-বারোর কম হবে না।” হতাশ ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বিমল বলল, “ঝপাস্! সবটাই জলে গেল!”
বললুম, “কিচ্ছু জলে যায়নি। কিন্তু ছবিগুলো তোমার কাছে আছে তো?”
“তা আছে বই কী। কিন্তু দুটো দিন তো চলে গেল, ও ছবি এখন কিনবে কে?”
দ্বিতীয় প্রস্ত চা এসে গিয়েছিল। বিমলের দিকে একটা কাপ এগিয়ে দিয়ে বললুম, “কে কিনবে, তা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। তুমি এখন চা খেয়ে বাড়ি যাও। গিয়ে, ওই অ্যাক্সিডেন্টের যে ক’টা ছবি তুলেছ, সব ক’টাই একটু বড় সাইজে প্রিন্ট করে ফ্যালো। একটা ছবিও বাদ না যায়। তোমার বাড়ি আমি চিনি। পৌনে ছ’টা নাগাদ সেখান থেকে তোমাকে আমি তুলে নেব। …আর হ্যাঁ, ছবির দাম নিয়ে ভেবো না, ওটা আমার উপরে ছেড়ে দাও।”
