(২)
কে শোভন চৌধুরি, তা আমি জানি না। লালবাজারে তিনি কী পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন, তাও আমার জানা নেই। আমি শুধু অনুমান করেছিলুম যে, কলকাতা পুলিশের হেডকোয়ার্টার্সে তিনি মেজো-সেজো যে-অফিসারই হোন, একটু আগে এই ফ্ল্যাটবাড়ির সামনে যা ঘটেছে, ভাদুড়িমশাই তা-ই নিয়ে তাঁকে কিছু বলতে চান। তা শোভন চৌধুরির সঙ্গে যোগাযোগ করে ও ভাদুড়িমশাইয়ের নামোল্লেখ করে ফোনের রিসিভারটা কৌশিক যখন তার মামাবাবুর হাতে তুলে দিল, তখন দেখলুম, ভুল অনুমান করিনি।
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওহে শোভন, পরশু আমি কলকাতায় এসেছি।…না, কোনও গোয়েন্দাগিরির ব্যাপার নয়, একটা পারিবারিক কাজ ছিল।..কী বললে? ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে? কী যে বলো!…না, না, যতীন বাগচি রোডের সেই বাড়িতে এবারে আমাকে পাবে না। সি.আই.টি. রোডে কাঁকুড়গাছির মোড় চেনো নিশ্চয়? …বাঃ, চেনো দেখছি। এবারে আছি তার খুব কাছে একটা আটতলা বাড়ির সাততলায়। ফ্ল্যাট নাম্বার সেভেন-এ, বাড়ির নাম আকাশ- বিহার। … যা বলেছ, আটতলা বাড়ির পক্ষে খুব জুতসই নাম। তো যে-জন্যে ফোন করছি শোনো। একটু আগে এই বাড়িটার সামনে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। …না না, কেউ মারা যায়নি। স্রেফ টায়ার ফেটে একটা অ্যাম্বাসাডর গাড়ি ফুটপাথের উপরে উঠে পড়েছে। তাতে ড্রাইভারের কপাল কেটে যাওয়া ছাড়া আর কারও কিছু হয়নি।…আরে, হাসছ কেন? টায়ারটা যেভাবে ফেটেছে, অন্তত যেভাবে ফেটেছে বলে আমি বুঝতে পারছি, সেটা মোটেই হাসির ব্যাপার নয়। আমার বিশ্বাস, গুলি চালিয়ে টায়ারটাকে ফাটানো হয়েছে। …ওহ্ নো, বুলেটটাকে যে টায়ারের মধ্যে পাওয়া যাবেই, তা কিন্তু আমি বলছি না। যেতে পারে, নাও পারে। …কী করবে, তাও আমি বলব? বেশ, তা হলে শোনো, একটা পিক-আপ ভ্যান পাঠিয়ে গাড়িটাকে এক্ষুনি এখান থেকে সরিয়ে নাও। পরীক্ষা করে দ্যাখো যে, বুলেটটা টায়ারের মধ্যেই রয়ে গেছে কি না। আর বুলেট যদি টায়ার ভেদ করে বেরিয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে পেভমেন্ট কিংবা রাস্তার উপরেও ওটা পেয়ে যেতে পারো। …তুমি আসবে কি না? সে তো তোমার উপরে নির্ভর করছে। আগে তো লোক পাঠিয়ে গাড়িটাকে সরাও, তারপরে সময় করে নিজে যদি একবার আসতে পারো, তা হলে তো খুবই ভাল। …হ্যাঁ, হ্যাঁ, তিনটে নাগাদ যদি আসো, আমাকে বাড়িতেই পাবে। সারাদিন আজ বাড়িতেই আছি, কোথাও বেরুচ্ছি না।”
ভাদুড়িমশাই ফোন নামিয়ে রাখলেন। তারপর মালতীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “ঘরে গ্যাস নেই বলছিলি না?”
মালতী হেসে বলল, “কাল সকাল পর্যন্ত ছিল না। কিন্তু দুপুরে এসে একটা সিলিন্ডার দিয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ গ্যাসের খোঁজ পড়ল কেন? একটু আগেই তো চা দিয়েছি।”
“তাতে তেষ্টা মেটেনি। আর-এক কাপ যদি দিস, তো বড় ভাল হয়।”
সদানন্দবাবু বললেন, “আমার দু’কাপ হয়ে গেছে। এখন আর খাব না।” আমি বললুম, “আমি কিন্তু খাব।”
কৌশিক বলল, “আমিও।”
অরুণ সান্যাল বললেন, “আমাকে তো পুরো এক কাপ তুমি দেবে না। তবে হাফ-কাপ যদি দাও, তো বড় খুশি হই।”
প্রথম রাউন্ডের চায়ের কাপ-প্লেট গুছিয়ে নিয়ে ড্রইংরুম থেকে মালতী বেরিয়ে যাবার পর কৌশিক বলল, “টায়ারটা যে গুলি চালিয়ে ফাঁসানো হয়েছে, তা তুমি বুঝলে কী করে, মামাবাবু?”
মৃদু হেসে ভাদুড়িমশাই বললেন, “এটা তো না-বুঝবার মতো ব্যাপার নয়।”
বললুম, “ঠিক আছে, ঠিক আছে, ধরে নিচ্ছি যে, আপনার কাছে এটা খুবই সহজ…মানে টু প্লাস টু ইজ ইকোয়েল টু ফোরের মতন সিধে-সরল ব্যাপার। কিন্তু, মশাই, তাও যখন আমরা বুঝতে পারছি না, তখন দয়া করে একটু বুঝিয়ে বলবেন?”
ভাদুড়িমশাই আমার কথার কোনও জবাব না দিয়ে কৌশিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, “হ্যাঁরে কৌশিক, তোর কিরণমামা না হয় সারাক্ষণই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন, কিন্তু তোর চোখ তো গোয়েন্দার চোখ, তা হলে এটা তোর চোখে পড়ল না কেন?”
“কী চোখে পড়বে?”
“অ্যাম্বাসাডর গাড়িটা সম্ভবত ফ্যাক্টরি থেকে সদ্য বেরিয়েছে, আর তার টায়ারগুলোও একেবারে ঝকঝকে নতুন।”
“তা কেন চোখে পড়বে না?”
“তা হলে একবার ভেবে দ্যাখ্ যে, নতুন টায়ার কখনও ওইভাবে ফেঁসে যেতে পারে?”
কৌশিক বলল, “তা কেন ফাঁসবে না? চতুর্দিকেই তো নতুন-নতুন বাড়ি উঠছে, তার সঙ্গে ডেকরেটাররাও বানিয়ে চলেছে হাজার রকমের প্যান্ডেল। ফলে রাস্তাঘাটে মর্চে-পড়া অগুন্তি পেরেক এখন ছড়িয়ে থাকে।”
সদানন্দবাবু বললেন, “যা বলেচ। বছর খানেক আগে মর্নিং ওয়াক করবার সময় ওই রকমের একটা মর্চে-পড়া পেরেক আমার পায়ে বিঁধে গেল। ওরেব্বাবা, সঙ্গে সঙ্গে এ.টি.এস.ইঞ্জেকশন নিতে হল, নইলে নির্ঘাত গ্যাংগ্রিন হয়ে মরভূম।”
কৌশিক বলল, “তা একটা পেরেক বিঁধে গিয়ে টায়ার ফেঁসে যেতে পারে না?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা তো পারেই, কিন্তু পেরেক সে-ক্ষেত্রে টায়ারটাকে নয়, টায়ারের ভিতরকার রাবার-টিউবটাকে ফাঁসাবে। টিউবের হাওয়া বেরিয়ে গিয়ে টায়ার সে-ক্ষেত্রে আস্তে-আস্তে চুপসে যাবে ঠিকই, কিন্তু অমন শব্দ করে ফাটবে না। অন্তত নতুন টায়ার যে ওইভাবে ফাটবে না, তা আমি হলফ করে বলতে পারি।’
অরুণ সান্যাল বললেন, “কিন্তু গুলি চালিয়েই যে টায়ার ফাটানো হয়েছে তা আপনি বুঝলেন কী করে?”
“গাড়ির সামনে বাঁ দিকের যে-টায়ারটা ফ্ল্যাট, তার গায়ের একটা দাগ দেখে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “অবশ্য এখনও পর্যন্ত এটা আমার অনুমান ছাড়া আর কিছুই নয়। গাড়িটা এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাক, ফরেনসিক এক্সপার্টরা এসে পরীক্ষা করুক, একমাত্র তখনই বোঝা যাবে যে, আমার অনুমানটা নির্ভুল কি না।”
মালতী এসে ঘরে ঢুকল। সেন্টার টেবিলে চায়ের ট্রে রেখে বলল, “এখন এগারোটা বাজে। ঠিক বারোটার সময় খেতে ডাকব। মাঝখানে আর চায়ের ফরমাশ করা চলবে না।”
কৌশিক বলল, “দ্যাখো মা, তিন মাস বাদে কলকাতায় এসেছি, অত মিলিটারি মেজাজে কথা বোলো না তো।”
আমি বললুম, “ফরমাশ করব কি করব না, সেটা আমাদের ব্যাপার। তবে ফরমাশ করলেই যে সেটা মানতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। তুমি যা ভাল বুঝবে, তা-ই করবে। বাস্, মিটে গেল।
মালতী চলে যাবার পর আমরা যে-যার চায়ের পেয়ালা তুলে নিলুম। কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ কাটল। তারপর অরুণ সান্যাল বললেন, “দিব্যি ছিলুম যতীন বাগচি রোডে। মধ্যবিত্ত পাড়া, সবাই সবাইকে চিনত। আর এখানে তো দেখছি কেউ কারও খোঁজই রাখে না। ভাবতে পারেন, একই বাড়িতে রয়েছি, অথচ পাশের ফ্ল্যাটের ডঃ মিরচান্দানি ছাড়া এ-বাড়ির আর কাউকেই আমি চিনি না। কে কী করেন, চাকরি না ব্যাবসা, তাও আমার জানা নেই। কেন যে এখানে মরতে এসেছিলুম, কে জানে।”
বললুম, “বাঃ, ওখানে রোজ দু’বেলা সিঁড়ি ভেঙে তিনতলায় উঠতে তোমার অসুবিধে হচ্ছিল না?”
অরণ সান্যাল হেসে বললেন, “আমার তেমন অসুবিধে হচ্ছিল না, কিন্তু আপনাদের বোনের ধারণা হচ্ছিল। এমনকি, এও তাঁর মনে হচ্ছিল যে, সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতে গিয়েই নির্ঘাত আমি একদিন হার্টফেল করব।”
সদানন্দবাবু বললেন, “কিন্তু এই ফ্ল্যাটটা যে দারুণ হয়েচে, সেটা তো মানবেন। উঃ, বারান্দায় গিয়ে চারপাশে তাকালে মনেই হয় না যে, কলকাতায় আছি।”
“সেটা ঠিক। কিন্তু যতীন বাগচি রোডে পাড়ার ছেলেরা ওই যে কেউ ‘কাকাবাবু’ বলত, কেউ ‘মেসোমশাই’, সেটা এ-পাড়ায় এসে অব্দি বড্ড মিস করছি। ওখানে বেশ একটা আন্তরিকতার ব্যাপার ছিল মশাই। বিপদে-আপদে সবাইকে পাশে পাওয়া যেত। আমার ওই যে একটা স্ট্রোক-মতো হয়েছিল, তখনকার কথাই ধরুন। দুপুরবেলা, কৌশিক তখন বাড়িতে ছিল না, তো খবর পেয়ে একতলার ফ্ল্যাটের একটি ছেলেই তো তক্ষুনি দৌড়ে গিয়ে একজন ডাক্তার ডেকে নিয়ে এল। তা সেই রকমের সাহায্য যে এখানে পাওয়া যাবে, এমন ভরসা করি না।”
বললুম, “তা কিন্তু তুমি বলতে পারো না, অরুণ। সাহায্য করবার মতন মানুষ কি আর এখানেই নেই? আছে নিশ্চয়। তবে কিনা তুমি সদ্য এসেছ, সকলের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয়নি, আস্তে-আস্তে সেটা হয়ে যাবে, আর তখন দেখবে, অন্যের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসবার মতন মানুষ এ-পাড়াতেও অনেক আছে।”
কৌশিক বলল, “তা তো আছেই। একটু আগেই যা দেখলুম, সেটা একবার ভাবো দিকিনি কিরণমামা ওই যে আলাপ-পরিচয়ের কথা বললেন, তারও সবসময়ে দরকার হয় না, নয়তো কেউ পথের মধ্যে গাড়ি থামিয়ে একেবারে অজানা-অচেনা লোককে ওইভাবে নার্সিং হোমে পৌঁছে দেয়?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “ইনজিওর্ড ভদ্রলোকের বয়স কত হবে রে কৌশিক?”
“দেখে তো তিরিশ পঁয়ত্রিশ বলে মনে হল।”
“আর যিনি তাঁকে নার্সিং হোমে পৌঁছে দেবার জন্যে নিজের গাড়িতে তুলে নিলেন?”
“তাঁর বয়স ষাট-পঁয়ষট্টির বেশি বই কম হবে না। বুড়ো মানুষ। চুল দাড়ি, দুই পেকে গেছে। গোঁফজোড়া ধপধপে সাদা।”
“ভদ্রলোকের নার্সিং হোম কাছেই?”
“তা-ই তো বললেন।”
“গাড়ির নম্বরটা টুকে রেখেছিস?”
“কোন গাড়িটার? যেটা আমাদের ফুটপাথের উপরে পড়ে আছে, না যেটায় করে নার্সিং হোমে নিয়ে গেল?”
“যেটা এখানে পড়ে আছে, তার নম্বর আমি টুকে রেখেছি। কিন্তু যেটায় করে নার্সিং হোমে নিয়ে গেছে শুনছি, সেটা তো আমি দেখিইনি। তবে তুই দেখেছিস। তা সেটার নম্বর টুকে রেখেছিস তো?”
“টুকে রাখিনি, তবে মনে আছে।” কৌশিক বলল, “কেন, নম্বরটা তোমার দরকার?”
“এখুনি কোনও দরকার হচ্ছে না, তবে পরে হয়তো দরকার হতে পারে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওটা টুকে রাখ।”
চুপচাপ মামা-ভাগ্নের কথা শুনে যাচ্ছিলুম। শুনতে-শুনতে একটা সন্দেহ যে মনের মধ্যে উঁকি মারতে শুরু করেছিল, সেটা অস্বীকার করব না। বললুম, “একটা প্রশ্ন করতে পারি?”
ভাদুড়িমশাই মৃদু হেসে বললেন, “স্বচ্ছন্দে।”
“এই যে এক ভদ্রলোক পথের মধ্যে তাঁর গাড়ি থামিয়ে ইনজিওর্ড এক ভদ্রলোককে নার্সিং হোমে নিয়ে গেলেন, আপনি সম্ভবত এটাকে একটা জেনুইন পরোপকারের ব্যাপার বলে মনে করছেন না। ঠিক?”
“সে কী কথা?” ভাদুড়িমশাইয়ের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল না বটে, কিন্তু চোখের ভুরু আধ-ইঞ্চিটাক উপরে উঠে গেল। “এটা একটা নিছক পরোপকারের ব্যাপার তো হতেই পারে।”
সদানন্দবাবু বললেন, “তা-ই বলুন মশাই। আপনার কথাবার্তার ধরন দেখে আমারও কেমন যেন একটু ধন্দ লেগে যাচ্ছিল।”
অরুণ সান্যাল বললেন, “আমারও মনে হচ্ছিল ইউ আর স্মেলিং আ র্যাট।”
ভাদুড়িমশাই এবারে হোহো করে হেসে উঠলেন। তারপর হাসি থামিয়ে বললেন, “আরে দূর, তা-ই তোমরা বুঝলে নাকি? একজনের বিপদে আর-একজন এগিয়ে আসবে, এমনিতে দেখতে গেলে এ তো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে কিনা…
কৌশিক বলল, “দ্যাখো মামাবাবু, তোমার ওই ‘তবে কিনা’ কথাটাই ঘোর সন্দেহজনক। ঠিক কী ভাবছ তুমি বলো তো?”
“এখুনি কিছু ভাবছি না।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “তবে কিনা পুলিশি পরীক্ষায় সত্যি যদি দেখা যায় যে, টায়ারটা এমনি-এমনি ফাটেনি, গুলি চালিয়ে ওটা ফাটানো হয়েছে, তা হলে কিন্তু সেটা ভাবনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।”
আমি বললুম, “ঠিক আছে, তর্কের খাতিরে না হয় ধরেই নিলুম যে, গুলি চালিয়ে টায়ার ফাটানো হয়েছে। কিন্তু সেটা ফাটানো হল কেন?”
ভাদুড়িমশাই বললেন, “সেটা তো যে গুলি চালিয়েছে, একমাত্র তার পক্ষেই বলা সম্ভব। আমরা শুধু অনুমানই করতে পারি।”
অরুণ সান্যাল বললেন, “বেশ তো আপনার অনুমানের কথাটাই বলুন।”
“এমন হতে পারে যে, লোকটি কোনও জিনিস কোথাও পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল, কিন্তু মাঝপথে একটা অ্যাক্সিডেন্ট ঘটিয়ে তাকে সেখানে যেতে দেওয়া হল না। …হ্যাঁরে, কৌশিক, গাড়ির মধ্যে কিছু ছিল?”
কৌশিক বলল, “কিচ্ছু ছিল না, মামাবাবু।”
“ডিকিটা দেখেছিস?”
“তালা খুলে দেখবার দরকার হয়নি, ডিকিটা খোলাই ছিল। কিন্তু না, ডালা তুলে দেখেছি, তাতেও কিছু নেই।”
ছোটখাটো জিনিস হলে লোকটির পকেটেও সেটা থাকতে পারে। কিংবা এমনও হতে পারে যে, জিনিস-টিনিস নয়, লোকটি কাউকে কোনও খবর পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু তাকে যেতে দেওয়া হল না। তার বদলে কোথায় নিয়ে যাওয়া হল? না একটা নার্সিং হোমে। সেটা কোথায়? না খুব কাছেই। …ওহে অরুণ, তুমি তো ডাক্তার মানুষ, তা এখানে ধারেকাছে ক’টা নার্সিং হোম আছে, তুমি জানো নিশ্চয়?”
অরুণ সান্যাল বললেন, “তা সাত-আটটা তো আছেই। চান তো আমার নোট-বই দেখে সেগুলোর ফোন-নম্বরও আপনাকে দিতে পারি।”
“আমাকে দিতে হবে না, কৌশিককে দাও।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কৌশিক ফোন করে দেখুক যে, কাচে ধাক্কা খেয়ে কপাল কেটে গেছে, এমন কোনও রুগিকে গত এক ঘন্টার মধ্যে কেউ তার কোনওটাতে নিয়ে গেছে কি না।”
ফোন পাশের ঘরে। বাবার কাছ থেকে ফোন-নম্বরগুলি নিয়ে কৌশিক পাশের ঘরে গিয়ে ঢুকল। তারপর আধ-ঘন্টাটাক বাদে ড্রইংরুমে ফিরে এসে বলল, “অদ্ভুত ব্যাপার!”
ভাদুড়িমশাইয়ের চোখ দেখলুম সরু হয়ে এসেছে। সরাসরি কৌশিকের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, “নার্সিং হোমের লোকেরা কী বলল?”
“সবাই একই কথা বলল। এখনও পর্যন্ত অমন কোনও রুগি তারা পায়নি।”
