পাঁচ
বাসন্তী দেবীর অনুরোধে কর্নেল বললেন, ঠিক আছে, যদি আপনার কোনও কথা বলার থাকে, এখানে দাঁড়িয়েই বলতে পারেন।
বাসন্তী দেবী বললেন,–দাদা এখন বাথরুমে আছেন। তা না হলে দাদাই বলতেন। ছোড়দা মহীন প্রায়ই বলত, সে আমাদের পূর্বপুরুষের লুকিয়ে রাখা এক ঘড়া সোনার মোহর কোথায় আছে তা জানে, কিন্তু সেকথা সে জানাতে পারবে না। কারণ, এক রাত্রে স্বপ্নে তাকে তার ঠাকুরদা নাকি দেখা দিয়ে বলেছেন, তুই যা জেনেছিস তা যেন অন্যে জানতে না পারে। অন্যকে তুই মোহরের ঘড়ার খবর দিলে মুখে রক্ত উঠে মরবি। তাই আমাদের ঠাকুরবাড়িতে হাড়িকাঠের পাশে রক্ত দেখার সঙ্গে-সঙ্গেই আমার মনে হয়েছিল তাহলে মহীনই হয়তো শচীনকে কথাটা বলে দিয়েছিল। তাই মুখে রক্ত উঠে সে মরেছে। আর শচীন তার লাশটা তুলে কোথাও পুঁতে ফেলেছে।
চণ্ডীবাবু বলে উঠলেন,–কী সর্বনাশ! উনি ওই গোবেচারা শচীনকেই সন্দেহ করে ফেললেন? শচীনের মতো রোগাটে গড়নের লোক তার কাকার লাশ একা ওঠাতে পারে?
বাসন্তী দেবী বিব্রত মুখে বললেন,–না, মানে আমি ভেবেছিলুম শচীনের সঙ্গে তার বন্ধুরাও হয়তো ছিল।
চণ্ডীবাবু হো-হো করে হেসে উঠলেন। কর্নেল বললেন, আপনি কি আপনার বড়দাকে একথা বলেছিলেন? কিংবা কোনও ছলে শচীনকেও এরকম কোনও আভাস দিয়েছিলেন?
বাসন্তী দেবী বললেন,–না, কথাটা আমি কাকেও বলিনি। এমন কথা কি বলা যায়? কর্নেল বললেন, তখন আপনার এরকম ধারণা হয়েছিল, এখন আপনার কী ধারণা? বাসন্তী দেবীর কান্না এসে গেল। আত্মসম্বরণ করে বললেন, আমার ছোড়দার মতো সন্ন্যাসী সাদাসিধা মানুষকে খুন করার পেছনে আর কী কারণ থাকতে পারে, এবার আপনারাই বলুন। আমার মনে হচ্ছে নিশ্চয়ই সে দৈবাৎ মুখ ফসকে কোনও দুষ্ট লোককে কথাটা বলে ফেলেছিল। তারপর অভিশাপ লেগে ছোড়দা মুখে রক্ত উঠে মরেছে। তবে আমি কিন্তু আমাদের বাড়ির চারপাশে সব জায়গা তন্নতন্ন করে খুঁজেছি, কোথাও কোনও গর্ত খোঁড়া দেখতে পাইনি। তবে এমনও হতে পারে মোহর ভরতি ঘড়া এর বাইরে কোথাও পোঁতা ছিল।
চণ্ডীবাবু বললেন, পুলিশ তো এই এলাকা তন্নতন্ন খুঁজেছে, যদি কোথাও মহীনকে পুঁতে রাখা হয় তার খোঁজ মিলবে। কিন্তু তেমন কোনও চিহ্নই তারা পায়নি।
এই সময়েই বারান্দার ওপাশে বাথরুম থেকে এক রুণ চেহারার ভদ্রলোক বেরিয়ে আসতেই বাসন্তী দেবী হন্তদন্ত গিয়ে তাকে ধরলেন। বললেন,–সাড়া দিলেই তো আমি যেতুম।
ভদ্রলোকের চেহারায় শচীনবাবুর ছাপ স্পষ্ট। উনি তাহলে শচীনবাবুর বাবা অহীনবাবু। বাসন্তী দেবীর কাঁধে ভর দিয়ে একপা-একপা করে এগিয়ে এসে তিনি ঘরের দরজার কাছে দাঁড়ালেন। বললেন, কারা যেন বসে আছে।
বাসন্তী দেবী বললেন,–চণ্ডীদা এসেছেন। আর তার সঙ্গে কলকাতার সেই কর্নেলসাহেবরা এসেছেন। যাঁদের কাছে শচীন গিয়েছিল।
অহীনবাবু ছেলেমানুষের মতো কেঁদে উঠলেন। বললেন,–আমার সাদাসিধে সরল ভাইটাকে কারা মেরে ফেলল।
চণ্ডীবাবু উঠে গিয়ে তাকে ধরে বললেন,–ঘরে চলুন। এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আপনার কষ্ট হবে।
চণ্ডীবাবু এবং বাসন্তী দেবী অহীনবাবুকে ঘরে তার বিছানায় শুইয়ে রেখে বাইরে এলেন। সেই সময়েই কর্নেল বাসন্তী দেবীকে বললেন,–একটা কথা আমার জানতে ইচ্ছে করছে। শচীনবাবুর একটা পায়ে গণ্ডগোল আছে। আমি লক্ষ করেছি, উনি মোটা ছড়ির সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না।
বাসন্তী দেবী বললেন,–ওঁর বাঁ-পায়ের পাতা জন্ম থেকেই একটু বাঁকা। তাই ছোটবেলা থেকেই খুঁড়িয়ে হাঁটত শচীন। স্কুল যেত একটা মোটাসোটা বেতের ছড়িতে ভর দিয়ে। ছাত্ররা ওকে খোঁড়ামাস্টার বলে আড়ালে ভেংচি কাটত।
চণ্ডীবাবু তখনই হাসতে-হাসতে বললেন,–বেচারা খোঁড়া মাস্টারের ওপর তুমি সন্দেহ করে ভেবেছিলে, সে নাকি তার কাকার লাশ গুম করেছে!
বাসন্তী দেবী জিভ কেটে বললেন,–না-না, মানে ওর দু-একজন বন্ধু আছে, তারা তো ভালো লোক নয়। তুমি তাদের চেনো চণ্ডীদা। কায়েতপাড়ার গোপেন আর ওই যে একচোখা লোকটা–কী যেন নাম। সদগোপপাড়ায় বাড়ি
চণ্ডীবাবু বললেন,–ভুতুর কথা বলছ?
বাসন্তী দেবী চাপাস্বরে বললেন, কিছুদিন আগে থেকে গোপেন আর ভুতু ঘনঘন এ-বাড়িতে আসত। শচীনের সঙ্গে আড্ডা দিত। এখন আর আসে না।
কর্নেল বললেন,–পুলিশকে কি আপনি একথা জানিয়েছেন?
বাসন্তীদেবী করজোড়ে চাপাস্বরে বললেন,–মিনতি করে বলছি বাবা, একথা যেন কেউ জানতে না পারে। ওরা দুজনেই খুব বজ্জাত লোক। পুলিশের খাতায় ওদের নাম আছে–তাই না চণ্ডীদা?
চণ্ডীবাবু বললেন,–ওরকম অনেকের নামই পুলিশের খাতায় আছে। যাই হোক, তুমি আর যেন কারুকে মুখ ফসকে এসব কথা বলে ফেলো না।
চাটুজ্যেবাড়ি থেকে রাস্তার দিকের সদর দরজা দিয়ে আমরা বেরিয়ে গেলুম। তারপর কর্নেল বাড়ির পেছনের দিকটা বাইনোকুলারে দেখে নিয়ে বললেন,–রাতবিরেতে ভূতেরা অনায়াসে শচীনবাবুদের বাড়ির ছাদে উঠে দাপাদাপি করতে পারে। ঢিলও ছুঁড়তে পারে।
এরপর আমরা রাস্তার উত্তরদিকে এগিয়ে বাঁ-দিকের সেই পুকুরপাড়ে গেলাম। তার নীচেই চণ্ডীবাবুর গাড়ি আছে। কতকগুলো বাচ্চা ছেলে আমাদের দেখামাত্র ডানদিকে আমবাগানের ভেতর পালিয়ে গেল। বোঝা গেল তারা মোটর গাড়িটা নিয়ে ইচ্ছে মতো খেলা করছিল। চণ্ডীবাবু গাড়ির লক খুলছেন, এমন সময় কর্নেল বললেন,–একটা অপেক্ষা করুন। আমি পুকুরের পূর্বদিকটা দেখে আসি।
আমি কর্নেলকে অনুসরণ করলুম। পুকুরপাড়ের নীচে একটা পোড়ো জমি। তার একদিকে বাঁশবন। কর্নেল পোডড়া জমি দিয়ে আরও খানিকটা এগিয়ে গেলেন। তারপর বললেন,–এদিকটায় বসতি নেই দেখছি!
কোথাও কোথাও ফসলের খেত, কোথাও আখচাষ করা হয়েছে। হঠাৎ দেখলুম কর্নেল আরও খানিকটা এগিয়ে গিয়ে চাটুজ্যেবাড়ির পাঁচিলের নীচে থেকে দুটো নুড়ি-পাথর কুড়িয়ে নিলেন। বললুম,–কী আশ্চর্য! ভূতের ঢিলগুলো বাড়ির ভেতরে পড়ার কথা। পড়েওছিল। এখানে এই নুড়িগুলো কে রাখল?
কর্নেল তার পিঠে-আঁটা কিটব্যাগের চেন টেনে তার ফাঁক দিয়ে নুড়ি-পাথর তিনটে ভেতরে ঢোকালেন। তারপর চেন টেনে কিটব্যাগের মুখ বন্ধ করলেন। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলারে বাঁশবনের ভেতরটা একবার দেখে নেওয়ার পর বললেন,–চলো, ফেরা যাক।
তাকে অনুসরণ করে বললুম,–ওখানে নুড়ি-পাথর পড়ে থাকাটা খুব রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
কর্নেল বললেন,–হ্যাঁ, রহস্য তো এখন আমাদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে।
বললুম,–বাসন্তীদেবীকে বলা উচিত ছিল হাড়িকাঠের রক্তটা মানুষের নয়।
কর্নেল মুখ ঘুরিয়ে চোখ কটমট করে বললেন,–মুখটি বুজে থাকবে।
গাড়ির কাছে গেলে চণ্ডীবাবু বললেন,–আপনাকে খুব ব্যস্ত দেখাচ্ছিল। অমন করে পাঁচিলের ধারে হুমড়ি খেয়ে কী দেখছিলেন। রক্ত? ওখানেই এক পাটি স্যান্ডেল পাওয়া গেছে।
কর্নেল হাসতে-হাসতে বললেন, আমি দ্বিতীয় পাটি স্যান্ডেলটা খুঁজে দেখছিলুম।
চণ্ডীবাবু গাড়িতে উঠে বললেন,–আর-এক পাটি জুতো নিশ্চয়ই গঙ্গাগর্ভে ছুঁড়ে ফেলেছে ওরা।
কর্নেল আগের মতো গাড়ির সামনের সিটে বাঁদিকে বসলেন। আমি বসলুম পেছনে। চণ্ডীবাবু স্টার্ট দিয়ে গাড়ির মুখ সবে ঘুরিয়েছেন, এমন সময় আমবাগানের ভেতর থেকে ছুটে আসতে দেখলুম হালদারমশাইকে। তিনি যে এত জোরে ছুটতে পারেন তা দেখার সৌভাগ্য কোনওদিন আমার হয়নি। কর্নেলের কথায় ততক্ষণে চণ্ডীবাবু গাড়ি দাঁড় করিয়েছিলেন। হালদারমশাইয়ের সোয়েটারে এবং প্যান্টের এখানে-ওখানে কাদার ছোপ। উনি হাঁফাতে-হাঁফাতে বললেন, আমি কর্নেলসাহেবেরে দেইখ্যাই ছুট দিসিলাম। ওঃ কী কাণ্ড!
আমি দরজা খুলে দিলে তিনি ভেতরে ব্যাক সিটে বসলেন। তারপর পকেট থেকে নস্যির কৌটো বের করে এক টিপ নস্যি নিলেন।
সামনে থেকে কর্নেল জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি কারুর সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করছিলেন হালদারমশাই। আপনার পোশাকে অত কাদার ছোপ কেন?
গোয়েন্দাপ্রবর নোংরা রুমালে নাক মুছে বললেন,–না কর্নেলস্যার, একজনেরে ফলো কইর্যা যাইতেছিলাম। আমবাগানের শেষ দিকটার খানিকটা জায়গা ঝোঁপজঙ্গলে ঢাকা। তার ওধারে একটা বসতি।
চণ্ডীবাবু বললেন,–ওটা জেলেপাড়া।
হালদারমশাই বললেন,–যারে ফলো করসিলাম, সে একখানে খাড়াইয়া যেন কারো লাইগ্যা ওয়েট করত্যাসিল। তারপর একজন আইয়া তারে কইল-খবর কও। তারপর দুইজনে চাপাস্বরে কী কথা হইল আমি শুনি নাই। তাই সাপের মতন উপুড় হইয়া আউগাইয়া যাইতেসিলাম। তখনই পোশাকে কাদা লাগসে। মাটিটা নরম।
কর্নেল বললেন,–তারপর কিছু শুনতে পেলেন?
হালদারমশাই বললেন,–নাঃ! ওরা দুইজনে সেখান থিক্যা উধাও হইয়া গেল।
কর্নেল জিগ্যেস করলেন,–আপনি কাকে ফলো করেছিলেন?
হালদারমশাই বললেন,–তারে চিনি না, কিন্তু আমি বাঁশঝাড়ের ভেতরে যখন আর-এক পাটি জুতা খুঁজত্যাছিলাম, তখনই লোকটারে চোখে পড়সিল। সে শচীনবাবুগগা বাড়ির পাঁচিলের বাহির দিয়া আইত্যাসিল। তারপর একখানে খাড়াইয়া ছিল। আমাকে সে কীভাবে ট্যার পাইল কে জানে। সে আমবাগানের ভেতর দিয়া উধাও হইয়া গেল। কাজেই তারে ফলো না কইর্যা উপায় ছিল না।
চণ্ডীবাবু জিগ্যেস করলেন,–লোকটার চেহারা কেমন? পরনে কী পোশাক ছিল?
হালদারমশাই বললেন,–লোকটার চেহারা এক্কেরে ভূতের মতন কালো।
আমি না বলে পারলুম না,ভূতের গায়ের রং কালো, তা কি আপনার পুলিশ লাইফে দেখেছেন?
হালদারমশাই সহাস্যে বললেন,–না ওটা কথার কথা। লোকটার মুখের চেহারা এমনিতেই কুৎসিত। আর একখানা চক্ষু নাই। পরনে যেমন-তেমন একটা ফুলপ্যান্ট, আর সোয়েটার। মাথায় মাফলার জড়ানো ছিল।
চণ্ডীবাবু বলে উঠলেন, তাহলে বাসন্তীর কথাই ঠিক। ওই লোকটা সেই একচোখে বজ্জাত ভুতু।
গোয়েন্দাপ্রবর হাসতে-হাসতে বললেন,–এক্কেরে মানানসই। ভূতের নাম ভুতু হইলে সে মানুষ-ভূত। হ্যাঁ, যে লোকটা তারে দেখা করতে আইসিল, তার চেহারা ভদ্রলোকের মতন। কিন্তু তার গোঁফখানা দেইখ্যা মনে হইসিল, লোকটা দাগি আসামি। ওই যে কথায় আসে না, শিকারি বিড়ালের গোঁফ দেখলে চেনা যায়! ওইরকম গোঁফ ভদ্রলোক রাখে না।
কর্নেল বললেন,–ঠিক আছে, আপনি পুলিশের সামনে যেন মুখ ফসকে এসব কথা বলবেন না।
চণ্ডীবাবু বললেন, আমার খুব অবাক লাগছে। বাসন্তী তাহলে ঠিকই সন্দেহ করেছিল। দ্বিতীয় লোকটার নাম গোপেন। ওর বাবাকে লোকে বলত পোড়াসিংঘি। কারণ, ওর বাবা গোপাল সিংহের মুখের একটা পাশ ছোটবেলায় পুড়ে গিয়েছিল। কেউ-কেউ অবশ্য পোড়া কায়েতও বলত। তার ছেলে গোপেন যে গুণ্ডামি করে বেড়াবে, এমনকি ডাকাত দলেও নাম লেখাবে, এটা কেউ কল্পনা করতেও পারেনি।
কর্নেল বললেন, আপনারা শচীনবাবুকে এসব কথা যেন বলবেন না। দরকার হলে আমি শচীনবাবুর সঙ্গে কথা বলে ওই লোকদুটোর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বতার কারণটা খুঁজে বের করব।
চণ্ডীবাবুর বাড়ি পৌঁছুনোর পর হালদারমশাই সোয়েটার এবং প্যান্টের কাদা পরিষ্কার করতে বাথরুমে ঢুকলেন। চণ্ডীবাবু দোতলায় নিজের ঘরে চলে গিয়েছিলেন। শুধু কার্তিক আমাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল। সে বলল,–সায়েবরা এবার নিশ্চয়ই কফি খাবেন?
কর্নেল বললেন, হ্যাঁ, এক কাপ কফি পেলে ভালো হয়।
কার্তিক চলে যাওয়ার পর কর্নেল চাপাস্বরে বললেন,–জয়ন্ত, এখন তোমার কী মনে হচ্ছে, আমাকে খুলে বলো।
একটু ভেবে নিয়ে বললুম,–আমার মনে হচ্ছে, মহীনবাবুকে কোথাও ওই ভুতু আর গোপেন মিলে জোর করে আটকে রেখেছে। তার ওপর অত্যাচার করে পূর্বপুরুষের লুকিয়ে রাখা সোনার মোহর ভর্তি ঘড়া কোথায় আছে, তা জানার জন্যে ওরা চেষ্টা করছে। আর শচীনবাবু সম্ভবত সেই সোনার মোহরের লোভে ওদের ফাঁদে পা দিয়েছে।
কর্নেল বললেন, তাহলে শচীনবাবু চণ্ডীবাবুর কাছে পরামর্শ চাইতে গিয়েছিলেন কেন? আর যদি বা গেলেন, তিনি চণ্ডীবাবুর মুখে আমার পরিচয় পেয়েই গিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার মতো একজন খোঁড়া মানুষ এতটা ঝুঁকি নেবেনই বা কেন?
এই সময়েই চণ্ডীবাবু ঘরে ঢুকে বললেন,–কফি আসছে। আর যার জন্য কর্নেল সাহেব মনে-মনে অপেক্ষা করছিলেন, সেই শচীনও তার গাবদা মোটা ছড়িটা নিয়ে গেটে ঢুকছে দেখলুম।
কর্নেল বললেন,–বাঃ, সুখবর। তবে আপনি কফি খেয়েই কাজের অছিলায় এ-ঘর থেকে যেন কেটে পড়বেন।
