চার
কর্নেল নীলাদ্রি সরকার একটু ঝুঁকে লাল রঙের ছিটেগুলো আতস কাচে খুঁটিয়ে দেখার পরও নিশ্চিত হতে পারেননি, জিনিসটা রক্ত কি না। পাথরটা মসৃণ এবং বেলেপাথর। এখানেই ফাদার পিয়ার্সন নাকি একটা পার্কমতো করেছিলেন। তার কোন চিহ্ন আর নেই। শুধু এই পাথরটা ছাড়া। নদীটা ফুটতিনেক নীচে। প্রপাতের জলাশয় থেকে মাটি ক্রমশ বেগে। নদীগর্ভে ডুবো পাথর থাকার দরুন জলোচ্ছ্বাসপূর্ণ আর আবর্তসঙ্কুল। নদীতে কেউ পড়ে গেলে তার বাঁচার আশা নেই, তা সে যতই দক্ষ সাঁতারু হোক না কেন।
কিন্তু লাল রঙের ছিটেগুলো এখনও জ্বলজ্বল করছে। রক্ত বা রঙ যা-ই হোক ওগুলো টাটকা।
নীল সারদসম্পতির কথা ভুলে গেলেন কর্নেল। এ মুহূর্তে সোমক চ্যাটার্জির সঙ্গে দেখা করা জরুরি।
হনিমুন লজের দিকে উঠে যেতে যেতে নিজের এই আচরণের প্রতি বিরক্ত হচ্ছিলেন কর্নেল। কিন্তু এখন তাঁর ভূতগ্রস্ত দশা। মাঝে মাঝে বাইনোকুলার তুলে তিনি তখনও ঋতুপর্ণাকে খুঁজছিলেন। শেষবার খোঁজায় সময় দক্ষিণ পশ্চিম দিকে জঙ্গলের ফাঁকে এক মুহূর্তের জন্য সুভদ্রা দেবীকে দেখতে পেলেন। ভদ্রমহিলা ব্রেকফাস্টের পর আবার জলপ্রপাতের দিকে চলেছেন। বহু মানসিক রোগীর অবচেতনায় কোনও বিষয়ে একটা বদ্ধমূল বিশ্বাস থাকে, ইংরেজিতে যাকে বলে ফিক্সেশন।
ডাইনিংয়ে সোমক একা। ব্রেকফাস্ট প্রায় শেষ। সে সিগারেট ধরিয়ে হেলান দিয়ে বসে আছে। চোখ বন্ধ। রিসেপশন কাউন্টারে রঘুবীর নেই। সিদ্ধেশ নামে এক কর্মচারী খবরের কাগজ পড়ছে। কর্নেলকে একবার সে দেখে নিয়ে কাগজে মন দিল। কর্নেল সোমকের টেবিলের সামনে গিয়ে আস্তে বললেন, বসতে পারি?
সোমক তাকাল। নির্লিপ্ত মুখ বলল, পারেন। তবে সব টেবিলই খালি আছে।
কর্নেল একটু হেসে বললেন, কিছুক্ষণ আগে আমি ব্রেকফাস্ট সেরে নিয়েছি।
আপনি আমার সঙ্গে আলাপ করতে চান। ইজ ইট?
দ্যাটস রাইট মিঃ চ্যাটার্জি!
কর্নেল বসলেন। সোমক বলল, আমাকে আপনি চেনেন মনে হচ্ছে। কিন্তু আপনাকে এখানে এই প্রথম দেখছি। আমাদের মধ্যে অবশ্য আলাপ-পরিচয় হয়নি। কে আপনি?
কর্নেল তার নেমকার্ড দিতে গেলে সোমক বলল, থ্যাঙ্কস্। ম্যানেজারের কাছে শুনেছি আপনি একজন রিটায়ার্ড কর্নেল। আপনার নেমকার্ডের দরকার আমার নেই।
কর্নেল চুরুট ধরিয়ে বললেন, আমি একজন নেচারিস্ট। প্রকৃতি সম্পর্কে আমার প্রচুর আগ্রহ আছে।
বেশ তো!
আপনি–মানে আপনারা কিছুক্ষণ আগে নদীর ধারে বসে ছিলেন। আপনার সঙ্গিনী কোথায় গেলেন?
সোমক আগের মতোই নির্লিপ্ত কণ্ঠস্বরে বলল, আপনি নেচারিস্ট। প্রকৃতি সম্পর্কে আপনার নাকি আগ্রহ আছে। তো হঠাৎ আমাদের সম্পর্কে আপনার আগ্রহের কারণ কী জানতে পারি?
আপনারা নদীর ধারে যে পাথরটার ওপর বসে ছিলেন, সেখানে এইমাত্র একটু রক্ত দেখে এলাম।
সোমক এবার একটু চমকে উঠল। রক্ত?
সম্ভবত।
আপনি কী বলতে চাইছেন?
কিছু না। এবার যা বলার তা আপনিই বলুন!
ননসেন্স! ঋতুপর্ণার সঙ্গে আজ মর্নিংয়ে আমার আলাপ হয়েছে। তাকে আমি এর আগে কখনও দেখিনি। নদীর ধারে গল্প করার ছলে সে আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। সোমক উত্তেজনা দমন করে শ্বাস ছাড়ল। ফের বলল, কথা বলতে বলতে সে হঠাৎ উঠে গেল।
কোন দিকে গিয়েছিল সে?
উত্তরে রাস্তার দিকে। সোমক বিকৃত মুখে বলল, আমি অপমানিত বোধ করলাম। একটু বসে থাকার পর চলে এলাম।
আপনি তাকে কিছু জিজ্ঞেস করেননি?
আই ওয়াজ সো পাজড়–সোমক তীক্ষ্ণদৃষ্টে কর্নেলের দিকে তাকাল। এখন আপনি বলছেন ওখানে নাকি রক্ত দেখে এলেন! আমি কিছু বুঝতে পারছি না। আপনার যদি মনে হয়ে থাকে, আমি মিথ্যা কথা বলছি–তার মানে আমি ঋতুপর্ণাকে মার্ডার করেছি–হাউ ফানি কাউকে মেরে ফেলতে চাইলে ধাক্কা মেরে নীচে নদীতে ফেলে দেওয়াই যথেষ্ট নয় কি?
কর্নেল মাথা দোলালেন। দ্যাটস্ রাইট। বাট বাই এনি চান্স
বলুন!
কেউ ঝোপের আড়াল থেকে ঋতুপর্ণাকে গুলি করলে আপনার পক্ষে তখনই ছুটে পালিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ছিল।
সোমক সিগারেট অ্যাশট্রেতে ঘষটে নিভিয়ে বলল, আমি মিথ্যা বলেছি, আগে তা প্রমাণের দায়িত্ব আপনার। বাট–হু আর ইউ?
কর্নেল গম্ভীর মুখে বললেন, দেখুন মিঃ চ্যাটার্জি, ঋতুপর্ণার ভাগ্যে সাংঘাতিক কিছু ঘটলে আপনার একটা দায়িত্ব থেকে যাবে। ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড ইট?
ইজ ইট এ থ্রেটনিং কর্নেলসায়েব?
দ্যাট ডিপেন্ডস।
সোমক উঠে দাঁড়াল। আপনার কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই। ইউ আর এ ফানি ওল্ডম্যান! এটা দেখছি আসলে লুনাটিক অ্যাসাইলাম। মিসেস ঠাকুরও আমাকে যত সব আবোলতাবোল কথা বলছিলেন। উনিও আপনার মতো যত্র-তত্র রক্ত বা ডেডবডি দেখতে পান।
কর্নেল মৃদু স্বরে বললেন, আপনার সহযোগিতা চাইছি মিঃ চ্যাটার্জি।
বাট ইউ আর ইমাজিনিং ফানি থিংস!
বলে সোমক সোজা করিডরের দিকে এগিয়ে গেল। তারপর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে থাকল। কর্নেল রিসেপশনের দিকে ঘুরে বললেন, সিদ্ধেশ! তোমাদের ম্যানেজার কোথায়?
সিদ্ধেশ বলল, উনি মার্কেটিংয়ে গেছেন স্যার!
আমি এক পেয়ালা কফি চাইছি সিদ্ধেশ।
সিদ্ধেশ বেরিয়ে এসে কিচেনের দিকে গেল। কর্নেল চোখ বুজে চেয়ারে হেলান দিলেন। সোমক চ্যাটার্জির প্রতিক্রিয়া স্মরণ করতে থাকলেন। তারপর তার মনে হল, রক্ত পড়ে থাকার কথা শুনে সোমকের তখনই নদীর ধারে গিয়ে স্বচক্ষে তা দেখে আসা স্বাভাবিক ছিল। কথাটা শোনামাত্র এটাই এক্ষেত্রে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অথচ সোমক রক্তের কথা শুনে চমকে উঠেছিল। হু, সম্ভবত সে গোপন করেছে।
রিসেপশনের দিকে টেলিফোন বেজে উঠল। কর্নেল দ্রুত উঠে গিয়ে ফোন ধরে সাড়া দিলেন। কেউ ইংরেজিতে বলল, হনিমুন লজ?
হনিমুন লজ।
ম্যানেজার রঘুবীর রায় বলছেন?
উনি বেরিয়েছেন। আপনি কে বলছে—
চিনবেন না। আপনি-প্লিজ দেখুন তো দোতলার ৪ নম্বর স্যুইটের কর্নেল সায়েব আছেন কি না?
কর্নেল অবাক হলেন। একটু ইতস্তত করে বললেন, তাকে কি খুবই দরকার?
দিস ইজ আর্জেন্ট।
হুঁ। বলুন!
বলুন মানে? আপনাকে কী বলার আছে? আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন না কী বলছি?
পাচ্ছি। কিন্তু আপনি কে সেটা জানা দরকার।
ড্যাম ইট! আমি কর্নেল সায়েবের সঙ্গে কথা বলতে চাইছি। শিগগির দেখুন। উনি আছেন কি না।
আছেন। এখানেই আছেন।
তা হলে তাকে ফোন দিচ্ছেন না কেন?
কর্নেল এতক্ষণ চাপা কণ্ঠস্বরে কথা বলছিলেন। ফোন একপাশে রেখে দেখলেন সিদ্ধেশ নিজের হাতে কফির কাপপ্লেট আনছে। ইসারায় তাকে একটা টেবিলে কফি রাখতে বলে আবার ফোন তুললেন। ভরাট গলায় সাড়া দিলেন, কর্নেল নীলাদ্রি সরকার বলছি।
কর্নেল সরকার! আমি কে, তা জানাতে চাই না। তবে আপনাকে আমি জানি। ফর ইওর ইনফরমেশন, হনিমুন লজ এরিয়ায় একটা সাংঘাতিক মিসহ্যাপ হয়েছে।
মিসহ্যাপ? হোয়াটস্ দ্যাট?
এ মার্ডার।
ফানি! কে কাকে মার্ডার করল?
ধারানগরের কাছে বাঁকের মুখে জেলেরা এইমাত্র একটা ডেডবডি পেয়েছে। পুলিশের কাছে খবর গেছে। ডেডবডিটা আমি দেখামাত্র চিনেছি। ঋতুপর্ণা রায়।
আমার জোক শোনার মুড নেই। আপনি কি তার স্বামী শোভন রায় বলছেন?
শোভন রায়কে আমি চিনি না। তবে ঋতুপর্ণাকে চিনি। আমি কে তা জানতে চাইলে বলব না। আপনি ইচ্ছে করলে এখনই থানায় ফোন করে জেনে নিতে পারেন। ছাড়ছি।
ওয়েট, ওয়েট! ঋতুপর্ণা মার্ডার্ড, তা কী করে বুঝলেন? সে দৈবাৎ নদীতে পড়ে গিয়ে
তার মাথার পিছনে ক্ষতচিহ্ন আছে কর্নেল সরকার। শি ওয়াজ শট ফ্রম হার ব্যাক।
লাইন কেটে গেল। কর্নেল একটু পরে ফোন রেখে দেখলেন, সিদ্ধেশ তার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। সে বলল, কোথায় কে মার্ডার হয়েছে স্যার?
ধারানগরে। তবে এ কিছু না। কর্নেল একটু হাসলেন। চেপে যাও সিদ্ধেশ! খামোকা পুলিশের হাঙ্গামায় জড়িয়ে লাভ নেই।
কর্নেল কাউন্টার থেকে বেরিয়ে এলেন। সিদ্ধেশ ভয় পাওয়া গলায় বলল, স্যার! আমাদের বোর্ডারদের কেউ নয় তো?
জানি না। আমার এক বন্ধু ধারানগর থেকে ফোন করে কথাপ্রসঙ্গে খবর দিল।
কর্নেল চেয়ার টেনে বসে কফিতে চুমুক দিলেন। তার ইনটুইশন মাঝে মাঝে সক্রিয় হয়ে ওঠে। টেলিফোন বেজে ওঠার পর তিনি কাউন্টারে বেশ জোরে এগিয়ে গিয়ে রিসিভার তুলেছিলেন অবশ্য এর একটা ব্যাখ্যা অন্যভাবেও করা যায়। ঋতুপর্ণা সম্পর্কে তার আগ্রহ জেগেছিল এবং সিদ্ধেশ বলছিল, শোভন রায় একটু আগে ফোনে ওকে ডেকে দিতে বলেছিল। তাই তিনি শোভন রায়ের ফোন ভেবেই ওভাবে হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে ফোন তুলেছিলেন।
সিদ্ধেশ আস্তে বলল, একটা কথা বলব স্যার!
বলো সিদ্ধেশ!
হনিমুন লজের তরুণ কর্মচারীটি একটু ইতস্তত করার পর বলল, রুদ্রসাব ধারানগর থেকে যার জিপ আনিয়েছেন, সেই লোকটার খুব দুর্নাম আছে। একসময় সে লুঠেরা ডাকু ছিল। পরে পলিটিসিয়ান হয়েছে। বড় বড় অফিসার থেকে মিনিস্টার পর্যন্ত তাকে খাতির করে চলেন। আমার অবাক লেগেছে স্যার! রুদ্রসাবের সঙ্গে তার ফ্রেন্ডশিপ আছে।
কর্নেল অন্যমনস্কভাবে বললেন, নাম কী?
রমেশ পাণ্ডে। রুদ্রসাব পরশু এখানে এসেছে। পরশু সন্ধ্যায় রমেশ পাণ্ডে জিপে চেপে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। তাকে এখানে দেখে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম স্যার।
কেন?
রমেশ পাণ্ডে লম্পট। কোনও মেয়ের দিকে তার চোখ পড়লেই বিপদ। এদিকে দেখুন, এই লজে এবার সুন্দর সুন্দর সব লেডি এসেছেন। রুদ্রসাবের স্ত্রী–
হুঁ। বলো!
আমার ধারণা মিসেস রুদ্র ফিল্মের হিরোইন। মিঃ রুদ্রের চেয়ে ওঁর বয়স অনেক কম। আমার সন্দেহ ওঁরা বিবাহিত কি না। কাল অনেক রাতে মিসেস রুদ্র লনে একা বসেছিলেন।
তাতে কী?
রমেশ পাণ্ডের ফাঁদে মেয়েরা সহজে পা দেয়। বলেই সিদ্ধেশ মুখটা করুণ করল। দয়া করে এসব কথা যেন ম্যানেজারসাবকে বলবেন না স্যার।
বলব না। তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পারো সিদ্ধেশ! আর কফি খাওয়া হলে আমি একটা টেলিফোন করব।
কোনও বাধা নেই স্যার!
সিদ্ধেশ রিসেপশন কাউন্টারে ফিরে গেল। তারপর দুই কানে ওয়াকম্যানের তার গুঁজে গান শুনতে থাকল। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া এক তরুণ ড্রপ আউটের পক্ষে এ ধরনের চাকরি আজকাল সুলভ। এরা রিসেপশনিস্ট হিসেবে স্মার্ট এবং বাকপটু। তবে সিদ্ধেশ একটু সরলপ্রকৃতির ছেলে এবং অনুগত ইংরেজিতে যাকে বলে ওবিডিয়েন্ট।
কর্নেল কফি শেষ করে চুরুট ধরালেন। তারপর একটু ভেবে নিলেন। ঋতুপর্ণা সংক্রান্ত খবরটা কোনও ফাঁদ নয় তো? কিংবা কেউ তাঁর পরিচয় পেয়ে তাকে নিয়ে কৌতুক করছে কি? নদীর ধারে গাছটার তলায় পাথরের ওপর যে লাল রঙের ছিটে দেখে এলেন, তা নেলপালিশ লিপস্টিক বা সিঁদুরও তো হতে পারে!
এখন থানায় ফোন করা ঠিক হবে না। ম্যানেজার রঘুবীর বাজার করতে গেছে। খবরটা সত্যি হলে এতক্ষণ রটতে দেরি হবে না এবং তার কানে যেতে পারে। কাজেই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত।
এই সময় সোমক চ্যাটার্জি নেমে এল। তার হাতে সিগারেট। সে লাউঞ্জ পেরিয়ে গিয়ে দরজার কাছে একটু দাঁড়াল। তারপর লনে নামল। কর্নেল লক্ষ্য করলেন, সে ডানদিকে ঘুরে বাগানে যাচ্ছে।
কর্নেল উঠলেন। তিনি লাউঞ্জের দিকে যাচ্ছেন দেখে সিদ্ধেশ বলল, টেলিফোন করবেন না স্যার?
নাহ্। পরে করব।
কর্নেল বেরিয়ে গিয়ে দেখলেন, সোমক বাগান থেকে দক্ষিণের গেট খুলে চলে যাচ্ছে। কর্নেল তাকে অনুসরণ করলেন। ধারিয়া ফসে যাওয়ার পায়ে চলা পথ ওটা। পিছনে পায়ের শব্দ শুনে সোমক ঘুরে দাঁড়াল। রুষ্ট মুখে বলল, কী চান আপনি?
কর্নেল একটু হেসে বললেন, একটা খবর দিতে চাই। কিন্তু আপনি এমনভাবে বেরিয়ে এলেন যে সুযোগই পেলাম না।
বলুন!
কিছুক্ষণ আগে কেউ আমাকে ফোনে জানাল, ধারানগরের কাছে জেলেরা একটা টাটকা ডেডবডি পেয়েছে। মাথার পিছনে গুলি করা হয়েছে ঋতুপর্ণার।
সোমক প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, হোয়াট?
কেউ আমাকে ফোনে তা-ই বলল। সে ঋতুপর্ণাকে চেনে।
বাট আই ডিডনট কিল হার!
আমি তা বলছি না। তাছাড়া এখনও আমি খবরটার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নই। দিস ইজ জাস্ট ফর ইওর ইনফরমেশন মিঃ চ্যাটার্জি।
সোমক জোরে শ্বাস ছাড়ল। একটু পরে বলল, আপনি অদ্ভুত সব কথাবার্তা বলছেন! ভেরি ব্যাড জোক। অন্য কেউ হলে আপনাকে–
সে থেমে গেল। কর্নেল আস্তে বললেন, আমি আপনার হিতৈষী মিঃ চ্যাটার্জি। খবরটা সত্য হলে আপনি জড়িয়ে পড়বেন। কারণ ঋতুপর্ণাকে শেষ বার দেখা গেছে আপনারই সঙ্গে। দুই ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড ইট?
সোমক শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে বলল, আপনাকে বলেছি। সে কথা বলতে বলতে হঠাৎ উঠে চলে গেল। তারপর সে কোথায় গেল কিংবা তার কী হল আমি জানি না।
আমি আপনাদের কথা বলতে দেখেছি প্রায় আটটা পাঁচে।
ঘড়ি দেখিনি। তবে আপনাকে দেখতে পেয়েছিলাম।
তার কতক্ষণ পরে ঋতুপর্ণা হঠাৎ চলে গিয়েছিল?
সোমক ক্রমশ নার্ভাস হয়ে পড়ছিল। বলল, মে বি ফাইভ অর টেন মিনিটস! আমার মনে পড়ছে না। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না কেন আপনি ঋতুপর্ণাকে নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছেন! কে আপনি?
কর্নেল নীলাদ্রি সরকার। নেচারিস্ট।
ড্যাম ইট! সোমক আবার উত্তেজিত হল। ঋতুপর্ণাকে আপনি চেনেন এবং সেও আপনাকে চেনে বোঝা যাচ্ছে। আর ইউ এ ডিটেকটিভ!
কর্নেল মাথা নেড়ে এবং জিভ কেটে বললেন, না না মিঃ চ্যাটার্জি! আমার কাছে ওই কথাটা একটা গালাগাল। কারণ বাংলা স্ল্যাং টিকটিকি এসেছে ইংরেজি ডিটেকটিভ থেকে। তবে কোথাও কোন রহস্য দেখলে আমি তার পিছনে নিজেকে লড়িয়ে দিই।
আমার কাছে আপনার রহস্যের কোনও ক্লু নেই। আপনি আমার মানসিক শান্তি নষ্ট করছেন কর্নেল সরকার! তাছাড়া কাল রাত থেকে আমার শরীরও একটু অসুস্থ। প্লিজ লিভ মি অ্যালোন।
কর্নেল ঘুরে লজের দিকে পা বাড়াতে গিয়ে হঠাৎ পিছু ফিরলেন। একটা প্রশ্ন মিঃ চ্যাটার্জি। ঋতুপর্ণা চলে যাওয়ার পর, আমার হিসেবমতো আপনি প্রায় এক ঘণ্টা বা আরও বেশি ওখানে ছিলেন কেন?
একা বসে থাকতে ভালো লাগছিল। বলে সোমক এগিয়ে গেল। তার পা ফেলার ভঙ্গিতে আড়ষ্টতা ছিল।
