হনিমুন লজ (কর্নেল সিরিজ) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

শেয়ার করুনঃ

দুই 

 

সওয়া আটটা নাগাদ কর্নেল নীলাদ্রি সরকার হনিমুন লজে ফিরলেন। রিসেপশন কাউন্টার থেকে ম্যানেজার রঘুবীর রায় সম্ভাষণ করলেন, মর্নিং কর্নেল সাব!

 

মর্নিং রঘুবীর!

 

কতদূর ঘুরলেন আজ?

 

ধারিয়া ফলস্ অব্দি।

 

কতগুলো প্রজাপতি ধরলেন?

 

একটাও না। এমন কি দুষ্টু প্রজাপতিগুলো ছবি তোলারও সুযোগ দেয়নি। তবে একটা সুন্দর অর্কিডের চারা পেয়েছি। আর বাইনোকুলারে ধারা লেকের ধারে দুটো নীল সারস দেখেছি। গত বছর তুমি নীল সারসের কথা বলেছিলে। তখন ভেবেছিলাম জোক!

 

আমি সব সময় সত্যি কথা বলি কর্নেলসাব।

 

ধন্যবাদ। নীল সারস দম্পতিও সম্ভবত এ সময় হনিমুনে আসে। কারণ বাইনোকুলার দিয়ে সারা এলাকার গাছপালা তন্নতন্ন করে খুঁজে ওদের বাসা দেখতে পাইনি।

 

আমার হনিমুনারদের দেখেছেন!

 

দেখেছি। তবে আলাপ করতে যাইনি। নববিবাহিত দম্পতিদের এ সময় এড়িয়ে থাকাই ভালো। কর্নেল লাউঞ্জে ক্লান্তভাবে বসলেন। রঘুবীর! এখানেই এক পেয়ালা কফি খেয়ে সুইটে যাব।

 

ম্যানেজার তখনই কিচেনে খবর পাঠিয়ে কাছে এলেন। আস্তে এবং মুচকি হেসে বললেন, গতবছরের মতো এবারও না হনিমুনাররা বউ বদল করে ফেলে!

 

কর্নেল একটু হাসলেন। আমি ওদের লক্ষ্য করিনি। তুমি তেমন কিছু দেখেছ নাকি?

 

চ্যাটার্জিসাব ফলস্ দেখতে যাননি। ওঁর বউ গেছেন। এদিকে রায়সাব একটু, আগে ধারানগর থেকে টেলিফোনে তার বউকে ডেকে দিতে বললেন। রঘুবীর শব্দ করে হাসলেন। বলছিলাম আমি সব সময় সত্যি কথা বলি। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা আমাকে কোনও কোনও সময় মিথ্যা বলতে বাধ্য করে। অকারণ দাম্পত্যকলহে ইন্ধন যোগানো কি উচিত? বলুন কর্নেলসাব!

 

ঠিক। তো রায়সায়েবের স্ত্রীকে তুমি খুঁজে পাওনি?

 

চ্যাটার্জিসাবের সঙ্গে রায়সাবের বউকে বাগানে কথা বলতে দেখেছিলাম। তারপর ওঁরা দুজনে বেরিয়ে গেলেন।

 

তা হলে ধারিয়া নদীর ধারে দুজনকে দেখে এলাম। কিন্তু তুমি রায়সায়েবকে কী বললে?

 

বললাম আপনার স্ত্রী কিছুক্ষণ আগে বেরিয়ে গেছেন। ব্যস! আর কিছু বলিনি।

 

কর্নেল টুপি খুলে টাকে হাত বুলিয়ে বললেন, এবারও কি বউবদলের সম্ভাবনা লক্ষ্য করছ রঘুবীর?

 

রঘুবীর মুখোমুখি বসে মিটিমিটি হেসে বললেন, চ্যাটার্জিসাব শরীর খারাপ বলছিলেন। কিন্তু উনি দিব্যি সুস্থ। তারপর দেখুন, মিসেসকে ফল্স দেখতে পাঠিয়ে বাগানে গেলেন। তখন সেখানে মিসেস রায় একা বসে ছিলেন। আপনি মিসেস চ্যাটার্জিকে যদি ফসের ওখানে না দেখে থাকেন–

 

লক্ষ করিনি। আমি নীল সারসদম্পতিকে দেখছিলাম। দুর্লভ প্রজাতির সারস।

 

কফি এল। কর্নেল কফিতে চুমুক দিয়ে সাদা দাড়ি থেকে একটা পোকা ঝেড়ে ফেললেন। রঘুবীর বললেন, কাল রাতে ডিনারের পর মিসেস রুদ্রকে লনে একা বসে থাকতে দেখেছি। মিঃ রুদ্রের নেশা হয়েছিল। সম্ভবত কিছু টের পাননি। মিসেস রুদ্র কারও জন্য যেন অপেক্ষা করছিলেন।

 

কর্নেল হাসলেন। রঘুবীর! তুমি গোয়েন্দাগিরি করো দেখছি!

 

স্যার! অগ্রবালজির হুকুম আছে, যেন হনিমুন লজের সুনাম হানি না হয়। নববিবাহিত দম্পতিরা স্বভাবত ঈর্ষাকাতর হয়ে থাকে। দৈবাৎ সাংঘাতিক কিছু ঘটে গেলেই আমার চাকরি যাবে।

 

কর্নেল ভুরু কুঁচকে তাকালেন। সাংঘাতিক কিছু ঘটবে বলে কি আঁচ করছ রঘুবীর?

 

রঘুবীর একটু চুপ করে থেকে বললেন, আপনাকে মিসেস ঠাকুরের কথা বলেছি। ওঁর হাবভাব দেখলে কেমন গা ছমছম করে। হনিমুনারদের দিকে এমন চোখে তাকিয়ে থাকেন, যেন তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ওঁর চোখের চাউনি লক্ষ্য করেছেন। অগ্রবালজির চিঠি না আনলে ওকে এবার স্যুইট দিতাম না। গত মরশুমে এসে রাত দুপুরে মালীর ঘর থেকে চুরি করেছিলেন। সে এক অদ্ভুত উপদ্রব।

 

কর্নেল বললেন, হ্যাঁ। মানসিক রোগীরা অনেক অদ্ভুত কাজ করে। যাই হোক, অর্কিডের চারাটা বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি উঠি রনবীর। আমি নটায় ব্রেকফাস্ট খেয়ে আবার বেরুব।

 

ঠিক আছে স্যার

 

কর্নেল দোতলায় তাঁর স্যুইটে ফিরলেন। অর্কিডের চারাটা দক্ষিণের জানালার গোবরাটে রেখে বাথরুমে গেলেন। তারপর পোশাক বদলে ব্যালকনিতে গিয়ে বসলেন।

 

প্রতিটি স্যুইটের ব্যালকনি আছে। কিন্তু এক ব্যালকনি থেকে অন্য ব্যালকনি দেখা যায় না। ডানদিকে একটা করে দেওয়াল তোলা আছে। বাড়িটির পশ্চিমে ব্যালকনিগুলো থাকার একটা সুবিধে, বহুদূর অব্দি প্রসারিত নিসর্গদৃশ্য চোখে পড়ে। পূর্বদিকে সারিবদ্ধ গাছের ভেতর দিয়ে উৎরাই রাস্তাটি একটা হাইওয়েতে মিশেছে। সেখানে যানবাহনের উপদ্রব। কর্নেলের সুইট থেকে দক্ষিণে ধারিয়া নদী চোখে পড়ে। নীচের সুদৃশ্য বাগানটিও দেখা যায়।

 

বাইনোকুলার তুলে নদীর ধারে সোমক চ্যাটার্জি আর ঋতুপর্ণা রায়কে একবার দেখে নিলেন কর্নেল। ওরা একটা গাছের তলায় পাথরের ওপর বসে কথা বলছে। একটু পরেই কর্নেলের মনে হল, তিনি যা করছেন, তা অশালীন। রঘুবীর রায় হনিমুনারের ব্যাপারে নাক গলাতেই পারেন। কর্নেল কেন নাক গলাবেন?

 

বরং নিসর্গের অবাধ স্বাধীনতায় যুবক-যুবতীদের দেখতে তার ভালো লাগে। কেন না তার ধারণা, প্রেমিক-প্রেমিকারাই প্রকৃতিকে অর্থপূর্ণ করে। অবশ্য রঘুবীর বউ বদলের কথা বলছিলেন। হনিমুনে এসে নাকি একজনের বউ অন্যজন ভাগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। বোঝা যায়, বিয়ে-করা বউ নয়, প্রেমিক প্রেমিকা। তবে ব্যাপারটা রঘুবীরের দৃষ্টিতে যত আপত্তিকর হোক, এমন কিছু তো স্বাভাবিক ঘটনাই। শুধু কোনও সাংঘাতিক ঘটনা–

 

সাংঘাতিক ঘটনা বলতে কী বোঝাতে চাইছেন রঘুবীর? ঈর্ষা থেকে হিংসা এবং হিংসা থেকে খুনোখুনি?

 

নড়ে বসলেন কর্নেল নীলাদ্রি সরকার। না না! তেমন কিছু না ঘটাই উচিত। বহু বছর ধরে খুনোখুনির ব্যাপারে নাক গলিয়েছেন। আর নাক গলাতে ইচ্ছে করে না। প্রকৃতি আর প্রেমের মধ্যে রক্ত জিনিসটা বড় কদর্য। অথচ তার এই যেন নিয়তি, যেখানেই যান সেখানেই এক চিরন্তন ঘাতক তার সামনে লাশ ছুঁড়ে ফেলে চ্যালেঞ্জ করে।

 

নিভে যাওয়া চুরুটটা জ্বেলে কর্নেল নীল সারসদম্পতির কথা ভাবতে থাকলেন। ক্যামেরায় টেলিলেন্স ফিট করে কীভাবে ওদের ছবি তোলা যায়, সেজন্য একটু কলাকৌশল দরকার। কিছুক্ষণ পরে অন্যমনস্ক হাতে বাইনোকুলার তুলে চোখে রেখে কর্নেল পশ্চিমের অসমতল উপত্যকা দেখতে লাগলেন।

 

সহসা চোখে পড়ল পশ্চিমে ধারিয়া নদীর উত্তর পাড়ে জঙ্গলের ভেতর থেকে কে বেরিয়ে এল। দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটারের বেশি। লোকটার পেছন দিক দেখা যাচ্ছিল। পরনে প্যান্টশার্ট মাথায় টুপি। সে একটু পরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথরের আড়ালে অদৃশ্য হল। ওদিকেই ধারিয়া জলপ্রপাত।

 

বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেও আর তাকে দেখা গেল না। কে সে? ওখানে সে কী করছিল?

 

কর্নেল বাইনোকুলার নামিয়ে নিজের প্রতি বিরক্ত হলেন। সম্ভবত ম্যানেজার রঘুবীর নানাধরনের গল্প বলে তাকেও নিজের মতো সন্দেহবাতিকগ্রস্ত করে ফেলেছেন!

 

নটা বাজলে কর্নেল নীচের ডাইনিং হলে ঢুকলেন। ডাইনিং হল এখন ফাঁকা। রঘুবীরকে দেখা যাচ্ছিল না। কিচেনবয় জগদীশ ব্রেকফাস্ট আনল। তাকে ম্যানেজার সায়েবের কথা জিজ্ঞেস করলেন কর্নেল। সে আস্তে বলল, ম্যানেজারসাব একটু আগে মোটরবাইকে চড়ে বেরিয়ে গেছেন।

 

কর্নেল ব্রেকফাস্ট করতে করতে দেখলেন, সুভদ্রা ঠাকুর লাউঞ্জে ঢুকে এদিকে-ওদিকে তাকাচ্ছেন। পাগলাটে চাউনি। দরজা দিয়ে কর্নেলকে দেখার পর প্রৌঢ়া মহিলা ডাইনিং হলে ঢুকলেন। ভুরু কুঁচকে বললেন, কাল থেকে দেখছি আপনি আমাকে ফলো করে বেড়াচ্ছেন। আপনার উদ্দেশ্য কী? কে আপনি?

 

কর্নেল হাসলেন। মর্নিং মিসেস ঠাকুর!

 

সুভদ্রা চ্যালেঞ্জের ভঙ্গিতে কাছে এলেন। আমাকে এভাবে ভোলাতে পারবেন না! আমি জানতে চাই কে আপনি?

 

আপনাকে ফলো করে বেড়াচ্ছি, এ ধারণা আপনার মাথায় কেন এল বলুন

 

সুভদ্রা মুখোমুখি বসে বিকৃত মুখে বললেন, আপনার ওই বাইনোকুলার! আমি ওটাকে ভীষণ ঘৃণা করি। আপনি জানেন না, আমার চোখ দুটো ওটার মতো শক্তিশালী। অনেক দূরের জিনিস আমি স্পষ্ট দেখতে পাই। যখনই যেখানে গিয়ে যেদিকে তাকাচ্ছি, আপনাকে দেখতে পাচ্ছি। আপনি আমাকে আলবাত্ ফলো করে বেড়াচ্ছেন। কাজেই এর একটা ফয়সালা হওয়া উচিত। কে আপনি?

 

কর্নেল পকেট থেকে তাঁর নেমকার্ড বের করে দিলেন।

 

সুভদ্রা কার্ডটা খুঁটিয়ে পড়ে দেখার পর বললেন, আপনি একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এবং বাঙালি! আপনি নেচারিস্ট! আমার স্বামী জিতেন্দ্রও প্রকৃতিপ্রেমিক ছিল। বাইনোকুলার তারও ছিল। কিন্তু সে ওটা দিয়ে আপনার মতো কারও গতিবিধির ওপর নজর রাখত না।

 

আপনি ভুল করছেন ম্যাডাম!

 

কারও কারও বিকৃত রুচি থাকে। সুভদ্রার মুখে-চোখে পাগলাটে হাসি ফুটে উঠল। তারা আড়াল থেকে যুবক-যুবতীদের আচরণ উপভোগ করে। আমি দেখেছি। কিন্তু আমাকে দেখার কী আছে? আমার বয়স প্রায় বাহান্ন বছর। অনেক আগেই অকালবার্ধক্য আমাকে গ্রাস করেছে!

 

কিচেনবয় জগদীশ এসে সেলাম ঠুকে বললে, ব্রেকফাস্ট ম্যাডাম?

 

হ্যাঁ। নিয়ে এস। এই কর্নেল ভদ্রলোকের সঙ্গে ফয়সালা করব এবং খাব।

 

সুভদ্রা নিষ্পলক চোখে কর্নেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। দৃষ্টিটা অস্বস্তিকর। কর্নেল দ্রুত ব্রেকফাস্ট শেষ করে কফির পেয়ালায় চুমুক দিলেন। তারপর মৃদুস্বরে বললেন, রঘুবীরের কাছে শুনলাম আপনি প্রতি বছর এখানে স্মৃতির টানে চলে আসেন।

 

আসি। পঁচিশ বছর ধরে আসছি। রাজেন্দ্র এই লজ যখন তৈরি করেনি এবং ফাদার পিয়ার্সনের বাংলো হানাবাড়ি হয়ে গিয়েছিল, তখনও এসেছি। একা! চিন্তা করুন!

 

আপনার সাহস আর শারীরিক সামর্থ্য দেখে অবাক হয়েছি।

 

আপনাকে অবাক করার মতো আরও অনেক কিছু আমার আছে কর্নেল সরকার!

 

যেমন?

 

আমি গুপ্তবিদ্যা জানি। উইচক্র্যাফট। এবং তার সাহায্যে আমার স্বামীর। আত্মাকে ডেকে আনতে পারি। লোকে বলে ভূত। আমার সঙ্গে কেউ একা ধারিয়া ফসে গেলে জিতেন্দ্রর আত্মাকে দেখাতে পারি। কিন্তু কেউ সাহস করে যেতে চায় না।

 

জগদীশ ব্রেকফাস্ট দিয়ে গেল। কর্নেল লক্ষ্য করলেন ভদ্রমহিলা নিরামিষাশী। দুধে কর্নফ্লেক ফেলে চামচে মাখাতে মাখাতে খুব আস্তে বললেন, জিতেন্দ্রর আত্মা আমাকে বলেছে কে তাকে ধাক্কা মেরে প্রপাতে ফেলে দিয়েছিল। আমি আসলে তাকে খুঁজতেই এখানে আসি। কাকেও বলবেন না, আমি তার দেখা পেয়ে গেছি।

 

কর্নেল চুরুট ধরিয়ে বললেন, রঘুবীর বলছিল আপনার স্বামীর লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

পুলিস ভালো করে খোঁজেনি! সুভদ্রা ফের ফিসফিস করে বললেন, হত্যাকারী লাশতা কোথায় পুঁতেছিল জিতেন্দ্র আমাকে বলেছে।

 

কোথায়?

 

বলব না।

 

বললে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।

 

ভুলে যাবেন না আমি ডাকিনীবিদ্যা জানি। কারও সাহায্য আমার দরকার হবে না।

 

আপনার স্বামীর হত্যাকারীকে দেখতে পেয়েছেন বললেন!

 

হ্যাঁ। পেয়েছি। তাকে এমন শাস্তি দেব–সুভদ্রা অদ্ভুত শব্দে হেসে উঠলেন

 

সর্বনাশ! আপনি তাকে মেরে ফেলবেন নাকি? মিসেস ঠাকুর! তা হলে কিন্তু আপনি খুনের দায়ে পড়বে।

 

সুভদ্রা ভেজিটেবল স্যান্ডউইচে কামড় দিয়ে বললেন, তাকে ঠিক এই ভাবে কামড়ে খাব।

 

কর্নেল ওঁর কথাবার্তা উপভোগ করছিলেন। ভদ্রমহিলা সত্যিই মানসিক রোগী। একটু পরে কর্নেল বললেন, গত অক্টোবরে এসে আপনি নাকি মালীর ঘর থেকে একটা খন্তা নিয়েছিলেন? তা কি আপনার স্বামীর লাশ উদ্ধারের জন্য?

 

চুপ! মুখ ফসকে অনেক কথা বলে ফেলেছি। আর একটা কথা নয়। সুভদ্রা চোখ কটমট করে ফেলে বললেন, আপনার খাওয়া হয়ে গেছে। এবার কেটে পড়ুন। আমার খাওয়ার দিকেও আপনি নজর রেখেছেন, সে কি বুঝতে পারছি না?

 

কর্নেল হাসি চেপে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর বেরিয়ে গেলেন। নীল সারস দম্পতিকে যদি কোনও কৌশলে ক্যামেরাবন্দি করা যায়!

 

নিচু কম্পাউন্ড ওয়ালের বাইরে গিয়ে কর্নেল ডানদিকে ঘুরলেন। ওদিকে একটুখানি হেঁটে গেলে পূর্বগামিনী ধারা নদী। ঢালু অসমতল মাটির ওপর নানা গড়নের পাথর, ঝোপঝাড় আর গাছপালা চমৎকার ল্যান্ডস্কেপ হয়ে আছে। নদীর কাছাকাছি পৌঁছে সেই গাছটার দিকে তাকালেন কর্নেল। সোমক চ্যাটার্জি ও ঋতুপর্ণা রায়কে দেখতে পেলেন না। বাইনোকুলারে ওদের খুঁজতে থাকলেন। একটু পরে দেখলেন, কিছুটা দূরে বাঁদিকে হনিমুন লজের রাস্তা ধরে সোমক চ্যাটার্জি একা হেঁটে চলেছে। রাস্তার দুধারে ঘন শ্রেণীবদ্ধ গাছ। তাই তাকে তত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।

 

ঋতুপর্ণা পরস্ত্রী। কাজেই সে সম্ভবত অন্য পথে গাছপালা বা পাথরের আড়াল দিয়ে লজে ফিরে যাচ্ছে।

 

নেহাত খেয়ালবশে কর্নেল দুর্লভ প্রজাতির কোনও পাখির মতো বাইনোকুলারে তাকে খুঁজতে থাকলেন। এখান থেকে হনিমুন লজের সদর গেট সোজাসুজি একটু উঁচুতে চোখে পড়ে। কারণ বাড়িটা একটা টিলার মাথায়। কিছুক্ষণ পরে সোমক চ্যাটার্জি গেটে ঢুকে গেল। কিন্তু ঋতুপর্ণা কোথায়?

 

আরও কিছু সময় কেটে গেল। তারপর কর্নেল নদীর ধারে সেই গাছটার দিকে নেমে গেলেন। যে পাথরে ওরা দুজনে বসে ছিল, সেখানে ফিরে দাঁড়ালেন। অমনি চমকে উঠলেন। পাথরের ওপর একটুখানি লালরঙ ছিটকে পড়েছে। রক্ত?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *